জাতীয়

দারুণ পারফরম্যান্সে নজরে আসা জীবনের চোখে জাতীয় দলের স্বপ্ন

D HASAN সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
দারুণ পারফরম্যান্সে নজরে আসা জীবনের চোখে জাতীয় দলের স্বপ্ন
দারুণ পারফরম্যান্সে নজরে আসা জীবনের চোখে জাতীয় দলের স্বপ্ন

২০২৪ ও ২০২৬, টানা দুটি যুব বিশ্বকাপ খেলেছেন শেখ পারভেজ জীবন। সবশেষ গত মাসে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ৩ ম্যাচে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। এরপর জিডি ট্রফিতে ৭ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। খুলনার মুজগিন্নী এলাকায় জন্ম নেওয়া ২০ বছরের এই তরুণ ক্রিকেটে আসেন জাতীয় দলের তারকা স্পিনার শেখ মেহেদীর হাত ধরে।

বোলিংয়ের বোল্ড ভ্যারিয়েশন, জাতীয় দলের স্বপ্ন এবং জীবনের ক্রিকেটে উঠে আসার নানাদিক নিয়ে জাগো নিউজ-এর সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন উদীয়মান অফস্পিন অলরাউন্ডার শেখ পারভেজ জীবন। কথোপকথনের মূল অংশ নিচে তুলে ধরা হলো-

জাগো নিউজ: জিডি ট্রফিতে টুর্নামেন্ট সেরা হলেন, সাফল্যের নেপথ্য কৌশল কী ছিল?
জীবন: যেকোনো টুর্নামেন্টে নামার আগে আমার একটাই লক্ষ্য থাকে-ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই দলের জন্য অবদান রাখা। আর এবার প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে আলাদা পরিকল্পনা করেছিলাম যে নির্দিষ্ট ম্যাচে দলের জন্য কী করতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ, টুর্নামেন্ট সেরা হয়ে খুব ভালো লাগছে। তবে দল চ্যাম্পিয়ন হলে আরও ভালো লাগতো।

জাগো নিউজ: এর আগে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে আপনি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন। এরপর জিডি ট্রফিতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার রহস্য কী?
জীবন: ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে কপাল একটা বড় বিষয়, কারণ সবসময় ভালো বল করলেও উইকেট মেলে না। তবে আমার সতীর্থদের বড় অবদান ছিল। অন্য প্রান্ত থেকে তারা দারুণ ডট বল করে চাপ সৃষ্টি করেছে, যার সুবিধা আমি অন্য প্রান্তে পেয়েছি।

জাগো নিউজ: বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে বোলিং করার সময় মোটিভেশন কীভাবে ধরে রাখতেন?
জীবন: ওরা তো আমাদের জুনিয়র। ওদের সাথে যদি আমরা খারাপ কিছু করি, তখন মানসিক একটু বেশি প্রেশার কাজ করে-কিরে, তুই ওর কাছে বাউন্ডারি খেলি! ওদের ক্ষেত্রে আরও ফোকাসড থাকা লাগে। এজন্য প্রতিপক্ষ যখন জুনিয়র দল হয়, তখন চ্যালেঞ্জটা ভিন্ন থাকে। তাই জুনিয়রদের বিপক্ষে আমাদের মনোযোগের মাত্রাটা আরও বাড়িয়ে দিতে হয়েছিল।

জাগো নিউজ: প্রথম ম্যাচে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে হারের পর দলের ড্রেসিংরুমের আলোচনা কী ছিল?
জীবন: প্রথম ম্যাচে আমরা সবাই বেশ বাজে ক্রিকেট খেলেছিলাম। পরে দলগত আলোচনায় নিজেদের আসল মানটা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। সবাই উপলব্ধি করি-আমরা যদি আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারি, তবে আমাদের থামানো কঠিন। এরপর সবাই নিজেদের জায়গা থেকে দায়িত্ব নিয়ে পারফর্ম করেছে।

জাগো নিউজ: আপনার বোলিংয়ে ফ্লাইটের ব্যবহার বেশ নজরকাড়া। এই ফ্লাইট কি আপনার শক্তির জায়গা?
জীবন: আমি একটু লুপ দিয়ে বাতাসে বল ওপরের দিকে ভাসিয়ে দিতে পছন্দ করি। বল একটু ওপরে দেখলে ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক হতে চায় এবং তখনই তাদের ট্র্যাপে ফেলার সুযোগ তৈরি হয়।

জাগো নিউজ: অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হান্নান সরকার আপনার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও লং-রান প্রসেস নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এই প্রশংসা কতটা অনুপ্রেরণা যোগায়?
জীবন: হান্নান স্যারের অধীনে ২০২৪ সালে ১৯ দলে খেলেছি। উনি আমাকে বেশ স্নেহ করেন এবং সবসময় নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার পরামর্শ দেন। ওনার এই সমর্থন আমার জন্য বড় প্রেরণা।

জাগো নিউজ: আপনার ক্রিকেটে আসার শুরুর গল্পটা কেমন ছিল?
জীবন: পাড়াতেই বড় ভাইদের সাথে ছোটবেলায় টেপ টেনিস খেলতাম। এলাকার বড় ভাই (শেখ মেহেদী) আমার খেলা দেখে খুলনা ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখান থেকেই মূলত অফিশিয়াল ক্রিকেট যাত্রা শুরু।

জাগো নিউজ: পরিবার থেকে শুরুতে কেমন সাপোর্ট পেয়েছিলেন?
জীবন: আব্বু-আম্মু সবসময়ই পাশে ছিলেন। তবে আমার বড় ভাই সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন, ক্রিকেটের শুরুর দিনগুলোতে তিনি ছায়ার মতো আমার সাথে ছিলেন।

জাগো নিউজ: শেখ মেহেদী হাসানের সাথে কি নিয়মিত যোগাযোগ হয়? উনি কী পরামর্শ দেন?
জীবন: মেহেদী ভাই আমার অনেক সিনিয়র এবং আমাকে দারুণ স্নেহ করেন। উনি সবসময় একটাই কথা বলেন-যে প্রসেসে কাজ করছি, সেটাই যেন ধারাবাহিকতার সাথে বজায় রাখি।

জাগো নিউজ: ক্রিকেট ও পড়ালেখার ভারসাম্য বজায় রাখতে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়েছিল?
জীবন: অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকার সময় পড়ালেখায় কিছুটা বিরতি বা গ্যাপ পড়েছিল। পরিবার স্বাভাবিকভাবেই একটু চিন্তিত হয়ে পড়াশোনায় জোর দিতে বলেছিল। পরে আমি ওনাদের ক্রিকেট নিয়ে আমার সিরিয়াসনেসের বিষয়টি বোঝাই এবং ওনারাও সব শুনে মেনে নেন।

জাগো নিউজ: অফস্পিনার হিসেবে কাকে আইডল মনে করেন বা ফলো করেন?
জীবন: সুনির্দিষ্ট কোনো আইডল নেই, তবে অস্ট্রেলিয়ান অফস্পিনার নাথান লায়নের বোলিং আমার খুব ভালো লাগে। ওনার বোলিং কৌশলগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করি। আর সাকিব ভাইকে তো ছোট থেকেই দেখছি, ফলো করছি।

জাগো নিউজ: সামনেই তো এনসিএল, প্রস্তুতি কেমন চলছে?
জীবন: এখন নিজ শহর খুলনায় প্র্যাকটিস করছি। এনসিএলকে সামনে রেখে বেশ ভালো প্রস্তুতি হচ্ছে।

জাগো নিউজ: খেলার মাঝে ব্রেক পেলে কি পুরোপুরি রিল্যাক্স করেন, নাকি প্র্যাকটিস চলতে থাকে?
জীবন: সত্যি বলতে প্র্যাকটিস না করলে আমার ভালো লাগে না। তাই ছুটির দিনগুলোতেও অনুশীলনের মধ্যেই থাকি। তবে এর ফাঁকে ফাঁকে পরিবারকেও সময় দেওয়ার চেষ্টা করি। কারণ বছরের বেশিরভাগ সময়েই তো ক্রিকেট নিয়েই ব্যস্ত থাকা লাগে।

জাগো নিউজ: বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে আস্তে আস্তে সিনিয়র ক্রিকেটে প্রবেশ করছেন। এই রূপান্তরটা কীভাবে উপভোগ করছেন?
জীবন: জুনিয়র থেকে সিনিয়রে যাওয়ার এই প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব অনেকাংশে বেড়ে যায়। আমি সবসময় দলের দেওয়া ভূমিকা ঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করি এবং সতীর্থদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শেখার মানসিকতা ধরে রাখি।

জাগো নিউজ: খেলোয়াড় হিসেবে আপনার মূল বা আলটিমেট গোল কী?
জীবন: জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা যেকোনো ক্রিকেটারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, আমারও তাই। তবে বর্তমানে আমার প্রধান লক্ষ্য সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে প্রতিদিন নিজের ক্রিকেটকে আরও উন্নত করা।

জাগো নিউজ: ক্যারিয়ারে প্রথম কোচ দিবাকর রায়ের অবদান কতখানি?
জীবন: দিবাকর স্যার আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় মানুষ। আমার আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে ওনার অবদান অপরিসীম, ওনার কাছে আমি চিরঋণী। ওনার হাত দিয়ে শুরু, তবে আমাকে আজকের জায়গায় নিয়েছেন আরেকজন কোচ, যার নাম সালাউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল। উনিই মূলত আমাকে প্রতিনিয়ত উন্নতি করার জন্য সাহায্য করেছেন, এখনো করে যাচ্ছেন।

জাগো নিউজ: জাতীয় দল থেকে যদি এখনই ডাক আসে, আপনি কি মানসিকভাবে প্রস্তুত?
জীবন: হ্যাঁ, আমি সবসময় প্রস্তুত থাকি। সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতে চাই।

জাগো নিউজ: বিসিবি নির্বাচকদের নজরে আসার বিষয়ে কীভাবে চিন্তা করছেন?
জীবন: নির্বাচকদের নজর নিয়ে না ভেবে আমি নিজের পারফরম্যান্সে নজর দিতে চাই। আমার কাজ মাঠে রান করা ও উইকেট নেওয়া, আর ওনাদের কাজ দল নির্বাচন করা। আমি নিজের কাজটা ঠিকভাবে করে গেলে সাফল্য একদিন আসবেই।

এসকেডি/এমএমআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

জাতীয়

View more
এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২ ডিসেম্বর, ফল ৩১ ডিসেম্বর
এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২ ডিসেম্বর, ফল ৩১ ডিসেম্বর

এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এ পরীক্ষার ফল ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

D HASAN অক্টোবর ৩১, ২০২৬ 0
ধানমন্ডিতে ছুরিকাঘাতে সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী নিহত, গ্রেফতার ছেলে

ধানমন্ডিতে ছুরিকাঘাতে সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী নিহত, গ্রেফতার ছেলে

রাজধানীর পল্টনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক আহত

রাজধানীর পল্টনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক আহত

সংগঠিত, দক্ষ ও অঙ্গীকারবদ্ধ যুবসমাজ দেশের মূল্যবান সম্পদ: রাষ্ট্রপতি

সংগঠিত, দক্ষ ও অঙ্গীকারবদ্ধ যুবসমাজ দেশের মূল্যবান সম্পদ: রাষ্ট্রপতি

প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে আবেগ, এইচএসসির ফল প্রকাশের পরও ক্যাম্পাসে উৎসব
প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে আবেগ, এইচএসসির ফল প্রকাশের পরও ক্যাম্পাসে উৎসব

সারা দেশের মতো ময়মনসিংহেও নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল। তবে, ফল প্রকাশের দিনেও নগরীর কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে দেখা যায়নি চিরচেনা উৎসব। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের সঙ্গে ফল জানার অপেক্ষা কিংবা আনন্দ-হতাশা ভাগাভাগির সেই দৃশ্য যেন হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের ব্যবধানে। প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই ফল জানার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বদলে গেছে ফল প্রকাশের দিনের চেনা চিত্র।

D HASAN অক্টোবর ৩১, ২০২৬ 0
যুবসমাজ জাতির অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যুবসমাজ জাতির অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সিলেট টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন, বাদ পড়লেন কে?

সিলেট টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন, বাদ পড়লেন কে?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দেওয়ার হার বেড়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দেওয়ার হার বেড়েছে

গাজীপুরে ৬ ঘণ্টার অবরোধ-সংঘর্ষের পর যান চলাচল স্বাভাবিক
গাজীপুরে ৬ ঘণ্টার অবরোধ-সংঘর্ষের পর যান চলাচল স্বাভাবিক

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।

D HASAN অক্টোবর ৩১, ২০২৬ 0
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা বিষয়ে পাকিস্তান ‘সতর্ক আশাবাদী’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা বিষয়ে পাকিস্তান ‘সতর্ক আশাবাদী’

অতিরিক্ত ডিআইজি জহির সাময়িক বরখাস্ত 

অতিরিক্ত ডিআইজি জহির সাময়িক বরখাস্ত 

৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী

৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী

0 Comments