জাতীয়

চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী আহত

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী আহত
চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী আহত

রাজধানীর মহাখালীতে চলন্ত ট্রেনের ছাদে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ছিনতাইকারীরা তাঁর মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে গেছে।
সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কমলাপুর থেকে জামালপুরগামী ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থীর নাম হাসানুজ্জামান সাজিদ (২২)। তিনি নাটোরের কাদিরাবাদের বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির(বিএইউইটি) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী।

সাজিদ ও তাঁর খালু শহীদুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সাজিদ রোববার জামালপুর থেকে ঢাকার উত্তরায় এসে তাঁর এক বন্ধুর খালার বাসায় ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি জামালপুরে যাওয়ার জন্য তিনি কমলাপুর থেকে ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের ছাদে ওঠেন। মহাখালী এলাকায় পৌঁছালে সাত থেকে আটজন তাঁকে ঘিরে ফেলে। পরে তাঁকে দুই হাত, বুক, পিঠ ও বাঁ পায়ে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় তারা। সাজিদের দাবি, মানিব্যাগে সাড়ে আট হাজার টাকা ছিল।

আহত অবস্থায় সাজিদকে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় স্থানীয় লোকজন ও বিমানবন্দর ফাঁড়ির রেলওয়ে পুলিশের কনস্টেবল মো. রুবেল প্রামাণিক উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আহত শিক্ষার্থীর জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
গোলাম আজমকে জুতাপেটার ছবি টানানোর কারণ জানালেন অর্ক
গোলাম আজমকে জুতাপেটার ছবি টানানোর কারণ জানালেন অর্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের জুতাপেটার ছবি টানানোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা অর্ক বড়ুয়া। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘উনাদের ইচ্ছা হয়েছে, তাই উনারা জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছিলেন। আমাদেরও ইচ্ছা হয়েছে, তাই আমরা এটা লাগিয়ে দিয়ে এসেছি।’ অর্ক বড়ুয়া বলেন, সমস্যা শুধু ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি লাগানো নিয়ে নয়। ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর ‘একমাত্র উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা’ বক্তব্যের ছবি রাখা হলেও ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে সভায় যারা ‘না, না’ বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন, ভাষা মতিনসহ অন্যদের সেই প্রতিবাদের আর্কাইভ না রাখাই মূল সমস্যা বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা তখন, যখন আপনি ইতিহাসকে কেবল ৪৭ থেকেই গণনা করা শুরু করবেন। আমাদের এই অঞ্চলের ইতিহাস তো হাজার বছরের ইতিহাস। সাঁওতাল বিদ্রোহ, ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা এবং নাম না জানা দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সকল গণমানুষের গল্পই তো আমাদের ঐতিহাসিক সম্পদ।’ ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাসের একপেশে উপস্থাপনের সমালোচনা করে অর্ক বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে সংরক্ষিত ইতিহাসের ‘একপেশে উপস্থাপন’ না করে জনগণের নিজস্ব সংগ্রামের একটি পূর্ণাঙ্গ আর্কাইভ তৈরি করা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, ‘এম্নেতেই আমাদের এই অঞ্চলে যারা যখন ক্ষমতায় গেছে, তারা তাদের মতো করে ইতিহাসে দখলবাজি করে গেছে। আমাদের জনগণের নিজস্ব সংগ্রামের একটা প্রকৃত ও পরিপূর্ণ আর্কাইভ নাই। ডাকসু সংগ্রহশালা সেই আর্কাইভটা হতে পারতো।’ ইতিহাসে বিভিন্ন ব্যক্তির ভূমিকা যথাযথভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘বরফকে বরফ ও পানিকে পানি বলার সততা না থাকলে সেটা ইতিহাস না। কাউকে অতিমানব করলে আসলে সত্যির লগে বেইমানি করা হয়।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সংগ্রহশালায় থাকা কিছু উপকরণের বিষয়েও মন্তব্য করেন অর্ক। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছবি আছে ৭২-৭৫ সালের, তাও তার ছেলের বিয়ের পেপার কাটিং এবং হেনতেন। কাউকে অতিমানব করলে আসলে সত্যির লগে বেইমানি করা হয়।’ আরও পড়ুন চবি উপাচার্য / বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে যেতে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে ইতিহাসের খণ্ডিত বা একপেশে উপস্থাপনকে ‘ন্যারেটিভ’ হিসেবে উল্লেখ করে অর্ক বলেন, ‘আপনি যখন ইতিহাসের খণ্ড, অর্ধ বা একপেশে উপস্থাপন করবেন, তখন এটারে আর ইতিহাস বলে না, এটারে বলে ন্যারেটিভ।’ ডাকসু সংগ্রহশালা কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালা কোনো দল, গোষ্ঠী, পক্ষের বাপের সম্পদ না যে সেখানে আপনি যা ইচ্ছা তা রাখতে পারেন, সরাতে পারেন, আপনার ইচ্ছামতো ন্যারেটিভ পুশ করতে পারেন।’ গোলাম আজমের প্রসঙ্গে অর্ক বলেন, ‘গোলাম আজম ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। কিন্তু দেশের জনগণের সঙ্গে বেইমানি করায় ৮১ সালে তাকে জুতাপেটা করাটা গণমানুষের গণপ্রতিরোধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—আপনি যে-ই হোন না কেন, দেশের মা-মাটির সঙ্গে বেইমানি করলে আপনার জন্য গণপ্রতিরোধ আসন্ন।’ সংগ্রহশালায় ছবিটি টানানোর বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্ক বড়ুয়া। তিনি বলেন, এসব কাজ প্রশাসনের করার কথা ছিল এবং প্রশাসন দায়িত্ব পালন করলে তাদের এ ধরনের উদ্যোগ নিতে হতো না। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন তার কাজের কাজটা করলে আমাদের এই কাজ করতে হতো না। ডাকসুর সভাপতি হিসেবে ভিসি স্যারও এর দায় এড়াতে পারেন না।’ শেষে অর্ক বলেন, ‘আমরা খালি অতোটুকুই করেছি, যতটুকু আমাদের জায়গায় আপনারা থাকলেও করতেন, যে কোনো শিরদাঁড়াসম্পন্ন মানুষ করতো।’ ডাকসু প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দেশের নিজস্ব ইতিহাস ও গণমানুষের সংগ্রামকে সর্বোচ্চ মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের উদ্যোগ প্রশাসনের নেওয়া উচিত। এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, জিএম স্ট্যান্ড রিলিজ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, জিএম স্ট্যান্ড রিলিজ

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, কর্মস্থল ঢাকা

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, কর্মস্থল ঢাকা

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় ১০ আসামি গ্রেফতার

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় ১০ আসামি গ্রেফতার

গুদামে সর্বোচ্চ মজুতের পরও ‘চাপে পড়ে’ চাল কিনছে সরকার
গুদামে সর্বোচ্চ মজুতের পরও ‘চাপে পড়ে’ চাল কিনছে সরকার

দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি সদ্য সমাপ্ত বোরো মৌসুমের ধান ও চাল সংগ্রহ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তারপরেও নতুন করে অভ্যন্তরীণ মিলগুলো থেকে প্রায় দুই লাখ টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিল মালিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের জোরালো চাপে এই বাড়তি চাল কেনা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা না বাড়িয়ে শুধু চাল কেনায় সরাসরি বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা। কারণ, সরকারের সংগ্রহের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে প্রক্রিয়াজাত চাল কেনে। ফলে নতুন করে শুধু চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় এর পুরো সুফল যাচ্ছে বাণিজ্যিক মিলারদের পকেটে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত বোরো মৌসুমে সরকার মোট ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টন ধান ও চাল সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ধানের পরিমাণ ৫ লাখ ৭৮ হাজার টন, সিদ্ধ চাল ১২ লাখ ১১ হাজার টন এবং আতপ চাল ১ লাখ ৫ হাজার টন, যা প্রাথমিক লক্ষ্যের চেয়েও বেশি। মৌসুমের শুরুতে সরকার ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল। সংগ্রহের মূল মৌসুমে যে মিল মালিক এক হাজার টন চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং যার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ছয় টন, সে-ও এখন এমপিদের ডিও লেটার নিয়ে এসে পাঁচ হাজার টনের বরাদ্দ চাইছে।—খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এ অবস্থায় সরকারের কাছে ধান ও চালের মজুত দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজার ২৯৩ টন। যেখানে গম ও আতপ চালসহ মোট খাদ্যশস্যের বর্তমান মজুত ২৩ লাখ ৩৯ হাজার টন, যা অন্য যে কোনো বছরের একই সময়ের সর্বোচ্চ। এছাড়া দীর্ঘ কয়েক বছর পরে বোরো মৌসুমে এত পরিমাণে ধান-চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে সরকার। সূত্র বলছে, বর্তমানে মজুত ও সংগ্রহ সর্বোচ্চ হওয়ার কারণে দেশের অনেক খাদ্যগুদামে ধান-চাল রাখার জায়গা নেই। সংগ্রহের জন্য পাটের বস্তার ব্যাপক সংকট চলছে। তারপরও চাল কেনার সিদ্ধান্ত শুধু মিলারদের তোড়জোড়ের কারণে। আরও পড়ুন সরকারের ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ টন সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের সর্বোচ্চ মজুত থাকা সত্ত্বেও নতুন করে প্রায় দুই লাখ টন চাল কেনার সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করছে মিল মালিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের জোরালো চাপ। নতুন করে চাল সরবরাহের বরাদ্দ পেতে খাদ্য অধিদপ্তর ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চলছে ব্যাপক তদবির। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নতুন বরাদ্দের জন্য এরই মধ্যে সারাদেশ থেকে প্রায় সাড়ে আটশ মিল মালিকের আবেদন জমা পড়েছে। চালের বরাদ্দ পেতে দেড় শতাধিক মিল মালিক নিজ নিজ এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) জমা দিয়েছেন। শুধু চিঠি দিয়েই ক্ষান্ত হননি অনেকে; তাদের কেউ কেউ এমপিদের নিয়ে সরাসরি অধিদপ্তরে এসেছেন এবং ফোনে ধারাবাহিকভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি খাদ্য মন্ত্রণালয়ও। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিদিন নানামুখী সুপারিশ আসছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। এবার ধানের দাম কম ছিল, যে কারণে সরকারকে চাল সরবরাহ করে মিলাররা লাভবান হয়েছেন। সেজন্যেই আগ্রহ বেশি এবার।—জামাল হোসেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংগ্রহের মূল মৌসুমে যে মিল মালিক এক হাজার টন চাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং যার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ছয় টন, সে-ও এখন এমপিদের ডিও লেটার নিয়ে এসে পাঁচ হাজার টনের বরাদ্দ চাইছে। সুপারিশ আর চাপের শেষ নেই।’ আরও পড়ুন সরকারের ১৮০ দিন / খাদ্য খাতে নতুন মাইলফলক, সরকারি গুদামে রেকর্ড মজুত খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে উদ্বৃত্ত মজুত রয়েছে, সেখানে মিল মালিক ও এমপিদের এ ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক চাপে নতুন করে চাল বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া সরকারের স্বাভাবিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নীতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মিলারদের চাল বরাদ্দের জন্য বিভিন্ন তরফ থেকেই সুপারিশ এসেছে—এটা সত্য। সেগুলো মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দের জন্য বলেছে। এরই মধ্যে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ লাখ ১৫ হাজার টনের বরাদ্দ তালিকা হয়েছে।তিনি বলেন, এবার ধানের দাম কম ছিল, যে কারণে সরকারকে চাল সরবরাহ করে মিলাররা লাভবান হয়েছেন। সেজন্যেই আগ্রহ বেশি এবার। সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে এ কর্মকর্তা বলেন, নতুন সরকারও চায় খাদ্যনিরাপত্তা মজুত বাড়াতে, যেন সাধারণ মানুষ স্বস্তিদায়ক দামে খাদ্যশস্য কিনতে পারে। মিল মালিকরা বোরোতে এত আগ্রহী হলে সামনে আমন মৌসুমে ধানের দাম কমে যাবে। এতেও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রয়োজনে সরকারের আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ বাড়ানো উচিত।—ড. জাহাঙ্গীর আলম খান খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত এ বছর বাজারে ধানের দাম কম থাকায় চাল সরবরাহ করে লাভবান হয়েছেন মিল মালিকররা। সরকার এবার সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দরে ক্রয় করেছে। যা পাইকারি বাজারের চেয়েও বেশি। চাল সরবরাহ করে মিল মালিকরা প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত মুনাফা পেয়েছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যনিরাপত্তায় পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরেও কৃষকদের বাদ দিয়ে শুধু মিলারদের কাছ থেকে চাল কেনায় সরকারি অর্থের অপচয় ও সিন্ডিকেট প্রসারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেখানে প্রান্তিক কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, সেখানে শুধু মধ্যস্বত্বভোগী মিল মালিকদের স্বার্থরক্ষায় সরকারি খাদ্য নীতি বাস্তবায়িত হওয়া নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আরও পড়ুন বোরো উৎপাদন সন্তোষজনক, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের একগুচ্ছ উদ্যোগ এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান জাগো নিউজকে বলেন, শুধু মজুত সর্বোচ্চ সেটা নয়। সরকারের এত চাল সংরক্ষণের সক্ষমতাও নেই। তারপরও এ কেনাকাটা শুধু একটি শ্রেণির স্বার্থ হাসিলের জন্য। এর যথেষ্ট কোনো যুক্তি নেই। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, মিল মালিকরা বোরোতে এত আগ্রহী হলে সামনে আমন মৌসুমে ধানের দাম কমে যাবে। এতেও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রয়োজনে সরকারের আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ বাড়ানো উচিত।এনএইচ/এমকেআর/ এমএফএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ আসামির ভাগ্যে কী, ট্রাইব্যুনালে রায় আজ

ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ আসামির ভাগ্যে কী, ট্রাইব্যুনালে রায় আজ

যে কাজটি করে মাত্র ১৪ দিনেই আরও আশাবাদী হয়ে উঠতে পারেন, বলছেন মনোবিজ্ঞানী

যে কাজটি করে মাত্র ১৪ দিনেই আরও আশাবাদী হয়ে উঠতে পারেন, বলছেন মনোবিজ্ঞানী

কৃষক, গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির গুরুত্ব

কৃষক, গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির গুরুত্ব

ব্যস্ত শহরে সন্ধ্যার অতিথি শত শত চড়ুই
ব্যস্ত শহরে সন্ধ্যার অতিথি শত শত চড়ুই

দিনভর যানবাহনের শব্দ, মানুষের হাঁকডাকে ব্যস্ত নওগাঁ শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকা। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই সড়কের পাশে জলিল মার্কেটের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারে জড়ো হয় শত শত চড়ুই পাখি। তাদের কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। রোববার সন্ধ্যায় সেখানে দেখা যায়, জলিল মার্কেটের প্রধান ফটকের পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে টানা তারের বিভিন্ন অংশে সারি সারি পাখি বসে আছে। কোনো তারে পাশাপাশি কয়েকটি, আবার কোথাও গাদাগাদি করে অনেক পাখি। হঠাৎ একঝাঁক চড়ুই ডানা মেলে উড়ে যায়। মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যায় তারের একটি অংশ। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে বসে একই জায়গায়।এই দৃশ্য দেখতে থেমে যান পথচারীরাও। কেউ দাঁড়িয়ে পাখিদের দেখেন, কেউ মুঠোফোনে ছবি তোলেন। জলিল মার্কেটের ব্যবসায়ী হানিফ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার দিকে পাখিগুলো এখানে আসে। এত পাখি একসঙ্গে তারে বসলে দেখতে ভালো লাগে। সারা রাত এখানে থাকে, ভোরে চলে যায়।একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান অফিস শেষে প্রায়ই জলিল মার্কেটের সামনে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা দেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের সঙ্গে পাখিরাও যেন এখানে আড্ডা দেয়। স্থানীয় লোকজনও তাদের বিরক্ত করেন না।’সন্ধ্যা হলেই চড়ুইদের কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায়কেন প্রতিদিন একই সময়ে পাখিগুলো এখানে জড়ো হয়, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না স্থানীয় লোকজন। তাঁদের ধারণা, দিনের ব্যস্ততা শেষে নিরাপদ আশ্রয় বা বিশ্রামের জন্য পাখিগুলো জায়গাটি বেছে নেয়।বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) নওগাঁ জেলা কমিটির সভাপতি হেফজুল ইসলামের মতে, শহরে গাছপালা ও খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় পাখিদের স্বাভাবিক আবাসস্থলও সংকুচিত হচ্ছে। এতে বৈদ্যুতিক তার, খুঁটি কিংবা শহরের স্থাপনাগুলো তাদের সাময়িক আশ্রয় হয়ে উঠছে।ব্যস্ত শহরেই যেন একটুকরা পাখি–কলোনি। রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায়রাত গভীর হলে পাখিদের কিচিরমিচির কমে আসে। ভোরে তারা চলে যায়। আবার সন্ধ্যা নামলে ব্যস্ত শহরে ফিরে আসে চড়ুইয়ের দল। তাদের কিচিরমিচিরে বদলে যায় পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের চেনা কোলাহল।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইউক্রেনে পুতিনের এ কেমন তাণ্ডব, কে থামাবে?

ইউক্রেনে পুতিনের এ কেমন তাণ্ডব, কে থামাবে?

নিতুন কুন্ডুর নকশায় প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ডাকটিকিট

নিতুন কুন্ডুর নকশায় প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ডাকটিকিট

সবজির আড়তে শ্রমিকের ব্যস্ততা

সবজির আড়তে শ্রমিকের ব্যস্ততা

0 Comments