জাতীয়

ডেনিম থেকে ক্যাশমিয়ার, কারুশিল্প থেকে কতুর: ১৮ বছর পর নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে ফিরে সব্যসাচীর চমক

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ডেনিম থেকে ক্যাশমিয়ার, কারুশিল্প থেকে কতুর: ১৮ বছর পর নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে ফিরে সব্যসাচীর চমক
ডেনিম থেকে ক্যাশমিয়ার, কারুশিল্প থেকে কতুর: ১৮ বছর পর নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে ফিরে সব্যসাচীর চমক

প্রায় ১৮ বছর পর নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে ফিরলেন সব্যসাচী মুখার্জি। ২০০৯ সালের পর আবারও নিউইয়র্কের রানওয়েতে দেখা গেল তাঁর কালেকশন। এবারের সংগ্রহের নাম ‘বেঙ্গল বাইজান্টাইন ব্রডওয়ে’। এখানে কলকাতার কারুশিল্প, বাইজান্টাইনের ঐতিহ্য আর নিউইয়র্কের আধুনিকতা মিলেছে এক ভিন্ন স্টাইলভাষায়।

শো শুরু হয় আন্তর্জাতিক সুপারমডেল ক্রিস্টি টার্লিংটনের লুকে। তাঁর পরনে ছিল কানাডিয়ান টাক্সিডোর অনুপ্রেরণায় তৈরি ডেনিম অন ডেনিম। পুরো সংগ্রহেই সব্যসাচী এমন সব পরিচিত পোশাককে নতুনভাবে হাজির করেছেন, যা দেখতে সহজ, কিন্তু খেয়াল করলে বোঝা যায় এর পেছনে রয়েছে সূক্ষ্ম কারুশিল্প ও অসংখ্য হাতে করা কাজ।

ডেনিম, শার্ট আর ভারতীয় কারুশিল্প

প্লেইড শার্ট, ক্লাসিক নীল জিনস, ডেনিম ভেস্ট, কাউবয় হ্যাট। পশ্চিমা পোশাকের পরিচিত উপাদানগুলোকে সব্যসাচী মিশিয়েছেন ভারতীয় কারুশিল্পের সঙ্গে। জাপানি ডেনিম, ব্রিটিশ টুইড, ক্যাশমিয়ার, মোহেয়ার ও ভেলভেটের সঙ্গে দেখা গেছে ফ্লুইড ট্রাউজার্স, ড্রেপড স্কার্ট, ছোট জ্যাকেট ও কামারবান্ড।

শুধু পোশাকেই নয়, এই সংগ্রহের প্রতিটি ডিটেইলেই ছিল কারিগরদের দক্ষতার ছাপ। হাতে বিড করা ঝলমলে কোটের ভেতরে ছিল বিশেষভাবে হাতে কুইল্ট করা লাইনিং। আবার কিছু জ্যাকেটে টিউলের ওপর বসানো হয়েছে কাউ-প্রিন্ট এমব্রয়ডারির প্যাচ। ভারতীয় কারুশিল্পের সঙ্গে আমেরিকান ওয়েস্টার্ন স্টাইলের এই মেলবন্ধনই হয়ে উঠেছে সংগ্রহটির অন্যতম আকর্ষণ।

সব্যসাচীর ভাষায়, এটি তাঁর কাছে আমেরিকানা ও ভারতীয় কারুশিল্পের এক নিখুঁত মিশ্রণ। তাঁর নকশা একই সঙ্গে রেডি-টু-ওয়্যার ও ডেমি-কুতুরের মাঝামাঝি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে।

পোশাক মিনিমাল, গয়নায় চমক

সব্যসাচীর এই সংগ্রহের পোশাকগুলো মিনিমাল। প্রথম দেখায় হয়তো খুব বেশি চমক চোখে পড়ে না। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়, এই নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর আসল সৌন্দর্য। পোশাকের কাট, কাপড়, কারুকাজ এবং ফিনিশিং ধীরে ধীরে নিজের গল্প বলে।

অন্যদিকে গয়নায় ছিল ঠিক তার উল্টো চিত্র। দৃষ্টি কাড়ার মতো বড় সাইজের সলিড-গোল্ড জুয়েলারি, রঙিন রত্নখচিত কাফ, মোটা রিং ও প্রাচীন স্থাপত্য ও সংস্কৃতির অনুপ্রেরণায় তৈরি অলংকার পুরো রানওয়েতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

এই সংগ্রহে সব্যসাচী দ্য মেটের সঙ্গে একটি নতুন ফাইন জুয়েলারি সহযোগিতাও সামনে এনেছেন। প্রাচীন বাইজান্টাইন ও অন্যান্য ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম থেকে অনুপ্রাণিত এই গয়নাগুলোই যেন মিনিমাল পোশাকের সবচেয়ে জোরালো বক্তব্য হয়ে উঠেছে।

‘লাক্সারি’ মানে কি শুধু জাঁকজমক?

সব্যসাচীর বক্তব্যে এই প্রশ্নটাই বারবার ফিরে আসে। তাঁর কাছে লাক্সারির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হাতে তৈরি কাজ। তিনি বলেছেন, “হ্যান্ডমেড” অর্থাৎ মানুষের হাতে তৈরি জিনিসই লাক্সারির শেষ সীমা।

এই ধারণা তাঁর সাম্প্রতিক সংগ্রহেও স্পষ্ট। এখানে পোশাকের আড়ম্বরের চেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে কারিগরের হাতের কাজ। কলকাতায় তৈরি হওয়া নকশাগুলোকে তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যাতে ভারতীয় ঐতিহ্য কেবল অতীতের স্মৃতি হয়ে না থাকে, বরং আধুনিক ফ্যাশনের ভাষা হয়ে ওঠে।

ভারতকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা

সব্যসাচীর কাছে ভারত মানেই শুধু পরিচিত কিছু প্রতীক নয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এমন এক ভারতের কথা, যেখানে ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও আধুনিকতা পাশাপাশি পথ চলে। ভারতীয় কারুশিল্পকে তিনি তাই সাজসজ্জার অলংকার হিসেবে নয়, বরং স্টাইল স্টেটমেন্টে আধুনিকতা প্রকাশের একটি ভাষা হিসেবে দেখতে চান।

সেই ভাবনাই ‘বেঙ্গল বাইজান্টাইন ব্রডওয়ে’-তে সবচেয়ে স্পষ্ট। কলকাতার ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তৈরি করেছেন এমন একটি সংগ্রহ, যা একই সঙ্গে ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক।

আধুনিক, ভ্রমণপ্রিয়, খানিকটা নোমাডিক

এই সংগ্রহের স্টাইলভাষায় রয়েছে এক ধরনের আরবান বা শহুরে, নোমাডিক আবহ। সিল্ক স্কার্ফ, পানামা ও কাউবয় হ্যাট, স্ট্রাকচারড হ্যান্ডব্যাগ, বড় অ্যাসিটেট সানগ্লাস এবং মেটাল-টিপড জুতায় সেই মুড আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সব মিলিয়ে সব্যসাচীর নিউইয়র্ক প্রত্যাবর্তন শুধু ১৮ বছর পর একটি রানওয়ে শো নয়। বরং তিনি দেখালেন, ঐতিহ্যকে আধুনিক করতে গেলে তাকে বদলে ফেলতে হয় না; বরং নতুন প্রেক্ষাপটে তার সৌন্দর্যকে তুলে ধরতে হয়।

কলকাতার কারিগরের হাত, ভারতের সাংস্কৃতিক মোটিফ আর নিউইয়র্কের গতিময় শহুরে জীবনের মিলনেই তৈরি হয়েছে সব্যসাচীর নতুন সংগ্রহ। যেখানে লাক্সারি শুধু চোখ ধাঁধায় না, নিজের শেকড়কেও প্রকাশ করে।

ছবি: এএফপি, রয়টার্স ও সব্যসাচীর ইনস্টাগ্রাম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদনে সময় বাড়লো
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদনে সময় বাড়লো

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স (প্রফেশনাল) ভর্তিতে অনলাইন প্রাথমিক আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন করা যাবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলমের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে এলএলবি প্রথম পর্ব (২০২৬-২৭), পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম (২০২৬-২৭), পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স (২০২৬-২৭), এমবিএ ইন অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং (২০২৫-২৬) এবং এমবিএ ইন ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি (২০২৫-২৬) কোর্সে আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক আবেদন ফি ১ হাজার টাকা। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অথবা সরাসরি কলেজে এই ফি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হবে। এরপর কলেজ কর্তৃপক্ষকে ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন নিশ্চিত করতে হবে। কলেজ কর্তৃক প্রাথমিক আবেদন ফি বাবদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হিসেবে আবেদনকারীপ্রতি ৮৫০ টাকা হারে নির্ধারিত ফি ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে যে কোনো সোনালী ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কলেজকে লগইন করে ‘Application Payment Info (Masters Prof.)’ অপশনে গিয়ে পে-স্লিপ ডাউনলোড করতে হবে। পরে এর প্রিন্ট কপি নিয়ে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত অন্যান্য সব শর্ত ও নিয়মাবলি অপরিবর্তিত থাকবে। ভর্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইটের Prospectus/Important Notice অপশন থেকে জানা যাবে। এ শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। এএএইচ/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রিতে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রিতে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়লো

প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি সংকটে বিশ্ব, দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি সংকটে বিশ্ব, দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ

সুস্থ–স্বাভাবিক একজন ব্যক্তি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ কেন করে
সুস্থ–স্বাভাবিক একজন ব্যক্তি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ কেন করে

সুস্থ–স্বাভাবিক একজন ব্যক্তি যদি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে, তবে তা চিন্তার কারণ বৈকি! হঠাৎ অকারণে রাগারাগি করা, না ঘুমানো, অস্থিরতা অনেক সময় মস্তিষ্কের কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে রোগীর যদি আগে কখনো মানসিক রোগের ইতিহাস না থাকে, তাহলে এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।কেন হয়মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ এনকেফালাইটিস হলে হঠাৎ আচরণ পাল্টে যেতে পারে। এর সঙ্গে যদি খিঁচুনি থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। অটোইমিউন এনকেফালাইটিস বলে একধরনের রোগে রোগী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। কিছু বিশেষ ধরনের স্ট্রোকে রোগীর আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়; নির্ঘুমতা, ভুলে যাওয়া ও অতিরিক্ত অস্থিরতার বিষয় থাকতে পারে। সাধারণত মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল অথবা অক্সিপিটাল লোবে স্ট্রোক হলে এ সমস্যা হয়।কিছু কিছু ব্রেন টিউমারেও হঠাৎ আচরণগত এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত বমির কারণে রক্তে থিয়ামিন নামক একধরনের ভিটামিন কমে গেলে ওয়ারনিক্স এনকেফালোপ্যাথি হয়, এর কারণে রোগীর আচরণ এলোমেলো হয়ে যায়। লিভার ও কিডনির রোগে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমে গিয়ে মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করে; একে হেপাটিক অথবা ইউরেমিক এনকেফালোপ্যাথি বলে। এ ছাড়া রক্তে লবণের ভারসাম্যহীনতায় এমনটা হতে পারে।মস্তিষ্কের রোগ বুঝবেন কীভাবে মানসিক রোগের একটি পূর্ব ইতিহাস থাকে এবং রোগীর ইতিহাস জানতে পারলে তা সহজে বোঝা যায়। কারও একেবারে নতুন করে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে মস্তিষ্কের রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অস্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে জ্বর, মাথাব্যথা, খিঁচুনি, অজ্ঞান বা হাত–পা অবশ হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে ঝুঁকি আরও জোরদার হয়।শনাক্তের উপায়প্রথমেই রক্তে শর্করা ও লবণের পরিমাণ, লিভার ও কিডনির পরীক্ষা, কোনো সংক্রমণ আছে কি না, তা দেখতে হবে। মস্তিষ্কের এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে মস্তিষ্কের যেকোনো রোগ খুব দ্রুত নির্ণয় করা যায়।মেরুদণ্ডের ভেতরের রস অথবা সিএসএফ পরীক্ষার মাধ্যমেও অনেক রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।ডা. নাজমুল হক, সহযোগী অধ্যাপক, নিউরোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালএপিলেপসি বা মৃগীরোগ কি ভালো হয় 

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
দেশে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে: মাহদী আমিন

দেশে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে: মাহদী আমিন

সাবিনা ইয়াসমিন-সোহেল রানাসহ সম্মাননা পেলেন যেসব গুণীজন

সাবিনা ইয়াসমিন-সোহেল রানাসহ সম্মাননা পেলেন যেসব গুণীজন

একাদশে ক্লাস শুরু পেছালো

একাদশে ক্লাস শুরু পেছালো

পিপিপিতে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল চালুর চুক্তির নীতিগত অনুমোদন
পিপিপিতে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল চালুর চুক্তির নীতিগত অনুমোদন

নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারের বিনিয়োগ থাকবে না, শুধু মিলের জমি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রকল্পের অর্থায়ন করবে বেসরকারি অংশীদার। প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি মিল পিপিপি পদ্ধতিতে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চারটি মিল পিপিপি পদ্ধতিতে বেসরকারি অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও পড়ুন মাগুরা টেক্সটাইল মিল চালুতে চরকা টেক্সটাইলের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি ৩৭ দশমিক ৮৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মিলটি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চালু ছিল। এটি পিপিপির আওতায় পুনরায় চালুর জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড, ঢাকাকে প্রেফার্ড বিডার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পাদিতব্য চূড়ান্ত চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর। মিলের ভূমি ব্যবহারের বিপরীতে বেসরকারি অংশীদার এককালীন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি দেবে। পাশাপাশি তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড শেষে প্রতি মাসে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা কন্ট্রাক্ট ফি হিসেবে বিটিএমসিকে পরিশোধ করবে। এছাড়া বেসরকারি অংশীদার পিপিপি কর্তৃপক্ষকে ডেভেলপমেন্ট ফি হিসেবে ৭৫ লাখ টাকা এবং বিটিএমসিকে ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করবে। প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চূড়ান্ত চুক্তিপত্রের নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল। তখন চুক্তির বিষয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ-বিষয়ক বিভাগের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মতামত নিয়ে চুক্তিটি সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেডের সঙ্গে সম্পাদিতব্য চূড়ান্ত চুক্তিপত্রের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি আবার উপস্থাপন করা হয়। পিপিপি পদ্ধতিতে মিলটি চালু হলে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। একই সঙ্গে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্পটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এমএএস/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
টাইটানিয়াম বডিসহ আসছে আকর্ষণীয় এই স্মার্টওয়াচ

টাইটানিয়াম বডিসহ আসছে আকর্ষণীয় এই স্মার্টওয়াচ

মাগুরা টেক্সটাইল মিল চালুতে চরকা টেক্সটাইলের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন

মাগুরা টেক্সটাইল মিল চালুতে চরকা টেক্সটাইলের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন

অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন

অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন

0 Comments