অপরাধ

সাইবার অপরাধ বাড়ছে: টার্গেটে তরুণ ও শিক্ষার্থী

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
সাইবার অপরাধ বাড়ছে: টার্গেটে তরুণ ও শিক্ষার্থী
সাইবার অপরাধ বাড়ছে: টার্গেটে তরুণ ও শিক্ষার্থী

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর এর প্রধান শিকার হয়ে উঠেছে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেম কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার—এইসব প্রযুক্তিনির্ভর দৈনন্দিন অভ্যাসই এখন তাদের ঝুঁকিতে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়লেও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়েনি। ফলে প্রতারণা, ফিশিং, হ্যাকিং, ভুয়া লিংকে ক্লিক করে তথ্য চুরি, ব্ল্যাকমেইলিং, ফেক আইডি তৈরি করে হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ অহরহ ঘটছে।

বিশেষ করে টিনএজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহজেই টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, কিংবা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের ফাঁদে পড়ে অনেকেই নিজেদের তথ্য দিয়ে দিচ্ছে। এরপরে শুরু হয় প্রতারণা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ছাত্রীদের ছবি বা ভিডিও এডিট করে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে, যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ভুক্তভোগীদের।

শুধু সামাজিক হয়রানি নয়, আর্থিক প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ইনকাম বা স্কলারশিপের প্রলোভনে পড়ে ভুয়া ওয়েবসাইটে তথ্য দিয়ে দিচ্ছে কিংবা অর্থ জমা দিচ্ছে—যার মাধ্যমে তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

অপরদিকে, গেমিং অ্যাডিকশন বা ডার্ক ওয়েব নিয়ে আগ্রহী হয়ে অনেক তরুণই নিজেই জড়িয়ে পড়ছে সাইবার অপরাধে। এটি শুধু তাদের ভবিষ্যতের জন্যই হুমকি নয়, বরং দেশের সাইবার নিরাপত্তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তারা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মাধ্যমে এসব অপরাধ চিহ্নিত ও দমন করার চেষ্টা করছে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদেরও হতে হবে সচেতন। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা, অপরিচিত লিংক বা অ্যাপ এড়িয়ে চলা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমিত তথ্য শেয়ার করা এবং সন্দেহজনক বার্তা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো—এই কিছু সাধারণ পদক্ষেপই অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা চালু করা, অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি কার্যকর কৌশল তৈরি করাও জরুরি হয়ে উঠেছে। কেননা, তরুণ প্রজন্ম যদি ভয় বা অনিরাপত্তায় ভোগে, তাহলে তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক অদৃশ্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

প্রযুক্তির জগতে এগিয়ে যেতে হলে শুধু প্রযুক্তি জানলেই হবে না—নিরাপদ থাকা ও অন্যকে নিরাপদ রাখা, দুটোই একসঙ্গে শিখতে হবে। তরুণদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই সময় সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

অপরাধ

View more
শ্যামল দত্তসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
শ্যামল দত্তসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে অন্য অনেকের মতো সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাও উসকানি দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি দেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য। তদন্ত সংস্থা এ ঘটনায় তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে। এরই মধ্যে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, যা বললেন আসিফের স্ত্রী

গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, যা বললেন আসিফের স্ত্রী

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অভিজ্ঞতা নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া: মার্কিন জেনারেল

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অভিজ্ঞতা নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া: মার্কিন জেনারেল

বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে

বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টার খবর ভিত্তিহীন: টোয়াস
সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টার খবর ভিত্তিহীন: টোয়াস

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টার খবরকে ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস)।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
লাগেজ চুরি ঠেকাতে লাইভ সিসিটিভির দাবিতে নোটিশ

লাগেজ চুরি ঠেকাতে লাইভ সিসিটিভির দাবিতে নোটিশ

ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল

ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল

নড়াইলে হাতকড়াসহ পালানো আসামি গ্রেপ্তার

নড়াইলে হাতকড়াসহ পালানো আসামি গ্রেপ্তার

0 Comments