লোহিত সাগর দিয়ে নিজেদের তেল পরিবহনের ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। হামলার শিকার হওয়ার পর তারা তেল রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ এ পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার মধ্যেই এ হামলা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। ইরাকে তৎপর থাকা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এ হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাগদাদ ও রিয়াদ। হামলার পর আজ শনিবার ইরাকের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আরব উপদ্বীপজুড়ে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনটি সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জট এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ করে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাইপলাইনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে।

হামলাটি এমন সময়ে হয়েছে, যখন ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।
ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এখন বাব আল–মানদেব প্রণালি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া ও সৌদি আরবের ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ ঘোষণায় আরব উপদ্বীপের দুপাশেই জ্বালানি সরবরাহে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এখন বাব আল–মানদেব প্রণালি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া ও ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ ঘোষণার ফলে আরব উপদ্বীপের দুপাশেই জ্বালানি সরবরাহে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
ইয়েমেনের চারটি সরকারি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, গতকাল শুক্রবার হুতিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে।
সৌদি আরবের পাইপলাইন ও পেরিম দ্বীপে হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিপজ্জনকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও থমকে গেছে।

কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সৌদি আরব হুতিদের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। এমন সময়ে এ অনুরোধ জানানো হলো, যখন যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল চাপে রয়েছে।
এ বছর নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ইরান যুদ্ধ শুরু করার পর নিজ দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি এরই মধ্যে রাজনৈতিকভাবে ইরান যুদ্ধের খেসারত দিচ্ছে।
ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনে কারা হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। স্যাটেলাইটের ছবিতে পবিত্র মদিনা নগরীর দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন ও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেল রপ্তানিতে এর কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আজ শনিবার দেওয়া এক বিবৃতি অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া ইরাকি সামরিক কমান্ডার মাইসান প্রদেশে সামরিক অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। দক্ষিণ-পূর্ব ইরাকে ইরানের সীমান্তবর্তী মাইসান প্রদেশকে দীর্ঘদিন ধরে ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও প্রভাবাধীন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আরব উপদ্বীপজুড়ে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনটি সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জট এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ করে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাইপলাইনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ইরাক সরকার সৌদি আরবে এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের কাছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও করেছেন। তবে এখনই এ অনুরোধে সাড়া দিচ্ছে না সৌদি আরব।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরাকের অনুরোধের পরও সৌদি আরব এখন পর্যন্ত পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্তে অটল আছে। তবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার’ অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গতকাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা এর পেছনে আংশিকভাবে দায়ী।
এদিকে ইরাক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরান সীমান্তের শালামচেহ সীমান্তপথ বন্ধ করে দিয়েছে। দুটি নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছে। ইরান থেকে ইরাকে সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য আমদানির অন্যতম প্রধান পথ এ শালামচেহ সীমান্তপথ।
ওই দুই সূত্র বলেছে, পাইপলাইনে হামলার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করতে বড় পরিসরে অভিযান চলছে।
জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মানদেব প্রণালি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন হুতি যোদ্ধারা।
ইয়েমেনের স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ কথা জানিয়েছে। তাঁদের ভাষ্যমতে, গতকাল লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির ঠিক মাঝে অবস্থিত একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতিরা। এর মাধ্যমে পুরো প্রণালিতেই তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন নামের দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) থেকে গত বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সশস্ত্র হুতি যোদ্ধাদের বহনকারী নৌযান ওই দ্বীপে পৌঁছায়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেছেন, সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাব আল-মানদেব উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছেন ও সামরিক যানবাহনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা গত সপ্তাহে বাব আল-মানদেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরুর পর কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছে। ইয়েমেনি বাহিনী বলেছে, তারা হুতিদের দখলে নেওয়া এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে।
রয়টার্স বৃহস্পতিবার বলেছিল, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুতিদের নাটকীয় অগ্রযাত্রায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) সরাসরি দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
ইরানের দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ইরান হুতিদের সৌদি আরবে হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছিল। এ কাজে সহায়তার জন্য আরও অর্থ, অস্ত্র ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল তেহরান।
ইরান হুতিদের মিত্র হিসেবে বর্ণনা করে। তবে প্রকাশ্যে তাদের সামরিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা অস্বীকার করে। ইরানের ভাষ্য, হুতিরা তাদের ‘প্রক্সি বাহিনী নয়’।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, আগে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সৌদি জাহাজ ছাড়া বাকি সব জাহাজের জন্য সমুদ্রপথে চলাচল নিরাপদই রয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র গতকাল রয়টার্সকে বলেছে, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার অন্তত দুবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করেন।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
সূত্র দুটি জানায়, ওয়াশিংটন রিয়াদকে বলেছে, আপাতত তারা হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয়। তবে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করবে।
দুই নেতার মধ্যে কোনো ফোনালাপ হয়েছে কি না—রয়টার্সের এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিয়মিত যোগাযোগ চলছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
স্থাপত্যক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রিবা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ২০২৬-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের দুটি স্থাপত্য প্রকল্প। এগুলো হলো ঢাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও রংপুরে অবস্থিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি।আজ বৃহস্পতিবার দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় স্থান পেয়েছে চারটি প্রকল্প, যার দুটিই বাংলাদেশের। অপর দুটি প্রকল্প বেলজিয়ামের। সেগুলো হলো রয়্যাল বেলজ ও জেড৩৩।রিবার পক্ষে পাঠানোর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। রিবার ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজেও এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিন্তাশীল নকশা কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে উন্নত করার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে, তা দেখিয়েছে এই প্রকল্পগুলো।ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ নগর পরিবেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন ধরনের নকশার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ব্যাপক সবুজায়নের মাধ্যমে ক্যাম্পাসটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এখানে শিক্ষা, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন পরিসর তৈরি করা হয়েছে। টেকসইতা, শিক্ষা ও জনজীবনের সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়েছে, স্থাপত্য কীভাবে পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করার পাশাপাশি একটি শহরের সামগ্রিক পুনরুজ্জীবনেও ভূমিকা রাখতে পারে।গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি সম্পর্কে বলা হয়েছে, কারখানাটিকে শুধু কাজের জায়গা হিসেবে নয়, কর্মীদের সুস্থতা ও কমিউনিটির জন্যও একটি পরিসর হিসেবে নতুনভাবে ভাবা হয়েছে। এখানে এমন কর্মপরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে বাতাস চলাচল করে। কর্মীরা আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারেন। এখানে সবুজায়ন, প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের প্রবাহ কাজে লাগানো হয়েছে। এতে যান্ত্রিক শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিশ্রাম, পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনোদনের জন্যও বিভিন্ন পরিসর তৈরি হয়েছে। কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও সুস্থতাকে নকশার কেন্দ্রে রেখে গ্রিন ফিল্ড দেখিয়েছে, শিল্পস্থাপত্য কীভাবে শহরের পুনরুজ্জীবনে ভূমিকা রাখতে পারে।প্রতি দুই বছর পরপর রিবা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ দেওয়া হয়। এবার পঞ্চমবারের মতো এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। বিজয়ী প্রকল্পের নাম আগামী ১৫ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে।রিবা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডস ফর এক্সিলেন্স বিজয়ী বাংলাদেশের দুটি স্থাপত্য প্রকল্প
ভালোবাসার সম্পর্ক মানে কি ফিফটি-ফিফটি? কেউ যত্ন দেখান কথায়, কেউ কাজে। আসল প্রশ্ন হলো দুজনেই কি সম্পর্কটির দায়িত্ব নিচ্ছেন? সম্পর্কে কি পারস্পরিকতা আছে?সম্পর্কের ভাঙন সব সময় বড় ঝগড়া বা বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে হয় না। বেশির ভাগ সময় তা শুরু হয় নীরবেসম্পর্কের ভাঙন সব সময় বড় ঝগড়া বা বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে হয় না। বেশির ভাগ সময় তা শুরু হয় নীরবে। একজন বারবার খোঁজ নেন, অন্যজন শুধু উত্তর দেন। একজন পরিকল্পনা করেন, অন্যজন যেটুকু সাড়া না দিলেই নয়, কেবল সেটুকুই দেন। একজন ঝগড়ার পর এগিয়ে যান, অন্যজন অপেক্ষা করেন। বাইরে থেকে সম্পর্কটি তখনো ‘আছে’। কথা হচ্ছে, দেখা হচ্ছে, একসঙ্গে এক ছাদের নিচে ‘থাকা হচ্ছে’। কিন্তু ভেতরে–ভেতরে একজনের মনে কু ডাকছে, ‘আমি না থাকলে কি এই সম্পর্ক আদৌ থাকবে?’ভালোবাসা কি হিসাবের খাতা ভালোবাসার সম্পর্ক মানে কি ফিফটি-ফিফটি? কেউ যত্ন দেখান কথায়, কেউ কাজে। আসল প্রশ্ন হলো দুজনেই কি সম্পর্কটির দায়িত্ব নিচ্ছেন? সম্পর্কে কি পারস্পরিকতা আছে? ‘পারসিভড পার্টনার রেসপনসিভনেস’–এর গবেষণায় সঙ্গী আপনার প্রতি কতটা সহানুভূতিশীল, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনাকে গুরুত্ব দেন ও আপনার প্রয়োজনে কতটা সাড়া দেন—এই তিন বিষয়কে সম্পর্কের সুস্থতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হয়েছে।দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের মূলমন্ত্র কী? জানালেন ৮৪ বছর ধরে একসঙ্গে থাকা এই দম্পতিপাঁচটি লক্ষণ১. সব সময় কি আপনিই প্রথমে মেসেজ করেন? আপনিই কি দেখা করার বা সব ‘আস টাইমের’ পরিকল্পনা করেন?২. প্রতিটি ঝগড়ার পর আপনিই কি ‘সব ঠিক’ করার দায় অনুভব করেন? ভুল না করেও ক্ষমা চান? গবেষণা বলছে, দ্বন্দ্বের সময় সরে যাওয়া সম্পর্কের মানের জন্য বেশি ক্ষতিকর। আসল কথা, কী নিয়ে ঝগড়া হচ্ছে তা নয়, উভয় পক্ষ সেটি মেটানোর ব্যাপারে কতটা আন্তরিক, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।৩. আপনি থামলে কি যোগাযোগও থেমে যায়? কথোপকথনে সব সময় তাঁর কথাই উঠে আসে আর আপনার দিনটা কেমন গেল, তা জিজ্ঞাসা করে না? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে এভাবেই সম্পর্ক নীরবে একতরফা হয়ে যায়।৪.বারবার কি আপনিই ছাড় দিচ্ছেন? সময়, পরিকল্পনা, পছন্দ বা প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আপনাকেই কি নিয়মিত মানিয়ে নিতে হচ্ছে?৫. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, সম্পর্কের মধ্যে থেকেও একা লাগা। প্রতিদিন কথা হয়, দেখা হয়, তবু ভেতরে একটা শূন্যতা থেকে যায়। একসঙ্গে থাকা আর আবেগগতভাবে সংযুক্ত থাকা এক কথা নয়।ব্যস্ত জীবনসঙ্গীকে নিয়ে সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ৫ কার্যকর টিপসতাহলে কি সম্পর্ক শেষসব সময় নয়। একজন বেশি মেসেজ করেন, অন্যজন কম, এতেই সম্পর্ক একতরফা হয় না। দেখতে হবে ধরন (প্যাটার্ন)। গত কয়েক মাসে প্রায় সব উদ্যোগ কি আপনার? আপনার প্রয়োজন কি বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে? যদি উত্তর বারবার ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে খোলামেলা কথা বলার সময় এসেছে।ভালোবাসা মানে সমান হিসাব নয়, সমান উপস্থিতি ভালোবাসা কোনো হিসাবের খাতা নয়। সবার প্রতিটি দিন একরকম যায় না। আপনার দিনে আপনি নিজের সেরাটা দিলেন। কিন্তু আপনার খারাপ দিনে তিনি নিজের সবটা দিয়ে পাশে আছেন তো? এই একটি জায়গায় হিসাব জরুরি, সম্পর্কে দুজনেই উপস্থিত তো? ভালোবাসা একটু কমবেশি হোক, ভারসাম্য আছে তো? কেননা দিন শেষে সম্পর্ক কখনো যেকোনো একজনের দায়িত্বে টেকে না।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াসম্পর্কে ‘কম্প্যাটিবিলিটি টেস্ট’ করবেন কীভাবে? মিলিয়ে নিন ৫ বৈশিষ্ট্য
সাভারের আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।মন্ত্রীর সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে আসেন। তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের তখন এ নির্দেশনা দেন। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সর্বাত্মক আশ্বাস দেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতিমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ছয় লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিহত এসআইয়ের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মজীবনে আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক থামাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তাঁর বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে হামলা চালান। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আলতাফ হোসেনের স্ত্রী শিউলী পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এসবি, ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।