প্রচণ্ড গরমে ঘেমে-নেয়ে যখন আপনি এসির রিমোট খুঁজছেন কিংবা ফ্যানের রেগুলেটর ফুল স্পিডে ঘুরিয়ে দিয়েও শান্তি পাচ্ছেন না, ঠিক তখন ইউরোপীয় জলবায়ু সংস্থা কোপার্নিকাস শোনাল এক ভয়ংকর খবর। সদ্য বিদায় নেওয়া অগাস্ট মাসটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে উত্তপ্ত মাস! চারপাশের এই হাঁসফাঁস করা গরম কোনো আকস্মিক বিষয় নয়। মানুষের তৈরি করা জলবায়ু পরিবর্তন ও শক্তিশালী এল নিনোর যৌথ হামলায় আমাদের এই চিরচেনা নীল গ্রহটি এখন রীতিমতো একটি ফুটন্ত কড়াইতে পরিণত হয়েছে।
কোপার্নিকাসের তথ্যমতে, গত মাসে পুরো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬.৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৈশ্বিক গড়ের হিসাবটি সারা পৃথিবীর দিন-রাত এবং মেরু অঞ্চলের বরফশীতল তাপমাত্রার সঙ্গে মিলিয়ে করা হয় বলে সংখ্যাটি আপনার কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু বিজ্ঞানীদের কাছে এটি রীতিমতো একটি সাইরেন! এই তাপমাত্রা গত বছরের জুলাই মাসের রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রার একেবারে সমান।
মানুষের তৈরি করা জলবায়ু পরিবর্তন ও শক্তিশালী এল নিনোর যৌথ হামলায় আমাদের এই চিরচেনা নীল গ্রহটি এখন রীতিমতো একটি ফুটন্ত কড়াইতে পরিণত হয়েছে।
রাস্তায় বের হলে যখন রোদের তাপে পিঠ পুড়ে যায়, তখন আমরা অনেকেই বেশ অবাক হয়ে বলি, ‘আরে! এত গরম কেন আজ?’ কিন্তু টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু ডেসলার এই অবাক হওয়া ব্যাপারটিতে বেশ বিরক্ত। তাঁর সোজাসাপ্টা কথা, এই গ্রহের তাপমাত্রা যে লাগামহীনভাবে বাড়বে, তা বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক আগেই একেবারে নিখুঁতভাবে বলে দিয়েছিলেন। তাই এখন আকাশ থেকে পড়ার কোনো মানেই হয় না! ডেসলার বেশ চমৎকার একটি উপমা টেনেছেন। তিনি বলেন, আমরা এমন এক অদ্ভুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বিশাল ট্রেন আমাদের পিষে ফেলার জন্য ছুটে আসছে। আর আমরা ট্রেনটি থামানোর কোনো চেষ্টা না করে, ঠিক রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে বোকার মতো সেটির দিকে তাকিয়ে আছি!
২০১৫ সালের ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে একটি বিপদসীমা ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল—পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের চেয়ে কোনোভাবেই ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে দেওয়া যাবে না। কিন্তু বিদায়ী আগস্ট মাস সেই সীমানাকে রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ১.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ ছিল। কোপার্নিকাস-এর তথ্য বলছে, গত বছরের জুলাই মাস থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত টানা আটটি মাস আগের সব গরমের রেকর্ড তছনছ করে দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এবারের গ্রীষ্মকাল এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, গত প্রায় ৯০ বছর ধরে টিকে থাকা অনেক দেশের পুরোনো সব তাপপ্রবাহের রেকর্ড এবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একসময় মানুষের ধারণা ছিল, এটি হয়তো অনেক দূরের কোনো ব্যাপার। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে বা দূরবর্তী কোনো দ্বীপ ডুবে যাচ্ছে; এমন খবরে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুব একটা যায়-আসত না। কিন্তু কোপার্নিকাসের জলবায়ু প্রধান সামান্থা বার্জেস জানাচ্ছেন, ‘সেই দিন আর নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা এখন সরাসরি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এসে পড়েছে। তীব্র দাবদাহের কারণে স্কুল বন্ধ করে দিতে হচ্ছে, হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীতে হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে, পিচঢালা রাস্তা গরমে গলে যাচ্ছে, এমনকি রেললাইনও অতিরিক্ত তাপে বেঁকে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।’
শুধু ডাঙাতেই নয়, পানির নিচেও চলছে আরেক তাণ্ডব। গত ২২ অগাস্ট ছিল বিশ্বের সমুদ্রগুলোর ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তপ্ত দিন! বিশ্বজুড়ে এবারের গ্রীষ্মকাল এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, গত প্রায় ৯০ বছর ধরে টিকে থাকা অনেক দেশের পুরোনো সব তাপপ্রবাহের রেকর্ড এবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রায় বড়জোর শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ যোগ করে। বাকি পুরো বিশাল উত্তাপের দায়ভার শতভাগ আমাদের অর্থাৎ মানুষের।
অনেকেই গরমের সব দায়ভার এল নিনোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বেশ তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশের এই প্রাকৃতিক ও সাময়িক উষ্ণতা অবশ্যই আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন আসল সত্যটা ভিন্ন। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ু বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক অটো বেশ কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, এল নিনো হয়তো গরমের আগুনে একটু ঘি ঢেলেছে, কিন্তু আসল আগুনটা জ্বালিয়েছে আমাদের নিজেদের পোড়ানো জীবাশ্ম জ্বালানি। কয়লা, তেল আর গ্যাসের এই লাগামহীন ব্যবহার বন্ধ না করা পর্যন্ত এমন হাড়কাঁপানো গরমের রেকর্ড ভাঙার খেলা চলতেই থাকবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রায় বড়জোর শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ যোগ করে। বাকি পুরো বিশাল উত্তাপের দায়ভার শতভাগ আমাদের অর্থাৎ মানুষের।
ফ্রেডেরিক অটো বেশ কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, এল নিনো হয়তো গরমের আগুনে একটু ঘি ঢেলেছে, কিন্তু আসল আগুনটা জ্বালিয়েছে আমাদের নিজেদের পোড়ানো জীবাশ্ম জ্বালানি।
আপনি যদি ভাবেন ২০২৬ সালের এই গরমই সবচেয়ে ভয়ংকর, তবে আপনার জন্য আরও বড় দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে। বার্কলে আর্থ-এর জলবায়ু বিজ্ঞানী জেকে হাউসফাদার সতর্ক করে জানিয়েছেন, খুব সম্ভবত ২০২৬ সাল গতবারের রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হতে চলেছে। আর ২০২৭ সাল এই দুই বছরকেই টপকে যাবে! সে বছর বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের চেয়ে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিয়েল পুরো পরিস্থিতিকে মানুষের ‘জীবাশ্ম জ্বালানির প্রতি আসক্তি’-এর চরম মূল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আমরা যদি এখনই সতর্ক না হই, তবে এই চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া শুধু লাখ লাখ মানুষের প্রাণই কাড়বে না, বরং অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে এবং চাল-ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাবে। তাই প্রকৃতির এই চরম প্রতিশোধ থেকে বাঁচতে হলে এসি ছেড়ে বসে থাকার চেয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর দিকে নজর দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই!
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের বাজারে বেড়েছে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও আলুর দাম। যা বাড়তি চাপ ফেলছে সাধারণ ক্রেতার ওপর। তবে, স্বস্তির দিক হলো, চাল, ডাল, ডিম, ভোজ্যতেল ও মাংসের দাম আগের সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।
আবুধাবির গরমে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন তানজিদ হাসান। ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করে মাত্র ৪১ বলেই তুলে নিয়েছেন ফিফটি। তাঁর সঙ্গে সাদমান ইসলামের ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দারুণ শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ।
আবুধাবিতে ব্যাট হাতে দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না, শুরুতেই তার প্রমাণ দিচ্ছেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলাম।