দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় সরকারি ও বেসরকারি চাকরির মধ্যে বৈষম্য নতুন কোনো বিষয় নয়। আমাদের সমাজব্যবস্থায় সরকারি চাকরি যেন শুধু একটি পেশা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাড়তি সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতা, প্রভাব এবং একধরনের আলাদা শ্রেণিগত অবস্থান। বিপরীতে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী, তিনি যত বড় প্রতিষ্ঠানেই চাকরি করুন, যত উচ্চশিক্ষিতই হোন কিংবা যত আকর্ষণীয় বেতনই পান না কেন, সামাজিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনেক সময় তাঁকে সরকারি চাকরিজীবীর সমপর্যায়ে বিবেচনা করা হয় না।
কেন এ বৈষম্য
সরকারি চাকরিতে একজন কর্মচারীর পদ, গ্রেড, বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক অবস্থান একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সংজ্ঞায়িত। একজন কর্মকর্তা কোন গ্রেডে আছেন, তাঁর পদমর্যাদা কী, তিনি কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা—এসব বিষয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। ফলে সমাজেও তাঁর একটি নির্দিষ্ট মর্যাদা তৈরি হয়।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতে একই ধরনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সামাজিক অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করে তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, কত বেতন পাচ্ছেন কিংবা সমাজের চোখে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু—এর ওপর। ফলে একটি বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কিংবা একটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজারও অনেক ক্ষেত্রে সরকারি একজন মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তার মতো সামাজিক মর্যাদা পান না।
এটি নিছক সামাজিক মানসিকতার বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নীতিগত বাস্তবতা।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.com
রাষ্ট্র কি শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের দিয়েই পরিচালিত হয়
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপযুক্ত বেতন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অবদান রাখা অন্য কোটি কোটি মানুষের কথা কি একইভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে?
একটি দেশের অর্থনীতি শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর নির্ভর করে না; বরং বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শ্রমিক, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ সমাজের প্রায় প্রতিটি শ্রেণির মানুষের শ্রম, আয় ও করের ওপর রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, প্রশাসনিক ব্যয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিচালন ব্যয়ের অর্থের বড় একটি অংশ আসে জনগণের কাছ থেকে সংগৃহীত কর ও অন্যান্য রাজস্ব থেকে। সেই জনগণের একটি বড় অংশই বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
তাহলে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতি এতটা বৈষম্য কেন?
একই দেশে দুই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা
শুধু চাকরির ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষাব্যবস্থাতেও আমাদের দেশে এক ধরনের দ্বৈত বাস্তবতা চোখে পড়ে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামো, শিক্ষকতার মান, ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার পরিবেশে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, যাঁরা রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করেন, তাঁদের একটি বড় অংশ নিজেদের সন্তানদের জন্য বেসরকারি স্কুল, কলেজ কিংবা ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বেশি পছন্দ করেন। অবশ্য প্রত্যেকের নিজের সন্তানের জন্য পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—যদি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা সত্যিই যথেষ্ট মানসম্পন্ন ও আকর্ষণীয় হয়, তাহলে সে ব্যবস্থার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত অনেক পরিবার কেন নিজেদের সন্তানদের জন্য বিকল্প খুঁজে নেয়?
একই প্রশ্ন স্বাস্থ্য খাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সামর্থ্যবান মানুষদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের দিকে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরেও যাচ্ছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যেও এমন প্রবণতা দেখা যায়।
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করা হচ্ছে না কেন, যাতে সরকারি-বেসরকারিনির্বিশেষে সবাই আস্থার সঙ্গে সেই সেবা গ্রহণ করতে পারেন?
বেসরকারি চাকরিজীবীরা কি রাষ্ট্রের বাইরের কেউ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখানেই।
একজন বেসরকারি চাকরিজীবীও এই দেশের নাগরিক। তিনি ভোট দেন, কর দেন, পরিবার পরিচালনা করেন, সন্তানদের শিক্ষিত করেন, অর্থনীতিতে অবদান রাখেন এবং দেশের উৎপাদন ও সেবা খাত সচল রাখেন। একজন ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন এবং কর প্রদান করেন। একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও তাঁর শ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন।
তাহলে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা কিংবা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম কেন?
সরকার পরিবর্তন হয় জনগণের ভোটে। আর সেই জনগণের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী যেমন আছেন, তেমনি বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন।
কিন্তু বাস্তবে মনে হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, গ্রেড, পেনশন, চাকরির নিরাপত্তা, বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, বেসরকারি খাতে কর্মরত কোটি মানুষের কর্মপরিবেশ, চাকরির নিরাপত্তা, অবসর-পরবর্তী সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে ততটা আলোচনা হয় না।
বেসরকারি চাকরিজীবীর জীবনে অনিশ্চয়তা বেশি
সরকারি চাকরির অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো চাকরির নিরাপত্তা। নির্দিষ্ট নিয়ম ও কাঠামোর মধ্যে একজন সরকারি কর্মচারী দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। অবসর-পরবর্তী নানা সুবিধাও থাকে।
বেসরকারি খাতে বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে, চাকরি চলে যেতে পারে, ব্যবসায়িক পরিস্থিতির কারণে কর্মী ছাঁটাই হতে পারে কিংবা বয়স ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কারণে একজন দক্ষ কর্মীকেও চাকরি হারাতে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন চাকরি করার পরও একজন বেসরকারি কর্মীর অবসর-পরবর্তী জীবন নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা থাকে না।
একজন মানুষ জীবনের সবচেয়ে উৎপাদনশীল সময়টি একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় করেন। কিন্তু চাকরি শেষে তাঁর ভবিষ্যৎ কী—এ প্রশ্নের উত্তর অনেক ক্ষেত্রেই অনিশ্চিত।
এ জায়গাতেই রাষ্ট্রের আরও বেশি মনোযোগ প্রয়োজন।
বৈষম্য নয়, প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো
সরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে বেসরকারি চাকরিজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা কোনো সমাধান নয়; বরং প্রয়োজন এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের কর্মজীবী মানুষের অবদানকে রাষ্ট্র সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গ্রেড থাকবে, বেতনকাঠামো থাকবে, চাকরির নিরাপত্তা থাকবে—এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্যও ন্যায্য মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, অবসরকালীন সুরক্ষা এবং শ্রমিক-কর্মচারীর অধিকার নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
একজন বেসরকারি কর্মকর্তা যদি একই দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন, নিয়মিত কর প্রদান করেন এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখেন, তাহলে তাঁর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নও যথাযথ হওয়া উচিত।
শেষ কথা
একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত হয়, যখন রাষ্ট্রের নীতি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা পেশাজীবী গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে তৈরি না হয়ে সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণকে সামনে রেখে প্রণীত হয়।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু তারাই রাষ্ট্র নন। একইভাবে বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ মানুষও রাষ্ট্রের বাইরে নন।
রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকই রাষ্ট্রের অংশীদার। তাই প্রশ্নটা সরকারি চাকরিজীবীদের সুবিধা কমানো বা বেসরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে তাঁদের প্রতিযোগিতা তৈরি করার নয়। প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র কি তার সব নাগরিকের জন্য সমান মর্যাদা, সুযোগ এবং নিরাপত্তার একটি ন্যায়সংগত কাঠামো তৈরি করতে পারছে?
যে বেসরকারি চাকরিজীবীর করের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়, যে ব্যবসায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন, যে শ্রমিক নিজের ঘাম ঝরিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সুবিধার অংশীদারত্বে তাঁদেরও সমান অধিকার থাকা উচিত।
কারণ, দেশ শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের নয়; দেশ সবার। আর রাষ্ট্রের সুবিধাও হওয়া উচিত সবার জন্য—যোগ্যতা, অবদান ও নাগরিক অধিকারের ভিত্তিতে; পেশার পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
মো. কাওছার আলম চৌধুরী, কবি ও লেখক
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় সড়ক দখলমুক্ত ও যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিব্বির আহমেদের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল থেকে ফুটপাত ও সড়কটি মুক্ত হওয়ায় এটি পুনরায় পথচারী এবং যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেছে। সড়কটি দখলমুক্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ পথচারীরা। আরও পড়ুন যশোরের বাজারে ভারতীয় ইলিশ, ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান অভিযান শেষে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিব্বির আহমেদ জানান, নগরীর যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। অভিযান পরিচালনাকালে মহানগর বিএনপি নেতা সরকার শাহনূর ইসলাম রনি, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম খান কালা, মহানগর তারেক জিয়া পরিষদের সদস্য সচিব বীর রহমান, যুবদল নেতা ফারুক মৃধাসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এনএইচআর
আজকাল অনেক দম্পতিই সন্তান নিতে দ্বিধায় ভোগেন। স্বাভাবিক সন্তান হবে তো! এমন আশঙ্কার কারণও অবশ্য আছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণা বলছে, দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জন্মগত ত্রুটি মানে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ই শিশুর গঠনগত কোনো শারীরবৃত্তীয় সমস্যা। অনেক সময় জন্মগত ত্রুটির কারণে শিশুকে বাঁচিয়ে রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। নবজাতক শিশুমৃত্যুর প্রায় ৩০-৫০ শতাংশের জন্যই দায়ী জন্মগত ত্রুটি।জন্মগত ত্রুটির ধরন শারীরিক জন্মত্রুটি নিয়ে জন্মানো অর্ধেক শিশুর একাধিক অঙ্গের ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষ করা যায়। পরিমাণ অনুযায়ী এই ধরনের ত্রুটি সাধারণত দুই রকম। মাইনর ত্রুটি: এগুলো শিশুর জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারণ নয়। যেমন অতিরিক্ত স্তনবৃন্ত, বাড়তি আঙুল ইত্যাদি।মেজর ত্রুটি: এগুলো শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যেমন ঠোঁটকাটা, তালুকাটা, হার্টে ছিদ্র, পায়ুপথ না থাকা, স্পাইনা বায়ফিডা (মেরুদণ্ডের জন্মত্রুটি)। জন্মগত ত্রুটির কারণ কী শিশুর শারীরিক জন্মত্রুটির ১০ শতাংশ ঘটে জেনেটিক কারণে। ১৮ শতাংশ জন্মত্রুটির কোনো কারণ জানা যায় না। তবে যেসব বিষয় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায় বলে বিবেচনা করা হয়, তা হলো—বংশগত কারণ। অপুষ্টিজনিত কারণ। রক্ত সম্পর্কীয় বিয়ে। গর্ভকালীন সময়ে ধূমপান (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ) ও মাদকাসক্তি, রুবেলা, টক্সো, এইডস ও অন্যান্য সংক্রমণ এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত থাইরডের সমস্যা।গর্ভকালে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া মা যদি বিভিন্ন টনিক নেন, কবিরাজি, গাছগাছালির চিকিত্সা ও ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করেন, তেজষ্ক্রিয়তার সংস্পর্শে (যেমন এক্স–রে রেডিয়েশন) আসেন অথবা দূষিত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করেন, তাহলে গর্ভের শিশুর ত্রুটি দেখা দিতে পারে।শিশু কেন জুতা-স্যান্ডেল মুখে দেয়, এটি কি কোনো রোগের লক্ষণশিশুর প্রধান কিছু জন্মত্রুটি বংশগত, জিনের গঠনগত ত্রুটি ও ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা কিছু রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেসদ্য জন্ম নেওয়া প্রতি ১ হাজার শিশুর প্রায় ৮ জনের হার্টে জন্মত্রুটি থাকতে পারে। বিশেষত, অপরিণত (জন্মকালীন ওজন ২ হাজার ৫০০ গ্রামের নিচে) বা অকালজাত (গর্ভকাল ৩৭ সপ্তাহের কম) নবজাতকে এই সমস্যা দেখা যায় বেশি।হার্টের জন্মগত রোগ মূলত দুই রকম—সায়ানোটিক ও এসায়ানোটিক। সায়ানোটিক গ্রুপের মধ্যে বেশি দেখা যায় ‘ফেলটস টেট্রালজি’। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে এদের শরীর নীল হয়ে যায়। অন্যদিকে এসায়ানোটিক কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজে শিশুর শরীরে নীলবর্ণ ভাব থাকে না। শিশু ঘনঘন সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে থাকে। এসব শিশু বুকের দুধ একনাগাড়ে টানতে পারে না। একটু টেনেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু পেট ভরে না তাই অল্প সময়ের মধ্যেই জেগে উঠে কাঁদতে থাকে। অত্যধিক ঘামে। শিশু ঠিকমতো বাড়ে না। বারবার অসুস্থ হয়। বেশির ভাগ হার্টের জন্মগত ত্রুটি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সায় সারিয়ে তোলা সম্ভব। বংশগত, জিনের গঠনগত ত্রুটি ও ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা কিছু রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যেমন ডাউন ও টারনার সিনড্রোম। গর্ভাবস্থায় জার্মান মিজলস (রুবেলা) সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, লুপাস রোগ, ক্ষতিকর ওষুধ সেবন (লিথিয়াম, ইথানল, থালিডোমাইড ও খিঁচুনি বন্ধের ওষুধ) করলে এসব সমস্যা হতে পারে। কাটা ঠোঁট ও কাটা তালুও খুবই পরিচিত একটি জন্মগত ত্রুটি। সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার করে এই ত্রুটি সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা যায়। শিশুর ৩ মাস বয়সের দিকে শিশুসার্জনের মাধ্যমে কাটা ঠোঁট সারিয়ে তোলা যায়। আর ৯-১২ মাস বয়সে শিশু কথা বলতে শেখার আগেই কাটা তালু চিকিত্সা করে ফেলতে হয়। পায়ুপথ না হওয়ার ত্রুটি নিয়েও জন্মায় অনেক শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর পায়ুপথ পুরোপুরি তৈরি থাকে না। তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র শিশুর পায়ুপথে রেখে তাপ নির্ণয় করতে গেলে ও শিশু জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রথম পায়খানা না হয়ে থাকে, তবে শিশুর এই জন্মত্রুটি আছে কি না, সন্দেহ করা হয়। সার্জাারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। হাইপোস্পেডিয়াস সমস্যা নিয়েও জন্মায় শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর মূত্রনালির মুখ স্বাভাবিক স্থানে লিঙ্গের অগ্রভাগে না থেকে লিঙ্গের নিচের দিকে মাঝামাঝি দেখতে পাওয়া যায়। অবহেলা না করে অতিসত্বর শিশুসার্জন দেখানো উচিত।শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে কি না বুঝবেন কীভাবেপ্রতিকার ও প্রতিরোধে সদ্য জন্ম নেওয়া প্রতি ১ হাজার শিশুর প্রায় ৮ জনের হার্টে জন্মত্রুটি থাকতে পারেপ্রতিটি গর্ভধারণ পরিকল্পিত হওয়া উচিত। এতে অনাগত সন্তানেরও জটিলতা কম হয়। কিছু নিয়ম মেনে শিশুর জন্মগত ত্রুটির সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। এই যেমনগর্ভধারণের আগে মায়ের রুটিন চেক আপ করে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, থ্যালাসেমিয়া বা অন্য কোনো জেনেটিক রোগে আক্রান্ত কি না জেনে নিতে পারলে অনাগত সন্তানের সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।মা যদি আগে থেকে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোনো বাতরোগ বা মৃগীরোগের) তবে আগেভাগে চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়েও অনেক শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ।মায়ের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকা অবস্থায় সন্তান নিলে এবং দুই সন্তানের মধ্যে ন্যূনতম ২ বছর বিরতি থাকলে অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।গর্ভধারণের ১ মাস আগে থেকে গর্ভকালীন প্রথম ২ মাস পর্যন্ত মা দৈনিক ৪০০-৮০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সেবন করলে বেশ কিছু ত্রুটি এড়ানো সম্ভব।গর্ভকালীন অপুষ্টি রোধ, ধূমপান ও মাদকাসক্তি মুক্ত থাকলেও অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।গর্ভপূর্ব ও গর্ভকালীন নিয়মিত শারীরিক চেকআপ খুব জরুরি। বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে শিশু–কিশোরদের মানসিক সুস্থতা জরুরি কেনআরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, গর্ভকালীন সময় কোনো ক্রমেই চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। কারণ, অনেক ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর ও অনিরাপদ। একইভাবে এক্স রে, সিটি স্ক্যানের মতো যেসব পরীক্ষায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহৃত হয়, অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সেসব পরীক্ষা করা যাবে না। অন্য যেকোনো কারণেই চিকিত্সকের কাছে যাওয়া হোক না কেন, তাকে জানাতে হবে যে রোগী অন্তঃসত্ত্বা। এমনকি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও জানাতে হবে। এতে সব দিক বুঝে চিকিত্সক প্রেসক্রাইব করতে পারেন। আজকাল আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নানা রকম পরীক্ষা করে শিশুর অস্বাভাবিকতা আছে কি না, আগে থেকেই জানা যায়। গর্ভকালীন ২০ সপ্তাহের পর (১৮-২২ সপ্তাহ) জন্মগত ত্রুটি আছে কি না, জানার জন্য একটি বিশেষ ধরনের আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। একে বলে অ্যানোম্যালি স্ক্যান। প্রয়োজন মনে হলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ে গর্ভকালে মায়ের রক্তে আলফা ফিটো প্রোটিনের মান, অ্যামনিওসেনটোসিস বা কোরিওভিলাস বায়োপসি ইত্যাদি করা যায়।পরিবারের সচেতনতা অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটি এড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। প্রতিটি শিশু সুস্থভাবে জন্ম দিতে তাই গর্ভধারণের আগে থেকেই গর্ভকালে সঠিক সিদ্ধান্ত জরুরি।লেখক: সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশু–কিশোরের সংখ্যা বাড়ছে, সচেতন থাকবেন কীভাবে
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা প্রদেশে প্রচণ্ড গরমে বন্ধ গাড়িতে দমবন্ধ হয়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় তারা বাবা-মা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বাড়ির ভেতর পার্টি করতে ব্যস্ত ছিলেন বলে জানা যায়। রোববার অ্যারিজোনার পেয়োরিয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওইদিন চার্চে অন্য এক শিশুর ব্যাপটিজমের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পর দুপুর ১টার দিকে থিও সাবো নামের পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুকে রেখেই ভুলক্রমে গাড়ি বন্ধ করে দেন তার বাবা মা। এরপরও অভিযুক্ত বাবা তার বড় ছেলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন বলে জানায় পুলিশ। খবর দ্য সান এর। বাড়ির ভেতর প্রায় ৫০ জন অতিথিকে নিয়ে পার্টির আয়োজন করেছিলেন থিওর বাবা-মা। আড়াই ঘণ্টা পর তারা লক্ষ্য করেন যে থিওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে তারা বন্ধ গাড়ির ভেতরে থিওকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। ওই সময় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। থিওর বাবা-মা মিহাইল সাবো ও আনকা সাবোর বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যু ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তাদের ১৮, ১৫, ১৪ ও ৯ বছর বয়সী আরও চার সন্তান রয়েছে। আটকের পর শিশুটির বাবা দাবি করেন-তিনি তার ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে বলেছিলেন থিওকে গাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য। তবে, তার দাবি প্রত্যাখ্যান করে ওই কিশোর জানান, ছোটভাইকে নিয়ে আসার জন্য তার বাবা তাকে কিছু বলেননি। ম্যারিকোপা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে শুনানির একটি ভিডিওতে নিহত শিশুর মাকে কাঁদতে ও তার বাবাকে মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখা যায়। এএমএ