জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে পাঁচজনের সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক।
রায়ে আদালত ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করেন।
নির্বাচনে হলফনামা অনুসারে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সম্পত্তির হিসাব এখানে দেওয়া হলো। তবে শেখ ফজলে শামস পরশ নির্বাচনে অংশ নেননি। তাঁর হলফনামা না থাকায় সম্পত্তির হিসাব পাওয়া যায়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
কাদেরের কত সম্পদ
‘ডামি নির্বাচন’ নামে পরিচিত ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ওবায়দুল কাদের (নোয়াখালী-৫) হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁর ঘোষিত সম্পদের তথ্য জানা যায়।
ওবায়দুল কাদের দেখিয়েছিলেন, তাঁর হাতে আছে নগদ ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আছে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র আছে প্রায় দেড় কোটি টাকার। গাড়ি একটি, যার দাম ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২৫ তোলা সোনার দাম ওবায়দুল কাদের দেখিয়েছিলেন দেড় লাখ টাকা। তাঁর ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে বলে হলফনামায় দেখানো হয়েছিল।
সব মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ওবায়দুল কাদেরের স্থাবর সম্পদ হিসেবে শুধু ঢাকার উত্তরায় ৫ কাঠা জমি দেখানো হয়েছে। এই জমির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
নাছিমের কত সম্পদ
২০২৪ সালের নির্বাচনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ঢাকা–৮ আসন থেকে অংশ নিয়েছিলেন।
হলফনামা অনুযায়ী, নাছিমের হাতে নগদ টাকা ছিল ৭ কোটি ৬৯ লাখ। ব্যাংকে ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ। বিভিন্ন কোম্পানিতে তাঁর মালিকানা, অর্থাৎ শেয়ার এবং বন্ডের মূল্য ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৬০ লাখ টাকার। তাঁর দুটি গাড়ি আছে, যার দাম প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। ২৫ ভরি সোনার দাম তিনি সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। ইলেকট্রনিস সরঞ্জাম ও আসবাবের দাম তিনি দেখিয়েছেন সোয়া ১০ লাখ টাকা।
নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
নাছিমের স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। তাঁর অকৃষি জমি রয়েছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে; পরিমাণ ১৫৩ শতাংশ। জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
ঢাকার উত্তরায় নাছিমের একটি ভবন রয়েছে। তার দাম ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ঢাকার মিরপুরে তাঁর একটি ফ্ল্যাট আছে। যার দাম ৪৫ লাখ টাকা।
নাছিমের মোট স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার।
আরাফাতের কত সম্পদ
মোহাম্মদ আলী আরাফাত ঢাকা–১৭ আসন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেন। এরপর আরাফাত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী হন।
আরাফাতের নামে স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। হলফনামায় এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ছাড়া তাঁর নামে অন্য কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য নেই।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আরাফাতের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ শেয়ারে। নয়টি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে তাঁর নামে, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে।
সব মিলিয়ে আরাফাতের নিজের নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
নিখিলের সম্পদে জমি, গাড়ি ও এফডিআর
ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় স্থাবর সম্পদের তালিকায় কৃষি ও অকৃষিজমির তথ্য রয়েছে। একটি কৃষিজমি প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমি ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
নিখিলের তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণিতে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে ১ কোটি টাকার একটি এফডিআরও (ব্যাংকে স্থায়ী আমানত) রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তাঁর তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। নিখিলের সাড়ে ৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিছানার পাশে বা নাইটস্ট্যান্ডে প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা অনেকের কাছেই বেশ সুবিধাজনক। বিশেষ করে নিয়মিত কোনো ওষুধ খেতে হলে ঘুম থেকে উঠে বা রাতে সহজেই যেন হাতের কাছে পাওয়া যায়, সে জন্য অনেকে ওষুধের পাতা বা ওষুধের বক্স বিছানার পাশেই রেখে দেন। কিন্তু সুবিধাজনক মনে হলেও ওষুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ কোথায় এবং কীভাবে রাখা হচ্ছে, তা ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। বেশিরভাগ ওষুধের জন্য ঠান্ডা, শুষ্ক জায়গা উপযোগী হলেও নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের আলাদা সংরক্ষণ নির্দেশনা থাকতে পারে। তাই ওষুধের প্যাকেট বা লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ভুল ওষুধ বা অতিরিক্ত ডোজের ঝুঁকি রাতে ঘুমের ঘোরে বা অন্ধকারে ওষুধ খাওয়ার সময় ভুল হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। বিশেষ করে একই জায়গায় একাধিক ওষুধের পাতা রাখা থাকলে একটি ওষুধের বদলে অন্যটি নেওয়া কিংবা নির্ধারিত ডোজের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলার ঘটনা ঘটতে পারে। আবার বিভিন্ন ওষুধে একই সক্রিয় উপাদান থাকতে পারে, ভুলভাবে একাধিক ওষুধ গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ডোজের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে নাম, ডোজ ও ব্যবহারের নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। রাতে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে অন্ধকারে হাতড়ে ওষুধ না খেয়ে আলো জ্বালিয়ে প্যাকেটের নাম ও ডোজ দেখেখেওেত হবে। বিশেষ করে একাধিক ওষুধ খেলে এই অভ্যাস আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাপ ও আর্দ্রতায় নষ্ট হতে পারে ওষুধ সব ওষুধ একই পরিবেশে সংরক্ষণ করা যায় না। কিছু ওষুধ অতিরিক্ত তাপ, আর্দ্রতা বা আলোতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ওষুধ সাধারণত ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় রাখা উচিত, যদি না লেবেলে অন্য কোনো সংরক্ষণ নির্দেশনা দেওয়া থাকে। অতিরিক্ত তাপ বা অনুপযুক্ত সংরক্ষণে কিছু ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়। তাই বিছানার পাশে জানালার সরাসরি রোদ, অতিরিক্ত গরমের উৎস বা আর্দ্র জায়গা থাকলে সেখানে ওষুধ রাখা ঠিক নয়। এসি বা ঘরের স্বাভাবিক আলোই কিছু ওষুধ নষ্ট করে দিতে পারে। ওষুধের লেবেলে দেওয়া সংরক্ষণ নির্দেশনাই শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখুন বাড়িতে শিশু থাকলে বিছানার পাশে খোলা জায়গায় ওষুধ রাখা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। রঙিন ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল দেখে শিশু কৌতূহলবশত তা মুখে দিয়ে ফেলতে পারে। এমনকি শিশুরা না পৌঁছালেও বিছানা বা টেবিল সরানোর সময় ওষুধ নিচে পড়ে যেতে পারে। এফডিএ-এর পরামর্শ হলো, ওষুধ শিশুদের দৃষ্টির বাইরে ও নাগালের বাইরে নিরাপদ জায়গায় রাখা এবং ব্যবহারের পর প্যাকেট বা কৌটো ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা। পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। মেঝেতে পড়ে থাকা একটি ট্যাবলেটও তাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। পানির গ্লাসের পাশেও সাবধান অনেকে রাতে ওষুধ খাওয়ার সুবিধার জন্য বিছানার পাশে পানির গ্লাসের সঙ্গে ওষুধও রেখে দেন। এতে হাত লেগে পানি পড়ে ওষুধের প্যাকেট বা ট্যাবলেট ভিজে যেতে পারে। পানি বা আর্দ্রতার সংস্পর্শে কিছু ওষুধের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এফডিএ--ও ওষুধকে আর্দ্রতা ও পানির ক্ষতি থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়। তবে খোলা পানির গ্লাসে রাতভর ‘ব্যাকটেরিয়া জমে গিয়ে ওষুধ খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই মূল সতর্কতা হওয়া উচিত পানি পড়ে ওষুধ ভিজে যাওয়া এবং ওষুধের সংরক্ষণ ঠিক রাখা। ওষুধ রাখবেন যেখানে বিছানার পাশে খোলা অবস্থায় না রেখে ওষুধ এমন একটি ঠান্ডা, শুষ্ক ও নিরাপদ জায়গায় রাখুন, যেখানে শিশু বা পোষা প্রাণী পৌঁছাতে পারে না। ওষুধের লেবেলে যদি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আলো বা ফ্রিজে রাখার নির্দেশনা থাকে, সেটিই অনুসরণ করুন। আরও পড়ুন গরম ডাল-ভাতে লেবু মেশালে ভিটামিন সি থাকে তো? সম্ভব হলে প্রতিটি ওষুধ তার মূল প্যাকেট বা কৌটার মধ্যেই রাখুন। এতে ওষুধের নাম, ডোজ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা সহজে দেখা যায়। বিভিন্ন ওষুধ একসঙ্গে একটি অচেনা কৌটায় মিশিয়ে রাখা উচিত নয়। আরও পড়ুন প্রথম সন্তান আসার পর নতুন বাবাদের অভিজ্ঞতা কেমন হয়? আর রাতে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে আলো জ্বালিয়ে নাম ও ডোজ নিশ্চিত করে তারপর সেবন করুন। কোনো ওষুধ ভুল করে বেশি খেয়ে ফেললে বা শিশু ওষুধ খেয়ে ফেললে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ বা স্থানীয় জরুরি চিকিৎসা নিয়ন্ত্রণ সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, টাইমস অব ইন্ডিয়া এসএকেওয়াই
এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি ‘রিলেশনশিপ ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি পদের নাম রিলেশনশিপ ম্যানেজার পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর অভিজ্ঞতা ৪-৭ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাবর্ডার গার্ড বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার সহজ উপায়সেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
বিশ্বকাপের পর প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এর মাঝে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সবাই ভেবেছিলেন প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার এই স্কোয়াড হবে পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখার।মানে মেসি-পরবর্তী অধ্যায়ের। কিন্তু মেসির প্রভাব এমনই যে তিনটি প্রীতি ম্যাচের একটিতে আর্জেন্টিনা তাঁকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর স্কোয়াড থেকে সবার চোখ ঘুরে গেছে কিংবদন্তির ওপর। সব আলোচনায় এখন বেনিনের বিপক্ষে মেসির বিদায়ী ম্যাচ। রোমান ভেগা কি তাতে একটু আড়ালে পড়ে গেলেন?মেসির জন্য বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করছে আর্জেন্টিনা, খেলবেন শেষবারের মতোঅবশ্যই। তবে ২২ বছর বয়সী এই লেফট ব্যাক এখনো এমন কোনো তারকা হয়ে ওঠেননি, যাঁর ওপর আলাদা করে চোখ রাখতে হয়। আসলে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলে সবারই চোখ থাকে নতুন কারও ওপর। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার তো এ বিষয়ে সমর্থকদের আগ্রহ ছিল আরও বেশি। কারণ মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কেমন হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। কিন্তু সেই স্কোয়াডেও মেসি থাকায় রোমান ভেগা যে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডাক পেলেন, সেটা হয়তো অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গেছে।তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্কোয়াডে রোমানই সবচেয়ে বড় চমক। টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা রোমান আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনে সমস্যার সমাধান হতে পারেন, যেখানে খেলোয়াড়ের সংকট রয়েছে।ভেগার পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও। ভেগার খেলার ধরন কেমনতাঁর পজিশন লেফট ব্যাক। কিন্তু খেলতে পারেন মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও। ওদিকে আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে নিকোলাস তালিয়াফিকো দীর্ঘদিন সেবা দিচ্ছেন। এখনই তাঁর বয়স ৩৪ বছর। আগামী বিশ্বকাপের আগে এই পজিশনে তাই কাউকে তৈরি করতে হবে। সম্ভবত এই ভাবনা থেকেই ভেগাকে দলে ডেকেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।ভেগা বাঁ পায়ের ফুটবলার। বিরামহীনভাবে উইং ধরে ওঠা-নামা করতে পারেন। আক্রমণে ওঠার পথে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ড্রিবলিং করে পেছনে ফেলতে পারেন হরহামেশাই। গতি, ম্যাচ রিড করার ক্ষমতা, পায়ের কাজ, খেলা নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী শট নেওয়ায় এরই মধ্যে বেশ নজর কাড়ছেন ভেগা।উঠে আসার পথটা যেমন ছিলডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স। এই কারণে ক্লাবটিকে কেউ কেউ ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ও বলেন। ভেগা উঠে এসেছেন এই ক্লাব থেকেই। বয়সভিত্তিক দল থেকে ২০২১ সালে এই ক্লাবের হয়ে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে তাঁর অভিষেক।বুয়েনস এইরেসে ২০০৪ সালে জন্মানো ভেগার বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তাঁকে ৫০ হাজার ইউরোয় এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠায় জুনিয়র্স। ৪৫ লাখ ইউরোয় পরে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ থাকলেও বার্সা সে পথে হাঁটেনি। কাতালান ক্লাবটির ‘বি’ দলে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবারও আর্জেন্টিনার ক্লাবটিতে ফেরেন ভেগা। জুনিয়র্সের একাদশে ধীরে ধীরে নিয়মিত হন। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচে ১ গোলের সঙ্গে ৩টি গোল করিয়েছেন।২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ।ভেগা ডাক পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলেও। অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ৫ ম্যাচ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ২ ম্যাচ খেলার পথে তাঁকে দেখা গেছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও।২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভেগাকে ৯০ লাখ ডলারে কেনে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। চুক্তি হয় পাঁচ বছরের। শুরুতে ক্লাবটির মূল দলে নিয়মিত তাঁকে দেখা না গেলেও এখন নিয়মিতই খেলছেন। গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগ জয়ের পথে খেলেন ১৪ ম্যাচ, সব মিলিয়ে মৌসুমে ২৩ ম্যাচ। এ বছর জিতেছেন রাশিয়ান সুপার কাপও। সব মিলিয়ে রাশিয়ান ক্লাবটির হয়ে এ পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা।মজার ব্যাপার, ভেগা জেনিতে যোগ দেওয়ার ছয় মাস পরই তাঁকে কিনতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। কিন্তু সেই দর–কষাকষি আর আলোর মুখ দেখেনি।ক্লাব ফুটবলে ভালো খেলাটা ধরে রাখলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে ভেগাকে নিয়মিত দেখা যাবে বলে ধারণা দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর। সন্দেহ নেই ভেগা সেই চেষ্টাই করবেন। অন্তত জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দেখে সেটাই মনে হয়, ‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’ভেগা খেলেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও।ভেগার স্বপ্ন তো পূরণ হলো। এখন আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নপূরণের পালা। পারবেন তো? এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচটি বলিভিয়ার বিপক্ষে। ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো। এরপর বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবর শেষ প্রীতি ম্যাচ। স্কালোনির নজর কাড়তে ভেগাকে যা করার এসব ম্যাচেই করতে হবে।