জাতীয়

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল–মানদেব, যেভাবে হুমকির মুখে বিশ্ববাণিজ্য

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
হুতিদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল–মানদেব, যেভাবে হুমকির মুখে বিশ্ববাণিজ্য
হুতিদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল–মানদেব, যেভাবে হুমকির মুখে বিশ্ববাণিজ্য

লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে ইয়েমেন ও জিবুতির মাঝখানে সরু জলপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনে বিকল্প জলপথ হিসেবে এর বিশেষ গুরুত্ব ছিল। কিন্তু সেই পথও এখন হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খুলতে তারা এই তৎপরতা চালিয়েছে। এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। খবর সিএনএনের

এএফপির সংবাদে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার বাব আল–মানদেব প্রণালির পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা। তারা বন্দরনগর মোখা দখল করেছে। ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তাদের দাবি, নৌপথটির মাঝখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

বাব আল-মানদেব দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে নিকটবর্তী হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল।

এর মধ্যে আজ শনিবার সকালে আল–জাজিরার সংবাদে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

এদিকে ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর সৌদি আরব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। আরও হামলা যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে ইরাকি কর্তৃপক্ষকে সময় দিচ্ছে সৌদি আরব। সে জন্য তারা আপাতত সংযত আছে।

সম্প্রতি সৌদি আরব এই পথ দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। বাব আল-মানদেব দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ কমে যেতে পারে। তেল পরিবহনে তখন ঘুরপথ পথ বেছে নিতে হবে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ—দুটোই বাড়বে। ক্রমবর্ধমান জাহাজভাড়া ও মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

জ্বালানি বাজারবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ সিএনএনকে বলেন, ‘বাব আল-মানদেব এত দিন বাণিজ্যের প্রাণভোমরার মতো ছিল। এই পথ হারানোর আশঙ্কা থেকে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল।’

তেল পরিবহন ‘ধসে পড়েছে’

হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে একটি সাঁজোয়া যানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের পাঁচ ভাগের প্রায় এক ভাগ এই পথ দিয়ে যেত। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ব্যবহার করে অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া শুরু করে। সেখান থেকে জাহাজে ভরে তেল রপ্তানি করা হতো।

রিচার্ড ব্রোঞ্জের হিসাবে, একপর্যায়ে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল বাব আল-মানদেব দিয়ে যেত।

কিন্তু হুতিদের হামলার হুমকির কারণে আগস্টে বাব আল-মানদেব দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে। এখন তা আরও কমেছে বলে জানান ব্রোঞ্জ।

বাব আল-মানদেব এড়িয়ে এশিয়ায় তেল নিতে জাহাজগুলোকে এখন অনেকটা ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। সুয়েজ খাল পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরে যেতে হচ্ছে তাদের। এরপর আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ধরে দক্ষিণে গিয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এশিয়ায় পৌঁছাতে হচ্ছে— প্রকৃত অর্থেই দীর্ঘ দুরূহ পথ।

এই পথে যাত্রার সময় এক মাস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ছে জাহাজভাড়া।

রিচার্ড ব্রোঞ্জ বলেন, ‘এশিয়ার অনেক শোধনাগার এখন বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। ফলে অন্যান্য অঞ্চলের তেলবাহী জাহাজের জন্য তারা বেশি দাম দিচ্ছে। তেলের দাম এত দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে এটাই বড় কারণ।’

বাব আল-মানদেবের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা হুতিদের দখলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার তেলের দাম অনেকটা বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারে উঠলেও পরে তা কমে ১০৪ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়েছে। ফলে গতকাল তেলের দাম মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।

বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কেপলারের জ্যেষ্ঠ অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষক জোহানেস রাউবাল সিএনএনকে বলেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরব তেল উৎপাদন হ্রাস করেছে। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। সব মিলিয়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

জোহানেস রাউবাল সিএনএনকে বলেন, ‘দ্রুত সমাধানের লক্ষণ নেই। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শোধনাগারগুলোকে আরও বেশি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে হবে। এতে তেলের দাম আরও বাড়বে।’

অপরিশোধিত তেল থেকে ডিজেল তৈরি হয়। ট্রাক, ট্রাক্টর, মালবাহী ট্রেনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক যানবাহনে ব্যবহৃত ডিজেল বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান জ্বালানি।

যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এএএর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশটিতে ডিজেলের দাম এই প্রথম গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে।

জ্বালানির দাম বাড়লে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোয় সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে শুরু করেছে। এতে নীতি সুদহার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুদের হার বাড়লে ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঋণের খরচ বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, আগস্ট মাসে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার কমলেও প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। আগস্টেও মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ শতাংশের ওপরে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে দেশে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এমনিতেই চার বছর ধরে মূল্যস্ফীতি। তার মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে গেলে বিষয়টি হবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।

প্রতিটি জাহাজেই হামলার শঙ্কা

লোহিত সাগর এড়িয়ে চলার অভিজ্ঞতা জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আগে থেকেই আছে।

২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রতিবাদে বাব আল-মানদেব দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে হুতিরা। এরপর জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই নৌপথ এড়িয়ে ঘুরপথে চলাচল শুরু করে। এতে পণ্য পরিবহনে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বেশি সময় লেগেছে। পাশাপাশি জ্বালানি, বিমা ও নাবিকদের মজুরির খরচও বেড়ে যায়।

পণ্য পরিবহনের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জেনেটার প্রধান বিশ্লেষক পিটার স্যান্ডের হিসাবে, এর পর থেকে বাব আল-মানদেব দিয়ে জাহাজ চলাচল ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে। গত দুই দিনে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর এই পথে জাহাজ চলাচল আরও ৪৬ শতাংশ কমেছে।

তবে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করেন না পিটার স্যান্ড। তাঁর মতে, জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।

তবে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। পিটার স্যান্ড বলেন, ‘এই পথ দিয়ে চলাচল করা প্রতিটি জাহাজই সম্ভাব্য লক্ষ্য।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ইমরান খানের জন্য সরব বিশ্ব ক্রিকেট: আবেদন অস্ট্রেলিয়ার ৭ কিংবদন্তির
ইমরান খানের জন্য সরব বিশ্ব ক্রিকেট: আবেদন অস্ট্রেলিয়ার ৭ কিংবদন্তির

পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির ৭ সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। বিস্তারিত ভিডিওতে…

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি অভিবাদন জানানোর জেরে বিতর্ক, নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি

পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি অভিবাদন জানানোর জেরে বিতর্ক, নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি

পুলিশের আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

পুলিশের আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

স্থানীয় নির্বাচন: ত্রিমুখী লড়াইয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি

স্থানীয় নির্বাচন: ত্রিমুখী লড়াইয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি

খুঁটিতে বাঁধা যুবকের দুই হাত, পিঠে ইট, দল বেঁধে পিটুনি
খুঁটিতে বাঁধা যুবকের দুই হাত, পিঠে ইট, দল বেঁধে পিটুনি

সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে যুবকের দুই হাত বাঁধা। তাঁর পিঠের ওপর তুলে দেওয়া হয়েছে ছয়–সাতটি ইট। ইটের ভারে কাত হয়ে আছেন তিনি। এর মধ্যেই চলছে পিটুনি। কেউ চুল টানছেন, কেউ মুখে ঘুষি মারছেন। নির্যাতনে তাঁর মুখে ফেনা চলে এলেও পিটুনি থামেনি। একপর্যায়ে মৃত্যু হয় তাঁর। আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখছিলেন ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ। কক্সবাজারের মহেশখালীর বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। চোর সন্দেহে মো. ফয়সাল (২৬) নামের ওই যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোহাম্মদ রিফাত নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।আজ সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল ওই এলাকার বাদশাহ মিয়ার ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা কেফায়ত উল্লাহর বাড়িতে ফয়সালকে চোর সন্দেহে আটক করা হয়। পরে সকালে রাস্তার পাশে তাঁকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজনও তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁর পিঠের ওপর ইট রেখে পেটানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সকাল নয়টার দিকে স্থানীয় লোকজন ফয়সালকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলী আকবর বলেন, মঙ্গলবার ভোররাতে চুরি করতে গিয়ে ফয়সাল ধরা পড়েন। পরে গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে চুরির অভিযোগ থাকলেও এভাবে নির্যাতন করে কাউকে হত্যা করা ঠিক হয়নি।তবে ফয়সালের বাবা বাদশাহ মিয়া বলেন, তাঁর ছেলে দিনমজুরের কাজ করতেন। কোনো কারণ ছাড়াই চোর সন্দেহে তাঁকে প্রকাশ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফয়সালের লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে দুপুরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসপাতাল থেকে মোহাম্মদ রিফাতকে আটক করা হয়।মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুস সুলতান বলেন, চোর সন্দেহে আটক এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে।ওসি আরও বলেন, ফয়সালকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি তদন্তে সহায়ক হবে। ভিডিও দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
পথ হারিয়ে টিনের চালে ষাঁড়, এরপর যা হলো

পথ হারিয়ে টিনের চালে ষাঁড়, এরপর যা হলো

‘কণ্ঠরোধের আইন হতে পারে’, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর খসড়া নিয়ে বিরোধী দলের শঙ্কা

‘কণ্ঠরোধের আইন হতে পারে’, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর খসড়া নিয়ে বিরোধী দলের শঙ্কা

চুরির অপবাদে পিঠের ওপর ইটের ভার, মারাই গেলেন যুবক

চুরির অপবাদে পিঠের ওপর ইটের ভার, মারাই গেলেন যুবক

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: অধ্যাপক পদে ২৩ জনের পদোন্নতি, একজনের না হওয়ায় প্রশ্ন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: অধ্যাপক পদে ২৩ জনের পদোন্নতি, একজনের না হওয়ায় প্রশ্ন

নানা জটিলতার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২৩ জন শিক্ষক। রোববার তাঁরা অধ্যাপক পদে যোগদানও করেছেন। তবে একই সঙ্গে পদোন্নতিপ্রত্যাশী মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুমকে পদোন্নতি না দিয়ে বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, আবদুল কাইয়ুমকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘দোসর’ আখ্যায়িত করে পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসা শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আপত্তির কারণে এ প্রক্রিয়া আটকে যায়। গত ২৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ২৪ শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে তাঁদের মধ্য থেকে ২৩ শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ওই সভায় শিক্ষক আবদুল কাইয়ুমের বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয় বলে সিন্ডিকেটের দুজন সদস্য জানিয়েছেন।অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়া ২৩ শিক্ষক হলেন কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের হাফিজ আশরাফুল হক, ইতিহাস বিভাগের আবদুল বাতেন চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তারেক মাহমুদ আবির, রসায়ন বিভাগের হালিমা বেগম, নাজমুল কায়েস, মাসুদ পারভেজ ও গাজী জহিরুল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রবীর কুমার ভৌমিক, মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের জামাল উদ্দিন, গণিত বিভাগের শাখাওয়াত হোসেন, বিজন কৃষ্ণ সাহা, হেনা রানী বিশ্বাস ও শফিউল আলম, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের রাহাত হোসাইন ফয়সাল, লোকপ্রশাসন বিভাগের ইশরাত জাহান লিজা, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ধীমান কুমার রায়, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সুব্রত কুমার দাস, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শাখাওয়াত হোসেন, আবদুল্লাহ আল মাসুদ, তাজিজুর রহমান ও সোহেল চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাদিকুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের আলমগীর মোল্লা।পদোন্নতি আটকে যাওয়া শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন আমাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, সেটা বুঝতে পারছি না। তবে আমার পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ হয়েছে বহু আগেই। তারপরও কেন, কী কারণে এটা হয়নি, আমি জানি না। তবে এটা আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।’নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেটের একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘এর আগে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় আমাদের মতামত ছিল, যাঁরা আগে অধ্যাপক হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। তবে সভায় একজন সদস্য মত দিয়েছিলেন, যাঁরা ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া ঠিক হবে না। এরপর কী হয়েছে, তা বলতে পারব না।’ তিনি জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী সভায় আলোচনা করবেন।আবদুল কাইয়ুম, পদোন্নতি আটকে যাওয়া শিক্ষক কেন আমাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, সেটা বুঝতে পারছি না। তবে আমার পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ হয়েছে বহু আগেই। তারপরও কেন, কী কারণে এটা হয়নি, আমি জানি না। তবে এটা আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।এদিকে একজন শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুকের ‘লিংকার্স ইন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়’ গ্রুপে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা মন্তব্য করছেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সরকারের নানা কর্মসূচিতে যোগ দিতে হয়েছে। এটা সবাই করেছেন। এ জন্য একজন যোগ্য শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দিয়ে পদোন্নতি আটকে দেওয়া অন্যায়।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির জটিলতা নিরসনের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউনমামুন অর রশিদ, উপাচার্য সিন্ডিকেট মনে করেছে তাঁর (কাউয়ুম) বিষয়টি অধিকতর পর্যালোচনা করা দরকার। তাই তাঁর পদোন্নতি হয়নি।এ বিষয়ে উপাচার্য মামুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, সিন্ডিকেট মনে করেছে তাঁর (কাউয়ুম) বিষয়টি অধিকতর পর্যালোচনা করা দরকার। তাই তাঁর পদোন্নতি হয়নি। ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হওয়ায় পদোন্নতি না হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘না, এমন কোনো বিষয় নেই।’বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে গত ২১ এপ্রিল আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষকেরা। একপর্যায়ে তাঁরা তৎকালীন উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। ২৮ এপ্রিল অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন শিক্ষকেরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরে মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অব্যাহতি দিয়ে মামুন অর রশিদকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষকেরা আন্দোলন স্থগিত করেন।শিক্ষকদের আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অচলাবস্থা, সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ডাকসুর প্রবেশপথের মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি ও অন্যান্য খবর

ডাকসুর প্রবেশপথের মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি ও অন্যান্য খবর

রেনশর সেঞ্চুরি পর এলিসের পাঁচ উইকেট- জিম্বাবুয়েকে হারালো অস্ট্রেলিয়া

রেনশর সেঞ্চুরি পর এলিসের পাঁচ উইকেট- জিম্বাবুয়েকে হারালো অস্ট্রেলিয়া

ইনানী জাতীয় উদ্যানে যেভাবে মেঘলা চিতার দেখা মিলল

ইনানী জাতীয় উদ্যানে যেভাবে মেঘলা চিতার দেখা মিলল

0 Comments