বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। মাঠের ভেতরের নেতৃত্ব, সতীর্থদের সঙ্গে আচরণ, দল নির্বাচন ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ। বিভিন্ন সময়ে এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল থেকে বাংলাদেশের বিদায়ের পর সেই পুরোনো আলোচনাই আবার সামনে এসেছে। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলের ভেতরে তার ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
সংবাদ সম্মেলন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে জ্যোতির কথাবার্তায় বরাবরই একটা আগ্রাসী ভাব দেখা যায়। মাঠেও তার নেতৃত্বের অন্যতম আলোচিত দিক অতিরিক্ত চিৎকার-চেঁচামেচি। প্রতিটি বলের সময় ফিল্ডারদের নির্দেশ দিতে গিয়ে তার উচ্চবাচ্য অনেক সময় উল্টো চাপ তৈরি করে, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিশাখাপত্তনমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচেও এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। জয়ের খুব কাছে গিয়েও ম্যাচটি হারার পর জ্যোতির মাঠের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবারের এশিয়া কাপেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ব্যাটারের ব্যাটে বল লাগার পরপরই জ্যোতির চিৎকারে ফিল্ডারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এমন অভিযোগ রয়েছে।
ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে একাধিক সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। এক ম্যাচে চারটি ক্যাচ পড়ে, যার তিনটিই ছিল ফিফটি করা শেফালি ভার্মার। দ্বিতীয় ওভারেই লং অনে শেফালির ক্যাচ ফেলেছিলেন ফাহিমা খাতুন। অথচ দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার এবং তুলনামূলক লম্বা স্বর্ণা আক্তারকে তখন বাউন্ডারিতে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এশিয়া কাপ শুরুর আগেই জ্যোতির একটি মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেমিফাইনালে ভারতকে এড়াতে চান না, এমন কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত সেই ভারতের বিপক্ষেই সেমিফাইনালে খেলতে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচে চারটি ক্যাচ মিসের ঘটনা সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অধিনায়কের এমন অবস্থান দলের মানসিকতায় কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না।
মাঠের বাইরের অভিযোগগুলোই অবশ্য জ্যোতিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই দলের ভেতরে তার আচরণ নিয়ে অসন্তোষের কথা শোনা যায়। অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রভাববলয় তৈরি করে সিনিয়রদের সরিয়ে জুনিয়রদের একটি অংশকে কাছে টেনে নিয়েছেন তিনি। জাহানারা আলম ও সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদের দল থেকে সরে যাওয়া, এমনকি দেশের নারী ক্রিকেটের অন্যতম বড় নাম সালমা খাতুনের সঙ্গেও জ্যোতির আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার জ্যোতির আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সে তো অধিনায়ক না, স্বৈরাচার। তার কথার বাইরে গেলে বা বিপরীত মত দিলেই রোষানলে পড়তে হয়।’
আরেক ক্রিকেটারের অভিযোগ, জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও আচরণের কারণে তিনি নিজেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচে বল আমার কাছে আসার আগেই চিল্লানো শুরু করেন অধিনায়ক। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে মিস করি আমি। তখন উনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। শুধু তাই নয়, মাঠের বাইরেও উনি যেভাবে মানসিক নিপীড়ন করেন, আমি মাঝেমাঝে আল্লাহর কাছে বিচার দিই। বলি, অভিশাপ লাগে যেন।’
অভিযোগ রয়েছে, জ্যোতির কঠোর আচরণে দলের কয়েকজন ক্রিকেটার এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন যে তারা স্রষ্টার কাছে তার বিরুদ্ধে মোনাজাত করে অভিশাপও চেয়েছেন।
জ্যোতি ২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক হন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দায়িত্ব পাওয়ার এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই নিজের প্রভাববলয় তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সরিয়ে একের পর এক নতুন মুখকে দলে আনা এবং তাদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এরপর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এমন দাবি করেছেন দলসংশ্লিষ্টরা। এমনকি মারামারি ও গালাগালির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিচার-সালিশ পর্যন্ত হয়েছে বলেও জানা যায়।
গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্পিনার জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনার বাদ পড়া নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। দলসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র তখন দাবি করেছিলেন, অফ-স্পিনার সুমনাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না রাখার পেছনে জ্যোতির ভূমিকা ছিল। পারফরম্যান্স ও স্মার্টনেস দিয়ে সুমনা দীর্ঘদিন ধরেই নজর কাড়ছিলেন। অভিযোগকারীদের মতে, তাকে নিজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি মনে করেই দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়েও দলের এক তরুণ অলরাউন্ডারকে জ্যোতি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে অধিনায়কের সাম্প্রতিক সময়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
এর আগে জ্যোতির একচ্ছত্র আধিপত্য ও মানসিক চাপের মুখে নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় পেসার জাহানারা আলম একপর্যায়ে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। এমন দাবিও রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক অবশ্য জ্যোতির মাঠের নেতৃত্ব নিয়ে পুরোপুরি নেতিবাচক নন। তার মতে, মাঠে অধিনায়ক হিসেবে কৌশল সাজানো, বোলিং পরিবর্তন করাতে জ্যোতি খারাপ নন। তবে মাঠের বাইরে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর আপত্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে ও যথেষ্ট খারাপ নয়। ওর তত্ত্বাবধানে আসলে আমি বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছি। হ্যাঁ, খুব একটা বেশি খেলার সুযোগ হয়নি। আমার মনে হয় না যে ও একজন জুনিয়র হিসেবে কখনো বলতে পারে, আমরা সিনিয়ররা ওর সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করেছি, ওর কথা অমান্য করেছি বা ও যা বলেছে, সেটা শুনিনি। আমরা কখনোই ওর কথার বাইরে যাইনি। অধিনায়কত্ব নিয়ে আমি মনে করি, ও একজন অধিনায়ক হিসেবে ঠিক আছে।’
তবে মাঠের নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠের বাইরের নেতৃত্বকে এক করে দেখতে রাজি নন ওই সাবেক অধিনায়ক, ‘মাঠের অধিনায়কত্ব আর বাইরের অধিনায়কত্ব আবার ভিন্ন। এখানে ওর কিছু জিনিস আছে, যেগুলো না করলেও পারতো। সেই জিনিসটা হচ্ছে, অধিনায়ক হয়েই তখনকার নির্বাচক কাম ম্যানেজার মঞ্জু (বর্তমানে নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল ইসলাম) ভাইকে নিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করা। এই জিনিসটা আসলে আমার মতে ও ঠিক করেনি। একটানা সিনিয়রদের সবাইকে বসিয়ে দিয়ে জুনিয়র যারা ওর কথা শুনছে বা ওর কথা মান্য করছে, সেই ধরনের জুনিয়রদের নিয়েছে। এমনও আছে, যারা অভিষেক পর্যন্ত করেনি, সেই নতুনদেরও ওর কথা অনুযায়ী দলে ঢুকিয়েছে। দল তো এভাবে করে কোনোদিন ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে না। একটা সময় এর প্রতিফলন ঘটবেই। এখন যেটা ঘটছে, সেটাই তার প্রতিফলন। সে যেভাবে চেয়েছিল, সবাইকে ভয় দেখিয়ে চলবে বা সবাই ওর কথা শুনবে, জিনিসগুলো সেরকমই হচ্ছে; কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সটা আর পাওয়া যাচ্ছে না। সেই আগের ক্রিকেটটা আর নেই।’
মাঠে জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকারের বিষয়টিও দলের ভেতরে আলোচনায় এসেছিল বলে জানিয়েছেন ওই সাবেক অধিনায়ক। কিন্তু অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পরও ইতিবাচক কোনো সমাধান হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আর মাঠের যে অযথা চিল্লাপাল্লা, এখন ওটা নিয়ে আমরা কোচ বা ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম একবার যে ও একটু বেশি চিল্লাপাল্লা করছে। কিন্তু উল্টো আমাদের কথা শোনানো হয়েছিল এর কারণে। আমরা যখন বলেছিলাম, তখন আমাদের বলা হয়েছিল, এটা ও ক্রিকেটের স্বার্থে করছে। কিন্তু এটা যে দৃষ্টিকটু লাগছে বা এভাবে চিল্লাপাল্লা করলে যে জুনিয়ররা ঘাবড়ে যায় এবং তারা তাদের পারফরম্যান্স করতে পারে না, এটা নিয়ে কখনো আমাদের সঙ্গে ভালোভাবে আলোচনা হয়নি।’
জ্যোতির নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করলে অনেক সময় উল্টো সিনিয়র ক্রিকেটারদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি, ‘আমি জানি না কেন বা কে বা কারা আসলে এই কাজগুলো করছে। যারা ওর শুভাকাঙ্ক্ষী আছে, অনেক সাংবাদিক বলেন বা অনেক লোক আছে যারা ওর প্রতি ইতিবাচক, ওর ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রাখার জন্য আমাদের নেতিবাচকভাবে তুলে ধরছে। কিন্তু ওর কাছ থেকেই শুনতে পারবেন যে আমরা সিনিয়ররা কখনো ওর সঙ্গে বাজে আচরণ করেছি কি না।’
সাবেক এই অধিনায়ক দাবি করেন, পারফরম্যান্সের বাইরে দলীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলার কারণেই তাকে নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি যখন দলে ছিলাম, কখনো পারফরম্যান্সের কারণে বাইরে ছিলাম না। আমি সবসময় দলকে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাকে একটা সময় বসিয়ে দেয় কারণ, আমি দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতাম। এটা একজন সিনিয়র হিসেবে আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য ছিল যে দলে আমরা যে সমস্ত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলাম। ড্রেসিংরুম বলেন, আমাদের ওয়েট ক্যারি নিয়ে বলেন, আমাদের ভিডিও অ্যানালিস্টকে নিয়ে বলেন বা ফিটনেস এগুলো নিয়ে যতবার কথা বলেছি, মানে আমাকে ততবারই কথা শুনতে হয়েছে এবং একটা সময় আমাকে দল থেকে বের করে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করেছে।’
তার দাবি, একপর্যায়ে পারফর্ম করার পরও তাকে পুরো স্পেল বোলিং করতে দেওয়া হয়নি, এমনকি নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগও পেতেন না। তিনি বলেন, ‘তার আগেই যদি দেখতে চান, আমি পারফর্ম করা সত্ত্বেও কিন্তু আমি ফুল স্পেলে বল করতে পারিনি। তারপরে প্যাড পরে আমার এমনও অনেক দিন গেছে যে আমি কিন্তু মাঠের বাইরে বসে ছিলাম। ইনফ্যাক্ট, আমাকে ঠিকমতো প্র্যাকটিস পর্যন্ত করানো হতো না। আমি কিন্তু মাঠের বাইরে কান্নাকাটিও করেছি অনেক। আমি মঞ্জু ভাইয়ের সঙ্গে গিয়ে কান্নাকাটি করেছি। যাক, এখন তো আর আমরা খেলা নিয়ে চিন্তা করছি না, কিন্তু চিন্তা করছি যে একটা ভালো পরিবেশ যেন পায় ক্রিকেট। একটা ভালো পরিবেশ আমাদের মেয়েদের দরকার, যেখানে আসলে এই ধরনের নোংরামি যেন আর না থাকে।’
তার ভাষ্যেই উঠে এসেছে, দলের অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার এখনো নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন না। তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের এখনো অনেক ভালো ট্যালেন্টেড মেয়েরা আছে, যারা চাইলে পারফর্ম করতে পারে। কিন্তু কিছু কিছু সিন্ডিকেটের জন্য এগুলো থেকে তারা বঞ্চিত আছে।’
শুধু ড্রেসিংরুমের অভিযোগ নয়, জ্যোতির অধিনায়কত্বের সময় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। গত পাঁচ বছরে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৮০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। এর মধ্যে জয় ৩২ ম্যাচে, হার ৪৭টিতে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।
এই ৮০ ম্যাচের ৫৫টি হয়েছে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষে। সেখানে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১০টি। এর মধ্যে সাতটিই এসেছে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। অর্থাৎ টেস্ট খেলুড়ে বাকি শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ৪৩ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র তিনটি।
অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত পাঁচ বছরে ১৪টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। এসব ম্যাচে বড় দলগুলোর বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াই গড়ে তুলতেও ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও সেই জায়গায় আশাবাদী হওয়ার সুযোগ খুব বেশি দিচ্ছে না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ১০ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসেনি কোনো ফিফটি। সর্বোচ্চ ৩৬ রান। শেষ ১০ ইনিংসে তার রান — ১৯, ০, ২৭, ৩৬, ৩২, ৩২, ১০, ৪, ২৩ ও ১৯।
এশিয়া কাপেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে জ্যোতির কাছ থেকে প্রত্যাশিত আগ্রাসন দেখা যায়নি। অথচ দলের ব্যাটিং এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্বলতার জায়গা হয়ে আছে। একজন অধিনায়কের কাছে তাই নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় ব্যাট হাতে সামনে থেকে দায়িত্ব নেওয়ার। সেখানেও ধারাবাহিকতার অভাব প্রকট।
ওই সাবেক অধিনায়কের অভিযোগেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দীর্ঘদিনের দুরবস্থার কথা। তিনি বলেন, ‘এই যে পাঁচ বছর ধরে আমি বারবার একই কথা বলি। পাঁচ বছর ধরে একটা ব্যাটিং কোচ আছে আমাদের সঙ্গে। তিনি কী কাজ করছেন যে আমরা এখন পর্যন্ত ১২০-এর ওপরে নরমাল টিমের সঙ্গে যেতে পারি না, বড় টিমের সঙ্গে তো দূরের কথা থাক।’
সব অভিযোগের পরও জ্যোতি এখনো অধিনায়কত্বের জায়গায় বহাল। মাঠের ফলাফল, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, সতীর্থদের অভিযোগ কিংবা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ সব মিলিয়ে এখন প্রশ্নটা শুধু একজন অধিনায়কের নেতৃত্ব নিয়ে নয়; বরং বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিবেশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়েও।
বিসিবি অবশ্য এখনই কোনো সিদ্ধান্ত আসতে চাইছে না। আসন্ন এশিয়ান গেমসের পর জ্যোতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে নারী ক্রিকেটে পরিবর্তন অবশ্য এর মধ্যে শুরু হয়েছে। ডেভিড হেম্পকে নতুন হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে বিসিবি।
এসকেডি/আইএন
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, শাহবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে এক নারীসহ ৫ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ব্যক্তিদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তাদের বেশিরভাগকেই ভবঘুরে প্রকৃতির বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া ইউটার্ন এলাকা থেকে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ওই ব্যক্তি এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে ঘোরাঘুরি করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থতার কারণেই রাস্তায় তার মৃত্যু হয়েছে। বেলা সোয়া ১১টার দিকে মরদেহ ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে, মতিঝিলে নটরডেম কলেজের বিপরীত পাশের রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক পুরুষকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন নাসির নামে এক ব্যক্তি। উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান। উদ্ধারকারীর ধারণা, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও অনাহারে মারা গিয়ে থাকতে পারেন। শাহবাগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করান স্টাফরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার আইয়ুব আলী। অন্যদিকে, শাহবাগ থানাধীন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মোড়ের ফুটপাত থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী আরেক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিজয় মন্ডল। তাকেও ভবঘুরে প্রকৃতির বলে ধারণা করছে পুলিশ। কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটি এলাকা থেকে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কামরাঙ্গীরচর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রাণেশ্বর দাস জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যক্তি এলাকায় ঘোরাঘুরি করতেন এবং ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। পুলিশ জানায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। কেএজেডআইএ/এএমএ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টানানো নিয়ে বিতর্কের তৈরি হয়েছে। গতকাল সোমবার সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী। প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নও।জিন্নাহর ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে—এই খবর জানাজানি হলে রোববার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি গতকাল বিকেলে ডাকসু সংগ্রহশালায় টানিয়ে দিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন।দিনভর প্রতিবাদ ও সমালোচনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার বিরল আলোকচিত্র, পেপার কাটিং এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিল ডাকসু সংগ্রহশালায় রক্ষিত আছে। সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর গত রোববার আবার চালু করা হয়। এতে নতুন করে রাখা হয় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরও স্থান পায় ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ও ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং। আরও রাখা হয় ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল কোনো ছবি রাখা হয়নি, যা আগে ছিল।ছিঁড়ে ফেলা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবিজিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার পর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, জিন্নাহর ছবি রাখার পাশাপাশি ছবির নিচে তাঁর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, জিন্নাহর ছবি না দিলে বলা হতো, তাঁর (জিন্নাহ) বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান লুকানো হয়েছে।জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে ফরহাদ বলেন, ‘যিনি ছবিটি ছিঁড়েছেন, তিনি উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। এ কারণে তিনি জিন্নাহর প্রতি আলাদা দরদ থেকে এমনটি করে থাকতে পারেন।’এর আগে গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।আবু তৈয়ব সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, যে জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্রছাত্রীদের গ্রেপ্তার করেছিল, সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’ছাত্রসংগঠনের প্রতিবাদএক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অঙ্গসংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। ছবিটি অপসারণ এবং ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ প্রচারের স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি স্থাপন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংগ্রহশালা থেকে সরিয়ে দেওয়া ইতিহাস বিকৃতির শামিল। দ্রুত জিন্নাহর ছবি অপসারণ ও শেখ মুজিবের ছবি পুনর্বহাল না হলে শিক্ষার্থীরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, আর কী যুক্ত হলো, কী বাদ গেলগতকাল বেলা তিনটার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবিটি টানান। জিন্নাহর ছবি যেখানে লাগানো হয়েছিল, তার ওপরে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবিটি টানানো হয়।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সাঁটিয়ে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা–কর্মীরাঅর্ক বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুমা (ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বিষয়ক আন্দোলন) বলেছিল, তার ইচ্ছা করেছে তাই জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছে। ঠিক তেমনই আমাদের ইচ্ছা করেছে গোলাম আযমের ছবি লাগাতে, তাই লাগিয়েছি।’গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল—এই তিন বাম ছাত্রসংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করে। রাত আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে অবস্থিত ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি টানানো নিয়ে প্রতিবাদ জানান।স্বাধীনতা আন্দোলনের চরিত্রগুলোকে সরিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়: অধ্যাপক তানজীমউদ্দিনব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনঅধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে করা কমিটি ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখার ঘটনা তদন্ত করবে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু এবং অনুমতি ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করার বিষয়েও তদন্ত করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছবি লাগানো বা ডাকসুর নেওয়া এই কার্যক্রমগুলোর বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি লিখিত বক্তব্যও দিয়েছে। এ এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে গ্রহণ করবে। কিন্তু ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন-সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনোরূপ অনুমতি বা আলোচনা করে স্থাপন করেনি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এখতিয়ারবহির্ভূত।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ এবং ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এমন ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের গোপন কোনো ছেলে আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) এ তথ্য জানিয়েছে।২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন কিম। এনআইএসের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, কিমের পর সম্ভবত দেশটির দায়িত্ব নেবেন তাঁর মেয়ে। ধারণা করা হয়, ওই মেয়ের বয়স বর্তমানে প্রায় ১৩ বছর। তাঁর নাম কিম জু এ।বিবৃতিতে এনআইএস বলেছে, কিম জুর কোনো বড় ভাই আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে তারা। তবে কিমের কোনো ছেলেসন্তান থাকলেও, সে হয়তো তাঁর উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থায় নেই। এ ছাড়া কিমের আরেকটি ছোট সন্তান রয়েছে। তবে সে ছেলে নাকি মেয়ে, তা নিশ্চিত নয়।কিমের পর তাঁর মেয়ে দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে ধারণা করা হয়এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা বলেছিলেন, সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এনআইএস জানিয়েছিল, কিম জু এর একজন বড় ভাই আছে। তবে সেবারও পরে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানিয়ে দেয়, উত্তর কোরিয়ার নেতার ছেলে আছে—এমন প্রতিবেদন তারা এখনো যাচাই করে দেখছে।কিমের কোনো ছেলে আছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিকতা। ১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির তিনজন নেতাই কিম পরিবারের পুরুষ সদস্য।সে হিসেবে কিমের উত্তরসূরি তাঁর মেয়ে হতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞের সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের মতে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা একজন নারীর নেতৃত্ব মেনে না–ও নিতে পারেন। এ ছাড়া কিম জু এ যদি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাও পান, তাহলে দেশটির শাসনভার তাঁর পরিবারের হাত থেকে চলে যেতে পারে। কারণ, কিম জু এ যদি বিয়ে করেন এবং তাঁদের সন্তান যদি পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হন, তাহলে কিম পরিবারের বাইরে ক্ষমতা চলে যাবে।তিন কিমের ৭৮ বছর: যেভাবে টিকে আছে উত্তর কোরিয়া