জাতীয়

ডাকসু সংগ্রহশালা: ছবি বদলে কি ইতিহাস বদলানো যায়

D HASAN সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ডাকসু সংগ্রহশালা: ছবি বদলে কি ইতিহাস বদলানো যায়
ডাকসু সংগ্রহশালা: ছবি বদলে কি ইতিহাস বদলানো যায়

প্রশ্নটা খুব সহজ। দেয়াল থেকে একজনের ছবি নামিয়ে সেখানে আরেকজনের ছবি টাঙিয়ে দিলে কি একটি জাতির ইতিহাস নতুন করে লেখা যায়? ডাকসু সংগ্রহশালার সাম্প্রতিক ‘সংস্কার’ ঠিক এ প্রশ্নকেই আমাদের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

ডাকসু সংগ্রহশালায় বেশ কিছুদিন ধরে সংস্কার চলছিল। অবশেষে গত রোববার সংগ্রহশালা যখন খুলল, দেখা গেল, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ—প্রায় প্রতিটি পর্ব থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের আগের উপস্থিতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মুক্তিসংগ্রামের আরও বেশ কিছু স্মারকেরও অবস্থান বদল হয়েছে, সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। যুক্ত হয়েছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি, যার একটি ১৯৪৮ সালের সেই ভাষণের মুহূর্তের, যেখানে তিনি উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় ভাষা আন্দোলনের জন্ম, ঠিক সেখানেই ভাষা-প্রশ্নে বাংলা জনপদের প্রথম প্রতিপক্ষকে সম্মানের আসন দেওয়া নিছক অসতর্কতা নয়; এটি একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক বার্তা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটিকে স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও প্রশ্ন-উদ্বেগগুলো তাতে মিলিয়ে যায় না।

প্রথম উদ্বেগটি ঐতিহাসিক। শেখ মুজিব বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি—এ সত্য প্রশ্নাতীত ও অমোচনীয়। ইতিহাসে শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানীসহ আরও অনেকের অবদান আছে; কিন্তু দ্বিধান্বিত জাতিকে চূড়ান্ত মুক্তির দিকে নেতৃত্ব দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছিলেন মুজিবই।

শেখ মুজিবের শাসনামল সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। একদলীয় বাকশাল, চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ, ভিন্নমত দমন কিংবা রক্ষীবাহিনীর নিপীড়নের জন্য তাঁকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। কিন্তু সমালোচনা আর অপসারণ এক জিনিস নয়। বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাস ১৯৭১ সালে শুরু হয়নি। সেই ইতিহাসে জিন্নাহ আছেন। কিন্তু মুজিব ও জিন্নাহ সময়, পরিপ্রেক্ষিত ও তাঁদের রাজনৈতিক ভূমিকার বিবেচনায় পরস্পরের প্রতিস্থাপনযোগ্য নন। মুজিবের জায়গায় জিন্নাহকে বসানোয় কোনো ‘ভারসাম্য’ তৈরি হয় না, বরং উল্টো—ইতিহাস নির্মাণের একটা স্থূল চেষ্টা প্রকাশিত হয়।

ছবি নামিয়ে-তুলে ইতিহাস লেখা যায় না। এভাবে কেবল নিজেদের রাজনৈতিক প্রকল্পটিই উন্মোচিত হয়, আর ধরা পড়ে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির দীনতা, যা ভাঙচুরকে বারবার ইতিহাস রচনা ভেবে বসে। মনে রাখবেন, সংগ্রহশালা টিকে থাকে, কিন্তু ক্ষমতার মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। দেয়ালের ছবি যিনি আজ বদলান, ইতিহাস একদিন তাঁকেও যথাস্থানে বসিয়ে দেবে।

জিন্নাহ পাকিস্তানের ইতিহাসের অনিবার্য চরিত্র, বাংলাদেশের অতীত বুঝতেও তিনি প্রাসঙ্গিক; কিন্তু এই ভূখণ্ডের মানুষের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে তিনি কোনো দিন দাঁড়াননি। তাঁকে সমালোচনামূলক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ছাড়া কেবল ছবি হিসেবে দেয়ালে তুলে দেওয়া মানে তাঁর ভূমিকাকে নীরবে বৈধতা দেওয়া। এটি নিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চা নয়, একটি বাছাই করা উল্টো-ভাষ্য।

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তীকালে জামায়াতসহ কিছু ডানপন্থী শক্তি ইতিহাসের এমন এক নতুন ভাষ্য নির্মাণে সক্রিয়, যা এই জাতির যাপিত অভিজ্ঞতার বিপরীত। এ ঘটনা তারই একটি প্রকাশ। প্রত্যেককে তার প্রাপ্য কৃতিত্ব ও প্রাপ্য সমালোচনা—দুটিই দিতে হয়। সেটাই ইতিহাসচর্চা। ছবি অদলবদল সেই চর্চা নয়।

দ্বিতীয় বিবেচনাটি একটু তাত্ত্বিক এবং খানিকটা পরিহাসেরও। ক্ষমতার জোরে ইতিহাসের কোনো অংশ মুছে ফেলার চেষ্টা, বাংলাদেশের মতো এমন নগ্নভাবে না হলেও অন্যান্য দেশেও বিভিন্ন সময় কমবেশি দেখা গেছে, যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে পরিষ্কার উপসংহার হলো, এই জবরদস্তি প্রায়ই উল্টো ফল দেয়। যাকে মুছতে চাওয়া হয়, সে বরং আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও শেখ মুজিবুর রহমান

সমাজ-মনোবিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, চাপিয়ে দেওয়া বিস্মৃতি জন্ম দেয় পাল্টা-স্মৃতির। ডাকসুতে ঠিক তা-ই ঘটল। মুজিবের ছবি নামিয়ে তাঁকে খর্ব করা যায়নি; বরং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে টেনে আনা হয়েছে। জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা, এর জায়গায় গোলাম আযমের জুতাপেটার ছবি সেঁটে দেওয়া—নিঃশব্দে মুছে ফেলার বদলে সংগ্রহশালা পরিণত হয়েছে এক জীবন্ত রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে।

ইতিহাস থেকে কাউকে জোর করে সরাতে গেলে সে শহীদের মর্যাদা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে অবশ্য নতুন করে সেই মর্যাদা আরোপের প্রয়োজন নেই। তিনি তো শহীদ হয়েছেনই। তিনি এই জাতির ইতিহাসে এক হিরণ্ময় ট্র্যাজিক হিরো। তাঁকে ডাকসু সংগ্রহশালার দেয়াল থেকে সরানোর চেষ্টা তাই সেই ট্র্যাজেডির অনুরণনকেই আরও গাঢ় করে তোলে। এটাই ‘আইকন’ ভাঙার চিরকালীন পরিহাস: ‘আইকন’ যত জোরে ভাঙা হয়, তার ছায়া তত দীর্ঘ হয়।

তৃতীয় প্রসঙ্গটি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির গভীরতর ব্যাধি নিয়ে। পঁচাত্তরের পর মুজিবকে মোছা হয়েছে, আবার শেখ হাসিনার পনেরো বছরে মুজিব বাদে বাকি সবাইকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। মোছা হয়েছে আরও অনেককে; আর এখন চলছে আরেক দফা মোছামুছি। প্রতিটি ক্ষমতার পালাবদল যেন পূর্বসূরিকে দেয়াল থেকে নামিয়ে দেওয়ার উৎসব।

নাম বদলে দাও, প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলো, ভাস্কর্য-স্মারক গুঁড়িয়ে দাও। রাজনীতিবিজ্ঞানের পরিভাষায় প্রতিপক্ষ আর শত্রুর মধ্যে একটা পার্থক্য টানা হয়। পরিণত গণতন্ত্র প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে না, তার বৈধতা স্বীকার করে নিয়ে সহাবস্থান করে।

আমাদের রাজনীতি এখনো প্রতিপক্ষকে শত্রুজ্ঞান করে মুছে ফেলতে চায়। অথচ পরিণত জাতি তার সব চরিত্রকে—কৃতিত্ব, কলঙ্কসহ ইতিহাসের একই ঘরে জায়গা দেয়। কাউকে দেবতাতুল্য বানায় না, কাউকে অস্তিত্বহীনও করে না। অপসারণ ও অস্বীকারের এই সংস্কৃতি স্মৃতি ও ঐতিহ্যের উদার সহনশীলতার ঠিক বিপরীত মেরু। প্রতিবার এটি আমাদের ইতিহাসকে আরও ভঙ্গুর করে তোলে।

সবশেষে প্রাতিষ্ঠানিক দায়। ডাকসু সংগ্রহশালা কোনো দল বা পরিষদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি জাতির ঐতিহাসিক আকর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত সম্পদ। এর মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, ডাকসুর নয়। ডাকসুর কাজ প্রশাসনকে সহায়তা করা, সমান্তরাল প্রশাসন গড়ে তোলা নয়। কোনো একটি পক্ষ রাতারাতি নিজের মর্জিমাফিক এমন ঐতিহাসিক সংগ্রহ ঢেলে সাজাতে পারে না।

আজ যদি এক পক্ষ পারে, কাল আরেক পক্ষও একই অধিকার দাবি করবে। আর সংগ্রহশালা পরিণত হবে দলীয় প্রচারবোর্ডে। এর বিকল্প হলো পেশাদার কিউরেশন, প্রামাণ্য তালিকাভুক্তি, উৎস যাচাই ও সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি; রাজনৈতিক খেয়ালখুশি নয়।

অনেকে যথার্থই বলছেন, ডাকসু ভবন রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিকৃতির গ্যালারি হওয়ার কথা নয়; বরং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থী, বরেণ্য শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ-গবেষণাগার-পাঠাগার, ক্যাম্পাস ও হলজীবনের ছবিই বেশি মানানসই। ডাকসু সংগ্রহশালা ডাকসু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেড়ে ওঠার সামগ্রিক উপস্থাপন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

তাহলে গোড়ার প্রশ্নের উত্তরে ফেরা যাক। ছবি নামিয়ে-তুলে ইতিহাস লেখা যায় না। এভাবে কেবল নিজেদের রাজনৈতিক প্রকল্পটিই উন্মোচিত হয়, আর ধরা পড়ে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির দীনতা, যা ভাঙচুরকে বারবার ইতিহাস রচনা ভেবে বসে। মনে রাখবেন, সংগ্রহশালা টিকে থাকে, কিন্তু ক্ষমতার মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। দেয়ালের ছবি যিনি আজ বদলান, ইতিহাস একদিন তাঁকেও যথাস্থানে বসিয়ে দেবে।

  • কাজী মারুফুল ইসলাম অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    মতামত লেখকের নিজস্ব

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

জাতীয়

View more
ডিএমপি নিউজ পোর্টালে আপত্তিকর রাজনৈতিক বার্তা, হ্যাকের সন্দেহ
ডিএমপি নিউজ পোর্টালে আপত্তিকর রাজনৈতিক বার্তা, হ্যাকের সন্দেহ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ডিএমপি নিউজ’-এর ওয়েবসাইটে আপত্তিকর রাজনৈতিক বার্তা ও সহিংসতার ছবি দেখা গেছে। এতে সাইটটি সাইবার হামলা বা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

D HASAN নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে জামায়াতের লংমার্চ ফেরত বাস, নিহত ১

পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে জামায়াতের লংমার্চ ফেরত বাস, নিহত ১

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২ ডিসেম্বর, ফল ৩১ ডিসেম্বর

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২ ডিসেম্বর, ফল ৩১ ডিসেম্বর

ধানমন্ডিতে ছুরিকাঘাতে সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী নিহত, গ্রেফতার ছেলে

ধানমন্ডিতে ছুরিকাঘাতে সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী নিহত, গ্রেফতার ছেলে

রাজধানীর পল্টনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক আহত
রাজধানীর পল্টনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক আহত

রাজধানীর পল্টনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক রিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চালকের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

D HASAN নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
সংগঠিত, দক্ষ ও অঙ্গীকারবদ্ধ যুবসমাজ দেশের মূল্যবান সম্পদ: রাষ্ট্রপতি

সংগঠিত, দক্ষ ও অঙ্গীকারবদ্ধ যুবসমাজ দেশের মূল্যবান সম্পদ: রাষ্ট্রপতি

প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে আবেগ, এইচএসসির ফল প্রকাশের পরও ক্যাম্পাসে উৎসব

প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে আবেগ, এইচএসসির ফল প্রকাশের পরও ক্যাম্পাসে উৎসব

যুবসমাজ জাতির অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যুবসমাজ জাতির অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

0 Comments