জাতীয়

জায়গা ছাড়ছে না বিআরডিবি, ভবন নির্মাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা 

News সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
জায়গা ছাড়ছে না বিআরডিবি, ভবন নির্মাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা 
জায়গা ছাড়ছে না বিআরডিবি, ভবন নির্মাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা 
  • মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।

  • উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণে প্রকল্প অনুমোদন দেয় এলজিইডি।

  • আটতলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা ভবন নির্মাণে ১৮ কোটি ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

  • ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। ৫৪০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছ। প্রস্তাবিত জায়গায় সরকারি একটি দপ্তরের পুরোনো ভবন অপসারণ না করায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। প্রায় ১৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা না গেলে প্রকল্পের অর্থ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে অনুরোধ জানিয়ে গত ৬ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর কাছে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভবনটি জরাজীর্ণ ও অপ্রতুল হওয়ায় জনসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রস্তাবিত স্থানে বর্তমানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) স্থাপনা অপসারণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

১৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা না গেলে অর্থ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণে প্রকল্প অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন করতে দরপত্রও আহ্বান করা হয়। তবে প্রস্তাবিত ওই জায়গায় বিআরডিবি ভবন রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৯৭৮ সালের ১৩ জুলাই উপজেলা পরিষদের দেড় বিঘা জমি বরাদ্দ দেয় ভূমি প্রশাসন। এরপর ওই জায়গায় বিআরডিবি, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যালয় এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের গুদাম নির্মাণ করা হয়। উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর ওই জায়গা থেকে ভবন অপসারণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুটি দপ্তর নিজেদের স্থাপনা অপসারণ করতে সম্মতি জানালেও বিআরডিবির একতলা ভবনটি অপসারণ করা হচ্ছে না।

এর মধ্যেই গত ১৯ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন আবেদন করেন সদর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (ইউসিসিএ) সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন। ইউসিসিএ হচ্ছে বিআরডিবির আওতাধীন একটি তৃণমূল পর্যায়ের সমবায় সংস্থা।

রিটের বিষয়ে আওলাদ হোসেন দাবি করেন, উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় প্রথমে অফিসার্স ক্লাবের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। আগের প্রস্তাবিত জায়গায় উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন ভবন হলে বিআরডিবি, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কার্যালয় ও গুদাম অপসারণ করতে হবে না। এসব বিষয় নিয়ে তিনি রিট পিটিশন আবেদন করেছেন।

সদর উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলী আজম বলেন, প্রকল্পে আটতলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা ভবন নির্মাণে ১৮ কোটি ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে বিআরডিবি জায়গা ছেড়ে না দেওয়ায় অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। সেই অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত জায়গায় স্থাপনা অপসারণ করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স–সংলগ্ন পূর্ব পাশে প্রস্তাবিত জায়গায় বিআরডিবির একতলা পুরোনো ভবন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের দ্বিতল ভবন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের গুদাম রয়েছে। এ দুটি দপ্তর ও গুদামের মধ্যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন প্রস্তাবিত জায়গায় পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এবং পিআইওর কার্যালয়ের গুদাম অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পত্র দেন।

এ বিষয়ে গত ৫ মার্চ বিআরডিবির মহাপরিচালক সরদার মো. কেরামত আলী মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরডিবির কোনো স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে জমিসংক্রান্ত বিরোধ দ্বিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা বলা হয়।

ইউএনও মৌসুমী নাসরিন বলেন, বিআরডিবিকে বরাদ্দ দেওয়া হলেও শর্ত ছিল—জমির মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে না এবং ভাড়া প্রদান করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত জায়গা উপজেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত।

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, সম্প্রতি তিনি এখানে যোগদান করেছেন। বিস্তারিত জেনে তিনি মন্তব্য করবেন।

উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত নতুন ভবন নির্মাণের স্থবিরতা সমাধানের জন্য গত ১৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে অপর একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দুঃখজনক বিষয়। রিটের পর অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে এ বিষয়ে সব কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হত্যা মামলায় কারাগারে অভিনেতা পলাশ, অনিশ্চয়তায় অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’
হত্যা মামলায় কারাগারে অভিনেতা পলাশ, অনিশ্চয়তায় অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় চিত্রনায়ক মরতুজা পলাশকে গ্রেপ্তারের খবর বৃহস্পতিবার জানাজানি হয়েছে। নেপাল থেকে দেশে ফেরার পর গত ২৮ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার এজাহারনামীয় আসামি পলাশ বর্তমানে কারাগারে আছেন।নেপালে শুটিং স্পটে (সামনে বাম থেকে) চিত্রগ্রাহক সাইফুল শাহীন, পরিচালক কামরুজ্জামান রোমান, চিত্রনায়ক মরতুজা পলাশ ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসসহ সহশিল্পী এবং কলাকুশলীরাপলাশ নেপালে অপু বিশ্বাস অভিনীত ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। গত আগস্টে শুরু হওয়া সিনেমাটির ২৫ দিনের বেশি শুটিং শেষে আকস্মিক বন্যার কারণে ২৮ আগস্ট দেশে ফেরে ‘শিকার’–এর দল। সেদিনই বিমানবন্দর থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি।‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ের ফাঁকে অপু বিশ্বাসের সঙ্গে মরতুজা পলাশখোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর পলাশকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে পলাশ কারাগারে থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর অভিনীত ‘শিকার’ সিনেমার বাকি কাজ। নেপালে সিনেমাটির বেশির ভাগ অংশের দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে। এখনো কয়েকটি দৃশ্য ও গানের শুটিং বাকি। আগামী অক্টোবরে সেগুলোর দৃশ্যধারণের পরিকল্পনা করেছিলেন নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমান। কিন্তু নায়ক কারাগারে থাকায় শুটিংয়ের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারছেন না তিনি।‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ের ফাঁকে মরতুজা পলাশের সেলফিতে অপু বিশ্বাসকামরুজ্জামান রোমান বলেন, ‘নেপালে “শিকার”–এর বেশির ভাগ অংশের শুটিং শেষ হয়েছে। অক্টোবরে বাকি কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নায়ক কারাগারে থাকায় এখনো চূড়ান্ত শিডিউল করা যাচ্ছে না। মরতুজা পলাশ আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আশা করছে, তিনি শিগগিরই মুক্তি পাবেন। তা না হলে অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।’সীমান্তবর্তী এলাকার গল্প নিয়ে থ্রিলার ঘরানার সিনেমা ‘শিকার’। আবদুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্যে এতে মরতুজা পলাশ ও অপু বিশ্বাস ছাড়াও অভিনয় করছেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, সুমন আনোয়ার এবং পশ্চিমবঙ্গের খরাজ মুখোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্য। রেজা ফিল্মসের ব্যানারে সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে।

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
হুতিদের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু? কীভাবে এত শক্তিশালী হলো এ গোষ্ঠী?

হুতিদের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু? কীভাবে এত শক্তিশালী হলো এ গোষ্ঠী?

ইরানে মার্কিন হামলা: জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদন নিয়ে কী বলছ যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে মার্কিন হামলা: জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদন নিয়ে কী বলছ যুক্তরাষ্ট্র

মায়ামিতে গিয়ে ‘মাথা খুলেছে’ মেসির

মায়ামিতে গিয়ে ‘মাথা খুলেছে’ মেসির

ডাকসু সংগ্রহশালায় ছয় সাহিত্যিকের নামে ভুল ছবি, সরানো হলো সমালোচনার মুখে
ডাকসু সংগ্রহশালায় ছয় সাহিত্যিকের নামে ভুল ছবি, সরানো হলো সমালোচনার মুখে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের একাংশ’ শিরোনামে ছয় কবি-সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তার অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি নয়—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ছবিগুলো সরিয়ে নতুন ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে সংগ্রহশালার একটি ফ্রেমে পল্লিকবি জসীমউদ্​দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, কবি আসাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজল ও ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হকের নামের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল।এই ছয়জনের মধ্যে জসীমউদ্‌দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক ও আসাদ চৌধুরীর নামে ব্যবহৃত ছবিগুলো তাঁদের নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। আবুল ফজলের নামের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবিটিও তাঁর নয় বলে মনে করেন তিনি। শুধু মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটির সঙ্গে তাঁর চেহারার কিছুটা মিল পাওয়া গেছে।অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, ‘জসীমউদ্‌দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক ও আসাদ চৌধুরীর নামের ওপরে যেসব ছবি আছে, সেগুলো মোটেও এসব ব্যক্তির নয়। আবুল ফজলের ছবিটিও তাঁর হওয়ার কথা নয়। শ্মশ্রুমণ্ডিত ভিন্ন আবুল ফজলই আমাদের কাছে পরিচিত। একমাত্র মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটি খানিকটা তাঁর চেহারার সঙ্গে যায়।’ডাকসুর সংগ্রহশালায় আব্দুল মালেকের ছবি, কে ছিলেন তিনি, কীভাবে নিহত হনছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক তারিক মনজুর। একই সঙ্গে ছয় সাহিত্যিকের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।তারিক মনজুর বলেন, ‘খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের একাংশ’ শিরোনামে যে তালিকা করা হয়েছে, সেটি অসম্পূর্ণ। খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের তালিকা এত বড় যে বাস্তবে সবাইকে এক দেয়ালে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট কয়েকজনের ছবি টাঙানো সমীচীন হয়নি।তবে ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। নকশার সময় ছবির মান বাড়াতে গিয়ে কয়েকটি ছবির চেহারা বদলে যায়।ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন–বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম ঝুমা বলেন, ডিজাইনারকে ছবি দেওয়ার পর মান বাড়ানোর সময় দু-তিনটি ছবির চেহারা এক রকম হয়ে যায়।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, আর কী যুক্ত হলো, কী বাদ গেলডাকসু সংগ্রহশালায় শুরুতে ছয় সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে ব্যবহার করা ছবির সঙ্গে তাঁদের অধিকাংশেরই মিল নেইএআই দিয়ে ছবি তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা জানতে চাইলে ফাতিমা তাসনিম বলেন, ‘এআই দিয়ে বানানো নয়। সবার ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া। সে ক্ষেত্রে ছবিগুলোর কোয়ালিটি এনহ্যান্স করতে গিয়ে হয়েছে।’ফাতিমা তাসনিম আরও বলেন, অনেকগুলো ছবি একসঙ্গে থাকায় বিষয়টি প্রথমে তাঁদের নজরে আসেনি। পরে তিনি বিষয়টি দেখে ডিজাইনারকে জানান। এরপর নতুন ছবি পাঠানো হলে গতকাল তা প্রিন্ট করে সংগ্রহশালায় আগের ছবি পরিবর্তন করে এই ছবি লাগানো হয়েছে।সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর ১৩ সেপ্টেম্বর আবার চালু করা হয়। সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগের কয়েকটি ছবি বাদ পড়েছে। যুক্ত হয়েছে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আব্দুল মালেকের ছবিও রাখা হয়েছে।জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনপরে ১৪ সেপ্টেম্বর সংগ্রহশালায় সাঁটানো মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান একজন শিক্ষার্থী।এদিকে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত (পরে প্রয়াত) গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সংগ্রহশালায় টাঙিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা।ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টাঙানোর ঘটনাটি তদন্তে ১৪ সেপ্টেম্বরই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে।ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন এক শিক্ষার্থী

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ভ্যানে তল্লাশির পর মিলল ২৩ বস্তা সার, পালিয়ে গেলেন চালক

ভ্যানে তল্লাশির পর মিলল ২৩ বস্তা সার, পালিয়ে গেলেন চালক

দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল, ধোঁয়া উঠছে ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে

দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল, ধোঁয়া উঠছে ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে

এক আলোকদিবস দূরত্বে পৌঁছানোর রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে ভয়েজার ১ মহাকাশযান

এক আলোকদিবস দূরত্বে পৌঁছানোর রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে ভয়েজার ১ মহাকাশযান

মহাকাশে কোন ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
মহাকাশে কোন ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

১৯৫৭ সালে মহাকাশ যুগ শুরু হওয়ার পর থেকেই কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন দেশ মহাকাশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি গোপনে সামরিকীকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত সোমবার প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি (বাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা) ট্রয় মেইঙ্ক মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন। এর পর থেকেই মহাকাশে মোতায়ন করা অস্ত্রের ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য এই কক্ষপথের অস্ত্র জরুরি ছিল। তবে এই অস্ত্রের ধরন, ক্ষমতা বা এটি কখন মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি তিনি। যুক্তরাজ্যের ডারহাম ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোপলিটিকসের সহযোগী অধ্যাপক ও রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সহযোগী ফেলো ব্লেডিন বোয়েনের ধারণা, এটি একধরনের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা রেডিও জ্যামিং প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। এটি মূলত একধরনের অ–ধ্বংসাত্মক অ্যান্টি–স্যাটেলাইট অস্ত্র, যা স্যাটেলাইটের রেডিও যোগাযোগ নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। চীন এরই মধ্যে মহাকাশে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যার মাধ্যমে একটি যান অন্য স্যাটেলাইটগুলোকে ভিন্ন কক্ষে নিয়ে যেতে পারে। তবে এই প্রযুক্তির ভালো দিকও রয়েছে। কারণ, এর সাহায্যে মহাকাশের জঞ্জাল পরিষ্কারও করা সম্ভব।মহাকাশে এ ধরনের অস্ত্র মোতায়নের পেছনে বড় ধরনের ধ্বংস ও বর্জ্য সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কাইনেটিক কিল ভেহিকেলের মাধ্যমে কোনো যান অন্য স্যাটেলাইটকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ধ্বংস করে দিতে পারে। এ ছাড়া ক্লোজ ইন্সপেকশন ও গ্র্যাপলিং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অন্য স্যাটেলাইটকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ বা ধরে ফেলা সম্ভব। রাশিয়া ও চীন এ ধরনের অস্ত্র আগে থেকেই মহাকাশে ব্যবহার করছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে জার্মানির বিজ্ঞান ও রাজনীতি ফাউন্ডেশনের গবেষক জুলিয়ানা সুয়েস জানিয়েছেন, রাশিয়া অতীতে কো–অরবিটাল অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশে রেনডেভু ও প্রক্সিমিটি অপারেশন বা আরপিও নামের বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কিংস কলেজ লন্ডনের রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক রড থর্নটন জানিয়েছেন, মহাকাশে বিভিন্ন স্যাটেলাইট হান্টার–কিলার হিসেবে কাজ করতে পারে। এগুলো ধাক্কা খেয়ে বা সামান্য ধাক্কা দিয়ে অন্য স্যাটেলাইটগুলোকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম।মার্কিন এই ঘোষণা মূলত রাজনৈতিক সংকেত ছাড়া বড় কোনো নতুন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। চীনের সামরিক আধুনিকায়ন ও মহাকাশে তাদের স্যাটেলাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন ও চীনা—উভয় পক্ষই এখন একে অপরের মহাকাশ সংস্কৃতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই পারস্পরিক নির্ভরতাই মহাশূন্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে।সূত্র: বিবিসি

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
শেষ বয়সে আমাকে একা রেখো না

শেষ বয়সে আমাকে একা রেখো না

ফরজ হজ পালন না করার পরিণতি ভয়ানক

ফরজ হজ পালন না করার পরিণতি ভয়ানক

সাতছড়ির ছড়ায় পানি নেই, পুকুরও ভরাট, জাতীয় উদ্যানে প্রাণীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে

সাতছড়ির ছড়ায় পানি নেই, পুকুরও ভরাট, জাতীয় উদ্যানে প্রাণীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে

0 Comments