চীনসহ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
অগ্রাধিকারগুলো হলো: ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য, সুস্থ বার্ধক্য এবং টিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইকোতে অনুষ্ঠিত বিএফএ গ্লোবাল হেল্থ ফোরাম ২০২৬ হাইকু কনফারেন্সে বক্তৃতাকালে তিনি এসব অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের ওষুধ প্রায় ১৬০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। চীনের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধের প্রবেশ সহজ করার পাশাপাশি সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই) উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা এবং স্মার্ট স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ আগ্রহী।
এআই ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য বিষয়ে তিনি বলেন, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের পাশাপাশি অনকোলজি, প্রিসিশন মেডিসিন, রোবোটিক সার্জারি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা এবং দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সুস্থ বার্ধক্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এশিয়ায় প্রবীণ জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়ছে। তাই পুনর্বাসন সেবা, সহায়ক প্রযুক্তি, জেরিয়াট্রিক সেবা এবং প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, টিকা গবেষণা, উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, ‘এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা সামনে কতটা ভালোভাবে সহযোগিতা করি, উদ্ভাবন করি এবং যৌথভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নিই তার ওপর।’
এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে চীনের চতুর্দশ জাতীয় গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের জাতীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের চতুর্থ প্রধান নির্বাহী লিয়াং চুন-ইংসহ চীন, লাওস, মিসর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
জেএইচ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দেখেন শক্ত কাণ্ডযুক্ত একটি গাছকে বিভিন্ন কৌশলে ছাঁটাই করে পাত্রের মধ্যে ছোট করে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। এই পদ্ধতি দেখে অনেকেই ভাবতে পারেন, একটি গাছ স্বাভাবিকভাবে বড় হওয়া থেকে বাধাগ্রস্ত করে ছোট করে রাখা হচ্ছে, উদ্ভিদের সঙ্গে এই কাজটি করা কি ঠিক হচ্ছে? এটা কি পরিবেশবান্ধব? তবে বাস্তবতা হচ্ছে বনসাই হচ্ছে একটি শিল্প। বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে সীমিত আকারে এর দেখে মিললেও পৃথিবীতে হাজার বছর আগে থেকেই বিভিন্ন দেশে গাছ বনসাই করা হচ্ছে। যা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করছে না। অনেকেই মনে করেন বনসাই হচ্ছে আলাদা প্রকৃতির কোনো গাছ। তবে সত্যতা হচ্ছে এটি কোনো ভিন্ন গাছ নয়। সাধারণ গাছকে ধীরে ধীরে ছাঁটাই ও কৌশলে পাত্রের মধ্যে ছোট করে রাখা হয়। এসব গাছের নিয়মিত যত্ন নিতে হয়। ডালপালা ও শেকড় ছোট করে রাখতে হয়। অনেকেই বিভিন্ন তারের মাধ্যমে গাছের আকৃতি পছন্দ করে সাজিয়ে নেন। একটি গাছকে বনসাই করে পরিপূর্ণ রূপ দিতে কয়েক বছর সময় লেগে যায়। আরও পড়ুন ফুটপাতে হলুদ টাইলস বসানোর রহস্য জানেন? বনসাই নিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু উদ্ভিদ আছে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য। আর কিছু আছে ফলদ, বনজ ও ঔষধি। এরমধ্যে থেকে কিছু গাছকে আমরা পাত্রে ছোট করে রাখি যাতে ঘরের ভেতরে রাখা যায়। যেমন বটগাছকে যদি আমরা বনসাই না করি, তাহলে তো এটাকে ঘরে রাখা যাবে না। এজন্য শক্ত কাণ্ডযুক্ত গাছকে বনসাই করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘গাছকে বনসাই করলে ক্ষতির কিছু নেই। আর আমাদের দেশে এমন নই যে গাছের চারার অভাব আছে, বনসাই করলে চারা কমে যাবে। যারা বনসাই নিয়ে কাজ করছেন, এটা ভালো উদ্যোগ। এটা ব্যাপক হলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। বনসাইয়ের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু নেই। এটি পরিবেশবান্ধব, একটি শিল্প।’ গাছ বনসাইয়ের সঙ্গে যুক্ত এমন ব্যক্তিরা জানান, শক্ত কাণ্ড রয়েছে এমন গাছের খর্বাকৃতি করার শিল্পকে ‘বনসাই’ বলে। যেসব গাছের শক্ত কাণ্ড রয়েছে, এসব গাছ বনসাইয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। বিশেষ করে বট, বকুল, শিমুল, জাম, নিম, তেঁতুল, বেল, ছাতিম, গাব, হিজল, শিরিষ, অর্জুন, বাবলা, কড়ইসহ বেশকিছু গাছ বনসাই করা হয়। আরও পড়ুন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ, লোডশেডিং কি কমবে? বনসাই চাষের জন্য আবহাওয়া অনুযায়ী উর্বর মাটি খুবই প্রয়োজন। তবে দো-আঁশ মাটি হলে ভালো হয়। পাত্রে গাছ রাখার সময় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে সার ও পরবর্তীতে নিয়ম মেনে সার ও কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। একই সঙ্গে পরিমাণ মতো পানি দিতে হয়। গাছের আকার অনুযায়ী ১-৩ বছরের মধ্যে পাত্রে প্রতিস্থাপন করতে হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বনসাই গাছের ডালপালা ছাঁটাই করার জন্য অবশ্যই এই বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। অভিজ্ঞতা ছাড়া গাছের ডাল ছাঁটাই করলে গাছের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বনসাই গাছ ঘরের ভেতর, বারান্দা ও ছাঁদে রাখা যায়। তবে এটি সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। তথ্য বলছে, প্রাচীন চীনা শব্দ ‘পেনজাই’ থেকে জাপানি ‘বনসাই’ শব্দের উৎপত্তি। বনসাই করতে ব্যবহৃত ট্রের মতো যে পাত্র ব্যবহার করা হয় তাকেই সাধারণভাবে ‘বন’ বলা হয়। খর্বাকৃতি গাছ বলতে ‘বনসাই’ বোঝায়। আরও পড়ুন তিমি-ডলফিনের করুণ মৃত্যু কি কোনো বড় বিপদের নীরব পূর্বাভাস? বিভিন্ন সময়ে চীন, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে ভিন্ন আকারে এর চর্চা বিস্তার লাভ করে। চৈনিক ছং রাজবংশের সময় জাপানে পাত্রে উৎপাদিত গাছের জনপ্রিয়তা পায় সারা বিশ্বে। তানভীর অ্যান্ড হবিজ পেজের পরিচালক তানভীর মেহেদী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছোট পাত্রে বড় গাছের রূপ দেওয়ার বিষয়টি একটি প্রাচীন জাপানি শিল্প। আমি প্রায় ছয় বছর ধরে বনসাইয়ের কাজ শুরু করেছি। আমাদের দেশে এখনো এটা খুব বেশি মানুষ জানে না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বুঝে গাছ ছোট করলে ক্ষতি হয় না বরং সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তা সাধারণ মানুষ বোঝে না। আমি যে গাছ বনসাই করি তা সাধারণত বিভিন্ন ভবনের মধ্যে পরিত্যক্ত হিসেবে থাকে। সেখান থেকে এনে বনসাই করছি আমার ছাদে। গাছকে ছোট পাত্রে রেখে বড় করতে প্রচুর ধৈর্য ও সঠিক নিয়ম কানুন জানার প্রয়োজন আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বনসাই গাছ বিক্রির জন্য নয়; নিজের শখের বশে এই শিল্প করে থাকি। আমার কাছে কিছু বনসাই গাছ আছে। একটি বনসাই প্রাকৃতিক আকৃতি ফুটে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগে। এমনও হতে পারে বনসাই গাছে পরিপূর্ণ আকৃতি পেতে হলে আমার পরবর্তী প্রজন্ম, আমার ছেলেমেয়েদেরও কাজ চালিয়ে যাওয়া লাগতে পারে।’ বনসাই পৃথিবীর কোথাও ব্যাপকভাবে নেই বলে জানান সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রানা রয়। আরও পড়ুন যত হাসি তত কান্না বলেছেন রামসন্না, কে ছিলেন এই ‘রামসন্না’? তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দেশে হয়তো কয়েকজন এটা চর্চা করছেন মাত্র। যারা বনসাই করছেন তারা বেশিরভাগ ছাদের ওপর করছেন। কেউ চাইলেই তো আর ছাদের ওপর বড়গাছ লাগাতে পারবেন না বা গাছ বড় হতে দেবেন না। বনসাইয়ের মাধ্যমে কেউ যদি ছাদে, ঘরের আঙিনা বা অন্য কোথাও গাছ লাগান; তাও ভালো দিক। কারণ একেবারে গাছ না লাগানোর চেয়ে বনসাই করে হলেও কয়েকটি গাছ লাগানো হচ্ছে।’ এই অধ্যাপক বলেন, ‘বনসাই এমন জায়গায় না করাই ভালো যেখানে গাছ রোপণের পর বড় হবে। আমি বনসাইয়ের ভালো দিকটাই দেখবো। বনসাইয়ের কারণে পরিবেশের কোনো ক্ষতি নেই। এই শিল্প এগিয়ে যাবে, এটাই প্রত্যাশা করি।’ এসআর/এএসএম
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ছিনতাইয়ের সময় শিক্ষিকা রনজিনা পারভীনকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে দুজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, খোকন ও রাজীব মাতব্বর। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ভুক্তভোগীর ব্যাগ ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি দাবি করেছে, এ ঘটনায় র্যাব আগে যে দুজনকে গ্রেফতার করেছিল এবং যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছিল, তা সঠিক নয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। আরও পড়ুন শিক্ষিকা রনজিনা হত্যা: মোটরসাইকেল-ভ্যানিটি ব্যাগসহ গ্রেফতার ২ তিনি বলেন, গত ২৯ আগস্ট শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পূর্ব প্রান্তে জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের পর খেজুরবাগানের মুখে সড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হন শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন। ছিনতাইয়ের সময় রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, ঘটনার পর তেজগাঁও বিভাগ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের পর ঢাকা, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে খোকনকে মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে খোকন জানায়, ঘটনার সময় সে মোটরসাইকেলের পেছনে বসেছিল এবং রনজিনা পারভীনের ব্যাগ হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিয়ে নেয়। গ্রেফতার খোকনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর থানার বড়বাগ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগে তার ব্যবহৃত পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল। পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী অভিযানে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজীব মাতব্বরকে বিরুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবি প্রধান জানান, ঘটনার সময় রাজীব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো জায়গা অনুযায়ী দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। তার হেফাজত থেকে ৬২২টি ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার রাজীবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ মোট আটটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, তারা শুধু এই একটি ঘটনায় জড়িত, নাকি নিয়মিত ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর অন্য কোনো ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগের গ্রেফতার ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট নন রনজিনা পারভীন হত্যার ঘটনায় এর আগে র্যাব দুজনকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের সঙ্গে নতুন করে গ্রেফতার হওয়া দুজনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, তাদের অবস্থান ও গ্রুপ আলাদা। নতুন করে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা পশ্চিম মনিপুর এলাকায় থাকেন, আর র্যাবের গ্রেফতার করা ব্যক্তিরা তেজতুরীপাড়া এলাকার। তারা দুটি ভিন্ন গ্রুপ। তিনি বলেন, র্যাবের গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের একজনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, কোনো ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা তদন্তের একটি অংশ। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে তাদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই মামলাতেও আগে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে তাদের বাদ দেওয়া হবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা থাকলে সেসব মামলায় তারা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবেন। উদ্ধার মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যাখ্যা ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে র্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের সঙ্গে পার্থক্যের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, র্যাব যে মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছিল সেটির রং এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের রং ভিন্ন। নতুন করে গ্রেফতার হওয়া দুজন স্বীকার করেছেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলই। মোটরসাইকেলটি রাজীবের নিজের, এটি ভাড়া করা হয়নি। এ ছাড়া খোকনের পরনের শার্ট, হাতে থাকা ঘড়ি ও মাথায় থাকা ক্যাপও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির এই কর্মকর্তা। শফিকুল ইসলাম বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামতের মধ্যে রয়েছে ভুক্তভোগীর ব্যাগ, মোবাইল ফোন, পোশাক, ওষুধ ও টিকিট। এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় রনজিনার স্বামী এক ঝলক ছিনতাইকারীকে দেখেছিলেন। পরে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর বিষয়টি তার মনে পড়ে। তিনি পেছনে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে তথ্য-উপাত্ত ও আলামতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ এবং উদ্ধার করা আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে গ্রেফতার দুজনের সঙ্গে ঢাকার অন্য কোনো ছিনতাই বা অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টিটি/এমএএইচ/
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ধরা পড়েছে। মাছটি নিলামে বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ২০০ টাকায়। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দরসংলগ্ন পাইপবয়া এলাকায় ইলিশটি ধরা পড়ে সোহরাব গাজী নামের এক জেলের জালে। আজ বুধবার সকাল ৯টার সময় কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে মাছটি নিলামে বিক্রি করা হয়।বঙ্গোপসাগরে ১০ বছর ধরে ইলিশ মাছ ধরেন সোহরাব গাজী। এত বড় ইলিশ সচরাচর পাওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাল ফেলার পর জাল টাইনা তুলতেই অন্যান্য মাছের লগে এই বড় আকারের ইলিশ মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নেওয়া হইলে ডাকের মাধ্যমে ৭ হাজার ২০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করা হইছে। অনেক বছর পর এত বড় একটা মাছ পাইলাম। এইতে আমি খুবই খুশি।’মাছটির ক্রেতা কুয়াকাটা মা মনি ফিসের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এত বড় মাছ এই বাজারে এখন খুব কম দেখা মেলে, তাই আমি নিলামের মাধ্যমে মাছটি ক্রয় করেছি। আমি শরীয়তপুরের এক প্রবাসী ভাইয়ের বাসায় এ মাছটি পাঠাব।’এ রকম বড় একটি ইলিশ ধরা পড়ার বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, এটি অত্যন্ত ভালো খবর। এ রকম বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে মৎস্য নিষেধাজ্ঞার সুফলের কারণে। তবে বড় ইলিশ আগের তুলনায় কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক রাজীব সরকার। তাঁর ভাষ্য, ছোট ইলিশের অযাচিত আহরণ, নদীতে পানি কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জাল ব্যবহার, পানিদূষণ, প্লাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বড় ইলিশ দিন দিন কমছে। ব্যাহত হচ্ছে ইলিশের প্রজনন।এবার ভরা মৌসুমে তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহও কম। উপকূলের বাজারগুলোতেও আগের মতো ইলিশ মিলছে না। স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ঘরামি বলেন, ‘আগে বছরে অন্তত একবার ইলিশ কিনা খাইতে পারতাম, অ্যাহন সেইটা স্বপ্ন হইয়া গ্যাছে।’