দেড় মাসের বেশি সময় পর দেশে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গত সোমবার রাত থেকেই বেড়েছে সরবরাহ। গতকাল মঙ্গলবার যা আরও কিছুটা বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানোর পর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শিল্প গ্রাহকদের। বাড়তি গ্যাসের অধিকাংশ যাচ্ছে শিল্প খাতে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানি করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনায় শুরুতে সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সময়মতো এলএনজির কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়াতে দেরি হয়েছে। এখন নিয়মিত আসছে কার্গো।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার দরপত্র দিলেও সব কটি পাওয়া যায়নি। দামও অনেক বেড়ে গেছে। এ মাসে সব মিলিয়ে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। গত সোমবার রাত ১০টায় এলএনজি সরবরাহ করা হয় ৯৮ কোটি ঘনফুট। আর গতকাল রাত আটটায় এটি বেড়ে হয়েছে ১০১ কোটি ঘনফুট। এতে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৬৩ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ঘনফুট।
এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে দিনে সরবরাহ করা হচ্ছিল ২৬৪ কোটি ঘনফুট। তখন এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হতো ৯৯ কোটি ঘনফুট। এখন এলএনজি থেকে একই পরিমাণ সরবরাহ করা হলেও দেশি গ্যাস থেকে এরই মধ্যে উৎপাদন কমেছে ৪ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার দরপত্র দিলেও সব কটি পাওয়া যায়নি। দামও অনেক বেড়ে গেছে। এ মাসে সব মিলিয়ে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে পাঁচটি।
আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, এ মাসে আরামকোর দুটি, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে কার্গো ইতিমধ্যে এলএনজি সরবরাহ করেছে। এরপর আজ ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো ও ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের একটি করে কার্গো আসার কথা। ফলে এলএনজি থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই অক্টোবরের জন্য ১১টি এলএনজি কার্গো কেনার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে অক্টোবরের ৮টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। আরও ৩টি কিনতে গতকাল দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার ফকির নিটওয়্যার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ইমতিয়াজ রাজীব বলেন, চাপ ১০ পিএসআই থাকার কথা, আসছে ৪ পিএসআই। আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কারখানা চালাতে যতটুকু চাপ প্রয়োজন, সেই পরিমাণ চাপ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
গত সোমবার দিবাগত রাত একটায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। গতকাল দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এর আগে গত মাসে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। এ হিসাবে আগের তুলনায় লোডশেডিং কমে এসেছে।
লোডশেডিং থামেনি, কিছুটা কমেছে
গ্যাসের সংকটে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও কয়লার স্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছিল না। এতে এক মাস ধরেই সারা দেশে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এটি কমাতে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফার্নেস তেলের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় বেশি করা যাচ্ছে না। ২০ সেপ্টেম্বরের পর তেল থেকে উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে।
গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন আরও কমায় দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। গত রোববার দুপুর ১২টায় আদানির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সরবরাহ শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করে সরবরাহ করা হচ্ছে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যায় বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এক ইউনিট বন্ধের পর গতকাল ৬১০ মেগাওয়াট উৎপাদন করেছে কেন্দ্রটি। এটি আবার পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে আরও দুই দিন লাগতে পারে।
পটুয়াখালীতে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দুটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। প্রতিটি কেন্দ্র ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতায় নির্মিত হয়। এর মধ্যে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ আছে। এতে উৎপাদন হচ্ছে ৫৭০ মেগাওয়াট। এখানে পর্যাপ্ত কয়লা আছে। আর একই জেলার আরেকটি কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র বলছে, সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় কয়লা থেকে। কিন্তু এক মাস ধরে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। জ্বালানি তেল থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। গত সোমবার দিবাগত রাত একটায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। গতকাল দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এর আগে গত মাসে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। এ হিসাবে আগের তুলনায় লোডশেডিং কমে এসেছে।
[তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ]
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মো. আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। জামিন আবেদনে মামলার হত্যা-সংক্রান্ত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা উল্লেখ না করে তথ্য গোপনের অভিযোগে আদালত এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে শুনানির সময় মামলার প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন না করায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করেছেন আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মশিউর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুকনুজ্জামান সুজা। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন তিনি। যেভাবে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে জামিন আবেদনের শুনানির শুরুতে আদালত আসামির পক্ষে উপস্থিত আইনজীবীর কাছে জানতে চান, আমিনুল ইসলাম রাজু হত্যা মামলার আসামি কি না। জবাবে আইনজীবী ‘হ্যাঁ’ বলেন। এরপর আদালত মামলার ভুক্তভোগীর নাম জানতে চাইলে আইনজীবী শুধু ‘ওসমান’ বলেন। তখন আদালত জানতে চান, ‘ওসমান’-এর আগে বা পরে আর কোনো নাম আছে কি না। এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে আইনজীবী নীরব থাকেন। এতে আদালতের সন্দেহ হয়। পরে জামিন আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত নথিপত্র যাচাই করে আদালত নিশ্চিত হন, এটি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলা। এরপর আদালত আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে তথ্য গোপনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করেন। ৩০২ ধারা গোপনের অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুকনুজ্জামান সুজা বলেন, জামিন আবেদনের শুরুতে ‘কজ টাইটেল’-এ আসামির বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি বলেন, মামলার চার্জশিটের প্রথম পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে দ্বিতীয় পৃষ্ঠা আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল। ফলে চার্জশিটের প্রথম পৃষ্ঠায় থাকা দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিষয়টি কজ টাইটেলে ছিল না। রুকনুজ্জামান সুজা বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, জামিন আবেদনের শুরুতে কজ টাইটেলে আসামির বিরুদ্ধে থাকা মামলার ধারাগুলো উল্লেখ করার কথা। কিন্তু আমিনুল ইসলাম রাজুর আবেদনে হত্যা মামলার ৩০২ ধারা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কজ টাইটেল দেখে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে—এমন তথ্য সহজে জানা যাচ্ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আদালত যখন জানতে চান মামলায় ভিকটিম কে, তখন জামিন আবেদনের পক্ষে থাকা আইনজীবী শুধু “ওসমান” বলেন। আদালত জানতে চান, ওসমানের আগে বা পরে আর কোনো নাম নেই কি না। এ সময় আইনজীবী কোনো জবাব দেননি।’ পরে আদালত নথিপত্র যাচাই করে দেখতে পান, আমিনুল ইসলাম রাজু শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর জামিন আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তার অভিযোগ এর আগে শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তা করার অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলাম রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকা থেকে আমিনুলকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে যান। মামলায় আরও ৯ জন গ্রেফতার এ মামলায় এর আগে আরও নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার ও তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির এবং ভারতে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ফয়সালের মা-বাবা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। যেভাবে হত্যা মামলা হয় মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এর দুইদিন পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হলে মামলায় হত্যার ধারা ৩০২ যুক্ত করা হয়। তবে হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আমিনুল ইসলাম রাজু পরবর্তী সময়ে জামিনের আবেদন করার সময় মামলায় যুক্ত হওয়া দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিষয়টি গোপন করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী জামিন আবেদনের শুরুতে কজ টাইটেলে মামলার সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো উল্লেখ করার কথা থাকলেও তার আবেদনে হত্যা মামলার ৩০২ ধারাটি উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণেই তথ্য গোপন করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তার জামিন আবেদন খারিজ করেন হাইকোর্ট। এফএইচ/জেএইচ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা রোডে পার্কিং করা মিডলাইন বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে, ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণে এই অগ্নিকাণ্ড। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে বসিলা রোডের জল তরঙ্গ সুইমিং পুলের গেটে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম। তিনি জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে বসিলা রোডের জল তরঙ্গ সুইমিং পুলের সামনে পার্কিং করা মিডলাইনের একটি বাসে (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯৪২১) হঠাৎ আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে ওই বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও জানান, মিডলাইন বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসটির দিনে মেরামতের কাজ করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে এর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার কাজ চলছে। টিটি/এসএনআর
সোনা এখন লাখ টাকার ধাতু। শুধু লাখ টাকা বললে একটু ভুলই হবে, তার কারণ বর্তমানে সোনার ভরি সোয়া দুই লাখ টাকার বেশি। দাম বেশি হওয়ায় মান নিয়ে অনেকে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে থাকেন—কত ক্যারেটের সোনার গয়না কিনলে লাভজনক হবে, কোথা থেকে কিনলে ঠকবেন না ইত্যাদি।বাংলাদেশ যে বছর স্বাধীন হয়, সে বছর সোনার ভরি ছিল ১৭০ টাকা। তারপর ৫৫ বছরে সোনার দাম ১ হাজার ৩৭০ গুণ বেড়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে হয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। যদিও বর্তমানে দাম কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।দেশে ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির সোনার অলংকার বিক্রি হয়। ক্যারেট হলো বিশুদ্ধতার মানদণ্ড। খাঁটি সোনা ২৪ ক্যারেট। ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট বা সনাতনী পদ্ধতির সোনার সঙ্গে রুপা, তামা বা দস্তার মতো কম দামি ধাতুর মিশ্রণ থাকে। সোনার বিশুদ্ধতা বোঝাতে দুনিয়াজুড়ে সোনার গয়নায় নির্দিষ্ট চিহ্ন দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও থাকে। সেটিকে বলা হয় হলমার্ক।বৈশ্বিক বাজারে ২৪ ক্যারেটের গয়নায় ২৪ কে বা ৯৯৯ খোদাই করা থাকে। মানে এটি ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বিশুদ্ধ। ২২ ক্যারেটের অলংকারে থাকে ৯১৬, যা কিনা ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ বিশুদ্ধতা বোঝায়। আবার ২১ ক্যারেটের গয়নায় সাধারণত ৮৭৫ লেখা থাকে, অর্থাৎ এটি ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ বিশুদ্ধ। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটে লেখা থাকে ৭৫০, অর্থাৎ এটি ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ।একাধিক জুয়েলার্স মালিকেরা জানান, বাংলাদেশে ২১ ক্যারেটের সোনার অলংকার বেশি বিক্রি হয়। মেশিনে তৈরি চুড়ি, চেইন ও ব্রেসলেটের মতো অলংকার সাধারণত ২২ ক্যারেটের করা যায়। যেমন চুড়ি, চেইন ও ব্রেসলেট। তবে মেশিনেও ২১ ও ১৮ ক্যারেটের অলংকার হয়। মূলত যেসব অলংকারে অনেক বেশি নকশা থাকে এবং ঝালাইয়ের প্রয়োজন হয়, সেগুলো ২১ ও ১৮ ক্যারেটের হয়ে থাকে।কোন ক্যারেটের সোনার অলংকার কেনা লাভজনক, তা জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো ক্যারেটের সোনার অলংকার কিনতে পারেন। কম ক্যারেট মানে মান কম, এমন ধারণা ভিত্তিহীন। বিদেশে ৯ ক্যারেটের অলংকারও তৈরি হয়। যা–ই হোক, আপনি যে ক্যারেটের অলংকার কিনবেন, সেটি অবশ্যই হলমার্ক করা কি না, তা দেখে নেবেন। সেটি ক্যাশমেমোতে উল্লেখ আছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখবেন। জুয়েলার্স সমিতির সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে সোনার অলংকার কেনার পরামর্শও দিলেন তিনি।দেশে হলমার্ক করা সোনার অলংকারের গায়ে কী লিখা থাকবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে দুটি প্রতিষ্ঠান—বাংলা গোল্ড ও ঢাকা গোল্ড হলমার্ক করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠান দুটি অলংকার পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় যে ক্যারেটের সোনা পাওয়া, সে অনুযায়ী অলংকারের গায়ে লেজার দিয়ে লিখে দেয়। পাশাপাশি একটি সনদও দেয় তারা। সেই সনদ জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সংরক্ষিত থাকে।জুয়েলারির মালিকেরা জানান, ঢাকার বাইরের অনেক ব্যবসায়ী টোনস মেশিন দিয়ে সোনার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করেন। সেটি প্রকৃত বিশুদ্ধতার কাছাকাছি তথ্য দিয়ে থাকে। ফলে সেটিও গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।হলমার্ক করা অলংকার ও ক্যাশমেমো থাকলে গ্রাহকেরা প্রয়োজনে খুব সহজেই সোনার অলংকার বিক্রি করতে পারেন। পুরোনো অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার দিয়ে নতুন অলংকার তৈরির ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার পর কম ক্যারেটের সোনা ও অন্য ধাতুর অলংকারের চাহিদা বাড়ছে। ব্রোঞ্জের সঙ্গে দুই থেকে তিন আনা সোনা দিয়ে তৈরি করে ব্রোঞ্জের ‘সোনার’ চুড়ি ও বালা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। তবে সেই পণ্যে কি পরিমাণ সোনা দেওয়া হচ্ছে, সেটি পরিমাপ করার মাপকাঠি না থাকায় গ্রাহকের প্রতারিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের জুয়েলারি দোকানে ব্রোঞ্জের সোনার চুড়ি ও বালা বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে জুয়েলার্স সমিতি। এই ধরনের পণ্য না কিনতে গ্রাহকদেরও অনুরোধ করেছেন সমিতির নেতারা।এদিকে ঢাকার বাইরে দু–একটি এলাকার গুটিকয়েক জুয়েলারি দোকান মালিক জুয়েলার্স সমিতির নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে সোনার অলংকার বিক্রির প্রলোভন দেন। এমনকি অনলাইনে সোনার অলংকার বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপনও মাঝেমধ্যে দেখা যায়। অনেকে অলংকার না দেখেই ক্রয়াদেশ দেন।এ বিষয়ে দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, জুয়েলার্স সমিতির নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ করে থাকেন, তাহলে ধরে নিতে হবে তিনি সোনার মানে কোনো না কোনো ঘাপলা করছেন। সে ক্ষেত্রে ওই বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। আর অনলাইনে পণ্য কেনার আগে যাচাই-বাছাই করে দেখা দরকার। না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। যেহেতু সোনা এখন অনেক দামি ধাতু, তাই ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে অলংকার কিনুন।