জাতীয়

শুরু হলো বাংলাদেশ গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্টের যাত্রা

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
শুরু হলো বাংলাদেশ গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্টের যাত্রা
শুরু হলো বাংলাদেশ গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্টের যাত্রা

বাংলাদেশে প্রযুক্তিখাতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করতে ও তাঁদের দক্ষ করে তুলতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ২০২৬ (বিডিজিপিসি)। বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ) ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) যৌথ উদ্যোগে এই কনটেস্ট পরিচালিত হবে।

আয়োজনের সফল বাস্তবায়নে সম্প্রতি বিএফএফ এবং বিডিওএসএনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিএফএফের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী এবং বিডিওএসএনের পক্ষে সভাপতি মুনির হাসান এই স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশ গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। এর মূল লক্ষ্য সমস্যা সমাধান, প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিং এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। ইতোমধ্যে এই প্রোগ্রামিং কনটেস্টের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে।

প্রতিযোগিতাটি দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হবে—স্কুল-কলেজ পর্যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়। নিবন্ধনকারীর সংখ্যার ভিত্তিতে প্রথমে অনলাইন বা আঞ্চলিক প্রিলিমিনারি রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

প্রিলিমিনারি রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবর মাসে এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দেশজুড়ে নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অ্যাক্টিভেশন সেশন, মিনি ক্যাম্প এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৫ দিনের অনলাইন ট্রেনিং ক্যাম্প আয়োজন করা হবে, যাতে নতুন শিক্ষার্থীরাও প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে এবং মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রযুক্তি খাতে জনশক্তি তৈরিতে আরও বেশি মেয়েদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিডিওএসএনের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা #missingDaughter উদ্যোগের আওতায় এই কনটেস্ট বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে বিএফএফ। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের মেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির জগতে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতের নারী প্রযুক্তি নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এই আয়োজনে যুক্ত হতে বা নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন: https://tinyurl.com/yhf7dmne এবং উদ্যোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: https://bdosn.org/olympiads/bdgpc

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ছোট হয়ে আসছে শতবর্ষী বেতের তৈরি পণ্যের ব্যবসা
ছোট হয়ে আসছে শতবর্ষী বেতের তৈরি পণ্যের ব্যবসা

একসময় ধনাঢ্য কিংবা মধ্যবিত্ত, যেকোনো পরিবারের বসার ঘরের আভিজাত্য প্রকাশ পেত কাঁচা বেতের ঘ্রাণ আর বাঁকানো নকশার আসবাবে। পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও শৈল্পিক এই বেতের তৈরি আসবাবের বাজার পুরো বৃহত্তর সিলেটজুড়েই ছিল অত্যন্ত রমরমা। কিন্তু যুগের হাওয়ায় বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা ও পছন্দ। মেটাল, প্লাস্টিক আর পারটেক্স বোর্ডের কৃত্রিমতার ভিড়ে সেই শতবর্ষী ঐতিহ্য আজ কোণঠাসা। মৌলভীবাজার শহরের ঐতিহাসিক ‘পশ্চিম বাজারে’ বেতের পণ্যের যে ঝকঝকে সামাজ্য ছিল, তা ছোট হতে হতে এখন এসে ঠেকেছে কেবল একটিমাত্র দোকানে।ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বাজার একসময় কাঠ, মসলা ও নানান হস্তশিল্পের এক বিশাল বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে দেশজুড়ে সুপরিচিত ছিল। হাটের গলিতে গলিতে সে সময় চলত বেতের মোড়া, আরামদায়ক চেয়ার, আর রাজকীয় সোফা তৈরির হাঁকডাক ও কারিগরদের কর্মযজ্ঞ। তবে সময়ের পরিক্রমায় সেই জৌলুশ এখন পুরোপুরি অতীত। পুরো বাজার ঘুরে এখন আর বেতের পণ্যের কোনো দোকান চোখে পড়ে না। আধুনিকতার অপ্রতিরোধ্য দাপটে ঐতিহ্যের এক নিঃসঙ্গ প্রতিনিধি হয়ে কেবল টিকে আছে ‘শিফা কেইন ফার্নিচার’ নামের ছোট্ট একটি দোকান।দোকানটির ভেতরে উঁকি দিলে এখনো মেলে আবহমান বাংলার শৈল্পিক ছোঁয়া। ছোট পরিসরের ভেতর থরে থরে সাজানো রয়েছে চমৎকার কারুকার্যময় পরিবেশবান্ধব বেতের সোফাসেট, হেলান দেওয়ার আরামদায়ক চেয়ার, ঝুলন্ত দোলনা, বৈচিত্র্যময় মোড়া এবং গৃহসজ্জার নানান নান্দনিক উপকরণ।শিফা কেইন ফার্নিচারের স্বত্বাধিকারী শাহিন মিয়া আক্ষেপের সঙ্গে প্রথম আলোকে জানান, আগের মতো সাধারণ ক্রেতাদের দেখা না মিললেও এই শিল্পের প্রতি এখনো কিছু মানুষের গভীর অনুরাগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘মেটাল বা প্লাস্টিকের ভিড়ে এখন মূলত শৌখিন ক্রেতা এবং বিশেষ করে ছুটি কাটাতে দেশে আসা প্রবাসীরাই আমাদের মূল ভরসা। তাঁরা প্রবাস থেকে ফিরে নিজের ঘরের অন্দরমহলে দেশীয় ঐতিহ্যের উষ্ণতা ও নান্দনিকতা ধরে রাখতে এখনো এসব আসবাব কেনেন।’ এ ছাড়া বদলানো দিনকালের সঙ্গে তাল মেলাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনলাইনের অর্ডার নিয়ে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।কেবল হাতে গোনা কয়েকজন শৌখিন ক্রেতা কিংবা প্রবাসীদের আগ্রহ দিয়ে শতবর্ষী এই প্রাচীন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই কুটিরশিল্প বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। স্থানীয়ভাবে বা বনাঞ্চলে আগের মতো মানসম্মত বেত পাওয়া যায় না। চড়া দামে বাইরে থেকে কাঁচামাল কিনে আনতে গিয়ে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে সস্তায় মেলা প্লাস্টিক বা মেটালের আসবাবের সঙ্গে মূল্যের প্রতিযোগিতায় শতভাগ হাতে তৈরি এই বেতশিল্প কোনোভাবেই পেরে উঠছে না।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষ কারিগরের চরম সংকট। এই কাজ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য হলেও সে অনুযায়ী ন্যায্য মজুরি মেলে না। একই সঙ্গে কাজের নিশ্চয়তা না থাকায় অনেক অভিজ্ঞ কারিগর বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার শতবর্ষী এই পেশা ছেড়ে দিনমজুরি বা অন্য পেশায় চলে গেছেন। কারিগরের অভাবে অনেক মালিকই বাধ্য হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
সাভারে এসআই আলতাফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাভারে এসআই আলতাফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬ গোল হজম বাংলাদেশের

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬ গোল হজম বাংলাদেশের

মেঘনার চরে সংকটাপন্ন ১৪ প্রজাতির পাখি

মেঘনার চরে সংকটাপন্ন ১৪ প্রজাতির পাখি

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি: প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটলে আস্থা থাকবে কীভাবে
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি: প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটলে আস্থা থাকবে কীভাবে

বিএনপি ক্ষমতায় আসার প্রথম ছয় মাস পার হলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব, অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানিসংকট সামলাতে এখনো তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু এরই মধ্যে সরকারকে এমন কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যাচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে অনাস্থার পরিবেশ তৈরির দিকে নিয়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক ও জ্বালানিসংকটের অজুহাত হিসেবে যুদ্ধ ও বিগত দেড় দশকের স্বৈরশাসনকে দাঁড় করানোর সুযোগ থাকলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এ ধরনের অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই।কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। জুলাই সনদ মূলত রাজনৈতিক সমঝোতার দলিলে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘ আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এমন একটি রূপরেখা তৈরি করতে সক্ষম হওয়াটা এক বড় অর্জন এবং রাজনৈতিক সাবালকত্বেরও লক্ষণ। এতে প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটও পড়েছে। সরকারের মন্ত্রীরা একাধিকবার জুলাই সনদ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যদিও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। র‍্যাব থেকে এসআরবি, নাম পাল্টালে কাজ পাল্টাবে কির‍্যাব নিয়ে বিএনপি কি তাদের দায় স্বীকার করবেসনদে কিছু বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ছিল, আবার কিছু বিষয়ে বিএনপিও সর্বসম্মত ঐকমত্য জানিয়েছিল। গণভোট বিএনপির এই নোট অব ডিসেন্টকে খারিজ করে দেয় কি না, আপাতত এ প্রশ্ন মুলতবি রেখে দেখা যেতে পারে, যেসব বিষয়ে বিএনপি নিজেরাও সায় দিয়েছিল, সেগুলোর কী হাল? যেমন জুলাই সনদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ‘নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে পৃথকীকরণের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব সচিবালয় থাকবে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।’ এ বিষয়ে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশও জারি করেছিল। অথচ ক্ষমতায় এসে বর্তমান সরকার সংসদে সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে দিল। মনে রাখা দরকার, আমাদের রাজনীতিতে আস্থার সংকটই প্রবল। একদিকে কোনো রাজনৈতিক দলই অপরকে ন্যূনতম কোনো বিষয়ে বিশ্বাস করে না। অন্যদিকে জনগণের মধ্যেও প্রবল বিশ্বাস রয়েছে, ক্ষমতায় গিয়ে কেউই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে না। এমন পরিস্থিতিতে সদ্য গড়ে ওঠা কোনো সমঝোতার প্রতি আস্থা তৈরির মূল দায় বর্তায় সরকারি দলের ওপর। আবার ধরুন, সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির বিষয়ে সনদে উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে বিরোধীদলীয় সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্যে নির্বাচন করা হবে।’ এ বিষয়েও বিএনপির সম্মতি ছিল। এমনকি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও এ প্রতিশ্রুতি ছিল।  কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল আরেক চিত্র। সংসদে ৫০টি কমিটির মধ্যে বিরোধী দলের মোট ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার কথা। কিন্তু শুধু সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদটি বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে। সরকারি দল বলছে, এই অনুপাতে সভাপতির পদ দিতে তারা সাংবিধানিকভাবে বাধ্য নয়, ইতিহাসেও এমন নজির নেই। আবার তারা এ-ও বলছে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে তারা এই পদগুলো দিতে রাজি হবে। জাতীয় সংসদএই যে দুটি বিষয় বলা হলো, এগুলো নিয়ে খোদ বিএনপিও ঐকমত্য জানিয়েছিল। এখন তারা বলতেই পারে, তারা আগে সংবিধান ‘সংশোধন’ করবে, পরে এসব করবে। যেমন সম্প্রতি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম দাবি করেছেন, জুলাই সনদ ‘বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন’ প্রয়োজন (প্রথম আলো, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)।‘সংস্কার’ ও ‘সংশোধন’-এর সূক্ষ্ম পার্থক্য এড়িয়ে গিয়েও বলা যায়, সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথমত, কিছু প্রস্তাব ছিল সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে; আর দ্বিতীয়ত, কিছু প্রস্তাব ছিল আইন, অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি ছিল এই দ্বিতীয় অংশে। অর্থাৎ, এই সংস্কারের জন্য সংবিধান ‘সংশোধন’ করাও লাগবে না। একইভাবে সংসদীয় কমিটির সভাপতি কোন দল থেকে দেওয়া হবে, তা যেহেতু সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির কোথাও নির্ধারণ করা নেই, সেহেতু সনদের এ প্রস্তাব এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন। আবার এটা একটা মনোভঙ্গিরও বিষয়।গুম প্রতিরোধে কেমন আইন ও বিচার দরকারসরকার সনদের বিভিন্ন বিষয়কে এখন দর-কষাকষির উপাদানে পরিণত করতে চাইছে: আপনি যদি আমার এ দাবি মানেন, তাহলে আমরা এই দাবি মানব। প্রথমত, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখা হবে কীভাবে? শপথ গ্রহণের দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকার তার অবস্থান ও মনোভাব অনেকটাই স্পষ্ট করেছে। দ্বিতীয়ত, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো কখনোই কোনো দর-কষাকষির উপাদান হতে পারে না। ইতিমধ্যে দীর্ঘ সংলাপের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া সমঝোতার বিষয়গুলোকে দর-কষাকষির উপাদানে পরিণত করা আলামত হিসেবেও শুভ নয়। অন্যদিকে সমঝোতার বিষয়গুলোকে পাশ কাটাতে সরকার যে বিদ্যমান ‘সংবিধান’–এর দোহাই দিচ্ছে, অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারকে আবার অসাংবিধানিক পদক্ষেপ নিতেও দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি দুদকের চেয়ারম্যান পদে সুপ্রিম কোর্টের এক সাবেক বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধানের বিধিনিষেধের স্পষ্ট লঙ্ঘন (প্রথম আলো, ১৯ আগস্ট ২০২৬)। অর্থাৎ রাজনৈতিক সমঝোতা এড়ানোর বাহানা হিসেবে ‘সংবিধান’কে সামনে আনা হলেও প্রয়োজনমতো সেই সংবিধানকেই উপেক্ষা করা হয়। জনগণ যখন দেখে রাজনৈতিক সমঝোতা ও তাদের রায়কে উপেক্ষা করার জন্য বারবার ‘সংবিধান’কে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন তাদের কাছে খোদ সংবিধানের গুরুত্বই লঘু হতে থাকে। এই যে বিষয়গুলো আলাপ করা হলো, তা সনদের ভেতরকার। অর্থাৎ যে বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত ছিল, সেগুলোকে সংলাপের মাধ্যমে একটা ন্যূনতম ঐকমত্যে নিয়ে আসার প্রয়াসের সঙ্গে এটা জড়িত। কিন্তু এর বাইরে আরও কিছু বিষয় নিয়ে নাগরিক সমাজ ও সর্বসাধারণের মধ্যে প্রবল ঐক্য ছিল এবং তারা আশাও করেছিল, সরকার এই বিষয়গুলো মানবে। সেগুলোও মানা হচ্ছে না। যেমন গুম ও মানবাধিকার বিষয়ে মৌলিক প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস মূলত রাজনৈতিক শ্রেণির সমঝোতা ভাঙার ইতিহাসও বটে। কোনো বিশেষ ঘটনার পর যখন রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে ওঠে, সেটা ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলে দুই স্তরে সংকট দেখা দিতে থাকে। প্রথমত, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এবং দ্বিতীয়ত, সরকার ও জনগণের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়। এই ছয় মাসে দুটিরই আলামত পাওয়া যাচ্ছে। মনে রাখা দরকার, আমাদের রাজনীতিতে আস্থার সংকটই প্রবল। একদিকে কোনো রাজনৈতিক দলই অপরকে ন্যূনতম কোনো বিষয়ে বিশ্বাস করে না। অন্যদিকে জনগণের মধ্যেও প্রবল বিশ্বাস রয়েছে, ক্ষমতায় গিয়ে কেউই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে না। এমন পরিস্থিতিতে সদ্য গড়ে ওঠা কোনো সমঝোতার প্রতি আস্থা তৈরির মূল দায় বর্তায় সরকারি দলের ওপর। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আস্থাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ‘আস্থা’র কোনো লিখিত দলিল বা চুক্তিনামা থাকে না। তবে এটাই যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে আস্থার সংকটের পরিণতি দেখলে আমরা বুঝতে পারি। সরকার যদি শুরুতেই সমঝোতার রূপরেখা থেকে পিছু হটে, তবে তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য বিপদ ডেকে আনবে।● সহুল আহমদ লেখক ও গবেষক* মতামত লেখকের নিজস্ব

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

মনে রাখতে হবে জনগণেরও ক্ষমতা দেখানোর ইতিহাস আছে: গোলাম পরওয়ার

মনে রাখতে হবে জনগণেরও ক্ষমতা দেখানোর ইতিহাস আছে: গোলাম পরওয়ার

হাসান নন, আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় দিনুশা

হাসান নন, আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় দিনুশা

জ্বালানিসংকটে উৎপাদন ব্যাহত, তবে বন্ধ হয়নি কারখানা: বিজিএমইএ
জ্বালানিসংকটে উৎপাদন ব্যাহত, তবে বন্ধ হয়নি কারখানা: বিজিএমইএ

জ্বালানিসংকটে গত দুই মাসে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হলেও কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত সাত দিনের তুলনায় বর্তমানে কারখানাগুলোয় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।আজ রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বাটেক্সপো আয়োজন, নতুন বাজার ও ক্রেতা খোঁজা, পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, হঠাৎ কোনো অভিঘাতে কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে যায় না। তাতে ছয় মাসের মতো সময় লাগে। এখানে ক্রয়াদেশ থাকে, শ্রমিকের বেতনের বিষয় থাকে। তাই দুই মাসের জ্বালানিসংকটে কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। এটার প্রভাব দেখার জন্য আরও সময় লাগবে।এ ছাড়া এক বছর আগের কোনো অভিঘাতের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হলে বলা যাবে না, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কারখানাটি বন্ধ হয়েছে। কারখানা বন্ধ হওয়া ও নতুন কারখানা চালু হওয়া নিয়মিত প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।জ্বালানিসংকট নিরসনে করণীয় সম্পর্কে মাহমুদ হাসান খান বলেন, শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সে জন্য আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক এলএনজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।এ ছাড়া তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে গ্যাস সাশ্রয় করে তা কারখানায় সরবরাহের প্রস্তাব দেন মাহমুদ হাসান খান।চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান মাহমুদ হাসান খান। তবে তিনি বলেন, আগস্টে আগের বছরের রপ্তানি তুলনামূলক কম থাকায় এবার প্রবৃদ্ধির হার বেশি দেখা যাচ্ছে।বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত তিন বছরে পোশাক ব্যবসায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়নি। এর মধ্যে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধ, জাহাজ চলাচল ও সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা পোশাকশিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।বাটেক্সপোতে নতুন ক্রেতা খোঁজা এক যুগের বেশি সময় পর আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাটেক্সপো আয়োজন করতে যাচ্ছে বিজিএমইএ। নতুন ক্রেতা ও বাজার খোঁজার পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের পরিবর্তন, উচ্চমূল্যের পণ্য, প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরতে এবারের আয়োজন কাজে লাগাতে চায় সংগঠনটি।এবারের বাটেক্সপোতে ‘গ্লোবাল অ্যাপারেল এক্সপো’, ‘গ্লোবাল অ্যাপারেল সামিট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবন হাব, টেকসই ও চক্রাকার অর্থনীতির প্রদর্শনী, টেকসই নেতৃত্ব পুরস্কার ও ফ্যাশন রানওয়ের আয়োজন থাকবে।মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৬৭টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশ এবং উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর অংশ হিসেবে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের অংশীদারত্ব বাড়াতে ‘জাপান মার্কেট স্ট্র্যাটেজি কমিটি কাজ করছে। এ ছাড়া জাপানি ব্র্যান্ড ও বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বিজিএমইএ কার্যালয়ে ‘বিজিএমইএ-জাপান ডেস্ক’ চালু হচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত এটি উদ্বোধন করবেন।হংকংয়ে রোড শো নতুন বাজার ও ক্রেতা খোঁজার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোড শো, হংকং ২০২৬’ আয়োজন করা হবে। বিজিএমইএ ও এইচএসবিসি বাংলাদেশ যৌথভাবে এ আয়োজন করবে।বিজিএমইএ জানিয়েছে, হংকংয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে যেসব ব্র্যান্ড ও ক্রেতা এখনো বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহ করেন না, তাঁদের লক্ষ্য করেই রোড শো আয়োজন করা হচ্ছে।কাস্টমস-বন্ডে হয়রানি কমানোর দাবি ব্যবসার খরচ ও পণ্য সরবরাহে সময় বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে কাস্টমস ও বন্ড-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কাস্টমসের হয়রানি থেকে এখনো পুরোপুরি উত্তরণ হয়নি। তবে প্রক্রিয়া চলছে; এবং অনেক কার্যক্রম ডিজিটাল করা হচ্ছে।বন্ড অডিটের জন্য দেশের পেশাদার নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত করে স্থায়ী নীতিমালা করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমদানি করা পণ্যের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক স্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল পোশাকশ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জায়গা চেয়েছে বিজিএমইএ। এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার কথা জানান সংগঠনটির সভাপতি।আগামী বছরের শুরুতে প্রায় ১০০ শয্যার মিরপুর হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।এ ছাড়া পোশাক রপ্তানিকারকদের তারল্য–সংকট কমাতে নগদ সহায়তার বিপরীতে প্রযোজ্য ৫ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি বলেন, এই কর প্রত্যাহার করা না হলে তা চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
মৌলভীবাজার শহরেই ‘স্বাদ’–এর ১২ আউটলেট

মৌলভীবাজার শহরেই ‘স্বাদ’–এর ১২ আউটলেট

পারিবারিক কলহের জেরে ছেলেকে হত্যার অভিযোগ, মা আটক

পারিবারিক কলহের জেরে ছেলেকে হত্যার অভিযোগ, মা আটক

বিনয়ের ঈশ্বরীগণ

বিনয়ের ঈশ্বরীগণ

0 Comments