জাতীয়

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন কি ঘনিয়ে আসছে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন কি ঘনিয়ে আসছে
ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন কি ঘনিয়ে আসছে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এক বিশাল আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে আকাশ ছাই ও উত্তপ্ত গ্যাসে ঢেকে গেল। বিমান চলাচল বন্ধ। আশপাশের শহর ধ্বংস হলো। ফসল নষ্ট হয়ে গেল। সালফার ডাই-অক্সাইডের কুয়াশা পুরো পৃথিবীতে সূর্যের আলো আটকে দেওয়ায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে গেল। ফলে আমেরিকা থেকে এশিয়া পর্যন্ত চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। বিশ্বজুড়ে অনাহারে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হলো।

এমন মহাবিপর্যয় যেকোনো সময় ঘটতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খাদ্যসংকট তৈরি করবে। তাই প্রতিটি দেশের সরকারের উচিত জাতীয় নিরাপত্তার তালিকায় পারমাণবিক যুদ্ধ, আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মতো ঘটনাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া।

এই সংকট সামলাতে জরুরি ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য বাণিজ্যের নিয়ম আগে থেকেই ঠিক করে রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সূর্যালোক বা সার ছাড়াই বিপুল খাবার উৎপাদনের নতুন গবেষণায় এখনই অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত।

কয়েক বছর ধরে কোভিড মহামারি, ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ ও ইরানের সংঘাতের মতো নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে সামনে আমাদের জন্য আরও বড় সংকট অপেক্ষা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে খাবার উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে। কারণ, সার কেনাবেচার একটা বড় অংশ এই পথ দিয়েই হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করেছে, এই পথ বন্ধের ঘাটতি ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।

এ থেকে বোঝা যায়, আজকের যুক্ত থাকা পৃথিবীতে এক জায়গার সংকট দূরের দেশের ওপরও প্রভাব ফেলে। বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলে তার ধাক্কা বিশ্বজুড়ে অনেক দ্রুত ও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারো, খুব কম ঘটে এমন ভয়াবহ বিপদের প্রস্তুতি আমাদের কেন নিতে হবে? কিন্তু এসব মহাবিপর্যয় যতটা অসম্ভব মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। বরফের পুরোনো স্তর পরীক্ষা করে অতীতে ঘটে যাওয়া বিশাল আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের হিসাব পাওয়া যায়।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফাইল ছবি

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীতেই ইন্দোনেশিয়ার তাম্বোরা আগ্নেয়গিরির মতো ভয়াবহ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা ছয় ভাগের এক ভাগ। ১৮১৫ সালের সেই বিস্ফোরণের কারণে পৃথিবীতে এক বছরের জন্য গ্রীষ্মকালই আসেনি। আবার ১৮৫৯ সালের মতো ভয়াবহ সৌরঝড়ের আশঙ্কা প্রতি দশকে ১ থেকে ১২ শতাংশ।

এমন সৌরঝড় হলে মহাদেশের পর মহাদেশজুড়ে বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা অচল হয়ে যাবে। আবার পারমাণবিক অস্ত্র থাকা দেশগুলোও সব সময় কোনো না কোনো যুদ্ধে জড়াচ্ছে। এটা পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এসব বিপদের প্রতিটি আলাদাভাবে হয়তো অসম্ভব মনে হতে পারে। তবে সব হিসাব মেলালে দেখা যায়, এই শতাব্দীতে এর যেকোনো একটি ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশ প্রবল।

এসব বিপদের সবচেয়ে বড় সাধারণ দিক হলো, প্রতিটির প্রভাব সরাসরি এসে পড়বে আমাদের খাবারের ওপর। বড় আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ, পারমাণবিক যুদ্ধ বা গ্রহাণুর আঘাতের কারণে বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়বে, যা সূর্যের আলো আটকে দেবে। এতে আবহাওয়া খুব ঠান্ডা ও শুষ্ক হয়ে যাবে এবং ফসল ফলানো বন্ধ হয়ে যাবে।

পারমাণবিক যুদ্ধ হলে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ খাবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার সৌরঝড় হলে সার, কীটনাশক ও জ্বালানির অভাব দেখা দেবে। ফলে যেসব এলাকায় এখন সবচেয়ে বেশি খাদ্য তৈরি হয়, সেখানে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

খুব কম দেশই এসব বড় ঝুঁকি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। যারা একটু কাজ করছে, তাদের প্রস্তুতিও আসলে যথেষ্ট নয়। যুক্তরাজ্যের ঝুঁকির তালিকায় ৮৯টি বিপদের কথা বলা আছে। এর মধ্যে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ, মহাকাশের খারাপ আবহাওয়া বা মহামারির কথা বলা আছে। কিন্তু সেখানে খুব বড়জোর ১ হাজার মানুষের মৃত্যু বা কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে। কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে এমন বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষ বা পারমাণবিক যুদ্ধের মতো বড় বিপদের কথা তারা তালিকায় রাখেইনি।

১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার পর

সুইজারল্যান্ডের মতো দেশ ঝুঁকির তালিকায় নানা বিপদের কথা বললেও সেগুলোর মাত্রা খুব ছোট করে ধরে। অথচ পৃথিবীর বহু দেশ এসব বিপদ নিয়ে চিন্তাই করে না।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, ভালো ভৌগোলিক অবস্থান ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থার কারণে বিপর্যয় সামলাতে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান সবচেয়ে ভালো। তবে জ্বালানি, ওষুধ ও সার আমদানির ওপর নির্ভর করায় তারাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তাই একা কোনো দেশের পক্ষে মহাবিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

বিপদের সময় খাদ্য রপ্তানি বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হতে পারে। তাই মহাবিপর্যয় আসার আগেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম ও চুক্তি ঠিক করে রাখা জরুরি।

পারমাণবিক যুদ্ধ, সৌরঝড়, উল্কাপাত ও আগ্নেয়গিরির মতো সব বিপদ একসঙ্গে হিসাব করলে যেকোনো একটি ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশ প্রবল। তবে প্রস্তুতির জন্য বিপুল খরচের প্রয়োজন নেই। কম খরচে চাষাবাদ, বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খাবার জমিয়ে রাখার কাজগুলো সহজলভ্য।

বিপর্যয় ঘটে গেলে প্রস্তুত হওয়ার বা নতুন চুক্তি করার আর সময় পাওয়া যাবে না। প্রস্তুতি নেওয়া ও না–নেওয়া দেশের পার্থক্য স্পষ্ট হবে মানুষের জীবন বাঁচানোর সংখ্যার মধ্য দিয়ে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হবিগঞ্জে বাস ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগ
হবিগঞ্জে বাস ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগ

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা এবং পরিবহন শ্রমিকদের মারধর ও নির্যাতনের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট চলছে। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে এ ধর্মঘট চলছে।

News অক্টোবর ১, ২০২৬ 0
ফ্রান্সে প্রধান শিক্ষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা

ফ্রান্সে প্রধান শিক্ষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা

নেপালে তুষারধসে নিহত ১৫ শ্রমিক

নেপালে তুষারধসে নিহত ১৫ শ্রমিক

৯ গোলে বিধ্বস্ত, আসিয়ান কাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

৯ গোলে বিধ্বস্ত, আসিয়ান কাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

0 Comments