বাণিজ্য, অর্থনীতি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম ইনস্টিটিউট (ইআরএফ ইনস্টিটিউট)।
আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে অবস্থিত বিএফটিআইয়ের সম্মেলনকক্ষে এই সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠিত হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান এবং ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।
এই সমঝোতার আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি বাণিজ্য, অর্থনীতি ও ব্যবসাসংক্রান্ত নানা বিষয়ে যৌথভাবে সেমিনার, কর্মশালা, গোলটেবিল বৈঠক ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো জ্ঞান বিনিময়ের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর পাশাপাশি নীতিনির্ধারক, বাণিজ্যবিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও কার্যকর মতবিনিময়ের একটি উন্মুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা বলেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে বিএফটিআই ও ইআরএফ একসঙ্গে কাজ করবে।
বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান বলেন, সমঝোতা স্মারকটি দুই প্রতিষ্ঠানের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয়ে যৌথ গবেষণা, সেমিনার, কর্মশালা এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার একটি কাঠামো তৈরি করবে।
আবিদ খান আরও বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠান দুটি নিজেদের দক্ষতা, যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কাজে লাগাবে।
এই অংশীদারত্বের ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ইস্যুতে নীতিনির্ধারক, গবেষক ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় ও সংযোগ আরও বাড়বে বলে অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে অস্ত্রটি কী ধরনের, এর সক্ষমতা কী এবং কখন এটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মেইঙ্ক বলেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে মহাকাশ কক্ষপথে এই অস্ত্র মোতায়েন প্রয়োজন ছিল। তার কথায়, মহাকাশে পরিবর্তনশীল হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। মহাকাশে বাড়ছে সামরিক প্রতিযোগিতা মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা আগেও জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ কর্মসূচির কথা উঠে এসেছে। এই দুই দেশ ভবিষ্যৎ সংঘাতে মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা ও সেগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা তৈরি করছে বলে দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। স্যাটেলাইট এখন সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মহাকাশে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর করার সক্ষমতা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মহাকাশের ভূমিকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকৃতি সেই বৃহত্তর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট করেননি মেইঙ্ক। তবে তার বক্তব্যে মহাকাশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ক্ষেত্র হিসেবেও দেখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। মহাকাশে অস্ত্র নিয়ে ১৯৬৭ সালের চুক্তি ১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই চুক্তিতে অন্য ধরনের মহাকাশ অস্ত্রের বিষয়ে একই ধরনের বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা নেই। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ প্রধান শক্তিগুলো মহাকাশে বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট শনাক্ত করা, যোগাযোগে বাধা দেওয়া এবং সেগুলো অকার্যকর করার প্রযুক্তিও রয়েছে। ফলে মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। আক্রমণাত্মক ভূমিকায় মার্কিন স্পেস ফোর্স মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে মার্কিন স্পেস ফোর্স। ৭০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে নতুন শাখা। ২০১৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মার্কিন স্পেস ফোর্সের মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ ও নজরদারিতে ব্যবহৃত শত শত মার্কিন স্যাটেলাইটসহ মহাকাশে থাকা দেশটির সম্পদ সুরক্ষা করা। তবে গত বছর ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যাতে স্পেস ফোর্সের প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ওপরও জোর দেওয়া হয়। স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের আওতায় প্রতিপক্ষের সক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটানো, তা দুর্বল করা এবং প্রয়োজন হলে ধ্বংস করার মতো কার্যক্রমও থাকতে পারে। এসব সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। রাশিয়া ও চীনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ মহাকাশে রাশিয়া ও চীনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নতুন নয়। ফেব্রুয়ারির শুরুতে জানা যায়, দুটি রুশ স্যাটেলাইট সম্ভবত ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর অন্তত এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করেছে। এসব হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দারা স্যাটেলাইটে আদান-প্রদান করা সংবেদনশীল তথ্য পড়তে পেরেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি তাত্ত্বিকভাবে এসব স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে, যা অন্য স্যাটেলাইটে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে। রাশিয়া তখন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। চীনের মহাকাশ সক্ষমতাও বাড়ছে মার্কিন স্পেস ফোর্সের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাকাশ ও ‘কাউন্টারস্পেস’ সক্ষমতা তৈরি ও পরিচালনা করছে। অন্যদিকে রাশিয়া মহাকাশকে যুদ্ধের একটি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে বলে দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, ভবিষ্যৎ সংঘাতে মহাকাশে আধিপত্য একটি নির্ণায়ক বিষয় হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বিবিসিকেএএ/
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়মের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের থাকার মেয়াদ ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া পরামর্শে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা শরৎকালীন সেমিস্টারে ক্যাম্পাসে থাকার প্রয়োজন হলে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।বদলে যাচ্ছে থাকার মেয়াদের নিয়ম—নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ক্ষেত্রে এত দিন চালু থাকা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হবে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ‘অ্যাডমিট আনটিল ডেট’ নির্ধারণ করা হবে।নতুন ব্যবস্থায় এফ–১ ও জে–১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার অনুমতির সময়সীমার মধ্যে সমন্বয় রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ৫৫ অনলাইন কোর্স বিনা মূল্যে শেখার সুযোগচার বছরের বেশি মেয়াদের প্রোগ্রামে বাড়তি আবেদন—নতুন নিয়মের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন হলো যেসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি সময় ধরে চলে, তাঁদের জন্য বাড়তি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে অনেক পিএইচডি শিক্ষার্থীও পড়বেন।চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে থাকার অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হতে পারে।বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামের মেয়াদ অনেক ক্ষেত্রে চার বছরের বেশি হওয়ায় এ পরিবর্তনটি এসব শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।৩ মাস ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ বিনা মূল্যে, দিনে ভাতা ২০০, করুন আবেদন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ও বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সতর্কতা—নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সময় যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ শিক্ষার্থী-স্ট্যাটাসে থাকবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছু অন্তর্বর্তী সুরক্ষা থাকবে। তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে আবার প্রবেশ করলে নতুন নিয়মের আওতায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এ কারণে হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক অফিস শিক্ষার্থীদের ভ্রমণের আগে তাঁদের ভিসা, আই–২০ বা ডিএস–২০১৯ এবং আই–৯৪ নথি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে পরামর্শ করতেও বলা হয়েছে।নতুন নিয়মে পড়াশোনা শেষ করার পর এফ–১ শিক্ষার্থীদের প্রচলিত ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম বা ডিগ্রির স্তর পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন অনুমোদন-সংক্রান্ত শর্ত কার্যকর হতে পারে।২ লাখ টাকার আইটি স্কলারশিপ, ডিগ্রি যা-ই হোক আবেদনের আছে সুযোগ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ একসময় ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় আফিম উৎপাদনকেন্দ্র। মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি বনাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই এলাকায় একসময় বিপুল পরিমাণ আফিম উৎপাদন হতো। মাদক ব্যবসায়ীরা আফিমের কাঁচা রসকে বলত ‘কালো সোনা’। পরিশোধনের পর এই আফিম থেকেই তৈরি হয় হেরোইন। ১৯৯০-এর দশকে বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আফিমগাছ এই অঞ্চলে পাওয়া যেত। তবে সরকারি দমন অভিযানসহ নানা কারণে পরে উৎপাদন কমে আসে। ২০০৬ সালের মধ্যে বিশ্বের অবৈধ আফিম উৎপাদনে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের অংশ নেমে এসেছিল প্রায় পাঁচ শতাংশে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আবার বদলেছে। বিশেষ করে, মিয়ানমারে নতুন করে বাড়ছে আফিম চাষ। আরও পড়ুন পপি চাষে আফগানিস্তানের স্থান দখল করছে মিয়ানমার জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি) বলছে, মিয়ানমার বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিচিত অবৈধ আফিমের উৎস। দেশটির পূর্বাঞ্চলের শান রাজ্যে সবচেয়ে বেশি পপি চাষ হচ্ছে। আফগানিস্তানে নিষেধাজ্ঞা, মিয়ানমারে বাড়ছে দাম মিয়ানমারে আফিমের ব্যবসা বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের আরেক বড় আফিম উৎপাদক আফগানিস্তান। ১৯৯০-এর দশক থেকে দেশটির তালেবান সরকার পপি চাষ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নীতি নিয়েছে। কখনো শিল্পটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২১ সালে তালেবান আবার পুরোপুরি ক্ষমতায় ফেরার পর পপি চাষ নিষিদ্ধ করে। আরও পড়ুন জাতিসংঘের রিপোর্ট / আফগানিস্তানকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ আফিম উৎপাদক এখন মিয়ানমার এর ফলে আফিমের বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। মিয়ানমারের কৃষকেরা এখন পপি চাষ করে আগের তুলনায় বেশি দাম পাচ্ছেন। ইউএনওডিসির কর্মকর্তা জেরেমি ডগলাসের মতে, এর সঙ্গে দারিদ্র্যের বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত। গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত মিয়ানমার মিয়ানমারে পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই সংঘাতে প্রায় ৫২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। দেশটির অর্ধেক মানুষ এখন দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। ২০১৭ সালে এই হার ছিল প্রায় অর্ধেকের কম। আরও পড়ুন তালেবানের কড়াকড়িতে আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন কমেছে ৯৫ শতাংশ এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের কাছে আফিম চাষ আবারও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মিয়ানমারে পপি চাষের জমির পরিমাণ ১৭ শতাংশ বেড়ে এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভারতের দিকেও ছড়াচ্ছে পপি চাষ মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোও এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চিন রাজ্যে পপি চাষের জমি বাড়ছে। এই রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে ভারতের মণিপুর ও মিজোরামের সঙ্গে। আরও পড়ুন মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে ভারতে শরণার্থীর ঢল মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং পরিস্থিতিকে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের ভারতের দিকে সরে আসা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। থাইল্যান্ডেও বাড়ছে মাদক পাচার থাইল্যান্ডও মিয়ানমারে আফিম উৎপাদন বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন। মাদক পাচারকারীরা থাইল্যান্ডের তুলনামূলক ভালো সড়কব্যবস্থা ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করে থাকে। সীমান্তবর্তী কয়েকটি থাই শহরে পাঁচ বছরে মাদক ব্যবহারের হার তিনগুণ হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আফিমের সরবরাহ বাড়াও এর একটি কারণ। গত আগস্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যাংককে বৈঠক করেন। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এটিই ছিল দুই দেশের নেতাদের প্রথম বৈঠক। বৈঠকে মাদক সমস্যা মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন তারা। বিকল্প ফসল চাষের উদ্যোগ মিয়ানমারের পপি চাষ কমাতে থাই বিশেষজ্ঞরা ইউএনওডিসির সঙ্গে কাজ করছেন। এর মধ্যে অন্যতম কৌশল হলো পপি চাষের পরিবর্তে বিকল্প অর্থকরী ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের পপি চাষ ছেড়ে ফলসহ অন্যান্য অর্থকরী ফসল চাষে অর্থসহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। শান রাজ্যের রাজধানী তাউংগির আশপাশের গ্রামগুলোতে কফি উৎপাদনে সহায়তা করছে ইউএনওডিসি। ইউএনওডিসির জেরেমি ডগলাস বলছেন, জাতিসংঘ যেখানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, সেখানে এই কর্মসূচি সফল হয়েছে। তবে বড় পরিসরে তা বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জান্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন মিয়ানমারের জান্তা সরকার আফিম ব্যবসা দমনে আদৌ আন্তরিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আফিমের ব্যবসা থেকে লাভবান হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আরও পড়ুন চীনের সহায়তায় হারানো এলাকা পুনর্দখলে নিচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এ ছাড়া দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ জান্তা ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত। কিছু গোষ্ঠী সামরিক জান্তার মিত্র। আবার কিছু গোষ্ঠী জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ফলে পপি চাষ বন্ধে অভিযান চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষকের কাছে আফিমই বেশি লাভজনক দারিদ্র্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক হিসাবও কৃষকদের পপি চাষে উৎসাহিত করছে। অনেক কৃষকের কাছে অন্য ফসলের তুলনায় আফিম বেশি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস। এক হেক্টর জমিতে উৎপাদিত শুকনো আফিমের আয় কয়েক ধরনের কফি চাষের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। তাই শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই চাষ বন্ধ করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। থাইল্যান্ডে ১৯৫৮ সালে আফিম চাষ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দেশটির পাহাড়ি এলাকা থেকে পপি চাষ পুরোপুরি সরাতে প্রায় পাঁচ দশক সময় লেগেছে। সে সময় থাইল্যান্ডে ছিল শান্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা। মিয়ানমারের বাস্তবতা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটিতে একদিকে গৃহযুদ্ধ, অন্যদিকে ব্যাপক দারিদ্র্য। এমন পরিস্থিতিতে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলে ‘কালো সোনা’র চাষ আবারও বাড়ছে। আর তাতে বিপদ বাড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ গোটা বিশ্বের। সূত্র: দ্য ইকোনমিস্টকেএএ/