বিকেলে ২৮৯৪ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের আভাস, ভোগাবে রাতেও
বিকেলে ২৮৯৪ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের আভাস, ভোগাবে রাতেও

দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অব্যাহত থাকায় শনিবার (২৯ আগস্ট) সর্বোচ্চ ২৮৯৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। বিকেল ৫টায় লোডশেডিং সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র দেখা গেছে। তথ্য বলছে, সকাল ১০টায় ১ হাজার ৩ মেগাওয়াট এবং দুপুর ১২টায় ১ হাজার ২০৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং হবে। তবে বিকেলের দিকে বিদ্যুতের ঘাটতি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুপুর ২টায় লোডশেডিং ১ হাজার ৪৭১ মেগাওয়াট থেকে বিকেল ৩টায় ২ হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াট এবং বিকেল ৪টায় ২ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াটে উঠতে পারে। বিকেল ৫টায় সর্বোচ্চ ২৮৯৪ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন সংকটেও সক্ষমতা দেখাচ্ছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এরপর সন্ধ্যায় কিছুটা কমলেও রাতে আবার বাড়তে পারে লোডশেডিং। সন্ধ্যা ৬টায় ২২১৬ মেগাওয়াট, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ১৫২৮ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ২৭৭০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। রাত ৮টায় ২৫৫০ মেগাওয়াট এবং রাত ৯টায় ২৭০৩ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস রয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, রাত ৯টায় দেশের বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৭৩০ মেগাওয়াট হতে পারে। এসময় উৎপাদন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। রাত ১০টায় চাহিদা ১৭ হাজার ৯৭০ মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে ১৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ২ হাজার ১৬৮ মেগাওয়াট। এর আগে গত কয়েক দিনেও দেশে বড় ধরনের বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা গেছে। এনএস/এমআইএইচএস/

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রঙ-তুলিতে সম্প্রীতি ও স্বাধীনতা, পুরস্কার পেল ১২ ক্ষুদে শিল্পী
রঙ-তুলিতে সম্প্রীতি ও স্বাধীনতা, পুরস্কার পেল ১২ ক্ষুদে শিল্পী

রঙ-তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে ফুটে উঠল দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন। শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবিতে উঠে এলো দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রকৃতি, সম্প্রীতি ও স্বাধীনতার গৌরবময় নানা অনুষঙ্গ। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এসব মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘সম্প্রীতি ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে সেরা ১২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। আরও পড়ুন সালমান শাহ করেছিলেন ৬০ শতাংশ শুটিং, সিনেমাটি শেষ করেন ওমর সানি শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ধানমণ্ডির নজরুল ইনস্টিটিউটে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদ ও স্বাধীনতা চারুশিল্পী পরিষদ। সকাল থেকেই শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ। রঙের সঙ্গে তাদের স্বপ্ন ও কল্পনার মেলবন্ধনে ক্যানভাসে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের নানা রূপ। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী অধ্যাপক জামাল আহমেদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ক্ষুদে শিল্পীদের দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে ছবি আঁকার আহ্বান জানান। সুন্দর জীবন গড়তে দেশের ইতিহাস ধারণের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রতিযোগিতাটি তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয় ছিল ‘আমাদের নদী’। চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ছবি আঁকে ‘স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’ বিষয়ে। আর অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয় ছিল ‘চেতনায় বাংলাদেশ’। তিনটি বিভাগে মোট ১২ জনকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিশু-কিশোরের হাতেও তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র। আয়োজকরা জানান, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও গভীর হবে বলে আশা তাদের। স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদের আহ্বায়ক ও স্বাধীনতা চারুশিল্পী পরিষদের সদস্য সচিব শিল্পী আশরাফুল আলম পপলু বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং মহান স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ আয়োজন। তিনি বলেন, ‘আজ সমাজে যে অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতা বিরাজ করছে, তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আর এই অসহিষ্ণুতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শিশু-কিশোরদের মানবিক ও সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’ শিশুদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, গৌরব ও অহংকার সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মকে সত্যিকারের মানুষ ও দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই একটি সভ্য ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। আয়োজন সফল করতে অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও কৃতজ্ঞতা জানান আয়োজকরা।   এলআইএ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজশাহীতে সবজির বাজার স্থিতিশীল, বেড়েছে ডিমের দাম
রাজশাহীতে সবজির বাজার স্থিতিশীল, বেড়েছে ডিমের দাম

রাজশাহীর বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সবজির দাম স্থিতিশীল। এতে স্বস্তিতে বাজার করছেন ক্রেতারা। তবে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিমের দাম। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নগরীর সাহেব বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যে দামে সবজি বিক্রি হয়েছে, এ সপ্তাহেও প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে শসা ও করলা ৩০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫-৫০, পটল ৩০, ঢেঁড়স ২৫-৩০, বেগুন ৪০, ফুলকপি ৬০-৭০, ঝিঙা ৩০, চিচিঙ্গা ৩০, বরবটি ৪০, কচুর লতি ৪০, কাঁচা পেঁপে ২৫ এবং মিষ্টি কুমড়া ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচাকলা প্রতি হালি ২৫ টাকা, ওল ৪০, লাউ প্রতিটি ৩০ এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে গত সপ্তাহের মতো গাজর ও টমেটোর দামও স্থিতিশীল। বাজারে গাজর ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা ১৮০ টাকা, নাটোরের রসুন ৮০ এবং দেশি রসুন ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দামেও বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহীর বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি আসছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অধিকাংশ সবজির দাম গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল। দাম স্থিতিশীল থাকায় বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ভালো বলে জানান বিক্রেতারা। সবজি ক্রেতা গালিব বলেন, ‘গত সপ্তাহে যে দামে সবজি কিনেছি, এ সপ্তাহেও প্রায় একই দামে কিনতে পারছি। বাজারে সবজির দাম এখন আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে। এভাবে স্থিতিশীল থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো।’ বাজার করতে আসা হাফিজুর বলেন, ‘রাজশাহীতে প্রচুর সবজির আবাদ হয়। কিছুদিন আগে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির দাম বেড়েছিল। এখন সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় দামও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বাজার যদি এভাবেই থাকে, তা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক। সবজি বিক্রেতা আলী আকবর বলেন, ‘রাজশাহীর বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন পর্যাপ্ত সবজি আসছে। তাই গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও অধিকাংশ সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও স্বস্তিতে বাজার করছেন।’ আরেক বিক্রেতা জসিম বলেন, ‘প্রায় সব ধরনের সবজি ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও এখন অনেক কমে গেছে। বাজার এভাবে স্থিতিশীল থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই ভালো।’ মাছের বাজারেও গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রুই ২৭০-৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০, তেলাপিয়া ১৭০-২১০, পাঙাশ ১৮০-২০০, চাষের কৈ ২০০-২২০, চাষের শিং ৩০০-৩৫০, টেংরা ৬০০-৭০০, বোয়াল ৬৫০-৮০০, চিংড়ি ৬৫০-৯০০, কোরাল ৭৫০, দেশি কৈ ৮০০-১০০০ এবং দেশি শিং ১০০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিমের দাম। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫-৮০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০, ফার্মের লাল ডিম ৪৪ এবং সাদা ডিম ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৫০-২৬০, দেশি মুরগি ৫৫০, সাদা লেয়ার ২৯০, লাল লেয়ার ৩৪০, ফাউমি ৩৩০ এবং হাঁস ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম ও মুরগী ব্যবসায়ী হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ডিমের দাম বেড়েছে। হালিতে ২ থেকে ৪ টাকা এবং ডজনে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্রয়লার ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। মুরগির বাজারে দামের বড় কোনো পরিবর্তন নেই।’ মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা, পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা, পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

সিলেটের গোলাপগঞ্জে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া একটি মোটরসাইকেল ‘ট্রায়াল’ দেওয়ার কথা বলে নিয়ে পালানোর অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবল মোরসালিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সম্রাট তালুকদার জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ভইটিকর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোরসালিন সিলেটের বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জ এলাকার সাইদুর রহমান তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপনটি দেখে মোরসালিন ও ওলিউল ইসলাম নামে একজন সাইদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তারা হেতিমগঞ্জে গিয়ে মোটরসাইকেলটি দেখেন। মোটরসাইকেলটি পছন্দ হওয়ার পর মোরসালিন সেটি চালিয়ে দেখার কথা বলেন। এরপর ‘ট্রায়াল’ দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেল নিয়ে গোলাপগঞ্জের দিকে চলে যান তিনি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে মালিক সাইদুর তার পিছু নেন। এক পর্যায়ে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ভইটিকরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মোরসালিনকে আটক করা হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা ওলিউল ইসলাম মোরসালিনকে চেনেন না বলে দাবি করেন। পরে স্থানীয় লোকজন মোরসালিনকে মারধর করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে যায়। বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম বলেন, মোটরসাইকেল সংক্রান্ত ঘটনায় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার সঙ্গে যে যুবক ছিলেন তাকে তিনি চেনেন না বলে জানান। আহমেদ জামিল/এফএ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে টিভিপর্দায় বেশি দেখানো যাবে না
তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে টিভিপর্দায় বেশি দেখানো যাবে না

পরিবর্তনের গল্প, গল্প নয় সত্যি! হাসিনা একদা বলেছিল, আমি ক্ষমতায় গেলে আমাকে একদিনের বেশি বিটিভে দেখবেন না। তারপর কী হয়েছিল পুরো দেশবাসী জানে। কিন্তু এবারের গল্পটা পরিবর্তনের। গতকাল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমে সংসদের বিরোধী দল, সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর খবর আনুপাতিক হারে দেখাতে হবে। নিষিদ্ধ ও আইনগত সমস্যা না থাকলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের কাভারেজ পাবেন সবাই। জনগণের করের টাকায় চলা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এখন থেকে জনগণের জন্য খবর ও অনুষ্ঠান প্রচার করবে। পরিবর্তনটা কোন লেভেলে হচ্ছে, সেটা বোঝানোর জন্য একটা ঘটনা শেয়ার না করে পারছি না। মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কক্ষে অনেকগুলো টিভি থাকে, যাতে রুমে বসেই অনেকগুলো চ্যানেল একসাথে দেখা যায়। গতকাল একটি মিটিংয়ে মন্ত্রীর রুমে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়সহ অন্যরা ছিলেন। হঠাৎ মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বিটিভির পর্দার দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চাইলেন, ‌‌‘ওখানে আমাকে কেন এতবার দেখাচ্ছে?’ আরও পড়ুন সঠিক মানুষটাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে: ফাহাম আবদুস সালাম সাথে সাথে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ও বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করলেন। তিনিও বললেন, ‘আমাদের তো খবরে এতবার দেখানোর দরকার নেই। আমাদের যত কম দেখাবেন; আমরা তত খুশি হবো। সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হলো, কারণ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে টিভিপর্দায় বেশি দেখানো যাবে না। ছোট্ট একটি ঘটনা, ছোট্ট একটি সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিতে অনেক বড় কলিজা লাগে। এই সরকারের নীতিনির্ধারকদের সেই কলিজা আছে, সেটা প্রমাণ হচ্ছে। সরকারের বাইরে থেকে আমরা যা ভাবতাম বা ‘নায়ক’ সিনেমার দৃশ্যের মত আমরা যা কল্পনা করতাম, এখন সেগুলোই ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন হচ্ছে। আরও পড়ুন বহু বছর পর পেতে যাচ্ছি যোগ্য একজন ব্যক্তিকে: আসিফ নজরুল আমরা বলেছিলাম বদলে দেবো, পরিবর্তন করবো। আশা করছি আপনারা সেই পরিবর্তনের সাক্ষী হচ্ছেন। আমাদের সাথে থাকুন আর আমাদের সময় দিন। বাংলাদেশ বদলে যাবে আর সেটা কথায় নয় বরং কাজের মাধ্যমে হবে। (ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া) এসইউ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ব্রডব্যান্ডে বিদেশি বিনিয়োগে বড় ছাড়, বৈষম্যের শঙ্কা দেশীয় উদ্যোক্তাদের
ব্রডব্যান্ডে বিদেশি বিনিয়োগে বড় ছাড়, বৈষম্যের শঙ্কা দেশীয় উদ্যোক্তাদের

দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তার সমান সুযোগ চান খাতসংশ্লিষ্টরা নতুন নীতিমালা আগের চেয়ে ভালো, বৈষম্য না রাখার দাবি আইএসপি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ৪৯ শতাংশের বেশি নয়: আইএসপিএবি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতেই শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ নয়: বিটিআরসি চেয়ারম্যান টেলিযোগাযোগ খাতের নতুন খসড়া নীতিমালায় বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ও মোবাইল অপারেটরের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি মূলধনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন লাইসেন্স কাঠামো, অবকাঠামো ভাগাভাগি ও একাধিক স্তরে বিনিয়োগের বিধান নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। দেশীয় উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি তাদের জন্যও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার টেলিযোগাযোগ খাতের নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। সে সময়কার খসড়ায় থানা ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার (আইএসপি) লাইসেন্স বিলুপ্তির উদ্যোগে প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে ছোট আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো। নানা পক্ষ থেকে আপত্তি আসায় অন্তর্বর্তী সরকার সেই নীতিমালা চূড়ান্ত করতে পারেনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে খসড়া নীতিমালায় আরও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়। তবে বিএনপি সরকারের এই নীতিমালায়ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিক সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ৮০ শতাংশ ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং পলিসি, ২০২৬’-এর নতুন খসড়ায় মোবাইল অপারেটরে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি মূলধনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ৮০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। আরও পড়ুন টেলিকম খাত করমুক্ত করতেই নতুন নীতিমালা: ফয়েজ আহমদ বিটিআরসিতে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের অবস্থান, টেলিকম নীতি সংশোধন দাবি খসড়া অনুযায়ী, মোবাইল অপারেটরের ক্ষেত্রে অন্তত ১০ শতাংশ অর্থবহ স্থানীয় বা বাংলাদেশি মালিকানা থাকতে হবে। ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ক্ষেত্রে অন্তত ২০ শতাংশ দেশীয় মালিকানা বাধ্যতামূলক রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া শেয়ার্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা যৌথ অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বিদেশি মূলধনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে অন্তত ৫১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা বাংলাদেশিদের হাতে রাখার প্রস্তাব রয়েছে। আর স্যাটেলাইট সেবার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্তে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি মূলধনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এমন সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে দেশীয় ইন্টারনেট অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। আর এতে ইন্টারনেট অবকাঠামোতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হবে বলেও মন্তব্য কারো কারো। আরও পড়ুন আইএসপিএবি সভাপতি / বাজেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট উপেক্ষিত, কিছুই পাইনি আমরা দেশি-বিদেশি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত টেলিযোগাযোগ খাতে দেশি-বিদেশি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির। জানতে চাইলে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘টেলিকম খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় আমাদের আপত্তি নেই; তবে দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রস্তাবিত টেলিকম নীতিমালায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একাধিক লেয়ারে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার বিপরীতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের একই সুযোগ না থাকায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি বৈষম্য তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন,‘বিদেশি বিনিয়োগকারী একাধিক স্তরে বিনিয়োগের সুযোগ পেলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান এক স্তরের ব্যবসার মুনাফা অন্য স্তরে ব্যবহার করে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিতে পারবে। আর সেটা যদি তারা পায়, তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তারা ব্যবসা হারিয়ে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমাদের ভয়ের জায়গাটা এখানেই। দেশীয় উদ্যোক্তা যদি সুযোগ না পান , তাহলে বিদেশিদেরও সেই সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’ আইএসপি, ট্রান্সমিশন, মোবাইল অপারেটর কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংযোগ—কোনো ক্ষেত্রেই বিদেশি বিনিয়োগে আপত্তি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইএসপি সেক্টরেও যদি বিদেশি বিনিয়োগ আনতে পারে, আনুক। ট্রান্সমিশনেও আনুক। মোবাইল অপারেটরের ক্ষেত্রে আনুক বা ইন্টারন্যাশনাল সাইডে আনুক—তাতেও আমার কোনো আপত্তি নেই।’ তবে লাইসেন্স কাঠামোয় দেশীয় ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য একই নিয়ম রাখার দাবি জানিয়ে সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘আমাদের দেশীয় উদ্যোক্তারা যেকোনো একটা লেয়ারে প্লে করতে পারবে, তাহলে বিদেশি উদ্যোক্তারাও তাই থাক। তারাও একটা লেয়ারে প্লে করুক। অথবা দেশীয়দেরও তিন লেয়ারেই সুযোগ দেওয়া হোক, বিদেশিদেরও তিন লেয়ার ওপেন থাক।’ আরও পড়ুন রাজধানীর ধানমন্ডি / একই ক্যাবলে মিলবে যে কোনো ব্রডব্যান্ড প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সেবা নতুন নীতিমালা আগের চেয়ে ভালো বাংলাদেশের প্রথম এবং বৃহত্তম বেসরকারি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারেটর ফাইবার অ্যাট হোম, যারা দেশজুড়ে অপটিক্যাল ফাইবার অবকাঠামো সরবরাহ করে। জানতে চাইলে ফাইবার অ্যাট হোমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মঈনুল হক সিদ্দিকী জাগো নিউজকে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরও সমান বিনিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নতুন নীতিমালায় বিভিন্ন স্তরে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হলেও বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যে সুযোগ পাবেন, স্থানীয় উদ্যোক্তারাও যেন একই সুযোগ পান—এতে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়। বিদ্যমান বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্তরে অনেক উদ্যোক্তা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন। তাদের বিনিয়োগ একদিনে প্রত্যাহার বা একটি স্তর থেকে বের করে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। একজন উদ্যোক্তা ১০-২০ বছর ধরে ব্যবসা করছেন, একাধিক স্তরে তার বিনিয়োগ রয়েছে। হঠাৎ করে একটি স্তর ছেড়ে দিতে বললে তিনি সেটি কোথায় বিক্রি করবেন, কত দামে বিক্রি করবেন—এসব বিষয়ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নীতিমালায় এ জায়গায় একটি গ্যাপ রয়েছে। নতুন নীতিমালার সামগ্রিক বিষয়ে মঈনুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘পলিসিটা আগের থেকে এখন অনেক বেশি ওয়েল-থট হয়েছে বলে আমার ধারণা। যথেষ্ট ক্লিয়ার করা হয়েছে। আগে অনেক অ্যানোমালি ছিল। এখন যারা করছে, তারা অনেক কিছু ওয়েল-ডিফাইন করেছে। এটা পজিটিভ।’ তবে নীতিমালার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘পলিসির ওপর বেস করে যেন গাইডলাইনগুলো হয়, ডিফাইন করে দেয়। আর ডিফাইন করার থেকে সবচেয়ে বড় আমাদের যে চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে, সেটা হলো এনফোর্সমেন্ট। গাইডলাইন করল, পলিসি করল, পলিসির পর একটা গাইডলাইন করল। গাইডলাইনটা কেউ যদি কন্টিনিউয়াসলি ভায়োলেট করে যায়, সেটা যদি এনফোর্সমেন্ট না হয়, তাহলে কোনো সুন্দর পলিসিও সুন্দরভাবে টিকে না।’ আরও পড়ুন ‘সরকার করহার না কমালে ইন্টারনেটের দাম কমবে না’ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিনিয়োগ করে ফাইবার অবকাঠামো গড়ে তোলা দেশীয় এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখার দাবি জানিয়ে সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের এমডি ও সিইও আরিফ আল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে দেশব্যাপী ফাইবার অবকাঠামো তৈরি করেছে। এই অবকাঠামোই ব্রডব্যান্ড ও টেলিযোগাযোগ সেবার মেরুদণ্ড। নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে গিয়ে বিদ্যমান দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যেন অযৌক্তিকভাবে পিছিয়ে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’ শেয়ার্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং, ফেয়ার প্রাইস, নন ডিসক্রিমিনেশন ও ওপেন অ্যাক্সেস নিশ্চিত করতে হবে। সবাই সমান সুযোগ পেলে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে।’ আরিফ আল ইসলাম আরও বলেন, ‘দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। দীর্ঘদিন যারা বিনিয়োগ করেছে, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই নতুন বিনিয়োগের জন্য বাজার উন্মুক্ত করা উচিত।’ তার মতে, নতুন নীতিমালার লক্ষ্য হওয়া উচিত বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং গ্রাহকের জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করা—কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়া নয়। আরও পড়ুন জুলাই থেকে কার্যকর / সারাদেশে একই দামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট আইএসপি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ৪৯ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয় দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বা আইএসপি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ৪৯ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি ও আম্বার আইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম। তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগ এর বেশি হলে ডেটা নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জাগো নিউজকে মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, ‘খসড়া গাইডলাইনে আইএসপি খাতে ৮০ শতাংশ বিদেশি ও ২০ শতাংশ স্থানীয় বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা এর পরিবর্তে বিদেশি বিনিয়োগ সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ এবং স্থানীয় বিনিয়োগ ৫১ শতাংশ রাখার দাবি জানিয়েছি। কারণ আইএসপিরা সরাসরি গ্রাহকের লাস্ট মাইল কানেকটিভিটি দেয়। এখানে বিদেশি মালিকানা বেশি হলে ডেটা নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।’ আরও পড়ুন ফোরজির সর্বনিম্ন গতি হবে ১০ এমবিপিএস, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতেই শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ নয়: বিটিআরসি জানতে চাইলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতেই শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ ‘অ্যালাউ’ করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘ব্রডব্যান্ড অবকাঠামোয় দেশীয় কোম্পানি শতভাগ বিনিয়োগ করতে পারবে। দেশীয় উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দিতেই বিদেশিদের শতভাগ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোনো বিদেশি সরাসরি আসতে পারবে না বাংলাদেশি পার্টনার ছাড়া- দ্যাটস দ্য আইডিয়া।’ বিদেশি বিনিয়োগের সীমা সম্পর্কে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যদি বিদেশিরা কেউ আসে, সে ১০০ শতাংশ ইনভেস্ট করতে পারবে না। সে ৮০ শতাংশ বা হোয়াটএভার সরকার যেটা ডিসাইড করবে, তার বেশি পারবে না। কিন্তু বাংলাদেশে যারা আছে তারা ১০০ শতাংশ পারবে।’ আরও পড়ুন ইন্টারনেট তারের জঞ্জাল কমাবে ‘অ্যাক্টিভ শেয়ারিং’ বিদেশি বিনিয়োগে বড় সুযোগ, ক্রস-ওনারশিপ নিয়ে প্রশ্ন খসড়া এনআইসিএসপি (ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডার) নির্দেশিকার ৭.২.১–৭.২.৩ ধারায় একই প্রতিষ্ঠানকে একাধিক এনআইসিএসপি লাইসেন্স নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি এএনএসপি, আইসিএসপি বা এনটিএনএসপি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানও এনআইসিএসপি লাইসেন্সের জন্য অযোগ্য হবে। এসব বিধিনিষেধ আবেদনকারীর শেয়ারহোল্ডার, মালিক বা অংশীদারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ৭.২.৩ ধারায় বিদেশি মালিকানাধীন নতুন লাইসেন্সধারী বা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য না হওয়ার কথা উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। তাদের অভিযোগ, এতে বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক স্তরে বিনিয়োগ বা ক্রস-ওনারশিপের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যেখানে একই সুযোগ দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য স্পষ্ট নয়। খসড়া নীতিমালায় আইএসপি খাতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকেই সাধারণভাবে এক লেয়ার থেকে অন্য লেয়ারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘বিদেশি কোম্পানি এলেই চারটা লেয়ারে তো একসাথে পারবে না। কোনো ক্রস ইনভেস্টমেন্ট অ্যালাউ করা হচ্ছে না শুধু একটা জায়গা ছাড়া, সেটা হচ্ছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার।’ তিনি বলেন, ‘দেশি হোক, বিদেশি হোক, এক লেয়ার থেকে আরেক লেয়ারে যেতে পারবে না। শুধু পারবে ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে। কারণ ইনফ্রাস্ট্রাকচারেই ইনভেস্টমেন্ট সবচেয়ে বেশি দরকার।’ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ক্রস-ওনারশিপ ও একাধিক স্তরে বিনিয়োগের বিধান স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা না হলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে অসম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই চূড়ান্ত নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট গাইডলাইনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অধিকার ও সীমা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা। আরও পড়ুন সাড়ে ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নতুন কাঠামোয় চার শ্রেণির লাইসেন্স নতুন খসড়ায় বর্তমান লাইসেন্স কাঠামোর পরিবর্তে চারটি শ্রেণির লাইসেন্স চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো—মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড অ্যাক্সেস সেবা (এএনএসপি), টাওয়ার ও জাতীয় ফাইবার অবকাঠামো (এনআইসিএসপি), সাবমেরিন কেবল ও আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইসিএসপি) এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবা (এনটিএনএসপি)। নতুন কাঠামোর লক্ষ্য মধ্যবর্তী লাইসেন্সের স্তর কমানো, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তিনিরপেক্ষ ব্যবস্থা চালু করা। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর লাইসেন্সের পরিবর্তে সেবাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনিরপেক্ষ লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই নতুন স্তরবিন্যাস নিয়েও খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে। মাইগ্রেশনের চাপে ছোট আইএসপি, রিসেলার মডেলেও আপত্তি নতুন খসড়ায় আইএসপি খাতে বিদ্যমান চার ক্যাটাগরির পরিবর্তে জেলা ও নেশনওয়াইড—এই দুই ক্যাটাগরির লাইসেন্স রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বর্তমান থানা বা উপজেলা পর্যায়ের আইএসপিকে জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের আইএসপিকে নেশনওয়াইড পর্যায়ে মাইগ্রেশনের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ছোট অপারেটরদের জন্য মাইগ্রেশন, একীভূত হওয়া বা রিসেলার হিসেবে কাজ করার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে রিসেলার মডেলসহ নতুন কাঠামো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে আইএসপিএবি। জানতে চাইলে আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে আইএসপি লাইসেন্সের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে থানা বা উপজেলা ক্যাটাগরিকে জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়কে নেশনওয়াইডে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। একটি বিভাগে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানের নেশনওয়াইড হতে ১৫০-২০০ কোটি টাকা লাগতে পারে, যা এক বছরে সম্ভব নয়। তাই ২০৩০-৩২ সালের মধ্যে মাইগ্রেশনের রোডম্যাপ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি অন্তত পাঁচ বছর বর্তমান লাইসেন্স কাঠামোয় ব্যবসার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ ও ফান্ডের প্রস্তুতি নিতে পারেন।’ রিসেলার মডেল নিয়েও আপত্তি জানিয়ে আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, ‘রিসেলার বা ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রথমদিকে এই মডেল চালুর প্রস্তাব ছিল। আমাদের আন্দোলন ও অনুরোধের পর বিটিআরসি সেটি বাদ দেয় এবং মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করে। কিন্তু বর্তমানে আবার রিসেলার অপশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটিতে আমাদের জোরালো আপত্তি রয়েছে।’ তিনি বলেন, রিসেলার মডেলে নির্দিষ্ট এলাকায় একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয় ও মূল্য বাড়ানোর ঝুঁকি থাকে। কেবল টিভির মতো একজন রিসেলার কোনো এলাকায় আধিপত্য তৈরি করে এক হাজার টাকার সেবা দুই হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারে, আবার অতিরিক্ত ইনস্টলেশন ফিও নিতে পারে। এতে বিটিআরসির নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারনেট এবং ‘এক দেশ এক রেট’ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে। আরও পড়ুন আইএসপিএবি / নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে ইন্টারনেটের দাম বাড়বে ২০ শতাংশ এক ফাইবারে একাধিক আইএসপি, বাড়ছে অবকাঠামো ভাগাভাগির সুযোগ নতুন খসড়ায় একটি ফাইবার অবকাঠামো একাধিক আইএসপির ব্যবহারের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় একটি ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি হলে বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে একাধিক লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সেটি ব্যবহার করে সেবা দিতে পারবে। এতে নতুন করে অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজন কমায় আইএসপিগুলোর ব্যয় কমতে পারে। খসড়ায় কমন অ্যাকসেস নেটওয়ার্কের প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি আইএসপিকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত নিজস্ব লাস্ট-মাইল অবকাঠামো তৈরির সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এনআইসিএসপি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাড়া না দিলে তা ‘নো অবজেকশন’ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাবও রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি পপের (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স) জন্য এনআইসিএসপির মাধ্যমে অন্তত একটি রিডানডেন্ট ট্রান্সমিশন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একটি ফাইবারে সমস্যা বা বিচ্ছিন্নতা দেখা দিলে বিকল্প পথে ইন্টারনেট সেবা চালু রাখার সুযোগ তৈরি হবে। খসড়ায় ব্রডব্যান্ড সংযোগ বিস্তারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় এক কোটি ৪৫ লাখ ব্রডব্যান্ড গ্রাহকের বিপরীতে প্রায় চার কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। এছাড়া প্রায় চার হাজার ৫৫০ ইউনিয়নে সংযোগ পৌঁছানোর প্রয়োজন রয়েছে। ফলে শুধু জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে নয়, ইউনিয়ন পর্যায়েও ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে নতুন কাঠামোয়। ইএইচটি/এমএমএআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দাতিয়ারার পুরাতন বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোর ছয়টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৫ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নাজমুল আলম জানান, শহরের দাতিয়ারার পুরাতন বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৫ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হই। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ বিতরণ-১ নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা মোহাম্মদ হাদিস বলেন, বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আবুল হাসনাত মো. রাফি/কেজে/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এনসিপি-কওমি ছাত্রদের কর্মসূচি ঘিরে যা জানা গেল
উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এনসিপি-কওমি ছাত্রদের কর্মসূচি ঘিরে যা জানা গেল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা আহ্বান করেছে এনসিপি। তবে এই কর্মসূচির আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার রাতে শহরের বিক্ষোভ করেছেন তারা। পাশাপাশি শনিবার বিকেল ৩টায় একই স্থানে ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠন মো. আতাউল্লাহ এই বিষয়ে জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত আজকের সাংগঠনিক সমন্বয় সভা বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ। সভায় কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। আরও পড়ুন হাসনাত ভাই দুঃখপ্রকাশ না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিষিদ্ধ: রফিকুল মাদানী এদিকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ নেতা আব্দুল খালেক জানান, গতকাল রাতে আমরা এনসিপির বিরুদ্ধে একটি মিছিল ও গণসমাবেশ করেছি। আমাদের তিনটি দাবি ছিল, হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে যে মিথ্যাচার করেছে এই মিথ্যাচারের জন্য লাইভে এসে ক্ষমা চাইতে হবে, পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে ক্ষমা চাইতে হবে, জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু আমাদের এই দাবি তারা মানেনি, তাই আমরা আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করছি। বিকেল তিনটায় শিল্পকলা একাডেমিতে কুরআন তিলাওয়াত, হামদ নাত এবং ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা করছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসলাম প্রিয় সবাইকে এই কর্মসূচি সফল করার জন্য আহ্বান করছি। আরও পড়ুন হাসনাত আবদুল্লাহর যে বক্তব্যে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, এনসিপি একটি অনুষ্ঠানের জন্য আবেদন করেছিল। অনুষ্ঠান আর রাজনৈতিক কর্মসূচি এক না, তাই সেটির ভেন্যু বাতিল করা হয়েছে। আর কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদতো কোনো আবেদন করেনি। শিল্পকলায় কোনো প্রোগ্রাম হবে না৷ পরবর্তীতে পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরও পড়ুন সংসদে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে মধ্যরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ এর আগে বৃহস্পতিবার হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় সরকারে ব্যর্থতার বিষয়ে সমালোচনা করেন। আবুল হাসনাত মো. রাফি/এফএ/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
সালমান শাহ করেছিলেন ৬০ শতাংশ শুটিং, সিনেমাটি শেষ করেন ওমর সানি
সালমান শাহ করেছিলেন ৬০ শতাংশ শুটিং, সিনেমাটি শেষ করেন ওমর সানি

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেশ কিছু অসমাপ্ত কাজ ও সিনেমার স্মৃতি। তার মৃত্যুর পর এমনই একটি সিনেমা শেষ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানি। ‘কে অপরাধী’ সিনেমার পোস্টার শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তুলে ধরেছেন সেই সময়ের কথা। আরও পড়ুন বউয়ের বকাঝকা থেকে বাঁচতে যা করেন অমিতাভ বচ্চন ওমর সানি লিখেছেন, ‘উত্তম দা, আমি তার সব ছবির আর্টিস্ট। কিন্তু এই ছবি যখন তৈরি করছিল, আমার অন্য সিডিউল ছিল। তখন আমার করা হয়নি।’ এরপর সিনেমাটির শুটিংয়ে সালমান শাহ যুক্ত হন। ওমর সানির ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির প্রায় ৬০ শতাংশ শুটিংও শেষ করেছিলেন সালমান শাহ। কিন্তু এরপরই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। অকালেই না ফেরার দেশে চলে যান জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান। ওমর সানি আরও লিখেছেন, ‘কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস! সালমান এই ছবির শুটিং করেছে প্রায় ৬০ শতাংশ, তখন সালমান শাহ হত্যার শিকার হন।’ সালমান শাহর মৃত্যুর পর সিনেমাটির কাজ থেমে যায়। পরে নির্মাতা উত্তম আকাশ আবারও ওমর সানিকে সিনেমাটিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। সেই প্রসঙ্গে ওমর সানি বলেন, ‘তখন উত্তম আকাশ দা আমাকে আবার অফার করলেন। তখন আমি বাধ্য হয়ে এই ছবি শেষ করি।’ সিনেমাটির সঙ্গে নিজের ও শাবনূরের বিশেষ স্মৃতির কথাও উল্লেখ করেছেন ওমর সানি। তিনি লিখেছেন, ‘এই ছবি আমার আর শাবনুরের আরেকটি ইতিহাস।’ আরও পড়ুন দেশে ফিরে নেপালে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা জানালেন অপু বিশ্বাস পোস্টের সঙ্গে ‘কে অপরাধী’ সিনেমার পোস্টারও শেয়ার করেছেন এই অভিনেতা। একই সঙ্গে সালমান শাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আল্লাহ সালমান শাহকে জান্নাত নসিব করুন।’ সালমান শাহর অকালমৃত্যু আজও তার ভক্তদের মনে গভীর আবেগ তৈরি করে। তার অভিনীত ও অসমাপ্ত সিনেমাগুলোও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। ‘কে অপরাধী’ সিনেমাকে ঘিরে ওমর সানির এই স্মৃতিচারণ তাই নতুন করে আলোচনায় এনেছে সালমান শাহর সেই সময়ের চলচ্চিত্রযাত্রাকে।   এলআইএ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রীদের কাছে কেন অনন্য?
তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রীদের কাছে কেন অনন্য?

নেপালে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখনো নিখোঁজ দুই হাজারের মতো মানুষ। জানা গেছে, নেপাল ও তিব্বতে নিখোঁজ হওয়া অনেক পর্যটক তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রীদের কাছে বহু আগে থেকেই জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। বিশেষ করে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র তীর্থস্থান। প্রতি বছর ধরে হাজার হাজার মানুষ এসব পবিত্র স্থান দর্শনে সেখানে যান। আরও পড়ুন নেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৬১৬, এখনো নিখোঁজ ১৯২৪ জানা গেছে, আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তাদের অনেকেই তীর্থযাত্রায় সেখানে গিয়েছিলেন। অনেক ভারতীয় পর্যটক নেপাল হয়ে তিব্বতের কৈলাস পর্বতে যান। প্রায় ৬ হাজার ৪০০ মিটার (২১ হাজার ফুট) উচ্চতার এই পর্বত হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। তবে নেপাল শুধু তীর্থযাত্রীদের কাছেই জনপ্রিয় নয়, সারা বিশ্বের পর্বতারোহীদেরও কাছে জনপ্রিয় একটি দেশ। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় রাসুয়া জেলা হাইকিংয়ের জন্য জনপ্রিয় একটি এলাকা। আগস্ট মাস হাইকিংয়ের মৌসুম না হলেও বন্যার সময় সেখানে কিছু পবর্তারোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে চার হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতার হলো মানস সরোবর। এর পাশেই কৈলাস পর্বত। দুর্গম উঁচু পাহাড়ি অমসৃণ আঁকাবাঁকা পথ, তীব্র ঠাণ্ডা, বৈরী আবহাওয়া, অক্সিজেন স্বল্পতাসহ নানা কারণে কৈলাস-মানস সরোবরে পৌঁছানো খুবই কঠিন কাজ। তারপরও ধর্মীয় অনুভূতির কারণে সেখানে যান তীর্থযাত্রীরা। তবে তাদের বিশ্বাসের জায়গা এক নয়। কোনো ধর্মে কৈলাস মানে দেবতার আবাস, কারও কাছে এটি আবার আধ্যাত্মিক সাধনার পবিত্র ভূমি। মানস সরোবরের পানিকে অনেকে পবিত্র মনে করেন। আরও পড়ুন তিব্বতে ফের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ কৈলাস ও মানস সরোবর কোথায় অবস্থিত? কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর দুটোই তিব্বতে অবস্থিত, যা চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। তবে অঞ্চলটি একইসঙ্গে আবার নেপাল ও ভারতের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। তিব্বত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি জায়গা। চীন ১৯৫০ সালে তিব্বতকে নিজেদের ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করে নেয় এবং তখন থেকেই এটিকে তারা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কৈলাস পর্বতের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ছয় হাজার মিটার বা ২১ হাজার ফুট। কৈলাসের কাছেই, দক্ষিণে হলো মানস সরোবর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় চার হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতায় থাকা একটি স্বাদু পানির হ্রদ এটি, যা এশিয়ার উচ্চতম স্বাদু পানির হ্রদগুলোর মধ্যে একটি। চীনের সরকারি তথ্য বলছে, মানস সরোবরের আয়তন প্রায় ৪১২ বর্গকিলোমিটার এবং গভীরতা প্রায় ৪৬ মিটার। হ্রদটিতে প্রায় দুই হাজার কোটি ঘনমিটার পানি রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইউনেসকো বলছে, এখান থেকেই এশিয়ার চারটি বড় নদীর উৎপত্তি আর সেগুলো হলো সিন্ধু, শতদ্রু, ব্রহ্মপুত্র এবং কর্ণালী। কেন তীর্থযাত্রীদের কাছে পবিত্র তিব্বতের স্থান? ইউনেস্কো বলছে, এই অঞ্চলে ধর্মীয় উপাসনার ইতিহাস প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো। হিন্দু ধর্মে কৈলাসকে দেবতা শিব ও দেবী পার্বতীর আবাসস্থল হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। হিন্দু পুরাণ ও ধর্মীয় সাহিত্যেও কৈলাসের কথা উল্লেখ আছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘শিব বৈদিকযুগ থেকেই উপাসিত। ঋগ্বেদ সংহিতার দশম মণ্ডলে কৈলাস পর্বতের স্বর্ণশিখরে বসবাসকারী দেবতা শিবের উল্লেখ আছে। হিন্দুদের পঞ্চমতের সবাই এটা বিশ্বাস করে। তাদের মধ্যে শৈব ও শাক্ত কৈলাসকে পরম গন্তব্য হিসেবে মনে করে।’ কুশল বরণ চক্রবর্তী বলেন, ‘মন্ত্রের মাঝেই কৈলাস শব্দটি আছে। ঋগ্বেদের যুগ থেকে যদি স্থানটি এতটা পবিত্র বিষয় হয়, তাহলে সেই পরম্পরাই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।’ অন্যদিকে, মানস সরোবরও হিন্দুদের কাছে পবিত্র হ্রদ। তারা মানস সরোবরের তীরে প্রার্থনা ও পূজা করেন এবং হ্রদের পানিকে পবিত্র মনে করে তা সংগ্রহ করেন। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ পরিবেশ দূষণ রোধে সরাসরি সেখানে পানিতে নেমে স্নানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার সরকারি গাইডেও মানস সরোবরে ধর্মীয় আচার ও পবিত্রতার এই বিশ্বাসের কথা উল্লেখ আছে। আরও পড়ুন নেপালে বিপর্যয়ের মধ্যেই আরও একটি বন্যার শঙ্কা ইউনেস্কোর নথি বলেছে, কৈলাস পর্বতের চারদিকে চারটি বড় গোম্পা বা বৌদ্ধ মঠ রয়েছে। আর মানস সরোবরের চারদিকে আটটি মঠ রয়েছে। বৌদ্ধদের কাছেও কৈলাস অত্যন্ত পবিত্র। তিব্বতি ভাষায় পর্বতটি ‘কাং রিনপোচে’ নামে পরিচিত, যার অর্থ অনেকটা ‘তুষারের মূল্যবান রত্ন’। হিমালয় অঞ্চলের শিল্প ও ধর্মীয় ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের রুবিন মিউজিয়াম অব হিমালয়ান আর্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, বৌদ্ধদের একটি অংশ বিশ্বাস করেন, কৈলাসই পৌরাণিক মেরু পর্বত বা মহাবিশ্বের কেন্দ্র। বৌদ্ধদের কাছে কৈলাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কুশল বরণ চক্রবর্তী বলেন, ‘ভুটান, চীন, তিব্বত, ভারতের সিকিম ও দার্জিলিং-এ, কাশ্মীরের লাদাখে, মঙ্গোলিয়ার মহাযানপন্থি বৌদ্ধরা বিভিন্ন দেব-দেবতার উপাসনা করে। বাংলায়ও পালযুগে মহাযানপন্থি বৌদ্ধরা ছিল। সেজন্য বাংলার জাদুঘরগুলোতে বৌদ্ধদের প্রচুর দেব-দেবতার মূর্তি আছে।’ বন ধর্মে কৈলাসের গুরুত্ব আরও পুরোনো। বন ধর্মের অনুসারীদের কাছে কৈলাস তাদের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ও উপাসনার অন্যতম পবিত্র স্থান। হিন্দু ও বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীরা সাধারণত ঘড়ির কাঁটার দিকে কৈলাস প্রদক্ষিণ করেন। হিন্দু ধর্মে এই প্রদক্ষিণকে পরিক্রমা বলা হয়। আর তিব্বতি বৌদ্ধ ঐতিহ্যে এই প্রদক্ষিণকে ‘কোরা’ বলা হয়। অন্যদিকে, বন ও জৈন অনুসারীরা প্রদক্ষিণ করেন ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে। জৈন ধর্মেও কৈলাসকে পবিত্র স্থান হিসেবে দেখা হয়। জৈনদের বিশ্বাস, তাদের প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভদেব এই স্থানে নির্বাণ লাভ করেছিলেন। ইউনেস্কোর নথিতেও এটি উল্লেখ আছে। এ প্রসঙ্গে কুশল বরণ চক্রবর্তী বলেন, ‘ভগবান ঋষভদেব যেমন জৈনদের আদি তীর্থঙ্কর, উনি সনাতন ধর্মে (ভাগবত পুরাণ) বিষ্ণুরও অবতার। আবার, ২৩-তম জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের যে শক্তি, তিনি হলেন পদ্মাবতী। এই পদ্মাবতীই হলেন মনসা। ভারত বর্ষে উৎপন্ন ধর্মগুলোকে আলাদা করা কঠিন এবং আগে এতটা বিভাজন ছিল না। সে কারণেই এই স্থানটি একাধিক ধর্মের অনুসারীদের কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ।’ কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা কঠিন কেন? তীর্থযাত্রীরা কৈলাস-মানস সরোবরে যেতে পারেন কয়েকটি পথে। একটি হলো ভারতের উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস, অন্যটি সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে। এর বাইরে আরেকটি পরিচিত রুট হলো কাঠমান্ডু (নেপাল)। তবে ভারতের লিপুলেখ ও নাথু লা পাস দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় শুধু বৈধ ভারতীয় পাসপোর্টধারী ভারতীয় নাগরিকরা অংশ নিতে পারেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মাঝে এই আয়োজন করে। লিপুলেখ পাস দিয়ে যেতে হলে অনেকটা পথ হেঁটে যেতে হয়। আর নাথু লা পাস দিয়ে গেলে তুলনামূলক কম হাঁটতে হয়। তবে এই পথ দিয়ে সময় লাগে ২০ দিনেরও বেশি। বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিদেশি তীর্থযাত্রীরা সাধারণত নেপাল হয়ে তিব্বতে প্রবেশ করেন। এক্ষেত্রে তীর্থযাত্রীদের চীনের ভিসার পাশাপাশি তিব্বতে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হয় এবং অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে যাত্রার ব্যবস্থা করতে হয়। আবার, চীনের ভেতর থেকে লাসা হয়েও কৈলাস-মানস সরোবর সরোবর যেতে পারেন অনেকে। তবে তাদের তিব্বত ভ্রমণের প্রয়োজনীয় বিশেষ অনুমতি লাগে। তীর্থযাত্রীরা যে কৈলাশ পর্বতের দিকে যান তার জন্য বিশেষ অনুমতিপত্র লাগে। নেপালের দিক থেকেও যে হাজারো মানুষ তীর্থযাত্রায় যান তাতেও একটি স্বীকৃত কোম্পানির মাধ্যমে চারটি ভিন্ন অনুমতিপত্র লাগে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট, বিবিসি, ইউনেস্কো, বিবিসি বাংলা, ওয়ান্ডার্স অব তিব্বত এসএনআর  

আগস্ট ২৯, ২০২৬
জয়সূচক গোল করে রেকর্ডের মালিক হলেন রোনালদো
জয়সূচক গোল করে রেকর্ডের মালিক হলেন রোনালদো

প্রথম ফুটবলার হিসেবে হাজারতম গোলের পেছনে ছুটছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর সেই রেকর্ড গড়ার পথে সৌদি প্রো লিগের চতুর্থ রাউন্ডে আল তাউনকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে আল নাসরের জয়সূচক গোলটি করেছেন রোনালদো। আল-আওয়াল পার্কে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র পাঁচ মিনিটেই গোলটি করেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। সতীর্থ মোহাম্মদ সিমাকানের নেওয়া শটে ছয় গজ বক্সের ভেতর ডান পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলে পিছিয়ে পড়েও জয় নিশ্চিত করে আল নাসর। চার ম্যাচে চার জয়ে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষেও রয়েছে তারা। ওই গোলে আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগে ক্লাবটির সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। সৌদি প্রো লিগে রোনালদোর গোলসংখ্যা এখন ১০৪। এর আগে প্রথমার্ধে বাসাম আল-হুরাইজি গোল করে আল তাউনকে এগিয়ে দেন। বিরতির ঠিক আগে সামু কস্তা গোল করে আল নাসরকে সমতায় ফেরান। তবে ম্যাচে রোনালদোর গোলের পর ঘটে মজার এক ঘটনা। গোল করার পরই নিজের বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপন না করে বদলি খেলোয়াড়দের বেঞ্চে গিয়ে পানি পান করতে শুরু করেন তিনি। তখন সতীর্থ সাদিও মানে এসে তাকে মনে করিয়ে দেন গোল করে তিনি যে ‘সিউ’ উদযাপন করতেই ভুলে গেছেন। মানের কথা শুনেই মাঠের দিকে ছুটে যান রোনালদো এবং পরে নিজের আইকনিক ‘সিউ’ উদযাপন সম্পন্ন করেন। ৯৭৮তম গোলের পর এখন ১,০০০ গোলের মাইলফলক থেকে মাত্র ২২ গোল দূরে রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ব্যক্তিগত অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে ৪১ বছর বয়সেও থামছেন না পর্তুগিজ মহাতারকা। আইএন

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ডিগ্রি পরীক্ষায় বই দেখে লেখায় বহিষ্কার ৪, দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
ডিগ্রি পরীক্ষায় বই দেখে লেখায় বহিষ্কার ৪, দুই শিক্ষককে অব্যাহতি

  মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি প্রথমবর্ষের ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষায় বই দেখে লেখার ঘটনায় চার পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই শিক্ষককে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা দিতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে ঘটনাটি। আরও পড়ুন ৫০০ টাকার বিনিময়ে বই দেখে পরীক্ষা, ভিডিও করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা এদিকে, পরীক্ষার হলে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। হামলার শিকার সাংবাদিকদের একজন বাংলাদেশ বেতার ও নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ। তিনি এ ঘটনায় শুক্রবার গাংনী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় রফিকুজ্জামান ও মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এএএইচ/এসএনআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে দেশবিরোধী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি তিনি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ভারত একদিন পুনর্দখল করবে বলে মন্তব্য করেছেন। কাশ্মীর নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে’ (Pakistan-occupied Kashmir)’ স্লোগান দেওয়া উচিত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিছিলের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়। শুভেন্দু বলেন, তাঁর প্রশাসন একটি ‘শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক’ সরকার পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্য স্টেটসম্যান জানিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্যাম্পাসে চলা কথিত ‘দেশবিরোধী রাজনীতি’ এবং বেছে বেছে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের সমালোচনা করেন শুভেন্দু। এ বক্তব্যে পুলওয়ামা হামলা তথা অপারেশন সিঁন্দুর-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের সামরিক অভিযান পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। তিনি বলেন, যারা বলে ‘কাশ্মীরের আজাদি চায়’, তাদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা উচিত। অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে আমাদের ভারতীয় বিমানবাহিনী মাসুদ আজহারের বংশধরদের নিশ্চিহ্ন করেছে। আমরাও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর দখল করব। যাদবপুর ক্যাম্পাসে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব নিয়েও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আর্টস হোস্টেল এবং কথিত মাওবাদি নেতা কিষাণজির প্রতি সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ধরনের প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, হয় তারা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব। যথেষ্ট হয়েছে। এর মাঝামাঝি আর কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার যে সব শক্তিকে দেশবিরোধী বলে মনে করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে ক্ষোভ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা কথিত ‘আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, কলকাতার রাস্তায় যখন ‘আজাদি’র স্লোগান ওঠে, তখন আমার কষ্ট হয়। আপনারা কী স্বাধীনতা চাইছেন? দেশ তো বহু আগেই স্বাধীন হয়েছে। কেএম 

আগস্ট ২৯, ২০২৬
পোড়া খাবার খেলে কি বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি
পোড়া খাবার খেলে কি বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি

রান্না করতে গিয়ে খাবার একটু পুড়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। কখনো তরকারি কড়াইয়ের তলায় লেগে যায়, কখনো ভাত গরম করতে গিয়ে নিচের অংশ কালো হয়ে যায়। আবার টোস্ট বা পাউরুটি সেঁকতে গিয়েও অসাবধানতায় পুড়ে যেতে পারে। অনেকেই পোড়া অংশটুকু সরিয়ে বাকি খাবার খেয়ে নেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিয়মিত এমন পোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ- চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, খাবার উচ্চ তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় রান্না বা অতিরিক্ত ঝলসে গেলে তার রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কিছু পুষ্টিগুণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু যৌগ তৈরি হতে পারে, যেগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। উচ্চ তাপে রান্নার সময় খাবারের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে পোড়া খাবার মানেই কি ক্যানসারের কারণ? অঙ্কোলজিস্ট (ক্যানসারের রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপক) চিকিৎসকের মতে, পোড়া খাবারের একটি ছোট অংশ খেয়ে ফেললেই ক্যানসার হবে-এমন ধারণা ঠিক নয়। মাঝে মধ্যে সামান্য পোড়া খাবার খাওয়া আর দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পোড়া খাবার খাওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত পোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাসকে একেবারে নিরাপদও বলা যায় না। শর্করাজাতীয় খাবার যেমন আলু, পাউরুটি বা অন্যান্য স্টার্চযুক্ত খাবার খুব বেশি অতিরিক্ত পুড়ে গেলে অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে মাংস বেশি তাপে ঝলসানো বা পুড়িয়ে ফেললে হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইন এবং পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন -এর মতো যৌগ তৈরি হতে পারে। এসব যৌগে শরীরের প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদি ক্যানসরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বারবিকিউ বা গ্রিলের মাংস কি নিরাপদ? বারবিকিউ বা গ্রিল করার সময় মাংসের বাইরের অংশ সরাসরি উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসে। অতিরিক্ত উচ্চ আঁচে মাংস ঝলসালে হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইন (এইচসিএ) তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাংসের ওপরিভাগ যত বেশি সময় ধরে তীব্র তাপে থাকে, এসব যৌগ তৈরির সম্ভাবনাও তত বাড়তে পারে। এদিকে মাংসের চর্বি গলে আগুনের ওপর পড়লে ধোঁয়া তৈরি হয়। সেই ধোঁয়ার সঙ্গে তৈরি হওয়া পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন (পিএএইচ) মাংসের গায়ে জমতে পারে। এই ধরনের যৌগই অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে গেলে ডিএনএ ক্ষতি করতে পারে। তাই মাংস যত বেশি ঝলসে কালো বা পোড়া হয়ে যায়, ততই এসব ক্ষতিকর যৌগের উপস্থিতির আশঙ্কা বাড়ে। পোড়া বা কয়লার মতো কালো অংশ এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে শুধু মাংস নয়, গ্রিল করা শাকসবজির ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শাকসবজিতে মাংসের মতো এইচসিএ তৈরি হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত ধোঁয়া বা আগুনের সরাসরি সংস্পর্শে থাকলে পিএএইচ সহ কিছু ক্ষতিকর পদার্থ সবজির বাইরের অংশেও জমতে পারে। তাই গ্রিল করার সময় অতিরিক্ত পোড়ানো ও ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমিয়ে আনা উচিত। কোন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে? চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত অতিরিক্ত পোড়া মাংস খাওয়ার সঙ্গে বৃহদান্ত্র ও মলাশয়, অগ্ন্যাশয় এবং প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে বিভিন্ন গবেষণায়। শরীরে নিয়মিত অ্যাক্রিলামাইড প্রবেশ করলে ডিম্বাশয় ও জরায়ুর ভেতরের আবরণে হওয়া ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। শুধু ক্যানসার নয়, আরও ঝুঁকি অতিরিক্ত পোড়া খাবার নিয়ে আলোচনার বড় অংশ ক্যানসারকে ঘিরে হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত তাপে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের মানও খারাপ করতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত তেল, লবণ ও পোড়া মাংস নিয়মিত খেলে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। খাবার পুড়ে গেলে যা করবেন খাবারের সামান্য অংশ পুড়ে গেলে কালো বা পোড়া অংশটি বাদ দিয়ে বাকি অংশ খাওয়া যেতে পারে। তবে খাবারের বড় অংশ কালো হয়ে গেলে বা পোড়া গন্ধ ও স্বাদ তীব্র হলে সেটি না খাওয়াই ভালো। আরও পড়ুন সুস্থ থাকতে রান্নায় কোন তেল বেছে নেবেন? যেভাবে রান্না করে খাবার খাওয়া উচিত রান্নার সময় মাঝারি আঁচ ব্যবহার করা, খাবার নিয়মিত নেড়ে দেওয়া এবং অতিরিক্ত সময় রান্না না করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। মাংস গ্রিল বা বারবিকিউ করার ক্ষেত্রে সরাসরি আগুনের সংস্পর্শ কমানো এবং অতিরিক্ত ঝলসে যাওয়া অংশ এড়িয়ে চলা উচিত। আরও পড়ুন স্বাস্থ্যকর হয়েও ঘুম কেড়ে নিতে পারে যেসব খাবার মাঝেমধ্যে খাবার সামান্য পুড়ে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত পোড়া খাবার কমানো, বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ইটিংওয়েল, এনডিটিভি ফুড, আমেরিকান লাইব্রেরি অব মেডিসিন এসএকেওয়াই

আগস্ট ২৯, ২০২৬
শখের নার্সারি থেকে রাখির মাসে আয় লাখ টাকা
শখের নার্সারি থেকে রাখির মাসে আয় লাখ টাকা

শখ থেকে শুরু করে। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর বৃক্ষপ্রেমকে পুঁজি করে সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার আতিফা নাসরিন রাখি। মাত্র এক হাজার টাকার ক্যাকটাস দিয়ে পথচলা শুরু করা তার ‘প্লান্টোলজি’ নার্সারিতে এখন স্থান পেয়েছে হাজার প্রজাতির দেশি-বিদেশি উদ্ভিদ। বাণিজ্যিক রূপ নেওয়া এই নার্সারি থেকে বর্তমানে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে লাখ টাকার কাছাকাছি আয় করছেন এই নারী উদ্যোক্তা। রাখির এই নার্সারিতে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানারকম ফলদ, বনজ, ঔষধি এবং শোভাবর্ধনকারী গাছ। বিশেষ করে বিরল প্রজাতির ইনডোর প্ল্যান্ট ও অর্কিডের প্রতি বৃক্ষপ্রেমীদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার নার্সারিতে আসছেন পছন্দের গাছ কিনতে। গ্রাহকদের মানসম্মত চারা ও সঠিক পরামর্শ দেওয়ার কারণে অল্প সময়েই বিশ্বস্ততা অর্জন করেছেন তিনি। ‘নার্সারিতে রয়েছে ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট, স্যানসেভেরিয়া, অ্যালোভেরা, আগলোনেমা, কোলিয়াস, ট্রেডেস্কান্টিয়া, মনস্টেরা, ফিলোডেনড্রন, মানিপ্ল্যান্ট, বাগানবিলাস, কাঁটামুকুট, অর্কিডসহ নানান ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট, ফুল ও পাতাবাহার গাছ। সব মিলিয়ে রয়েছে ১৫-২০ লাখ টাকা মূল্যের গাছের চারা’ দুই জোড়া ক্যাকটাসের চারা থেকে শুরু শখ থেকে শুরু করা এই উদ্যোক্তার পুরো নাম আতিফা নাসরিন রাখি। তিনি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী গ্রামের ব্যবসায়ী শাকিল খানের স্ত্রী। তার নার্সারির নাম ‘প্লান্টোলজি’। ২০২০ সালে ঘর সাজাতে মাত্র এক হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন দুই জোড়া ক্যাকটাসের চারা। এরপর গাছের প্রতি ভালোবাসা আর নতুন নতুন প্রজাতি সংগ্রহের নেশা ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে যায় উদ্যোক্তা হওয়ার পথে। শখের সেই বাগানই এখন পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক নার্সারিতে। আরও পড়ুন দারিদ্র্য ও অপমান সয়েও সফল বগুড়ার ‘মিষ্টি কুমড়া রানি’ তার নার্সারিতে রয়েছে ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট, স্যানসেভেরিয়া, অ্যালোভেরা, আগলোনেমা, কোলিয়াস, ট্রেডেস্কান্টিয়া, মনস্টেরা, ফিলোডেনড্রন, মানিপ্ল্যান্ট, বাগানবিলাস, কাঁটামুকুট, অর্কিডসহ নানান ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট, ফুল ও পাতাবাহার গাছ। সব মিলিয়ে রয়েছে ১৫-২০ লাখ টাকা মূল্যের গাছের চারা। ‘অনলাইনের পাশাপাশি নার্সারি থেকেও সরাসরি চারা বিক্রি করেন রাখি। ‘প্লান্টোলজি’ নামে তার একটি অনলাইন পেজও রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাগানপ্রেমীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাছের ছবি ও ভিডিও দেখে অর্ডার করেন। পরে কুরিয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় গাছের চারা’ অনলাইনের পাশাপাশি নার্সারি থেকেও সরাসরি চারা বিক্রি করেন রাখি। ‘প্লান্টোলজি’ নামে তার একটি অনলাইন পেজও রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাগানপ্রেমীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাছের ছবি ও ভিডিও দেখে অর্ডার করেন। পরে কুরিয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় গাছের চারা। আরও পড়ুন জামের রস যাচ্ছে বিদেশে, বিচিও ফেলনা নয় শখের এ উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতেও অংশ নিচ্ছেন রাখি। সম্প্রতি রংপুরের একটি বাণিজ্য মেলায় দুটি স্টল নিয়ে অংশ নেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও চারা প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। দর্শনার্থী ও বাগানপ্রেমীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ার পাশাপাশি আশানুরূপ বিক্রিও হয়েছে বলে জানান তিনি। যেন ‘সবুজ স্বর্গ’ সরেজমিন দেখা যায়, নার্সারিতে বিভিন্ন আকারের টব ও ঝুলন্ত পাত্রে সাজানো রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ। ছাউনি ও মাচার নিচে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট, স্যানসেভেরিয়া ও পাতাবাহার। রঙিন পাতার আগলোনেমা, কোলিয়াস, মনস্টেরা ও ফিলোডেনড্রনের পাশাপাশি রয়েছে জেড প্ল্যান্ট, ইকেভেরিয়া ও হাওর্থিয়াসহ বিভিন্ন জাতের সাকুলেন্ট। বৈচিত্র্যময় আকৃতি ও রঙের ক্যাকটাসও নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। ভবিষ্যতে নার্সারির পরিধি আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে রাখির। আলাপকালে এই উদ্যোক্তা জানান, শুরুতে পথচলাটা খুব সহজ ছিল না। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের কারণে আজ তার নার্সারিটি সুদৃশ্য ‌‘সবুজ স্বর্গে’ পরিণত হয়েছে। নার্সারি পরিচালনা ও পরিচর্যায় তিনি স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছেন। আরও পড়ুন ঘর থেকেই গড়ে ওঠে তামান্নার সফলতার সিঁড়ি নার্সারি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবারের সহযোগিতার কথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। তার স্বামী শাকিল খান ও শাশুড়ি সাজেদা বেগম শুরু থেকেই তাকে সহযোগিতা করেছেন। প্রথম দিকে একাই নার্সারির কাজ সামলালেও বর্তমানে দুই থেকে তিনজন কর্মচারী নিয়মিত তার সঙ্গে কাজ করছেন। উদ্যোক্তা রাখির ভাষ্যমতে, গাছের পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে। বিক্রি ভালো হলে মাসিক আয় লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। তবে গাছের ব্যবসায় লাভ করতে হলে ধৈর্য ও নিয়মিত পরিচর্যার বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‌‘প্রতিটি গাছের জন্য আলাদা পরিচর্যা প্রয়োজন। কোন গাছে কতটুকু পানি, কী ধরনের মাটি ও সার প্রয়োজন—এসব বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়েছে। গাছের রোগবালাই শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়।’ আরও পড়ুন জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন তরুণরা, ১০০০ কোটি টাকার তহবিল রাখির মতে, অল্প জায়গা নিয়েও এ ধরনের নার্সারি গড়ে তোলা সম্ভব। বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা পতিত জমি কাজে লাগিয়ে সামান্য প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শুরু করা যায়। সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা করতে পারলে এটি বাড়তি আয়ের ভালো উৎস হতে পারে। বিশেষ করে নারীরা সংসারের কাজের পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন। নার্সারিটি পরিদর্শন করে ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাখির উদ্যোগটি বেশ প্রশংসনীয়। তিনি শখকে কাজে লাগিয়ে একটি সম্ভাবনাময় নার্সারি গড়ে তুলেছেন। এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে বাগান করার আগ্রহও তৈরি করছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।’ আরও পড়ুন ৮০ টাকার ঝুরা গোস্তের খিচুড়ি, ১৫ দিনেই ভাগ্য বদল রাফির কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে ফুল ও শোভাবর্ধক গাছের নার্সারি গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এএইচকিউ/এসআর/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
হাসনাত ভাই দুঃখপ্রকাশ না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিষিদ্ধ: রফিকুল মাদানী
হাসনাত ভাই দুঃখপ্রকাশ না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিষিদ্ধ: রফিকুল মাদানী

বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে দ্রুত দুঃখপ্রকাশ না করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ কোনো ধরনের প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠান করতে পারবেন না। শনিবার (২৯ আগস্ট) সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী এই আলটিমেটাম দেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বি-বাড়িয়ার মানুষ যেমন জামিয়া ইউনুসিয়ার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে কঠোর প্রতিবাদ জানাতে জানে, তেমনি ভুল স্বীকার করলে ক্ষমা করে বুকে টেনে নিতেও পিছপা হয় না।’ আরও পড়ুন হাসনাতকে মুফতি কাসেমী / শাহবাগী সাজতে মাদরাসার ছাত্ররা তোমাদের সঙ্গে মাঠে নামেনি তিনি লেখেন, ‘বি-বাড়িয়ায় যদি কোনোভাবে খবর প্রচার হয়—জামিয়ায় কোনো ঝামেলা হয়েছে, জামিয়ার বিরুদ্ধে কিছু ঘটছে—সাথে সাথে দোকানদার থেকে নিয়ে কর্মচারী, কৃষক, শ্রমিক, এমনকি মহিলারা পর্যন্ত জামিয়াকে রক্ষায় যার ঘরে যা আছে তা নিয়ে ছুটে আসে হ্যাঁ, এটা তাদের প্রাণের জামিয়া!’ রফিকুল ইসলাম মাদানী লেখেন, ‘জামিয়া নিয়ে তাদের আবেগটা ভিন্ন। এখানে যদি হাত দেওয়া হয়, তারা কোনোভাবেই সহ্য করে না! এবার আসি এনসিপি বা হাসনাত সাহেবের বিষয়ে। হাসনাত ভাই, ঐ বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখপ্রকাশ না করলে বি-বাড়িয়ায় কোনো প্রোগ্রাম করতে পারবে না—এটা পারবে না লিখে রাখেন, ফাইনাল!’ ‘আর যদি কেউ হাসিনা স্টাইলে বি-বাড়িয়ায় কিছু করতে চায়, উপায় থাকবে না। তখন শুধু বি-বাড়িয়া না, সারাদেশ উত্তাল হবে! কিন্তু উনি যদি কিছুক্ষণের মধ্যেই এই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে, বিষয়টা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বি-বাড়িয়ার মানুষ আঘাত লাগলে যেমন উত্তপ্ত হয়ে যায়, তারা ক্ষমাও করতে জানে। এবং ক্ষমা করলে বুকে টেনে নিতেও জানে।’ আরও পড়ুন দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সজাগ থাকো, কওমি শিক্ষার্থীদের রাশেদ খাঁন রফিকুল ইসলাম লেখেন, ‘আমি বি-বাড়িয়ার সব জানি, বর্তমানে বি-বাড়িয়ার জামাই তো, সব বুঝে গেছি! তবে যারা হাসানাত ভাইয়ের শরীর নিয়ে, কালার নিয়ে উল্টাপাল্টা লিখলেন, বললেন—যদি উনি ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন, তখন তারা আল্লাহর কাছে কী জবাব দিবেন?’ ‘আমি জানি উনার শরীর নিয়ে উল্টাপাল্টা কথাগুলো কোনো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে না! তবে দেখুন, আমরা সুশীল সাজা দলের লোক না। আমরা সবসময় বি-বাড়িয়ার পাশে থাকি ছিলাম আছি। অতএব উনার শরীর নিয়ে লিখালিখি করা লোকদের বলব আপনারা কাজটা ঠিক করেননি,আশাকরি দুঃখ প্রকাশ করবেন আপনাদের স্ব স্ব আইডি থেকে,আমরা নায়েবে নবী আমাদের প্রতিবাদও সুন্দর হওয়া চাই!’ তিনি আরও লেখেন, ‘সর্বশেষ হাসানাত ভাইয়ের প্রতি আহ্বান থাকবে— আপনি দ্রুত সময়ের মধ্যে দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টা শেষ করে দিন। এই মানুষগুলো আপনাকে ছোট করে কিছু পেতে চায় না। এরা আপনাকে মোহাব্বত করত। আপনি ভুল বুঝতে পারলে, শুদরে গেলে, এখনও করবে!’ এমআরএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য, রাতে বাসায় মিললো যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ
পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য, রাতে বাসায় মিললো যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ

রাজধানীর হাজারীবাগের চর ওয়াশপুর এলাকার একটি বাসায় মোহাম্মদ ইমরান হোসেন (২৭) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত দেড়টার দিকে মৃত ঘোষণা করে। ইমরান হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার ভগ্নিপতি রেজাউল ইসলাম জানান, আমার শ্যালক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতো। সে হাজারীবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো। আগে ওই বাসায় বাবা-মাও থাকতেন। বাবা মা পরে গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে মনমালিন্য হয়। এটা নিয়ে অভিমান করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়। আরও পড়ুন ‘সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে রান্নাঘরে গলায় ফাঁস দেন মা’ পরে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিরি জানান, মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। কেএজেডআইএ/এমআইএইচএস

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছয় মাসে সরকারের কোনো সফলতা নেই: এবি পার্টির চেয়ারম্যান
ছয় মাসে সরকারের কোনো সফলতা নেই: এবি পার্টির চেয়ারম্যান

সন্ত্রাস বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধ, বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় গত ছয় মাসে সরকারের কোনো সফলতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট: জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা আয়োজন করে এবি পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু গত ছয় মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। আরও পড়ুন হাসনাত আবদুল্লাহর যে বক্তব্যে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিনি বলেন, কথা ও কাজে মিল না থাকার কারণে সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির বদলে দিন দিন বেকার সমস্যাকে প্রকট করে তুলছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে বেকারত্বের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য আরও বাড়তে থাকবে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, মানুষের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বাড়তে থাকলে সরকার জনসমর্থন হারাবে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, সরকার অজনপ্রিয় হয়ে পড়লে ক্রমশ স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে ওঠে এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে সুশাসন ও গণতন্ত্র রক্ষায় আবারও সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন অনিবার্য হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দেওয়ায় গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ নিয়ে জনমনে অনাস্থা বাড়ছে। আরও পড়ুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গান বন্ধের ইস্যুতে হাসনাতের সঙ্গে যে কথা হলো মাদানীর সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস, কালক্ষেপণ কিংবা রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই। আলোচনা সভায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান নূরসহ মহানগরের নেতারা বক্তব্য দেন। মহানগর যুগ্ম সদস্য সচিব যায়েদ হাসান চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব মো. জাবেদ ইকবাল, চট্টগ্রাম মহানগর নেতা আজগর হোসাইন, সঞ্জয় চৌধুরী বিশু, সুমন চৌধুরী, আরশাদ হোসাইন, সোহরাব হোসেন পিয়াস প্রমুখ। এমআরএএইচ/কেএসআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
কেমন আছেন এক বছর আগে ভাইরাল হওয়া সেই বাবা-মেয়ে
কেমন আছেন এক বছর আগে ভাইরাল হওয়া সেই বাবা-মেয়ে

ঠিক এক বছর আগে বাবা-মেয়ের আবেগঘন একটি মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওটি দেখে অনেকেই চোখের জল ফেলেছিলেন। নেটিজেনরা তাদের প্রশংসা করেছিলেন। ছোট্ট একটি ঘরোয়া ভিডিও এত দ্রুত যে ছড়িয়ে পড়বে, তা হয়তো ভাবেননি তারা। নওগাঁর মেয়ে লামিয়া জান্নাত ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ভিডিওটি সম্পর্কে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছিলেন।জানিয়েছিলেন নিজের অনুভূতি। ঠিক এক বছর পর সেই ভিডিও নিয়ে ২৮ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে পোস্ট করেছেন লামিয়া জান্নাতের ছোট বোন। তিনি মালিহা’স প্যাশন নামের পেজ থেকে জানিয়েছেন সেই বাবা-মেয়ের বর্তমান জনপ্রিয়তার কথা। পেজটিতে ভিডিওটি সংযুক্ত করে লেখা হয়েছে, ‘ঠিক ১ বছর আগে এই ভিডিও থেকেই হাজার হাজার মানুষ আমাদের বাবাকে চিনেছিল। ভিডিওটা আমি খুব সাধারণভাবেই করেছিলাম। কারণ আমরা প্রায় এমন করতাম। আরও পড়ুন বাবা-মেয়ের আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল, ভাসছে প্রশংসায় সেদিন আমার মেজো আপু ঢাকা থেকে বাবা-আম্মুকে না জানিয়ে শুধু আমাকে জানিয়ে এসে তাদের সারপ্রাইজ দিয়েছিল। আর সেটা আমরা আপলোড করার পর সবাই অনেক পছন্দ করে। সেই ভিডিওর এক বছর হয়ে গেল। কিন্তু সবাই এখনো বাবাকে একই ভাবে মনে রেখেছে এবং ভালোবাসা দেয়। বাবা এখনো প্রায় প্রতিদিন বাহির থেকে এসে আমাদের বলে যে, রাস্তা-ঘাটে বা বাবার দোকানে এখনো অনেকেই আসে বা দেখা করে বাবার এই ভিডিওর কথা বলে। তাকে সম্মান করে। আবার অনেকে বলে তারা নাকি বাবার মতো বাবা হতে চায়। অনেক বাবা হয়তো আমাদের বাবাকে দেখে তার মতো হওয়ার জন্য উৎসাহিত হয়। আপনারা সবাই আমাদের বাবার জন্য দোয়া করবেন। যেন সে সব সময় এমন হাসিখুশি, সুস্থ থাকে। আর আমাদের সাথে ভালো থাকে।’ এসইউ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
প্রেমের সিনেমা বন্ধ চাওয়া আইনজীবী নিজেই রোমান্টিক সিনেমার ভক্ত
প্রেমের সিনেমা বন্ধ চাওয়া আইনজীবী নিজেই রোমান্টিক সিনেমার ভক্ত

প্রেমনির্ভর সিনেমা ও নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে জনস্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। তবে, অবাক করা ব্যাপার হলো, এই আইনজীবী নিজেই রোমান্টিক সিনেমা, প্রেমনির্ভর গানের ভক্ত। এই আইনজীবীর মেটা ভেরিফায়েড একটি ফেসবুক আইডি রয়েছে। আইডির টাইমলাইনে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন সময় মাহমুদুল হাসান মামুন যেমন রোমান্টিক সিনেমা দেখেছেন বা গান শুনেছেন, তেমনি আনন্দের সঙ্গে নিজের আইডিতে সে কথা এবং সিনেমা দেখার অনুভূতিও ব্যক্ত করেছেন সাবলীলভাবেই। ৩১ জুলাই নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ছবি শেয়ার করে পোস্ট দেন তিনি। ওই পোস্টে মামুন জানান, ইংরেজি ভাষার ড্রামা সিরিজ ‘দ্য গ্রেট অ্যান্ড পাওয়ারফুল জিনি’ (রোমান্টিক ঘরানার) দেখে তিনি আনন্দিত বোধ করছেন। এর আগে, গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি আরেক পোস্টে জানান, হলিউডের সমালোচিত সিনেমা ‘দ্য ডিকটেটর’ দেখেছেন তিনি। অশ্লীলতায় ভরা এ সিনেমা তার কাছে অসাধারণ লেগেছে বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেছেন। তার আগে, ওই বছরের ৩১ আগস্ট ছবিসহ এক পোস্টে তিনি বলিউডের একটি গান শোনার কথা জানান। শুধু গানই নয়, সেটি যে সিনেমার সেটিও রোমান্টিক। এমনকি সিনেমাটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্পে নির্মিত। ওই মাসের ৮ তারিখ তিনি আরেক পোস্টে অন্য একটি বলিউড গান শোনার কথা উল্লেখ করে যেটায় অভিনয় করেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা অক্ষয়, সুনীল শেঠি ও অভিনেত্রী শিল্পা শেঠী। সেটিও ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনীর ওপর নির্মিত। গত বছরের ৫ আগস্ট তার দেওয়া আরেকটি পোস্টে দেখা যায়, তিনি বলিউডের ‘রাধে শ্যাম’ সিনেমাটি লিখেছেন এবং তার কাছে এটিকে খুবই কমপ্লিকেটেড বা জটিল লাভ স্টোরি মনে হয়েছে বলে জানান। ওই বছরের ৯ মে আরেকটি পোস্টে ছবি দিয়ে তিনি জানান, ছুটির দিনে তিনি হলিউডের ‘স্টারডাস্ট’ সিনেমাটি দেখেছেন। সেটি তার কাছে অসাধারণ লেগেছে বলেও উল্লেখ করেন এই আইনজীবী। গত বছরের মার্চ মাসের ২২ তারিখ তার আরেকটি পোস্ট থেকে দেখা যায়, মামুন হলিউডের ‘দ্য ট্যুরিস্ট’ সিনেমাটি দেখেছেন এবং সেটি তার কাছে সবসময়ই অসাধারণ লাগে বলে জানিয়েছেন। বিশ্বখ্যাত অভিনেতা জনি ডেপ ও অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি অভিনীত এই সিনেমাটিও রোমান্টিক ঘরানার। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে প্রেমনির্ভর সিনেমা ও নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে নোটিশটি পাঠান। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। আরও পড়ুন প্রেম নির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ বন্ধে আইনি নোটিশ নোটিশে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে কেবল প্রেম এবং মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের ব্যাপক আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কনটেন্টের ক্রমাগত সম্প্রচারের ফলে চরম সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ারের প্রতি মারাত্মকভাবে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। এছাড়া এসব নাটক ও সিনেমায় পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সমাজের ঐতিহ্যবাহী নৈতিক কাঠামোকে চরমভাবে ধ্বংস করছে। নোটিশে বলা হয়, মূলধারার গণমাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শন সামাজিক নৈরাজ্য সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে এবং দেশে পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যুবসমাজ এবং সাধারণ জনগণকে এই নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখা সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এখন চূড়ান্ত প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে আইনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মেনে চলা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য। অন্যদিকে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও, তা শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে রয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। নোটিশে দাবি করা হয়, দেশের প্রকৃত সংস্কৃতি রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে কেবল প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এর পরিবর্তে দেশপ্রেমিক ও নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দিতে হবে। নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে, জননৈতিকতা ও জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করা হবে বলে নোটিশে বলা হয়। এএমএ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২৬ ঘণ্টা ধরে ৫০ কিলোমিটার যানজট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২৬ ঘণ্টা ধরে ৫০ কিলোমিটার যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২৬ ঘণ্টা ধরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট রয়েছে। কুমিল্লার চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে এ যানজটে আটকে আছে শত শত যানবাহন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর থেকে শনিবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলা এ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর ব্রিজে সংস্কারকাজের কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারকাজ চলায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের একটি অংশ বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহনের চাপ বেড়ে গিয়ে একপর্যায়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। সড়ক বিভাগ জানায়, আষাড়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। দিন দিন গর্তটি বড় হয়ে ওঠায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সেখানে সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ। সংস্কারকাজ চলাকালে মহাসড়কের দুই লেনের একটি লেন বন্ধ রেখে অন্য এক লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয়। ফলে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে দীর্ঘ যানজটে রূপ নেয়। শনিবার অতিরিক্ত যানবাহন এক লেন দিয়ে পার হতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। এতে মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে দীর্ঘ যানজটে বিদেশগামী যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা স্টার লাইন বাসের চালক ইয়াহিয়া জানান, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে যানজটে আটকে আছি। যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সেন্টমার্টিন পরিবহনের চালক হুমায়ুন আজাদ বলেন, কুমিল্লার চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় আট ঘণ্টা যাবৎ যানজটে আটকে আছি। টোল প্লাজায় আটকে থাকা মাহাবুব নামের এক বাসযাত্রী বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আমরা একই স্থানে আটকে আছি। কী কারণে এত দীর্ঘ যানজট, তা সাধারণ যাত্রীদের জানা নেই। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি প্রেম দাস রায় বলেন, দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ আষাড়িয়ারচর ব্রিজ এলাকায় সড়ক সংস্কার। মহাসড়কের একটি লাইন বন্ধ থাকায় এ দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনের চেষ্টা করছে। ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে শুক্রবার সকাল ৮টায়। তখন থেকেই ধীরে ধীরে যানজটের শুরু হয়। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি সফিউল ইসলাম জানান, আষাড়িয়ারচর এলাকায় মহাসড়কের দুই লেনের একটি লেনে সড়ক বিভাগ জরুরি সংস্কারকাজ করায় যানবাহন পর্যায়ক্রমে এক লেন দিয়ে চলাচল করছে। এ কারণে ওই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে ও যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করছে। এফএ/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মসজিদের ভেতর থেকে মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার
মসজিদের ভেতর থেকে মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর দুমকীতে মসজিদের ভেতরের একটি কক্ষ থেকে মো. সাইম (২০) নামে এক মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ি মসজিদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাইম পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের ছোট জামুরা এলাকার মৃত জব্বার মৃধার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মসজিদের দরজা খোলা দেখতে পান এক মুসল্লি। পরে তিনি ভেতরে ঢুকে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের থাকার জন্য নির্ধারিত কক্ষে যান। সেখানে খাটের ওপর সাইমকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সেখানে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মসজিদের ওই কক্ষের ফ্যানের হুকের সঙ্গে একটি দড়ি লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সাইমের গলায় দাগও দেখা গেছে। এসব বিষয় সামনে রেখে তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ সাইমের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মাহমুদ হাসান রায়হান/কেজে/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গান বন্ধের ইস্যুতে হাসনাতের সঙ্গে যে কথা হলো মাদানীর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গান বন্ধের ইস্যুতে হাসনাতের সঙ্গে যে কথা হলো মাদানীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘গান বন্ধ’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন গাজীপুর বোর্ডবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রধান খতিব হাফেজ কারী মাওলানা আবদুর রহিম আল মাদানী। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে হাফেজ কারী মাওলানা আবদুর রহিম আল মাদানী এ নিয়ে তার ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘গান বন্ধের’ ইস্যুতে হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে আমার ফোনালাপ। সকাল তখন ৭টা। ঘুম থেকে উঠে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি-হাসনাত আবদুল্লাহ ভাই আমার হোয়াটসঅ্যাপে কল করছেন। আমি কল রিসিভ করলাম।’ রহিম আরও লেখেন, ‘সালাম ও কুশল বিনিময়ের পর তিনি গত দুদিন ধরে তাঁকে নিয়ে করা বিভিন্ন পোস্ট, সমালোচনা এবং ফেসবুকে তাঁকে উদ্দেশ্য করে যে গালমন্দ হচ্ছে—সেসব বিষয়ে কিছুটা দুঃখপ্রকাশ করলেন। নিজের মনের ব্যথার কথাও আমার সঙ্গে শেয়ার করলেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে চাইলেন।’ আরও পড়ুন হাসনাতকে মুফতি কাসেমী / শাহবাগী সাজতে মাদরাসার ছাত্ররা তোমাদের সঙ্গে মাঠে নামেনি তিনি লেখেন, ‘সম্ভবত আমার লেখা তাঁর চোখে পড়েছিল। আর সেই লেখাটি দেখেই তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি তাঁকে পরিষ্কার করে বলেছি—ভাই, আমার লেখায় আপনার প্রতি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল না। আমি আমার হৃদয়ের কথাটিই বলেছি। একজন আপন মানুষকে যেভাবে নিজের অনুভূতির কথা বলা যায়, আমি সেভাবেই বলেছি।’ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি তাঁকে আরও বলেছি—রাজনীতিতে ডানপন্থা ও বামপন্থা—দুটি ভিন্ন প্রবাহ রয়েছে। মানুষ আপনাকে ডানপন্থী হিসেবেই চিনেছে। আপনার রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে তাওহিদী ও ডানপন্থী জনতার যে বিশাল অবদান রয়েছে, সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’ ‘তাই আপনি যখন কোনো বক্তব্যের কারণে সেই জনতার একটি বড় অংশের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন, তখন তাদের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে দুঃখ প্রকাশ করাটাই একজন জননেতার সৌন্দর্য। হাসনাত ভাই আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন—যদি গান-বাজনা বন্ধ করার পক্ষে সরাসরি কথা বলা হয়, তাহলে একটি মহল প্রচার করতে পারে যে বাংলাদেশে মৌলবাদীদের উত্থান হয়েছে।’ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি তাঁকে বলেছি—ভাই, এই ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশকে ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গি’ কিংবা ‘উগ্রপন্থী’ রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা নতুন কোনো বিষয় নয়। ইসলাম ও ইসলামপন্থী জনগোষ্ঠীকে ঘিরে এই বয়ান বহুদিন ধরেই প্রচলিত। আপনি গান-বাজনার বিরুদ্ধে কথা বললেন বলেই বাংলাদেশ জঙ্গি রাষ্ট্র হয়ে যাবে—এমন নয়। বরং আমাদের উচিত সত্যকে সত্য বলা এবং দেশের মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো।’ আবদুর রহিম বলেন, ‘তিনি আরও বললেন এই দায়িত্ব আলেম-ওলামা বা সাধারণ মানুষ কেন নেবে? রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন এর দায়িত্ব নেবেন না? আমি বলেছি—রাষ্ট্রের দায়িত্ব রাষ্ট্র পালন করবে, এটা ঠিক। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আপনার বক্তব্যেরও একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। তাই আপনার বক্তব্যে যদি আপনার দীর্ঘদিনের সমর্থকরা কষ্ট পেয়ে থাকে, তাহলে তাদের অনুভূতিটাও আপনাকে বিবেচনায় নিতে হবে।’ ‘তিনি আমাকে আরও বললেন—এখন যদি তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, তাহলে অন্য পক্ষ বলতে পারে, ‘ডানপন্থীদের চাপে পড়ে তিনি তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।’ ‘আমি তাঁকে বলেছি—ভাই, সত্য কথা বলার জন্য কারও চাপের প্রয়োজন হয় না। আপনি যেটিকে সঠিক মনে করেন, সেটিই বলুন। কিন্তু আপনার রাজনৈতিক শক্তির একটি বড় অংশ যে তাওহিদী জনতা—এই বাস্তবতাটিকে কখনো উপেক্ষা করবেন না।আর সর্বশেষ আমি তাঁকে যে কথাটি বলেছি, সেটি অত্যন্ত আপন মনে করেই বলেছি—হাসনাত আবদুল্লাহ ভাই, আমরা আপনাকে রাশেদ খান মেনন কিংবা হাসানুল হক ইনুর রাজনৈতিক ধারার একজন হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা আপনাকে শহীদ ওসমান হাদীর সাহস, দেশপ্রেম ও স্পষ্টবাদিতার একজন প্রতিচ্ছবি হিসেবেই দেখতে চাই।’ আরও পড়ুন দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সজাগ থাকো, কওমি শিক্ষার্থীদের রাশেদ খাঁন তিনি লেখেন, ‘আপনি শিক্ষিত মানুষ। আপনি তরুণ প্রজন্মের একজন পরিচিত মুখ। আপনার সামনে অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করবেন না। আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। একটি রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা যখন বাড়তে থাকে, তখন জনতার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া সেই জনপ্রিয়তার জন্য বড় সংকেত।’ ‘মনে রাখবেন—জনতাই আপনাদের শক্তি। স্বৈরাচার আপনাদের শত্রু। নৈরাজ্যবাদীরা আপনাদের শত্রু। ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজরা আপনাদের শত্রু। এত শত্রুর ভিড়ে বাংলাদেশের তাওহিদী জনতাই আপনাদের একটি বড় শক্তি। সুতরাং সেই জনতাকে হারিয়ে ফেলবেন না। দুই নৌকায় পা রেখে বেশিদিন পথ চলা যায় না।’ পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘আপনারা যদি সত্যিই বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চান, তাহলে আল্লাহর ওপর ভরসা করুন, তাওহিদী জনতাকে সঙ্গে নিন, ন্যায় ও ইনসাফের পথে চলুন এবং ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। কারণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে রাজনৈতিক শক্তি যত বড়ই হোক, একসময় মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে।’ ‘প্রিয় হাসনাত ভাই, আমরা আপনার পতন চাই না। আমরা আপনার ব্যর্থতা চাই না। আমরা চাই—আপনি সফল হোন, দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করুন এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ান। আল্লাহ তাআলা আপনার ভবিষ্যৎ মঙ্গলময় করুন। আপনার কর্ম ও উদ্যোগ কবুল করুন। আপনার সাহস, স্পৃহা ও শক্তিমত্তা বৃদ্ধি করুন। দেশের মানুষের অন্তরে আপনার জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করুন এবং আপনাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল রাখুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।’ ‘হাফেজ কারী মাওলানা আবদুর রহিম আল মাদানীপ্রধান খতিব, গাজীপুর বোর্ডবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদপ্রধান খতিব, ঐতিহাসিক আম্বর শাহ শাহী জামে মসজিদ, কাওরান বাজার, ঢাকাসভাপতি, গাজীপুর ইমাম পরিষদপ্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, জামিয়া মাদানিয়া আরাবিয়া, গাজীপুর’ এমআরএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
দ্বিতীয় সন্তান নেবেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া? যে কথায় লজ্জায় লাল অভিষেক
দ্বিতীয় সন্তান নেবেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া? যে কথায় লজ্জায় লাল অভিষেক

বলিউডের আলোচিত তারকা দম্পতি অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ২০০৭ সালে বিয়ের পর ২০১১ সালে তাদের সংসারে আসে কন্যাসন্তান আরাধ্যা বচ্চন। বর্তমানে আরাধ্যার বয়স ১৪ বছর। এর মধ্যেই ফের সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া-এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এই গুঞ্জনের পেছনে নতুন কোনো ঘোষণা নয়, বরং কয়েক বছর আগের একটি মজার ভিডিও। রিতেশ দেশমুখের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘কেস তো বনতা হ্যায়’র পুরোনো একটি পর্বের ভিডিও সম্প্রতি নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে দ্বিতীয় সন্তান ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে রসিকতায় মেতে উঠতে দেখা যায় রিতেশকে। ভাইরাল ভিডিওতে অভিষেককে উদ্দেশ্য করে রিতেশ বলেন, ‘অমিতাভজি, ঐশ্বরিয়া, আরাধ্যা এবং আপনি অভিষেক-সবার নামই “এ” দিয়ে শুরু। তাহলে জয়া আন্টি ও শ্বেতা কি আলাদা কিছু করেছিলেন?’ আরও পড়ুন স্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছায় তৌসিফের আবেগঘন বার্তা রিতেশের এমন প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলেন অভিষেক। জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা তো তাদেরই জিজ্ঞেস করতে হবে। তবে সম্ভবত এটি আমাদের পরিবারের একটি ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে-অভিষেক, আরাধ্যা...।’ এরপরই রিতেশ মজার ছলে জানতে চান, ‘আর আরাধ্যার পর?’ রিতেশের প্রশ্নের জবাবে অভিষেক বলেন, ‘দেখা যাক, পরের প্রজন্ম আসলে তখন ভাবা যাবে।’ অভিষেকের এমন উত্তরে থেমে থাকেননি রিতেশ। নিজের দুই ছেলে রিয়ানের ও রাহিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এত অপেক্ষা কেউ করে? আমায় দেখুন, রিতেশ, রিয়ান, রাহিল।’ রিতেশের এমন রসিকতায় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে হাসতে দেখা যায় অভিষেককে। এরপর মজা করে অভিনেতাকে বলেন, ‘বয়সের একটু তো খাতির করো, রিতেশ। আমি তোমার থেকে বড়।’ আরও পড়ুন নেপালে দুর্যোগ, দেশে ফিরতে পারছেন না তাসরিফ পুরোনো এই ভিডিওটিই সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে অভিষেকের ‘পরের প্রজন্ম’ মন্তব্যকে ঘিরে কেউ কেউ তার ও ঐশ্বরিয়ার দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করছেন। তবে ভিডিওটি পুরোনো এবং পুরো কথোপকথনটিই ছিল হাসি-ঠাট্টার ছলে। অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার বিষয়ে নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে ভাইরাল ভিডিও থেকে নতুন করে ছড়ানো এই আলোচনা আপাতত জল্পনা-কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ। এমএমএফ/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মেয়েরা সোনার গহনা পছন্দ করে কেন?
মেয়েরা সোনার গহনা পছন্দ করে কেন?

সোনার তৈরি গহনা মেয়েদের সাজসজ্জায় বহুল ব্যবহৃত এবং পছন্দের শীর্ষে থাকে সব সময়। বয়স, সময় কিংবা হাল ফ্যাশনের যুগেও সোনার প্রতি নারীর আকর্ষণ যেন কমে না বরং সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও বাড়ছে। তবে কেন মেয়েরা সোনা এতবেশি পছন্দ করে সেটা নিয়ে রয়েছে নানান আলোচনা। আরও পড়ুন আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ও রুপার গহনা যারা বছরের পর বছর ছোট ছোট সঞ্চয় করে সোনার গহনা কিনে রেখেছেন কিংবা বিয়ের সময় পরিবারের কাছ থেকে প্রচুর সোনার গহনা উপহার পেয়েছেন, বর্তমান বাজারে তাদের সম্পদের মূল্যও বেড়েছে। কারণ ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ভরি প্রতি আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি। সোনার বর্তমান বাজারমূল্য সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট সোনার গহনা ও রুপার গহনার দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে দাম কার্যকর। সে হিসাবে দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার ওপরে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার গহনার দাম প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। আরও পড়ুন সোনার গহনার দাম আরও বাড়লো, ভরি আড়াই লাখ ছুঁইছুঁই বিশ্বে কোথা থেকে আসে এতবেশি সোনা? সোনা উৎপাদনের শীর্ষে রয়েছে চীন। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনা উৎপাদনকারী এবং বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ আসে এখান থেকে। রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রও শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। আফ্রিকার ঘানা, মালি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশও বৈশ্বিক সোনা সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নারীদের সোনার প্রতি এতবেশি আকর্ষণ কেন? কেউ বলেন, সোনা নারীর সৌন্দর্য বাড়ায়। কারও কাছে এটি ভবিষ্যতের নিরাপদ সম্পদ। আবার কারও কাছে সোনা বংশপরম্পরায় চলে আসা ঐতিহ্য ও আবেগের সংমিশ্রণ। বলা যায় সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মর্যাদা এবং আর্থিক নিশ্চয়তা মূলত সোনার প্রতি নারীদের আকর্ষণের অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি। আরও পড়ুন বিশ্ববাজারে একদিনে ১০০ ডলার বাড়লো সোনার দাম, বাংলাদেশে কত? নারীর সৌন্দর্যের সঙ্গে সোনার সম্পর্ক সোনার গহনার সবচেয়ে আকর্ষণ হলো এটির উজ্জ্বলতা ও দীপ্তি। পোশাক, ত্বকের রং কিংবা সাজের ধরন অনুযায়ী সোনার গহনা পরে থাকেন নারীরা। বিয়ে, উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ কোনো আয়োজনে সোনার গহনার ব্যবহার এখনও সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। আমাদের দেশে বিয়েতে সোনা ছাড়া বলতে গেলে চলেই না। সোনা শুধু গহনার জন্য নয়, এক ধরনের সঞ্চয়ও নারীদের কাছে সোনার আরেকটি বড় আকর্ষণ আর্থিক মূল্য। ব্যাংক হিসাব বা অন্য অনেক সম্পদের মতো সোনা চোখের সামনে রাখা যায় এবং প্রয়োজনে বিক্রি কিংবা বন্ধক রেখে অর্থ সংগ্রহ করা যায়। বিশেষ করে পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতি, চিকিৎসা ব্যয় কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সংকটে সোনার গহনা তাৎক্ষণিক অর্থের উৎস হিসেবে কাজে লাগে। ফলে অনেক নারী সোনাকে শুধু অলঙ্কার হিসেবে নয়, সঞ্চয়ের একটি মাধ্যম হিসেবেও দেখেন। সোনার প্রতি নারীদের আকর্ষণকে শুধু সৌন্দর্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। আরও পড়ুন ‘সাদা সোনা’ কি সত্যিই সোনা, এর দাম এত বেশি কেন? বিয়ে ও পারিবারিক ঐতিহ্যে সোনার গহনা জরুরি বিয়ের সঙ্গে সোনার গহনার সম্পর্ক বহু পুরোনো। বিয়েতে কনেকে সোনার গহনা উপহার দেওয়া, পরিবারের পুরোনো গহনা নতুন প্রজন্মকে দেওয়া কিংবা মায়ের গহনা মেয়ের বিয়েতে ব্যবহার করা এসব এখনও প্রচলিত রীতি-নীতি। ফলে একটি সোনার গহনার সঙ্গে শুধু এর বাজারমূল্য নয়, জড়িয়ে থাকে পারিবারিক স্মৃতি ও আবেগ। সামাজিক মর্যাদার প্রতীক সোনার গহনা একসময় সোনার পরিমাণকে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হতো। এখন সেই ধারণা কিছুটা বদলালেও সোনা এখনো অনেকের কাছে আভিজাত্য ও সম্পদের প্রতীক হয়ে আছে। বিশেষ অনুষ্ঠান বা বিয়েতে ভারী সোনার গহনা পরার প্রবণতা এখনও লক্ষ্য করা যায়। আরও পড়ুন সোনা এখনই কিনবেন না অপেক্ষা করবেন? নজর রাখবেন যেদিকে টেকসই হওয়া সোনার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য সোনার গহনায় সহজে মরিচা ধরে না বা ক্ষয় হয় না। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন সোনার গহনার সৌন্দর্য ও মূল্য ধরে রাখা সম্ভব। ফলে বলা যায় শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, এখন অন্যান্য কারণেও নারীদের পছন্দের শীর্ষে সোনার গহনা। সূত্র: বাজুস, ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল এসএনআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বাদাম যেভাবে ব্যবহার করবেন
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বাদাম যেভাবে ব্যবহার করবেন

ত্বকের যত্নে আদিকাল থেকেই প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাকৃতিক রূপচর্চা ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় বাদামও হতে পারে উপকারী একটি উপাদান। ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিকভাবে ব্যবহার করলে রূপচর্চায় বাদামকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিন কেয়ার ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী শাহীনা আফরিন মৌসুমীর মতে, নিজের ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে বাদাম ব্যবহার করতে পারলে ত্বককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও সতেজ রাখা সম্ভব। তবে প্রাকৃতিক উপাদান হলেও সবার ত্বকে একইভাবে মানানসই নাও হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া জরুরি। আসুন জেনে নেওয়া যাক ত্বক অনুযায়ী বাদাম তেল যেভাবে ব্যবহার করলে উপকার পাবেন- সানবার্ন বা রোদে পোড়া ভাব দূর করতে গোলাপজলে ভেজানো বাদামের পেস্টের সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর স্বাভাবিক পানি দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এতে রোদে পোড়া ছোপ ছোপ দাগ কমে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। ব্রণ দূর করতে ৫-৬টি বাদাম, কিছুটা মুগ ডাল ও নিমপাতার রস একসঙ্গে ভালোভাবে পেস্ট করে নিন। এবার মিশ্রণটি পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বকের ব্রণ দূর করতে সাহায্য করবে এবং বাদামের কারণে ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এছাড়া এটি ত্বকের ক্ষতি না করেই ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করবে। ত্বকের বলিরেখা দূর করতে ২ টেবিল চামচ গরম দুধে ৫-৬টি বাদাম ভিজিয়ে রেখে পেস্ট বানান। এর সঙ্গে ডিমের কুসুম ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে এলে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও টানটান ভাব বজায় থাকে। ডার্ক সার্কেল বা চোখের পরিচর্যায় চোখের চারপাশের কালো দাগ ও সূক্ষ্ম বলিরেখা কমাতে বাদাম তেল দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করুন। এছাড়া বাদাম পেস্টের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে নিয়মিত চোখে লাগালেও ডার্ক সার্কেল কমে যায়। বাদাম ও দুধে তৈরি করুন ঘরোয়া বডি স্ক্রাব প্রাকৃতিক বডি স্ক্রাবার ও মেকআপ রিমুভার বাদাম পেস্টের সঙ্গে সমপরিমাণ বেকিং সোডা ও গরম দুধ মিশিয়ে বডি স্ক্রাব তৈরি করুন। গোসলের সময় ব্যবহারে ত্বক নিমেষেই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এছাড়া বাদাম তেল খুব ভালো মেকআপ রিমুভার হিসেবেও কাজ করে। স্ট্রেচ মার্কস কমাতে টকদই, সমপরিমাণ মধু ও বাদাম পেস্ট মিশিয়ে হালকা গরম করে নিন। এটি স্ট্রেচ মার্কের স্থানে ২০-২৫ মিনিট রেখে হালকা ঘষে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে দাগ কমে ত্বক হবে মসৃণ ও ঝলমলে সুন্দর। আরও পড়ুন শরতে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পাওয়ার ৬ টিপস বাদাম ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে। ত্বকের যত্নে বাদাম বেশ উপকারী একটি উপাদান। তবে সব ত্বকে একইভাবে ব্যবহার না করে ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করাই ভালো। আরও পড়ুন ছোট নখে সাদামাটা সাজে মিলবে গ্ল্যামার নিয়মিত ও সঠিকভাবে ত্বকের যত্ন নিন। কারণ সুন্দর ত্বক শুধু সৌন্দর্যের পরিচয় নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসএকেওয়াই

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মধ্যবিত্ত কেন ক্রমেই দরিদ্র হয়ে পড়ছে?
মধ্যবিত্ত কেন ক্রমেই দরিদ্র হয়ে পড়ছে?

মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারের ব্যাগটি একটু হালকা হয়ে আসে। ফ্রিজে খাবার আছে, কিন্তু আগের মতো বৈচিত্র্য নেই। সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়ানোর স্বপ্ন আছে, কিন্তু টিউশন ফি বাড়ছে। চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সঞ্চয়ের হিসাব নড়বড়ে হয়ে যায়। বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, যাতায়াত, বাজার—সব খরচ মিটিয়ে মাস শেষে হাতে যা থাকে, তা দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ভাবা কঠিন। আর কোনো আকস্মিক বিপদ এলে—অসুস্থতা, চাকরি হারানো, ব্যবসায় ক্ষতি—সেই পরিবারটি এক লাফে মধ্যবিত্তের নিরাপদ সীমা পেরিয়ে অনিশ্চয়তার দিকে চলে যেতে পারে। এই মানুষগুলো বাইরে থেকে হয়তো এখনো ‘মধ্যবিত্ত’। কিন্তু তাঁদের জীবনযাত্রার ভেতরে ক্রমেই বাড়ছে নিম্নমধ্যবিত্তের উদ্বেগ। প্রশ্ন হলো, মধ্যবিত্ত কি সত্যিই ক্রমেই দরিদ্র হয়ে পড়ছে? বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বলছে, এই প্রশ্নকে আর নিছক আবেগ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে জাতীয় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ; খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬ শতাংশের কাছাকাছি এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। শহর ও গ্রাম—দুই ক্ষেত্রেই জীবনযাত্রার ব্যয় উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃত সাফল্য তাই একদিন এই প্রশ্নের উত্তরে মাপা হবে—একজন সাধারণ মানুষ কি আজ তার গতকালের চেয়ে একটু বেশি নিরাপদ, একটু বেশি সচ্ছল এবং আগামীকাল নিয়ে একটু বেশি আশাবাদী? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে প্রবৃদ্ধি মানুষের জীবনে পৌঁছেছে। আর যদি উত্তর ‘না’ হয়, তবে আমাদের উন্নয়নের হিসাব যতই বড় হোক, মধ্যবিত্তের নীরব পতনের শব্দ আমাদের শুনতেই হবে। মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—এটি মানুষের আয়কে একদিনে কমিয়ে দেয় না; ধীরে ধীরে আয়ের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষয় করে। বেতন হয়তো একই থাকে, কিন্তু সেই বেতনে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা যায় না। পাঁচ বছর আগে যে আয় দিয়ে একটি পরিবার কিছুটা স্বস্তিতে চলত, আজ একই আয় দিয়ে তাকে অনেক বেশি হিসাব করতে হয়। এই হিসাবের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে মধ্যবিত্তের ওপর। অতি দরিদ্র মানুষের জন্য রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকে। উচ্চবিত্তের হাতে থাকে সম্পদ, বিনিয়োগ, একাধিক আয়ের উৎস ও সংকট সামাল দেওয়ার সক্ষমতা। মধ্যবিত্তের বড় অংশের কাছে থাকে মূলত একটি চাকরি বা একটি নির্দিষ্ট আয়ের উৎস। সেই আয় বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে না বাড়লে পরিবারটির আর্থিক নিরাপত্তা দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। মধ্যবিত্তের সংকট তাই শুধু ‘কম আয়’ নয়; এটি ‘আয় ও ব্যয়ের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ব্যবধান’। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গত কয়েক দশকে বড় পরিবর্তন এসেছে। দারিদ্র্য কমেছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেড়েছে, নগরায়ণ হয়েছে, নতুন পেশা ও ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে উঠেছে। একই সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের চাপ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই পরিসংখ্যানের ভেতরে মধ্যবিত্তের সংকটও লুকিয়ে আছে। একটি পরিবার দরিদ্র হওয়ার আগে অনেক সময় তার জীবনযাত্রার মান কমতে শুরু করে। মাছের বদলে ডিম, ডিমের বদলে ডাল; ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন; চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার বদলে ওষুধের দোকান; সন্তানের অতিরিক্ত শিক্ষার খরচ কমিয়ে দেওয়া; ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা বাতিল করা—এভাবে ধীরে ধীরে একটি পরিবারের ‘স্বাভাবিক জীবন’ সংকুচিত হয়। এই সংকোচনকে সবসময় দারিদ্র্য বলা হয় না। কিন্তু এটি আর্থিক অবনতির স্পষ্ট লক্ষণ। বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশের সমস্যা হলো, তাঁদের ব্যয়ের বড় অংশ অনিবার্য। বাসাভাড়া কমানো যায় না। সন্তানের স্কুলের ফি কমানো যায় না। চিকিৎসা এড়িয়ে চলা যায় না। যাতায়াতের খরচ কমানোরও সীমা আছে। বাজারে গিয়ে মানুষ অনেক সময় বিলাসী পণ্য নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যই কেনেন। ফলে মূল্যস্ফীতি যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ই প্রথমে ক্ষয় হয়। সঞ্চয় শেষ হলে শুরু হয় ঋণ। ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ, আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার, কিস্তিতে পণ্য কেনা—এসব একসময় মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার অংশ হয়ে দাঁড়ায়। ঋণ হয়তো সাময়িকভাবে সংকট সামলায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা আয়ের একটি অংশকে ভবিষ্যৎ থেকে কেটে নেয়। মাসের বেতন হাতে আসার আগেই যদি তার একটি বড় অংশ আগের ঋণ পরিশোধে চলে যায়, তাহলে নতুন মাসের ব্যয় মেটাতে আবার ঋণ নিতে হয়। এভাবেই তৈরি হয় ঋণের চক্র। মধ্যবিত্তের আরেকটি বড় সংকট হলো কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু দক্ষতা অনুযায়ী ভালো চাকরির সুযোগ সেই অনুপাতে বাড়ছে না। যারা চাকরিতে আছেন, তাঁদের অনেকের আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ছে না। আবার বেসরকারি খাতে চাকরির নিরাপত্তা অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত। একজন চাকরিজীবী যখন জানেন, তাঁর আয় আগামী পাঁচ বছর কতটা বাড়বে তা অনিশ্চিত, কিন্তু সন্তানের শিক্ষা, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয় নিশ্চিতভাবেই বাড়বে—তখন ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অর্থনীতির ভাষায় এটি ক্রয়ক্ষমতার সংকট; মানুষের ভাষায় এটি অনিশ্চয়তার জীবন। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রবৃদ্ধি, আর্থিক খাতের চাপ ও দারিদ্র্য বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির মতে, ২০২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশের মতো থাকতে পারে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রবৃদ্ধির হার এবং মানুষের জীবনের বাস্তবতা সবসময় একই কথা বলে না। জাতীয় আয় বাড়তে পারে, মাথাপিছু আয় বাড়তে পারে, অর্থনীতির আকার বড় হতে পারে; কিন্তু যদি একটি পরিবারের আয় ব্যয়ের চেয়ে ধীরে বাড়ে, তাহলে সেই পরিবারের কাছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল অদৃশ্যই থেকে যায়। এ কারণেই ‘মধ্যবিত্ত’ শব্দটিকে শুধু আয়ের পরিমাণ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। একজন মধ্যবিত্ত মানুষ সাধারণত এমন একটি জীবনযাত্রা বজায় রাখতে চান, যেখানে সন্তানকে শিক্ষিত করা যাবে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়া যাবে, জরুরি প্রয়োজনে কিছু সঞ্চয় থাকবে এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু পরিকল্পনা করা যাবে। যখন এই চারটি নিরাপত্তা একে একে দুর্বল হয়ে যায়, তখন মানুষ তার আয়তাত্ত্বিক শ্রেণিতে মধ্যবিত্ত থাকলেও বাস্তবে আর্থিকভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ে। এই বিপন্নতার সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো সম্পদের অসম বণ্টন। যাদের বাড়ি আছে, জমি আছে, ব্যবসা আছে, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগ আছে, মূল্যস্ফীতির সময় তাঁদের সম্পদের দামও অনেক ক্ষেত্রে বাড়ে। কিন্তু যার পুরো সম্পদ হলো ব্যাংকে রাখা সামান্য সঞ্চয়, মূল্যস্ফীতি তার সঞ্চয়ের প্রকৃত মূল্য কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ সম্পদশালী মানুষ মূল্যস্ফীতির অভিঘাত কিছুটা সামাল দিতে পারেন; শুধু আয়নির্ভর মানুষ পারেন না। এই বাস্তবতা মধ্যবিত্তের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। শুধু সঞ্চয় করলেই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; সঞ্চয়ের প্রকৃত মূল্য রক্ষার জন্য আর্থিক পরিকল্পনাও প্রয়োজন। তবে এখানে রাষ্ট্রের দায়িত্বও কম নয়। মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে ঠেলে দিয়ে ‘বিনিয়োগ করুন’ বলা কোনো সমাধান নয়। বরং নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। মধ্যবিত্তের সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে জরুরি হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। শুধু সুদের হার বাড়িয়ে বা বাজারে সাময়িক অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সরবরাহব্যবস্থার সংস্কার, বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট ও কারসাজি নিয়ন্ত্রণ, কৃষক ও উৎপাদকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং আমদানি-রপ্তানি নীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে হবে। বাজারে পণ্যের দাম কমানোর দায়িত্ব শুধু ভোক্তার নয়। একজন সাধারণ মানুষ কম কিনে মূল্যস্ফীতি থামাতে পারবেন না। তাঁকে বরং এমন একটি বাজার দিতে হবে, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে, তথ্য স্বচ্ছ থাকবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। একই সঙ্গে মধ্যবিত্তের আয় বাড়ানোর নীতিও প্রয়োজন। কেবল মূল্যস্ফীতি কমানো যথেষ্ট নয়। উচ্চ উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন এবং নতুন পেশার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এমন কর্মসংস্থানের ওপর, যা শুধু চাকরি দেয় না—মানুষকে মধ্যবিত্ত জীবনের নিরাপত্তাও দেয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি পরিবারের আয়ের বড় অংশ যদি সন্তানের শিক্ষার পেছনে চলে যায়, আর অসুস্থ হলে চিকিৎসা ব্যয়ের ভয়ে মানুষ চিকিৎসা এড়িয়ে যায়, তাহলে সেই মধ্যবিত্ত পরিবার আসলে নিরাপদ নয়। সবার জন্য মানসম্মত সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে পরিবারের ওপর ব্যক্তিগত ব্যয়ের চাপ অনেক কমবে। একটি কার্যকর রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অবদান হতে পারে—মানুষকে এমন সব মৌলিক সেবার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না হওয়া, যা নাগরিক অধিকার হিসেবে পাওয়ার কথা। মধ্যবিত্তের জন্য আবাসনও একটি বড় সংকট। শহরে বাড়িভাড়া ও জমির দাম আয় বৃদ্ধির তুলনায় দ্রুত বাড়লে মানুষ তার আয়ের একটি অস্বাভাবিক বড় অংশ বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করতে বাধ্য হয়। দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পিত নগরায়ণ, ভাড়াভিত্তিক আবাসন, গণপরিবহনকেন্দ্রিক শহর পরিকল্পনা এবং শহরের বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে এই সংকট আরও গভীর হবে। ঢাকার মতো শহরে একজন মানুষ শুধু বাসাভাড়ার জন্য নয়, যাতায়াতের সময় ও অর্থের জন্যও মূল্য দেন। শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে বসবাসের খরচ কম হলেও যাতায়াতের ব্যয় বাড়ে। ফলে সস্তা আবাসনের সুবিধা অনেক সময় পরিবহন ব্যয় খেয়ে ফেলে। এটি শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতা। মধ্যবিত্তের সংকটের আরেকটি দিক মানসিক। যে পরিবার বছরের পর বছর হিসাব করে চলে, কিন্তু কখনো নিরাপদ বোধ করে না, তার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা, চাকরি হারানোর আতঙ্ক, চিকিৎসা ব্যয়ের ভয়—এসব মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। আমরা অর্থনৈতিক নীতিতে প্রায়ই মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধি ও রাজস্বের কথা বলি; কিন্তু মানুষের আর্থিক উদ্বেগের কথাও বলা দরকার। একটি অর্থনীতি তখনই সুস্থ, যখন মানুষ শুধু বেঁচে থাকে না—ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করার সাহসও পায়। মধ্যবিত্তের পতন কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়। একজন মানুষ বেশি পরিশ্রম করলেই যদি তাঁর আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে না বাড়ে, তাহলে তাকে ব্যর্থ বলা যায় না। একজন পরিবার যদি সঞ্চয় করতে চায়, কিন্তু ভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা ও খাদ্যের ব্যয় তার আয়কে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে সমস্যাটি ব্যক্তির বাজেট ব্যবস্থাপনায় নয়; অর্থনৈতিক কাঠামোতেও আছে। তাই মধ্যবিত্তকে শুধু ‘খরচ কমান’ বলা যথেষ্ট নয়। তাঁকে ভালো চাকরি দিতে হবে, ন্যায্য মজুরি দিতে হবে, সাশ্রয়ী আবাসন দিতে হবে, মানসম্মত সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে এবং নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। একটি দেশের মধ্যবিত্ত যত শক্তিশালী, তার অর্থনীতি তত স্থিতিশীল। কারণ মধ্যবিত্তই সাধারণত ভোক্তা বাজারকে সচল রাখে, কর দেয়, সন্তানকে শিক্ষিত করে, উদ্যোক্তা তৈরি করে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি গড়ে। মধ্যবিত্ত দুর্বল হয়ে পড়লে শুধু পরিবার নয়, বাজারও দুর্বল হয়। আজ যে পরিবার রেস্তোরাঁয় খাওয়া বন্ধ করছে, পোশাক কেনা কমাচ্ছে, ভ্রমণ বাতিল করছে, চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছে বা সন্তানের অতিরিক্ত শিক্ষার ব্যয় কমাচ্ছে—তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত অর্থনীতির বৃহত্তর চিত্রের সঙ্গে যুক্ত। কোটি কোটি পরিবারের এই সংকোচন শেষ পর্যন্ত বাজারে চাহিদা কমায়, ব্যবসায় চাপ বাড়ায় এবং কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব ফেলে। অতএব মধ্যবিত্তকে রক্ষা করা কোনো বিশেষ শ্রেণির প্রতি অনুগ্রহ নয়; এটি অর্থনীতিকে রক্ষা করার কৌশল। বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা নয়; প্রবৃদ্ধিকে মানুষের জীবনে ফিরিয়ে আনা। এমন প্রবৃদ্ধি দরকার, যা মানুষের আয় বাড়াবে, কর্মসংস্থান তৈরি করবে, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাবে এবং একটি পরিবারকে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দেবে। কারণ মানুষ শুধু আজকের বাজারের হিসাব করে বাঁচে না। সে সন্তানের ভবিষ্যৎ, নিজের বার্ধক্য এবং অনিশ্চিত দিনের জন্যও প্রস্তুতি নিতে চায়। মধ্যবিত্ত যদি ক্রমেই দরিদ্র হয়ে পড়ে, তাহলে সমাজে শুধু ভোগ কমবে না; কমবে আস্থা, স্বপ্ন ও সামাজিক গতিশীলতা। যে মানুষ একসময় মনে করতেন, পরিশ্রম করলে তাঁর সন্তান নিজের চেয়ে ভালো জীবন পাবে, তিনি যদি সেই বিশ্বাস হারান, তবে অর্থনীতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা—ক্ষয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু মধ্যবিত্ত কত টাকা আয় করে, তা নয়। প্রশ্ন হলো—তার আয় দিয়ে সে কেমন জীবনযাপন করতে পারে, কতটা সঞ্চয় করতে পারে, সংকটে কতটা নিরাপদ থাকে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কতটা আশাবাদী হতে পারে। যে অর্থনীতিতে মানুষের আয় বাড়ে কিন্তু ক্রয়ক্ষমতা কমে, যে সমাজে সম্পদ বাড়ে কিন্তু নিরাপত্তা কমে, যে উন্নয়নে শহর বড় হয় কিন্তু পরিবারের স্বপ্ন ছোট হয়ে আসে—সেই উন্নয়নকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে হয়। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত আজ সাহায্য চাইছে না; তারা সুযোগ চাইছে। তারা দয়া চায় না; তারা এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চায়, যেখানে পরিশ্রমের সঙ্গে জীবনের মানও উন্নত হবে। যেখানে একটি চাকরি হারালে পুরো পরিবার অন্ধকারে পড়ে যাবে না। যেখানে সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের চিকিৎসা ও একটি নিরাপদ বাসস্থান কোনো পরিবারের জন্য অসম্ভব স্বপ্ন হবে না। মধ্যবিত্তকে বাঁচানো মানে কেবল একটি শ্রেণিকে বাঁচানো নয়। এটি সেই সামাজিক সিঁড়িটিকে রক্ষা করা, যার ওপর দাঁড়িয়ে দরিদ্র মানুষ মধ্যবিত্তে ওঠে এবং মধ্যবিত্ত মানুষ আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়। যদি সেই সিঁড়ির মাঝের ধাপগুলো ভেঙে যায়, তাহলে সমাজে ওপরে ওঠার পথও সংকুচিত হয়ে যায়। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃত সাফল্য তাই একদিন এই প্রশ্নের উত্তরে মাপা হবে—একজন সাধারণ মানুষ কি আজ তার গতকালের চেয়ে একটু বেশি নিরাপদ, একটু বেশি সচ্ছল এবং আগামীকাল নিয়ে একটু বেশি আশাবাদী? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে প্রবৃদ্ধি মানুষের জীবনে পৌঁছেছে। আর যদি উত্তর ‘না’ হয়, তবে আমাদের উন্নয়নের হিসাব যতই বড় হোক, মধ্যবিত্তের নীরব পতনের শব্দ আমাদের শুনতেই হবে। লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com এইচআর/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
স্বাস্থ্যকর হয়েও ঘুম কেড়ে নিতে পারে যেসব খাবার
স্বাস্থ্যকর হয়েও ঘুম কেড়ে নিতে পারে যেসব খাবার

রাতে ঘুম আসতে দেরি হওয়া, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা ঘুমিয়ে পড়ার পরও অস্বস্তির মতো সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, মানসিক চাপ কিংবা ঘুমের আগে চা-কফি পানের মতো অভ্যাস অনিদ্রার জন্য দায়ী হতে পারে। তবে শুধু এসব কারণই নয়, রাতের খাবারের তালিকাতেও লুকিয়ে থাকতে পারে ঘুমের সমস্যার কারণ। অনেক খাবারই অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং নিয়মিত খাওয়া উচিত। কিন্তু দিনের কোন সময়ে সেগুলো খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার রাতে খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, বদহজম, বুকজ্বালা কিংবা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। আর এসব অস্বস্তি সরাসরি ব্যাহত করতে পারে রাতের ঘুম। ক্রুসিফেরাস সবজি বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও ব্রাসেলস স্প্রাউটসের মতো সবজি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে ফাইবারসহ নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এসব সবজি হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয় এবং অন্ত্রে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে বেশি পরিমাণে এসব সবজি খেলে পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই যাদের গ্যাস বা পেট ফাঁপার প্রবণতা রয়েছে, তারা এসব সবজি দিনের বেলায় খেতে পারেন। শিমজাতীয় খাবার বরবটি, মটরশুঁটি, বিভিন্ন ধরনের শিমজাতীয় খাবারে প্রচুর ফাইবার ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থাকে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় এগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে বা ঘুমানোর খুব কাছাকাছি সময়ে খেলে অনেকের গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। তাই রাতের খাবারে এসব খাবার রাখলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা ভালো। সম্ভব হলে দুপুরের খাবারে শিমজাতীয় সবজি খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। বেশি প্রোটিন ও ভারী খাবার রাতের খাবারে অতিরিক্ত মাংস, চর্বিযুক্ত খাবার বা ভারী প্রোটিনসমৃদ্ধ পদ খেলে হজমে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে খাবারের পর দ্রুত বিছানায় চলে গেলে পেট ভার লাগা, অস্বস্তি কিংবা বুকজ্বালার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রাতে পরিমাণে ভারী খাবারের বদলে সহজপাচ্য ও পরিমিত খাবার বেছে নেওয়া ভালো। টক বা সাইট্রাস ফল কমলা, লেবু, গ্রেপফ্রুটের মতো সাইট্রাস ফলে নানা পুষ্টি উপাদান থাকলেও এগুলো সবার জন্য রাতে উপযোগী নাও হতে পারে। যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার প্রবণতা রয়েছে, তারা রাতে এসব ফল খেলে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ঘুমানোর আগে গরম দুধ খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এটি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করে না। বিশেষ করে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে দুধ, দই বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার খেয়ে গ্যাস, পেট ব্যথা কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। আরও পড়ুন সুস্থ থাকতে রান্নায় কোন তেল বেছে নেবেন? তবে কারো ঘুমের সমস্যা নিয়মিত হলে জীবনযাপন, মানসিক চাপ, ওষুধ বা অন্য শারীরিক কারণও থাকতে পারে। আরও পড়ুন সকালে ঘুম ভাঙার পর হাত অবশ লাগে কেন? তাই রাতে ভালো ঘুমের জন্য শুধু কী খাচ্ছেন,কখন এবং কতটা খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে শেষ করা এবং নিজের শরীর কোন খাবারে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা বুঝে খাবারের সময় নির্ধারণ করা উচিত। সূত্র: হেলথ লাইন, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, ভেরিওয়েল হেলথ এসএকেওয়াই

আগস্ট ২৯, ২০২৬
বউয়ের বকাঝকা থেকে বাঁচতে যা করেন অমিতাভ বচ্চন
বউয়ের বকাঝকা থেকে বাঁচতে যা করেন অমিতাভ বচ্চন

স্ত্রীর বকুনি থেকে রেহাই পেতে আগেভাগেই সতর্ক থাকেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। শুটিংয়ের কারণে বাড়ি ফিরতে দেরি হলে পরিবারের সদস্যদের আগে থেকেই জানিয়ে দেন তিনি। এমনকি এ জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও। আরও পড়ুন দেশে ফিরে নেপালে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা জানালেন অপু বিশ্বাস জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-র এক পর্বে নিজের পারিবারিক জীবনের এমন মজার অভিজ্ঞতার কথা জানান অমিতাভ। শোয়ের এক প্রতিযোগী তাকে প্রশ্ন করেন, শুটিং শেষে বাড়ি ফিরতে দেরি হলে স্ত্রী জয়া বচ্চন তাকে বকাঝকা করেন কি না। জবাবে অমিতাভ জানান, দেরি হবে বুঝতে পারলেই তিনি পরিবারের সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। অমিতাভের ভাষায়, ‘আমি জানি কী হতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তৈরি গ্রুপে একটা মেসেজ পাঠিয়ে দিই। হাত জোড় করে তাতে লিখে দিই, শুটিং চলছে এবং ফিরতে একটু দেরি হবে। যেন আমার জন্য রাতের বেলা কেউ খাবার নিয়ে বসে না থাকে। সবাইকে আগে জানিয়ে রাখাই বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দেয়।’ জয়াকে আগে থেকে না জানালে কী হতে পারে, সেটিও মজার ছলে জানান অমিতাভ। তিনি বলেন, ‘জয়াকে যদি আগে থেকে না জানাই, তাহলে নিশ্চিত বকুনি খেতে হবে। জিজ্ঞেস করবে, কোথায় ছিলে? আমাদের জানালে না কেন? এটা কি বাড়ি ফেরার কোনো সময়?’ তবে বেশি রাত হলে পরিস্থিতি কিছুটা সহজ হয়ে যায় বলেও জানান তিনি। অমিতাভের কথায়, খুব বেশি দেরি করলে জয়া আর জেগে থাকেন না। নিজের মতো খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। আড্ডার একপর্যায়ে নিজের ঘর-সংসারের আরও কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন অমিতাভ। জানান, বাড়িতে কাজের বুয়া না থাকলে অনেক সময় ঘরের বিভিন্ন কাজ তাকেই সামলাতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে টুকিটাকি কাজ করেন নিজেই। তবে রান্নাঘরে তার দক্ষতা নেই বলেই জানান এই অভিনেতা। অমিতাভ বলেন, রান্না করতে তিনি জানেন না। তাই কখনও বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে নেন। আবার কখনও জয়ার কাছে গিয়ে হাতজোড় করে অনুরোধ করেন, ‘দেবীজি, একটু কিছু বানিয়ে দাও।’ আরও পড়ুন নতুন যে সিনেমায় যোগ দিলেন বাপ্পারাজ দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের এমন হাস্যরসাত্মক গল্পে ফের উঠে এসেছে অমিতাভ ও জয়া বচ্চনের সম্পর্কের এক ঘরোয়া দিক। পর্দার বাইরে তারকা দম্পতির এই খুনসুটিই যেন তাদের দীর্ঘ পথচলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।   এলআইএ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
সিটি ব্যাংকে অফিসার নিয়োগ, স্নাতক পাসেই আবেদন
সিটি ব্যাংকে অফিসার নিয়োগ, স্নাতক পাসেই আবেদন

দ্য সিটি ব্যাংক পিএলসি ‘অফিসার (টেম্পোরারি)’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা সম্মান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে দ্য সিটি ব্যাংক পিএলসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম দ্য সিটি ব্যাংক পিএলসি বিভাগের নাম এমপ্লয়ি ব্যাংকিং, রিটেইল ব্যাংকিং পদের নাম অফিসার (টেম্পোরারি) পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা সম্মান অভিজ্ঞতা ১ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা সর্বনিম্ন ২২ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ২৭ আগস্ট ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন দ্য সিটি ব্যাংক পিএলসি। আরও পড়ুন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ম্যানেজার নিয়োগ, আবেদন শুরু এখনই ব্র্যাক ব্যাংকে নিয়োগ, স্নাতক পাসেই আবেদনের সুযোগ ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগ উপায়, থাকছে না বয়সসীমা এসইউ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
দেশে ফিরেছেন ক্রিকেটারদের একাংশ, এয়ারপোর্টে মিষ্টিমুখ
দেশে ফিরেছেন ক্রিকেটারদের একাংশ, এয়ারপোর্টে মিষ্টিমুখ

অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর শুক্রবার রাতে একাংশ শুক্রবার রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে ডারউইনে প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।  তবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাত্র ৬৪ রানে প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার পর ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচটি। ফলে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করে দুই দল। দ্বিতীয় টেস্ট শেষ হওয়ার পরপরই দেশে ফেরার কথা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। কিন্তু ফ্লাইট জটিলতায় সেটি সম্ভব হয়নি। আগে থেকেই দলের ফিরতি টিকিট ২৭ আগস্টের নির্ধারিত থাকায় সিরিজ শেষ করেও কয়েক দিন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করতে হয় তাদের। এই বাড়তি সময়ে কেউ হোটেলে বিশ্রাম নিয়েছেন, কেউ আবার ঘুরে বেড়িয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সফরে যাওয়া কয়েকজন ক্রিকেটার সিডনিতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তারা আরও কয়েক দিন পর দেশে ফিরবেন। এসকেডি/আইএন

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ঢাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরেক ছিনতাইকারী নিহত
ঢাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরেক ছিনতাইকারী নিহত

রাজধানীর কদমতলী থানার নামা শ্যামপুর বরইতলা এলাকায় এক ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরেক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। নিহত ছিনতাইকারীর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তবে তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আনা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও পড়ুন বাবাদের উপহারের বিলাসবহুল গাড়ি কক্সবাজারে এনে বেকায়দায় ছেলেরা কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জিন্নাত বলেন, খবর পেয়ে ভোররাত চারটার দিকে নামা শ্যামপুর বরইতলা এলাকায় গিয়ে এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরেছি ভোররাত চারটার দিকে নামা শ্যামপুর বরইতলায় দুই ছিনতাইকারীর দ্বন্দ্বে একজন আরেকজনকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে পথচারীরার থানায় খবর দিলে আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। আরও পড়ুন হাসনাত আবদুল্লাহর যে বক্তব্যে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিহত ছিনতাইকারীর নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মরদেহ ঢামেকের মর্গে রাখা হয়েছে বলেও জানান এসআই জিন্নাত। কাজী আল-আমিন/কেএসআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সজাগ থাকো, কওমি শিক্ষার্থীদের রাশেদ খাঁন
দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সজাগ থাকো, কওমি শিক্ষার্থীদের রাশেদ খাঁন

কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করে তাদের দেশপ্রেম এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। দেশমাতৃকার যে কোনো প্রয়োজনে এভাবেই সজাগ থাকার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব কথা লেখেন। পোস্টে লেখা হয়, ‘কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আমার কাছে সবসময় প্রিয়। দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারা কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না।’ সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে পোস্টে আরও বলা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অপরিসীম। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।’ দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কওমি তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা প্রত্যাশা করে পরিশেষে বলা হয়, ‘দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সজাগ থাকো হে বীর দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীরা।’ ফেসবুকে এই বার্তাটি ছড়িয়ে পড়ার পর কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের নেটিজেনদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। অনেকে মন্তব্যের ঘরে কওমি শিক্ষার্থীদের অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন জাতীয় সংকটে পালন করা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করছেন। এমআরএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মাগুরায় প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যকে মারধর
মাগুরায় প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যকে মারধর

মাগুরায় এক পুলিশ সদস্যকে সড়কে গতিরোধ করে মারধর ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাঈমুজ্জামান নয়নের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। শারীরিক নির্যাতনের শিকার পুলিশ সদস্যের নাম মো. ইমরান হোসেন। তিনি মাগুরা জেলা পুলিশে কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কমলা রঙের টিশার্ট পরা নাঈমুজ্জামান নয়ন কনস্টেবল ইমরান হোসেনের বাইক আটকে চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং উত্তেজিত অবস্থায় আরও লোকজন ডাকতে থাকেন। একপর্যায়ে নিজেই ভিডিও ধারণ ও পুলিশ সদস্যকে মারধর শুরু করেন। ভিডিওর মধ্যে তিনি নিজেই পুলিশ সদস্যদের দারোগা বলে সম্বোধন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের বিপরীত পাশে মাইক্রোস্টান্ডে কনস্টেবল মো. ইমরান হোসেনের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন মাগুরা জেলা প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাঈমুজ্জামান নয়ন। এ সময় তাকে হামলায় সহযোগিতা করেন মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন। প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যকে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করায় জেলা পুলিশে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশ সদস্যকে মারধর ও ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভাইরাল ভিডিওর কথা শুনেছি, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেজে/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গাছ কীটনাশক ঢেলে ধ্বংসের অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গাছ কীটনাশক ঢেলে ধ্বংসের অভিযোগ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শিকারপুরে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গাছ ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। শিকারপুর থেকে বাড়াইর গ্রামমুখী সড়কের দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোপণ করা হয় এসব গাছ। এরমধ্যে সুপারি গাছের বেশ কিছু চারা রাসায়নিক কীটনাশক দিয়ে ধ্বংস করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় বুড়িচং থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. গোলাম সারোয়ার। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সরেজমিনে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিকারপুর থেকে বাড়াইর গ্রামমুখী একটি সরু সড়ক। স্থানীয় সমাজ হিতৈষী মো. গোলাম সারোয়ার নিজস্ব অর্থায়নে ৭ মাস আগে মেরামতের মাধ্যমে ১৪ ফুট প্রশস্ত করেন। এতে সড়কটি কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল উপযোগী হয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সড়কটির দুই পাশে অন্তত এক কিলোমিটার জুড়ে সরকারিভাবে প্রাপ্ত বেশকিছু সুপারির চারা রোপণ করেন। এসব চারা পরিচর্যা ও দেখভালের জন্য লোকও নিয়োজিত রয়েছে। গত রোববার কয়েকজন বেশ কিছু সুপারি গাছের চারায় রাসায়নিক কীটনাশক ঢেলে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। কীটনাশক ঢেলে দেওয়ার কারণে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা সুপারি গাছের চারাগুলো পাতা ঝলসে মরে যায়। এ বিষয়ে গাছের চারা রোপণকারী গোলাম সারোয়ার বলেন, গ্রামের মানুষের স্বার্থে রাস্তাটি মেরামত এবং প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সুপারি গাছের চারাগুলো রাস্তার দুই পাশে রোপণ করেছিলাম। বুড়িচং থানার দেবপুর ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন বলেন, পরিদর্শন ও অভিযোগের তদন্ত করার কথা ছিল, কিন্তু আদালতে অন্য একটি মামলা সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত থাকায় যেতে পারিনি। আগামীকাল তদন্ত করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো। জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৬১৬, এখনো নিখোঁজ ১৯২৪
নেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৬১৬, এখনো নিখোঁজ ১৯২৪

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এই দুর্যোগের কবলে পড়া অন্তত ১ হাজার ৯২৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর পাশাপাশি ৩২০ ভারতীয় নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দুর্গত এলাকা থেকে ১ হাজার ৫৪৫ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ হাজার ৯২৪ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে- মোট২৩৩টি। এ ছাড়া নাওয়ালপরাসি ইস্টে ১৫৪টি, গোরখায় ৪৬টি, ধাদিংয়ে ৪০টি, নুয়াকোটে ৩৭টি, তানাহুতে ৩০টি, নাওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ২৭টি এবং রাসুয়ায় ১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।এদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং (তিব্বত) কাউন্টিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া চীনের অংশে প্রায় ৪০০ জন ভারতীয় আটকে পড়েছেন। নেপালের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া চীনের অংশে প্রায় ৪০০ জন ভারতীয় আটকে পড়েছেন। গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া ও আশপাশের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানার পর থেকে নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ৮৬ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৫১৭ জন বিদেশি পর্যটক এবং ১২৭ জন নেপালি পর্যটক। কেএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
খেলনা বন্দুক নিয়ে ভিডিও করে আটক দুই টিকটকার
খেলনা বন্দুক নিয়ে ভিডিও করে আটক দুই টিকটকার

খেলনা বন্দুক নিয়ে ভিডিও করে পুলিশের কাছে আটক হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের দুই তরুণ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে বন্দর বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় দুই তরুণের কাছ থেকে দুটি খেলনা বন্দুকও উদ্ধার করা হয়েছে। আটক দুই তরুণ হলেন- লিমন তোহা (২২) ও ইয়াসিন মোল্লা (২৩)। তাদের বাড়ি বন্দরবাজার এলাকায়। লিমন তোহা ওই এলাকার মো. শাহীন আহমেদের ছেলে। ইয়াসিন মোল্লার বাবার নাম স্বপন মোল্লা। তাদের মধ্যে লিমন ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করে আর লেখাপড়া করেননি।‌ তিনি সাত বছর ধরে টিকটক করেন। ইয়াসিন ২০২২ সালে এসএসসি পাস করে আর লেখাপড়া করেননি। তিনি দুই বছর ধরে টিকটক করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ঘটনায় দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। সেইসঙ্গে খেলনা বন্দুক দুইটিও উদ্ধার করা হয়েছে। খেলনা বন্দুক দিয়ে ওই ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তারা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল টিকটকের ভিডিও বানানো। তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন জায়গায় বন্দুক হাতে দুই তরুণের ঘুরে বেড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দুই তরুণের দাবি অনুযায়ী, খেলনা বন্দুক দিয়ে মজা করা উদ্দেশ্য হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি কেউ। ভিডিওর সূত্র ধরে জানা যায়, এই ভিডিওর নির্মাতা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা। তার সঙ্গে বন্দুক হাতে থাকা আরেক তরুণের নাম ইয়াসিন। তারা দুইজন মিলে ভিডিও তৈরি করে থাকেন। সেটা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন। এদিকে ভিডিওতে দেখা যায়, কালো রঙের লম্বা কুর্তা পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণ। তাদের হাতে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক। কখনো পার্কের ভেতর, কখনো ব্যস্ত সড়কে, কখনো নদীর ঘাটে আবার কখনো দোকানের সামনে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। আর এসময় যাকে পাচ্ছেন তার দিকেই বন্দুক তাক করছেন। এতে করে হঠাৎ করে ভয় পেয়ে যাচ্ছেন পথচারীরা। আবার কেউ পরক্ষণেই বুঝতে পেরে অবাক হচ্ছেন। সেইসঙ্গে বন্দুকে হাতে দিয়ে দেখছেন। এ বিষয়ে লিমন তোহা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ড দেখে এই ভিডিও করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য মজা করা। বন্দুক দেখে মানুষজন কী প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটার ভিডিও ধারণ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা। পাকিস্তানি আদলে ভিডিও করলে সেই ভিডিওতে বেশি সাড়া পাওয়া যায়। সেজন্যই মূলত এসব ভিডিও বানানো। তিনি আরও বলেন, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। বন্দুক দেখে শুরুতে কেউ কেউ ভয় পেয়েছেন। পরে খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে তারা মজাও করেছেন। পুলিশও বিষয়টি দেখেছে। তারা প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে বুঝতে পেরেছে এটি খেলনা বন্দুক। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেছিলেন, এ ধরনের কোনো ভিডিও সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরাও এই বিষয়টি আমাদের অবগত করেনি। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
সফলতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা কি আমরা নিজেরাই?
সফলতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা কি আমরা নিজেরাই?

একটি স্বপ্ন। একটি পরিকল্পনা। একটি নতুন শুরু। প্রায় প্রতিটি মানুষের জীবনেই এমন কিছু ইচ্ছা থাকে, যা একদিন বাস্তবে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখা হয়। কেউ উদ্যোক্তা হতে চান, কেউ সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে চান, কেউ আবার একটি বই লিখতে, একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে চান। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই স্বপ্নগুলোর কতটুকু বাস্তবে রূপ পায়? বাস্তবতা বলছে, অসংখ্য স্বপ্ন কোনো প্রতিযোগিতায় হেরে যায় না, অর্থের অভাবে থেমে যায় না, এমনকি যোগ্যতার অভাবেও নয়। বরং সেগুলো থেমে যায় একটি ছোট্ট শব্দের কাছে—‘পরে’। ‘আগামী মাস থেকে শুরু করব’, ‘আরেকটু প্রস্তুতি নিই’, ‘পরিস্থিতি ভালো হলে শুরু করব’, ‘এই মুহূর্তে সময়টা ঠিক নয়’—এমন অসংখ্য অজুহাত আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, অর্থাৎ সময়কে নীরবে গ্রাস করে। দিন যায়, মাস যায়, বছর পেরিয়ে যায়; কিন্তু সেই শুরুটা আর হয় না। আজ যদি আপনার কোনো স্বপ্ন থাকে—চাকরি, ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিল্প, সাহিত্য কিংবা অন্য যেকোনো লক্ষ্য—তাহলে মনে রাখবেন, সঠিক সময় বলে আলাদা কোনো সময় নেই। আপনি যখন শুরু করেন, তখনই সেই সময় সঠিক হয়ে ওঠে। কারণ সাফল্য অপেক্ষা করে না; সাফল্য ধরা দেয় তাদের হাতেই, যারা অপেক্ষা নয়, কাজকে বেছে নেয়। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মনোবিজ্ঞানী সংগঠন American Psychological Association (APA) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস বা procrastination শুধু উৎপাদনশীলতাই কমায় না; এটি মানুষের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অপরাধবোধ ও আত্মবিশ্বাসের সংকটও বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ, আমরা যে কাজটি আজ না করে আগামীকালের জন্য রেখে দিচ্ছি, সেটিই পরবর্তীতে আমাদের সবচেয়ে বড় মানসিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কানাডার মনোবিজ্ঞানী ও procrastination-বিষয়ক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষক ড. টিম পিচিল বলেছেন, ‘Procrastination is not a time management problem; it\'s an emotion management problem.’ অর্থাৎ, অধিকাংশ মানুষ সময়ের অভাবে নয়, বরং ব্যর্থতার ভয়, অনিশ্চয়তা, আত্মসন্দেহ কিংবা সাময়িক অস্বস্তি এড়ানোর জন্য কাজ শুরু করতে পারেন না। কঠিন কাজের বদলে মানুষ সহজ কাজ বেছে নেয়। সাময়িক স্বস্তি পায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তার মূল্য দিতে হয় স্বপ্ন হারিয়ে। বাংলাদেশের বাস্তব চিত্রও খুব ভিন্ন নয়। প্রতিবছর লক্ষাধিক তরুণ বিসিএস, ব্যাংক, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু তাঁদের একটি বড় অংশ বছরের পর বছর শুধু প্রস্তুতি নিতেই ব্যস্ত থাকেন। পরীক্ষার ফরম পূরণ হয় না, আবেদন জমা দেওয়া হয় না, ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়া হয় না, প্রথম ভিডিও আপলোড করা হয় না, প্রথম গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলা হয় না। ফলাফল—যেখানে ছিলেন, সেখানেই থেকে যান। অন্যদিকে, হয়তো আরেকজন একই সময়ে সীমিত প্রস্তুতি নিয়েই শুরু করেন। প্রথমে ভুল করেন, সমালোচনার মুখোমুখি হন, ব্যর্থ হন। কিন্তু প্রতিটি ভুল থেকে শিক্ষা নেন। কয়েক বছর পর দেখা যায়, যিনি নিখুঁত মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেননি, তিনিই এগিয়ে গেছেন বহুদূর। Harvard Business Review-এ প্রকাশিত একাধিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা (perfectionism) অনেক সময় কাজ শুরু করার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ মানুষ মনে করে, সবকিছু ঠিকঠাক না হওয়া পর্যন্ত শুরু করা উচিত নয়। অথচ বাস্তবে ‘পারফেক্ট সময়’ বলে কিছু নেই। কাজ শুরু করার পরই মানুষ ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে ওঠে। বিশ্বখ্যাত লেখক জেমস ক্লিয়ার তাঁর আলোচিত বই Atomic Habits-এ লিখেছেন, বড় পরিবর্তনের জন্য বিশাল কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট ধারাবাহিক অভ্যাসই একসময় অসাধারণ ফলাফল তৈরি করে। তিনি দেখিয়েছেন, একটি মাত্র ছোট কাজ—যেমন পাঁচ মিনিট পড়া, দশ মিনিট লেখা বা প্রতিদিন একটি ভিডিও তৈরি করা—ধীরে ধীরে মানুষের পরিচয়, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। এই কথার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিজ্ঞানী ড. বি. জে. ফগের গবেষণাতেও। তাঁর মতে, মানুষ বড় সিদ্ধান্তে নয়, বরং ছোট অভ্যাসের ধারাবাহিকতায় বদলে যায়। একটি ছোট কাজ প্রতিদিন করলে সেটিই একসময় বড় সাফল্যের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাসও একই শিক্ষা দেয়। পৃথিবীর কোনো বড় আবিষ্কার একদিনে হয়নি। থমাস এডিসন বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের আগে হাজার হাজার ব্যর্থ পরীক্ষা করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি—‘I have not failed. I\'ve just found 10,000 ways that won\'t work.’—আজও মানুষকে শেখায়, ব্যর্থতা শেষ নয়; বরং সফলতার পথে একটি ধাপ। একইভাবে, স্টিভ জবস শুধু একটি ধারণা দিয়েই বিশ্ব বদলে দেননি। আইফোনের পেছনে ছিল বহু বছরের গবেষণা, অসংখ্য প্রকৌশলীর নিরলস শ্রম, শত শত নকশা পরিবর্তন এবং হাজারো ব্যর্থ পরীক্ষা। একটি আইডিয়া তখনই মূল্যবান হয়, যখন সেটি বাস্তবায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন কাজ করা হয়। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (World Economic Forum) Future of Jobs Report 2025-এ বলা হয়েছে, ভবিষ্যতের কর্মবাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার মধ্যে রয়েছে—সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, অভিযোজন, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং ধারাবাহিকভাবে শেখার মানসিকতা। এই দক্ষতাগুলো শুধু বই পড়ে অর্জন করা যায় না; বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নিয়মিত কাজের মধ্য দিয়েই এগুলো তৈরি হয়। আজকের ডিজিটাল যুগে তথ্যের কোনো অভাব নেই। কয়েক সেকেন্ডে হাজারো ভিডিও, অনলাইন কোর্স কিংবা বইয়ের সারসংক্ষেপ পাওয়া যায়। কিন্তু একটি নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে—অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের ফাঁদ। মানুষ শেখে, দেখে, নোট করে, পরিকল্পনা করে; কিন্তু বাস্তবে কাজ শুরু করে না। ফলে জ্ঞান বাড়ে, কিন্তু ফলাফল আসে না। নেপোলিয়ন হিল তাঁর বিখ্যাত বই Think and Grow Rich-এ লিখেছিলেন, ‘Knowledge is only potential power.’ অর্থাৎ, জ্ঞান তখনই শক্তি হয়ে ওঠে, যখন সেটিকে কাজে রূপ দেওয়া হয়। ধরুন, আপনি একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চান। আপনি হয়তো মাসের পর মাস বাজার গবেষণা করলেন, শত শত ভিডিও দেখলেন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা লিখলেন। কিন্তু একটি পণ্যও বাজারে আনলেন না। অন্যদিকে, আরেকজন সীমিত পুঁজি নিয়ে শুরু করলেন। প্রথমে ক্ষতি হলো, ভুল হলো, আবার চেষ্টা করলেন। দুই বছর পর দেখা গেল, তিনি অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা; আর আপনি এখনো পরিকল্পনাতেই আটকে আছেন। এই পার্থক্য তৈরি করেছে একটি মাত্র বিষয়—অ্যাকশন। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আত্মবিশ্বাস কাজের আগে আসে না; কাজ করতে করতেই তৈরি হয়। প্রথম দিন কেউই নিখুঁত বক্তা হন না। প্রথম ভিডিও কারও অসাধারণ হয় না। প্রথম ব্যবসায় সবাই লাভ করেন না। কিন্তু ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই মানুষকে পরিণত করে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও কর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের জন্য তাই রয়েছে, যার জন্য সে চেষ্টা করে।’ (সূরা আন-নাজম, আয়াত ৩৯)। এখানে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে, শুধু আশা বা স্বপ্ন নয়, প্রচেষ্টাই মানুষের প্রাপ্তির ভিত্তি। আমাদের সমাজে একটি প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে—আমরা অন্যের সফলতা দেখি, কিন্তু সেই সফলতার পেছনের দীর্ঘ সংগ্রাম দেখি না। একজন সফল উদ্যোক্তার অফিস দেখি, কিন্তু তাঁর ঋণ, ব্যর্থতা, নির্ঘুম রাত ও অনিশ্চয়তার দিনগুলো দেখি না। একজন জনপ্রিয় ইউটিউবারের কোটি ভিউ দেখি, কিন্তু প্রথম কয়েকশ ভিডিওতে খুব কম দর্শক ছিল—সেই বাস্তবতা ভুলে যাই। সত্য হলো, আরাম মানুষকে নিরাপদ রাখে, কিন্তু বড় করে তোলে না। উন্নতির জন্য প্রয়োজন শৃঙ্খলা, ধারাবাহিকতা ও কাজ করার সাহস। আজ যে কষ্ট আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় আফসোস হয়ে ফিরে আসতে পারে। অতএব, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো—আমরা কি আরামের অপেক্ষায় বসে থাকব, নাকি অসম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই প্রথম পদক্ষেপ নেব? কারণ ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবী বদলেছে সেই মানুষদের হাত ধরে, যারা নিখুঁত সময়ের জন্য অপেক্ষা করেননি; বরং অপূর্ণতা নিয়েই শুরু করেছিলেন। আজ যদি আপনার কোনো স্বপ্ন থাকে—চাকরি, ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিল্প, সাহিত্য কিংবা অন্য যেকোনো লক্ষ্য—তাহলে মনে রাখবেন, সঠিক সময় বলে আলাদা কোনো সময় নেই। আপনি যখন শুরু করেন, তখনই সেই সময় সঠিক হয়ে ওঠে। কারণ সাফল্য অপেক্ষা করে না; সাফল্য ধরা দেয় তাদের হাতেই, যারা অপেক্ষা নয়, কাজকে বেছে নেয়। লেখক: করপোরেট ট্রেইনার, ফাইন্যান্স অ্যান্ড বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট, প্রফেসর অব প্র্যাকটিস, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এইচআর/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
টস পক্ষে এলে খেলা ঘুরে যেতে পারতো, দেশে ফিরে টাইগার বোলিং কোচ
টস পক্ষে এলে খেলা ঘুরে যেতে পারতো, দেশে ফিরে টাইগার বোলিং কোচ

অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক সফর শেষে গতকাল রাতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। ফেরার পর বিমানবন্দরে তাদের শুভেচ্ছা জানান বিসিবির কয়েকজন পরিচালক। এ সময় ক্রিকেটার মিষ্টিমুখও করানো হয়। এরপর সাংবাদিকদের সামনে ম্যাকাই টেস্ট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের।   জুবায়ের বলেন, ‘এটা টিম গেইম। চিন্তার জায়গা তো আছেই। ব্যাটাররা ভালো করলে হয়ত দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভালো করা যেত। সেখানে টস অনেক জরুরি ছিল। উইকেটে টেনিস বল বাউন্স ছিল যেটা আমরা মানিয়ে নিতে পারিনি। সেখানে আমাদের একটু সমস্যা হয়েছে। পেসাররা ভালো হলে আপনি আশা করতে পারেন যে বাইরের দেশে গিয়ে টেস্ট ম্যাচ জিতবেন, ২০ উইকেট নিতে পারবেন। এটা ভালো সাইন। আশা করি সামনে এই ফর্মটা তারা ধরে রাখতে পারবে।’ তালহা মনে করেন দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতলে দৃশ্যপট আলাদা হতে পারতো। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে আমরা দাপট দেখিয়ে হারাব এতগুলো সেশন, কোনো সেশনেই তারা প্রথম টেস্টে আমাদের সাথে পারেনি। দ্বিতীয় টেস্টে তারা যেভাবে কামব্যাক করেছে, আমরা জানতাম তারা অনেক শক্তভাবে কামব্যাক করবে। সেখানে টস অনেক জরুরি ছিল, টস আমাদের পক্ষে আসলে খেলা ঘুরে যেতে পারত। অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো অনেক বড় ব্যাপার। এটা বিশ্বকে একটা বার্তা দেওয়া যে, আমরা আসলে যে কাউকে হারাতে পারি। এই অভিজ্ঞতা আমাদের সামনের সফরগুলোতে কাজে লাগবে।’ প্লেয়ারদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে, মাঠে, মাঠের বাইরে কাজ করা নিয়ে তালহা জানান, ‘আমি অনেক দিন ধরে কাজ করছি, কোচিং করাচ্ছি। ফলে অত নতুন ছিল না। শুধু কাদের নিয়ে প্ল্যান সাজাচ্ছি সেই ব্যাটারগুলো নতুন ছিল। অজি ব্যাটারদের দুর্বলতা বের করা, আমাদের অ্যানালিস্ট শাওন অনেক সাহায্য করেছে। তাদের দুর্বল জায়গাতে আমরা অনেক বল করেছি।’ তালহা জুবায়ের আরও বলেন, ‘টেস্ট জেতার পর যেখানে গিয়েছিল সেখানেই সমর্থন পেয়েছি। বাংলাদেশি বাদেও অন্যান্য দেশের যারা ক্রিকেট ফলো করেন, সবাই আমাদেরকে সমর্থন করে গেছেন। সবাই অনেক সমর্থন করেছে। অনেক ফোন কল পেয়েছি, এটা অবশ্যই ভালো লাগার মত ব্যাপার।’ এসকেডি/আইএন

আগস্ট ২৯, ২০২৬
শাহবাগী সাজতে মাদরাসার ছাত্ররা তোমাদের সঙ্গে মাঠে নামেনি
শাহবাগী সাজতে মাদরাসার ছাত্ররা তোমাদের সঙ্গে মাঠে নামেনি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার ঘটনা সংসদে ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করেছেন মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার জামিয়া রশিদিয়া ছতরপুর মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। আরও পড়ুন পুলিশ লাইন্সে গান বাজানো নিয়ে উত্তেজনা, লাঠিচার্জে আহত ২০ মাদরাসাছাত্র ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইনে কনসার্টে লাউডস্পিকারে গান বাজানো হলো। পুলিশ লাইনের সাথেই হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান হাফি. প্রতিষ্ঠিত জামিয়া দারুল আরকামের ছাত্রদের পড়ায় ব্যাঘাত হচ্ছিল। অভিযোগ করলে এসপি সাহেব লাউডস্পিকার বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। লাউডস্পিকার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ছাত্ররা তাদের ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।’ ‘কিছুক্ষণ পর এসপি সাহেব ডিআইজি সাহেবকে এগিয়ে দিতে গেলে কিছু উগ্র পুলিশ সদস্য আবার জোর আওয়াজে গান বাজনা চালাতে থাকে। তখন ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে আবার বাধা দিতে গেলে কিছু পুলিশ ছাত্রদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরবর্তীতে এসপি সাহেব এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চান ও এবং অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ছাত্রদের সকল দাবি মেনে নেন।’ রহমতুল্লাহ কাসেমীর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট রহমতুল্লাহ কাসেমী আরও লেখেন, ‘বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় যায়। অথচ হাসনাত আবদুল্লাহ আজ সংসদে সে বিষয়টি উপস্থাপন করে ছাত্রদের অভিযুক্ত করে বক্তব্য দেন। ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এ তরুণ তাদের সহযোদ্ধা ছাত্রদের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ অভিযোগ করতে দেখে পুরো জাতি বিস্মিত ও হতবাক। আগে দেখতাম বিরোধীদল সবসময় মাজলুমের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ প্রথম দেখলাম বিরোধী দলের এমপি মাজলুমদের অভিযুক্ত করতে!’ আরও পড়ুন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / ‘এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা বুঝতে পারিনি’ ‘সিনেমা, গান বাজনার পক্ষ নিতে গিয়ে মাদ্রাসার ছাত্র এবং আলেমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শাহবাগী সাজার জন্য জুলাই বিপ্লবে মাদ্রাসার ছাত্ররা তোমাদের সাথে মাঠে নামেননি। জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে গাদ্দারি করে পার পাবে না। মনে রাখবে, ম্যাচ ফিক্সিং এর অপরাধে বহু ক্যাপ্টেন চিরতরে নিষিদ্ধ হতে পারে।’ মুফতি লেখেন, ‘এই পচা মালগুলো মস্তিষ্কে এবং কালচারালি এখনো আওয়ামী স্বৈরাচারকেই রিপ্রেজেন্ট করে শুধু খোলস পাল্টিয়ে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে সময় আসলে আবার ঠিকই আওয়ামী লীগ হয়ে যাবে চান্দু তোমরা আবার বাউনবাইরা আহো।’ সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ? গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগন্ট) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রতিমাসে গড়ে হত্যাকাণ্ড হয়েছে ২৬০টি আর বর্তমান সরকারের সময় হত্যা হয়েছে ৩১১টি। সে সময় ৬ মাসে খুন হয়েছে ১ হাজার ৭৮০ জন আর বর্তমান সরকারের সময় ৬ মাসে খুন হয়েছে ১ হাজার ৭৮৯ জন। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বিগত সরকারের ৬ মাসে ১ হাজার ৯০টি আর বর্তমান সরকারের সময় ঘটেছে ১১ হাজার ১৬৫টি। বিগত সরকারের সময় ৬ মাসে গণপিটুনিতে নিহত হয় ১৬৬ জন আর বর্তমান সরকারের ৬ মাসে গণপিটুনিতে নিহত হয় ১২০ জন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে ২৭৫টি যেখানে এই সরকারের সময় ঘটে ৩১৭টি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি কালচারাল জেলা সেখানে গান-বাজনা, সিনেমা বন্ধের মতোই। আরও পড়ুন সংসদে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে মধ্যরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ সবশেষ হাসনাত বলেন, এই ৬ মাস বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ল অ্যান্ড অর্ডার রিস্টোর করতে পেরেছেন কি না বা তিনি এই ৬ মাসে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না বা এই ৬ মাসে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছেন কি না। হাসনাতের এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন, না পল্টনের বক্তৃতা বুঝতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কি না, এটা একটা প্রশ্ন। তারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সিনেমা হল কেন নেই, সেটা আরেকটা প্রশ্ন।’ আরও পড়ুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল হাসনাতের বক্তব্যে উল্লেখ করা হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কত হত্যা হয়েছে, জখম হয়েছে ইত্যাদি যে ডাটা দিলেন, সেই ডাটাটা কীসের ভিত্তিতে দিলেন, কী পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিলেন, সেই স্ট্যাটিস্টিকটা আমি জানি না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না, তা দৃশ্যমান।’ বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর অপরাধীদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আরও পড়ুন সংসদে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিনি বলেন, ‘সামাজিকভাবে যেকোনো স্পেসিফিক ঘটনা যদি আপনারা বলতে পারেন, সে স্পেসিফিক ঘটনা আমি ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিতে পারবো।’ এদিকে, জাতীয় সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদরাসা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সমাবেশে বক্তারা সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন ও বক্তব্যের জন্য তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহকে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে তারা শনিবার (২৯ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে না দেওয়ার ঘোষণাও দেন। এমআরএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
বিয়ে নিয়ে অশান্তি, ভাড়া বাসায় মিলল কলেজছাত্রীর মরদেহ
বিয়ে নিয়ে অশান্তি, ভাড়া বাসায় মিলল কলেজছাত্রীর মরদেহ

জামালপুর শহরের একটি বাসা থেকে ইসরাত জাহান রিমা (২৫) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের দক্ষিণ কাচাড়িপাড়া স্বপ্নপুরী আবাসিক এলাকার বকুল ভিলার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইসরাত জাহান রিমা মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি এলাকার মো. রশিদুজ্জামান মন্ডলের মেয়ে। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে মাদারগঞ্জের চাঁদপুর এলাকার জেবু তালুকদারের ছেলে শুভর সঙ্গে গোপনে রিমার বিয়ে হয়। বিষয়টি পরে শুভর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারলেও তারা এ বিয়ে মেনে নেয়নি বলে দাবি পরিবারের। একপর্যায়ে শুভকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। তবে এরপরও রিমার সঙ্গে শুভর যোগাযোগ ও একসঙ্গে থাকার বিষয়টি অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে রিমার পরিবার। পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে শুভকে জোর করে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি আবার দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পরও তিনি রিমার সঙ্গে থাকতেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। রিমার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত সপ্তাহেও শুভ ও রিমা একসঙ্গে ছিলেন। তবে কয়েকদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা রিমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। পরে শুক্রবার রাতে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা। পরিবারের ধারণা, রিমাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য শুভর পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে মানসিক কষ্ট থেকে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। জামালপুর সদর থানার উপপরিদর্শক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘৯৯৯-এর খবর পেয়ে দক্ষিণ কাচারীপাড়ার স্বপ্নপুরী এলাকার একটি বাসা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’ হৃদয় আহম্মেদ/এফএ/এএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
লোডশেডিংয়েও মন ভালো থাকবে কীভাবে, জানুন উপায়
লোডশেডিংয়েও মন ভালো থাকবে কীভাবে, জানুন উপায়

সম্প্রতি গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে দেশে তীব্র আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। কাজের মধ্যে বা সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষেও যদি হঠাৎ কারেন্ট চলে যায় তবে মেজাজ হারানোটা স্বাভাবিক। তবে, কারেন্ট না থাকলেও মন ভালো রাখার চেষ্টা করতে তো ক্ষতি নেই। এতে যেমন সময়ও কেটে যাবে, তেমনি বিরক্তি দূর করে ভালো রাখা যাবে মন, শারীরিক কসরতে সময় দিলে স্বাস্থ্যেরও হবে উন্নতি। স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশ্বখ্যাত অনলাইন সোর্স ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক হেলথ এসেনসিয়ালস। তাদের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ক্রিন বা বিদ্যুৎ ছাড়া কাটানো সময়কে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়-ডাউনটাইম (Downtime)। কারেন্ট চলে গেলে যখন আমরা বাধ্য হয়ে প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকি, তখন মস্তিষ্কের ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক (ডিএমএন) সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই ডিএমএন সক্রিয় হলে মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং নতুন কোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বা সৃজনশীলতা বাড়ে। আবার, বই পড়া বা কোনো পাজল মেলানোর মতো অফলাইন কাজগুলো মস্তিষ্কের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। কীভাবে কাটাবেন সময় লোডশেডিংয়ের প্রভাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ওপর করা একটি গবেষণায় (রিসার্চগেটে প্রকাশিত) দেখা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বা ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য গবেষকরা কয়েকটি কার্যকর কোপিং স্ট্র্যাটেজি বা খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপায় চিহ্নিত করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি এইচ ক্ল্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর একাধিক গবেষণা অনুযায়ী, শারীরিক কসরত কেবল শরীর গঠন নয়, বরং মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা দূর করতে দারুণ কার্যকর। লোডশেডিংয়ের অলস সময়টিকে শারীরিক সুস্থতার জন্য কাজে লাগানো বুদ্ধিমানের কাজ। এ সময় কোনো ডিভাইস বা বিদ্যুৎ ছাড়া মুক্ত বাতাসে হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং, কিংবা ইয়োগা (যোগব্যায়াম) করা যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, মাত্র ১৫-২০ মিনিটের শারীরিক কসরত শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ বা ফিল-গুড হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়, যা বিদ্যুতহীন গরমের সময় তৈরি হওয়া মানসিক ক্লান্তি ও বিরক্তি নিমেষেই দূর করে। অ্যানালগ টুলের ব্যবহার: জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর ২০২৩ সালের গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট এবং বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক জার্নাল অনুসারে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মানুষের মনোযোগের ক্ষমতা বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ কমিয়ে দিচ্ছে। এর বিপরীতে কাগজের বই বা অ্যানালগ টুল মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজিটাল স্ক্রিনের আসক্তি থেকে মুক্ত হয়ে লোডশেডিংয়ের সময়টিকে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এ সময় স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ দূরে রেখে গল্পের বই পড়া, ডায়েরি বা কবিতা লেখা, কিংবা পরিবারের সবার সঙ্গে লুডু, দাবা বা ক্যারাম খেলার মতো ইনডোর গেমসে মেতে ওঠা যায়। গবেষকদের মতে, এই অ্যানালগ মাধ্যমগুলো স্ক্রিন টাইম কমিয়ে চোখের ক্লান্তি দূর করে এবং গভীর চিন্তাভাবনার ক্ষমতা (কগনিটিভ স্কিল) পুনরুজ্জীবিত করে। আরও পড়ুন ঢাকায় চরম লোডশেডিং, দিনে ও রাতে একাধিকবার থাকছে না বিদ্যুৎ সামাজিক যোগাযোগ: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, সামনাসামনি সামাজিক যোগাযোগ মানুষের একাকীত্ব দূর করে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। ভার্চুয়াল দুনিয়ার লাইক-কমেন্টের বাইরে এসে লোডশেডিং আমাদের সামনাসামনি সামাজিক যোগাযোগের চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দেয়। আলো চলে গেলে ঘরে বা বারান্দায় বসে পরিবারের প্রবীণ ও নবীন সদস্যরা গল্পে মেতে উঠতে পারেন, যা পারিবারিক বন্ধনকে মজবুত করে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যান্ত্রিক ব্যস্ততার যুগে এ ধরনের আন্তরিক ও মুখোমুখি আড্ডা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়ায়। মিউজিক বা গান শোনা: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) এবং নিউরোলজিক্যাল গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সঙ্গীত মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করতে এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। অন্ধকারে মন ভালো রাখার অন্যতম সেরা মাধ্যম হলো মিউজিক বা গান। হেডফোনে পছন্দের কোনো শান্ত সুর বা গান শোনা, কিংবা নিজেই কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা খালি গলায় গান গাওয়ার মাধ্যমে মনকে প্রফুল্ল রাখা যায়। মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, সুরের মেলোডি মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ হরমোন নিঃসরণ করে, যা লোডশেডিংয়ের কারণে তৈরি হওয়া অসহনীয় পরিবেশেও মনকে নিমেষেই শান্ত ও চাপমুক্ত করতে সাহায্য করে। যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ-এর পিএমসি জার্নালে প্রকাশিত একটি রিভিউ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ চলে গেলে কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই সময় কাটানোর পাশাপাশি এসব বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। যেমন- খাবারের নিরাপত্তা: কারেন্ট চলে গেলে ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা উচিত নয়। দরজা বন্ধ থাকলে ফ্রিজের খাবার ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নিরাপদ থাকে। বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি: আলো বা বাতাসের জন্য ঘরের ভেতরে জেনারেটর বা কয়লা জাতীয় কিছু জ্বালানো একদমই উচিত নয়। এতে বিষাক্ত গ্যাস জমে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আগুনের ঝুঁকি: অসাবধানতায় আগুন লাগা এড়াতে মোমবাতির চেয়ে রিচার্জেবল লাইট বা হারিকেন ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ। এএমএ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ইরান-ওমানের সমঝোতা: মধ্যপ্রাচ্যে আসছে পরমানুচালিত রণতরি রুজভেল্ট
ইরান-ওমানের সমঝোতা: মধ্যপ্রাচ্যে আসছে পরমানুচালিত রণতরি রুজভেল্ট

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট পথ বেছে নিতে সমঝোতায় পৌঁছেছে ওমান-ইরান। প্রস্তাবিত পথের বিষয়টি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি মোজতবা খামেনিকে জানানো হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল চুক্তিটির বিষয়ে নজিরবিহীনভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। কাউন্সিলের ১৩ সদস্যের মধ্যে ১২ জন চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এক্ষেত্রে, গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে কৌশলগত এই জলপথটি আগের অবস্থায় ফিরবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ কথা জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা। ট্রাম্পের নীরবতা ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন রণতরি  তবে, এসব বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন নীরবতার মধ্যেই পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের স্থলাভিষিক্ত হবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। একই সঙ্গে সাত মাস মোতায়েন থাকার কথা জানা গেছে। তবে, মাত্র কয়েকদিন আগেই রণতরি আব্রাহাম লিংকনের জায়গায় ওয়াশিংটনকে আনা হয়েছিল। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং এর সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপ সান দিয়েগো থেকে রওনা হয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর আওতাধীন অঞ্চলে মোতায়েন থাকা অন্যান্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যোগ দেবে। USNI এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত মাসেরও বেশি সময়ের এই মোতায়েনের মাধ্যমে তারা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন-কে প্রতিস্থাপন করবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল-কে মার্কিন প্যাসিফিক ফ্লিটের একজন মুখপাত্র বলেন, অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে নৌবাহিনীর নীতি হলো -ভবিষ্যৎ অভিযান বা জাহাজের গতিবিধি নিয়ে আলোচনা না করা। ইরান-ওমান সমঝোতা: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলের পথ নিয়ে আমরা ওমানের সঙ্গে একমত হয়েছি। সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র পূরণ করলে আমরা প্রণালিটি খুলে দেব। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য একটি সাময়িক করিডোর খুলতে সম্মত হয়েছে ইরান ও ওমান। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বিষয়টি এখন বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, বিনিয়োগ শুরু এবং লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে ইরানও হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। তিনি বলেন, আলোচনার অগ্রগতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সঙ্গে আগের সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছে বলে তারা মনে করছে। নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ পেজেশকিয়ান বলেন, সমঝোতা কার্যকর থাকার সময় প্রথমে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছিল। পেজেশকিয়ান জানান, সমঝোতার অধীনে ব্যাংকিং ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং ওই সময় ইরান প্রায় ৯০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল। পরিকল্পিত বিনিয়োগ নিয়ে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও ইরান আলোচনা করেছে। তবে যুদ্ধ চলতে থাকলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালিকে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় সমঝোতা স্মারকটি ভেঙে পড়ে। গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা ভাঙার পর থেকে হরমুজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান ও ওমান। কেএম 

আগস্ট ২৯, ২০২৬
সপ্তাহের শুরুতেই কমলো সোনার দাম, কত টাকা ভরি
সপ্তাহের শুরুতেই কমলো সোনার দাম, কত টাকা ভরি

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম কমেছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ৭ হাজার ১১৫ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা।   স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমায় এই দাম কমানো হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।    শনিবার (২৯ আগস্ট) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।  আরও পড়ুন সোনা এখনই কিনবেন না অপেক্ষা করবেন? নজর রাখবেন যেদিকে এর আগে গত ২০, ২২ ও ২৫ আগস্ট তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম সবমিলিয়ে বাড়ানো হয় ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা। এই দাম বাড়ানোর পর এখন দাম কমানো হলো। এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৬ হাজার ৮২৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৫ হাজার ৮৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৪ হাজার ৭২৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা। আরও পড়ুন বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও কমলো এর আগে গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম এক হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম এক হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম এক হাজার ৩৪১ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম এক হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়। সোনার গহনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার গহনার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ৫৯ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমএএস/কেএসআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
সাদা-কালো বাক্সে হাজার তথ্য, কিউআর কোড কীভাবে কাজ করে জানেন?
সাদা-কালো বাক্সে হাজার তথ্য, কিউআর কোড কীভাবে কাজ করে জানেন?

দোকানে পেমেন্ট, রেস্তোরাঁর মেনু দেখা, ওয়েবসাইট খোলা কিংবা কোনো পণ্যের বিস্তারিত তথ্য জানা প্রতিদিনের নানা কাজে কিউআর কোড এখন আমাদের সঙ্গী। ফোনের ক্যামেরা দিয়ে কয়েক মুহূর্ত স্ক্যান করলেই প্রয়োজনীয় তথ্য সামনে চলে আসে। দেখতে অবশ্য মনে হয়, ছোট ছোট কালো-সাদা ঘরের সমষ্টি। কিন্তু এই সামান্য জায়গার মধ্যেই কীভাবে এত তথ্য রাখা সম্ভব? এর পেছনে রয়েছে বেশ চমকপ্রদ একটি ডিজিটাল প্রযুক্তি। কিউআর কোড কী? কিউআর কোডের পূর্ণরূপ কুইক রেসপন্স কোড। এটি মূলত দ্বিমাত্রিক বা ২ডি বারকোডের একটি ধরন। প্রচলিত বারকোডে যেখানে মূলত একদিকে তথ্য সাজানো হয়, কিউআর কোডে তথ্য দুই দিকেই আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এই কারণেই একই জায়গার মধ্যে সাধারণ বারকোডের তুলনায় অনেক বেশি ডেটা রাখা সম্ভব হয়। কিউআর কোডের কালো ও সাদা ছোট ছোট ঘরগুলোকে বলা হয় মডিউল। এই মডিউলগুলোর নির্দিষ্ট বিন্যাসের মধ্যেই ডিজিটাল তথ্য প্রকাশ পায়। কোডের প্রতিটি অংশের রয়েছে আলাদা কাজ কিউআর কোডের পুরো নকশাটি এলোমেলো নয়। এর বিভিন্ন অংশ স্ক্যান করার সময় আলাদা আলাদা ভূমিকা পালন করে।কোডের তিনটি কোণে থাকা বড় বর্গাকার চিহ্নগুলোকে বলা হয় পজিশন মার্কার। স্মার্টফোনের ক্যামেরা বা স্ক্যানার এই চিহ্নগুলোর সাহায্যে কিউআর কোডের অবস্থান ও দিক শনাক্ত করতে পারে। ফলে কোডটি উল্টো, বাঁকা কিংবা কিছুটা কাত হয়ে থাকলেও সেটিকে সঠিকভাবে পড়া সম্ভব হয়। এছাড়া রয়েছে টাইমিং প্যাটার্ন, যা কিউআর কোডের ছোট মডিউলগুলোর অবস্থান এবং তাদের মধ্যকার বিন্যাস বুঝতে স্ক্যানারকে সহায়তা করে। আর যে অংশটিতে মূল তথ্য সংরক্ষিত থাকে সেটি হলো ডাটা এরিয়া। কোনো ওয়েবসাইটের লিংক, লেখা, পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল ডাটা এখানে রাখা যেতে পারে। আরও পড়ুন পাসওয়ার্ড ছাড়াই অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে কালো-সাদা ঘরে কীভাবে তথ্য ঢোকে? এখানেই রয়েছে কিউআর কোডের আসল প্রযুক্তি। কোনো লেখা বা লিংককে সরাসরি ছোট ছোট কালো-সাদা ঘরে বসিয়ে দেওয়া হয় না। প্রথমে সেই তথ্যকে নির্দিষ্ট ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করা হয়। কম্পিউটার ডাটাকে মূলত বাইনারি পদ্ধতিতে অর্থাৎ ০ এবং ১ হিসেবে প্রক্রিয়া করে। কিউআর কোড তৈরির সময় এই ডেটাকে নির্দিষ্ট নিয়মে সাজিয়ে কালো ও সাদা মডিউলের প্যাটার্নে রূপ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, চোখে যে অসংখ্য ছোট বক্স দেখা যায়, সেগুলো আসলে ডিজিটাল তথ্যের একটি বিশেষ সাংকেতিক বিন্যাস। ফোন কীভাবে কিউআর কোড পড়ে? স্মার্টফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করার সময় ক্যামেরা প্রথমে পুরো কোডটির ছবি নেয়। এরপর সফটওয়্যার কোডের বিভিন্ন চিহ্ন শনাক্ত করে তার অবস্থান, দিক এবং মডিউলের বিন্যাস বিশ্লেষণ করে। এরপর কালো-সাদা প্যাটার্ন থেকে বাইনারি ডেটা উদ্ধার করা হয়। সেই ডেটাকে আবার ব্যবহারযোগ্য তথ্যে রূপান্তর করে ফোনের স্ক্রিনে দেখানো হয়। তাই একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে ওয়েবসাইট খুলে গেলে আসলে কয়েকটি ধাপে কাজটি সম্পন্ন হয় ক্যামেরায় কোড ধরা, প্যাটার্ন শনাক্ত করা, ডেটা ডিকোড করা এবং শেষ পর্যন্ত সেই তথ্য ব্যবহারকারীর সামনে তুলে ধরা। কোডের কিছু অংশ নষ্ট হলেও কেন কাজ করে? কিউআর কোডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ইরোর কারেকশন। এর ফলে কোডের একটি অংশ দাগ পড়ে গেলে, ছিঁড়ে গেলে বা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেটি স্ক্যান করা সম্ভব হয়। কিউআর কোড তৈরির সময় মূল ডাটার পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত তথ্যও রাখা হয়। স্ক্যান করার সময় কোডের কোনো অংশ থেকে তথ্য পাওয়া না গেলে এই অতিরিক্ত ডাটার সাহায্যে হারানো অংশ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা যায়। তবে কতটা ক্ষতি হলেও কিউআর কোড কাজ করবে, তা নির্ভর করে ব্যবহৃত ইরোর কারেকশনের মাত্রার ওপর। কতটা তথ্য রাখা যায়? কিউআর কোডের ধারণক্ষমতা নির্দিষ্ট একটি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। কোডের আকার, ডাটার ধরন এবং ব্যবহৃত সেটিংসের ওপর এর ধারণক্ষমতা নির্ভর করে। সর্বোচ্চ আকারের কিউআর কোডে প্রায় ৭ হাজার সংখ্যাসূচক অক্ষর রাখা সম্ভব। আর অক্ষর, সংখ্যা ও বিভিন্ন চিহ্নের সমন্বয়ে প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি ক্যারেক্টার সংরক্ষণ করা যায়। তবে ডাটার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিউআর কোডের আকারও বড় এবং প্যাটার্ন আরও ঘন হয়ে যায়। আরও পড়ুন টাকার লোভ এআইয়েরও আছে, বিজ্ঞাপন পেলে করবে সেই পণ্যের সুপারিশ! কোথায় কোথায় ব্যবহার হয়? বর্তমানে কিউআর কোডের ব্যবহার শুধু ওয়েবসাইটের লিংকে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দোকান বা রেস্তোরাঁয় পেমেন্টের পাশাপাশি খাবারের মেনু দেখতেও কিউআর কোড দেখা যায়। এ ছাড়া পণ্যের প্যাকেট, বিজনেস কার্ড, পোস্টার, ব্রোশিওর, ইভেন্টের টিকিট এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক উপকরণেও এটি ব্যবহার করা হয়। কোনো ভিডিও, ওয়েবপেজ বা অনলাইন পরিষেবায় দ্রুত পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবেও কিউআর কোড বেশ কার্যকর। এমনকি ওয়াই-ফাইয়ের নাম ও পাসওয়ার্ড শেয়ার করার ক্ষেত্রেও কিউআর কোড ব্যবহার করা যায়। ফলে একটি ছোট্ট কালো-সাদা নকশা দেখতে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে তথ্যকে সংকেত আকারে সাজানো এবং মুহূর্তে তা পড়ে ফেলার বেশ উন্নত প্রযুক্তি। কেএসকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নামাজের সময়সূচি: ২৯ আগস্ট ২০২৬
নামাজের সময়সূচি: ২৯ আগস্ট ২০২৬

আজ শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ ইংরেজি, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বাংলা, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো- নামাজের সময়সূচি ফজর- ৪:২২ মিনিট। জোহর- ১২:০৩ মিনিট। আসর- ৪:৩২ মিনিট। মাগরিব- ৬:২৫ মিনিট। ইশা- ৭:৪১ মিনিট।   আজ সূর্যাস্ত- ৬:১৯ মিনিট। আজ সূর্যোদয়- ৫:৩৮ মিনিট। রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ ফজর- ৪:২৩ মিনিট। সূর্যোদয়- ৫:৩৯ মিনিট। বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তা হলো- বিয়োগ করতে হবে- চট্টগ্রাম: -০৫ মিনিট। সিলেট: -০৬ মিনিট। যোগ করতে হবে- খুলনা: +০৩ মিনিট। রাজশাহী: +০৭ মিনিট। রংপুর: +০৮ মিনিট। বরিশাল: +০১ মিনিট। (সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন) কোন ওয়াক্তে কত রাকাত নামাজ ফরজ, কত রাকাত সুন্নত? প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তে মোট ১৭ রাকাত নামাজ ফরজ, ১২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা (যা নবীজি (সা.) নিয়মিত পড়তেন)। এ ছাড়া পাঁচ ওয়াক্তে কিছু সুন্নতে যায়েদা (যা নবীজি (সা.) মাঝে মাঝে পড়তেন) নামাজও রয়েছে। আর ইশার পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ ওয়াজিব। ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা অপরিহার্য, ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। কখনও অনিচ্ছায় ছুটে গেলে পরে কাজা করে নিতে হবে। সুন্নতে মুআক্কাদা ও যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব হবে, আদায় না করলে গুনাহ হবে না। এখানে আমরা পাঁচ ওয়াক্তে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের রাকাতসংখ্যা উল্লেখ করছি: ফজর ফজরের ফরজ নামাজ ২ রাকাত। ফরজের আগে ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। জোহর জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত ও পরে ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আসর আসরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত নামাজ সুন্নতে যায়েদা। মাগরিব মাগরিবের ফরজ নামাজ ৩ রাকাত। ফরজের পর ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। ইশা ইশার ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত নামাজ সুন্নতে যায়েদা, ফরজের পর ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা। ইশার ফরজের ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ইসলামে ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় ফরজ ঘোষণা করে বলেন, নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। (সুরা নিসা: ১০৩) ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়াকে হাদিসে কুফুরি গণ্য করা হয়েছে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল, সে কুফুরি করল। (সুনানে তিরমিজি: ২১১৩) নবীজি (সা.) আরও বলেন, বান্দা আর শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ১৪৮) কেয়ামতের দিন নামাজের হিসাবই সবচেয়ে আগে নেওয়া হবে। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সবচেয়ে আগে তার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। সেটি যদি যথাযথ পাওয়া যায়, তবে সে সফল হয়ে গেলো এবং মুক্তি পেয়ে গেলো। আর যদি তাতে ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (সহিহ জামে সগির: ২০২০) ওএফএফ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৫৫৪
ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৫৫৪

রাজধানী ঢাকায় নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। আরও পড়ুন বাবাদের উপহারের বিলাসবহুল গাড়ি কক্সবাজারে এনে বেকায়দায় ছেলেরা গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ডিএমপির রমনা বিভাগ ৩১ জন, লালবাগ বিভাগ ৩২ জন, ওয়ারী বিভাগ ৮৫ জন, মতিঝিল বিভাগ ৫৭ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৫৬ জন, মিরপুর বিভাগ ১৭৪ জন, গুলশান বিভাগ ৪৭ জন, উত্তরা বিভাগ ৬১ জন, গোয়েন্দা বিভাগ ৪ জন ও সিটিটিসি বিভাগ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া অভিযানকালে ৫ হাজার ৪৪৫ পিস ইয়াবা, ৩১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ২০ বোতল সিরাপ, ২১টি মোবাইলফোন, ৮টি বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড, একটি প্রাইভেটকার, ১৪৬টি বিভিন্ন কোম্পানির সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।   আরও পড়ুন গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে কারখানা চলছে জেনারেটরে, ডিজেলের ‘নীরব ঘাটতি’ আকতার হোসেন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি। কেআর/কেএসআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
চেরকি-হালান্ডের জোড়া গোলে দুর্দান্ত জয় সিটির
চেরকি-হালান্ডের জোড়া গোলে দুর্দান্ত জয় সিটির

ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে ৪-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। রায়ান চেরকি ও আরলিং হালান্ডের জোড়া জোড়া গোলে প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমের দারুণ শুরু করেছে সিটি। গতকাল সেলর্হাস্ট পার্কে শুক্রবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হালান্ড ১৭ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পান। হেড থেকে করা তার গোলেই এগিয়ে যায় সিটি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সিটি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে চেরকি গোল করলে ব্যবধান হয় ২-০। প্যালেসের পাঁচ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান তিনি। মিনিট দুয়েক পর ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ব্যবধান কমায় প্যালেস। তবে নিজেদের প্রচেষ্টায় নয়। অতিথিদের আত্মঘাতী গোলে কমে এক গোলের ব্যবধান। ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক বারে লেগে ফিরে এসে সিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার পিঠে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। তিন মিনিট পর আবারও সিটির দুই গোলের ব্যবধান ফিরিয়ে আনেন চেরকি। প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম জোড়া গোল সম্পন্ন করেন তিনি ৫৯ মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া শট ডিফ্লেক্ট হয়ে গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসনের নাগালের বাইরে চলে যায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হালান্ড। তার গোলে ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে সিটি। দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে মৌসুমের শুরুতেই প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে উঠে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। আইএন

আগস্ট ২৯, ২০২৬
হাসনাত আবদুল্লাহর যে বক্তব্যে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া
হাসনাত আবদুল্লাহর যে বক্তব্যে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের অভিযোগ তুলে সম্পূরক প্রশ্ন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ? প্রশ্নোত্তর পর্বে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রতিমাসে গড়ে হত্যাকাণ্ড হয়েছে ২৬০টি আর বর্তমান সরকারের সময় হত্যা হয়েছে ৩১১টি। সে সময় ৬ মাসে খুন হয়েছে ১ হাজার ৭৮০ জন আর বর্তমান সরকারের সময় ৬ মাসে খুন হয়েছে ১ হাজার ৭৮৯ জন। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বিগত সরকারের ৬ মাসে ১ হাজার ৯০টি আর বর্তমান সরকারের সময় ঘটেছে ১১ হাজার ১৬৫টি। বিগত সরকারের সময় ৬ মাসে গণপিটুনিতে নিহত হয় ১৬৬ জন আর বর্তমান সরকারের ৬ মাসে গণপিটুনিতে নিহত হয় ১২০ জন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে ২৭৫টি যেখানে এই সরকারের সময় ঘটে ৩১৭টি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি কালচারাল জেলা সেখানে গান-বাজনা, সিনেমা বন্ধের মতোই। সবশেষ হাসনাত বলেন, এই ৬ মাস বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ল অ্যান্ড অর্ডার রিস্টোর করতে পেরেছেন কি না বা তিনি এই ৬ মাসে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না বা এই ৬ মাসে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছেন কি না। হাসনাতের এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন, না পল্টনের বক্তৃতা বুঝতে পারিনি।’ আরও পড়ুন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / ‘এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা বুঝতে পারিনি’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কি না, এটা একটা প্রশ্ন। তারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সিনেমা হল কেন নেই, সেটা আরেকটা প্রশ্ন।’ হাসনাতের বক্তব্যে উল্লেখ করা হত্যা ও আহতের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কত হত্যা হয়েছে, জখম হয়েছে ইত্যাদি যে ডাটা দিলেন, সেই ডাটাটা কীসের ভিত্তিতে দিলেন, কী পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিলেন, সেই স্ট্যাটিস্টিকটা আমি জানি না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না, তা দৃশ্যমান।’ বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর অপরাধীদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সামাজিকভাবে যেকোনো স্পেসিফিক ঘটনা যদি আপনারা বলতে পারেন, সে স্পেসিফিক ঘটনা আমি ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিতে পারবো।’ আরও পড়ুন সংসদে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে মধ্যরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ এদিকে, জাতীয় সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদরাসা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সমাবেশে বক্তারা সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন ও বক্তব্যের জন্য তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহকে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে তারা শনিবার (২৯ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে না দেওয়ার ঘোষণাও দেন। এসএনআর/এমএমএআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নথিপত্র না থাকায় মালয়েশিয়ায় আটক ৩০ বাংলাদেশি
নথিপত্র না থাকায় মালয়েশিয়ায় আটক ৩০ বাংলাদেশি

অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মালয়েশিয়াজুড়ে পরিচালিত ‘অপস সারসার’ অভিযানে ৫২৮ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। গত ২৫ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেআইএম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে এবং গোয়েন্দা নজরদারির পর দেশজুড়ে সমন্বিত এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ৬৭৮ বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে জেআইএম পুত্রাজায়ার পক্ষ থেকে দুটি পৃথক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে একটি ছিল সেতাপাকের জালান ওয়াংসামাস এলাকার নির্মাণস্থল এবং অন্যটি দাতো কেরামাত এলাকার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। আরও পড়ুন মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর ওই দুটি স্থানে মোট ৮৩ বিদেশিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন অপরাধে আটক করা হয়েছে। আটক অভিবাসীদের মধ্যে ৩৭ জন ইন্দোনেশিয়ার, ৩০ জন বাংলাদেশের, দুজন নেপালের এবং টোগো, বুরকিনা ফাসো, মিয়ানমার ও ভারতের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। জেআইএম জানায়, অভিযানের সময় আটক অভিবাসীদের অধিকাংশই কর্মরত অবস্থায় ছিলেন। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন বিদেশি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের আটক করা হয়। অভিযানে আটক অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচয়পত্র বা বৈধ নথি না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থান এবং বৈধ অনুমতি ছাড়া কাজ করাসহ দেশটির অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জেআইএম। এমআরএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

ফতুল্লায় স্বামীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেফতার; হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের দাবি পরিবারের
দেশজুড়ে

ফতুল্লায় স্বামীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেফতার; হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের দাবি পরিবারের

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0