জাতীয়

দখল-দূষণ আর ভরাটে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে হাকালুকি হাওর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
দখল-দূষণ আর ভরাটে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে হাকালুকি হাওর
দখল-দূষণ আর ভরাটে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে হাকালুকি হাওর

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি ও বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাকালুকি হাওর নানা সংকটে হারাচ্ছে তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। জুড়ী নদীসহ হাওরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ১০টি নদী ও অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া দিয়ে প্রতিনিয়ত ঢুকছে বর্জ্য ও বালু। এতে ভরাট হচ্ছে হাওরের বিল, কমছে জলাধারের গভীরতা; পাশাপাশি বিল শুকিয়ে যাওয়া, মাছ শিকার, কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার ও দখলের কারণে বিপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

হাওর এলাকার বাসিন্দারা জানান, হাকালুকি হাওর লাখ লাখ মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। হাওরে মাছ শিকার করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করেন, আবার অনেকে নির্ভর করেন কৃষির ওপর। তবে কয়েক বছর ধরে হাওরের পরিবেশ ক্রমেই দূষিত হচ্ছে। নির্বিচারে সেচ দিয়ে মাছ শিকার, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং হাওরের জায়গা দখলের কারণে এর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

‘হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে একটা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে হাওরের বর্জ্যে ব্যবস্থাপনাসহ বেশকিছু উন্নয়ন হবে আশাকরি।’

বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব কারণে ধীরে ধীরে হাকালুকি হাওর তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। হাওর রক্ষায় সরকারি উদ্যোগে হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকিতেও দেখা যায় না বলে অভিযোগ তাদের।

জানা গেছে, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাকালুকি হাওর এটি এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। এর আয়তন প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর। এরমধ্যে শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর। মৌলভীবাজার জেলার় বড়লেখা, কুলাউড়া, জুড়ী, এবং সিলেট জেলার় ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত। জুড়ী, ফানাই, সুনাইসহ ১০টি নদী এবং অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া হাওরের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। জুড়ী, সুনাই ও পানাই নদী এই বিশাল হাওরের মূল প্রবাহ। সময়ের সঙ্গে পলি বালু জমে প্রায় শতাধিক বিল ভরাট হয়ে গেছে। কাগজে কলমে ২৩৮ টি বিল থাকলেও প্রায় অর্ধেক বীলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেগুলো অবশিষ্ট আছে এগুলোও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বছর কয়েক আগে যেসব বিলের নাব্যতা ৩৫-৩০ ফুট গভীর ছিল এগুলো এখন কমে ১৫-২০ ফুট চলে এসেছে। এখনও যেসব বিল আছে এগুলো খনন না করলে আগামী একদশকে ভরাট হয়ে যাবে। এছাড়া ১৮ হাজার হেক্টর হাওরের আয়তন লেখা থাকলেও বাস্তবে কতটুকু আছে তা কেউ জানে না। হাওর পাড়ের বাসিন্দারা অনেকেই ঘরবাড়ি করে হাওর দখল করে নিয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

কৃষকের সার গুদামে আছে, মাঠে নেই

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব ও হাওর কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নূর হোসেন মিঞা জাগো নিউজকে বলেন, কয়েকটি কারণে হাওর বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে হাকালুকি হাওর। হাওরের ভেতরে অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণে পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পানির শ্রুতে যে বালি আসে এগুলো জমা হয়ে ধীরে ধীরে উঁচু হয়ে যাচ্ছে। ফলে হাওর পানি ধরে রাখতে পারছে না। আমরা যেসব প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করছি এগুলো যত্রতত্র হাওরের পানির মধ্যে ফেলে দিচ্ছি এসব বর্জ্যের কারণে হাওর ভরাট হচ্ছে।

‘হাওর সংরক্ষণের জন্য সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর আছে। হাকালুকি হাওরের পরিবেশ রক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন এইসব পদক্ষেপ তাদেরকে নিতে হবে। না হলে হাওর ভরাট হয়ে যাবে। বিশেষ হাওরকে দূষণমুক্ত ও খনন করা এখুনি প্রয়োজন। একটা সময় হাওরে অনেক প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেতো এখন তা আর পাওয়া যায় না। হাওরকে দখল দূষণমুক্ত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, উজান থেকে যেসব পানি আসে এগুলো বঙ্গোপসাগরে নামার আগে বড়বড় সেতুর পিলারের কারণে বাঁধা গ্রস্ত হচ্ছে যার ফলে নদীগুলোতে বালু জমা হয়ে চর সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে নদীতে আগের মতো পানি ধারণ ক্ষমতা রাখার জায়গা নেই। আমাদের যেসব হাওরে মাছ, ফসল উৎপাদন ও পানি থাকার কথা এসব জায়গায় সবকিছু কমে যাচ্ছে হাওর ভরাট হওয়ার কারণে। পলি মাটির জায়গায় বালু এসে হাওর ভরাট হচ্ছে। হাওর সুরক্ষার জন্য সরকারিভাবে যতটুকু উদ্যোগ নেওয়ার কথা সেইটুকু নেওয়া হচ্ছে না। এই সব কারণে হাওর তার গভীরতা হারাচ্ছে। হাওরে জলজ উদ্ভিদ কমে গেছে। হাওরে আগের মতো মাছ নেই, এর কারণ হলো মানুষ সৃষ্ট বর্জ্য ও পানি দূষণের কারণ।

হাওর ঘুরে দেখা যায়, জেলার অন্যতম জুড়ী নদী এই নদীর পুরাতন ব্রিজ থেকে নতুন ব্রিজ হয়ে জায়ফরনগর ইউনিয়নের নয়াগ্রামের দিকে যতদূর সামনে যাওয়া যায় ততদূর পর্যন্ত দেখা যায় সারি সারি প্লাস্টিক, জুতা, পানি ও কোমল পানীয় বোতল, খাবারের প্যাকেটসহ বিভিন্ন বর্জ্য এর স্তুপ জুড়ি নদীতে ভাসছে। এই বর্জ্যগুলো সরাসরি গিয়ে পড়ছে দেশের সর্ববৃহৎ হাকালুকি হাওরে। আর এসব বর্জ্য হাওরে ভেসে বেড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন

গৃহবন্দি সময় কাটে ফেসবুক-ইউটিউবে, ড্রাগন চাষে সফল ইব্রাহীম

জুড়ী উপজেলা বাজারের বর্জ্য ফেলার কোনো স্থান না থাকায় ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন জুড়ী নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলছেন। এসব বর্জ্য কোনো বাঁধা ছাড়া সরাসরি গিয়ে হাকালুকি হাওরে পড়ছে। শুধু জুড়ী নদী নয় সরাসরি হাওরের সাথে যতটা নদী ও ছড়া আছে সব-কয়টা দিয়ে সরাসরি বর্জ্য গিয়ে হাওরে পড়ছে। ফলে হাওরের মধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য। এসব বর্জ্য একদিকে দূষিত হচ্ছে হাওরের পানি অন্যদিকে ভরাট হচ্ছে হাওর। হাওর ভরাটের প্রভাবে অল্প বৃষ্টিতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা সৃষ্টি হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে হাওর।

জুড়ী উপজেলার হাওর পাড়ের বাসিন্দা রায়হান আহমেদ বলেন, হাওরে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। হাওরের পানির নিছে হাত দিলেই শুধু প্লাস্টিক হাতে আসে। হাওরের গভীরতা অনেকটাই কমে গেছে। আগে যে জায়গায় ১৫-২০ ফুট গভীর পর্যন্ত পানি ছিলো এখন সেই জায়গায় ৫-৭ ফুট পানি আছে। পলি মাটি ও বালু এসে ধীরে ধীরে বিলগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে হাওর রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতির সালেহ সোহেল বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় মিঠাপানির হাওর। এই হাওরটি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। হাকালুকি হওরের বিলগুলো জরুরিভাবে খনন করা প্রয়োজন। দখলকৃত জায়গা মুক্ত করতে হবে। হাওরের জলজ উদ্ভিদগুলো রক্ষা করতে হবে। হাওরের প্রবেশ পথে ছড়া ও নদীগুলো খনন করতে হবে। এখন হাওরে কী পরিমাণ বিল আছে তা সঠিক হিসেব করা প্রয়োজন।

‘কয়েকটি কারণে হাওর বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে হাকালুকি হাওর। হাওরের ভেতরে অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণে পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পানির শ্রুতে যে বালি আসে এগুলো জমা হয়ে ধীরে ধীরে উঁচু হয়ে যাচ্ছে। ফলে হাওর পানি ধরে রাখতে পারছে না। আমরা যেসব প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করছি এগুলো যত্রতত্র হাওরের পানির মধ্যে ফেলে দিচ্ছি এসব বর্জ্যের কারণে হাওর ভরাট হচ্ছে।’

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, হাকালুকি হাওরের বর্জ্য যাচ্ছে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দেখা হয়। অথবা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা এটা দেখাশোনা করে এটা তাদের দায়িত্ব। এছাড়া আমাদেরকে বললে আমরা সেখানে যাবো। আমাদের জনবল সংকটের কারণে সব জায়গায় ইচ্ছে থাকলেও যাওয়া যায় না।

আরও পড়ুন

পিআইওর দপ্তরে প্রকেল্পর অর্থ হরিলুট, বাদ যায়নি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও

পরিবেশকর্মী নাজমুল ইসলাম বলেন, হাওর সংরক্ষণের জন্য সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর আছে। হাকালুকি হাওরের পরিবেশ রক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন এইসব পদক্ষেপ তাদেরকে নিতে হবে। না হলে হাওর ভরাট হয়ে যাবে। বিশেষ হাওরকে দূষণমুক্ত ও খনন করা এখুনি প্রয়োজন। একটা সময় হাওরে অনেক প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেতো এখন তা আর পাওয়া যায় না। হাওরকে দখল দূষণমুক্ত করতে হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আরিফ হোসেন বলেন, কাগজে কলমে হাকালুকি হাওরে ২৩৮টি বিল আছে। তবে বাস্তবে প্রায় শতাধিক বিল ভরাট হয়ে গেছে। হাওরে ৬০ শতাংশ বিল ইজারা দেওয়া হলেও বাকি বিলগুলো ভরাট হওয়ার কারণে ইজারা দেওয়া যাচ্ছে না। সব জায়গায় ২৩৮টা বিল উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব নেই। অর্ধেক বিল ভরাট হওয়ার কারণে হাওরে পানি থাকে না। গত বছর হাওরে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া গেছে এই বছর তাও মিলবে না। হাকালুকি হাওর বিভিন্ন কারণে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। হাওরের বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে হলে বিলগুলো খনন করতে হবে। একটা সময় হাওরে দেশীয় ২৬০ প্রজাতির মাছ ছিল। ২০১৫ সালের একটি জরিপে ১৪৩ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া গেছে। আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে জানা যাবে এখন কত প্রজাতির মাছ হাওরে আছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, হাওরের সমস্যা নিয়ে আমার কিছু জানা নেই। হাওর উন্নয়ন প্রকল্প হবে কিনা এটা আমার বিষয় না, যারা হাওর নিয়ে কাজ করেন তারা দেখবেন।

বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সি.এম ইউসুফ হোসাইন বলেন, হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে একটা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে হাওরের বর্জ্যে ব্যবস্থাপনাসহ বেশকিছু উন্নয়ন হবে আশাকরি।

এনএইচআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
এক্সপ্রেসওয়েতে ফুলের সমারোহ
এক্সপ্রেসওয়েতে ফুলের সমারোহ

বর্ষায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সড়ক বিভাজক যেন রূপ নিয়েছে এক টুকরো বাগানে। বিভাজকে লাগানো নানা প্রজাতির গাছে এখন শোভা পাচ্ছে লাল, হলুদ ও সাদা রঙের ফুল। ব্যস্ত মহাসড়কে ছুটে চলার পথে যাত্রীদের চোখের ক্লান্তি জুড়িয়ে দিচ্ছে ফুলের এই মায়াবী রূপ। ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ অংশে সম্প্রতি তোলা ছবি নিয়ে সাজানো হয়েছে এই ছবির গল্প।সড়ক বিভাজকের দুই পাশে ফুটে থাকা লাল-হলুদ ফুলে রঙিন সাজে সেজেছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে। শ্রীনগরের হাঁসাড়া এলাকা থেকে তোলা ছবিফুলগাছের কোল ঘেঁষে তীব্র গতিতে ছুটে চলেছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসশরতের স্নিগ্ধতায় শুভ্র কাশফুলে ঢেকে গেছে সড়ক বিভাজক। রাজেন্দ্রপুর এলাকার সার্ভিস রোডের দৃশ্যফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এক্সপ্রেসওয়ে ধরে এগিয়ে চলেছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলমহাসড়কের দুই পাশেই সবুজের স্নিগ্ধ সমারোহ; সতেজ বৃক্ষরাজি যেন ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণলাল আর হলুদ রঙের ফুলে ভরা গাছের পাশ দিয়ে মসৃণ মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে একটি গাড়িওপরে শরতের সুনীল আকাশ, আর নিচে বর্ণিল ফুলে ফুলে সাজানো মহাসড়কের বিভাজকসুসজ্জিত ফুলগাছের সারিকে সঙ্গী করে এক্সপ্রেসওয়ের পথ ধরে এগিয়ে চলেছে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
১২ লুকে দেখে নিন টালিউডের এই আবেদনময়ী নতুন অভিনেত্রীকে

১২ লুকে দেখে নিন টালিউডের এই আবেদনময়ী নতুন অভিনেত্রীকে

বদরুদ্দীন উমর: গণ–অভ্যুত্থান ও জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা

বদরুদ্দীন উমর: গণ–অভ্যুত্থান ও জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা

মূল প্রতিশ্রুতিগুলো এখনো অপূর্ণ, চাকসু কী করছে

মূল প্রতিশ্রুতিগুলো এখনো অপূর্ণ, চাকসু কী করছে

চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী আহত
চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী আহত

রাজধানীর মহাখালীতে চলন্ত ট্রেনের ছাদে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ছিনতাইকারীরা তাঁর মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে গেছে। সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কমলাপুর থেকে জামালপুরগামী ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থীর নাম হাসানুজ্জামান সাজিদ (২২)। তিনি নাটোরের কাদিরাবাদের বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির(বিএইউইটি) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী।সাজিদ ও তাঁর খালু শহীদুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সাজিদ রোববার জামালপুর থেকে ঢাকার উত্তরায় এসে তাঁর এক বন্ধুর খালার বাসায় ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি জামালপুরে যাওয়ার জন্য তিনি কমলাপুর থেকে ব্রহ্মপুত্র ট্রেনের ছাদে ওঠেন। মহাখালী এলাকায় পৌঁছালে সাত থেকে আটজন তাঁকে ঘিরে ফেলে। পরে তাঁকে দুই হাত, বুক, পিঠ ও বাঁ পায়ে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় তারা। সাজিদের দাবি, মানিব্যাগে সাড়ে আট হাজার টাকা ছিল।আহত অবস্থায় সাজিদকে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় স্থানীয় লোকজন ও বিমানবন্দর ফাঁড়ির রেলওয়ে পুলিশের কনস্টেবল মো. রুবেল প্রামাণিক উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আহত শিক্ষার্থীর জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ যেসব বিষয় উঠে এসেছে ব্রিকসের আলোচনায়

ইরান যুদ্ধ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ যেসব বিষয় উঠে এসেছে ব্রিকসের আলোচনায়

চুলের চেয়েও পাতলা আইফোন ডুওর কাচ, ভাঁজ করলে ভাঙে না কেন

চুলের চেয়েও পাতলা আইফোন ডুওর কাচ, ভাঁজ করলে ভাঙে না কেন

আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

শাহপুরের দম্পতি
শাহপুরের দম্পতি

স্টিলের পাতিল নামে একজন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। প্রোফাইল পিকচারে চকচকে পাতিল। কভার ফটোতে লেখা, ‘সম্পর্ক যতই গরম হোক, হাতল ধরে রাখুন।’ দেখে বেশ ক্রিয়েটিভ মনে হলো। দ্রুত নিজের অ্যাকাউন্ট সেটিংসে গেলাম। নাম পরিবর্তন করে রাখলাম, মুরগির ঝোল। তারপর.. মুরগির ঝোল accepted the friend request of স্টিলের পাতিল। স্টিলের পাতিল সঙ্গে সঙ্গে ইনবক্সে লিখল, ‘ভাই, একা একা ভালো লাগতেছিল না।’ আমি বললাম, ‘সমস্যা নাই। সংসার পাতাই।’ আমাদের সংসার পাততে বেশি সময় লাগল না। প্রথমে এল প্লাস্টিকের গামলা। ওর বায়ো, ‘আমি সস্তা। প্রয়োজনের সময় আমাকেই খুঁজবেন।’ এরপর বিরিয়ানির এলাচি। সে একটু অহংকারী। মাঝেমধ্যে পোস্ট দেয়, ‘আমাকে কামড় দেওয়ার আগে মনে রাখবেন, বিরিয়ানির সম্মান আমার হাতে।’ তারপর এল সুইটির রান্নাঘর। সুইটি কে, কেউ জানে না। কিন্তু প্রতিদিন দুপুরে সে রান্নার ভিডিও শেয়ার করে। হানি নাটস যোগ দেওয়ার পর গ্রুপে অশান্তি শুরু হলো। সে প্রতিটি পোস্টের নিচে লিখত, ‘শরীরে দুর্বলতা থাকলে ইনবক্স করেন।’ তার সঙ্গে শিলাজিৎ মধুর ঝগড়া। ‘আপনারটা খাঁটি না।’ ‘আপনি নকল।’ ‘ল্যাব রিপোর্ট দেখান।’ ‘আগে ট্রেড লাইসেন্স দেখান।’ কাঠের মজবুত আসবাব এসে পরিস্থিতি শান্ত করল। সে বলল, ‘ভাইসব, মারামারি কইরেন না। খাট লাগলে যোগাযোগ কইরেন।’আমার চিন্তা— রস+আলো আমাকে সামলাতে পারবে তো! মিশা সওদাগরলোডশেডিং উত্তপ্ত কাঁচাবাজারএকদিন হিসাব করে দেখলাম, আমাদের প্রায় সবই আছে। বললাম, ‘এখন দরকার একটা বাসা।’ তিন দিন খোঁজার পর পেলাম। পরীনগর সবুজের বাসা। প্রোফাইল পিকচারে একতলা পুরোনো বাড়ি। উঠানে আমগাছ। বায়োতে লেখা, ‘শান্ত পরিবেশ। পরিবার নিয়ে থাকার উপযোগী। সরাসরি মালিক।’ আমরা সবাই একসঙ্গে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম। বাসা এক্সেপ্ট করল। তারপর বুঝলাম, শুধু বাসা দিয়ে হবে না। এলাকা লাগবে। বাজার করব কোথায়? রিকশা ডাকব কীভাবে? খুঁজতে খুঁজতে পেলাম।শাহপুর গ্রাম দক্ষিণপাড়া পূর্ব মাথা নতুন ব্রিজসংলগ্ন হাজী কুদ্দুস মেম্বারের পুকুরের পশ্চিম পাশ যুব উন্নয়ন সমাজকল্যাণ ও অনলাইন ক্রয়-বিক্রয় পরিবার। স্টিলের পাতিল বলল, ‘এটাই নে। নাম শুনে মনে হচ্ছে লোকেশন দিতে দিতে অ্যাডমিনের জীবন শেষ।’ এলাকাও আমাদের এক্সেপ্ট করল। এবার সমস্যা একটাই। মানুষ নাই। আমি পোস্ট দিলাম, ‘পাতিল, রান্নাঘর, আসবাব, বাসা, এলাকা, সব রেডি। সংসার পূর্ণ করতে হবু দম্পতি দরকার। আগ্রহীরা কমেন্ট করেন।’ রাত সাড়ে বারোটায় একটা নতুন বিয়ে করা দম্পতি কমেন্ট করল, ‘বাসা ভাড়া হয়ে গেছে? না হলে কাল দেখতে আসতে পারি।’ পরীনগর সবুজের বাসা রিপ্লাই দিল, ‘ভাড়া হয়নি। লোকেশন ইনবক্সে দিলাম।’ পরদিন দুপুরে নিউজ ফিডে ভাইরাল সংবাদ।শাহপুরে দম্পতি নিখোঁজ। তাদের শেষ লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ পরিত্যক্ত এক বাড়িতে ঢুকেছে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রক্তমাখানো স্টিলের পাতিল ও প্লাস্টিকের গামলা। আরও পাওয়া গেছে বিরিয়ানি, ভাঙা মধুর বোতল এবং সদ্য বানানো কাঠের খাট। সব কটিতে রক্তের নমুনা থাকায় পুলিশ এগুলো প্রাথমিক আলামত হিসেবে বিবেচনা করছে।তড়িৎ উক্তিলোডশেডিং উত্তপ্ত কাঁচাবাজাররোনালদোর বিয়েহরেক রকম মিঁয়াওবিশ্বকাপের পরসবজান্তা সমীপেষুরাষ্ট্রপতি নির্বাচন রসচিঠিউগান্ডার রাষ্ট্রপতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিরসচিঠিরসচিঠি

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
বাস্তব জীবনের আলোচিত দম্পতি আবার এক সিনেমায়, কী বললেন তাঁরা

বাস্তব জীবনের আলোচিত দম্পতি আবার এক সিনেমায়, কী বললেন তাঁরা

আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কী

আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কী

নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প

নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প

0 Comments