স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটের তারিখে বদল আসছে। নতুন সময়সূচি নির্ধারণে আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এই বৈঠক থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই ভোটের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবে কমিশন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কমিশনের এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, আগামী ১৭ তারিখের বৈঠকেই মূল সিদ্ধান্ত হবে। সেখানেই নির্ধারণ করা হবে ঠিক কবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইসি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না।
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’
প্রতিমন্ত্রীর এ কথার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইসি সচিব সরাসরি বিতর্ক এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা বক্তব্য দেওয়ার ধৃষ্টতা কমিশন দেখাবে না। তবে ভোটের চূড়ান্ত তারিখ সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত ১৭ তারিখের বৈঠকেই গৃহীত হবে।
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, সারাদেশের চার হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছে ইসি। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মাধ্যমে মাঠে গড়াচ্ছে স্থানীয় সরকারের এই বড় উৎসব। মোট সাত ধাপে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ঘোষিত প্রাথমিক তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপের ভোট নেওয়া হবে ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।
পরবর্তী ধাপগুলোর সময়সূচি উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং সর্বশেষ আগামী ২৭ মে সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম ধাপের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রথম ধাপে দেশের ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া শুরু করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্তগুলো কমিশন প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়।
এমওএস/একিউএফ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামের রাউজানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি এলজি শুটার গান ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে র্যাব-৭।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে রাউজান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাউজান সাকিনের জুরুরকুল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। র্যাব-৭ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, জুরুরকুল বাজারে কালু মিয়া নামের এক ব্যক্তির খড়ের গাদার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র পড়ে আছে। খবর পেয়ে র্যাব-৭-এর একটি দল রাত ১০টা ১৫ মিনিটে সেখানে যায়। আরও পড়ুন পিরোজপুরে ওয়াকিটকি ও ভুয়া পুলিশ পরিচয়পত্রসহ যুবক গ্রেফতার পরে ওই এলাকায় তল্লাশি করে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি এলজি শুটার গান ও দুই রাউন্ড কার্তুজ জব্দ করা হয়। র্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, উদ্ধার করা অস্ত্র ও কার্তুজ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাউজান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস
তুমি অনেক ছোট বেলা থেকেই বিভিন্নভাবে পরমাণু, পারমাণবিক শক্তি, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমাণবিক যুগ এই শব্দগুলোর সঙ্গে পরিচিত...।তুমি হয় তো জানো যে, পরমাণু একটি অতি ক্ষুদ্র কণিকা- যা দ্বারা তৈরি আমাদের এই বিশ্বের সকল কিছু; শ্বাসপ্রশাসের জন্য বাতাস, পানীয় জল, মাটি, খাদ্য দ্রব্য, হাঁড়ি-পাতিল বাসন-কোসন, খেলনাসামগ্রী, পোশাক, বই, গাড়ি, বাড়ি, পাহাড়, মেঘ, চন্দ্র, সূর্য, তারা... সকল জীবজন্তু এমন কি তুমি, আমি ও সকল মানুষ।তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, পরমাণু জিনিসটা আসলে কি? এটি দেখতে কেমন? এর ভিতরে কি থাকে?তিনটি শব্দ আমাদের মনে রাখতে হবে- যেমন 'প্রোটন', 'নিউট্রন' এবং 'ইলেকট্রন' এগুলো হচ্ছে সেই সকল ক্ষুদ্র কণিকা যা দ্বারা তৈরি হয় প্রতিটি পরমাণু।এই কণিকাগুলো এতোই ছোট যে, আমাদের পক্ষে এগুলোর আকার কল্পনা করা কঠিন। তারপরও চেষ্টা করে দেখা যাক। কল্পনা কর যে, হঠাৎ করেই পরমাণুর কণিকাগুলো আকারে অনেক অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে এমন আকার ধারণ করল যে, সব চেয়ে ছোট পরমাণুটি তোমার জ্যাকেটের বোতামের সমান হয়ে গেল। অনুরূপভাবে কল্পনা করা যাক যে, ছোট একটি বিড়াল ছানা পরমাণু কণিকাগুলোর মতোই অত গুণ বড় হয়ে উঠল। কি হবে তাহলে? পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে যে বিশাল স্থান রয়েছে তার মধ্যেও এই বিড়ালটির জায়গা হবে না। এই বিশালকায় বিড়ালটির কাছে সূর্যকে একটি মটর দানার মতোই মনে হবে। পরমাণু কঠিন, তরল নাকি বায়বীয়হাইড্রোজেনের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যদি একটি নিউট্রন যুক্ত হয় তবে আমরা যে পরমাণুটি পাব তাকে বিজ্ঞানিরা নাম দিয়েছেন ডিউটেরিয়াম। এটি ভারী হাইড্রোজেন হিসেবেও পরিচিত।এসব অলিক কল্পনা ছাড়। প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন এবং বিড়াল ছানাটি যেমন ছিল তেমনই থাক।পরমাণুতে যে সকল কণিকাগুলো রয়েছে তার মধ্যে প্রোটনের ওজন ইলেকট্রনের চাইতে ২,০০০ গুণ বেশি। অতএব, খুব স্বাভাবিক যে, পরমাণুর কেন্দ্রেই প্রোটনের অবস্থান। হালকা ইলেকট্রনগুলো এই প্রোটনের চারদিকে ঘুরতে থাকে, অনেকটা পৃথিবীকে ঘিরে যেমন করে উপগ্রহ আবর্তিত হয়। পরমাণুর কেন্দ্রে যা থাকে পদার্থবিদদের ভাষায় তা হচ্ছে পরমাণুর নিউক্লিয়াস।১৯১১ সালে স্বনামধন্য ইংরেজ পদার্থবিদ আর্নেস্ট রাদারফোর্ড হঠাৎ চিৎকার করে বলে উঠলেন 'এখন আমি জানি, পরমাণু দেখতে কেমন!'কী দিয়ে তৈরি হয় একটি সাধারণ পরমাণু? এটিতে থাকে শুধুমাত্র একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন- কোন নিউট্রন থাকে না। এটিই হচ্ছে সব চেয়ে হালকা গ্যাস হাইড্রোজেনের পরমাণু। এখনকি তুমি বুঝতে পারছ কেন হাইড্রোজেন এতটা হালকা? হাইড্রোজেন বাতাসের চেয়ে ১৫ গুণ হালকা- যার ফলে হাইড্রোজেন ভর্তি বেলুন অতি সহজে বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে।এখন প্রশ্ন হলো নিউট্রনের অবস্থান কোথায় এবং এর প্রয়োজনই বা কি? হাইড্রোজেনের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যদি একটি নিউট্রন যুক্ত হয় তবে আমরা যে পরমাণুটি পাব তাকে বিজ্ঞানিরা নাম দিয়েছেন ডিউটেরিয়াম। এটি ভারী হাইড্রোজেন হিসেবেও পরিচিত। এখন আমরা পরমাণুতে এক সাথে তিনটি কণিকা পেলাম-প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন।পরমাণু খুঁড়তে গিয়েহালকা ইলেকট্রনগুলো এই প্রোটনের চারদিকে ঘুরতে থাকে, অনেকটা পৃথিবীকে ঘিরে যেমন করে উপগ্রহ আবর্তিত হয়। পরমাণুর কেন্দ্রে যা থাকে পদার্থবিদদের ভাষায় তা হচ্ছে পরমাণুর নিউক্লিয়াস।হালকা হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সঙ্গে একটি নিউট্রন যুক্ত হওয়ার ফলে এটির ভর কি পরিমাণ বৃদ্ধি পেল? চলো হিসাব করে দেখা যাক। নিউট্রনের ভর প্রোটনের ভরের প্রায় সমান। এর ফলে নিউক্লিয়াস ও পুরো পরমাণুর ভর দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে (ইলেকট্রনের ভর এতটাই কম যে- তা হিসাব না করলেও চলে)। হাইড্রোজেন পরমাণুকে আরো ভারী করে তোলা সম্ভব। ডিউটেরিয়ামের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রনের সঙ্গে যদি আরো একটি নিউট্রন যুক্ত করা হয়, তবে আমরা পাব অতি ভারী হাইড্রোজেন বা বিজ্ঞানিদের ভাষায় ট্রিটিয়াম।ট্রিটিয়ামের পরমাণু হালকা হাইড্রোজেন পরমাণুর চাইতে তিনগুণ ভারী। তারপরও অতি ভারী ট্রিটিয়াম বাতাসের চেয়ে পাঁচগুণ হালকা।আমরা দেখতে পেলাম যে, হালকা হাইড্রোজেনের অপেক্ষাকৃত ভারী দুটি সমগোত্রীয় প্রকারভেদ রয়েছে-ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম।কিন্তু আসলেই কি এগুলো একই রকম? হালকা হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াসে রয়েছে একটি প্রোটন, ডিউটেরিয়ামে একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন এবং ট্রিটিয়ামে একটি প্রোটন এবং দুইটি নিউট্রন। এতদসত্ত্বেও কেন আমরা ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়ামকে হাইড্রোজেন হিসেবে অভিহিত করে থাকি? চলো ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করা যাক।পরমাণু আসে কোথা থেকেডিউটেরিয়ামের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রনের সঙ্গে যদি আরো একটি নিউট্রন যুক্ত করা হয়, তবে আমরা পাব অতি ভারী হাইড্রোজেন বা বিজ্ঞানিদের ভাষায় ট্রিটিয়াম।হাইড্রোজেন সহজ দাহ্য। দহনের ফলে হাইড্রোজেনের পরমাণু অক্সিজেনের পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে উৎপন্ন হয় পানি। ডিউটেরিয়ামও সহজ দাহ্য, অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে পানি তৈরি হয়। ডিউটেরিয়ামের দহনের ফলে যে পানি উৎপন্ন হয় তা ভারী পানি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এটিকে সাধারণ পানির থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করা কঠিন। ট্রিটিয়াম ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ার ফলে যে অতি ভারী পানি উৎপন্ন হয় তাও সাধারণ পানির মতোই। প্রতিটি গ্লাসের পানিতে সামান্য কিছু পরিমাণ হলেও ভারী পানি ও অতি ভারী পানি থাকে।শুধুমাত্র অক্সিজেন নয়, অন্যান্য পদার্থের সঙ্গেও হাইড্রোজেনের তিনটি প্রকারভেদ- হালকা, ভারী ও অতি ভারী একই রকম আচরণ করে।দেখা যাচ্ছে যে, পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন যুক্ত হওয়ার ফলে শুধু ভরই বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু এর আচরণে কোন প্রভাব পড়েনি এবং অন্যান্য পদার্থের পরমাণুর সঙ্গেও একই রকম আচরণ করছে।সাধারণত যে কোন একটি পদার্থের সকল পরমাণুর গঠন একই রকম এবং অন্য পদার্থের পরমাণুর গঠন থেকে আলাদা। তবে একই পদার্থের বিভিন্ন পরমাণুর গঠনও আলাদা হতে পারে। গঠনের পার্থক্য গড়ে দেয় শুধু নিউট্রনের সংখ্যা। কোন একটি পদার্থের ভিন্ন সংখ্যক নিউট্রন ধারণকারী পরমাণুগুলোকে পদার্থবিদরা নাম দিয়েছেন 'আইসোটোপ'।কৃতজ্ঞতা: রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন- রোসাটম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এনআইএইপি- এএসই, রাশিয়া এবং পরমাণু শক্তি তথ্য কেন্দ্র, ঢাকানিউক্লিয়ার শক্তি ও আইসোটোপ
রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম। সেইসঙ্গে দাম বেড়েছে কাঁচামরিচসহ আটা-ময়দার। তবে দাম কমেছে আলু ও চালের। এছাড়া ডিম ও মাছ- মাংস অপরিবর্তিত রয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচ ৭০-৮০ টাকা থেকে লাফিয়ে ১৩০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ গত সপ্তাহের মতোই ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিহালি ডিম খুচরা বাজারে গত সপ্তাহের মতোই বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা। সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো ১৪০-১৫০ টাকা থেকে কমে ১০০-১২০ টাকা, গাজর গত সপ্তাহের মতোই ১২০-১৪০ টাকা, কাঁকরোল গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা, ঝিংগা ৬০-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮০ টাকা, মূলা গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) গত সপ্তাহের মতোই ৩০-৪০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২০-৩০ টাকা, সজনে ডাঁটা ১৪০-১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০-১৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০-৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫-৪০ টাকা, শসা ৩৫-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০-৫০ টাকা, লেবুর হালি ১০-১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫-২০ টাকা, চিকন বেগুন ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা, গোল বেগুন গত সপ্তাহের মতোই ৭০-৮০ টাকা, পটল ৩৫-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০-৫০ টাকা। এছাড়া ঢ্যাঁড়স গত সপ্তাহের মতো ৪০-৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা থেকে কমে ২০-২৫ টাকা, শিম ১২০-১৬০ থেকে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকা, বরবটি আগের মতো ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৩০-৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, কচুরমুখী ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, কচুরলতি ৫০-৬০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা গত সপ্তাহের মতোই ১৮০-২০০ টাকা, রকমভেদে শাকের আঁটি ১০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া গত সপ্তাহের মতোই ৪৫-৫০ টাকা, শুকনো মরিচ আগের মতোই ৪৫০-৫০০ টাকা, কার্ডিনাল আলু ২০-২২ টাকা, দেশি সাদা আলু ৩৫-৪০ টাকা থেকে কমে ২৮-৩০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩৫-৪০ টাকা টাকা থেকে কমে ২৮-৩০ টাকা, শিল আলু গত সপ্তাহের মতোই ৪৫-৫০ টাকা এবং ঝাউ আলু ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আরও পড়ুন রাজশাহীতে ৪৫০ কোটি টাকার পাট বাণিজ্যের সম্ভাবনা এছাড়া দেশি নতুন আদা ১২০-১৪০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৪০-১৬০ টাকা, দেশি রসুন আগের মতো ১০০-১২০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ১৬০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুলাটোল আমতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা ভুট্টু মিয়া বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে দুই-একটি সবজির দাম বাড়া-কমা হলেও অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচ গতকাল ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ ১৩০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় এমনটা হচ্ছে। এদিকে, মুরগি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি মুরগির দাম সামান্য কমে ৩১০-৩২০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ২৮০- ২৯০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার গত সপ্তাহের মতোই ৩৩০-৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৪০-৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে, খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০-২০৫ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫-২১০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতোই ১৬০-১৮০ টাকা, মাঝারি ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল (চিকন) ১৬০-১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০-১৮০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১১০-১১৫ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০-১১০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৬৫ টাকা, খোলা আটা ৪০-৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭০-৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টার্মিনাল বাজারের মুদি দোকানি হারুন মিয়া বলেন, আটা-ময়দার দাম বেড়েছে। কোম্পানি ও পাইকারি বাজার থেকে গত কয়েকদিন ধরে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তারা দাম বাড়ালে আমাদেরকেও বাড়াতে হয়। চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৫৮ টাকা থেকে কমে ৫২-৫৫ টাকা, বিআর২৮- ৬০-৬৫ টাকা থেকে কমে ৫৮-৬০ টাকা, বিআর২৯- ৫৫-৬০ টাকা, জিরাশাইল ৫৫-৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৫-৮০, নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা এবং খোলা আতপ চাল ২০০-২১০ টাকা ও প্যাকেট চাল ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুইমাছ গত সপ্তাহের মতোই ২৫০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৪০০-৬০০, কই ২০০-৫০০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, কারপু ২০০-৩০০ টাকা, পাঙাস ১৫০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-২২০, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, বাটা ১৫০-২৫০ টাকা, শিং ৩০০-৫০০ টাকা, সিলভার কার্প ১২০-২৫০ টাকা এবং গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জিতু কবীর/এনএইচআর