স্কুল, কলেজ, অফিস কিংবা ঘুরতে যাওয়ার সময় স্টিলের পানির বোতল এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। গরম পানি থেকে শুরু করে চা-কফি কিংবা ঠান্ডা পানিসহ নানা ধরনের পানীয় রাখা যায় । ফলে একটি বোতল দিনের পর দিন ব্যবহার করাও বেশ স্বাভাবিক।
কিন্তু নিয়মিত ব্যবহারের কারণে একটা সময় বোতলের ভেতরে দাগ পড়ে, তলায় জমে যায় আস্তরণ, এমনকি তৈরি হতে পারে বিশ্রী গন্ধও। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় বোতলের ঢাকনা, মুখের অংশ ও রবারের রিংয়ে। এসব জায়গার সরু ফাঁকে পানি, পানীয়ের অবশিষ্টাংশ ও আর্দ্রতা জমে থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বেড়ে উঠতে পারে।
তাই শুধু পানি দিয়ে বোতল কেচে নিলেই হবে না, নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার করাও জরুরি। ঘরের সহজ কিছু উপকরণ দিয়েই কীভাবে স্টিলের বোতল পরিষ্কার করবেন, জেনে নিন।
বেকিং সোডা দিয়ে বোতলের জেদি দাগ ও দুর্গন্ধ পরিষ্কার করা যায়
বোতলের ভেতরে জমে থাকা গন্ধ বা হালকা দাগ দূর করতে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে বোতলটি খালি করে ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর ১ চামচ বেকিং সোডা দিয়ে বোতলে হালকা গরম পানি ভরে ২ ঘণ্টা রেখে দিন।
পরে বোতলের ব্রাশ দিয়ে ভেতর ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে ফেলুন। শেষে বোতলটি ঢাকনা খুলে শুকাতে দিন।
বোতলের ভেতরে দীর্ঘদিনের গন্ধ বা আস্তরণ জমে গেলে সাদা ভিনিগার ব্যবহার করা যেতে পারে। বোতলে সমপরিমাণ ভিনিগার ও পানি দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর বোতলের ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে ফেলুন।
তবে ভিনিগার ব্যবহার করার পর বোতলে কোনো গন্ধ বা অবশিষ্টাংশ যেন না থাকে, সেজন্য ভালোভাবে রিন্স করা জরুরি। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি বোতল পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
বোতলে হালকা গন্ধ বা দাগ থাকলে লেবু ও লবণের মিশ্রণও কাজে লাগাতে পারেন। সামান্য লেবুর রস ও এক চিমটি লবণ বোতলে দিয়ে তার সঙ্গে কিছু পানি যোগ করুন। ঢাকনা লাগিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন।
এরপর কিছুক্ষণ রেখে বোতলের ভেতর ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। লেবুর সতেজ গন্ধও বোতলের পুরোনো গন্ধ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বোতল পরিষ্কার করার সময় সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয় ঢাকনা ও রবারের রিং। অথচ বোতলের এই অংশগুলোতেই ময়লা ও জীবাণু জমে থাকার সুযোগ বেশি থাকে। তাই ঢাকনা, রাবারের গ্যাসকেট বা সিল আলাদা করে পরিষ্কার করুন।
হালকা গরম পানি ও ডিশওয়াশিং সাবান দিয়ে প্রতিটি অংশ ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে নিন। সরু খাঁজ বা ছোট ফাঁক পরিষ্কার করতে ছোট ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। বোতলের কোনো অংশ খুলে পরিষ্কার করার নিয়ম না জানলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখে নেওয়াই ভালো।

বোতল ধুয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা লাগিয়ে রেখে দেবেন না। পরিষ্কার করার পর বোতল, ঢাকনা ও রবারের অংশগুলো আলাদা করে বাতাসে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। ভেতরে আর্দ্রতা আটকে থাকলে ছত্রাক ও জীবাণু বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে প্রতিদিন ব্যবহার করা বোতল নিয়মিত ধোয়া ভালো। শুধু পানি দিয়ে কুলকুচি করে নেওয়ার বদলে সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করা এবং বোতলের সব খাঁজ ও খুলে ফেলা যায় এমন অংশ ধুয়ে ভালো ধুয়ে নিন।
সূত্র: এনডিটিভি, উইকিহাউ
এসএকেওয়াই
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সারাদিন ঘরের ভেতরেই কাটছে সময়। সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা খোলা, রান্নাঘরের ব্যস্ততা, ঘরে নতুন আসবাব যোগ করা কিংবা দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে থাকা, সবকিছুতেই আমরা ঘরের পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিই। মেঝে পরিষ্কার করি, আসবাব মুছি, বিছানার চাদর বদলাই, ঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখি, কিন্তু ঘরের বাতাস কতটা পরিষ্কার, সেই প্রশ্নটি অনেক সময় আমাদের ভাবনাতেই আসে না।রং,কাঠের আসবাব, কার্পেট, আঠা, বার্নিশ, পরিষ্কার করার বিভিন্ন উপকরণসহ ঘরের নানা জিনিস থেকে বাতাসে ছড়াতে পারে উদ্বায়ী জৈব যৌগ বা ভিওসি। এর মধ্যে ফরমালডিহাইডের মতো রাসায়নিকও থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অনেক উদ্বায়ী জৈব যৌগের মাত্রা বাইরের তুলনায় ঘরের ভেতরে বেশি থাকতে পারে এবং এসব যৌগের কিছু স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু রাসায়নিকই নয়, ঘরের বাতাসে থাকতে পারে ধুলা, পরাগকণা, ছত্রাকের স্পোর, ধূলিকীট ও অন্যান্য জৈব দূষকও।ঘরের বাতাসে থাকতে পারে ধুলা, পরাগকণা, ছত্রাকের স্পোর, ধূলিকীট ও অন্যান্য জৈব দূষকও। বিশেষ করে ঘরের কোনো জায়গা দীর্ঘদিন স্যাঁতসেঁতে থাকলে সেখানে ছত্রাক জন্মানোর আশঙ্কা বাড়ে। রান্না, গোসল কিংবা ঘরে কাপড় শুকানোর মতো দৈনন্দিন কাজেও ঘরের আর্দ্রতা বেড়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না থাকলে এই আর্দ্র পরিবেশ ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণুর বৃদ্ধির অনুকূল হয়ে উঠতে পারে। এ কারণেই ঘরের সবুজ গাছ শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর উপাদান নয়, ঘরের পরিবেশ নিয়েও ভাবার একটি সুন্দর উপলক্ষ হতে পারে। তেমনই একটি পরিচিত ইনডোর প্ল্যান্ট হলো স্পাইডার প্ল্যান্ট। আমরা অনেকেই জানিনা, ঘরের এক কোণে যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠা এই গাছটি হতে পারে প্রাকৃতিক এয়ার পিউরিফায়ার।স্পাইডার প্ল্যান্ট দেখতে খুব সাধারণ। লম্বা সরু সবুজ পাতা, পাতার মাঝখানে সাদা বা হালকা রঙের রেখা এবং দ্রুত নতুন চারা তৈরির স্বভাব এই গাছটিকে ঘর সাজানোর জন্য জনপ্রিয় করেছে। ঝুলন্ত টবেও এটি বেশ সুন্দর দেখায়। খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না বলে ছোট অ্যাপার্টমেন্ট, বারান্দা কিংবা কাজের টেবিলের পাশেও রাখা যায় এর যত্নও তুলনামূলক সহজ।স্পাইডার প্ল্যান্ট দেখতে খুব সাধারণ। লম্বা সরু সবুজ পাতা, পাতার মাঝখানে সাদা বা হালকা রঙের রেখা । খুব তীব্র সরাসরি রোদ না পেলেও এটি অনেকটা মানিয়ে নিতে পারে। অতিরিক্ত পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং টবের মাটি শুকিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দেওয়াই ভালো। অর্থাৎ যারা গাছ ভালোবাসেন কিন্তু নিয়মিত পরিচর্যার জন্য খুব বেশি সময় দিতে পারেন না, তাদের জন্যও এটি সহজ একটি পছন্দ।সৌন্দর্যের বাইরে এই পরিচিত গাছটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণা হয়েছে যেখানে দেখা গেছে বায়ু শোধনে এর আছে ভূমিকা। ঘরের বাতাসে থাকা কিছু রাসায়নিক শোষণে উদ্ভিদের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা নতুন নয়। নাসার ১৯৮০-এর দশকের গবেষণায় স্পাইডার প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন ইনডোর উদ্ভিদকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা করা হয়েছিল। গবেষণায় ফরমালডিহাইড, বেঞ্জিন ও ট্রাইক্লোরোইথিলিনের মতো কিছু উদ্বায়ী রাসায়নিক কমানোর ক্ষেত্রে উদ্ভিদের সম্ভাবনা দেখা হয়। গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল শুধু গাছের পাতা নয়, গাছের শিকড়, মাটি এবং মাটির সঙ্গে থাকা অণুজীবের ভূমিকাও।সৌন্দর্যের বাইরে এই পরিচিত গাছটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণা হয়েছে যেখানে দেখা গেছে বায়ু শোধনে এর আছে ভূমিকা। উদ্ভিদের পাতা বাতাস থেকে কিছু গ্যাসীয় পদার্থ গ্রহণ করতে পারে, আবার শিকড় ও মাটির অণুজীবও কিছু রাসায়নিক ভাঙতে ভূমিকা রাখতে পারে। নাসার গবেষণায় এই সম্মিলিত প্রক্রিয়াটিকে ঘরের বাতাসের কিছু দূষক কমানোর সম্ভাবনাময় পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয়েছিল। নাসার এই গবেষণাগুলো মূলত ছোট ও নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগারে করা হয়েছিল। বাস্তব একটি বাসা বা অফিসে একই মাত্রায় বাতাস পরিশোধন হবে, এমন নিশ্চয়তা গবেষণাগুলো দেয় না।পরবর্তী সময়ে এই বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত নানা দাবি ছড়িয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো একটি নির্দিষ্ট আকারের ঘরে একটি গাছ ২৪ ঘণ্টায় ৯৫ শতাংশ দূষণ সরিয়ে ফেলতে পারে। এমন নির্দিষ্ট দাবিকে বাস্তব ঘরের জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। স্পাইডার প্ল্যান্টকে ঘরের বাতাস পরিষ্কারের প্রধান ব্যবস্থা না ভেবে বরং একটি সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সহায়ক হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্তএকটি নির্দিষ্ট আকারের ঘরে একটি গাছ ২৪ ঘণ্টায় ৯৫ শতাংশ দূষণ সরিয়ে ফেলতে পারে। তাহলে ঘরে গাছ রাখার লাভ কীঘরে গাছ রাখার সবচেয়ে সহজ লাভটি চোখেই দেখা যায়। চারপাশে সবুজ থাকলে ঘর একটু প্রাণবন্ত লাগে। সাদা দেয়াল, কাঠের আসবাব আর কৃত্রিম সাজসজ্জার মাঝে একটি জীবন্ত গাছ ঘরের পরিবেশে আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা। সকালে জানালার পাশে নতুন পাতা দেখা, কয়েক দিন পর টব থেকে ছোট চারা বের হতে দেখা কিংবা শুকিয়ে যাওয়া একটি পাতা যত্ন করে সরিয়ে দেওয়া, এসব ছোট অভ্যাসও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এক ধরনের প্রশান্তি আনতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ঘরে বসে কাজ করেন, তাদের কর্মস্থলের পাশে একটি ছোট সবুজ গাছ ঘরের দৃশ্যটিকে বদলে দিতে পারে। তবে গাছ রাখার জায়গা নির্বাচন করার সময় আলো, বাতাস চলাচল ও পানির প্রয়োজনের বিষয়টি মাথায় রাখা দরকারশুধু গাছ নয়, বাতাসের যত্নও জরুরিঘরের বাতাস ভালো রাখতে একটি স্পাইডার প্ল্যান্টের ওপর নির্ভর করাই যথেষ্ট নয়। বরং কয়েকটি অভ্যাস একসঙ্গে কাজে লাগানো বেশি কার্যকর। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা জরুরি। রান্নার সময় চুলার ধোঁয়া ও বাষ্প বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা ভালো। নতুন আসবাব, রং বা রাসায়নিকযুক্ত কোনো পণ্য ব্যবহারের পর ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা উচিত। পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থাও উদ্বায়ী জৈব যৌগের সংস্পর্শ কমাতে উৎস নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের পরামর্শ দেয়। ঘরের বাতাস ভালো রাখতে একটি স্পাইডার প্ল্যান্টের ওপর নির্ভর করাই যথেষ্ট নয়। একইভাবে স্যাঁতসেঁতে জায়গা অবহেলা করা ঠিক নয়। দেয়ালে কালো বা সবুজ ছোপ দেখা দিলে শুধু গাছ এনে সমস্যাটি ঢেকে রাখার বদলে পানির উৎস বা আর্দ্রতার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। কারণ ছত্রাক নিয়ন্ত্রণের মূল বিষয় হলো আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা। ঘরের আর্দ্রতা খুব বেশি হলে ছত্রাক ও ধূলিকীটের বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী জানালা খোলা, বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঠিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণঘরকে সুন্দর ও আরামদায়ক করে তোলার জন্য আমরা অনেক কিছুই করি। দামি আসবাব কিনি, দেয়ালে ছবি লাগাই, সুগন্ধি ব্যবহার করি, নতুন পর্দা বদলাই। সেই তালিকায় একটি ছোট সবুজ গাছ যোগ করা তাই নিছক সাজসজ্জা নয়। স্পাইডার প্ল্যান্ট ঘরের বাতাসের সব দূষণ দূর করে দেবে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে ঘরের একটি ছোট সংযোগ তৈরি করতে পারে এই গাছ। ঘরের বাতাসকে সত্যিকার অর্থে ভালো রাখতে গাছের পাশাপাশি প্রয়োজন পরিচ্ছন্নতাআর ঘরের বাতাসকে সত্যিকার অর্থে ভালো রাখতে গাছের পাশাপাশি প্রয়োজন পরিচ্ছন্নতা, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং দূষণের উৎস কমানোর অভ্যাসসুস্থ ঘর তৈরি হয় একটি মাত্র উপাদানে নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতনতা অভ্যাস থেকে। জানালার পাশে রাখা একটি সবুজ স্পাইডার প্ল্যান্ট সেই সচেতনতারই সুন্দর শুরু হতে পারে।দ্যা কনভার্সেশন ডট কম ছবি পেক্সেলস ডট কম
আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ আজ শনিবার। ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের পর এটি জোটের দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি। উত্তরবঙ্গমুখী লংমার্চে আঞ্চলিক একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি—তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত করেছে বিরোধী এই জোট।জোটের নেতারা বলছেন, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের তুলনায় রংপুরমুখী কর্মসূচিতে আরও বেশি মানুষের সাড়া পাওয়া যাবে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। ঢাকা থেকে শুরু হওয়া গাড়িবহরে পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হয়ে সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে বলে জোটের নেতারা জানিয়েছেন। লংমার্চে সরকারকে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা। একই সঙ্গে নিজেদের নেতা-কর্মীদের উসকানির মুখে ধৈর্য ও সংযম দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।১১–দলীয় ঐক্যের সূত্র বলছে, রংপুর অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচিতে তারা বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত ১৭টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২টি আসনে জয় পায়। অর্থাৎ জোটগতভাবে ১৯টি আসনে জয়ী হয় তারা। বিএনপি জয় পায় ১৩টি আসনে। আর একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন।জোটের নেতারা মনে করেন, এই ফলাফল রংপুর অঞ্চলে তাঁদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থানের শক্তি বোঝায়। সেই শক্তির ওপর ভিত্তি করেই লংমার্চে বড় জমায়েতের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রামের ছয় দাবি, রংপুরে আরও দুই ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দল। দাবিগুলো ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি। অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির বিষয়গুলোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের একটি আঞ্চলিক ইস্যুকেও সামনে এনেছে জোট। জোটের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবিকে বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে কর্মসূচির অংশ করা হয়েছে।বড় জমায়েত দেখানোর চেষ্টা আজ সকাল সাতটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। সকাল আটটায় গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কথা। সকাল ৯টায় গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে, সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোড, দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বিকেল ৪টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও বিকেল সাড়ে ৫টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় পথসভার সময় নির্ধারিত আছে।সবশেষে সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে। তবে বিভিন্ন কারণে সময়সূচিতে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলে জোটের পক্ষ থেকে আগাম জানানো হয়েছে। লংমার্চের কারণে সম্ভাব্য জনদুর্ভোগের জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা।লংমার্চের সমাবেশ ও পথসভাগুলোতে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন ১১ দলের নেতারা। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই কর্মসূচিতে হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হবে। তাঁর দাবি, রাস্তার দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়ে লংমার্চকে স্বাগত জানাবেন।সরকারকে বাধা না দেওয়ার আহ্বান লংমার্চ নিয়ে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কর্মসূচিতে যেন কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা না হয়। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও উসকানিতে পা দেব না।’ এমনকি কোনো আঘাত এলেও প্রতিশোধ না নিয়ে কর্মসূচি সফল করাকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের সম্ভাব্য দুর্ভোগের জন্যও আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সড়কে মানুষের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে—বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাঁরা সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছেন।সামনে আরও দুই লংমার্চ ১১–দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ হবে। অর্থাৎ চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও সিলেট—দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দিকে ধারাবাহিক লংমার্চের কর্মসূচি নিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য।১১–দলীয় ঐক্যের সূত্রগুলো বলছে, লংমার্চ ও সমাবেশ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক দাবিগুলোকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি জুলাই সনদ মেনে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে চাপেও রাখার বিষয়টিও আছে।লংমার্চ কর্মসূচি শেষ করে ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য। তবে জোটের সূত্র বলছে, ঘোষিত চারটি লংমার্চ কর্মসূচি শেষে আরও কিছু বিভাগীয় শহরে লংমার্চ হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রযোজনা সংস্থা সুরিন্দর ফিল্মসের একটি পোস্টার গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলী। তাঁর পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা ‘আজও আর্ধাঙ্গিণী’র পোস্টার। গত ১০ জুলাই মুক্তির পর টানা ৭৫ দিন প্রদর্শনীর মাইলফলক পূর্ণ করেছে সিনেমাটি। প্রযোজনা সংস্থাটি যাকে বলেছে ‘ব্লকবাস্টার হিট’। কৌশিকের পোস্টের নিচে অনেক দর্শক সিনেমাটির প্রশংসা করেছেন। অরিন্দম চ্যাটার্জি নামের এক দর্শক লিখেছেন, ‘কোনো সিনেমার পার্ট টু যে এত ভালো হতে পারে, আমার জীবনে সেটা প্রথমবার অভিজ্ঞতা হলো। অসাধারণ সিনেমা, প্রত্যেকেরই দেখা উচিত।’ কেবল তিনিই নন, মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটির প্রশংসা করেছেন দর্শক-সমালোচকেরা। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘অর্ধাঙ্গিণী’ বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছিল, এটি তারই সিক্যুয়েল। আগের কিস্তির মতো সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রগুলোয় অভিনয় করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, জয়া আহসান, কৌশিক সেন, অম্বরীশ ভট্টাচার্য। সিনেমাটিতে মেঘনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া। নিজের অভিনীত চরিত্রটি নিয়ে প্রথম আলোকে তিনি বলেছিলেন, ‘মেঘনা চরিত্রটা তো আগে থেকেই তৈরি ছিল। তারপর সময় কিছুটা কেটে গেছে। শহরটা মেঘনার অনেকখানি হয়ে গেছে। ও পরিবারের একটি অংশ হয়ে গেছে। পরিবারে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বাচ্চাটা বড় হয়েছে। মেঘনার জীবনে নতুন নতুন আরও চরিত্র এসেছে। যেমন করে সিনেমাতে নতুন চরিত্রগুলো আসে। ও আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। কিন্তু সংসারে এবারও নানা রকমের টানাপোড়েন তৈরি হয়, অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়তে হয় মেঘনাকে। নতুন সিনেমায় সেটাই উঠে এসেছে।’কী বললেন জয়া‘অর্ধাঙ্গিণী’র পর ‘আজও অর্ধাঙ্গিণী’র সাফল্যে উচ্ছ্বসিত জয়া আহসান। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার মনে হয় সিক্যুয়েল ভাগ্যটাই আমার বোধ হয় ভালো। কারণ “বিজয়া”, “বিসর্জন”-এর পর “অর্ধাঙ্গিণী”থেকে “আজও অর্ধাঙ্গিণী”...মজা করে বললাম আর কী। সত্যি বলতে ভালো গল্প হলে, ভালো কনটেন্ট হলে দর্শক দেখতে আসেন। আমরা যে বলি দর্শক হলে যায় না, সেটা কি ঠিক? প্রমাণ হচ্ছে “আজও অর্ধাঙ্গিণী”। যে প্রত্যেকটা লাইনে, প্রত্যেকটা সংলাপে মানুষ হাততালি দিচ্ছে, নিজেকে রিলেট করতে পারছে, আবেগপ্রবণ হচ্ছে...এটা দেখে আমি সত্যিই খুশি।’সিনেমাটির সাফল্য নিয়ে অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। কারণ, এমন একটি কাজ করতে পেরেছি, যেটা আসলে সমাজের মানুষের দৈনন্দিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। মানুষ এখনো সিনেমাটি দেখছে, কথা বলছে; এটাই তো সবচেয়ে বড় পাওয়া, তাই না?’‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র পোস্টার। প্রযোজনা সংস্থার ফেসবুক থেকে যা বলেছিলেন সমালোচকেরামুক্তির পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যম বাংলাদেশি অভিনেত্রীর প্রশংসাও করেছিল। সংবাদ প্রতিদিন তাদের রিভিউয়ে জয়ার অভিনয় সম্পর্কে লিখেছিল, ‘মেঘনার চরিত্রে জয়া একেবারে পারফেক্ট। জয়ার মধ্যে এমন তোলপাড়, কূলছাপানো লিকুইডিটি, তারল্য আছে, যা চোখে দেখার, অনুভবের এবং আমার মতো কিছু পুরুষের রোমান্টিক টানের। কৌশিকের কল্পনা, তাঁর রোমান্টিক স্বপ্ন এই তারল্যে সাঁতারু হতে পেরেছে। সমস্ত ছবিটাকে আচ্ছন্ন করে আছে জয়া আহসানের তারল্য, মেঘনা নদীর এপার-ওপার ছলাৎ ও বহতা।’অনলাইন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল লিখেছিল, ‘মেঘনা চরিত্রে জয়া আহসান অনেক সংযত। সংলাপ কম, কিন্তু উপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী। অপরাধবোধ, দ্বিধা, ভালোবাসা আর অনিশ্চয়তার মাঝখানে আটকে থাকা এক নারীর ভাঙন। বিশেষ করে চূর্ণীর সঙ্গে তাঁর মুখোমুখি দৃশ্যগুলো ছবির আবেগকে আরও গভীর করেছে। দুজনের রসায়নই ছবির অন্যতম বড় সম্পদ।’এবার একটু ‘হালকা’ হতে চান জয়াদ্য টেলিগ্রাফ লিখেছিল, ‘মেঘনা চরিত্রে জয়া আহসানও দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন। যদিও প্রথম ছবির তুলনায় এই পর্বে চরিত্রটি আবেগ প্রকাশের তেমন বেশি সুযোগ পায় না, তবু অপরাধবোধ, ভালোবাসা ও অনিশ্চয়তার টানাপোড়েনে আটকে থাকা এক নারীর ভঙ্গুর মানসিক অবস্থাকে জয়া তাঁর সংযত ও বিশ্বাসযোগ্য অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।’এবার ওটিটিতেপ্রেক্ষাগৃহে দারুণ সাফল্যের পর আজ শুক্রবার থেকে ঘরে বসেই দেখা যাবে ‘আজও অর্ধাঙ্গিণী’। সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে। বাংলাদেশের দর্শকেরাও দেখতে পারবেন জয়া আহসান অভিনীত সিনেমাটি।