জাতীয়

ডাকসুর সংগ্রহশালায় আব্দুল মালেকের ছবি, কে ছিলেন তিনি, কীভাবে নিহত হন

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ডাকসুর সংগ্রহশালায় আব্দুল মালেকের ছবি, কে ছিলেন তিনি, কীভাবে নিহত হন
ডাকসুর সংগ্রহশালায় আব্দুল মালেকের ছবি, কে ছিলেন তিনি, কীভাবে নিহত হন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা সংস্কার শেষে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি।

আরও যোগ করা হয়েছে আব্দুল মালেকের ছবি, যিনি ছিলেন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা। সংগ্রহশালায় তাঁর একটি ছবি এবং মৃত্যুর পরের একটি ছবি রাখা হয়েছে।

আব্দুল মালেকের ছবির নিচে ডাকসুর দেওয়া ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা সেমিনারে বক্তব্য দেওয়া শেষে ফেরার পথে বিরোধীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন।’

১৪ সেপ্টেম্বর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যেসব ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী সামষ্টিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাঁদের ইতিহাস সংগ্রহশালায় তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটা ইতিহাসের প্রতি দায়।’

সমসাময়িক সংবাদপত্রে সংঘর্ষ, আহত হওয়া এবং আব্দুল মালেকের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। তবে তাঁকে কে বা কারা প্রাণঘাতী আঘাত করেছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার মতো তথ্য পাওয়া যায় না।

ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আব্দুল মালেকের বাড়ি বগুড়ায়। তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন। তিনি থাকতেন ফজলুল হক মুসলিম হলে।

কে ছিলেন আব্দুল মালেক

ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আব্দুল মালেকের বাড়ি বগুড়ায়। তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন। তিনি থাকতেন ফজলুল হক মুসলিম হলে।

ছাত্রসংঘ ছিল জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের অনুগত একটি ছাত্রসংগঠন। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। আলবদর গঠিত হয়েছিল ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা-কর্মীদের দিয়ে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে ছাত্রসংঘ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ হারায়।

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। তখন জামায়াতে ইসলামী পুনর্গঠিত হয় এবং ছাত্রশিবির আত্মপ্রকাশ করে। অনেকেই বলেন, শিবির হলো ছাত্রসংঘের উত্তরসূরি। অবশ্য শিবির কখনোই তা স্বীকার করে না।

১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সরকারের প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। এয়ার মার্শাল এম নূর খানের কমিশন এই শিক্ষানীতির সুপারিশ করেছিল।

ড. মোহাম্মদ হাননানের লেখা ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’। এই বইয়ে ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।

১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) একটি মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) তোফায়েল আহমেদ।

ড. মোহাম্মদ হাননানের ‘লেখা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। বইয়ে লেখা হয়েছে, মুক্ত আলোচনায় প্রথমে বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়নের (মতিয়া) সভাপতি সামসুদ্দোহা। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার ওপর অভিমত রাখছিলেন। তাঁর বক্তৃতার এক পর্যায়ে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের একদল কর্মী সভাকক্ষে ঢুকে হট্টগোল শুরু করে দেন এবং ‘ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা কায়েম করো’, ‘ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা চাই না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

মোহাম্মদ হাননান লিখেছেন, একপর্যায়ে ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা মঞ্চে পর্যন্ত উঠে পড়েন এবং এ অবস্থায় দুই দল পরস্পর চেয়ার ছুড়তে থাকে। ডাকসু নেতা তোফায়েল আহমেদ দাঁড়িয়ে মাইকে বারবার বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আবেদন জানাতে থাকেন। কিন্তু এতে কোনো শুভ ফল হয়নি। এ সময় একদল ছাত্রসংঘ কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে সভাকক্ষে ঢুকে পড়েন এবং এক অনাহূত সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়।

দৈনিক আজাদের ১৩ আগস্টের (১৯৬৯) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে মালেকের অবস্থা ছিল সবচেয়ে গুরুতর। তিন দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ আগস্ট মারা যান আব্দুল মালেক। তাঁর বয়স হয়েছিল ২২ বছর।

তৎকালীন ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন—উভয় দলের কর্মীরা এ সময় সংঘবদ্ধ হয়ে বাধা দিতে আসেন এবং প্রচণ্ড সংঘর্ষের পর ছাত্রসংঘের কর্মীরা রেসকোর্সের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দিকে পালাতে থাকেন বলে উল্লেখ করে মোহাম্মদ হাননান লিখেছেন, সংঘর্ষে ঢাকা শহর ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি আব্দুল মালেক, আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ইদরিস আলী, ছাত্রলীগ নেতা নাসিরুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ গুরুতরভাবে আহত হন।

এ সময় কলাভবনের ডিনের নেতৃত্বে একদল শিক্ষক সংঘর্ষস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে ওঠে এবং আবারও আলোচনা সভা শুরু হয়। এতে ছাত্রনেতারা ‘গুন্ডা’দের সভা পণ্ড করার চক্রান্তের তীব্র নিন্দা করেন এবং গণতন্ত্রের দুশমন এসব ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র আসন থেকে উচ্ছেদ করার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।

দৈনিক আজাদের ১৩ আগস্টের (১৯৬৯) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে মালেকের অবস্থা ছিল সবচেয়ে গুরুতর। তিন দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ আগস্ট মারা যান আব্দুল মালেক। তাঁর বয়স হয়েছিল ২২ বছর।

দৈনিক আজাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাকসুর সভায় বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে পরিবেশ শান্ত ছিল। প্রথম বক্তা ছিলেন সামসুদ্দোহা। তিনি খসড়া শিক্ষানীতি ব্যাখ্যা করছিলেন। একপর্যায়ে কয়েকজন ছাত্র দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। সভাপতি সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রতিবাদকারী ছাত্রদের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ছাত্রসংঘ ছিল জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের অনুগত একটি ছাত্রসংগঠন। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। আলবদর গঠিত হয়েছিল ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা-কর্মীদের দিয়ে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে ছাত্রসংঘ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ হারায়।

আজাদের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকজন ছাত্র মঞ্চে উঠে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। শুরু হয় চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ছোটাছুটি। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দুই পক্ষ হলের বাইরে চলে আসে। সেখানে সংঘর্ষ আরও বেড়ে যায়। চেয়ার ও ভাঙা কাঠ দিয়ে আঘাতের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন আহত হন। পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

দৈনিক আজাদের প্রতিবেদনে আব্দুল মালেককে কে বা কারা আঘাত করেছিলেন, তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে বলা আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পর বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতা–কর্মীদের হামলায় আব্দুল মালেক গুরুতর আহত হন। পরে ১৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।

মোহাম্মদ হাননান বাংলাদেশের ‘ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে লিখেছেন, ডাকসু আয়োজিত মুক্ত আলোচনায় ইসলামী ছাত্রসংঘ যে হট্টগোলের সৃষ্টি করে, তা তারা তাদের দেওয়া বিবৃতিতে প্রকারান্তরে স্বীকার করে নেয়। ইসলামী ছাত্রসংঘের প্রাদেশিক শাখার সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী এক বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খসড়া শিক্ষানীতি–সম্পর্কিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের দাবি জানানোর ফলে ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতন্ত্রী গুন্ডাদের আক্রমণে ইসলামী ছাত্রসংঘের ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, একজন বক্তার ইসলামের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৭ থেকে ৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন

১৭ আগস্ট (১৯৬৯) পূর্ব পাকিস্তানের ছয় ছাত্রনেতা মোস্তফা জামাল হায়দার ও মাহবুবউল্লাহ (ছাত্র ইউনিয়ন-মেনন), সামসুদ্দোহা ও নুরুল ইসলাম (ছাত্র ইউনিয়ন-মতিয়া), তোফায়েল আহমেদ ও আ স ম আবদুর রব (ছাত্রলীগ-তোফায়েল) এক বিবৃতিতে আব্দুল মালেকের মৃত্যুতে শোক জানান। তাঁরা বলেন, একটি বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে কিছুসংখ্যক ছাত্র গোলযোগ সৃষ্টি করলে তাঁর দুঃখজনক পরিণতি হিসেবে আব্দুল মালেকের মৃত্যু ঘটেছে।

ডাকসুর পক্ষ থেকেও এক বিবৃতিতে শোক জানানো হয়।

তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান আব্দুল মালেকের মৃত্যুতে একটি শোকবাণী দিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে একটি শোকসভার আয়োজন করেছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে।

ড. মোহাম্মদ হাননানের ‘লেখা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা মঞ্চে পর্যন্ত উঠে পড়েন এবং এ অবস্থায় দুই দল পরস্পর চেয়ার ছুড়তে থাকে। ডাকসু নেতা তোফায়েল আহমেদ দাঁড়িয়ে মাইকে বারবার বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আবেদন জানাতে থাকেন। কিন্তু এতে কোনো শুভ ফল হয়নি। এ সময়ে একদল ছাত্রসংঘ কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে সভাকক্ষে ঢুকে পড়েন এবং এক অনাহূত সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়।

যে শিক্ষানীতি ঘিরে সংঘর্ষ

আব্দুল মালেকের মৃত্যুর ঘটনা বুঝতে হলে ফিরে যেতে হয় ১৯৬৯ সালের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে।

তখন পাকিস্তানে আইয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র। পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন ও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন একপর্যায়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ২৫ মার্চ আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়লে সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। দেশে আবার সামরিক শাসন জারি হয়।

একই সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান সরকার। এয়ার মার্শাল নূর খানকে নতুন শিক্ষানীতি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালের জুলাইয়ে ‘প্রপোজালস ফর আ নিউ এডুকেশনাল পলিসি’ নামে একটি প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়।

প্রস্তাবটি তখনো চূড়ান্ত শিক্ষানীতি ছিল না। জনমত নেওয়ার জন্য এটি প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সংশোধিত নীতি ১৯৭০ সালের মার্চে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়। তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে তা কার্যকর করার সুযোগ হয়নি।

ডাকসু সংগ্রহশালায় টাঙানো পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে

নূর খান প্রস্তাবে যা ছিল

নূর খান প্রস্তাবে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষায় গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের মতো বিষয় ছিল।

তবে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে শিক্ষার আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে প্রস্তাবের অংশটি।

প্রস্তাবে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামের ধারণা ও নীতির ভিত্তিতে পরিচালনার কথা বলা হয়। অভিন্ন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইসলামিয়াত বা দ্বীনিয়াত বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ছিল। অমুসলিম শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

এ বিষয়গুলো নিয়েই পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।

ছাত্রসংগঠনগুলোর অবস্থান

নূর খান প্রস্তাবের প্রতিটি বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর অবস্থান এক ছিল না। শিক্ষার আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে বিভাজন ছিল স্পষ্ট। ইসলামী ছাত্রসংঘ এবং ইসলামপন্থী ছাত্র ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো শিক্ষায় ইসলামি মূল্যবোধের গুরুত্বকে সমর্থন করে।

তাদের যুক্তি ছিল, পাকিস্তান একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র এবং শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামি আদর্শের প্রতিফলন থাকা উচিত। শিক্ষা শুধু চাকরি বা পেশাগত দক্ষতা তৈরির বিষয় নয়; নৈতিক চরিত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরিও শিক্ষার দায়িত্ব—এমন অবস্থান ছিল তাদের।

অন্যদিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশ এবং বাম ও প্রগতিশীল ছাত্রগোষ্ঠী এ অবস্থানের বিরোধিতা করে। তারা গণমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দেয়।

তাদের আশঙ্কা ছিল, পাকিস্তানি রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও ধর্মীয় পরিচয়কে শিক্ষার প্রধান ভিত্তি করা হলে বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় আরও পিছিয়ে পড়বে।

ফলে নূর খান প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক শুধু শিক্ষার বিষয় হয়ে থাকেনি; এর সঙ্গে যুক্ত হয় ধর্ম, ভাষা, জাতীয় পরিচয়, পাকিস্তানি রাষ্ট্রচিন্তা ও বাঙালির রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন।

এই বিতর্কের মধ্যেই ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ডাকসুর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা সভা হয়।

১৯৭১-এর পরের ইতিহাস

আব্দুল মালেকের মৃত্যুর পর ইসলামী ছাত্রসংঘ তাঁকে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে আন্দোলনের শহীদ হিসেবে স্মরণ করতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরও তাঁর স্মৃতিকে সংগঠনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক ইতিহাসের অংশ করে নেয়। ১৫ আগস্টকে তারা ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

ডাকসুর সংগ্রহশালায় আব্দুল মালেকের ছবি যুক্ত হওয়ায় এখন সেই পুরোনো ইতিহাসই নতুন করে সামনে এসেছে।

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি লাগানোর পর তা ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী

যে ছবি ঘিরে বিতর্ক

ডাকসুর সংগ্রহশালা সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগের কয়েকটি ছবি বাদ পড়েছে। যুক্ত হয়েছে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে।

সংগ্রহশালা সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত ডাকসুর নেতাদের বক্তব্য, জিন্নাহকে গৌরবান্বিত করার জন্য তাঁর ছবি রাখা হয়নি; বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত ঘটনাগুলো তুলে ধরতেই ছবিগুলো রাখা হয়েছে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংগ্রহশালায় জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

এর মধ্যেই ১৪ সেপ্টেম্বর এক শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান। পরে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
অ্যানিমেলের লাভবাইট থেকে অনুপ্রাণিত আইফোন ১৮-এর বার্গেন্ডি রং!
অ্যানিমেলের লাভবাইট থেকে অনুপ্রাণিত আইফোন ১৮-এর বার্গেন্ডি রং!

আইফোনের নতুন রং নিয়ে নেটপাড়ায় কম আলোচনা হয়নি। কিন্তু এবার যে দাবি ভাইরাল হয়েছে, তা শুনলে রীতিমতো চোখ কপালে উঠতে পারে! সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রো-এর নতুন বার্গেন্ডি রং নাকি বলিউড অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরির ‘লাভ মার্ক’ থেকে অনুপ্রাণিত। তবে মজার এই দাবির পেছনে রয়েছে একটি স্যাটায়ার পোস্ট, সত্যি কোনো অ্যাপল ঘোষণা নয়। সম্প্রতি ‘স্যাটায়ারলজি’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে এই দাবি করা হয়। পোস্টটিতে মজা করে বলা হয়, অ্যানিমেল ছবিতে তৃপ্তি দিমরির আলোচিত ‘লাভ মার্ক’ দেখে অ্যাপলের নতুন বার্গেন্ডি রঙের অনুপ্রেরণা এসেছে। এমনকি পোস্টে অ্যাপলের সিইও জন টার্নাস এবং তৃপ্তি দিমরির মধ্যে কাল্পনিক কথোপকথনের কথাও তুলে ধরা হয়। পোস্টটি শুধু মজার দাবিতেই থেমে থাকেনি। সেখানে বলা হয়, তৃপ্তি নাকি অ্যাপল পার্কে উপস্থিত ছিলেন এবং অ্যাপলের পক্ষ থেকে তাকে নতুন আইফোনও দেখানো হয়েছিল। পুরো বিষয়টি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে, প্রথমবার দেখলে অনেকের কাছেই সেটিকে সত্যি খবর বলে মনে হতে পারে। আরও পড়ুন আইফোন ১৭ সিরিজে কমলা, ১৮-তে কোন রং জনপ্রিয়? তবে পোস্টটির নিচেই স্পষ্ট করে জানানো হয়েছিল যে এটি একটি স্যাটায়ার, অর্থাৎ বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট। বাস্তবে অ্যাপল বার্গেন্ডি রংটি তৃপ্তি দিমরি কিংবা অ্যানিমেল ছবির কোনো দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত করেছে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তবে এই স্যাটায়ারের পেছনে একটি সত্যি ঘটনা রয়েছে। তৃপ্তি দিমরি এবারের অ্যাপলের আইফোন লঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার কুপার্টিনোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে অ্যাপলের সিইও জন টার্নাসের সঙ্গে দেখা যায়। গায়ক এপি ধিলন-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তৃপ্তির সঙ্গে জন টার্নাসের কথোপকথনের ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই বাস্তব ঘটনাটিকেই স্যাটায়ারলজি মজার গল্পের সঙ্গে জুড়ে দেয়। ফলে পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই সেটিকে সত্যি বলে ধরে নেন। পোস্টটিতে তিন হাজারের বেশি লাইকও পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমেন্টেও দেখা যায় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। কেউ বার্গেন্ডি রং নিয়ে মজার মন্তব্য করেছেন, কেউ আবার তৃপ্তির পিআর টিমের সঙ্গে বিষয়টি মিলিয়েছেন। আবার কেউ পোস্টটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অর্থাৎ, স্যাটায়ার বা বিদ্রূপ ও হাস্যরস হলেও সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভালোভাবেই আলোড়ন তৈরি করে। আরও পড়ুন আইফোন ১৮ কিনতে কিডনি বিক্রি! ভাইরাল এআই ছবি বানাবেন যেভাবে আসল বিষয় হলো, তৃপ্তি দিমরির অ্যাপল ইভেন্টে উপস্থিত থাকার ঘটনা সত্যি, কিন্তু তার ‘লাভ মার্ক’ থেকে আইফোন ১৮ প্রো-এর বার্গেন্ডি রং তৈরি হয়েছে এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই। এটি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, যা বাস্তব একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়ায় আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পোস্ট যতই মজার বা বিশ্বাসযোগ্য মনে হোক, সেটিকে সত্যি ধরে নেওয়ার আগে পোস্টটি স্যাটায়ার কি না এবং দাবিটির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্র আছে কি না, তা যাচাই করাই নিরাপদ। সূত্র: ইনস্টাগ্রাম কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সৌদির যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি হুতিদের

সৌদির যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি হুতিদের

ওজোন স্তর ও আমাদের ভবিষ্যৎ

ওজোন স্তর ও আমাদের ভবিষ্যৎ

টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট কার

টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট কার

উত্তাল নদীতে উল্টে গেল গাড়ি, অবিশ্বাস্যভাবে বাঁচলেন মা ও শিশু
উত্তাল নদীতে উল্টে গেল গাড়ি, অবিশ্বাস্যভাবে বাঁচলেন মা ও শিশু

রাশিয়ায় উত্তাল পাহাড়ি নদীতে উল্টে পড়ে যাওয়া একটি গাড়ি। সেখানে আটকা পড়েন এক মা ও শিশু। কীভাবে বেঁচে ফিরলেন তাঁরা? দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে…

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ওজোনস্তর রক্ষায় আমরা কতটা সফল

ওজোনস্তর রক্ষায় আমরা কতটা সফল

কটূক্তির ঘটনায় তোপের মুখের অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর

কটূক্তির ঘটনায় তোপের মুখের অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সমাবর্তন ১৮ জানুয়ারি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সমাবর্তন ১৮ জানুয়ারি

কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন প্রভা
কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন প্রভা

অভিনয়ের ব্যস্ততা থেকে খানিকটা দূরে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। পাহাড়, লেক আর নৌকার মায়াবী পরিবেশে রাঙামাটিতে ঘোরাঘুরির কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাঙামাটি ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন প্রভা। ছবিগুলোতে কখনো তাকে দেখা গেছে পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝে, কখনো নৌকায়, আবার কখনো কাপ্তাই লেকের নীল জলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ছবিগুলো প্রকাশের পাশাপাশি নিজের অনুভূতির কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ছবির সঙ্গে প্রভা লিখেছেন, ‘পাহাড়, লেক, একটি সুন্দর নৌকা, আমাদের খুনসুটি আর একটু জাদুর মাঝে কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম। রাঙামাটি ছিল ভীষণ সুন্দর।’ প্রকৃতির এমন মায়াবী পরিবেশে প্রভার হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি মনে করিয়ে দেয় বহুল পরিচিত গান ‘রাঙা মাটির রঙে চোখ জুড়ালো’-এর কথা। পাহাড়, লেক ও সাম্পান ঘেরা রাঙামাটির যে সৌন্দর্য গানের কথায় ফুটে উঠেছে, প্রভার প্রকাশ করা ছবিতেও যেন সেই দৃশ্যেরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি দেখা গেছে। রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই লেক। বিশাল এই জলরাশির চারপাশে সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের মেলবন্ধন পর্যটকদের বরাবরই টানে। নৌকায় লেক ভ্রমণের সময় প্রকৃতির এমন মনোরম দৃশ্য উপভোগ করেছেন প্রভাও। প্রকাশিত ছবিগুলোতে তার স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি এবং প্রকৃতির প্রতি মুগ্ধতা নজর কেড়েছে ভক্তদের। অভিনয়ের ব্যস্ততার বাইরে এমন ভ্রমণ যে তাকে বেশ প্রশান্তি দিয়েছে, তার লেখাতেও মিলেছে সেই ইঙ্গিত। ‘রাঙা মাটির রঙে চোখ জুড়ালো’ গানটি গেয়েছেন নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী। গানটির কথা লিখেছেন মনিরুজ্জামান মনির এবং সুর করেছেন আলাউদ্দিন আলী। রাঙামাটির প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাপনের সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে গানটি দীর্ঘদিন ধরেই শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়। পাহাড়ের সবুজ, লেকের নীল জল আর নৌকার দুলুনিতে প্রভার রাঙামাটি ভ্রমণের ছবিগুলোতেও যেন সেই চেনা রাঙামাটির সৌন্দর্য নতুন করে ধরা দিয়েছে।   এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

জামালপুরে অবৈধ শেখ ব্রিকসের চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

জামালপুরে অবৈধ শেখ ব্রিকসের চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় আরও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন

নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় আরও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন

0 Comments