জাতীয়

শাহ আবদুল করিমের জীবনের শেষ ১০ দিন

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
শাহ আবদুল করিমের জীবনের শেষ ১০ দিন
শাহ আবদুল করিমের জীবনের শেষ ১০ দিন

শাহ আবদুল করিম চলে গেছেন ১৭ বছর আগে। তবু তাঁর গান আজও মানুষের আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ আর প্রতিবাদের ভাষা। আজ শনিবার বাউলসাধকের মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও গানের পঙ্‌ক্তি পোস্ট করে তাঁকে স্মরণ করছেন অনুরাগীরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে স্মরণানুষ্ঠান ও গানের আয়োজন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিশেষভাবে প্রদর্শিত হবে শাহ আবদুল করিমের জীবন ও কর্ম নিয়ে শাকুর মজিদের প্রামাণ্যচিত্র ‘ভাটির পুরুষ’। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে দৃশ্য কারখানার কার্যালয়ে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী। শেষে নির্মাতার সঙ্গে থাকবে প্রশ্নোত্তর পর্ব।

প্রামাণ্যচিত্রের পর্দায় আজ আবার ফিরে আসবে কিংবদন্তি এই বাউলসাধকের জীবন ও সংগীতযাত্রা। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের শেষ অধ্যায়টি ছিল বিষাদময়। জীবনের শেষ কয়েকটি দিন শাহ আবদুল করিমের কেটেছিল হাসপাতালের বিছানায়। ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। ৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অক্সিজেন দেওয়ার পর তাঁকে সিলেটের নূরজাহান জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা চার দিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন।

তত দিনে তাঁর স্মৃতিশক্তি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। একমাত্র ছেলে শাহ নূরজালালসহ হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অন্যদের ভালোভাবে চিনতে পারতেন না। কথাও বলতে পারতেন না স্পষ্টভাবে। যাঁর ভরাট কণ্ঠের গান শুনতে লাখো মানুষের আসরে নেমে আসত পিনপতন নীরবতা, শেষ দিনগুলোয় সেই মানুষটিকেই কথা বলতে হয়েছে ইশারা-ইঙ্গিতে।

৯ সেপ্টেম্বর কিছুটা খাওয়াদাওয়া করেছিলেন শাহ আবদুল করিম। ধীরে ধীরে কথাও বলছিলেন। একপর্যায়ে গান শুনতে চান। তাঁর শিষ্য বশিরউদ্দিন সরকার তখন নিজের লেখা একটি গান শোনান: ‘কী খেলা খেলতেছেন বাবা করিম শায়/ গাড়ি চলে না চলে না বলে চালাচ্ছেন মৌলায়।’ গানটি শুনে হেসেছিলেন করিম।

এরপর বশিরউদ্দিন গেয়ে শোনান তাঁর ওস্তাদেরই লেখা ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’। এবার শাহ আবদুল করিমের চোখ বেয়ে পানি ঝরতে থাকে। উপস্থিত ব্যক্তিরা এমন গান শোনানোর জন্য বশিরউদ্দিনকে দোষারোপ করলে করিম ইশারায় তাঁদের থামিয়ে দেন।

১৯৮৫ সালে শাহ আবদুল করিমের শিষ্যত্ব নেওয়া বশিরউদ্দিন সেই দিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেছিলেন, হাসি-কান্নার পর তাঁর ওস্তাদ একেবারে নির্লিপ্ত হয়ে পড়েন। আর কোনো কথা বলেননি, কেবল ইশারায় কিছু বোঝানোর চেষ্টা করতেন। গান শোনানোর ফাঁকে একবার হাত মুঠো করে প্রতীকী কিছু তাঁর হাতে দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমার ঠেখন নাই’, অর্থাৎ তুমি কোথাও আটকাবে না। শিষ্যও হাত পেতে সেই অদৃশ্য আশীর্বাদ গ্রহণ করে পকেটে রাখার ভঙ্গি করেছিলেন।

শাহ আবদুল করিম। ছবি : সংগৃহীত

শাহ আবদুল করিমের প্রধান শিষ্যদের একজন বাউলশিল্পী আবদুর রহমান। ১৯৭৭ সালে করিমের শিষ্যত্ব নেওয়া রহমানকে আদর করে তিনি ডাকতেন ‘রহমান সাধু’। হাসপাতালে ওস্তাদের শেষ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবদুর রহমান জানিয়েছিলেন, করিম কথা বলতে চাইতেন, কিন্তু তাঁর কণ্ঠ এতটাই অস্পষ্ট ছিল যে কিছু বোঝা যেত না। পরিচিতজনদের কাছে ডেকে ইশারায় বলতেন, ‘কই বেটাইন, তোমরা কই? মানুষ আনো, গফ করি। আর দরজাটা লাগাও।’

এমনিতেই স্বল্পাহারী ছিলেন শাহ আবদুল করিম। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। অল্প পরিমাণে মান্ডাড়ি-চাল পিষে তরল করে তৈরি খাবার ও ফলের রস খেতেন। শোল মাছ ও রসগোল্লা ছিল তাঁর প্রিয়। কিন্তু শেষ দিনগুলোয় সেসবের কথাও ইশারায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

১১ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। ঘন ঘন শ্বাস নিতে শুরু করেন। ছেলে শাহ নূরজালাল চিকিৎসক ডাকতে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে শাহ আবদুল করিম ইশারায় আবদুর রহমানকে কাছে ডাকেন। শিষ্য তাঁকে জড়িয়ে ধরলে অস্পষ্ট স্বরে কিছু একটা বলেন এবং ধীরে ধীরে হাত তুলে তাঁর মুখে বুলিয়ে দেন। আবদুর রহমানের ধারণা, ওস্তাদ তাঁকে বলেছিলেন, ‘যাও, মানুষে তোমারে মায়া করবনে।’

চিকিৎসকেরা এসে শাহ আবদুল করিমকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেন। বলা হয়েছিল, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আগে তাঁর অবস্থার উন্নতি বা অবনতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। কিন্তু সেই সময় আর পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে ১০ দিন কাটানোর পর ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ৯৩ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন গণমানুষের এই শিল্পী।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের সামনে জড়ো হন অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ তাঁরই গান গেয়ে জানাচ্ছিলেন বিদায়। মরদেহ নেওয়া হয় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে বাউলশিল্পীরা তাঁর গান গেয়ে ‘শোকগাথা’ নিবেদন করেন। পরে সিলেট ও দিরাইয়ে জানাজা শেষে কালনী নদী পেরিয়ে মরদেহ নেওয়া হয় উজানধল গ্রামে। ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্ত্রী সরলার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জন্ম শাহ আবদুল করিমের। অভাবের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা হয়নি। শৈশবে গরু চরিয়েছেন, মুদিদোকানেও কাজ করেছেন। তবে ২০ বছর বয়স হওয়ার আগেই হাওরাঞ্চলে শিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সাত দশক কেচ্ছা, মালজোড়া, বাউল ও গণসংগীতকে প্রাণবান রেখেছেন তিনি।

শাহ আবদুল করিমের লেখা গানের সংখ্যা প্রায় ৫০০। ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বসন্ত বাতাসে’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে’সহ অসংখ্য গান এখন মানুষের মুখে মুখে। দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গান দিয়ে হাওরের মানুষকে জাগিয়েছেন তিনি। সাধনপথের পথিক হয়েও তাঁর গানজুড়ে ছিল অসাম্প্রদায়িকতা, মুক্তচিন্তা ও ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের কথা।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
১২ লুকে দেখে নিন টালিউডের এই আবেদনময়ী নতুন অভিনেত্রীকে
১২ লুকে দেখে নিন টালিউডের এই আবেদনময়ী নতুন অভিনেত্রীকে

আভিজাত্য, আধুনিকতা আর আত্মবিশ্বাসের এক দুর্দান্ত মিশেল—এই তিনটি শব্দেই যেন তুলে ধরা যায় ওপার বাংলার অভিনেত্রী বিবৃতি চ্যাটার্জিকে। ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে টালিউডে অভিষেক হয় তাঁর। টালিউডের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভাবান এই মুখ শুধু অভিনয়েই নয়, তাঁর ফ্যাশনবোধ, মডেলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতির মাধ্যমেও তৈরি করেছেন আলাদা এক পরিচয়। বিবৃতি তাঁর নানা লুকের ছবি প্রায়ই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন ভক্তদের সঙ্গে। চলুন তবে এই আবেদনময়ী অভিনেত্রীর কিছু ঝলক দেখে আসি আজ।এই সাবেকি সাজে, লালপেড়ে সাদা শাড়ি আর সোনার অলংকার আকর্ষণ কাড়ছে। কাজলকালো চোখ আর লাল টিপের সাজে মোহময়ী লাগছে বং সুন্দরীকেওভারসাইজড কালো টি–শার্ট আর ডেনিম শর্টসের সঙ্গে জুটি হয়েছে গোলাপি রানিং শু সবুজ শাড়ির লুকে আলাদা আবেদন ছড়াচ্ছেন বিবৃতি মনে হচ্ছে যেন উপন্যাসের নায়িকা। কালো স্লিভলেস ব্লাউজের সঙ্গে আজরাখ ব্লক প্রিন্ট শাড়ি পরেছেন অভিনেত্রী। কানে শোভা বাড়িয়েছে ভারী অক্সিডাইজড স্টেটমেন্ট দুল স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপ ডিপনেক টপ পরেছেন তিনি। স্টেটমেন্ট জুয়েলারি, হেয়ারস্টাইল আর সাজের স্টাইলিশ লুকে আকর্ষণ কাড়ছেন অভিনেত্রী সাদা স্লিভলেস ব্লাউজের সঙ্গে এই লুকে বেছে নিয়েছেন গোলাপি তাঁতের শাড়ি। তাঁর কানে শোভা পাচ্ছে আকর্ষণীয় স্টেটমেন্ট দুল।টিউব ড্রেসে সামার ভাইব দিচ্ছেন বিবৃতি। সঙ্গী হয়েছে রোদচশমাওয়ান শোল্ডার ড্রেসের সঙ্গে পনিটেল হেয়ারস্টাইল বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী। কানে পরেছেন অক্সিডাইসের দুল হাতি মোটিফের হলুদ শাড়িতে গর্জিয়াস বিবৃতি। গলায় পরেছেন গোল্ডেন চোকার আর কানে দুল। টানা করে দেওয়া কাজল ও লাল টিপে সাজ হয়েছে পরিপূর্ণ ডেনিম অন ডেনিম লুকে আকর্ষণীয় লাগছে তাঁকেসোনালি হলুদ চিতা বাঘের প্রিন্টের গাউনের শোল্ডারে গ্যাদার্ড ফেব্রিক ডিজাইনসাদা লাউঞ্জওয়াআরে আবেদন ছড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রীছবি: বিবৃতির ইন্সটাগ্রাম

News জুলাই ৬, ২০২৫ 0
বদরুদ্দীন উমর: গণ–অভ্যুত্থান ও জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা

বদরুদ্দীন উমর: গণ–অভ্যুত্থান ও জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা

মূল প্রতিশ্রুতিগুলো এখনো অপূর্ণ, চাকসু কী করছে

মূল প্রতিশ্রুতিগুলো এখনো অপূর্ণ, চাকসু কী করছে

চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী আহত

চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী আহত

ইরান যুদ্ধ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ যেসব বিষয় উঠে এসেছে ব্রিকসের আলোচনায়
ইরান যুদ্ধ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ যেসব বিষয় উঠে এসেছে ব্রিকসের আলোচনায়

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরান যুদ্ধ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ উঠে এসেছে আরও নানা বিষয়। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
চুলের চেয়েও পাতলা আইফোন ডুওর কাচ, ভাঁজ করলে ভাঙে না কেন

চুলের চেয়েও পাতলা আইফোন ডুওর কাচ, ভাঁজ করলে ভাঙে না কেন

আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

শাহপুরের দম্পতি

শাহপুরের দম্পতি

বাস্তব জীবনের আলোচিত দম্পতি আবার এক সিনেমায়, কী বললেন তাঁরা
বাস্তব জীবনের আলোচিত দম্পতি আবার এক সিনেমায়, কী বললেন তাঁরা

মিগেল একজন খ্যাতিমান স্থপতি। প্রযুক্তিবিশ্বের এক ধনকুবেরের জন্য হাওয়াইয়ে বিলাসবহুল বাংকার (নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র) তৈরির প্রস্তাব পান তিনি। কিন্তু নৈতিকভাবে বিতর্কিত এই কাজ নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ে তাঁর দাম্পত্য। ১৭ বছর ধরে একসঙ্গে থাকা স্ত্রী সোফিয়া স্বামীর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সোফিয়া একজন সম্পাদক; দুজনের মূল্যবোধ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং পৃথিবীকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরায়। এমন গল্প নিয়েই ফরাসি নির্মাতা ফ্লোরিয়ান জেলারের নতুন সিনেমা ‘বাংকার’। এতে অভিনয় করেছেন বাস্তব জীবনের তারকা দম্পতি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ভেনিসের পর চলমান টরন্টো উৎসবেও সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছে। দুই উৎসবে ছবিটি ঘিরে তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অভিনয়, সম্পর্ক ও একসঙ্গে কাজ করার নানান দিক।তারকা, প্রিমিয়ার আর দর্শকের ভিড়ে জমে উঠেছে টরন্টোবাংকার পেনেলোপে ও হাভিয়ের জন্যও বিশেষ। ১৯৯২ সালে ‘হ্যামন, হ্যামন’ সিনেমায় প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। এরপর বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও দাম্পত্যের পথ পেরিয়ে দুজনই নিজ নিজ অভিনয়জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তবে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁরা বেশ সচেতন থাকেন। পেনেলোপে বলেন, একই ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ তাঁদের জীবনে খুব ঘন ঘন আসে না। যখন আসে, তখন সেটা যেন বিশেষ কিছু হয়—দুজনেই সেটা খেয়াল রাখেন। ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি হাভিয়েরের ভাষ্যেও একই সুর। তিন দশকের বেশি সময় ধরে একে অপরকে চেনেন তাঁরা। কাজের প্রস্তুতি নিয়ে বাড়িতে আলোচনা হয়, কিন্তু সেটি যেন ব্যক্তিগত জীবনের ওপর ছাপ না ফেলে, সেদিকেও খেয়াল রাখেন।ভেনিস উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয় ৮ সেপ্টেম্বর। এরপর ছবিটি টরন্টো আন্তর্জাতিক উৎসবের গালা প্রেজেন্টেশন বিভাগে প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবিতে অস্কারজয়ী স্প্যানিশ তারকা দম্পতির সঙ্গে আছেন স্টিফেন গ্রাহাম, পল ড্যানো ও প্যাট্রিক শোয়ার্জনেগার। ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় নির্মিত ১২৬ মিনিটের এই সিনেমা তুলে ধরেছে সমকালীন দাম্পত্য, নৈতিকতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার গল্প।এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি অবলম্বনে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কী

আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কী

নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প

নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প

রাজধানীতে নারীসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে নারীসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

0 Comments