জাতীয়

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা: ’৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা: ’৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা: ’৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস বইটি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতিকথা। এটি শুধু জামায়াতের ১৯৭১ সালের ভুলগুলোর বিবরণ নয়; এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গোপনীয় রাজনৈতিক দলগুলোর একটি কীভাবে পরিচালিত হয় এবং স্বাধীনতার পর থেকে দলটির নেতৃত্বকে প্রভাবিত করা বিভিন্ন যুক্তি ও বিতর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছে, তার একটি বিরল ও অকপট চিত্র তুলে ধরে। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতিকথা নিয়ে লিখেছেন ডেভিড বার্গম্যান

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ৩৩ বছরের সম্পর্ক নিয়ে দলটির সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাকের মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় তিনি কোনো রাখঢাক করেননি। দলের একসময়কার গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, দলের নেতৃত্ব ‘বেশ কয়েকটি নীতিগত ভুল ও মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে এবং এখন দলটি ‘অস্তিত্বের সংকটে’ পড়েছে।

সম্ভবত আবদুর রাজ্জাক এ মূল্যায়ন করেছিলেন ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অনেকটাই অপ্রত্যাশিত গণ–অভ্যুত্থানের আগে। ওই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পুনরুত্থানের পথ তৈরি হয়।

দুঃখজনকভাবে, রাজ্জাক ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যানসারে মারা যান। ফলে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের অভূতপূর্ব সাফল্য তিনি দেখে যেতে পারেননি। ওই নির্বাচনে দলটি ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে ৬৮টি আসন লাভ করে। দলের ইতিহাসে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সাফল্য। ফলে অন্তত রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের জন্য অস্তিত্বের কোনো সংকট দেখা যায়নি। কিন্তু আবদুর রাজ্জাক যে ‘ভুলগুলো’র কথা বলেছেন, সেগুলো কী?

এর কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি বিষয়। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি জামায়াতের সমর্থন না দেওয়া; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ওই যুদ্ধে নিজেদের ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়া।

প্রশ্ন হলো, দলের বর্তমান রাজনৈতিক সাফল্যের পরও এই ‘ভুলগুলো’ কি আগামী দিনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর জন্য দুর্বলতার জায়গা হয়ে থাকবে? নাকি ২০২৪ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা জামায়াতকে তার অতীতের এসব প্রশ্নের রাজনৈতিক অভিঘাত থেকে কার্যত মুক্ত করে দিয়েছে?

প্রথম ভুলটির বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জনগণের মনোভাব বুঝতে জামায়াতের নেতৃত্ব ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘জামায়াত ছয় দফার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার পরপরই বাঙালির স্বার্থবিরোধী এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থের পক্ষে থাকা একটি শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।’

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো নতুন সংসদ বর্জনের ঘোষণা দেন। আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, সে সময় জামায়াত প্রথম দিকে ‘জনগণের পক্ষে’ ছিল।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক

তৎকালীন দলীয় নেতা গোলাম আযম একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে ‘সংবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের’ জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২৬ মার্চ সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর ‘জামায়াত তার অবস্থান পুরোপুরি পাল্টে ফেলে এবং সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে’।

রাজ্জাকের মতে, জামায়াতের এ অবস্থান তাদেরই আগের একটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের শুরা আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে কিংবা সেনাবাহিনী দমন-পীড়ন শুরু করলে ‘জামায়াত কোনো পক্ষকেই সমর্থন করবে না’।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে জামায়াতের সমর্থনের সমালোচনায় আবদুর রাজ্জাক ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। তিনি স্বীকার করেছেন, ওই বাহিনী ‘বাঙালি জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছিল’। তাঁর মতে, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে নিজেদের আলাদা করতে’ জামায়াতের ব্যর্থতা ছিল ‘অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী’।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে ধর্ষণ করেছে, তার কোনোভাবেই সাফাই দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু এই একটি বিষয় বিবেচনা করলেও জামায়াতের উচিত ছিল সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া।’

# প্রথম ভুলটির বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জনগণের মনোভাব বুঝতে জামায়াতের নেতৃত্ব ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।# ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে জামায়াতের সমর্থনের সমালোচনায় আবদুর রাজ্জাক ছিলেন অত্যন্ত কঠোর।

জামায়াতের তৃতীয় ভুল ছিল স্বাধীনতার পর নিজেদের ভুলের মুখোমুখি না হওয়া এবং এর জন্য ক্ষমা না চাওয়া। নেতৃত্বকে এ বিষয়ে রাজি করাতে আবদুর রাজ্জাক যে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তার বিবরণ পুরো বইয়েই রয়েছে। সাবেক এই দলীয় নেতা লিখেছেন, ‘জামায়াত কেন এই বিষয়টির মোকাবিলা করেনি, তা বোধগম্য নয়।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালে নিজেদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে জামায়াত কেন কোনো বিস্তারিত ও যুক্তিনির্ভর বিবৃতি দেয়নি, সেটিও সমানভাবে বিস্ময়কর। অথচ এ বিষয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে বহু বই লেখা হয়েছে।’

প্রথম উদ্যোগটি নেওয়া হয় ১৯৯৪ সালের জুনে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বহাল রাখার পরপরই। একটি কমিটি গোলাম আযমের জন্য একটি বক্তব্য তৈরিতে তাঁকে সহায়তা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় নেতা শুধু বলেছিলেন, ‘অতীতে আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করবেন।’

এ বিষয়ে রাজ্জাক লিখেছেন, ‘অধ্যাপক আযমের বক্তব্য কোনোভাবেই ক্ষমা প্রার্থনা হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো ছিল না। বরং গুরুতর একটি বিষয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে এটি ছিল দায়সারা একটি প্রচেষ্টা।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো

এরপর আরেকটি সুযোগ আসে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের সাফল্যের পর। সে সময় রাজ্জাক জামায়াতকে ১৯৭১ সালের বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য উদ্যোগী হন। একটি খসড়া বিবৃতিও তৈরি করা হয়েছিল। এতে ‘একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে জামায়াতের সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছিল এবং ১৯৭১ সালে দলটির রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছিল’।

জামায়াতের তিন নেতা—আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এ প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন। পরে ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তাঁদের তিনজনেরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। কিন্তু তত দিনে জামায়াতের নেতা হয়ে যাওয়া মাওলানা নিজামী তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেন। ফলে ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি।

এর চার বছর পর, ২০০৫ সালের অক্টোবরে জামায়াতের ওয়ার্কিং কমিটিতে আবারও বিষয়টি ওঠে। এবারও প্রস্তাবটি ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

রাজ্জাক লিখেছেন, ‘যাঁরা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের যুক্তি ছিল বিভিন্ন ধরনের।’ তিনি এর পক্ষে দেওয়া তিনটি প্রধান যুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রথমত, দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখার পক্ষে জামায়াতের অবস্থানে কোনো ভুল ছিল না।

দ্বিতীয়ত, ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা ছিল যৌক্তিক।

তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা জামায়াতের কোনো ক্ষমা প্রার্থনাই কখনো মেনে নেবে না।

১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার জন্য নিজের দলকে দিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর যে চেষ্টা আবদুর রাজ্জাক ২০১৯ সাল পর্যন্ত চালিয়ে গেছেন, তার জন্য তাঁকে প্রশংসা করা যেতে পারে। তবে তিনি সফল হলেও সেই ক্ষমা প্রার্থনা হতো সীমিত পরিসরের। কারণ, জামায়াত ও এর ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার যে অভিযোগ রয়েছে, সেই অপরাধগুলোর দায় সেই ক্ষমা প্রার্থনার আওতায় আসত না।

প্রকৃতপক্ষে, পুরো বইয়ে কোথাও আবদুর রাজ্জাক স্বীকার করেননি যে ১৯৭১ সালে জামায়াত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এর সঙ্গে নিঃসন্দেহে তাঁর নিজের ভূমিকারও সম্পর্ক রয়েছে।

স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি জামায়াতের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দলের কয়েকজন নেতার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন।

# ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে ধর্ষণ করেছে, কোনোভাবেই তার সাফাই দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু এই একটি বিষয় বিবেচনা করলেও জামায়াতের উচিত ছিল সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া।’# রাজ্জাক মনে করেন, তিনি যদি জামায়াতের নেতৃত্বকে ১৯৭১ সালের অতীতের মুখোমুখি করাতে সফল হতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ হয়তো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলা শুরু করত না।

মজার বিষয় হলো, রাজ্জাক মনে করেন, তিনি যদি জামায়াতের নেতৃত্বকে ১৯৭১ সালের অতীতের মুখোমুখি করাতে সফল হতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ হয়তো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলা শুরু করত না। সে ক্ষেত্রে ২০১০ সালের তৎকালীন জামায়াত নেতৃত্বের মৃত্যুদণ্ডও হয়তো এড়ানো সম্ভব হতো

২০১৯ সালে আবদুর রাজ্জাক জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭১ সালের বিষয়টি মোকাবিলা করতে দলের ব্যর্থতা ছিল তাঁর পদত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ।

তবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও দলের সংস্কারে ব্যর্থতা, বিশেষ করে নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত না করার বিষয়টিও তাঁর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল। তত দিনে রাজ্জাক লন্ডনে নতুন জীবন গড়ে তুলেছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাতে নিজে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন।

জামায়াত থেকে পদত্যাগের পর তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেন। তাঁর আশা ছিল, দলটি ‘ইসলামিক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ‘ইসলামি মূল্যবোধ ও নীতির ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগ দেবে।

কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দলটির প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। কারণ, তাঁর মতে, দলের কর্মসূচিতে ইসলামি মূল্যবোধ ও নীতিকে যথেষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

আকারে ছোট এই বইটি শুধু জামায়াতের ১৯৭১ সালের ভুলগুলোর বিবরণ নয়। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গোপনীয় রাজনৈতিক দলগুলোর একটি কীভাবে পরিচালিত হয় এবং স্বাধীনতার পর থেকে দলটির নেতৃত্বকে প্রভাবিত করা বিভিন্ন যুক্তি ও বিতর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছে, তার একটি বিরল ও অকপট চিত্র তুলে ধরে।

এখন জামায়াত জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক বিরোধী দল এবং এর ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। কিন্তু রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দলটিকে কি তার অতীতের বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে—কোনো ঐতিহাসিক ভুলের দায় স্বীকার না করেই—তা এখনো অনিশ্চিত।

(আবদুর রাজ্জাকের লেখা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় লেকশোর গ্র্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। বইটির প্রকাশক ইউপিএল। অনুষ্ঠানে একাধিক বক্তা অংশ নেবেন।)

  • ডেভিড বার্গম্যান সাংবাদিক

    ফেসবুক অ্যাকাউন্ট: david.bergman.77377

    ইংরেজি থেকে অনূদিত

    *মতামত লেখকের নিজস্ব

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মাটির পণ্যে নান্দনিকতা, ফিরছে পালদের হারানো মৃৎশিল্প
মাটির পণ্যে নান্দনিকতা, ফিরছে পালদের হারানো মৃৎশিল্প

প্রথম দেখায় বোঝার উপায় নেই এগুলো মাটির তৈরি। নকশা করা থালা, বাটি, কাপ-পিরিচ, মগ, ফুলদানি ও ফুলের টব সাজানো রয়েছে কারখানাজুড়ে। সামনের খোলা উঠানে কিছু পণ্য শুকানো হচ্ছে, আবার কিছু নেওয়া হচ্ছে পাশের চুল্লিতে পোড়ানোর জন্য। ঘরের ভেতরে চলছে মেশিনের শব্দ, কারিগরদের কাজ আর পণ্যে রঙের প্রলেপ দেওয়ার ব্যস্ততা।গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামের একটি কারখানায় গিয়ে দেখা গেল এমন দৃশ্য। আধুনিক যন্ত্র ও ছাঁচের সাহায্যে তৈরি এসব মাটির পণ্যের গড়নও বেশ সুন্দর। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রযুক্তিগত সহায়তায় এখানে তৈরি হচ্ছে থালা, বাটি, কাপ-পিরিচ, মগ, জগ, বোতল, ফুলদানি, ফুলের টব, টেরাকোটাসহ নানা পণ্য।একসময় মাটির তৈজসপত্র তৈরি ছিল পাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পেশা। কম দাম ও বাজারের পরিবর্তনের কারণে অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যান। মাঝিয়াড়ায় এখন আধুনিক পদ্ধতিতে সেই পেশাতেই ফিরছেন কেউ কেউ।কারখানার ভেতরে মেশিনের সাহায্যে মাটি প্রস্তুত করে ঘুরন্ত চাকের মতো একটি যন্ত্রে থালার আকৃতি দিচ্ছিলেন কারুশিল্পী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই ঘুরতে থাকা যন্ত্রকে জিগার মেশিন বলে। এখানে ছয়টা জিগার মেশিন আছে। আমি তিন বছর ধরে এখানে কাজ করি। এখন সব কাজ শিখে গেছি।’মাটির তৈরি থালায় রঙের প্রলেপ দিচ্ছেন এক নারী শ্রমিক। গতকাল সকালে তালা উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামেকারিগরদের ভাষ্য, খালবিল থেকে মাটি সংগ্রহ করে মেশিনে তা ছেঁকে ছোট ছোট দলায় পরিণত করা হয়। এরপর ছাঁচে বসিয়ে জিগার মেশিনে ঘুরিয়ে তৈরি করা হয় নির্দিষ্ট আকৃতির পাত্র। পাত্রগুলো শুকানোর পর দেওয়া হয় রঙের প্রলেপ। সবশেষে সেগুলো পোড়ানো হয় চুল্লিতে।শুকনো মাটির থালায় রঙের প্রলেপ দিচ্ছিলেন অর্চনা পাল। একে একে থালাগুলো তরল মিশ্রণে ডুবিয়ে তুলছিলেন তিনি। অর্চনা বলেন, ‘কাজ আমি দেখে দেখে শিখেছি। মিশ্রণে খয়ের, সোডা, রংমাটি আর পানি আছে।’মৃৎশিল্পী নমিতা পাল বলেন, ‘আগে হাত-পা দিয়ে মাটি প্রস্তুত করতাম। এখন মেশিনে করছি। বিভিন্ন ডিজাইনের ছাঁচে পণ্য উৎপাদনে সময় কম লাগে। পরিশ্রমও কম। সবচেয়ে বড় কথা, পণ্যের ফিনিশিং ভালো হচ্ছে। দামও ভালো পাচ্ছি।’খোলা চত্বরে তৈরি পণ্য শুকানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন ললিতা পাল। তিনি বলেন, ‘আমরা আবার আমাদের পাল সম্প্রদায়ের পুরোনো পেশা ফিরে পেয়েছি। আমার ঠাকুরদা মাটির জিনিসপত্র বানাতেন। তাঁর মৃত্যুর পর বাড়ির আর কেউ এই পেশায় ছিলেন না। এখন আমি আবার এখানে এসে মাটির জিনিসপত্র বানাচ্ছি।’জিগার মেশিনে ঘুরিয়ে মাটির পাত্রের আকৃতি দিচ্ছেন এক মৃৎশিল্পী। গতকাল তালা উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামেকথা হয় ওই কারখানার মাঠে ঘাস কাটতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম সরদারের সঙ্গে। কথার ফাঁকে তিনি বলেন, ‘মাটির থালা-বাটি বানাতেও যে মেশিন হয়, এটা কল্পনাও করিনি। পাল বংশের লোকজন আগে হাতে তৈরি করত। এখন মেশিনে আরও সুন্দর হচ্ছে।’পণ্য পোড়ানোর জন্য কারখানার চত্বরে রয়েছে মাটি ও ইট দিয়ে তৈরি বড় গোলাকার চুল্লি। সেখানে থাকা একজন কর্মী বলেন, শুকনো পণ্য চুল্লিতে সাজানোর পর পরদিন সকালে হালকা আগুন দেওয়া হয়। কারিগরদের ভাষায় প্রাথমিক এই আগুনকে ‘তাওনা’ বলা হয়। পরে ধীরে ধীরে তাপ বাড়ানো হয়। সব মিলিয়ে পণ্য পোড়াতে সময় লাগে ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা।কারখানার এক নারী শ্রমিক বলেন, তাঁদের অনেকে মাসে প্রায় ছয় হাজার টাকা মজুরি পান। এই আয় দিয়ে তাঁরা সংসারের খরচ মেটাতে সহায়তা করেন।সাতক্ষীরা শহর থেকে কারখানায় পণ্য দেখতে এসেছিলেন আহসান রাজীব। তিনি বলেন, ‘শুনেছি দেশভাগের আগে কলকাতার বাজারে সাতক্ষীরার মাটির পণ্যের পরিচিতি ছিল। পরে সেই বাজার হারিয়ে যায়। এখন মানুষের আগ্রহ আবার বাড়ছে। মাটির এসব পণ্য ঘর সাজানো ও উপহার দেওয়ার জন্যও সুন্দর। মাটির জিনিসপত্রের প্রতি আমার আলাদা আকর্ষণ আছে, এখান থেকেই কিনে নিই।’কারখানার চত্বরে শুকানোর জন্য রাখা হয়েছে তৈরি করা মাটির পণ্য। গতকাল তালার মাঝিয়াড়া গ্রামেউদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন প্রচেষ্টার হয়ে কারখানাটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন চন্দ্র শেখর দাশ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আধুনিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন ও বিপণন করতে না পারায় পাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পেশাটি হারিয়ে যাচ্ছিল। এখন আধুনিক মেশিন ও ছাঁচে নানা ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এসব পণ্য যাচ্ছে, ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।’সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোরের একাংশের প্রায় ৬০০ পালকে সংগঠিত করে আধুনিক পদ্ধতিতে মাটির পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরিচালক শেখ ইয়াকুব আলী। তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের সহায়তায় কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কার্যক্রম চলছে। এখন পাল সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও যুক্ত হয়েছেন। পণ্য বিক্রি করে যে আয় ও লভ্যাংশ হচ্ছে, সেখান থেকেই শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হচ্ছে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিজে তালার মাঝিয়াড়া গ্রামে গিয়ে মৃৎশিল্পীদের কারখানা ও কাজ দেখে এসেছি। হারিয়ে যেতে বসা এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কাদামাটিকে নানা রূপ দিয়ে সেখানে নান্দনিক সব মাটির তৈজসপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেকোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা অবশ্যই তাঁদের পাশে দাঁড়াব।’

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন  

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন  

সিলেটে মাদ্রাসার দুই ছাত্র নিখোঁজের পর ভিডিও কলে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে টাকা দাবি

সিলেটে মাদ্রাসার দুই ছাত্র নিখোঁজের পর ভিডিও কলে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে টাকা দাবি

এমন ঘটনা ঘটেনি আর, একসঙ্গে সেদিন খেলেছিলেন তিন জোড়া ভাই

এমন ঘটনা ঘটেনি আর, একসঙ্গে সেদিন খেলেছিলেন তিন জোড়া ভাই

‘চোখের বালি’ নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার পাঠচক্র
‘চোখের বালি’ নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার পাঠচক্র

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী উপন্যাস ‘চোখের বালি’ নিয়ে পাঠচক্র করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।পাঠচক্রে বন্ধুরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে চরিত্র, সম্পর্কের টানাপোড়েন, নারীর অবস্থান, সামাজিক মূল্যবোধ এবং তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় ব্যক্তিমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।বক্তারা বলেন, ‘চোখের বালি’ শুধু একটি প্রেম ও সম্পর্কের গল্প নয়; এর মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ তৎকালীন সমাজ, নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বিধবা নারীর জীবন এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাকে গভীরভাবে তুলে ধরেছেন। সময়ের পরিবর্তনের পরও উপন্যাসটির চরিত্র ও বিষয়বস্তু পাঠকের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে।পাঠচক্রে অংশ নেওয়া বন্ধুসভার সদস্যরা উপন্যাসটির বিভিন্ন চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নিজেদের পাঠ ও অনুভূতি তুলে ধরেন। আলোচনার মাধ্যমে সাহিত্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়া এবং নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সভাপতি নুসরাত জাহান, সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান, সহসভাপতি নাহিন জামান সিদ্দিকীসহ অন্যান্য বন্ধুরা।সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
বাদল বক্স ফিরছেন

বাদল বক্স ফিরছেন

২ হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতায় পাহাড়ের গায়ে ঝুলে থাকা গ্রাম

২ হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতায় পাহাড়ের গায়ে ঝুলে থাকা গ্রাম

পেইড ফ্রেন্ড

পেইড ফ্রেন্ড

নারীর প্রতি বৈষম্য: শিক্ষা স্বাস্থ্যে ভালো অবস্থানে, পিছিয়েছে অর্থনীতি–রাজনীতিতে
নারীর প্রতি বৈষম্য: শিক্ষা স্বাস্থ্যে ভালো অবস্থানে, পিছিয়েছে অর্থনীতি–রাজনীতিতে

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে নারী-পুরুষের সমতার চিত্র ইতিবাচক হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক সূচকে পিছিয়েছে বাংলাদেশ। নারী-পুরুষ বৈষম্য কমানোর বৈশ্বিক সূচকে এক বছরে পিছিয়েছে ৫৫ ধাপ। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৪তম। এবার ১৪৫টি দেশের মধ্যে অবস্থান হয়েছে ৭৯তম। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে বড় পতনের পরও দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৬’ বা ‘বৈশ্বিক লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য প্রতিবেদন ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনের সব তথ্য একই বছরের নয়। সূচকভেদে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি ও শিক্ষার তথ্য মূলত ২০২৩-২৫ সালের এবং স্বাস্থ্যের তথ্য ২০২১-২৪ সালের। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্বের হিসাব ১ জুন ২০২৬ এবং মন্ত্রিসভার হিসাব ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। নারী সরকারপ্রধানের হিসাব নেওয়া হয়েছে ১৫ জুন ১৯৭৬ থেকে ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। এ সময়ে বিভিন্ন সরকার দায়িত্বে ছিল। এর মধ্যে বর্তমান বিএনপি সরকারের বয়স প্রায় ৭ মাস। ফাহমিদা খাতুন, সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডিপ্রতিবেদনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবনতির চিত্র আছে। অন্যদিকে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ কিছুটা চোখে পড়লেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদে বা ব্যবস্থাপনায় নারী দেখাই যায় না। আছে কাঠামোগত সমস্যা। এসব কারণে বাংলাদেশের স্কোর কমেছে, পেছনে চলে গেছে। ডব্লিউইএফ প্রতিবছর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন—এই চার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমতার ব্যবধান মাপা হয়। একটি দেশ এই ব্যবধান কতটা কমাতে পেরেছে, সূচকটি মূলত সেটিই দেখায়; নারীর সামগ্রিক জীবনমান নয়।এবার বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর ৭১ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এক বছরে স্কোর কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। প্রতিবেদনে এটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় পতন বলা হয়েছে। তবে ২০০৬ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর এখনো ৮ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবেদনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবনতির চিত্র আছে। অন্যদিকে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ কিছুটা চোখে পড়লেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদে বা ব্যবস্থাপনায় নারী দেখাই যায় না। আছে কাঠামোগত সমস্যা। এসব কারণে বাংলাদেশের স্কোর কমেছে, পেছনে চলে গেছে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো।এবার বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর ৭১ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এক বছরে স্কোর কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। প্রতিবেদনে এটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় পতন বলা হয়েছে। তবে ২০০৬ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর এখনো ৮ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।বড় পতন রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের স্কোরের বড় পতন। এ ক্ষেত্রে স্কোর ৭২ দশমিক ১ থেকে কমে ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। অবস্থান তৃতীয় থেকে নেমে হয়েছে ১২তম।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর গঠিত নতুন সংসদে নারীরা মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ আসন পেয়েছেন। সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের এযাবৎকালের সর্বনিম্ন সমতার স্কোর। এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম।মন্ত্রিসভায় নারীর প্রতিনিধিত্ব ১৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। তবে দুই দশকে মন্ত্রিসভায় নারী-পুরুষ সমতার স্কোর ৯ দশমিক ১ থেকে বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বড় পতনের পরও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক ভালো। এর কারণ নারী সরকারপ্রধান থাকার দীর্ঘ ইতিহাস। এ সূচকে বাংলাদেশ ২০১৯ সাল থেকে পূর্ণ সমতার স্কোর ধরে রেখেছে এবং যৌথভাবে প্রথম অবস্থানে রয়েছে।নারীর আনুমানিক বার্ষিক আয় ৪ হাজার ৬৭০ ডলার। পুরুষের আয় ১২ হাজার ৪৪০ ডলার। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে নারী মাত্র ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। পেশাজীবী ও কারিগরি কর্মীদের মধ্যে নারীর অংশ ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে প্রায় তলানিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্র অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ। এ ক্ষেত্রে স্কোর ৪৫ দশমিক ৭ থেকে কমে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। ১৪৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪২তম। গত বছর ছিল ১৪১তম।এক বছরে আনুমানিক আয়ের সমতার স্কোর ১৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের সমতার স্কোর কমেছে ৫ দশমিক ৭ এবং জ্যেষ্ঠ পদে প্রতিনিধিত্বের স্কোর কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।নারীর প্রতি বৈষম্য রোধে এত আইন, তবু কেন বৈষম‍্যনারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৩৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৭৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ২০০৬ সালে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের সমতার স্কোর ছিল ৬১ দশমিক ১ শতাংশ। এবার তা কমে ৪৮ শতাংশ হয়েছে।নারীর আনুমানিক বার্ষিক আয় ৪ হাজার ৬৭০ ডলার। পুরুষের আয় ১২ হাজার ৪৪০ ডলার। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে নারী মাত্র ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। পেশাজীবী ও কারিগরি কর্মীদের মধ্যে নারীর অংশ ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক অর্থনীতিতে নারীদের জন্য সুযোগ আগের মতোই আছে বা বেড়েছে, তবে তাঁদের অংশগ্রহণ কমেছে। তৈরি পোশাক খাতে মালিকেরা সব সময় নারী শ্রমিকদের বেশি অগ্রাধিকার দেন। কারণ, তাঁরা তুলনামূলক দায়িত্বশীল, কাজে বেশি মনোযোগী এবং কর্মপরিবেশে ঝামেলা কম করেন। তাই সুযোগের কোনো ঘাটতি রয়েছে বলে আমি মনে করি না।নারীদের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক ও খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত। নারী কর্মীদের ৯৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ৭৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। কর্মজীবী নারীদের ৫৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ খণ্ডকালীন কাজ করেন; পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ।এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অর্থনীতিতে নারীদের জন্য সুযোগ আগের মতোই আছে বা বেড়েছে, তবে তাঁদের অংশগ্রহণ কমেছে। তৈরি পোশাক খাতে মালিকেরা সব সময় নারী শ্রমিকদের বেশি অগ্রাধিকার দেন। কারণ, তাঁরা তুলনামূলক দায়িত্বশীল, কাজে বেশি মনোযোগী এবং কর্মপরিবেশে ঝামেলা কম করেন। তাই সুযোগের কোনো ঘাটতি রয়েছে বলে আমি মনে করি না।’নারীদের এই অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার পেছনে কিছু কারণ অনুমান করেন ফজলুল হক। তিনি বলেন, দেশে কাজের প্রধান কেন্দ্রগুলো এখনো শহরকেন্দ্রিক। বর্তমানে শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় প্রচণ্ড বেড়েছে। আগে নারীরা যেভাবে দলবদ্ধ হয়ে মেস বা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে পারতেন, এখন সেই ব্যয় বহন করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পরিবার ছেড়ে শহরে আসার ক্ষেত্রে বাড়তি সামাজিক ঝুঁকি, শারীরিক সুরক্ষা ও মানসিক চাপ নেওয়ার প্রবণতাও আগের চেয়ে কমেছে। আরেকটি চিত্রও আছে। এখন গ্রামে কৃষি বা অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীদের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। অনেকে ঘরে বসে ছোটখাটো অর্থনৈতিক কাজ করছেন। অনানুষ্ঠানিক খাতের এই নারীরা অনেক সময় আনুষ্ঠানিক হিসাবের মধ্যে সঠিকভাবে উঠে আসে না।নারীদের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক ও খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত। নারী কর্মীদের ৯৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ৭৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। কর্মজীবী নারীদের ৫৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ খণ্ডকালীন কাজ করেন; পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ।শিক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর শিক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। এবার এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতার স্কোর হয়েছে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা বাংলাদেশের এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। ২০০৬ সালের তুলনায় স্কোর বেড়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বাংলাদেশ পূর্ণ সমতা অর্জন করেছে। তবে উচ্চশিক্ষায় ব্যবধান রয়ে গেছে। উচ্চশিক্ষায় নারীর ভর্তির হার ২০ দশমিক ৭৯ এবং পুরুষের ২৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। নারীর সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৮১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।জেন্ডার বাজেট: বরাদ্দ বাড়লেও নারীর প্রতি বৈষম্য হ্রাসে অবদান রাখা নিয়ে প্রশ্নস্বাস্থ্যসূচক প্রায় অপরিবর্তিত স্বাস্থ্য ও টিকে থাকার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৯৬ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় স্কোর অপরিবর্তিত থাকলেও অবস্থান ১২৩তম থেকে ১২০তম হয়েছে।জন্মের সময় নারী-পুরুষের অনুপাতের সূচকে বাংলাদেশ পূর্ণ সমতার মান অর্জন করেছে। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত আয়ুতে সমতা সামান্য কমেছে। নারীর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত আয়ু ৬২ দশমিক ৯৮ বছর এবং পুরুষের ৬৩ দশমিক ১৪ বছর।প্রতিবেদনের প্রাসঙ্গিক সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ নারীর বাল্যবিবাহ হয়। জীবদ্দশায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতিতে সন্তান প্রসবের হার ৫৯ শতাংশ। প্রতি ১ লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যু ১১৫। পরিবার পরিকল্পনার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ১০ শতাংশ নারীর।নারীদের জন্য বেতনসহ অভিভাবকত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন। পুরুষদের জন্য এমন ছুটি নেই। প্রতিবেদনে নারীর বিবাহবিচ্ছেদের অধিকারকে অসম এবং প্রজননস্বাধীনতাকে সীমিত বলা হয়েছে।দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো প্রথম বাংলাদেশ সামগ্রিক অবস্থানে বড় পতনের পরও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম। মালদ্বীপ ১১৯তম, নেপাল ১২০তম, ভুটান ১২১তম, শ্রীলঙ্কা ১২৯তম, ভারত ১৩১তম এবং পাকিস্তান ১৪৩তম।আটটি অঞ্চলের মধ্যে এর অবস্থান সপ্তম। বর্তমান গতিতে এ অঞ্চলের নারী-পুরুষ ব্যবধান পুরোপুরি দূর হতে আরও ১৪৯ বছর লাগবে বলে ডব্লিউইএফের পূর্বাভাস।সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটি নারী-পুরুষের ব্যবধানের ৯৩ শতাংশ দূর করেছে। এরপর রয়েছে ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, নামিবিয়া ও যুক্তরাজ্য। তাদের স্কোর যথাক্রমে ৮৭ দশমিক ২, ৮৫ দশমিক ৭, ৮৪ দশমিক ৫ ও ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ।শীর্ষে আইসল্যান্ড, সবার নিচে চাদ সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটি নারী-পুরুষের ব্যবধানের ৯৩ শতাংশ দূর করেছে। এরপর রয়েছে ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, নামিবিয়া ও যুক্তরাজ্য। তাদের স্কোর যথাক্রমে ৮৭ দশমিক ২, ৮৫ দশমিক ৭, ৮৪ দশমিক ৫ ও ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ।সবচেয়ে নিচে রয়েছে চাদ। দেশটি নারী-পুরুষের ব্যবধানের ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ দূর করতে পেরেছে। এর ঠিক ওপরে রয়েছে ইরান ও পাকিস্তান। তাদের স্কোর যথাক্রমে ৫৮ দশমিক ৫ ও ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ।সবশেষে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে নারী-পুরুষের ব্যবধান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম। এ ব্যবধানের ৬৯ দশমিক ২ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান গতিতে পুরো সমতা অর্জন করতে আরও ১২০ বছর লাগবে। অর্থাৎ এখন বেঁচে থাকা নারীরা তাঁদের জীবদ্দশায় পূর্ণ নারী-পুরুষ সমতা দেখে যেতে পারবেন না। এমনকি তাঁদের নাতি-নাতনি বা পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।নারী শ্রমিকের প্রতি বৈষম্য আর কত দিন

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
সূর্যের কাছে বুধ, তবু শুক্রগ্রহ বেশি উজ্জ্বল কেন

সূর্যের কাছে বুধ, তবু শুক্রগ্রহ বেশি উজ্জ্বল কেন

কক্সবাজার সৈকতের ভাঙন কেন তীব্র হচ্ছে, এ কিসের ইঙ্গিত

কক্সবাজার সৈকতের ভাঙন কেন তীব্র হচ্ছে, এ কিসের ইঙ্গিত

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

0 Comments