জাতীয়

আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি তার ও স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এসব তথ্য জানান।

এর আগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা।

এছাড়া তদন্তে আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

এই তিনজন হলেন আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল। তাদের নামে যথাক্রমে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।

দুদক জানায়, জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ওই ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার রয়েছে।

এদিকে, আনিসুল হক ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। এসব হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আনিসুল হক, জেবুন্নেসা বেগম হক কলি, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইকবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে । 

এসএম/এমকেআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলায় গায়ককে বাদ, প্রতিবাদে সরে গেলেন সহশিল্পীরা
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলায় গায়ককে বাদ, প্রতিবাদে সরে গেলেন সহশিল্পীরা

মঞ্চে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলার পর মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলেমোরকে এড শিরানের ‘লুপ’ সফর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এবার তার প্রতি সংহতি জানিয়ে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এড শিরানের আরও চার সহশিল্পী। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিলি আইলিশের ভাই ও সংগীতশিল্পী ফিনিয়াস, আইরিশ গায়ক অ্যারন রো, ডেনমার্কের ব্যান্ড লুকাস গ্রাহাম এবং আইরিশ লোকসংগীতের দল বেওগা। ঘটনার সূত্রপাত ৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের কনসার্টে। সেখানে অতিথি শিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠে ম্যাকলেমোর ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। এরপর তিনি তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন। গানটির সময় গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভিডিওচিত্রও দেখানো হয়। এরপর ম্যাকলেমোরকে সফরের পরবর্তী আয়োজনগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়। এড শিরান পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এই সিদ্ধান্ত তার নেওয়া নয়। তার ভাষ্য, সফরের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ভেন্যুগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিরান আরও বলেন, গাজা নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কে জড়াতে চান না তিনি। সংঘাত নিয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত থাকলেও নিজের সংগীতের মঞ্চকে রাজনৈতিক বিতর্কের জায়গা হিসেবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান এই ব্রিটিশ তারকা। একই সঙ্গে ম্যাকলেমোর নিজের বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলার সাহসকে সম্মান করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিরানের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একে একে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন অন্য শিল্পীরা। ফিনিয়াস জানান, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণে শিল্পীদের চুপ করিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তিনি এড শিরানের আসন্ন সফরের নির্ধারিত পরিবেশনা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। আইরিশ গায়ক অ্যারন রো-ও সফর থেকে সরে দাঁড়ান। অন্যদিকে লুকাস গ্রাহাম বলেন, যুদ্ধ, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠার অধিকার নিয়ে শিল্পীদের কথা বলার সুযোগ থাকা উচিত। এড শিরানের দীর্ঘদিনের সঙ্গী আইরিশ ব্যান্ড বেওগাও সফরের বাকি অংশ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে। দলটির সদস্যরা জানান, সংগীতশিল্পী হিসেবে দর্শকদের সামনে পরিবেশনা করা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মত প্রকাশের কারণে কোনো শিল্পীকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয় এমন পরিবেশে তারা মঞ্চে থাকতে চান না। এদিকে ম্যাকলেমোরও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। সফর থেকে বাদ পড়ার পর তিনি জানান, ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলার জন্য পাওয়া মঞ্চগুলো তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ঘটনাটি এখন এড শিরানের ‘লুপ’ সফরকে ঘিরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকায় সফরের আরও পরিবেশনা রয়েছে; তবে পরবর্তী আয়োজনগুলোতে সহশিল্পীদের পরিবর্তে কারা থাকবেন, তা নিয়ে এখনো নতুন ঘোষণা আসেনি।   এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালাল চক্রের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালাল চক্রের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ৬ টুকরো, গুম করতে নদীতে ফেলা হয় খণ্ডিত মরদেহ

বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ৬ টুকরো, গুম করতে নদীতে ফেলা হয় খণ্ডিত মরদেহ

সাদা চুল কালো করে পালাচ্ছিলেন আসামি, এরপর যেভাবে ধরা পড়লেন

সাদা চুল কালো করে পালাচ্ছিলেন আসামি, এরপর যেভাবে ধরা পড়লেন

বাড্ডা-বনানীতে অটোরিকশাচালক ও গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বাড্ডা-বনানীতে অটোরিকশাচালক ও গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর বাড্ডা ও বনানী থানা এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় এক অটোরিকশাচালক ও এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে এ দুটি ঘটনা ঘটে। বনানী থানার কড়াইল জামাই বাজার এলাকার এরশাদ মাঠসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে সিরাজুল ইসলাম (৪৩) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নরসিংদীর বেলাবো থানার বীরবাঘবের গ্রামের মৃত কালু মিয়ার ছেলে। পরিবার নিয়ে জামাই বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে জামাই বাজার এলাকার একটি বাসার দরজা ভেঙে সিরাজুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক সমস্যা ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। নিহতের বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সিরাজুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী বাইরে একটি রেস্টুরেন্টে কাজে ছিলেন। বাসায় কেউ না থাকায় নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, বাড্ডা থানার উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা স্মরণী এলাকার একটি বাসা থেকে চাঁদনী আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা স্মরণী এলাকার একটি বাসার দরজা ভেঙে চাঁদনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের জেরে চাঁদনী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহতের স্বামী রিয়াজ উদ্দিন জানান, প্রায় ২০ দিন আগে তার স্ত্রী ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে ভাই ও ভাবির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার ঝগড়া হয়। পরে বাসায় ফিরে আসার পরও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললে তিনি রেগে যেতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে অভিমান করে নিজ কক্ষে চলে যান। পরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। রিয়াজ উদ্দিন জানান, চাঁদনীর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ওলিপুর গ্রামে। তার বাবা মৃত আবু তাহের মুন্সি। রিয়াজের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ভাবুকদিয়া গ্রামে। তারা বর্তমানে উত্তর বাড্ডার তা-সরণী রোডের নাজির হোসেনের বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। কেএজেডআইএ/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি, মূল্যস্ফীতিতেও স্বস্তি: মাহদী আমিন

গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি, মূল্যস্ফীতিতেও স্বস্তি: মাহদী আমিন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগে নতুন সভাপতি নিয়োগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগে নতুন সভাপতি নিয়োগ

বুকের দুধ শ্বাসনালীতে আটকে প্রাণ গেল ৮ মাসের শিশুর

বুকের দুধ শ্বাসনালীতে আটকে প্রাণ গেল ৮ মাসের শিশুর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আহ্বান যুবদলের
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আহ্বান যুবদলের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের প্রতিটি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর আইপিএইচ মসজিদের সামনে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঘোষিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে যুবদলের নেতাকর্মীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, সাত দিনের কর্মসূচি দিয়ে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো যেতে পারে। দায়িত্বশীল নেতাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভাগ করে দিয়ে নিয়মিত মানুষের কাছে গিয়ে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আরও পড়ুন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব / মন্ত্রী কিংবা সাধারণ মানুষ-মশা কাউকে চেনে না, ৫ মিনিট দেওয়ার আহ্বান তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়টি সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরসহ ডেঙ্গুর প্রকোপের পুরো সময়জুড়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে এই কর্মসূচিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো এককালীন কর্মসূচির বিষয় নয়; সুস্থ থাকতে হলে সারা বছরই মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। যদি আমরা সুস্থ থাকতে চাই, তাহলে প্রতিদিনই আমাদের সচেতন হতে হবে। আর ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে শুধু যুবদলের কর্মসূচি হিসেবে না দেখে দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হিসেবে পালনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজের তৈরি আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জমে থাকা পানিকে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। নুরুল ইসলাম নয়ন আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। জনসচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। যুবসমাজকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করতেই যুবদলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। কেএইচ/এমএমকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
খুলনার হারানো গৌরব ফেরাতে চাই: তুষার ইমরান

খুলনার হারানো গৌরব ফেরাতে চাই: তুষার ইমরান

ইরানে ১৫ মিটার গভীর কূপে পড়ে গেল শিশু, জীবিত উদ্ধার

ইরানে ১৫ মিটার গভীর কূপে পড়ে গেল শিশু, জীবিত উদ্ধার

বেশির ভাগ অপরাধের মূলে রয়েছে মাদক–জুয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেশির ভাগ অপরাধের মূলে রয়েছে মাদক–জুয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments