ত্বকের যত্নের রুটিনে ক্লিনজার, সানস্ক্রিন কিংবা সিরামের পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজারও গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ারকে সমর্থন করতে এটি সাহায্য করে। বিশেষ করে মুখ ধোয়ার পর ত্বক যখন কিছুটা স্যাঁতসেঁতে থাকে, তখন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।
তবে বাজারে থাকা সব ময়েশ্চারাইজার সবার ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। ত্বকের ধরন, আবহাওয়া, বয়স এবং ত্বকের নির্দিষ্ট সমস্যার ওপর নির্ভর করে পণ্যের প্রয়োজনও বদলে যেতে পারে। তাই দীর্ঘদিন একই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেই সেটি আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত থাকবে-এমনটা নয়। বরং কিছু লক্ষণ দেখলেই বুঝতে পারবেন, ময়েশ্চারাইজারটি বদলানোর সময় এসেছে কি না।
ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর কিছুক্ষণ ত্বক নরম থাকার কথা। কিন্তু ব্যবহারের পরও যদি ত্বকে টান ধরার অনুভূতি থাকে, খসখসে লাগে কিংবা অল্প সময়ের মধ্যেই আবার শুষ্ক হয়ে যায়, তাহলে পণ্যটি আপনার ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট ময়েশ্চার দিতে পারছে না।
ঋতু পরিবর্তনের সময়ও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। শীতকালে শুষ্ক ত্বকের জন্য তুলনামূলক ঘন ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন হতে পারে, আবার গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় হালকা ধরনের ফর্মুলা বেশি আরামদায়ক হতে পারে। তাই আবহাওয়া ও ত্বকের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া জরুরি।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পর যদি ত্বক লাল হয়ে যায়, চুলকানি শুরু হয়, জ্বালা করে বা অস্বস্তি বাড়ে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। পণ্যের কোনো উপাদানের কারণে ত্বকে ইরিটেশন বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
এমনকি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা কোনো পণ্য থেকেও পরবর্তীতে সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। তাই নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের পর এমন লক্ষণ দেখা দিলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করে ত্বকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা ভালো। সমস্যা বেশি হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার মানেই ত্বক তেলতেলে হয়ে যাবে-এমন নয়। কিন্তু কোনো পণ্য লাগানোর পর মুখ অস্বাভাবিক চকচকে বা ভারী মনে হলে সেটি হয়তো আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত নয়।
বিশেষ করে তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে খুব ভারী ফর্মুলা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এমন ত্বকের ক্ষেত্রে হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
নতুন কোনো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পর নিয়মিত ব্রণ, ছোট ছোট দানা বা রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে পণ্যটি আপনার ত্বকের সঙ্গে মানানসই কি না ভেবে দেখা দরকার। বিশেষ করে ত্বক যদি আগে থেকেই ব্রণপ্রবণ হয়, তাহলে পণ্যের উপাদান ও ফর্মুলা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
ময়েশ্চারাইজার কেনার আগে নিজের ত্বকের ধরন বুঝুন। শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখার উপযোগী তুলনামূলক সমৃদ্ধ ফর্মুলা, আর তৈলাক্ত ত্বকে হালকা ফর্মুলা বেশি আরামদায়ক হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সুগন্ধি বা সম্ভাব্য জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে এমন উপাদান এড়িয়ে চলার বিষয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
শুধু হাইড্রেশন লেখা দেখে নয়, ব্যবহারের পর আপনার ত্বক কেমন অনুভব করছে সেটিও খেয়াল করুন। ত্বক যদি আরামদায়ক, নরম ও অতিরিক্ত শুষ্ক বা তেলতেলে না থাকে, তাহলে সেটিই আপনার জন্য উপযোগী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আভিজাত্য, আধুনিকতা আর আত্মবিশ্বাসের এক দুর্দান্ত মিশেল—এই তিনটি শব্দেই যেন তুলে ধরা যায় ওপার বাংলার অভিনেত্রী বিবৃতি চ্যাটার্জিকে। ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে টালিউডে অভিষেক হয় তাঁর। টালিউডের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভাবান এই মুখ শুধু অভিনয়েই নয়, তাঁর ফ্যাশনবোধ, মডেলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতির মাধ্যমেও তৈরি করেছেন আলাদা এক পরিচয়। বিবৃতি তাঁর নানা লুকের ছবি প্রায়ই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন ভক্তদের সঙ্গে। চলুন তবে এই আবেদনময়ী অভিনেত্রীর কিছু ঝলক দেখে আসি আজ।এই সাবেকি সাজে, লালপেড়ে সাদা শাড়ি আর সোনার অলংকার আকর্ষণ কাড়ছে। কাজলকালো চোখ আর লাল টিপের সাজে মোহময়ী লাগছে বং সুন্দরীকেওভারসাইজড কালো টি–শার্ট আর ডেনিম শর্টসের সঙ্গে জুটি হয়েছে গোলাপি রানিং শু সবুজ শাড়ির লুকে আলাদা আবেদন ছড়াচ্ছেন বিবৃতি মনে হচ্ছে যেন উপন্যাসের নায়িকা। কালো স্লিভলেস ব্লাউজের সঙ্গে আজরাখ ব্লক প্রিন্ট শাড়ি পরেছেন অভিনেত্রী। কানে শোভা বাড়িয়েছে ভারী অক্সিডাইজড স্টেটমেন্ট দুল স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপ ডিপনেক টপ পরেছেন তিনি। স্টেটমেন্ট জুয়েলারি, হেয়ারস্টাইল আর সাজের স্টাইলিশ লুকে আকর্ষণ কাড়ছেন অভিনেত্রী সাদা স্লিভলেস ব্লাউজের সঙ্গে এই লুকে বেছে নিয়েছেন গোলাপি তাঁতের শাড়ি। তাঁর কানে শোভা পাচ্ছে আকর্ষণীয় স্টেটমেন্ট দুল।টিউব ড্রেসে সামার ভাইব দিচ্ছেন বিবৃতি। সঙ্গী হয়েছে রোদচশমাওয়ান শোল্ডার ড্রেসের সঙ্গে পনিটেল হেয়ারস্টাইল বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী। কানে পরেছেন অক্সিডাইসের দুল হাতি মোটিফের হলুদ শাড়িতে গর্জিয়াস বিবৃতি। গলায় পরেছেন গোল্ডেন চোকার আর কানে দুল। টানা করে দেওয়া কাজল ও লাল টিপে সাজ হয়েছে পরিপূর্ণ ডেনিম অন ডেনিম লুকে আকর্ষণীয় লাগছে তাঁকেসোনালি হলুদ চিতা বাঘের প্রিন্টের গাউনের শোল্ডারে গ্যাদার্ড ফেব্রিক ডিজাইনসাদা লাউঞ্জওয়াআরে আবেদন ছড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রীছবি: বিবৃতির ইন্সটাগ্রাম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরান যুদ্ধ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ উঠে এসেছে আরও নানা বিষয়। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...
মিগেল একজন খ্যাতিমান স্থপতি। প্রযুক্তিবিশ্বের এক ধনকুবেরের জন্য হাওয়াইয়ে বিলাসবহুল বাংকার (নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র) তৈরির প্রস্তাব পান তিনি। কিন্তু নৈতিকভাবে বিতর্কিত এই কাজ নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ে তাঁর দাম্পত্য। ১৭ বছর ধরে একসঙ্গে থাকা স্ত্রী সোফিয়া স্বামীর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সোফিয়া একজন সম্পাদক; দুজনের মূল্যবোধ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং পৃথিবীকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরায়। এমন গল্প নিয়েই ফরাসি নির্মাতা ফ্লোরিয়ান জেলারের নতুন সিনেমা ‘বাংকার’। এতে অভিনয় করেছেন বাস্তব জীবনের তারকা দম্পতি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ভেনিসের পর চলমান টরন্টো উৎসবেও সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছে। দুই উৎসবে ছবিটি ঘিরে তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অভিনয়, সম্পর্ক ও একসঙ্গে কাজ করার নানান দিক।তারকা, প্রিমিয়ার আর দর্শকের ভিড়ে জমে উঠেছে টরন্টোবাংকার পেনেলোপে ও হাভিয়ের জন্যও বিশেষ। ১৯৯২ সালে ‘হ্যামন, হ্যামন’ সিনেমায় প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। এরপর বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও দাম্পত্যের পথ পেরিয়ে দুজনই নিজ নিজ অভিনয়জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তবে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁরা বেশ সচেতন থাকেন। পেনেলোপে বলেন, একই ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ তাঁদের জীবনে খুব ঘন ঘন আসে না। যখন আসে, তখন সেটা যেন বিশেষ কিছু হয়—দুজনেই সেটা খেয়াল রাখেন। ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি পেনেলোপে ক্রুজ ও হাভিয়ের বারদেম। ছবি : এএফপি হাভিয়েরের ভাষ্যেও একই সুর। তিন দশকের বেশি সময় ধরে একে অপরকে চেনেন তাঁরা। কাজের প্রস্তুতি নিয়ে বাড়িতে আলোচনা হয়, কিন্তু সেটি যেন ব্যক্তিগত জীবনের ওপর ছাপ না ফেলে, সেদিকেও খেয়াল রাখেন।ভেনিস উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয় ৮ সেপ্টেম্বর। এরপর ছবিটি টরন্টো আন্তর্জাতিক উৎসবের গালা প্রেজেন্টেশন বিভাগে প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবিতে অস্কারজয়ী স্প্যানিশ তারকা দম্পতির সঙ্গে আছেন স্টিফেন গ্রাহাম, পল ড্যানো ও প্যাট্রিক শোয়ার্জনেগার। ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় নির্মিত ১২৬ মিনিটের এই সিনেমা তুলে ধরেছে সমকালীন দাম্পত্য, নৈতিকতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার গল্প।এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি অবলম্বনে