সায়েন্স কমিউনিকেটর হিসেবে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্যাপনে রাজধানীর ফুলার রোডে অবস্থিত নিজস্ব কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার ফেইমল্যাব একাডেমি বাংলাদেশ ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে আয়োজন করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লন্ডন স্কুল অব ইংলিশের শিক্ষার্থী হুমাইরা তাফসির সারা এবং প্রথম ও দ্বিতীয় রানারআপ হয় স্যার জন উইলসন স্কুলের শিক্ষার্থী ওয়ারদা ফাতিমা খান ও সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী মো. জিয়াউল হক রেয়ান।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয়ে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের খালি মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিন মিনিটের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রকৌশল অথবা গণিত–সংশ্লিষ্ট ধারণা ব্যাখ্যা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগীরা শুধু হাতে বহন করা যায়, এমন উপকরণ ব্যবহার করতে পারে; পাওয়ারপয়েন্ট কিংবা কোনো ডিজিটাল নোট ব্যবহার করা যায় না। প্রতিযোগীদের তিনটি মূল মানদণ্ডে বিচার করা হয়, যথা: বিষয়বস্তু, স্পষ্টতা ও উপস্থাপনার ধরন।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে। ২২টি স্কুলের ৪৪ জন প্রার্থী এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, যেখানে আগের বছর অংশ নিয়েছিল ১১টি স্কুলের ৩১ জন শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্বে মোট ৩৯ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করে, যাদের মধ্যে সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০ জন গ্র্যান্ড ফিনালের জন্য নির্বাচিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্যার জন উইলসন স্কুল, লন্ডন স্কুল অব ইংলিশ, কিডস ক্যাম্পাস স্কুল, প্যারামাউন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব মার্কেট জুনায়েদ আহমেদ বলেন, ফাইনালিস্টরা কতটা জানে, ফেইমল্যাবে তা যাচাই করা হয় না; বরং তারা যা জানে, তা নিয়ে আমাদের অন্যদের আগ্রহী করে তুলতে পারে কি না, সেটাই এখানে যাচাই করা হয়। কোনো বিষয় জানা এবং সেই বিষয় অন্যকে বোঝাতে পারা, দুটি ভিন্ন দক্ষতা। প্রতিযোগীর নম্বরের দুই-তৃতীয়াংশ নির্ভর করছে সে কতটা ভালোভাবে তার বিষয়টি অন্যদের বোঝাতে পারছে তার ওপর; প্রতিযোগী বিষয়টি কতটা জানে তার ওপর নয়।
ফাইনালিস্টদের পরিবেশনা মূল্যায়ন করেন তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস ইমপ্রুভমেন্ট আহসানুল আজাদ, আইসিডিডিআরবির গবেষণা সহযোগী ফারিয়া মারহা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম।
গ্র্যান্ড ফিনালের আগে ১০ জন জাতীয় ফাইনালিস্ট দুই দিনের একটি মাস্টারক্লাসে অংশ নেয়। ২৬ ও ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত এই মাস্টারক্লাস পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানবিষয়ক টেলিভিশন উপস্থাপক ও মাস্টার ট্রেইনার ডালাস ক্যাম্পবেল। মাস্টারক্লাসে মঞ্চে উপস্থিতি, গল্প বলার কৌশল এবং উপস্থাপনার দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে হুমাইরা তাফসির সারা ব্রিটিশ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত চেনটেলহ্যাম সায়েন্স ফেস্টিভালে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। প্রয়োজনীয় সব খরচ বহন করবে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানের ব্র্যান্ড পার্টনারদের পক্ষ থেকে ১০ জন ফাইনালিস্টকেই পুরস্কৃত করা হয়। গো জায়ানের পক্ষ থেকে চ্যাম্পিয়নকে ১০ হাজার টাকা এবং অন্য ৯ জন ফাইনালিস্টকে ৩ হাজার টাকা করে ট্রাভেল ভাউচার দেওয়া হয়। ফাইনালিস্টদের গরুর ঘাস ফ্যাশন পোশাক কেনাকাটায় ২০ শতাংশ ছাড়ের ভাউচারও দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফাইনালিস্টদের জন্য প্রথম আলো তাদের ই–পেপারে ১২ মাসের বিনা মূল্যে ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন (কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা ই-সংস্করণসহ) প্রদান করে। গ্র্যাবগো সব ফাইনালিস্টকে প্রিমিয়াম ব্যাকপ্যাক ও হেডগিয়ার কাস্টম ক্যাপ দিয়েছে।
সনদ প্রদান এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্কুলের অধ্যক্ষ, মেন্টর ও অতিথিদের নেটওয়ার্কিং সেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মালদ্বীপে ইসলাম গ্রহণের প্রায় ৯০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী মালের কাছাকাছি হুলহুমালে দ্বীপে একটি বৃহৎ মসজিদ নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদ কমপ্লেক্সে ইসলামি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কুরআন জাদুঘরও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মসজিদটির নাম রাখা হবে ‘জামি আস-সুলতান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ’। মালদ্বীপ যে শাসকের আমলে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তার নাম অনুসারেই মসজিদটির নামকরণ করা হচ্ছে। হুলহুমালে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মুইজ্জু, ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ শাহিম আলী সাঈদ, হাউজিং ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (এইচডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী জুহাইরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন বাবা জানতেও পারেননি ছেলে প্রধানমন্ত্রী, অ্যান্ডির পিতৃবিয়োগ নির্মাণকাজে যুক্ত সৌদি প্রতিষ্ঠান আল রাজির প্রধান নির্বাহী বন্দর আবদুল্লাহ এবং মালদ্বীপে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ইয়াহইয়া হাসান আল-কাহতানিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মালদ্বীপের ইতিহাসে ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দেশটিতে ইসলাম প্রচলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুলতান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর নাম। তার শাসনামল থেকেই মালদ্বীপে ইসলাম রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই নতুন মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে। নতুন এই মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে নয়, ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসলামি শিক্ষার সুযোগ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং কুরআনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য জাদুঘর থাকবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হুলহুমালেতে নির্মিতব্য এই মসজিদ ভবিষ্যতে মালদ্বীপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনায় পরিণত হবে। একই সঙ্গে এটি দেশটির ইসলাম গ্রহণের দীর্ঘ ঐতিহাসিক পথচলার একটি স্মারক হিসেবেও বিবেচিত হবে। এমআরএম
আসিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সামনে একসঙ্গে অনেক সমস্যা। আছে চোটের ধাক্কা, ফিটনেস–ঘাটতি। সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা, দলে নেই কোনো স্বীকৃত ‘নাম্বার নাইন’ বা সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি নিয়ে খুব একটা স্বস্তিতে নেই কোচ টমাস ডুলি।আজ কিংস অ্যারেনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে দলের এসব সমস্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ডুলি। সান মারিনো ম্যাচের পর দেশের বেশির ভাগ খেলোয়াড় প্রায় দুই মাস নিয়মিত দলীয় অনুশীলনের বাইরে ছিলেন। সে ঘাটতি পূরণ করতে গত ২৭ আগস্ট থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হয়েছে।ডুলি বলেন, ‘বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই সান মারিনো ম্যাচের পর কিছু করেনি। আমি এটা বলছি না যে তারা একেবারেই কিছু করেনি, তবে তারা প্রায় দুই মাস ধরে নিজেদের মতো করে একক প্রশিক্ষণ নিয়েছে। আমাদের যে খেলোয়াড়েরা দেশের বাইরে রয়েছে, তারা অবশ্যই তাদের ক্লাবের সঙ্গে খেলছে, প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ম্যাচ খেলছে। কিন্তু এখানকার স্থানীয় খেলোয়াড়দের কোনো অনুশীলন ছিল না।’এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করতে শুরু থেকেই বাড়তি অনুশীলনের চাপ দিতে হয়েছে খেলোয়াড়দের। দিনে দুবার অনুশীলন করানোর কারণে অনেকের পেশিতে টানও দেখা দিয়েছে।কোচ ডুলির ভাষায়, ‘আমরা ম্যাচ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহ আগেই ট্রেনিং সেশন শুরু করেছি। এটি আমাদের কিছু সময় দিয়েছে, যাতে তাদের ফিট করে তোলা যায়। এর জন্য শুরুতেই আমাদের বড় ধরনের কাজের চাপ নিতে হয়েছে, যার মানে দিনে দুবার করে অনুশীলন করানো।’বিশ্বনাথ ঘোষজামাল ভূঁইয়া ও ফয়সাল আহমেদ সামান্য পেশির টানে ভুগেছেন। বিশ্বনাথ ঘোষের চোটটা বড় হওয়ায় তাঁকে প্রায় চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ফলে আসিয়ান কাপে তাঁকে পাওয়া যাবে না।চোট-ফিটনেসের সঙ্গে বাংলাদেশের আরেকটি বড় সমস্যা গোল করার লোকের অভাব। দলে নেই কোনো স্বীকৃত ‘নাম্বার নাইন’। ডুলির চোখে সমস্যাটা শুধু জাতীয় দলের নয়, ঘরোয়া ফুটবলেরও, ‘আমাদের দলে কোনো প্রথাগত নাম্বার নাইন নেই। আমাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে—কেন আমাদের লিগে কোনো নাম্বার নাইন খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না? প্রতিটি ক্লাবই তাদের ৯ নম্বর পজিশনে বিদেশি খেলোয়াড় ব্যবহার করে। ফলে আমরা স্থানীয় নাম্বার নাইন তৈরি করতে পারছি না।’ঋতুপর্ণাদের না খেলিয়ে ১০ গোল হজমের দায় নিলেন বাটলারবিশ্বনাথকে আক্রমণভাগে খেলানোর পরিকল্পনা ছিল ডুলির। সান মারিনোর বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স সেই ভাবনাকে আরও জোরালো করেছিল। কিন্তু বিশ্বনাথের চোটের কারণে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়। রাকিব, মজিবুর রহমান কিংবা শাহরিয়ার ইমনের মধ্য থেকে একজনকে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে তৈরি করার কথা ভাবছেন কোচ। তবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত করেননি।ডুলি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই কাউকে না কাউকে খুঁজে নিতে হবে। আমাদের এমন কাউকে সেই পজিশনে বসাতে হবে, যে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে। সে কে হতে পারে? আমরা এখনো নিশ্চিত নই। আমার মাথায় কিছু ধারণা আছে—যেমন রাকিব, মজিবুর বা ইমন। আমাদের দেখতে হবে কে এগিয়ে আসে।’জাতীয় দলের অনুশীলনে সহকারী কোচদের সঙ্গে টমাস ডুলি।গোল করার অনুশীলন এখনো শুরু করেনি বাংলাদেশ। আগে খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে চান ডুলি। এরপর শুরু হবে শুটিং ও ফিনিশিংয়ের কাজ। ওদিকে আসিয়ান কাপের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। বাংলাদেশ ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের আসিয়ান কাপ অভিযান। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।অর্থাৎ হাতে সময় খুব বেশি নেই। তার আগে চোট সামলে খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার মতো ফিট করা এবং একজন কার্যকর ‘নাম্বার নাইন’ খুঁজে বের করাই এখন ডুলির বড় চ্যালেঞ্জ।জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা ৯ ফুটবলারকে ফেরত চেয়েছে মোহামেডান
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে ‘লেডি মীর জাফর’ বলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটন যে মন্তব্য করেছেন তা ব্যক্তিগত ও স্বাধীন মতামত। এজন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। ডিএজির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুমিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে অভিযোগটি জানার পর আমি নজরুল ইসলাম ছোটনকে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, তিনি অতি সম্প্রতি রুমিন ফারহানা, যিনি বিএনপির একজন নেত্রী ছিলেন এবং এখন স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য ও বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে তার অসহায়ত্ব বর্ণনা করার একটি ভিডিও আপলোড করে বলেছেন, ‘লেডি মীর জাফর রুমিন ফারাহানা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন।’’ ‘আমি মনে করি, এটি ছোটনের স্বাধীন মতামত প্রকাশের অধিকার। এই অফিসে জমা দেওয়া অভিযোগটি তার পেশাগত ও প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এ কারণে আমি ছোটনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়েছি। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আমাদের প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা, অফিস থেকে কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়ার সুযোগ নেই,’ যোগ করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। আরও পড়ুন উনি কি গালি দিলেন না দোয়া, কিছুই বুঝলাম না: রুমিন প্রসঙ্গে শফিকুর এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর আবেদন করেন রুমিন ফারহানা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য। অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর করা আবেদনে বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তা পদে অধিষ্ঠিত থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে আমাকে লক্ষ্য করে গত ১১ সেপ্টেম্বর অত্যন্ত আপত্তিকর, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ একটি স্ট্যাটাস দেন।’ একজন দায়িত্বে থাকা সরকারি আইন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি, অশোভন, কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ কেবল একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার জন্য অপমানজনক নয়, বরং এটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ও পেশাদারিত্বকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে, কোনো দলের নয়। রাষ্ট্রপক্ষের একজন ডিএজির কাছ থেকে এরূপ শিষ্টাচারবহির্ভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়,’ বলা হয় আবেদনে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান রুমিন ফারহানা। এফএইচ/একিউএফ