জাতীয়

পরবর্তী খলিফা হিসেবে কেন ওমরকে বেছে নিয়েছিলেন আবু বকর

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
পরবর্তী খলিফা হিসেবে কেন ওমরকে বেছে নিয়েছিলেন আবু বকর
পরবর্তী খলিফা হিসেবে কেন ওমরকে বেছে নিয়েছিলেন আবু বকর

হিজরি ১৩ সনের জমাদিউস সানি মাস। মাত্র দুই বছর তিন মাসের শাসনামলে আরবের বুক থেকে গৃহযুদ্ধ ও ধর্মত্যাগের উত্তাল ঝড় থামিয়ে সবেমাত্র এক স্থিতিশীল রাষ্ট্রের ভিত্তি দাঁড় করিয়েছেন প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন।

বুঝতে পারলেন, তাঁর সময় ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাঁর অবর্তমানে এই নবীন রাষ্ট্রের কাণ্ডারি কে হবেন? আরবের চিরাচরিত গোত্রপ্রীতি আর রাজনৈতিক অনৈক্যের যে আগুন তিনি এত দিন কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন, নেতৃত্বের শূন্যতায় তা কি পুনরায় জ্বলে উঠবে?

তিনি পরবর্তী খলিফা হিসেবে মনোনীত করলেন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে। কিন্তু কেন ওমর? মদিনায় যখন আরও বহু প্রবীণ, সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও কোমল হৃদয়ের সাহাবি উপস্থিত ছিলেন, তখন কেন তিনি ওমরের মতো এক তীব্র ব্যক্তিত্বের ওপর রাষ্ট্রের ভার তুলে দিলেন?

এমনকি আবু বকরের নিজের যোগ্য সন্তানেরাও তখন মদিনায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের পরিবার কিংবা গোত্রের কাউকে উত্তরাধিকারী করার কথা ভাবেননি।

যোগ্যতার অগ্রাধিকার

রাজনৈতিক ক্ষমতার ইতিহাসে উত্তরাধিকার নির্বাচন মানেই সাধারণত নিজের রক্ত, পরিবার কিংবা গোত্রের কাউকে মসনদে বসানো। অথচ আবু বকরের এই মনোনয়নে স্বজনপ্রীতির ছায়া ছিল না।

আবু বকর নিজে ছিলেন কোরাইশের বনু তাইম গোত্রের মানুষ; অন্যদিকে ওমরের শেকড় ছিল বনু আদি গোত্রে। তাঁদের মধ্যে এমন কোনো নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না যার ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তর স্বাভাবিক মনে হতে পারে।

এমনকি আবু বকরের নিজের যোগ্য সন্তানেরাও তখন মদিনায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের পরিবার কিংবা গোত্রের কাউকে উত্তরাধিকারী করার কথা ভাবেননি।

ইসলামি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গবেষকগণ বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে পরবর্তীকালের রাজতান্ত্রিক ‘যুবরাজ প্রথা’ বা উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে আবু বকরের সিদ্ধান্তের কোনো দূরতম সম্পর্কও ছিল না; বরং এটি ছিল সংকটকালে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সবচেয়ে যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিটিকে বাছাই করার এক রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। (মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন আর-রায়িস, আন-নাজারিইয়াতুস সিয়াসিয়্যাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১১২, দারুত তুরাস, কায়রো, ১৯৭৬)।

কঠোরতার আবরণে সুবিচারের নিশ্চয়তা

ওমরের ব্যক্তিত্বের যে দিকটি নিয়ে বেশি সংশয় ছিল, তা হলো তাঁর কঠোর মেজাজ। অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, ওমরের এই কঠোরতা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রজাদের জন্য ভারী হয়ে উঠবে। কিন্তু আবু বকর (রা.) ভালোভাবেই জানতেন, ওমরের এই তেজ কোনো ব্যক্তিগত অহমিকা নয়; এটি হলো ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকার শক্তি।

রাসুল (সা.) মক্কার চরম সংকটে ওমরের এই তেজস্বী ব্যক্তিত্বের জন্যই দোয়া করেছিলেন, “হে আল্লাহ, আবু জাহেল কিংবা ওমর ইবনুল খাত্তাব—এই দুজনের মধ্যে যে আপনার কাছে অধিক প্রিয়, তাকে দিয়ে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৬৮১)

সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছিলেন, “ওমর যেদিন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, সেদিন থেকেই আমরা সবসময় সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬৮৪)

আবু বকর নিশ্চিত ছিলেন, যুদ্ধকবলিত এই সংকটময় মুহূর্তে পারস্য ও রোমের মতো আগ্রাসী শক্তিগুলোর মোকাবিলা করতে হলে ওমরের চেয়ে দৃঢ়চেতা ও আপসহীন ব্যক্তিত্ব আর দ্বিতীয় কেউ হতে পারে না।

পরীক্ষিত প্রজ্ঞা

ওমর (রা.) ছিলেন বিরল প্রজ্ঞা ও গভীর রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী এক রাষ্ট্রনায়ক। মদিনার দশ বছরের জীবনে এমন বহু জাতীয় ও সামাজিক সংকট এসেছিল, যেখানে ওমর যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে নাজিল হওয়া কোরআনের আয়াত তাঁর অভিমতকে সমর্থন করেছিল।

তিনি বলতেন, “আমার প্রতিপালকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমার মতামত তিনটি বিষয়ে হহুহু মিলে গিয়েছিল: মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান নির্ধারণ করা, পর্দার বিধান এবং রাসুলের স্ত্রীদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪০২)

রাসুল (সা.) নিজেও সাহাবিদের জানিয়ে গিয়েছিলেন “তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্যে এমন কিছু প্রজ্ঞাবান মানুষ ছিলেন, যাঁদের অন্তরে সত্যের অনুপ্রেরণা আসত; আমার এই উম্মতের মধ্যে যদি তেমন কেউ থেকে থাকে, তবে সে নিশ্চিতভাবেই ওমর ইবনুল খাত্তাব।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬৮৯)

সহচর ও সমালোচক

আবু বকরের পুরো শাসনকালজুড়ে ওমর ছিলেন তাঁর প্রধানতম রাজনৈতিক পরামর্শক।ওমর ছিলেন এমন এক সাহসী সহযোদ্ধা, যিনি জনস্বার্থে খলিফার সামনে দাঁড়িয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পিছপা হতেন না।

স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যখন আবু বকর (রা.) কঠোর সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন, তখন ওমর শুরুতে এর বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু আবু বকর যখন ধর্মের অবিভাজ্যতার অকাট্য যুক্তি তুলে ধরলেন, তখন ওমর (রা.) কোনো জেদ না দেখিয়ে মুহূর্তেই নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, “আল্লাহর কসম, আমি যখন দেখলাম আল্লাহ আবু বকরের অন্তরকে এই সিদ্ধান্তের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, তখনই বুঝলাম এটিই একমাত্র সত্য।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪০০)

আবু বকর অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন নিজেদের মধ্য থেকে কাউকে নেতা বানিয়ে নিতে। কিন্তু সাহাবিরা বিভেদের আশঙ্কায় খলিফার প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রেখে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেন।

নিবিড় পরামর্শের ফসল

আবু বকর অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন নিজেদের মধ্য থেকে কাউকে নেতা বানিয়ে নিতে। কিন্তু সাহাবিরা বিভেদের আশঙ্কায় খলিফার প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রেখে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেন। (আলি ইবনুল হাসান ইবনে আসাকির, তারিখু দিমাশক, ৩০/৪১২, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৫)

জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পরও তিনি মদিনার শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও গ্রহণযোগ্য সাহাবিদের সঙ্গে একান্তে দীর্ঘ পরামর্শ করেন। প্রথমে শীর্ষ সাহাবি আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)-কে ডেকে ওমরের ব্যাপারে তাঁর মতামত জানতে চান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আল্লাহর শপথ, আপনি তাঁর সম্পর্কে যতটা উচ্চ ধারণা পোষণ করেন, তিনি বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি যোগ্য; তবে তাঁর মেজাজে কিছুটা কঠোরতা রয়েছে।’

আবু বকর তখন অত্যন্ত দূরদর্শী এক জবাব দেন; তিনি বলেন, ‘ওমর মূলত আমাকে নরম মনের মানুষ দেখে নিজে কঠোর ভূমিকা পালন করে; কিন্তু যখন নেতৃত্বের সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁর নিজের কাঁধে এসে পড়বে, তখন সে নিজেই অনেক নমনীয় ও ধৈর্যশীল হয়ে যাবে।’

এরপর সাহাবি ওসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর মতামত জানতে চান। তিনিনির্দ্বিধায় সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, “হে খলিফা, ওমরের বাইরের চেয়ে তাঁর ভেতরের রূপ আরও শতগুণ সুন্দর ও পবিত্র; আর সত্য কথা হলো, আমাদের মাঝে তাঁর সমকক্ষ কোনো দ্বিতীয় মানুষ নেই।” (মুহাম্মদ ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৩/১৯৯, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)

আনসার ও মুহাজিরদের শীর্ষ প্রতিনিধিদের এই ঐক্যবদ্ধ আস্থার পরই আবু বকর চূড়ান্ত দলিল প্রস্তুত করেন। আলি তানতাবি যথার্থই লিখেছেন, “ওমরের এই মনোনয়ন কোনো স্বৈরতান্ত্রিক ফরমান ছিল না; বরং তা পরিচালিত হয়েছিল শুরার সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে।” (আত-তানতাবি, আবু বকর আস-সিদ্দিক, পৃষ্ঠা: ২৫০, দারুল মানারা, জেদ্দা, ১৯৮৬)

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
প্রেম দেখাতে চুম্বন নয় যথেষ্ট হয়ে উঠছে খেলার মাঠ
প্রেম দেখাতে চুম্বন নয় যথেষ্ট হয়ে উঠছে খেলার মাঠ

নতুন প্রজন্মের প্রেমের গল্পে কি যৌনতার জায়গা দখল করছে খেলাধুলা? নেটফ্লিক্সের নতুন টিন ড্রামা ‘ক্রু গার্ল’–এর জনপ্রিয়তা এবং সাম্প্রতিক আরও কিছু রোমান্টিক সিরিজের দিকে তাকালে এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। এসব গল্পে প্রেম আছে, আকর্ষণ আছে, শরীরী টানও আছে; কিন্তু তা প্রকাশ পাচ্ছে নৌকাবাইচ, হকি, রাগবি, আইস ড্যান্সিং, সাঁতার কিংবা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার মধ্য দিয়ে। প্রেমিক-প্রেমিকার ঘনিষ্ঠতা দেখাতে এখন আর সব সময় চুম্বন বা যৌন দৃশ্যের প্রয়োজন হচ্ছে না। একই দলে খেলা, একসঙ্গে অনুশীলন করা, প্রতিযোগিতার চাপ ভাগ করে নেওয়া, কিংবা কোনো হ্রদের ধারে পাশাপাশি বসে থাকাও হয়ে উঠছে প্রেমের ভাষা। বিশেষ করে জেন–জি দর্শকদের জন্য তৈরি সিরিজে এই পরিবর্তনটি বেশ স্পষ্ট। ‘ক্রু গার্ল’–এর গল্পে প্রেম, অর্থ আর নৌকাবাইচ নেটফ্লিক্সের ‘ক্রু গার্ল’–এর কেন্দ্রীয় চরিত্র ১৬ বছর বয়সী টিগান তাও। সে একা নৌকাবাইচে অংশ নেওয়া চ্যাম্পিয়ন। খেলাটির প্রতি তার নিষ্ঠা প্রবল। কিন্তু হোটেল ব্যবসায়ী বাবা আর্থিক অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে গেলে টিগানের জীবন একমুহূর্তে বদলে যায়।মা এলাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যেতে হয়। নতুন ঠিকানা নিউ ইংল্যান্ডের একটি পুরোনো, প্রায় ভেঙে পড়া বাড়ি। পরিচিত জীবন, বন্ধু, স্কুল—সবকিছু পেছনে ফেলে নতুন জায়গায় শুরু করতে হয় টিগানকে। বাবার তৈরি একটি শিক্ষা ট্রাস্টের সহায়তায় টিগান ভর্তি হয় ইস্টন প্রেপ স্কুলে। কিন্তু সেখানে মেয়েদের কোনো নৌকাবাইচ দল নেই। ফলে নিজের পছন্দের খেলাটি চালিয়ে যেতে তাকে ছেলেদের দলে যোগ দিতে হয়। দলের মূল খেলোয়াড় না হয়ে সে ‘কক্সওয়েন’ হিসেবে কাজ করে—নৌকায় বসে অন্যদের গতি, ছন্দ ও সমন্বয় ঠিক রাখার দায়িত্ব নেয়।‘ক্রু গার্ল’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি নতুন স্কুলে টিগানের সামনে শুধু খেলাধুলার চ্যালেঞ্জ নয়, তৈরি হয় প্রেমের জটিলতাও। দলের দুই ছেলের প্রতি তার আকর্ষণ তৈরি হয়। একজন ক্যাম ডিলিংগার। সে ছোট শহরের শ্রমজীবী পরিবারের ছেলে। শান্ত, ভদ্র ও সহানুভূতিশীল ক্যাম টিগানের প্রতি আন্তরিক। অন্যদিকে জশ রেজিস ধনী পরিবারের সন্তান। সে দাম্ভিক, উচ্ছৃঙ্খল এবং নিজের অবস্থান নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী।জশের পরিবার বিমান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। নিজের চাচাতো ভাই রাইডারের সঙ্গে পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে তার প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে জশের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রেম, অর্থ ও পারিবারিক ক্ষমতার লড়াই একসঙ্গে কাজ করে।টিগানের গল্পের বাইরে সিরিজে আরও কিছু সম্পর্কের রেখা আছে। নৌকাবাইচ দলের সদস্য বালু গোপনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে টিগানের মা এলার জীবনেও তৈরি হয় আলাদা এক প্রেমের গল্প। পুরোনো এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ধীরে ধীরে এমন জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে দর্শক ভাবতে থাকেন—তাঁরা কি শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে হবেন?‘ক্রু গার্ল’ শুধু কিশোর-কিশোরীদের প্রেমের গল্প নয়। এখানে আছে পারিবারিক সংকট, শ্রেণিগত পার্থক্য, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্বসহ অনেক কিছুই।‘ক্রু গার্ল’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি পরিচিত গল্প‘ক্রু গার্ল’–এর গল্পে নতুনত্ব খুব বেশি নেই। ত্রিভুজ প্রেম, ছোট শহর, নতুন স্কুলে আসা, ধনী ও সাধারণ পরিবারের ছেলেদের মধ্যে পার্থক্য—এসব টিন ড্রামার পরিচিত উপাদান। টিগান একই সঙ্গে বহিরাগত এবং প্রতিভাবান। নতুন জায়গায় তাকে নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়। এই পথেই প্রেম, বন্ধুত্ব ও প্রতিযোগিতা একসঙ্গে এগোয়।সমালোচকেরা সিরিজটির এই পরিচিত কাঠামো নিয়ে একমত হলেও খেলাধুলার ধরনটিকে কিছুটা নতুন সংযোজন হিসেবে দেখেছেন। এত দিন টিন স্পোর্টস রোমান্সে হকি, বাস্কেটবল বা ফুটবল বেশি দেখা গেলেও ক্রু গার্ল বেছে নিয়েছে নৌকাবাইচকে।ডিসাইডারের সমালোচনায় বলা হয়েছে, সিরিজটি হকির বদলে নৌকাবাইচকে সামনে এনেছে। গল্পে পুরোনো ত্রিভুজ প্রেম, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও স্কুলজীবনের নানা পরিচিত উপাদান থাকলেও নৌকাবাইচের মতো তুলনামূলক কম ব্যবহৃত একটি খেলাকে কেন্দ্রীয় জায়গায় বসানো সিরিজটির আলাদা বৈশিষ্ট্য। সমালোচকের মতে, মিকু মার্তিনোর অভিনয়ে টিগান চরিত্রটি প্রাণবন্ত হয়েছে।তবে সবাই এতটা প্রশংসা করেননি। ভ্যারাইটির সমালোচনায় বলা হয়েছে, ‘ক্রু গার্ল’ দেখতে সুন্দর হলেও বাস্তবতার অভাব, খাপছাড়া সংলাপ এবং একই ধরনের বিষয় বারবার ফিরে আসায় সিরিজটি শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।অন্যদিকে রটেন টমেটোজ–এ প্রকাশিত সমালোচনাগুলোতে সিরিজটির পরিচিত গল্পের মধ্যেও আকর্ষণ খুঁজে পাওয়া গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ক্রু গার্ল’ নতুন কিছু যোগ না করলেও পরিচিত গল্পকে রোমান্টিক টান ও নৌকাবাইচের রোমাঞ্চ দিয়ে এগিয়ে নেয়।সিরিজটির প্রধান অভিনেত্রী মিকু মার্তিনোও গল্পের এই মিশ্রণ নিয়ে কথা বলেছেন। নেটফ্লিক্সের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কৈশোরের সময়টা যেমন অগোছাল, তেমনই সুন্দর। বন্ধুত্ব, প্রেম, পরিবার—সবকিছু একসঙ্গে সামলানোর অভিজ্ঞতাই সিরিজটির মূল বিষয়।মার্তিনোর মতে, ‘ক্রু গার্ল’ শুধু কিশোর দর্শকদের জন্য নয়; ত্রিশ, চল্লিশ বা তার বেশি বয়সী দর্শকেরাও এতে নিজেদের কৈশোরের স্মৃতি খুঁজে পেতে পারেন। তাঁর কাছে এটি মূলত বড় হয়ে ওঠার গল্প—যেখানে প্রেমের পাশাপাশি পরিবার, বন্ধুত্ব ও নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার বিষয়ও আছে।সিরিজটির নির্মাতা ভিভিয়ান লিন। গল্পে টিগানকে এমন এক জগতে রাখা হয়েছে, যেখানে তাকে প্রথমে ‘বাইরের মানুষ’ হিসেবে দেখা হয়। ছেলেদের দলে জায়গা করে নিতে তাকে শুধু নিজের ক্রীড়া দক্ষতা প্রমাণ করলেই হয় না; তাকে দলের সদস্যদের আস্থা অর্জন করতে হয়। এই জায়গায় খেলাধুলা হয়ে ওঠে মেয়েটির আত্মপরিচয় তৈরির পথ।ত্রিভুজ প্রেমের পুরোনো ছকটিগানের প্রেমের গল্পে ক্যাম ও জশ দুই বিপরীত মেরুর মানুষ। ক্যাম সাধারণ পরিবারের ছেলে। তার মধ্যে আছে নির্ভরতা ও আন্তরিকতা। জশের আছে অর্থ, সামাজিক ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়, পারিবারিক চাপ ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।‘ক্রু গার্ল’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি এ ধরনের চরিত্র টিন রোমান্সে নতুন নয়। একদিকে থাকে নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক, অন্যদিকে থাকে বিপজ্জনক কিন্তু তীব্র আকর্ষণ। দর্শককে ভাবতে হয়, নায়িকা কাকে বেছে নেবে—যে তাকে বুঝতে পারে, নাকি যে তাকে চ্যালেঞ্জ করে?‘ক্রু গার্ল’–এ এই দ্বন্দ্বকে আরও জটিল করেছে খেলাধুলা। কারণ ক্যাম ও জশ শুধু প্রেমের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, একই দলের খেলোয়াড়ও। ফলে মাঠের প্রতিযোগিতা ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গে মিশে যায়। একজনের সাফল্য অন্যজনের ব্যর্থতা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবার দলের স্বার্থে তাদের একসঙ্গে কাজ করতেও হয়।টিন রোমান্সে খেলাধুলা এত গুরুত্ব কেনসাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ দর্শকদের জন্য তৈরি প্রেমের সিরিজে খেলাধুলার উপস্থিতি বেড়েছে। ‘অফ ক্যাম্পাস’ ও ‘হিটেড রাইভালরি’–তে হকি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ, লকাররুম, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা প্রেমের আবহ তৈরি করে। ‘ফাইন্ডিং হার এজ’–এ আইস ড্যান্সিং, ‘হার্টস্টপার’–এ রাগবি এবং ‘ক্রু গার্ল’–এ নৌকাবাইচ একই কাজ করছে।খেলাধুলা এখানে শুধু আকর্ষণীয় শরীর দেখানোর উপায় নয়। একজন খেলোয়াড় যখন অন্যজনের সঙ্গে একই লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজ করে, তখন তাদের মধ্যে অন্য ধরনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তারা একসঙ্গে ক্লান্ত হয়, ব্যর্থ হয়, আবার উঠে দাঁড়ায়। একে অপরের শরীরের শক্তি, দুর্বলতা ও সীমা সম্পর্কে জানতে পারে। এই অভিজ্ঞতা প্রেমের গল্পকে আরও গভীর করে।‘ক্রু গার্ল’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি প্রকৃতির কাছে ফিরে আসাসাম্প্রতিক টিন রোমান্সে শুধু খেলাধুলা নয়, প্রকৃতির উপস্থিতিও বেড়েছে। হ্রদ, নদী, নৌকা, ঘাট, সাঁতার, রোদে শুয়ে থাকা কিংবা গ্রীষ্মকালীন বাড়ি—এসব দৃশ্য বারবার ফিরে আসে।‘এভরি ইয়ার আফটার’ ও ‘স্টার্লিং পয়েন্ট’–এর মতো গল্পে প্রকৃতি শুধু পটভূমি নয়; সম্পর্ক তৈরির জায়গা। চরিত্রগুলো অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। ফলে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফোন ও অনলাইন জীবনের বাইরে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে।এই বিচ্ছিন্নতা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জেন–জি প্রজন্মের বড় একটি অংশ এমন সময়ে বড় হয়েছে, যখন সম্পর্কের বড় অংশই অনলাইনে তৈরি ও পরিচালিত হয়। ফলে নতুন গল্পগুলোতে বাস্তব জায়গা, শরীর ও স্পর্শের ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।কোনো হ্রদের ধারে বসে থাকা, একসঙ্গে সাঁতার কাটা কিংবা অনুশীলনের পর ক্লান্ত শরীরে পাশাপাশি শুয়ে থাকা—এসব দৃশ্যে সরাসরি যৌনতা নেই। কিন্তু সেখানে শরীরী আকর্ষণ, লজ্জা, কৌতূহল ও ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি থাকে।সমুদ্র, গুপ্তধনের খোঁজ আর বন্ধুত্ব, শেষ হচ্ছে তরুণদের জনপ্রিয় সেই সিরিজযৌনতার বদলে ‘নিরাপদ’ ঘনিষ্ঠতাএই পরিবর্তনের পেছনে জেন–জি দর্শকদের যৌনতা নিয়ে দ্বিধা কাজ করছে বলে মনে করছেন অনেকে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা ও আলোচনায় বলা হয়েছে, তরুণ প্রজন্ম পর্দায় যৌন দৃশ্য নিয়ে আগের তুলনায় বেশি অস্বস্তিবোধ করছে। বাস্তব জীবনেও তরুণদের যৌন সম্পর্কে জড়ানোর হার কমেছে—যে প্রবণতাকে অনেক সময় ‘সেক্স রিসেশন’ বলা হয়।এর পেছনে অতিরিক্ত অনলাইননির্ভর জীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ এবং কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার প্রভাব থাকতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা বা যৌন অনুভূতি কমে গেছে। বরং যৌনতা নিয়ে লজ্জা, উদ্বেগ ও অস্বস্তি বেড়েছে।তাই টিন রোমান্সে এমন কিছু দৃশ্যের প্রয়োজন হচ্ছে, যা সরাসরি যৌনতার দিকে না গিয়েও শরীরী ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি তৈরি করে। সাঁতারের পোশাক, ঘামে ভেজা শরীর, নৌকাবাইচের মেশিন, লকাররুম কিংবা পাশাপাশি অনুশীলন করা সেই মধ্যবর্তী জায়গা তৈরি করছে।খেলাধুলা যেন একধরনের নিরাপদ অজুহাত। চরিত্রগুলো একে অন্যের শরীরের কাছাকাছি আসে, কিন্তু সেটিকে সরাসরি যৌন আকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখানো হয় না। তারা দৌড়ায়, পড়ে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়। একে অন্যকে প্রতিযোগিতায় জিততে সাহায্য করে। শারীরিক পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আস্থা ও আকর্ষণ।প্রেমের গল্পে যৌনতা থাকতেই পারে। কিন্তু ঘনিষ্ঠতার একমাত্র ভাষা যৌনতা নয়।সাম্প্রতিক সময়ে ‘যৌনতা এড়িয়ে চলা’ সিরিজগুলোর মতো ‘ক্রু গার্ল’ও সে পথই বেছে নিয়েছে।টাইমস অবলম্বনে

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমভিসা বন্ধ করল লাওস

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমভিসা বন্ধ করল লাওস

দেশের বাজার ছাপিয়ে বিশ্ববাজারের পথে

দেশের বাজার ছাপিয়ে বিশ্ববাজারের পথে

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

‘এখানে এসে মনে হলো, আপনারা আমাদের জন্য ভালো কিছু ভাবেন’
‘এখানে এসে মনে হলো, আপনারা আমাদের জন্য ভালো কিছু ভাবেন’

শরতের সকাল থেকেই ভ্যাপসা গরম। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বর। সারিতে দাঁড়িয়ে কেউ নিচ্ছে ক্রেস্ট ও উপহার। কেউ ছবি তুলছে, কেউবা ভিড় জমিয়েছে গেম জোনে। এভাবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬’।সকাল ১০টার দিকে বন্ধুসভার বন্ধুদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল মঞ্চের আয়োজন।অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছে কৃতী শিক্ষার্থী শাহরিয়া ফেরদৌস (লিসা)। সে জেলার নতুনহাট সফিউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবার রংপুরের বেগম রোকেয়া কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সে। শাহরিয়া বলে, ‘এখানে আসব বলে কাল থেকেই মনের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছিল। এখানে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।’মো. আক্তারুজ্জামান নামের একজন শিক্ষার্থী বলে, ‘এখানে এসে মনে হলো, আপনারা আমাদের জন্য ভালো কিছু ভাবেন। এ ধরনের আয়োজন আমাদের এবং ছোট ভাইবোনদের আরও উজ্জীবিত করবে।’ফটোবুথে ছবি তুলছে শিক্ষার্থীরাপ্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।প্রথম আলো যাত্রার শুরু থেকেই নতুন প্রজন্মের কৃতী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে সংবর্ধনা দিয়ে আসছে। ১৯৯৯ সালে মেধাতালিকায় সেরাদের সংবর্ধনা দেওয়া শুরু হয়। জিপিএ পদ্ধতি চালুর পর ২০০১ সাল থেকে সারা দেশে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার এ আয়োজন চলছে।কৃতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অতিথিরাএবার পঞ্চগড় পর্বের উৎসবে অংশ নিতে সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ ও সফল ব্যক্তিদের বক্তব্য, সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি রয়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজন।এবারের অনুষ্ঠানটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় আছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
সার পাচারের অভিযোগ, ডিলার বলছেন ‘সাজানো নাটক’

সার পাচারের অভিযোগ, ডিলার বলছেন ‘সাজানো নাটক’

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর

একঝলক (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

একঝলক (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

আদালতে চুক্তিপত্র দেখিয়ে জামিন, পরে বেরিয়ে এল জালিয়াতির তথ্য
আদালতে চুক্তিপত্র দেখিয়ে জামিন, পরে বেরিয়ে এল জালিয়াতির তথ্য

এক কোটি টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ব্যবসায়ী আজিবর রহমানকে অপহরণের মামলায় কারাগারে ছিলেন চার আসামি। জামিন পেতে আদালতে দাখিল করা হলো একটি ‘যৌথ অংশীদারি বিনিয়োগ চুক্তিপত্র’। নথিতে দেখানো হলো, আজিবরের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। সেই নথি দেখেই মিলল জামিন। কিন্তু পরে ভুক্তভোগী জানালেন, এমন কোনো চুক্তির কথাই তিনি জানেন না। পুলিশের তদন্তে নথিটিকে ‘জাল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তিপত্রের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আদালত উত্তরা পশ্চিম থানার একজন উপপরিদর্শককে তদন্তের নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই করে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আজিবরের সঙ্গে আসামিদের কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি বা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর আদালত চার আসামির জামিন বাতিল করে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই ঘটনায় জাল নথি তৈরি ও ব্যবহার, আদালতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং প্রতারণার অভিযোগে আলাদা মামলাও হয়েছে। মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবিমামলার নথি অনুযায়ী, গত ৯ জুন উত্তরা পশ্চিম থানার ৩ নম্বর সেক্টর এলাকায় পরিচিত একজনের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী আজিবর রহমান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাজলক্ষ্মী মার্কেটের সামনে একটি সাদা গাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যান।স্বজনেরা আর টাকা দিতে পারবেন না জানালে তাঁদের চেক দিতে বলা হয়। পরে জানানো হয়, আজিবরকে হালান অটোস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ে আসা হবে। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আজিবরকে উদ্ধার করে।এজাহারে বলা হয়েছে, অপহরণকারীরা আজিবরের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁর চোখ ও মুখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। এরপর স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।আজিবর বাড়িতে না ফেরায় ১১ জুন উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তাঁর স্বজনেরা। সেই রাতেই আজিবরের মেসেঞ্জার থেকে তাঁর স্ত্রীর কাছে ভিডিও কল আসে। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে আটকে রেখে মারধর করছে। এরপর আবারও এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।২৫ লাখ টাকা দিয়েও মেলেনি মুক্তিমামলার নথি সূত্রে আরও জানা গেছে, আজিবরকে উদ্ধারের আশায় স্বজনেরা টাকা জোগাড় করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।১৪ জুন অপহরণকারীদের নির্দেশ অনুযায়ী দক্ষিণখান এলাকার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি হিসাবে ২০ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। একই হিসাবে আজিবরের ভাগনে জহুরুল ইসলামের চাচাতো ভাই সোহেল রানা নিজের হিসাব থেকে আরও ৫ লাখ টাকা পাঠান বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়। —মেহেদী হাসান, তদন্ত কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক, উত্তরা পশ্চিম থানাআজিবরকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, সোনারগাঁসহ বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাঁকে মারধর করা হয়। আসামিপক্ষ আদালতে যে চুক্তিপত্র দাখিল করেছে, সেটির পক্ষে কোনো প্রমাণও তাঁরা দেখাতে পারেননি।টাকা পাওয়ার পর অপহরণকারীরা আজিবরের মেসেঞ্জার থেকে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। জানায়, টাকা পাওয়া গেছে। কিন্তু আজিবরকে ছেড়ে দেওয়ার বদলে আরও টাকা দাবি করা হয়।স্বজনেরা আর টাকা দিতে পারবেন না জানালে তাঁদের চেক দিতে বলা হয়। পরে জানানো হয়, আজিবরকে হালান অটোস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ে আসা হবে। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আজিবরকে উদ্ধার করে।উদ্ধারের পর আজিবরকে উত্তরা কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।এ ঘটনায় ১৫ জুন উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন আজিবরের ভাগনে জহুরুল ইসলাম। মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার হন মো. সজীব মিয়া (২৯), আবদুল আলীম বাবু (৩০), মো. ময়নুদ্দিন (৪০) ও মহিউদ্দিন (৩৬)।জামিনের জন্য আদালতে ‘চুক্তিপত্র’ দাখিলকারাগারে থাকা চার আসামির পক্ষে ১৮ জুন আদালতে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী শাহ মোহাম্মদ শাহীন হাসান।২২ জুন জামিন শুনানির সময় আদালতে দাখিল করা হয় ‘যৌথ অংশীদারি বিনিয়োগ চুক্তিপত্র’ নামে একটি দলিল। এতে আজিবর রহমানের সঙ্গে আসামিদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও লেনদেনের কথা উল্লেখ ছিল। নথিটি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।গত ২২ জুন জামিন শুনানির সময় আদালতে দাখিল করা হয় ‘যৌথ অংশীদারি বিনিয়োগ চুক্তিপত্র’ নামে একটি দলিল। এতে আজিবর রহমানের সঙ্গে আসামিদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও লেনদেনের কথা উল্লেখ ছিল। নথিটি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।কিন্তু পরে এই চুক্তিপত্রের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২৬ জুলাই মামলার ধার্য তারিখে বাদী ও ভুক্তভোগী পক্ষ আদালতকে জানান, আসামিদের সঙ্গে তাঁদের কোনো আপসনামা বা ব্যবসায়িক চুক্তি হয়নি। আদালতে দাখিল করা চুক্তিপত্র সম্পর্কেও তাঁরা কিছু জানেন না।এরপর চুক্তিপত্রটি সত্য কি না, তা তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসানকে নির্দেশ দেন আদালত।সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকও জানেন নাতদন্তে পুলিশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আল-ফারাবি ট্রেডার্স লিমিটেডের মালিক শরিফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আদালতে দাখিল করা চুক্তিপত্রটির সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, জানতে চাওয়া হয়।তদন্ত কর্মকর্তার কাছে শরিফুল ইসলাম জানান, এ ধরনের কোনো চুক্তি তাঁর প্রতিষ্ঠানে হয়নি।বাদী জহুরুল ইসলাম ও ভুক্তভোগী আজিবর রহমানও এমন কোনো চুক্তির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে তদন্তে জানান।৮ আগস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মেহেদী হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আজিবর রহমানের সঙ্গে আসামিদের কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন বা চুক্তির সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা গেছে, মুক্তিপণ আদায়ের জন্যই আজিবরকে অপহরণ করা হয়েছিল। —শাহ মোহাম্মদ শাহীন হাসান, আসামিপক্ষের আইনজীবীআসামিরা জানিয়েছেন, আদালতে দাখিল করা নথিটি আসল। আজিবর রহমানের সঙ্গে আসামিদের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছিল, মুক্তিপণের জন্য নয়।তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আজিবরকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, সোনারগাঁসহ বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাঁকে মারধর করা হয়। আসামিপক্ষ আদালতে যে চুক্তিপত্র দাখিল করেছেন, সেটির পক্ষে কোনো প্রমাণও তাঁরা দেখাতে পারেননি।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এজাহারভুক্ত আসামি আবদুল আলীম বাবুকে চুক্তিপত্রের বিষয়ে প্রত্যক্ষ বা দালিলিক প্রমাণ দিতে বলা হলেও তিনি তা পারেননি। আসামি সজীব ও আলীমের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা আছে। এ ছাড়া সজীবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও আছে।হাজির না হওয়ায় জামিন বাতিলজামিনের পর এই মামলায় আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার তারিখ ছিল ৯ আগস্ট। কিন্তু সেদিন তাঁরা আদালতে হাজির হননি।এরপর আদালত তাঁদের জামিন বাতিল করে চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আদালতে দাখিল করা কথিত চুক্তিপত্রের বিষয়ে জাল নথি ও প্রতারণার অভিযোগে আলাদা মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় নতুন মামলা করেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. হেলাল উদ্দিন।নতুন মামলায় দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২, ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৩৪ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা জাল দলিল তৈরি ও ব্যবহার করেছেন, আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং পরস্পরের যোগসাজশে এসব করেছেন।এসআই হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, আসামিরা আদালতকে ভুল বুঝিয়ে জামিন নিয়েছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা চুক্তিপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছিল।হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, আদালত এক হাজার টাকার বন্ডে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত আসামিদের জামিন দিয়েছিলেন। পরে ভুক্তভোগী পক্ষ চুক্তিপত্রের বিষয়ে আপত্তি জানালে আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে নথিটি জাল বলে উঠে আসে। এরপর আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়।মান যাচাই করে হেলমেট কিনছেন তো, আমদানির সাড়ে ২৪ শতাংশ নিরাপত্তা পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণআসামিপক্ষের দাবি, চুক্তিপত্রটি আসলতবে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোহাম্মদ শাহীন হাসান পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন।এই আইনজীবী প্রথম আলোকে বলেন, আসামিরা তাঁকে জানিয়েছেন, আদালতে দাখিল করা নথিটি আসল। তাঁর দাবি, আজিবর রহমানের সঙ্গে আসামিদের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছিল, মুক্তিপণের জন্য নয়।আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, তিনি আবদুল আলীম বাবুকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন। তবে তিনি এখনো আত্মসমর্পণ করেননি।নথিটি কীভাবে জাল প্রমাণিত হলো, সে প্রশ্নও তোলেন আইনজীবী। তাঁর দাবি, পুলিশ এ বিষয়ে আসামিদের যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।তবে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিপত্রের পক্ষে প্রত্যক্ষ বা দালিলিক প্রমাণ দিতে বলা হলেও আবদুল আলীম বাবু তা পারেননি।গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মে জড়িত এই আমলারা, জানতে চাইলে জবাব, ‘আমি একা করি নাকি’‘আমি তাঁদের আগে কখনো দেখিনি’ভুক্তভোগী আজিবর রহমান অবশ্য আসামিদের সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওরা আমাকে তুলে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আটকে রাখে। টাকার জন্য বেধড়ক মারধর করে। আমি আসামিদের আগে কখনো দেখিনি, চিনিও না। তাঁদের সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনও নেই।’আজিবর বলেন, তিনি এখনো অসুস্থ। আসামিরা যে নথি দেখিয়ে জামিন নিয়েছিলেন, সেটিও ভুয়া। তাঁদের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের চুক্তি বা লেনদেনের সম্পর্ক ছিল না।নিজের মুঠোফোনের ফাঁস হওয়া তথ্য দেখে মন্ত্রী বললেন, এটা কীভাবে সম্ভবনতুন মামলায় গ্রেপ্তার দুজনজাল নথি দাখিল ও প্রতারণার অভিযোগে করা নতুন মামলাটি এখন তদন্ত করছে কোতোয়ালি থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি চারজন। তাঁদের মধ্যে এজাহারভুক্ত মহিউদ্দিন ও তদন্তে পাওয়া আসামি ওসমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক।তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জাল নথি কীভাবে তৈরি হলো, কারা এটি তৈরি ও আদালতে দাখিলের সঙ্গে জড়িত এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মামলার নথি অনুযায়ী, জাল নথি দাখিলের অভিযোগে করা নতুন মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
৫০ বছর আগের তেতো স্মৃতি উসকে বিদায় ইউনাইটেডের

৫০ বছর আগের তেতো স্মৃতি উসকে বিদায় ইউনাইটেডের

স্থিতিশীল রয়েছে কম্পিউটার পণ্যের দাম

স্থিতিশীল রয়েছে কম্পিউটার পণ্যের দাম

শিক্ষক মূল্যায়ন কেন ডাকসুর এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ

শিক্ষক মূল্যায়ন কেন ডাকসুর এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ

0 Comments