
‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে পরিবেশ রক্ষায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম করেছে নোয়াখালী বন্ধুসভা। ছয় পর্বের এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের ১ হাজার ৬৬০টির বেশি গাছ রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গাছের উপকারিতা, পরিবেশদূষণ, বৃক্ষনিধনের ক্ষতিকর প্রভাব এবং গাছ লাগানোর পর পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করেন বন্ধুরা।
গত ২২ জুন বেলা ১১টায় সদর উপজেলার পূর্ব রাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও গাছ বিতরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ বছরের কর্মসূচি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় গাছের চারা। একটি গাছ লাগানোর পর সেটিকে যত্ন করে বড় করে তোলার দায়িত্বও যে নিতে হবে, সেই বার্তা দেওয়া হয় তাদের। এই পর্বে ৩০০টি চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়।

একই দিন বেলা একটায় মাইজদীর প্রভাতী শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় পর্ব। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সেখানে গাছ রোপণ ও বিতরণ করা হয়। গাছের সঙ্গে শিশুদের বন্ধুত্ব তৈরি এবং ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছ লাগান বন্ধুরা। চারা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয় খুদে শিক্ষার্থীরা। এই পর্বে মোট ১৬০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।
পরদিন ২৩ জুন বেলা ১১টায় নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় পর্ব। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হয়। পরিবেশদূষণ, নির্বিচার বৃক্ষনিধন, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মানুষের জীবনে গাছের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। ২৫ জুন একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় ধাপে সচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। দুই ধাপে মোট ২৪০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।
প্রথম তিন পর্বের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স। পরবর্তী পর্বগুলো নোয়াখালী বন্ধুসভার বন্ধু ও উপদেষ্টাদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়।

২৪ জুন বেলা ১১টায় সোনাপুর কলেজ ও সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ পর্ব। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে গাছ রোপণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায়ও গাছ লাগাতে পারে। এই পর্বে মোট ২৮০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।
২ জুলাই সোনাপুরের আহম্মদিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম পর্ব। সেখানেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরিবেশদূষণ কমানো, বৃক্ষনিধন রোধ এবং লাগানো গাছের পরিচর্যার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়। এই পর্বে ৩৩০টি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়।

ষষ্ঠ পর্বে ২৪ আগস্ট নোয়াখালীর সদর উপজেলার কৃষ্ণরামপুর এলাকায় ২০০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়। এলাকাভিত্তিক বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা হয় সবাইকে। প্রয়োজনে একটি গাছ কাটলেও তার বিপরীতে ১০টি গাছ যেন রোপণ করা হয়, এই ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নিজ আঙিনা হোক কিংবা এলাকার সড়কের পাশে গাছ লাগানোর সংকল্প করেন এলাকাবাসী।
এ ছাড়া নোয়াখালী বন্ধুসভার বন্ধুদের মধ্যে বিতরণ করা হয় ১৫০টি গাছের চারা। বন্ধুরা নিজ এলাকায়, নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছ লাগানো এবং যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

পুরো আয়োজন নিয়ে উপদেষ্টা লায়লা পারভীন বলেন, ‘গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়ার দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়। একটি গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার যত্ন নেওয়াও আমাদের দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই দায়িত্ববোধ তৈরি করতে পারলেই আজকের এই কর্মসূচি সত্যিকার অর্থে সফল হবে। নোয়াখালী বন্ধুসভার মাধ্যমে আমরা একটু হলেও নোয়াখালীতে গাছ লাগানোর উৎসব শুরু করতে পেরেছি।’
সাধারণ সম্পাদক সানি তামজিদ বলেন, ‘বৃক্ষরোপণকে আমরা শুধু একটি দিনের কর্মসূচি হিসেবে দেখতে চাই না। এটি আমাদের নিয়মিত সামাজিক দায়িত্বের অংশ। শিক্ষার্থীদের হাতে একটি করে গাছ তুলে দিয়ে আমরা মূলত তাদের হাতে ভবিষ্যতের একটি সবুজ পৃথিবীর দায়িত্ব তুলে দিচ্ছি। আজ যে গাছগুলো রোপণ করা হচ্ছে, সেগুলোর ছায়া ও সুফল আগামী প্রজন্ম ভোগ করবে।’

এবারের প্রতিটি পর্বেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিল সরাসরি যোগাযোগ। গাছ লাগানোর পাশাপাশি তাদের বোঝানো হয়েছে, একটি চারা শুধু মাটিতে রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। নিয়মিত পানি দেওয়া, পরিচর্যা করা এবং গাছটিকে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়াও বৃক্ষরোপণেরই অংশ। এভাবে শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করতে প্রতিটি পর্বে আয়োজন করা হয় ‘বৃক্ষবন্ধু’ নির্বাচন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কে বেশি গাছ লাগিয়েছে, কর্মসূচিতে কার অংশগ্রহণ সক্রিয় ছিল এবং গাছের প্রতি কার যত্ন ও আগ্রহ বেশি। এসব বিষয় বিচারকদের মূল্যায়নের মাধ্যমে বিবেচনা করে প্রতিটি পর্বে একজন করে শিক্ষার্থীকে বৃক্ষবন্ধু নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিতদের উপহার হিসেবে গাছ দেওয়া হয়।
কর্মসূচির প্রতিটি পর্বে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা লায়লা পারভীন, সুমন নূর, সভাপতি আসিফ আহমেদ, সহসভাপতি মো. শিমুল, সাধারণ সম্পাদক সানি তামজিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন চন্দ্র কুরী, অর্থ সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফাতেমা কানিজ, দপ্তর সম্পাদক জুনাইন কাউসার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য রুমাইয়া সুলতানা, সানজিদা সুলতানা, বন্ধু মালিহা তাবাসসুম, প্রিয়ারুল ইসলাম, সাকিবসহ অনেকে।
সভাপতি, নোয়াখালী বন্ধুসভা
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কুষ্টিয়ায় নাশকতার মামলায় জামিনে এসে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এতে বিএনপির ৫-৬ জন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। পরে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও তার পাটের গোডাউনে আগুন দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রুহুলের নেতৃত্বে এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার বিএনপির সমর্থকরা জানান, সন্ধ্যার পর নলকোলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা বসে মুড়ি-চানাচুর খাচ্ছিলেন। এ সময় রুহুলের নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ জন ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালান। তারা কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন এবং বিএনপির কয়েকজন সমর্থককে মারধর করেন। এতে ৫-৬ জন আহত হন বলে তারা দাবি করেন। তারা আরও জানান, কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা মিছিল করায় ইবি থানায় একটি নাশকতার মামলা হয়। ওই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলসহ বেশ কয়েকজন আসামি হন। মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ তাদের। হামলার পর বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাড়িতে ভাঙচুর করেন। এ সময় তার পাটের গোডাউনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে ইবি থানা পুলিশ উপস্থিত রয়েছে। আমিও ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আল-মামুন সাগর/কেএইচকে
পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির ৭ সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। বিস্তারিত ভিডিওতে…
সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে যুবকের দুই হাত বাঁধা। তাঁর পিঠের ওপর তুলে দেওয়া হয়েছে ছয়–সাতটি ইট। ইটের ভারে কাত হয়ে আছেন তিনি। এর মধ্যেই চলছে পিটুনি। কেউ চুল টানছেন, কেউ মুখে ঘুষি মারছেন। নির্যাতনে তাঁর মুখে ফেনা চলে এলেও পিটুনি থামেনি। একপর্যায়ে মৃত্যু হয় তাঁর। আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখছিলেন ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ। কক্সবাজারের মহেশখালীর বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। চোর সন্দেহে মো. ফয়সাল (২৬) নামের ওই যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোহাম্মদ রিফাত নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।আজ সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল ওই এলাকার বাদশাহ মিয়ার ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা কেফায়ত উল্লাহর বাড়িতে ফয়সালকে চোর সন্দেহে আটক করা হয়। পরে সকালে রাস্তার পাশে তাঁকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজনও তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁর পিঠের ওপর ইট রেখে পেটানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সকাল নয়টার দিকে স্থানীয় লোকজন ফয়সালকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলী আকবর বলেন, মঙ্গলবার ভোররাতে চুরি করতে গিয়ে ফয়সাল ধরা পড়েন। পরে গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে চুরির অভিযোগ থাকলেও এভাবে নির্যাতন করে কাউকে হত্যা করা ঠিক হয়নি।তবে ফয়সালের বাবা বাদশাহ মিয়া বলেন, তাঁর ছেলে দিনমজুরের কাজ করতেন। কোনো কারণ ছাড়াই চোর সন্দেহে তাঁকে প্রকাশ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফয়সালের লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে দুপুরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসপাতাল থেকে মোহাম্মদ রিফাতকে আটক করা হয়।মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুস সুলতান বলেন, চোর সন্দেহে আটক এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে।ওসি আরও বলেন, ফয়সালকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি তদন্তে সহায়ক হবে। ভিডিও দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।