ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে।
স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাদের সক্রিয় এবং সজাগ থেকে কাজ করতে হবে।
এসময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার, সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে বলেও রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
কেএইচ/একিউএফ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সবার জানা, গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সে সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ও যথার্থতা নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিকেটারদের কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও সময়ের প্রবাহতায় পরে ক্রিকেটার ও কোচদের কেউ কেউ পরিষ্কার জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সরকার ও বিসিবি না চাওয়ায় দল ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে পারেনি। তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনায় ছিল। সে সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ নজরুল। আর বিসিবি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সময় গড়ানোর সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া বাড়তে থাকে। ক্রিকেটের একটা প্রতিষ্ঠিত দল হয়েও বাংলাদেশ শুধু নিরাপত্তার কথা বলে বিশ্বকাপ খেলা থেকে বিরত থাকে। ঘটনাটা ছোট নয়। একটা পূর্ণাঙ্গ টেস্ট খেলিয়ে দেশ হিসেবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত না যাওয়াকে নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। শুরুতে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক হলেও একটা সময় বেশির ভাগ ক্রিকেট অনুরাগীই একমত হন যে, অনেক কারণেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যাওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জীবন থেকে একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলে গেল। সেখানে বাংলাদেশ অনুপস্থিত। ক্রিকেটীয় যুক্তি, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, ব্যবসায়-বাণিজ্য, বিপণন নানা দিক বিবেচনায় সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলাটা বড় ধরনের ভুল ও নেতিবাচক সিদ্ধান্ত এবং একটা বড় ক্ষতি বলেই পরিগণিত হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক ঐ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কারণ খুঁটিয়ে বের করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং ৩ সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। আগেই জানা, আজ বিকেল ৩টায় এনএসসি ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ওই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। ক্রিকেট ও ক্রীড়া অনুরাগীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কী উঠে আসে। কে বা কার ভুলে, অদূরদর্শিতায় বাংলাদেশ ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি, তা জানতে মুখিয়ে ছিলেন সবাই। শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একক ইচ্ছে ও সিদ্ধান্তেই বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যায়নি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি অ্যাডমিন একেএম ওয়ালিউল্লাহ, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দাস্তগীরের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটি দীর্ঘ কয়েক মাস তদন্ত শেষে আজ ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাদের তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছে। তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি অ্যাডমিন একেএম ওয়ালিউল্লাহ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিতে চিঠি পাঠিয়ে ভারত না যাওয়ার কথা জানানো হয়। যেহেতু তখন আসিফ নজরুল ইসলাম ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন, কাজেই সেটা তার নির্দেশ বলেই পরিগণিত হবে। আর বিসিবির সে সময়ের কমিটি তা মেনেই বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠানো থেকে বিরত থাকে। শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটির সদস্যরা সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নাম উল্লেখ করলেও তদন্ত রিপোর্ট এবং সংবাদ সম্মেলনে কথোপকথনের বেশির ভাগ সময় তদন্ত কমিটির সদস্যরা সে অর্থে কারও ওপর দোষ চাপানো থেকে বিরত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তদন্ত কমিটির সদস্যরা স্বীকার করেছেন যে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটা ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকেই নেওয়া এবং তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্দেশে সম্বলিত চিঠিই বিসিবিতে যায়। প্রশ্ন ছিল, বিশ্বকাপ খেলতে ভারত না যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান ও তদন্তে কারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন? জবাবে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বলেন, আমরা বিভিন্ন ক্রিকেটার, বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল, কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বললেও বিসিবির সে সময়ের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সাথে বিভিন্ন সময় যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাইনি। তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, তারা আইসিসির সংশ্লিষ্ট কর্তাদের সাথেও যোগাযোগ করেননি। তবে তদন্ত কমিটির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, ক্রিকেটাররা তৈরি ছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার জন্য এবং তদন্ত কমিটি মনে করে অনেক যুক্তিতেই বাংলাদেশের উচিত ছিল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া। কাজটি সঠিক হয়নি। তাদের শেষ কথা, তদানীন্তন সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার)-এর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার নির্দেশেই বিসিবিকে চিঠি দিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার কথা জানানো হয়। বিসিবিও সে সরকারি নির্দেশ পালন করে। সরাসরি কাউকে দোষারোপ করতে না চাইলেও তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্টে বেশ কিছু সুপারিশও করেছে। ক্রিকেটকে রাজনীতিমুক্ত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। বিসিবিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা প্রদানের কথাও বলা হয়েছে। এআরবি/এমএমআর
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাসড়কের পাশে গামছা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় নবজাতকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার হওয়া নবজাতকটি ছেলে শিশুর। তবে তার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। কে বা কারা নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উদ্ধার করা নবজাতকের মরদেহটি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নবজাতকটির পরিচয় শনাক্ত এবং তাকে সেখানে ফেলে যাওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসজেডএইচ/জেআইএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস এজেন্সির (এমকিউএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাতার বিন সাবরান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ করেন তিনি। সাক্ষাৎকালে এমকিউএ ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক আব্দুল সামান বিন তাইপ ও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন আজ যেখানে আছি, আমার মায়ের দোয়া: ঢাবি উপাচার্য বৈঠককালে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া তারা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে যৌথ সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা করেন। এমকিউএ’র সিইও বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশের জন্য অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। আরটি/এমএমকে