জাতীয়

চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাড়ছে কোমল পানীয়র বাজার

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ। বদলে যাওয়া আড্ডার ধরন আর ক্রমাগত নগরায়ণের হাত ধরে দেশের কোমল পানীয়র চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। একসময় কোমল পানীয় মানেই ছিল পারিবারিক অনুষ্ঠান বা অতিথি আপ্যায়নের অনুষঙ্গ; এখন বন্ধুদের আড্ডা, অফিসের বিরতি কিংবা যেকোনো করপোরেট আয়োজন আর গেট টুগেদারে কোমল পানীয়, জুস বা এনার্জি ড্রিংকের উপস্থিতি যেন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কোমল পানীয়র বাজার, যা ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে কয়েক বছর হলো। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নগরায়ণ ও তরুণ প্রজন্মের বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার হাত ধরে পাঁচ বছরের মধ্যে এই খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বিশাল সম্ভাবনার পাশাপাশি খাতটি নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বারবার করনীতি পরিবর্তনের ফলে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ পড়ছে, এতে এ খাতের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে ঘোরাফেরা করছে।

এর সঙ্গে বৈশ্বিক উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, দেশের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা এবং জ্বালানিসংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বাড়ায় উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। কনসেনট্রেট, কিছু খাদ্য উপাদান এবং প্যাকেজিং–সামগ্রী এখনো আমদানির ওপর ভর করেই চলছে।

একই সঙ্গে দেশের ভেতরেও চিনি, পিইটি বোতল, ক্যাপ, কার্টন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে; তবে ক্রেতার সক্ষমতায় দাম বাড়ানোর সুযোগ বরাবরের মতো রয়েছে সীমিত।

গেল চার বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভোক্তার নাগালের মধ্যে কোমল পানীয় রাখতে এ খাত–সংশ্লিষ্টদের মান ও খাদ্যনিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

ছোট ও সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বাজারজাত করে আর উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়িয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে বাজারে টিকে থাকতে হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রুচি ও চাহিদা মাথায় রেখে নতুন স্বাদ, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং এবং উদ্ভাবনী পণ্য তৈরির সুযোগও দেখছেন খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) কাজী মো. মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের কোমল পানীয় ও বেভারেজ শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা যথেষ্ট শক্তিশালী। বিশাল জনগোষ্ঠী, তরুণ ভোক্তাশ্রেণি, নগরায়ণ এবং পরিবর্তিত জীবনযাত্রা এ বাজারের প্রবৃদ্ধির বড় ভিত্তি।

তবে বর্তমানে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ—দুই দিক থেকেই শিল্পটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বাজারে টিকে থাকতে কী করতে হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ছোট ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যেখানে সম্ভব স্থানীয় কাঁচামাল ও প্যাকেজিং–সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ভোক্তাদের জন্য নতুন স্বাদ, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং এবং পরিবর্তিত চাহিদার উপযোগী পণ্য তৈরিতে উদ্ভাবনের বড় সুযোগ রয়েছে।

বাধা করকাঠামো

কোমল পানীয়র বাজার সম্প্রসারণ হতে হতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা ও আড্ডার ধরনের কারণে বোতলজাত পানি, কার্বোনেটেড পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, দুগ্ধজাত পানীয় ও চা-কফির মতো বৈচিত্র্যময় পণ্যের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

অতীতে বছরে গড়ে ২০ শতাংশ হারেও এ খাতের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করনীতি কাঠামো বারবার বদলে দিয়ে যেমন এ খাতের প্রবৃদ্ধি আটকে দিয়েছে, তেমনি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ের হালচিত্রেও।

বর্তমানে কোমল পানীয় থেকে সরকার নানাভাবে রাজস্ব আদায় করে থাকে। সবচেয়ে বেশি আদায় হয়ে থাকে মূল্য সংযোজন কর মূসক বা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক থেকে।

ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক থেকে আদায়ের তথ্য বলছে, এনবিআর ২০২০-২১ অর্থবছরে কোমল পানীয় খাতে রাজস্ব আদায় করেছে ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ১৪৪ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৫৩৩ কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।

উচ্চ সম্পূরক শুল্ক সত্ত্বেও রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি না হয়ে উল্টো কমে যাওয়ার মূলে ছিল ওই অর্থবছরে টার্নওভার কর দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা। টার্নওভার কর বোঝায় ন্যূনতম কর। প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হোক বা না হোক, বার্ষিক বিক্রির ওপর ৩ শতাংশ হারে বাড়তি কর দিয়ে যেতে হবে। এতে এ খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে ভাটা দেখা যায়।

এনবিআর ওই সময়ে করছাড় না দিয়ে উল্টো রাজস্ব আদায় বাড়াতে সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়। এতে মোট করভার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ হার ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩০ শতাংশের মতো, নেপালে ৩৮ শতাংশের মতো এবং ভুটানে ৩০ শতাংশ রয়েছে কেবল।

পরে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে টার্নওভার কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে আড়াই শতাংশ করা হয়।

মানসম্পন্ন পণ্য লক্ষ্য

কোমল পানীয় উৎপাদনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ বেভারেজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ১৩০টির বেশি কোম্পানি দেশে পানি, কোমল পানীয় ও অন্যান্য বেভারেজ তৈরি করছে, যার বাজার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী দিনগুলোতে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ আরও বাড়বে; এতে কোমল পানীয়র জ্যামিতিক হারে বাড়বে চাহিদাও। এই প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকে দেশি ও আন্তর্জাতিক বেভারেজ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বাড়াচ্ছে। এ খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

দেশে বর্তমানে পেপসিকো ও কোকা-কোলার মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ট্রান্সকম বেভারেজেস, প্রাণ, আব্দুল মোনেম, মেঘনা ও আকিজ ভেঞ্চারের মতো দেশীয় কোম্পানিগুলোও বাজারে নিজেদের অবস্থান দিন দিন শক্ত করছে।

নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাজার সম্ভাবনায় এমজিআইর সিএমও কাজী মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের বৃহৎ ও তরুণ ভোক্তাবাজার এ খাতের অন্যতম বড় শক্তি। দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানসম্পন্ন পণ্য সাধারণ ভোক্তার নাগালের মধ্যে রাখা।’

এ শিল্পের সম্ভাবনা সামনে রেখে সহায়ক নীতিকাঠামো তৈরি ও ঘন ঘন করকাঠামো পরিবর্তন না করার পরামর্শ খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। না হলে চাহিদা বাড়লেও বিনিয়োগ ও সরবরাহ সক্ষমতা সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে না বলে শঙ্কা তাদের।

শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং বিনিয়োগবান্ধব একটি কর পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এ খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি হবে এবং এতে বাড়তি রাজস্ব আদায় হবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয়

View more
ভুটানে হিমবাহের হ্রদ উপচে বন্যার শঙ্কা
ভুটানে হিমবাহের হ্রদ উপচে বন্যার শঙ্কা

ভুটানে হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ উপচে মো চু (সঙ্কোশ) নদীব্যবস্থায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৩০, ২০২৬ 0
পাবনায় গুলিতে নিহত একজন শ্রমিক দল ও অন্যজন শ্রমিক লীগ নেতা

পাবনায় গুলিতে নিহত একজন শ্রমিক দল ও অন্যজন শ্রমিক লীগ নেতা

আলোচিত পাঁচ সিনেমার প্রস্তাব ফেরান রামায়ণের সাই পল্লবী

আলোচিত পাঁচ সিনেমার প্রস্তাব ফেরান রামায়ণের সাই পল্লবী

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে, ঘোষণা আগামী সপ্তাহে

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে, ঘোষণা আগামী সপ্তাহে

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চার দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

News অক্টোবর ৩০, ২০২৬ 0
হরর সিরিজে বাজিমাত, ১১ দিনে ১৩০ কোটি মিনিট ভিউ

হরর সিরিজে বাজিমাত, ১১ দিনে ১৩০ কোটি মিনিট ভিউ

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ছেন ক্রিস্টিন লাগার্দ

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ছেন ক্রিস্টিন লাগার্দ

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের সময় বাড়াল জাতিসংঘ

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের সময় বাড়াল জাতিসংঘ

শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক হাসনাত আবদুল্লাহর
শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক হাসনাত আবদুল্লাহর

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, জননিরাপত্তাহীনতা, হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

News অক্টোবর ৩০, ২০২৬ 0
বাবার পেশা মাছ ধরা, লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা

বাবার পেশা মাছ ধরা, লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে: ইসি সচিব

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে: ইসি সচিব

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুলকালাম, সংঘর্ষে আহত একাধিক আইনপ্রণেতা

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুলকালাম, সংঘর্ষে আহত একাধিক আইনপ্রণেতা

0 Comments