মুঠোফোনে ইউটিউব খুলে একটি ভিডিওতে চাপ দিলেন। কয়েক মুহূর্তের ফোনের পর্দায় ভেসে উঠলো একটি ভিডিও। ভিডিওটি হয়তো কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের কোনো ডাটা সেন্টারে রাখা, আবার হতে পারে এর একটি কপি আছে আপনার শহরের কাছাকাছি কোনো সার্ভারে। যেখানেই থাকুক, এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কোনো আভাসই আপনি পেলেন না।
ফোনে তার নেই বলে অনেকেরই ধারণা, ইন্টারনেট বুঝি স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি বাতাসে ভেসে আসে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন, ফোন থেকে কাছের মোবাইল টাওয়ার পর্যন্ত সংযোগটুকু তারবিহীন হতে পারে, কিন্তু এরপরের প্রায় পুরো যাত্রাই চলে তারের বিশাল জালের ভেতর দিয়ে। মাটির নিচের অপটিক্যাল ফাইবার, সমুদ্রের তলদেশের সাবমেরিন কেবল, রাউটার, ডাটা সেন্টার ও ক্যাশ সার্ভার,সব মিলিয়েই আমাদের পরিচিত ইন্টারনেট।
সহজ ভাষায় বললে, ইন্টারনেট হলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য নেটওয়ার্কের একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা। একটি বাসা বা অফিসের কয়েকটি কম্পিউটার নিজেদের মধ্যে যুক্ত হলে ছোট একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। এমন লাখ লাখ ছোট-বড় নেটওয়ার্ক যখন নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত নিয়ম মেনে তথ্য বিনিময় করে, তখনই গড়ে ওঠে ইন্টারনেট। এ কারণেই একে বলা হয় ‘নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক’।
এর কোনো কেন্দ্রীয় সুইচ নেই, যা বন্ধ করলেই গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট থেমে যাবে। দেশ, প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও ইন্টারনেট সেবাদাতার নিজস্ব নেটওয়ার্কগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত বলেই পুরো ব্যবস্থা সচল থাকে।
আপনি ব্রাউজারে কোনো ওয়েবসাইটের নাম লিখলে ফোন বা কম্পিউটার প্রথমে রাউটার কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর ওয়েবসাইটটির ঠিকানা খুঁজে বের করতে হয়। মানুষ ডোমেইনের নাম মনে রাখে, কিন্তু নেটওয়ার্কের যন্ত্রগুলো যোগাযোগ করে আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে।
ডোমেইনের নামের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইপি ঠিকানা মিলিয়ে দেয় ডোমেইন নেম সিস্টেম বা ডিএনএস। বিষয়টি অনেকটা মুঠোফোনের যোগাযোগ তালিকার মতো,আপনি নাম বাছাই করেন, ফোন ভেতর থেকে নম্বরটি খুঁজে নেয়। ঠিকানা পাওয়ার পর ব্রাউজার সংশ্লিষ্ট সার্ভারের কাছে তথ্য চায়। সার্ভার তখন প্রয়োজনীয় লেখা, ছবি বা ভিডিও পাঠাতে শুরু করে।
বড় একটি ভিডিও বা ফাইল একবারে আসে না। সেটি ছোট ছোট ডাটা প্যাকেটে ভাগ হয়ে রাউটার থেকে রাউটারে এগোয়। সব প্যাকেট যে একই পথ ধরে আসে, তা নয়। নেটওয়ার্কের অবস্থা অনুযায়ী পথ বদলাতে পারে। কোনো অংশ হারিয়ে গেলে সেটি আবার পাঠানো হয়। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ফোন বা কম্পিউটার প্যাকেটগুলো সাজিয়ে পূর্ণাঙ্গ ভিডিও, ছবি বা ওয়েবপেজ দেখায়। পুরো ঘটনাটি ঘটে চোখের পলকে।
ইউটিউবে জনপ্রিয় কোনো ভিডিও চালালেই সেটি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দূরদেশ থেকে আসবে,এমন নয়। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বহুল ব্যবহৃত কনটেন্টের কপি বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের কাছাকাছি সার্ভারে রেখে দেয়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক বা সিডিএন।
স্থানীয় ক্যাশ সার্ভারে ভিডিও থাকলে সেটি দ্রুত ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যায়। এতে আন্তর্জাতিক সংযোগের ওপর চাপ কমে, ভিডিও আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক সংযোগে সমস্যা হলেও অনেক সময় স্থানীয় ওয়েবসাইট বা কাছাকাছি সার্ভারে রাখা কনটেন্ট স্বাভাবিকভাবে চলে। কিন্তু যে সেবার তথ্য বিদেশ থেকে আনতেই হবে, সেটি ধীর হয়ে যেতে পারে।
বিদেশের কোনো সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে তথ্যকে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে যেতে হয়। সেই যাত্রার প্রধান পথ সাবমেরিন কেবল। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৯৯ শতাংশের বেশি আন্তর্জাতিক ডাটা সমুদ্রের নিচের টেলিযোগাযোগ কেবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। অর্থাৎ স্যাটেলাইট নয়, মহাদেশগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট যোগাযোগের বড় ভরসা এই কেবল।
সাবমেরিন কেবলের ভেতরে থাকে অপটিক্যাল ফাইবার ও একাধিক সুরক্ষা স্তর। ফাইবারে তথ্য বৈদ্যুতিক স্রোত হিসেবে নয়, আলোর সংকেত হয়ে ছুটে চলে। সমুদ্রতীরের ল্যান্ডিং স্টেশনে কেবলটি দেশের স্থলভাগের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর দেশীয় ফাইবার নেটওয়ার্ক ধরে তথ্য পৌঁছে যায় বিভিন্ন এলাকায়।
জাহাজের নোঙর, মাছ ধরার সরঞ্জাম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কারিগরি ত্রুটিতে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন বিকল্প পথে পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকলে ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। তাই নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য একাধিক কেবল ও বিকল্প পথ গুরুত্বপূর্ণ।
মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ফোনটি প্রথমে রেডিও তরঙ্গে কাছের বেস স্টেশন বা মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখান থেকে তথ্য যায় অপারেটরের মূল নেটওয়ার্কে। টাওয়ারকে মূল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রাখার এই ব্যবস্থাকে বলা হয় ব্যাকহল।
ব্যাকহলে সাধারণত অপটিক্যাল ফাইবার বা মাইক্রোওয়েভ সংযোগ ব্যবহার করা হয়। অনেক টাওয়ারে মাটির নিচ দিয়ে ফাইবার পৌঁছেছে। আবার দুর্গম এলাকায় এক টাওয়ার থেকে অন্য টাওয়ারে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গে তথ্য পাঠানো হয়। টাওয়ারের ওপরে থাকা গোলাকার ডিশগুলো প্রায়ই এই কাজ করে। অর্থাৎ মোবাইল ইন্টারনেটের শেষ অংশটি তারবিহীন হলেও পেছনের অবকাঠামো মোটেও পুরোপুরি তারবিহীন নয়।
চলন্ত বাস বা ট্রেনেও সংযোগ টিকে থাকে একই নেটওয়ার্ক কাঠামোর কারণে। প্রতিটি টাওয়ার একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা ‘সেল’ সামলায়। ব্যবহারকারী এক সেল থেকে অন্য সেলে গেলে ফোনের সংযোগও দ্রুত নতুন টাওয়ারে চলে যায়। নেটওয়ার্ক ভালো থাকলে এই পরিবর্তন টের পাওয়া যায় না; দুর্বল সংকেত বা অতিরিক্ত চাপ থাকলে কল কেটে যেতে পারে কিংবা ভিডিও থেমে যায়।
স্যাটেলাইট কোথায় দরকার
পাহাড়, গভীর সমুদ্র কিংবা জনবসতি কম এমন এলাকায় ফাইবার বসানো বা মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ সব সময় সম্ভব নয়। সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যকর বিকল্প। স্টারলিংকের মতো নতুন ব্যবস্থা পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে থাকা অসংখ্য ছোট স্যাটেলাইট ব্যবহার করে, ফলে আগের অনেক স্যাটেলাইট সেবার তুলনায় যোগাযোগের বিলম্ব কম হয়।
তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের গতি আবহাওয়া, ব্যবহারকারীর অবস্থান, আকাশের দৃশ্যমানতা ও নেটওয়ার্কের চাপের ওপর নির্ভর করে। তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হলেও সব জায়গায় ভালো ফাইবার সংযোগের সমান অভিজ্ঞতা দেবে,এমন নিশ্চয়তা নেই।
ইন্টারনেটের একক কোনো মালিক নেই; তবে এর প্রতিটি অংশের মালিক আছে। কোনো প্রতিষ্ঠান সাবমেরিন কেবলে বিনিয়োগ করেছে, কেউ স্থলভাগে ফাইবার বসিয়েছে, কেউ মোবাইল টাওয়ার বা ডাটা সেন্টার চালায়। গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেরও নিজস্ব সার্ভার, ডাটা সেন্টার ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠান চুক্তি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে একে অন্যের নেটওয়ার্কে তথ্য পাঠায়। কোনো নেটওয়ার্ক অন্যটির কাছ থেকে ট্রানজিট সেবা কেনে, আবার দুটি নেটওয়ার্ক সরাসরি ট্রাফিক বিনিময়ও করে। দেশের ভেতরের নেটওয়ার্কগুলো স্থানীয় ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জে সরাসরি যুক্ত হলে তথ্যকে অপ্রয়োজনে বিদেশ ঘুরে আসতে হয় না। এতে সময় ও খরচ,দুটিই কমে।
বাসার ব্রডব্যান্ড বিল প্রথমে পায় স্থানীয় ইন্টারনেট সেবাদাতা বা আইএসপি। মোবাইল ডাটার টাকা যায় সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে। কিন্তু গ্রাহকের দেওয়া পুরো অর্থই তাদের লাভ নয়। গ্রাহকের ঘর বা ফোন পর্যন্ত সংযোগ পৌঁছে দিতে কেবল, রাউটার, সুইচ, টাওয়ার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি লাগে। নেটওয়ার্ক সচল রাখতে বিদ্যুৎ, কর্মী, গ্রাহকসেবা, মেরামত ও নিরাপত্তার খরচ আছে। এর সঙ্গে দেশীয় ফাইবার অবকাঠামো, ডাটা পরিবহন, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ, ইন্টারনেট ট্রানজিট, ডাটা সেন্টার, কর, ভ্যাট ও নিয়ন্ত্রক ফিও যুক্ত হয়।
তবে আপনি ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখলেই বিলের নির্দিষ্ট অংশ সরাসরি ইউটিউব বা সাবমেরিন কেবলের মালিকের কাছে চলে যায় না। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ নেটওয়ার্ক সক্ষমতা, সংযোগ বা অবকাঠামো ব্যবহারের জন্য চুক্তি অনুযায়ী অর্থ দেয়। স্থানীয় ক্যাশ সার্ভার কিংবা দুটি নেটওয়ার্কের সরাসরি ট্রাফিক বিনিময় আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের খরচ কমাতে পারে। তাই গ্রাহকের বিল ভাগ হওয়ার কোনো একক সূত্র নেই; প্রতিষ্ঠান, এলাকা, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক চুক্তি অনুযায়ী হিসাব বদলায়। গ্রাহক আসলে ইন্টারনেটের কোনো অংশের মালিকানা কেনেন না। তিনি কেনেন নিজের ডিভাইসকে বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কে যুক্ত রাখা এবং নির্ধারিত গতিতে তথ্য আদান-প্রদানের সেবা।
ফোনের পর্দায় একটি ভিডিও চালু করা আমাদের কাছে নিছক এক ক্লিকের ব্যাপার। অথচ সেই ক্লিকের উত্তর পৌঁছে দিতে একসঙ্গে কাজ করে সমুদ্রের তলদেশের কেবল, রাস্তার নিচের ফাইবার, মোবাইল টাওয়ার, রাউটার, সার্ভার, ডাটা সেন্টার এবং অসংখ্য মানুষ ও প্রতিষ্ঠান। ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই,এটি কোনো একক দরজা বা মালিকের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। হাজার হাজার আলাদা নেটওয়ার্ক একই নিয়মে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। একটি পথ বন্ধ হলে অনেক ক্ষেত্রে অন্য পথে তথ্য পৌঁছাতে পারে। তাই ইন্টারনেটকে যতটা ‘বাতাসের প্রযুক্তি’ মনে হয়, বাস্তবে এটি তার, আলো, যন্ত্র আর পারস্পরিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যোগাযোগব্যবস্থাগুলোর একটি।
কেএসকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মো. নজরুল ইসলাম ওরফে মিঠুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় দেন। মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হাটহাজারীর মির্জাপুরে খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ওই কিশোরী। নিখোঁজের তিন দিন পর ১৭ অক্টোবর দানু মিয়া ব্রিক ফিল্ডের পূর্ব পাশে পুকুরপাড়ের একটি টয়লেটের ট্যাংকি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরনের কাপড় দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ নজরুল ইসলামকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত মঙ্গলবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় নজরুলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের টাকা আদায় হলে তা আইন অনুযায়ী নিহত কিশোরীর বাবা মো. ছোট্ট মিয়া ওরফে চুট্টু মিয়াকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর আসামিকে দণ্ড পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল হতে যাচ্ছে বার্সেলোনায়। ২০২৯ সালের পুরুষ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আয়োজনের চূড়ান্ত দায়িত্ব পেয়েছে কাতালানদের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যু। গ্রিসের থেসালোনিকিতে উয়েফা কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। প্রায় ৩০ বছর পর আবার ইউরোপে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার ম্যাচ বসবে কাতালানদের এই ঐতিহাসিক মাঠে।ক্যাম্প ন্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের সর্বশেষ স্মৃতি? ১৯৯৯ সালে। কী নাটকীয় এক ফাইনাল! ৬ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যাওয়া বায়ার্ন মিউনিখ শেষ পর্যন্ত হার মেনেছিল যোগ হওয়া সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জোড়া গোলে।এর আগে ২০২৮ সালের ফাইনাল হবে বায়ার্ন মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। ২০১২ ও ২০২৫ সালের পর তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ আয়োজন করতে যাচ্ছে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা। এর আগে মিউনিখের অলিম্পিক স্টেডিয়ামেও তিনবার হয়েছে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণী ম্যাচ। আর চলতি মৌসুমের ফাইনাল যে আতলেতিকো মাদ্রিদের মেত্রোপোলিতানো স্টেডিয়ামে হবে, সেটা তো অনেক আগেই নির্ধারিত।২০১২ ও ২০২৫ সালের পর তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ আয়োজন করতে যাচ্ছে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা। ক্যাম্প ন্যুতে খেলা ফিরলেও সংস্কারকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। গ্যালারির তৃতীয় স্তর নির্মাণ এবং ছাদ বসানোর কাজ এখনো বাকি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যেই শেষ হবে সব কাজ। তখন স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার।থেসালোনিকিতে একই সভায় উয়েফা আরও কয়েকটি টুর্নামেন্টের ভেন্যুও ঘোষণা করেছে। নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০২৮ ফাইনাল হবে ফ্রান্সের পার্ক অলিম্পিক লিওঁতে। ২০২৯ সালের আসর বসবে ওয়েলসের কার্ডিফে, ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে।ইউরোপা লিগের ২০২৮ ফাইনাল পাবে রোমানিয়ার বুখারেস্টের ন্যাশনাল অ্যারেনা। ২০২৯ সালে ফাইনাল হবে সার্বিয়ার বেলগ্রেডে, ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে।কনফারেন্স লিগের ২০২৮ ফাইনাল হবে ইতালির তুরিনে, জুভেন্টাস স্টেডিয়ামে। ২০২৯ সালে এই আসরের ফাইনাল যাবে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে, পুসকাস অ্যারেনায়।এ ছাড়া ২০২৭ ও ২০২৮ উয়েফা সুপার কাপ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে আমস্টারডামের ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনা ও কাজাখস্তানের আস্তানা অ্যারেনায়। ২০২৭ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল বসবে সুইজারল্যান্ডের বিয়েল বিয়েন অ্যারেনায়।
সাধারণ মানুষের গণপরিবহন সংকট নিরসনে সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ভাড়া দেওয়া অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিজেদের পরিবহন চাহিদা মেটাতে নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি রক্ষায় হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। জনস্বার্থে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী নিজেই। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশে বিআরটিসির বহরে থাকা সব বাস সাধারণ যাত্রীদের সেবায় উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব পরিবহন চাহিদা পূরণে নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি খাত থেকে পরিবহন সেবা ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়ার ফলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য গণপরিবহনের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। এ অবস্থায় বিআরটিসির বাসগুলো জনসাধারণের পরিবহন সেবায় ব্যবহার করা হলে যাতায়াতের সংকট কিছুটা কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে। নোটিশে বলা হয়, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই জনগণের অর্থে বিআরটিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিআরটিসির বহরের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে বাস ভাড়া দেওয়ায় সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত গণপরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নোটিশদাতার দাবি, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় পরিবহনব্যবস্থার বাস সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহনে ব্যবহৃত হওয়ায় গণপরিবহন সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন থেকে সাধারণ জনগণকে এভাবে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে সামষ্টিক অর্থনীতির ‘আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ’ তত্ত্বের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া নেয়, তখন রাষ্ট্রীয় অর্থের একটি অংশ এক সরকারি খাত থেকে অন্য সরকারি খাতে আবর্তিত হয়। এতে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাত ও সাধারণ মানুষের কাছে অর্থপ্রবাহের সুযোগ সীমিত হয় বলে নোটিশদাতার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, অর্থনীতির ‘ফিসক্যাল মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’ বিবেচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবহন চাহিদা বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পূরণ করা হলে এর ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব বাস কেনার পাশাপাশি বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে বাস ভাড়া করলে পরিবহন ব্যবসায় অর্থপ্রবাহ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে বিআরটিসির সব বাস সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর পরিবহন চাহিদা পূরণে নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে গাড়ি ভাড়া করার বিষয়ে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে। এফএইচ/এমএএইচ/