যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়াকে চরম পতনের দিকে ধাবমান একটি শক্তি হিসেবে দেখে আসছে। ১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও সাম্রাজ্যবাদী বিস্তারের স্পষ্ট সংকট প্রকট হওয়ার পর থেকেই এই ধারণার জন্ম। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে তা আরও পাকাপোক্ত হয়।
ওয়াশিংটন ন্যাটোর সম্প্রসারণসহ এমন এক নীতিগত এজেন্ডা নিয়ে সামনে এগোতে শুরু করে, যেখানে রাশিয়ার ক্ষমতা ও স্বার্থকে কেবল একটুকরা গৌণ বিষয় হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। আর ইউক্রেন নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব সেই অবজ্ঞাকে পরিণত করে চরম তাচ্ছিল্যে।
রাশিয়াকে এই দুর্বল ও বিলীয়মান শক্তি হিসেবে চিত্রায়িত করাটা পুতিনের অজস্র সমালোচকের মানসিক খোরাক জোগাতে পারে, তবে বাস্তবতার সঙ্গে এর দূরত্ব যোজন যোজন। বৈশ্বিক রাজনীতিতে মস্কো ধারাবাহিকভাবে নিজের সামর্থ্যের চেয়ে অনেক বেশি বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ৩৫ বছর পর আজও রাশিয়া একটি পারমাণবিক পরাশক্তি।
স্নায়যুদ্ধকালের মতোই ন্যাটো এখনো রাশিয়াকে তাদের মূল হুমকি মেনে নিয়েই সামরিক পরিকল্পনা সাজায়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার নজিরবিহীন পাহাড় গড়ে তুললেও যে অর্থনৈতিক ধসের পূর্বাভাস এই পরিকল্পনাকারীরা দিয়েছিল, তা ঘটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে; বরং এতে রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় বিন্দুমাত্র চির ধরেনি। মস্কোকে একঘরে করার প্রচেষ্টাগুলোও মুখ থুবড়ে পড়েছে।
ক্রেমলিন দক্ষতার সঙ্গে বিকাশমান উদীয়মান অর্থনীতির প্রধান জোট ব্রিকস ইউরেশীয় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা গোষ্ঠী সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশনের মতো অ-পশ্চিমা সংস্থাগুলোকে সুসংগঠিত করেছে। আর এর মধ্য দিয়েই তারা আজকের গড়ে ওঠা পশ্চিমা-উত্তর বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর নিজেদের প্রভাব জোরদার করেছে।
তবে রাশিয়ার পরিস্থিতির মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে একটি শর্ত কাজ করে: এটি টিকে রয়েছে আজকের বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর ভর করে। বিশ্ব আজ এক চরম খণ্ড–বিখণ্ড ও অনিশ্চিত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা রাশিয়ার শক্তির অনুকূলে কাজ করছে বলেই মস্কো তার সক্ষমতার চেয়ে বেশি প্রভাব খাটাতে পারছে।
অস্থিতিশীলতা, বেশ কয়েকটি অঞ্চলে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদ ও বিশ্বায়নের পিছু হঠা, বিশ্বজুড়ে জাতীয়তাবাদ ও পপুলিজমের উত্থান, ‘সফট পাওয়ার’-এর অবমূল্যায়ন এবং পশ্চিমা জোটের অন্দরমহলের ফাটল—বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার এই প্রতিটি উপাদানই আদতে মস্কোর সুবিধা নিশ্চিত করছে।
কিন্তু রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গাটি হলো—আজকের এই বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা হয়তো চিরস্থায়ী হবে না। পেন্ডুলামের কাঁটা আবার উল্টো দিকে ঘুরতে পারে; বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলা থিতিয়ে এসে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আবারও নতুন করে জোরদার হতে পারে। এই পরিবর্তন ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরই ঘটতে পারে।
তা ছাড়া বৈশ্বিক মাত্রার কোনো বড় ধরনের ধাক্কা রাষ্ট্রগুলোকে তাদের চলমান সংঘাত ভুলে আরও নিবিড় সহযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তখন রাশিয়ার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত পররাষ্ট্রনীতি এবং একসময়ের নির্ভরযোগ্য কিন্তু অনমনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আর কোনো কাজে আসছে না।

বিশৃঙ্খলা থেকে লাভবান
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে টুকরা টুকরা করে ফেলার প্রবণতাগুলো মস্কোর অনুকূলেই কাজ করছে। এই সময়ে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি এক টেকসই ক্ষমতা ও প্রভাবের উৎস। রাশিয়া পৃথিবীর একমাত্র শক্তি, যারা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ। চীন তাদের অস্ত্রাগার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করলেও, এই দুই পরাশক্তিকে স্পর্শ করতে বেইজিংয়ের আরও দীর্ঘ সময় লাগবে।
রাশিয়ার এই পারমাণবিক পরাশক্তির তকমা বাস্তবেও বিরাট প্রভাব ফেলে: এটি ন্যাটো সদস্যদের ইউক্রেনে সরাসরি সেনা পাঠাতে বাধা দিয়েছে এবং অনেকগুলো শক্তিশালী কূটনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে।
প্রথাগত সামরিক সক্ষমতার কথা বললে, রাশিয়ার এখনো একটি গভীর সমুদ্রের নৌবাহিনী এবং দূরপাল্লার হামলা চালানোর সামর্থ্য রয়েছে; একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই রাশিয়ার চেয়ে বেশি দূরবর্তী এলাকায় শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।
এটা সত্য যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে যুদ্ধের শুরুর দিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর মারাত্মক কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু গত সাড়ে চার বছরে তাদের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের আমূল বদলে ফেলেছে, তীক্ষ্ণ করেছে নিজেদের দক্ষতা ও যুদ্ধক্ষমতা।
মস্কোর হাতে এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে এবং তার চেয়ে বড় কথা, তাদের কাছে রয়েছে আধুনিক স্থলযুদ্ধের এক অনন্য অভিজ্ঞতা—যা যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় যেকোনো সামরিক বাহিনীর চেয়ে তাদের এগিয়ে রেখেছে। ইউক্রেনও নতুন যুদ্ধপ্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে ঠিকই, তবে তারা সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
রাশিয়ার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ তাদের হাতকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তোলে। রাশিয়া বিশ্ববাজারে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, গম, সার, ইউরেনিয়াম, অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ, হীরা এবং অন্যান্য পণ্যের প্রধান সরবরাহকারী। আবার ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পথগুলোর মারাত্মক ঝুঁকি রাশিয়ার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
একই সঙ্গে এক তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ও অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিবেশ রাশিয়ার কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। পশ্চিমে এই ব্যবস্থাগুলোকে প্রায়ই পুরোনো, অনমনীয় এবং দেশের উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর বলে ব্যঙ্গ করা হয়। অথচ ইউক্রেনে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরও রাশিয়া সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পেরেছে।
তীব্র মেরুকরণের এই যুগে রাশিয়ার একককেন্দ্রিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া উদীয়মান উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার তুলনায় স্পষ্ট কিছু সুবিধা এনে দেয়। পুতিন এমন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছেন, যা ঘন ঘন রাজনৈতিক নির্বাচনকেন্দ্রিক পশ্চিমে চিন্তা করাও অসম্ভব।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত এক বিশৃঙ্খল দেশে পরিণত হয়েছে। এর শীর্ষে রয়েছেন এক খামখেয়ালি প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প কেবল পুতিনকে শ্রদ্ধাই করেন না, বরং রাশিয়ার ওপর তাঁর এই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকে হিংসাও করেন। অন্যদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টরা আসছেন আর যাচ্ছেন, কিন্তু কেউই জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারছেন না।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যত দিন সহযোগিতার চেয়ে বৈরিতা, সমৃদ্ধির চেয়ে নিরাপত্তা, বিশ্বায়নের চেয়ে আঞ্চলিকতা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার চেয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্বকে বেশি প্রাধান্য দেবে, তত দিন রাশিয়া বৈশ্বিক রাজনীতির শীর্ষ সারিতেই অবস্থান করবে। এমনকি বাণিজ্যিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে বহুগুণ এগিয়ে থাকা দেশগুলোর চেয়েও রাশিয়া কৌশলগত সুবিধা ভোগ করবে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজার যদি চীন বা ভারতের মতো বিশাল হতো, তবে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারত। কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাসংক্রান্ত পতন বা ডেমোগ্রাফিক ধস সেই পথ বন্ধ করে দেয়।
আসন্ন শান্ত পরিবেশ
ইতিহাস সব সময় চক্রাকারে ঘোরে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বর্তমান এই কাঠামো হয়তো সাময়িক প্রমাণিত হতে পারে। নতুন রূপ নিয়ে বিশ্বায়ন আবারও ফিরে আসতে পারে এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতা এক দীর্ঘ স্থিতিশীল শান্তির রূপ নিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্তহীন যুদ্ধ হয়তো কোনো একদিন থামবে; ওয়াশিংটন ও বেইজিং একটি টেকসই বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে; জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হয়তো বৈশ্বিক বিষয়ে বহুপাক্ষিকতার নীতিগুলোকে সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবেন। এই বিপরীত যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমেও শুরু হতে পারে, যদি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের সমর্থকদের বড় ধরনের পরাজয় ঘটে।
এমন এক বিশ্বে রাশিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান পররাষ্ট্রনৈতিক সম্পদগুলোর অনেকগুলোই হঠাৎ করে মূল্য হারাতে শুরু করবে। রাশিয়ার অবমূল্যায়িত ‘সফট পাওয়ার’ তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজার যদি চীন বা ভারতের মতো বিশাল হতো, তবে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারত। কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাসংক্রান্ত পতন বা ডেমোগ্রাফিক ধস সেই পথ বন্ধ করে দেয়।
দেশের ভৌগোলিক অবস্থান রাশিয়াকে কিছুটা সুবিধা দেয়। বিশ্বের দীর্ঘতম আর্কটিক উপকূলরেখা থাকায়, রাশিয়া সুমেরু অঞ্চলের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলে যাওয়া নতুন সমুদ্রপথগুলোর বড় অংশের মালিক হতে পারে। কিন্তু পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম ইউরোপের মধ্যকার একটি ট্রানজিট করিডর বা যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে নিজের অবস্থানকে কাজে লাগাতে রাশিয়ার প্রয়োজন হবে কেবল চীন নয়; বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল অংশীদারত্ব।
সর্বশেষ, একটি শক্তিশালী বেসামরিক উচ্চ প্রযুক্তির বাস্তুতন্ত্র না থাকলে, রাশিয়া প্রযুক্তিগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের থেকে অনেক পিছিয়ে পড়তে পারে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার নেতৃত্ব বেসরকারি খাতের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করে চলেছে। তাদের এই চরম কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা দেশের সেই উদ্যোক্তা মনোভাব ও উদ্ভাবনী শক্তিকে ধুঁকে ধুঁকে মেরে ফেলেছে। প্রযুক্তিগত শীর্ষস্থান ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সবচেয়ে এটা বেশি প্রয়োজন ছিল। রাশিয়ার নতুন উদ্ভাবনী কাঠামো এখনো বিশ শতকের সোভিয়েত রাষ্ট্রকেন্দ্রিক মডেলের ওপরই আটকে আছে।
দুর্গের সীমানা ছাড়িয়ে
দীর্ঘ মেয়াদে রাশিয়ার ভাগ্য নির্ভর করবে বিশ্বব্যবস্থার আরেকটি পরিবর্তনের সঙ্গে তারা কতটা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে এবং প্রস্তুতি নিতে পারছে তার ওপর। তাদের বর্তমান ‘অবরুদ্ধ দুর্গ’ মডেল আন্তর্জাতিক পরিবেশকে একটি সুযোগের বদলে কেবল একটি হুমকি হিসেবেই দেখে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা ও সংঘাত রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কোনো কাজেই আসবে না। পশ্চিমে হয়তো শক্তির ক্ষয় হতে পারে, কিন্তু তবু রাশিয়ার বাহ্যিক পরিবেশের জন্য তারা অপরিহার্যই থেকে যাবে। তাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং এমনকি সীমিত আঞ্চলিক সহযোগিতাই হচ্ছে একমাত্র উত্তম পন্থা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এই ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোই একসময় মস্কোর প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার এবং তাদের নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবসায়িক পদ্ধতির মূল উৎস ছিল। ইউক্রেন সংঘাত শেষ হলে দুই পক্ষ অন্তত ধীরে ধীরে ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর কাজ শুরু করতে পারে।
অবশ্যই ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতির ওপর চলা একটি বিশ্ব স্বল্প মেয়াদে মস্কোকে বাস্তব কিছু সুযোগ এনে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটি এক ভয়াবহ বিপজ্জনক খেলা। আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটছে।
সমালোচকদের হতাশ করে রাশিয়া আজ শক্ত হাতে টিকে আছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রমাণ করছে। কিন্তু এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে, তাদের স্বল্পমেয়াদি সুবিধা এবং সংকীর্ণ স্বার্থের বাইরে তাকাতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার যেকোনো তোলপাড় এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সহ্য করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
আন্দ্রে করতুনভ মস্কোভিত্তিক বিশ্লেষক ও গবেষক। ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, অধিকমাত্রায় ও অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে কৃষকদের সজাগ ও সতর্ক করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি টেকসই ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে কার্যকর প্রয়োগ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। এসময় রাষ্ট্রপতিকে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। কেএইচ/এমআইএইচএস
ইয়েমেনে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। ইরানপন্থী হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আজ বুধবার এ দাবি করেন। এক বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইয়েমেনের মারিব এলাকায় ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয়ভাবে নির্মিত।
‘মন্ট্রিল প্রটোকলের’ সফল বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাপী ওজোনস্তরের ক্ষয়রোধ ও এটি পুনরুদ্ধার হচ্ছে, যা ২০৪০ সালের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। তবে সিএফসি ও এইচএফসির মতো ক্ষতিকর গ্যাসের অপ্রত্যাশিত নির্গমনে ওজোনস্তর স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হতে পারে।বিশ্ব ওজোন দিবস আজ। এ পৃথিবীর প্রাণ ও প্রকৃতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ওজোনস্তরের ক্ষয় এবং এটির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রতিবছর ১৬ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়।ওজোনস্তরের গুরুত্ব, এটির ক্ষয়জনিত ঝুঁকি ও পরিবেশ রক্ষায় করণীয় বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরাই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য।পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর ধ্বংসকারী উপাদানগুলোর উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও কমানোর লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ‘মন্ট্রিল প্রটোকল’ সই হয়েছিল। ঐতিহাসিক এ উদ্যোগের কথা স্মরণে রেখে ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৬ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সুরক্ষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন বা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) আজ বুধবার আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সুরক্ষা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওজোনস্তর পুনরুদ্ধারে দারুণ কিছু সাফল্যের কথা তুলে ধরেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হয়েছে।ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে অ্যান্টার্কটিক ওজোন গহ্বরটি গত কয়েক দশকের মধ্যে আকারে সবচেয়ে ছোটগুলোর একটি ছিল। ১৯৯২ সালে ওজোনস্তর ক্ষয়ের মারাত্মক চিত্র বিজ্ঞানীদের সামনে চলে আসে। এর পর থেকে যতবার ওজোন গহ্বর মাপা হয়েছে, তার মধ্যে গত বছরের গহ্বরটি ছিল তালিকায় চতুর্থ বা পঞ্চম ক্ষুদ্রতম।এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর বিজ্ঞানীরা ওজোন গহ্বরের আকার ১৯৯০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে ছোট আকার দেখতে পেলেন। এর অর্থ, ওজোনস্তরের ক্ষত দিন দিন সেরে উঠছে।‘মন্ট্রিল প্রটোকল’ সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার কারণে ওজোনস্তর এখন পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন বলছে, এটি আনুমানিক ২০৪০ সালের মধ্যে ১৯৮০ সালের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে।বছরভিত্তিক এ পরিবর্তনের পেছনে আবহাওয়া বড় ভূমিকা পালন করছে বলে ধারণা করা হয়। ওজোনস্তর গহ্বরের আকারে এ ধরনের ওঠানামা মূলত এটি স্বাভাবিক হয়ে ওঠার দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।এ প্রবণতা প্রমাণ করে যে ওজোন ক্ষয়কারী পদার্থের বিরুদ্ধে ‘মন্ট্রিল প্রটোকল’ দারুণভাবে সফল হয়েছে। অতীতে ফ্রিজ কিংবা অগ্নিনির্বাপক ফোমে যে ক্লোরোফ্লোরোকার্বন বা সিএফসি ব্যবহার করা হতো, এ চুক্তির মাধ্যমে তা সফলভাবে পর্যায়ক্রমে অনেকটাই কমিয়ে আনা গেছে।ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো এ পরিস্থিতিকে এক ‘বড় পরিবেশগত সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ২০০০ সাল থেকে পৃথিবীর ওজোনস্তর আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ডব্লিউএমও আশা প্রকাশ করেছে, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এ স্তর পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।আগে আগুন নেভাতে অগ্নিনির্বাপক ফোমে ক্লোরোফ্লোরোকার্বন বা সিএফসি ব্যবহার করা হতো। এ গ্যাস ওজোনস্তরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকরডব্লিউএমও গ্লোবাল অ্যাটমোস্ফিয়ার ওয়াচ নেটওয়ার্ক নিয়মিতভাবে ওজোনস্তরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ও গবেষকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে সহায়তা করে।বায়ুমণ্ডলে থাকা ওজোন গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার ওপরে অবস্থিত স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তর বা স্ট্র্যাটোমণ্ডলে থাকে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলে থাকা সব ওজোনকে যদি পৃথিবীপৃষ্ঠে এনে এক জায়গায় স্তর হিসেবে তৈরি করা যেত, তবে পুরো পৃথিবীজুড়ে সে স্তরের পুরুত্ব হতো মাত্র ৩ মিলিমিটারের মতো। অথচ এ অত্যন্ত পাতলা স্তরই সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি বা ইউভি রশ্মির বড় একটি অংশ শোষণ করে নেয়। এ স্তরটি না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হতো।নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে অতিবেগুনি রশ্মির বিকিরণ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। গবেষকেরা দেখেছেন, ওজোনস্তর ক্ষয়ে যাওয়া এবং আকাশে মেঘের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে মূলত এমনটি ঘটে।মানুষ বেশি সময় অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে এলে ত্বকের ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়।ডব্লিউএমওর বুলেটিনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান এ ঝুঁকির কারণে এখন লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর ইউভি সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।‘গ্লোবাল অ্যাকশন ফর এ কুলার প্ল্যানেট’ এ বছর বিশ্ব ওজোন দিবসের প্রতিপাদ্য হলো, ‘গ্লোবাল অ্যাকশন ফর এ কুলার প্ল্যানেট’ বা পৃথিবীকে শীতল রাখতে বৈশ্বিক উদ্যোগ।১৯৮৭ সালের ‘মন্ট্রিল প্রটোকলে’ ওজোন ক্ষয়কারী উপাদানগুলো নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেসব উপাদানের ব্যবহার কমিয়ে আনতে বেশ কিছু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।গত প্রায় চার দশকের বায়ুমণ্ডলীয় পরিমাপ বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, বায়ুমণ্ডলে নিষিদ্ধ সেসব ওজোন ক্ষয়কারী পদার্থের উপস্থিতি বেশ কমেছে। এর মধ্যেও কিছু অপ্রত্যাশিত নির্গমন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেমন ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিএফসি-১১ ও মাঝেমধ্যে হাইড্রোফ্লোরোকার্বন (এইচএফসি)-২৩ গ্যাসের অপ্রত্যাশিত নির্গমন লক্ষ করা গেছে।এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা রোধ করতে ও সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঠিক পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করতে বায়ুমণ্ডলের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।ওজোন বুলেটিনে বর্তমান পর্যবেক্ষণব্যবস্থার কাঠামোর প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আগে এ ধরনের পর্যবেক্ষণে প্রধানত ডবসন ও ব্রুওয়ার স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করা হতো।কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০০০ সালের শুরুর দিকে যেখানে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় স্টেশন ছিল, তা কমে এখন ১১০টিতে ঠেকেছে। বিশেষত, যেসব অঞ্চলে ওজোন পর্যবেক্ষণ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, প্রায়ই দেখা যায় সেসব এলাকার স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।তবে বর্তমানে নতুন প্রজন্মের অ্যারে স্পেকট্রোমিটারের ব্যবহার বাড়ছে। এগুলোর মূল লক্ষ্য, স্ট্র্যাটোমণ্ডলের ওজোন পর্যবেক্ষণ করা নয়, বরং বাতাসের গুণমান বা বায়ুদূষণ পরিমাপ করা।মন্ট্রিল প্রটোকলের সফল বাস্তবায়নে ওজোনস্তর এখন পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন বলছে, গড় হিসাবে সারা পৃথিবীর ওজোনস্তর আনুমানিক ২০৪০ সালের মধ্যে ১৯৮০ সালের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। অবশ্য আর্কটিক অঞ্চলে এটি ২০৪৫ সাল ও অ্যান্টার্কটিকে ২০৬৬ সাল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।২০০৫ সাল থেকে ক্ষয়ের প্রবণতা কমে যাওয়ার পেছনে ওজোনস্তরের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রমাণ স্যাটেলাইট ডেটা ও মডেল সিমুলেশনে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। তবে এর পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। শিল্পকারখানায় কাঁচামাল বা ফিডস্টক হিসেবে যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, তার অবশিষ্টাংশ থেকে ওজোন ক্ষয়কারী উপাদানের নির্গমন বেড়েছে।গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব উপাদানের অতিরিক্ত নির্গমনের ফলে মধ্য অক্ষাংশে ওজোনস্তর স্বাভাবিক হতে প্রায় ৭ বছর দেরি হতে পারে। পরিস্থিতি সাপেক্ষে এ বিলম্বের সময় ৬ থেকে ১১ বছরে গড়াতে পারে।ইন্দোনেশিয়ায় বায়ুর গুণমান মাপার একটি যন্ত্রওজোনস্তরের ক্ষয় নিয়ে বিজ্ঞানীদের দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য দিয়ে শেষ করা যাক। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বায়ুমণ্ডল থেকে একটিমাত্র ক্লোরিন পরমাণু পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগে সেটি ১ লাখের বেশি ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে।তাই পরিবেশবিদেরা মনে করেন, ওজোনস্তর রক্ষায় চলমান আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ নেই।{তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে ও ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন}ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যই ওজোনস্তর রক্ষা করা জরুরি