পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা রেঞ্জ ও খুলনা রেঞ্জে ডিআইজি হিসেবে দুজনকে পদায়ন করা হয়েছে।
অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট, ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখায় (সিটি এসবি), রেলওয়ে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে। এসবি ঢাকার ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) পদে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) মেট্রোরেল পুলিশের ডিআইজি সিদ্দিকী তানজিলুর রহমানকে ঢাকায় সিটি এসবির ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি ইহুদি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। ৮ সেপ্টেম্বর দেশটির পার্লামেন্টে ঘোষিত এ সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে লন্ডনের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপগুলোর একটি বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অভিযোগ করেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী তথাকথিত সেটলার সন্ত্রাসীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। পশ্চিম তীরের এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ বলে মনে করে যুক্তরাজ্য, আর এবারের ঘোষণায় সেই অবস্থানকে সরকারি নীতির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘোষণাকে যুক্তরাজ্যের ইসরায়েল-নীতির সামগ্রিক পুনর্বিন্যাস বলে বর্ণনা করেছেন মিলিব্যান্ড নিজেই। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদে গত জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়া অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই ব্রিটেনের ঐতিহ্য, আর নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো যুক্তরাজ্যের দায়িত্ব’—মার্কিন সাময়িকী ফরচুন এমনটাই জানিয়েছে।নিষেধাজ্ঞায় ঠিক কী থাকছেযুক্তরাজ্য সরকার মূলত পাঁচটি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। প্রথমত, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।দ্বিতীয়ত, বসতি কার্যক্রম থেকে মুনাফা অর্জনকারী বা তাতে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করতে নতুন সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে, যার আওতায় আর্থিক, নির্মাণ, অবকাঠামো ও রিয়েল এস্টেট-সংশ্লিষ্ট সেবাও আসবে।যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন—মোট ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতিশীল, আর ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান রক্ষায় জাতীয় বা ইউরোপীয় পর্যায়ে (ইসরায়েলি অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে) বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের সময় এসেছে।তৃতীয়ত, অবৈধ বসতি এলাকার জমি বা সম্পত্তির বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।চতুর্থত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কাঠামো আরও কঠোর করা হচ্ছে।পঞ্চমত, ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলায় উসকানি বা সহায়তাকারী কয়েকজন উগ্রপন্থী বসতকারীর ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে ইসরায়েলি বসতির প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, বসতি এলাকার আঙুরখেতে উৎপাদিত মদ ও ডেড সির (মৃত সাগর বলে পরিচিত) তীর থেকে সংগৃহীত খনিজ দিয়ে তৈরি প্রসাধনসামগ্রী।এ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন কড়াকড়ি আরোপের কথা জানিয়েছেন মিলিব্যান্ড; যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিতে আসছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন। ২১ জুলাই, ২০২৬এক টেবিলে ১২ দেশযুক্তরাজ্যের এ পদক্ষেপ একক কোনো উদ্যোগ নয়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন—মোট ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতিশীল, আর ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান রক্ষায় জাতীয় বা ইউরোপীয় পর্যায়ে (ইসরায়েলি অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে) বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের সময় এসেছে।—অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীঅন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই ব্রিটেনের ঐতিহ্য, আর নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার লোকজনের পাশে দাঁড়ানো যুক্তরাজ্যের দায়িত্ব।বিবৃতিতে দেশগুলো ইসরায়েলের প্রতি বসতি সম্প্রসারণ ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বিস্তার বন্ধ করা, বসত স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানায়।এর বাইরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পৃথক একটি বিবৃতিতে জানান, অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ এবং বসতি নির্মাণে জড়িত বা তা থেকে মুনাফা অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ তাঁরা নেবেন।বিবৃতিতে বলা হয়, এক বছর আগে তাঁরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, আর দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান রক্ষায় এখনই আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে নিজের প্রথম ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে’ অংশ নিতে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লন্ডন, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইউরোপজুড়ে চাপ বাড়ছেনেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম, স্পেন ও নরওয়ে ইতিমধ্যে ইসরায়েলি বসতির পণ্য নিষিদ্ধ করেছে বা নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।ফ্রান্স চাইছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়েই অনুরূপ বিধিনিষেধ কার্যকর হোক, যদিও জোটভুক্ত ২৭ দেশের মধ্যে এ নিয়ে ঐকমত্য তৈরি এখনো অনেক দূরের পথ।ফিলিস্তিন যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরূপ ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলের নতুন ১৯টি বসতির অনুমোদনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ১৪টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে নিন্দা জানিয়েছিল।তবে সে সময় নিন্দা জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া। এবারই প্রথম নিন্দার গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটল তাদের একাংশ।কেন এখন এ সিদ্ধান্তগত আগস্টে ইসরায়েল বিতর্কিত ‘ই–১’ বসতি প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন ইউনিটের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের বসতিগুলোর সঙ্গে পশ্চিম তীরের ‘মাআলে আদুমিম’ বসতি জোটের সংযোগ ঘটবে। ফলে পশ্চিম তীর কার্যত দুভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।২০২৫ সালের আগস্টে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এ প্রকল্পের ঘোষণা দেন।পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী তথাকথিত সেটলার সন্ত্রাসীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে।জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশন বলছে, গত ১১ থেকে ২৪ আগস্টের মধ্যে বসতি স্থাপনকারীদের চালানো অন্তত ৮০টি হামলায় লোকজন হতাহত অথবা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।এসব ঘটনার কিছু নিয়ে খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও সমালোচনা করতে বাধ্য হয়েছেন।উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আমলে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স স্থগিত করেছিল এবং দেশটির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনাও বন্ধ রেখেছিল।ইসরায়েল–অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম তুরমুস আইয়ার কাছে গড়ে তোলা একটি নতুন ইসরায়েলি বসতি। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ব্রিটেনের ঐতিহাসিক দায়ফিলিস্তিন প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নতুন নয়। ১৯১৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের ঘোষিত বেলফোর ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়েই ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের পথ খোলে, আর পরবর্তী কয়েক দশকে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনই ইহুদি অভিবাসন ও বসতি স্থাপনের ভিত তৈরি হয়।সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের কাছে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।এবারের নিষেধাজ্ঞাকে তাই অনেকে সেই পুরোনো দায় স্বীকারের দেরিতে হলেও একটি স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন, যদিও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।ইসরায়েলের তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপইসরায়েল যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিকতম নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এ ঘোষণার পরপরই জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।জেরেমি করবিন, ডায়ান অ্যাবটসহ ১২ জন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যের ইসরায়েলে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ইসরায়েলের কিরিয়াত গাটে অবস্থিত আন্তর্জাতিক গাজা সহায়তা কেন্দ্র থেকে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীতে ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ বন্ধেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার যুক্তরাজ্যকে অভিযুক্ত করে বলেন, ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ও ইহুদি নববর্ষের ঠিক আগে এ ঘোষণা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের একধরনের চেষ্টা।এ ছাড়া ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি তোলেন এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।উত্তর গাজা থেকে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দক্ষিণ গাজার দিকে হেঁটে যাচ্ছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। মধ্য গাজা উপত্যকা, ৯ নভেম্বর, ২০২৩ওয়াশিংটন ও যুক্তরাজ্যের ভেতরের প্রতিক্রিয়াইসরায়েলি বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন; যদিও ট্রাম্প নিজে এখনো এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।তবে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি কড়া ভাষায় যুক্তরাজ্যের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। এটিকে ইহুদিবিদ্বেষ ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরেও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট। দেশটির প্রধান রাবি এফ্রেইম মিরভিসের সমালোচনার জবাবে মিলিব্যান্ড বলেছেন, ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ায় তিনি দুঃখিত হলেও নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই মনে করেন তিনি।এর আগে মিরভিস এ সিদ্ধান্তকে ব্রিটিশ ইহুদিদের জন্য একটি ‘অন্ধকার দিন’ উল্লেখ করে সতর্ক করেন, এতে হাজারো ফিলিস্তিনি শ্রমিকের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির পররাষ্ট্রবিষয়ক ছায়া মন্ত্রী বা মুখপাত্র টম টুগেনধাট সতর্ক করেছেন, ইসরায়েলকে একঘরে করার এ চেষ্টা ব্রিটেনের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও ইহুদিবিরোধী সহিংসতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ১৪০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা দীর্ঘদিন ধরেই ওই সব বসতি থেকে আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা সরকারের ওপর এ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করেছিল।ফিলিস্তিনিদের স্বাগত জানানোফিলিস্তিন যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরূপ ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।লন্ডনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট এ সিদ্ধান্তকে একটি মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে ইসরায়েলে বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ আরও ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্ট-ফাতাহর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ পদক্ষেপকে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে কাজ করা লোকজনের জন্য এক বিজয় বলে বর্ণনা করেছেন।ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের পাশ দিয়ে সন্তানকে কোলে নিয়ে যাচ্ছেন এক ফিলিস্তিনি নারী। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস, ৪ নভেম্বর, ২০২৪সংখ্যাগত দিক থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কতটা সামান্যনিষেধাজ্ঞাটির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ পরিসংখ্যানেই। ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ৩৫০ কোটি ও আমদানি ২৫০ কোটি পাউন্ডের মতো।অথচ চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সর্বশেষ চার প্রান্তিকে ফিলিস্তিন থেকে যুক্তরাজ্যের রেকর্ড করা মোট বাণিজ্য ছিল মাত্র চার কোটি পাউন্ডের। এর মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০ লাখ পাউন্ড, অর্থাৎ যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল মোট বাণিজ্যের মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।যুক্তরাজ্যের সরকারি বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে পার্থক্য করা হলেও পশ্চিম তীরে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি বসতকারীর উৎপাদিত পণ্য এবং সেখানকার ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে আলাদা কোনো হিসাব রাখা হয় না।ফলে এ সামান্য অঙ্কের পণ্যের মধ্যে ঠিক কতটা প্রকৃতপক্ষে বসতি থেকে আসে, তা ব্রিটিশ সরকারও নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি।লেবেল বদলে পণ্য পাচারের ফাঁকফোকরবসতির পণ্য শনাক্ত করার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরবরাহ-শৃঙ্খলের অস্বচ্ছতা।গত জুনে প্রকাশিত গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টারের ‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে ইউরোপে রপ্তানি হওয়া ইসরায়েলি তাজা কৃষিপণ্যের চালান পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য নিয়মিতভাবে সরবরাহ-শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে পাঠানো হচ্ছে।প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে পরীক্ষিত চালানের প্রায় প্রতি ছয়টির একটিতেই বসতি-উৎসের পণ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো নথিপত্রে ইসরায়েলি পণ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।যুক্তরাজ্যের শুল্ক কর্তৃপক্ষ অবশ্য ইসরায়েল-যুক্তরাজ্য বাণিজ্যচুক্তির আওতায় শুল্কসুবিধা পেতে হলে পণ্যের উৎস হিসেবে নির্দিষ্ট পোস্টকোড ও এলাকার নাম উল্লেখ বাধ্যতামূলক করেছে। আর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ওয়াই৮৬৪ নামের একটি শুল্ক-দলিল কোডও যুক্ত করা হয়েছে, যাতে আমদানিকারককে ঘোষণা দিতে হয়, পণ্যটি ১৯৬৭ সালের পর ইসরায়েলি প্রশাসনের আওতায় আসা এলাকা থেকে আসেনি।তবে আল–জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্লোবাল ইকোর আইনি পরিচালক জেস স্টোবার বলেছেন, আগের ব্যবস্থায় শুল্ক পরিশোধ করলেই বসতির পণ্য বিক্রির অনুমতি পাওয়া যেত। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার আওতায় এখন পণ্য সীমান্তেই আটকে দেওয়া এবং জরিমানার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সরবরাহ–শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে উৎস যাচাইয়ে আরও সতর্ক হওয়ার তাগিদ তৈরি হবে।ইসরায়েল–অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুলকারেমের নূর শামস শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি অভিযানের পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন দেখছেন ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা। ২১ এপ্রিল, ২০২৪যুক্তরাজ্যের নিজস্ব চুক্তিই কি প্রশ্নের মুখেনিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক বসতি কার্যক্রম থেকে মুনাফা অর্জনকারী কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি, যা যুক্তরাজ্য সরকারের নিজস্ব ক্রয়নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে।আল–জাজিরার একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইসরায়েলি অবৈধ বসতির সঙ্গে যুক্ত ১৭টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের সরকারি খাতের প্রায় ২১০ কোটি পাউন্ডের চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের প্রায় ১৭০ কোটি পাউন্ড যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মটোরোলা সলিউশনসের ব্রিটিশ সহযোগী প্রতিষ্ঠান এয়ারওয়েভ সলিউশনসের সঙ্গে, যারা ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পুলিশ, দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা পরিচালনা করে।যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই একটি চুক্তির মূল্যই প্রায় ১৫৬ কোটি পাউন্ড। এ ছাড়া জার্মানির হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস, ফ্রান্সের এজিস, স্পেনের রেল প্রস্তুতকারক সিএএফ ও চীনের ফোসুন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোও এ তালিকায় রয়েছে।গ্লোবাল ইকোর জেস স্টোবার বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতের সঙ্গে সংগতি রেখে যুক্তরাজ্য যদি সত্যিই বাণিজ্য ও নিষেধাজ্ঞা নীতি ঢেলে সাজাতে চায়, তবে নিজস্ব ক্রয়চুক্তিগুলোও একই মানদণ্ডে পরীক্ষা করা উচিত। যুক্তরাজ্য সরকার অবশ্য এ পর্যন্ত এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে আল–জাজিরা।বিশ্লেষকদের সংশয়বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এ নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় বাস্তব কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।আল–জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক তাহানি মুস্তাফা এ পদক্ষেপকে মৃদু বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনায় এর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।একই প্রতিষ্ঠানের আরেক বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, পশ্চিম তীরে গভীরভাবে প্রোথিত বসতিগুলো থেকে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে ভবিষ্যতে ভূমি বিনিময়ের মাধ্যমেই শুধু ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।ইসরায়েল–অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি। ১১ জুলাই, ২০২৪১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম মিলিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে বেড়ে সাড়ে ৭ লাখে পৌঁছেছে।ফরচুন সাময়িকীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিতই থাকবে; কারণ, বসতিগুলো মূলত সামান্য পরিমাণ কৃষিপণ্য রপ্তানি করে। তবে গাজা যুদ্ধের পর ক্রমে একঘরে হয়ে পড়া ইসরায়েলের কাছে এটি তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অসন্তোষেরই এক প্রতীকী বার্তা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।পিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ইসরায়েলে নির্বাচনের আগে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা উল্টো নেতানিয়াহুর প্রতি সহানুভূতি বাড়িয়ে দিতে পারে অথবা ব্রিটিশ ইহুদিদের ওপর হামলার শঙ্কাও তৈরি করতে পারে।ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শীর্ষ প্রার্থীদের কেউই বসতি সম্প্রসারণ বা পশ্চিম তীরের সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করছেন না। এতে যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোর এ পদক্ষেপ স্বল্প মেয়াদে ইসরায়েলি নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।এরপরও ফিলিস্তিনি পক্ষ ও অধিকারকর্মীরা যুক্তরাজ্যের নেওয়া পদক্ষেপকে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান রক্ষার লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।{তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা, এনবিসি নিউজ, এনপিআর, এবিসি নিউজ, পিবিএস নিউজ, দ্য জেরুজালেম পোস্ট, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের ওয়েবসাইট, দ্য কনভারসেশন ও ডেইলি মিরর}
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আরও একবার ভরসা করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান—যে ট্রাম্প সৌদি আরবকে সুরক্ষা দেবেন। তবে ফলাফল সেই আগের মতোই, ট্রাম্প তাঁকে আবারও হতাশ করেছেন।গত সপ্তাহে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুতিরা অগ্রগতি নিশ্চিত করলে মোহাম্মদ বিন সালমান দুবার ফোন করে ট্রাম্পকে মার্কিন সামরিক হামলা চালানোর অনুরোধ জানান। তবে ট্রাম্প তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন; বদলে তিনি কেবল গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।মোহাম্মদ বিন সালমান কেন ভেবেছিলেন ট্রাম্প এবার তাঁর কথায় রাজি হবেন, তা এক রহস্য। কারণ, এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাঁর আগেও হয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় হামলার পর—যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করেছিল—তেহরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্পের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি তখন স্পষ্টভাবেই সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে সৌদি আরবকে রক্ষা করার কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি কখনো দেননি।হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে একটি সাঁজোয়া যানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬সাত বছর পরও রিয়াদ এবং পুরো উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একই ভুল ধারণা কাজ করছে। তাদের ধারণা, যখনই নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসবে। কিন্তু বাস্তব হলো, তারা তা করবে না।এই ধারণা কেবল ভুলই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি নিরাপত্তার ব্যবস্থাটি এখন মৃত। এই বাস্তবতা অস্বীকার করে আগের মতো নাটক চালানো এখন অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যই বড় হুমকি হয়ে উঠছে।ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করে দিয়েছে যে এই ব্যবস্থা আর নির্ভরযোগ্য বা কার্যকর কোনোটিই নয়। উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তার জায়গায় বরং অনিরাপত্তার বড় উৎস হয়ে উঠেছে। এসব ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল যেন ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে না পারে। কিন্তু বাস্তবে উল্টো জিসিসির কয়েকটি দেশের আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধ উসকে দেয়—আর সেই যুদ্ধের ভেতর মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানকে আক্রমণ থেকে ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।বরং এই ঘাঁটিগুলো উল্টো ইরানের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সিআইএর সাবেক পরিচালক ডেভিড পেট্রেয়াস স্বীকার করেছেন যে ইরানের ভয়াবহ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই ঘাঁটিগুলো এখন আর কোনো কাজের নয়। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে নিজের ঘাঁটিগুলোকেই রক্ষা করতে ব্যর্থ, সেখানে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তারা সুরক্ষা দেবে কীভাবে?অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারানতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময়মার্কিন নিরাপত্তা চাদর কিছু বছরের জন্য হয়তো সুরক্ষা দিয়েছিল, কিন্তু ইরানকে বাদ দিয়ে ও কোণঠাসা করে রাখার যে ব্যবস্থার ওপর ভর করে তা তৈরি হয়েছিল, সেটাই শেষ পর্যন্ত আজকের এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পথ তৈরি করে দিয়েছে। জোটভিত্তিক এই আঞ্চলিক রাজনীতি কোনো সুরক্ষাবর্ম হতে পারেনি, বরং ওয়াশিংটনের সহযোগী দেশগুলোর অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে উঠেছে।তবে প্রতিটি সংকটই নতুন সুযোগের জন্ম দেয়। পুরোনো ব্যবস্থার পতন একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে—এমন এক ব্যবস্থা, যা হবে সর্বজনীন ও যৌথ নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এখানে কোনো পক্ষভিত্তিক জোট থাকবে না এবং বাহ্যিক কোনো শক্তির হাতে এর চাবিকাঠি না থেকে দায়িত্ব থাকবে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর হাতেই।এর অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যের অর্ধেক দেশকে অন্য অর্ধেকের বিরুদ্ধে ব্যবহারের মার্কিন নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আঞ্চলিক দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব বিরোধ নিজেরাই সমাধানের উপযোগী স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।হুতিরা যে কারণে সরাসরি ইরান যুদ্ধে জড়ালহুতিদের সঙ্গে যুদ্ধে আমেরিকা কেন পিছু হটলইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি ধ্বংসাত্মক সংঘাত হিসেবে শেষ হতে পারে, যা কেবল দুর্দশা আর ধ্বংসাবশেষই রেখে যাবে। আবার এটি একটি ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট বা মোড়ও হতে পারে।ইরানকে চিরতরে এই ব্যবস্থা থেকে বাদ দিয়ে রাখা অসম্ভব। আর ইসরায়েলকে কেবল তখনই এই নতুন ব্যবস্থার অংশ করা যেতে পারে, যখন তারা ফিলিস্তিনে তাদের অবৈধ দখলদারির অবসান ঘটাবে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোও ওয়াশিংটনের ওপর চিরকাল নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে না।তুরস্ক, পাকিস্তান কিংবা ইরাককে আর প্রান্তিক দেশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আর ছোট দেশগুলোও কোনো পরাশক্তির হাত ধরে টিকে থাকবে—এমন ভাবাও ভুল।যুক্তরাষ্ট্রের ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট’-এর ‘বেটার অর্ডার প্রজেক্ট’-এর মূল ভিত্তি এটিই। মধ্যপ্রাচ্যের ব্যর্থ সামরিক প্রতিরোধ, জোট ও বিদেশি হস্তক্ষেপের রাজনীতি বাদ দিয়ে একটি সর্বজনীন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।ইয়েমেনে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত উড়োজাহাজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি বিদ্রোহীরা। তাঁদের দাবি, এটি সৌদি আরবের একটি যুদ্ধবিমান। মারিব, ইয়েমেন, ১৬ সেপ্টেম্বরএই নতুন ব্যবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সব দেশ—ইরান, তুরস্ক, ইরাক ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্র—একটি স্থায়ী সংস্থায় অংশ নেবে। যুদ্ধ দূর করা নয়, বরং নিজেদের মধ্যে থাকা অনিবার্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলো নিয়ন্ত্রণ করাই হবে এর কাজ। এটি সংকটকালে যোগাযোগ, সংঘাত নিরসন, মধ্যস্থতা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি পানি, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলোয় একসঙ্গে কাজ করবে।আঞ্চলিক দেশগুলোই তাদের নিরাপত্তার প্রাথমিক দায়িত্ব নেবে। আর যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলের স্থায়ী সামরিক নিশ্চয়তাকারী না হয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহ্যিক অংশীদার হিসেবে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিরাপত্তা সহযোগিতা দিয়ে যেতে পারবে।হুতিদের হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি এখন কী করতে পারেবড় অনুপ্রেরণাগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কাঠামো উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত থেকে আলাদা করে দেখবে না। ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধান না করে কেবল উপসাগরে নতুন নিরাপত্তা চুক্তি করলে তা অস্থিতিশীলতার নতুন উৎসেরই জন্ম দেবে।তাই এই মডেলের শর্ত হওয়া উচিত যে ইসরায়েলের জন্য এই নতুন জোটের দরজা সব সময় খোলা থাকবে, তবে তার প্রবেশমূল্য হবে ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন।এটি হয়তো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নিরর্থক ও অবৈধ দখলদারি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা বন্ধ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী উদ্দীপক হিসেবে কাজ করতে পারে। ২০০২ সালের ‘আরব পিস ইনিশিয়েটিভ’ (স্বীকৃতির বদলে স্বীকৃতি) কিংবা ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ (সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বদলে স্বাভাবিকীকরণ)-এর মতো নয়—এই প্রস্তাব ইসরায়েলকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরেই সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, যদি তারা ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রগঠনের অধিকার স্বীকার করে নেয়।এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এক বড় জয় হবে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন জনগণ মধ্যপ্রাচ্যে অনর্থক সম্পদ না ঢেলে মার্কিন সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনার পক্ষে সোচ্চার।হুতির হামলায় মক্কা চুক্তি কি কার্যকর হবেহুতিদের হাতে বাব আল-মানদেব গেলে যা হবেযুক্তরাষ্ট্র চাইলেই সামরিক উপস্থিতি ও ব্যয় বিপুল পরিমাণে কমিয়েও এখানে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গভীরভাবে যুক্ত থাকতে পারে। আর আঞ্চলিক দেশগুলো সামরিক প্রতিযোগিতায় না নেমে যৌথভাবে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরা নিতে পারবে।মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে এসব চিন্তাভাবনা হয়তো অনেকের কাছে একটু ভাবালু বা অবাস্তব মনে হতে পারে। তবে মানবতার সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর ছাই থেকেই কিন্তু নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার মহৎ সব দর্শনের জন্ম হয়েছে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্ম হয়েছিল, যা ফ্রান্স ও জার্মানির শত বছরের বৈরিতাকে বদলে একটি যৌথ ইউরোপীয় প্রকল্পের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। স্নায়ুযুদ্ধের চরম মুহূর্তে, যখন ইউরোপ দুই পারমাণবিক শক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিভক্ত ছিল, তখনই শুরু হয়েছিল ‘হেলসিঙ্কি প্রক্রিয়া’—যা সেই বৈরিতা সামলানোর জন্য নতুন নিয়ম ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিল।ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ধ্বংসাত্মক আরেকটি অধ্যায় হতে পারে, কিংবা এটি হতে পারে এমন এক মোড়, যা এই অঞ্চলকে একটি টেকসই ও শান্তিময় ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে।তবে এর কোনোটিই আপনা-আপনি হবে না। এটি তখনই সম্ভব, যখন আঞ্চলিক নেতারা কোনো কাল্পনিক মার্কিন ‘ত্রাতা’র কাছে ফোন করার বদলে নিজেদের দেশগুলোকেই নিজেদের ভবিষ্যতের উত্তর হিসেবে দেখতে শুরু করবেন।ত্রিতা পারসি কুইন্সি ইনস্টিটিউটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির বিশ্লেষখ
রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ বাজারের পাশে জুতা সেলাই করেন অনন্ত চন্দ্র দাস। এ কাজের ফাঁকে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস তাঁর। ২৩ বছর ধরে পত্রিকা কিনে পড়েন তিনি। বিস্তারিত ভিডিওতে…