
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার টাকার ওপরে। আর কম দামি বা সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার বেশি। ভালো মানের রুপার গহনার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার টাকার ওপরে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে সোনার ও রুপার গহনা নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে। নতুন দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই দামেই দেশে সোনার ও রুপার গহনা বিক্রি হবে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বাজুস নির্ধারণ করা দর অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা। অন্যদিকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম রাখা হচ্ছে ৫ হাজার ১৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ৩ হাজার ৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমএএস/জেএইচ
শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট কমবে। শাটল ট্রেন ও ক্যাম্পাসের পরিবহনব্যবস্থা উন্নত হবে। আধুনিক হবে চিকিৎসাকেন্দ্র। ক্যাম্পাস হবে নিরাপদ ও নারীবান্ধব। এক বছর আগে চাকসু নির্বাচনে ভোট চাইতে গিয়ে এমন অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ছাত্র সংসদ ফিরে আসায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও ছিল বড়। কিন্তু এক বছর শেষে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর বড় অংশই এখনো অধরা রয়ে গেছে।গত বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের আগে এমন ৩৩ দফা ইশতেহার দিয়েছিল ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচিত হলে ১২ মাসে এসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিল প্যানেলটি। নির্বাচনে ২৬ পদের ২৪টিতেই জয় পান এই প্যানেলের প্রার্থীরা। কিন্তু তাঁদের মেয়াদের এক বছর পূর্ণ হতে চললেও বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর বেশির ভাগই এখনো কাগজে রয়ে গেছে।এক বছর শেষে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর বড় অংশই এখনো অধরা রয়ে গেছে।ইশতেহার ধরে প্রতিটি অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি যাচাই করেছে প্রথম আলো। এতে দেখা গেছে, ৩৩ দফার ১৮টিই বাস্তবায়িত হয়নি। এ তালিকায় রয়েছে আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, পাঠাগার ও ক্যাম্পাসে কাজের সুযোগ। পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে ১০টি, আংশিক হয়েছে ৫টি। তবে বাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতিগুলোর বেশির ভাগই তুলনামূলক ছোট পরিসরের বা সাধারণ কার্যক্রমনির্ভর। ফলে সংখ্যায় কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও মৌলিক সংকটের চিত্র খুব একটা বদলায়নি।মোহাম্মদ আল-ফোরকান চাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর চাকসুকে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। ...পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।শুধু প্যানেলের ৩৩ দফা নয়, চাকসুর সম্পাদক, সহসম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যদের ব্যক্তিগত ইশতেহার বাস্তবায়নের চিত্রও একই। এসব পদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ২২২টি অঙ্গীকার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১০৭টি বাস্তবায়িত হয়নি। পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে ৬০টি এবং আংশিক ৫৫টি। অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া অঙ্গীকারেরও প্রায় অর্ধেক এখনো অপূর্ণ।গত বছরের ১৫ অক্টোবর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ অক্টোবর শপথ নেন চাকসুর নির্বাচিত নেতারা। বর্তমান কমিটির মেয়াদের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ২৩ অক্টোবর। এ সময়ে চাকসু কী করেছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তার সুফল শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন কি না—এসব জানতে গত ১৫ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষক, ৫০ শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা ও চাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো।প্রতিশ্রুতি পূরণে পিছিয়ে ডাকসু, নেতারা জড়িয়েছেন বিতর্কেচাকসুর সভাপতি উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান প্রথম আলোকে বলেন, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর চাকসুকে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। তবে আবাসনসংকটের মতো বড় সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) জমা দিয়েছি, সেগুলো এখন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার আরেকটি ডিপিপিও শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট পাঁচটি হল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।’বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, চাকসু প্রায় ৮ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে পুরো অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে চাকসুর চাহিদা ও প্রাপ্ত বরাদ্দের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। পরবর্তী চাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে।শুধু প্যানেলের ৩৩ দফা নয়, চাকসুর সম্পাদক, সহসম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যদের ব্যক্তিগত ইশতেহার বাস্তবায়নের চিত্রও একই। এসব পদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ২২২টি অঙ্গীকার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১০৭টি বাস্তবায়িত হয়নি। পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে ৬০টি এবং আংশিক ৫৫টি।মূল প্রতিশ্রুতিতেই পিছিয়েচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো সংকটগুলোর একটি আবাসন। এখনো ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পান না। নির্বাচনের আগে ছাত্রশিবির বলেছিল, বিদ্যমান হল সংস্কার ও সম্প্রসারণ, নতুন ভবন নির্মাণ এবং অন্তত ১০ শতাংশ আসন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘ মেয়াদে নির্মাণ করা হবে বেশি শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতার বহুতল হল। এক বছরেও সেই প্রতিশ্রুতির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি। তিনটি হলের বর্ধিত অংশ সংস্কার করে মাত্র ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে।পরিবহনেও বড় পরিবর্তন আসেনি। ইশতেহারে শাটল ট্রেনের সংখ্যা ও বগি বাড়ানো, প্ল্যাটফর্ম আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ এবং শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ চালুর কথা ছিল। একটি শাটলের সব বগি সংস্কার এবং আরেকটির বগি পরিবর্তন করা হলেও শাটলের সংখ্যা বাড়েনি। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশের উপজেলা থেকে বাস সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি।বছরজুড়ে বিতর্কে রাকসু, প্রতিশ্রুতির ‘ফুলঝুরি’, বাস্তবায়ন সামান্যএকই চিত্র চিকিৎসাসেবায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারকে ৩০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত এবং অস্ত্রোপচারকক্ষ স্থাপনের কথা ছিল। এর কোনোটিই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।পরিবহনেও বড় পরিবর্তন আসেনি। ইশতেহারে শাটল ট্রেনের সংখ্যা ও বগি বাড়ানো, প্ল্যাটফর্ম আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ এবং শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ চালুর কথা ছিল। একটি শাটলের সব বগি সংস্কার এবং আরেকটির বগি পরিবর্তন করা হলেও শাটলের সংখ্যা বাড়েনি। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশের উপজেলা থেকে বাস সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি।নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, অনুষদভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার ও দুগ্ধপান কর্নার-সংবলিত কমনরুমের প্রতিশ্রুতিও বাস্তব রূপ পায়নি। নারীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরিতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইশতেহারে যেভাবে সামগ্রিক সুবিধা তৈরির কথা ছিল, তা হয়নি। টিএসসি ও কেন্দ্রীয় মিলনায়তন নির্মাণ, অন-ক্যাম্পাস চাকরি, মেন্টাল হেলথ কাউন্সিল এবং শরীরচর্চার পর্যাপ্ত সুবিধাও অপূর্ণ অঙ্গীকারের তালিকায়।নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইমা আক্তার বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা এখনো আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা ও খাবার নিয়ে।ক্রিমিনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী গালিব কবীর বলেন, আবাসনসংকট দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বর্তমান চাকসু। শাটলের সূচি বিপর্যস্ত, শহরগামী বাসের অভাব রয়েছে। মেডিক্যাল সেন্টারেও চিকিৎসক ও ওষুধের ঘাটতি আছে। ফলে নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমস্যাগুলোই এখনো শিক্ষার্থীদের ভোগাচ্ছে।নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, অনুষদভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার ও দুগ্ধপান কর্নার-সংবলিত কমনরুমের প্রতিশ্রুতিও বাস্তব রূপ পায়নি। নারীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরিতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইশতেহারে যেভাবে সামগ্রিক সুবিধা তৈরির কথা ছিল, তা হয়নি।তবে কিছু অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়েছে। খাবারের মান ও মূল্য তদারকিতে ফুড সেল গঠন, শিক্ষার্থীদের অফিশিয়াল ই-মেইল সহজলভ্য করা, লিগ্যাল এইড সেল গঠন এবং উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে কর্মশালা-সেমিনার হয়েছে। যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধেও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গবেষণা, গ্রিন ক্যাম্পাস, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ও কটেজ-মেসের সুবিধা বাড়ানোর মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে আংশিক অগ্রগতি পাওয়া গেছে।জাকসুর ৪৬ প্রতিশ্রুতির ১৩টির বাস্তবায়ন, বিতর্কে নেতারা ছাত্র উপদেষ্টা ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রশাসন চাকসুকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিয়েছেন। বড় ধরনের অসহযোগিতার কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই।ক্রিমিনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী গালিব কবীর বলেন, আবাসনসংকট দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বর্তমান চাকসু। শাটলের সূচি বিপর্যস্ত, শহরগামী বাসের অভাব রয়েছে। মেডিক্যাল সেন্টারেও চিকিৎসক ও ওষুধের ঘাটতি আছে। ফলে নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমস্যাগুলোই এখনো শিক্ষার্থীদের ভোগাচ্ছে।৭০ থেকে ১০০ শতাংশ অগ্রগতি দাবি ভিপিরচাকসুর ভিপি মো. ইব্রাহীম হোসেন দাবি করেন, আবাসন ও পরিবহন ছাড়া ৩৩ দফার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৭০, ৮০, এমনকি শতভাগ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে। মেয়াদ শেষ হতেও কিছু সময় বাকি আছে। সেই সময়ের মধ্যে আরও কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, নতুন শাটল ট্রেন ও বাস যুক্ত হয়নি এবং আবাসনও প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ানো যায়নি। তবে পুরোনো শাটল সংস্কার, ১৪টি ইকো কার চালু, রাতে বাসের ব্যবস্থা এবং কয়েকটি হল সংস্কার করে শতাধিক শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা বা প্রত্যাশা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁরা পিছিয়ে ছিলেন না। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীরা যখন যে সমস্যার কথা জানিয়েছেন, প্রতিনিধিরা সেখানে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। মেয়াদের বাকি সময়ে অধিকাংশ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা তাঁর। এজিএস আইয়ুবুর রহমানএকটি প্যানেল থেকে ২৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন, আর আমি একা অন্য প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছি। শুরু থেকেই আমাকে কোণঠাসা করে রাখার বিষয়টি ছিল। কোনো কর্মসূচি নেওয়া কিংবা বিবৃতি দেওয়ার আগে আমার মতামত নেওয়া হয়নি। চাকসুর কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়েও আমাকে জানানো হয়নি।বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর মূল্যায়ন অবশ্য ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, গত প্রায় এক বছরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। বিশেষ করে আবাসন, নিরাপদ খাবার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের মতো বিষয়ে চাকসু প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের এজেন্ডার বদলে দলীয় কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন চাকসুর প্রতিনিধিরা।বিশ্ববিদ্যালয় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক সুদর্শন চাকমা বলেন, চাকসুর কিছু দৃশ্যমান কার্যক্রম থাকলেও মৌলিক সমস্যা সমাধানে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। আবাসনসংকটের মতো বড় সমস্যায় কার্যকর নীতি বা কর্মপরিকল্পনা তিনি দেখেননি। প্রশাসনকে চাপ দিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়েও নির্বাচিত নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন।‘আমি কোণঠাসা ছিলাম’ছাত্রদলের প্যানেল থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে এজিএস পদে জয়ী হয়েছিলেন আইয়ুবুর রহমান। চাকসুর কার্যক্রমে তাঁকে অনেকটা কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, ‘একটি প্যানেল থেকে ২৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন, আর আমি একা অন্য প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছি। শুরু থেকেই আমাকে কোণঠাসা করে রাখার বিষয়টি ছিল। কোনো কর্মসূচি নেওয়া কিংবা বিবৃতি দেওয়ার আগে আমার মতামত নেওয়া হয়নি। চাকসুর কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়েও আমাকে জানানো হয়নি।’ চাকসুর ফেসবুক পেজ পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, চাকসুর ফেসবুক পেজটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কেউ পরিচালনা করেন, নাকি ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা পরিচালনা করেন, সেটি তাঁর জানা নেই।এজিএস আইয়ুবুর রহমানের অভিযোগ নাকচ করেছেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন ও জিএস সাঈদ বিন হাবিব। তাঁদের দাবি, চাকসুর কোনো প্রতিনিধিকে কোণঠাসা করে রাখার সুযোগ নেই। প্রত্যেক প্রতিনিধি নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তাঁদের জন্য আলাদা বাজেটও বরাদ্দ রয়েছে।ভিপি ইব্রাহীম হোসেন বলেন, প্রথম কার্যনির্বাহী সভা থেকেই তাঁরা একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্বাচন যুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও প্রস্তুতি শুরুর দাবি তাঁদের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটে পরবর্তী চাকসু নির্বাচনের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকাকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তাপ্রতিশ্রুতিগুলোর একটি ছিল চাকসু নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে যুক্ত করে নিয়মিত নির্বাচন নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষের দিকে। পরবর্তী নির্বাচনের নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি।ভিপি ইব্রাহীম হোসেন বলেন, প্রথম কার্যনির্বাহী সভা থেকেই তাঁরা একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্বাচন যুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও প্রস্তুতি শুরুর দাবি তাঁদের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটে পরবর্তী চাকসু নির্বাচনের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকাকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।সপ্তম চাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এক বছর শেষে সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। নতুন নির্বাচন না হলে শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বলার নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক কাঠামোও থাকবে না।
ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা টি-টুয়েন্টি সিরিজ শুরু আজ। ভারত-আফগানিস্তান দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিও আজ। আছে রিয়াল মাদ্রিদের লা লিগা ম্যাচ, প্রতিপক্ষ এলচে।দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিভারত-আফগানিস্তানরাত ৮টা, সনি স্পোর্টস ৫প্রথম টি-টুয়েন্টিইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কারাত ১১-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১লা লিগাভায়েকানো-এসপানিওলরাত ১১টা, টি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাডএলচে-রিয়াল মাদ্রিদরাত ১-৩০ মি., টি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাডকারাবাও কাপইপসউইচ-আর্সেনালরাত ১টা, ফ্যানকোডলিভারপুল-টটেনহামরাত ১টা, ফ্যানকোড