জাতীয়

গুগলের সবকিছু ফ্রি, তবু এক বছরে কীভাবে ৪০০ বিলিয়ন ডলার আয় করল

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
গুগলের সবকিছু ফ্রি, তবু এক বছরে কীভাবে ৪০০ বিলিয়ন ডলার আয় করল
গুগলের সবকিছু ফ্রি, তবু এক বছরে কীভাবে ৪০০ বিলিয়ন ডলার আয় করল

গুগলে সার্চ করতে, ইউটিউবে ভিডিও দেখতে কিংবা অফিসের জরুরি মেইলটা জিমেইলে পাঠাতে আপনি কত টাকা খরচ করেন? আমি খরচ করি শূন্য টাকা। অর্থাৎ, একটি পয়সাও খরচ না করে আমি-আপনি গুগলের দারুণ সব সেবা ব্যবহার করছি। অথচ গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে! সঠিক অঙ্কটা হলো ৪০২.৮৩৬ বিলিয়ন ডলার। একই বছরে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ১৩২.১৭ বিলিয়ন ডলার।

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, যে কোম্পানির এত জনপ্রিয় সব সেবার জন্য আমরা কোনো টাকাই দিই না, তাদের রাজকোষে এত এত টাকা ঢোকে কীভাবে?

গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে! সঠিক অঙ্কটা হলো ৪০২.৮৩৬ বিলিয়ন ডলার।

পণ্য যখন আপনি নিজেই

ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি বহুল আলোচিত কথা আছে—যেখানে আপনি কোনো সেবার জন্য টাকা দিচ্ছেন না, সেখানে অনেক সময় আপনি নিজেই মূল পণ্য! গুগলের ব্যবসার দিকে তাকালে কথাটি বেশ পরিষ্কার হয়ে যায়।

একদিকে দাঁড়িয়ে আছি আমি, আপনি আর পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। আমরা বিনা পয়সায় গুগলে সার্চ করছি, গুগল ম্যাপসে রাস্তা খুঁজছি, জিমেইলে মেইল পাঠাচ্ছি কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখছি। অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে লাখ লাখ বিজ্ঞাপনদাতা। তারা তাদের পণ্য বা সেবা এমন মানুষের সামনে হাজির করতে চায়, যাদের কাছে ওই বিজ্ঞাপনের মূল্য আছে। এই দুই পক্ষের ঠিক মাঝখানে গুগল তৈরি করেছে বিশাল এক ডিজিটাল বাজার।

একদিকে দাঁড়িয়ে আছি আমি, আপনি আর পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। আমরা বিনা পয়সায় গুগলে সার্চ করছি, গুগল ম্যাপসে রাস্তা খুঁজছি, জিমেইলে মেইল পাঠাচ্ছি কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখছি।

আমরা গুগলের সেবা ব্যবহার করার সময় নিজেদের অজান্তেই গুগলকে নানা তথ্য দিই। আপনি কী খুঁজছেন, কী দেখছেন, কোন বিষয়ে আগ্রহী—এসব তথ্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করে গুগল। এরপর সেগুলো বিশ্লেষণ করে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। অর্থাৎ, আমাদের কখন কোন জিনিস ভালো লাগবে, সেটা গুগল আগেই অনুমান করতে পারে। বিজ্ঞাপনের বাজারে এই তথ্যের মূল্য অনেক। এতটাই বেশি যে বলা হয় ডিজিটাল এই দুনিয়ায় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের নামই হলো তথ্য।

আপনি কী খুঁজছেন, কী দেখছেন, কোন বিষয়ে আগ্রহী—এসব তথ্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করে গুগল

আপনি যত বেশি সময় ধরে কোনো ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করবেন, তত বেশি তথ্য তৈরি হবে। আর সেই তথ্য থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার আচরণ ও আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা পাবে। ফলে একই বিজ্ঞাপন সবাইকে না দেখিয়ে, যার আগ্রহ আছে তাকেই শুধু দেখানো যায়। এতে বিজ্ঞাপনদাতার সময় যেমন সাশ্রয় হয়, তেমনি পণ্য বিক্রি বাড়ে বহুগুণ। এ কারণেই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে মানুষ এখন আর খুব একটা ভাবে না। অর্থাৎ, আপনি টাকা না দিলেও গুগলের সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা বিনিময়হীন নয়।

আপনি যত বেশি সময় ধরে কোনো ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করবেন, তত বেশি তথ্য তৈরি হবে। আর সেই তথ্য থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার আচরণ ও আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা পাবে।

সংখ্যায় অ্যালফাবেট

নিচের ছকটা একনজর দেখুন।

কোথা থেকে এল ৪০০ বিলিয়ন

অ্যালফাবেটের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাদের মোট রাজস্বের প্রায় ৭৩ শতাংশই এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে, যার পরিমাণ ২৯৪.৬৯১ বিলিয়ন ডলার! এর মধ্যে শুধু গুগল সার্চ ও অন্যান্য থেকেই এসেছে ২২৪.৫৩২ বিলিয়ন ডলার।

ধরুন, আপনি গুগলে লিখলেন—‘ঢাকা টু কক্সবাজার বিমান টিকিট’ কিংবা ‘সেরা বাজেট ল্যাপটপ’। খেয়াল করলে দেখবেন, সার্চ ফলাফলের ওপরে 'Sponsored' বা 'Ad' লেখা কয়েকটি লিংক দেখা যায়? এগুলো এমনি এমনি সেখানে আসে না। বিজ্ঞাপনদাতারা নির্দিষ্ট সার্চের সামনে নিজেদের বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য অর্থ দিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আপনি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে সেই ক্লিকের জন্যও বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে গুগল রাজস্ব পায়। ২০২৫ সালে ‘গুগল সার্চ ও অন্যান্য’ বিভাগের পেইড ক্লিক বেড়েছে ৬ শতাংশ, আর কস্ট-পার-ক্লিক বেড়েছে ৭ শতাংশ।

অ্যালফাবেটের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাদের মোট রাজস্বের প্রায় ৭৩ শতাংশই এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে, যার পরিমাণ ২৯৪.৬৯১ বিলিয়ন ডলার!

ইউটিউবও কম যায় না!

ভিডিও শুরু হওয়ার আগে বা মাঝখানে যেসব বিজ্ঞাপন আমাদের বিরক্তির কারণ হয়, সেগুলোই কিন্তু গুগলের বড় আয়ের উৎস! ২০২৫ সালে শুধু ইউটিউব অ্যাডস থেকেই এসেছে ৪০.৩৬৭ বিলিয়ন ডলার। আর গুগল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য ওয়েবসাইট ও অ্যাপে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে এসেছে আরও ২৯.৭৯২ বিলিয়ন ডলার।

ফ্রি থেকে পেইড

গুগলের ব্যবসা অবশ্য শুধু বিজ্ঞাপনেই আটকে নেই। ‘সাবস্ক্রিপশন, প্ল্যাটফর্ম এবং ডিভাইসেস’ বিভাগ থেকে ২০২৫ সালে গুগলের আয় হয়েছে ৪৮.০৩০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে গুগল ওয়ান, ইউটিউব প্রিমিয়াম, গুগল প্লে ও পিক্সেল স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন সেবা ও পণ্যের আয় রয়েছে।

সাবস্ক্রিপশন, প্ল্যাটফর্ম এবং ডিভাইসেস বিভাগ থেকে ২০২৫ সালে গুগলের আয় হয়েছে ৪৮.০৩০ বিলিয়ন ডলার

আপনি হয়তো গুগলের কোনো ফ্রি স্টোরেজ ব্যবহার করছেন। বছরের পর বছর ছবি, ভিডিও আর ফাইল জমতে জমতে একসময় সেই জায়গা ফুরিয়ে যাবে। তখন ঠিকই আপনার সামনে আসবে আরও বেশি স্টোরেজ কেনার পেইড প্ল্যান। অর্থাৎ, ফ্রি সেবা অনেক সময় শেষ গন্তব্য নয়; বরং এটি বড় একটি ব্যবসায়িক ব্যবস্থার প্রবেশদ্বার মাত্র।

আছে গুগল ক্লাউড

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের অনেক সেবা ফ্রি হলেও করপোরেট দুনিয়ায় গল্পটা আলাদা। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান নিজেদের সফটওয়্যার, ডেটাবেস ও এআই অবকাঠামো চালাতে গুগল ক্লাউড ব্যবহার করে। ২০২৫ সালে গুগল ক্লাউডের রাজস্ব বেড়ে হয়েছে ৫৮.৭০৫ বিলিয়ন ডলার, আর অপারেটিং ইনকাম দাঁড়িয়েছে ১৩.৯১০ বিলিয়ন ডলার।

২০২৫ সালে অ্যালফাবেটের মূলধনি ব্যয় ছিল প্রায় ৯১.৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের জন্য তারা ১৭৫ থেকে ১৮৫ বিলিয়ন ডলার মূলধনি ব্যয়ের বিশাল এক পরিকল্পনা জানিয়েছে।

এবার খেলায় এআই

চ্যাটজিপিটি আসার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের সাম্রাজ্য হয়তো বিপদে পড়বে। কিন্তু গুগল সহজে মাঠ ছেড়ে দেয়নি। বরং জেমিনির মতো এআই মডেলকে তারা সার্চ, ক্লাউড এবং অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা একই প্ল্যাটফর্মে এআইসহ পুরোনো সেবাগুলো উপভোগ করতে পারছেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে জেমিনি অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল ৭৫০ মিলিয়নেরও বেশি। একই সময়ে অ্যালফাবেট জানায়, তাদের বিভিন্ন ভোক্তা সেবায় মোট পেইড সাবস্ক্রিপশন ৩২৫ মিলিয়নের বেশি।

চমৎকার এই অগ্রযাত্রার জন্য গুগল খরচও করছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ২০২৫ সালে অ্যালফাবেটের মূলধনি ব্যয় ছিল প্রায় ৯১.৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের জন্য তারা ১৭৫ থেকে ১৮৫ বিলিয়ন ডলার মূলধনি ব্যয়ের বিশাল এক পরিকল্পনা জানিয়েছে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে জেমিনি অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল ৭৫০ মিলিয়নেরও বেশি

আমরা টাকা না দিলেই কোনো কিছুকে ‘ফ্রি’ বলে ধরে নিই। কিন্তু ডিজিটাল দুনিয়ায় বিষয়টা এত সহজ নয়। গুগল আপনাকে সার্চ করতে টাকা নিচ্ছে না, ইউটিউব দেখতে টাকা নিচ্ছে না, জিমেইল ব্যবহার করতেও টাকা নিচ্ছে না। কিন্তু এসব সেবা ব্যবহার করার সময় আপনি আপনার মনোযোগ, সময় এবং তথ্য দিয়ে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করছেন, যেখান থেকে বিজ্ঞাপনদাতা টাকা দিচ্ছে, গ্রাহক সাবস্ক্রিপশন কিনছে আর বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাউড ও এআই সেবার জন্য অর্থ খরচ করছে।

ডিজিটাল এই দুনিয়ায় তথ্য তাই শুধু ‘তথ্য’ নয়, এটি মহামূল্যবান সম্পদ। আর গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান সেই সম্পদ ও ব্যবহারকারীর আচরণ থেকে তৈরি হওয়া মূল্যকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক মডেলের মাধ্যমে অর্থে রূপান্তর করছে।

লেখক: সফটওয়্যার ডেভেলপার, নেক্সালাইজ

সূত্র: অ্যালফাবেট, গুগল ব্লগ, ইউএস সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হবিগঞ্জে বাস ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগ
হবিগঞ্জে বাস ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগ

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা এবং পরিবহন শ্রমিকদের মারধর ও নির্যাতনের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট চলছে। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে এ ধর্মঘট চলছে।

News অক্টোবর ১, ২০২৬ 0
ফ্রান্সে প্রধান শিক্ষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা

ফ্রান্সে প্রধান শিক্ষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা

নেপালে তুষারধসে নিহত ১৫ শ্রমিক

নেপালে তুষারধসে নিহত ১৫ শ্রমিক

৯ গোলে বিধ্বস্ত, আসিয়ান কাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

৯ গোলে বিধ্বস্ত, আসিয়ান কাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

0 Comments