জাতীয়

বছরজুড়ে বিতর্কে রাকসু, প্রতিশ্রুতির ‘ফুলঝুরি’, বাস্তবায়ন সামান্য

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
বছরজুড়ে বিতর্কে রাকসু, প্রতিশ্রুতির ‘ফুলঝুরি’, বাস্তবায়ন সামান্য
বছরজুড়ে বিতর্কে রাকসু, প্রতিশ্রুতির ‘ফুলঝুরি’, বাস্তবায়ন সামান্য

১২ মাসে ২৪ সংস্কারের অঙ্গীকার করে নির্বাচনে জিতেছিল ছাত্রশিবির-সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট। মেয়াদের শেষে এসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা।

গত ২৩ আগস্ট দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট। অগ্রণী ব্যাংকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় দীর্ঘ সারি শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন ফি জমা দিচ্ছিলেন তাঁরা। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে তাঁদের শরীর বেয়ে ঝরছিল ঘাম। সেখানে কথা হয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে তাঁর সময় লাগল দুই দিন।

‘কাগজপত্র নিয়ে হল, ব্যাংক, বিভাগে কয়েক দফা যাতায়াত করতে হয়। হল প্রাধ্যক্ষের একটা স্বাক্ষরের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা লাগে। দাপ্তরিক নানা কাজ শেষ করে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হলো। এত যে ভোগান্তি, দেখার যেন কেউ নেই’—আক্ষেপ আমিনুল ইসলামের।

এই ভোগান্তি নতুন নয়। বিভিন্ন সময় ভর্তি ফি জমা, ফরম পূরণসহ যাবতীয় কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের দাবি উঠলেও তা মুখে মুখেই রয়ে গেছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচন। এর আগে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ বিষয়টি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু রাকসুর মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ২৬ অক্টোবর। শেষ পর্যায়ে এসেও সমাধান হলো না।

চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ঘোষিত ইশতেহারে আকৃষ্ট হয়েছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। মেয়াদের ১২ মাসে ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই।

‘১২ মাসে ২৪ সংস্কার’—এমন স্লোগান সামনে রেখে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। ২৩টি পদের মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২০টিতে জয়লাভ করে প্যানেলটি।

চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ঘোষিত ইশতেহারে আকৃষ্ট হয়েছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। মেয়াদের ১২ মাসে ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই।

► ভর্তি ও ফরম পূরণ কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি। ► আবাসন, খাবার, চিকিৎসা ও ইন্টারনেট সমস্যা আগের মতোই। ► লিগ্যাল ডেস্ক, হেল্পলাইন ও নিরাপত্তা সেল চালু হয়নি। ► সবচেয়ে বেশি বিতর্কে জড়িয়েছেন আম্মার।

শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা বলছেন, রাকসুর প্রতিনিধিরা ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোযোগী না হয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণায় অংশগ্রহণ, আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করানো, গণমাধ্যম বন্ধের হুঁশিয়ারি, শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধ করার হুঁশিয়ারি, তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পেটানোর মতো ঘটনায় সক্রিয় হয়ে বিতর্কিত হন তাঁরা।

ইশতেহার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৪ দফার মধ্যে কিছু কাজ হয়েছে, কিছু কাজ চলমান। আবার অনেক কাজ শুরুই হয়নি। রাকসুর নেতাদের দাবি, ইশতেহারের ৬৭ শতাংশ কাজ তাঁরা বাস্তবায়ন করেছেন। ৩৩ শতাংশ কাজ শুরু হয়নি।

বছরজুড়ে নানা ঘটনায় গণমাধ্যমে ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাকসু। বিতর্কিত মন্তব্য, হুমকি, শিক্ষার্থী পেটানো, ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি ঘটনায় বেশির ভাগ সময় আলোচনা–সমালোচনায় ছিল রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের কর্মকাণ্ড।

প্রতিশ্রুতির ‘ফুলঝুরি’, বাস্তবতা ভিন্ন

ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের ২৪ দফা ইশতেহারের প্রথম দফা ছিল ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন’। এতে ছিল জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা, জুলাই জাদুঘর স্থাপন, ১৬ জুলাই ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা’, সব ধরনের নিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ এবং রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করা। এই পাঁচটি অঙ্গীকারের একটিও বাস্তবায়িত হয়নি।

ইশতেহারের দুই নম্বরে ছিল ‘মানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা’। হলের খাবারের মানোন্নয়ন ও বৈচিত্র্য আনার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে ক্যাম্পাসে ও হলের ডাইনিং পরিদর্শন ছাড়া এ ব্যাপারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। খাবারের মান ও পরিবেশ আগের মতোই আছে। হলের আবাসনব্যবস্থার রোডম্যাপ প্রণয়ন, অন–ক্যাম্পাস জব চালু, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসন ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও থাকলেও বাস্তবায়িত হয়নি।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বারোপের বিষয়ে বেশ কিছু অঙ্গীকার ছিল প্যানেলটির। এর মধ্যে স্নাতকোত্তরের থিসিস শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রণোদনা বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য নিয়মিত কর্মশালার আয়োজনসহ এ–সংক্রান্ত অন্যান্য প্রতিশ্রুতির কিছু কাজ হলেও পুরোপুরি পূরণ হয়নি।

এ ছাড়া এআই টুলস, জার্নাল, মাইক্রোসফট ৩৬৫ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা সাবস্ক্রিপশন ফ্রি করার উদ্যোগ গ্রহণের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। লাইব্রেরি ও সেমিনার লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই যুক্ত করা এবং ডিজিটাল অ্যাকসেসের ব্যবস্থা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ৩০০ চেয়ার যুক্ত করা হয়েছে এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বসানো হলেও তা চালু হয়নি। তবে লাইব্রেরি প্রশাসন দাবি করেছে, এসি স্থাপনে রাকসুর ভূমিকা নেই।

শিবির–সমর্থিত প্যানেলের ৬ নম্বর ইশতেহারে ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা; এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটি নিশ্চিত করা; বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণায় যৌথ সমন্বয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করা এবং আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে টিচার্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা রাখা। এসব ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে আইনি সহায়তার জন্য একটি লিগ্যাল ডেস্ক চালুর কথা থাকলেও হয়নি। তবে হল উন্নয়নের নামে ৫০ টাকা আবশ্যিক ফি বাতিল হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রকে ২০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যালে রূপান্তর, পর্যাপ্ত টেস্ট মেশিনারিজ ও ল্যাব চালুর কথা থাকলেও কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট–সেবা চালুর অঙ্গীকার করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। রাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্চগতির ইন্টারনেট–সেবা চালু করতে জরিপ করা হয়েছে। এরপর হিট প্রজেক্টের আওতায় ১৩ কোটি টাকার বেশি অর্থ অনুমোদন দিয়েছে ইউজিসি। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। 

এ ছাড়া নিরাপদ ক্যাম্পাস, পরিবহনব্যবস্থা সহজীকরণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু, বুলিং ও যৌন হয়রানি রোধে নিরাপত্তা সেল গঠন এবং ছাত্রী হল এলাকায় সুপারশপ চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় র​্যাম্প, লিফট, ব্রেইল বই, অডিও বুক, ই-লার্নিং, শ্রুতলেখকের বিষয়গুলো কাগজেই থেকে গেল।

যা বলছেন ভিপি-এজিএস

রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ

গত ১০ মাসে ইশতেহারের ৬৭ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে দাবি করে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দেড় মাস বাজেট-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় কোনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে বেশ কিছু বিষয় আছে, যেগুলোতে আমরা হাত দিতে পারিনি। কিছু কিছু ইশতেহার রয়েছে, যেগুলো আসলে এক বছরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের অনেক কাজ চলমান। আশা করছি, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সেগুলো দৃশ্যমান হবে।’

বিতর্কে রাকসু

রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার

বছরজুড়ে নানা ঘটনায় গণমাধ্যমে ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাকসু। বিতর্কিত মন্তব্য, হুমকি, শিক্ষার্থী পেটানো, ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি ঘটনায় বেশির ভাগ সময় আলোচনা–সমালোচনায় ছিল রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের কর্মকাণ্ড।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের পক্ষে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান।

একই মাসে শরিফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পর ‘অপারেশন জিরো টলারেন্স ফর ফ্যাসিজম’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামীপন্থী ছয় ডিনকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়ে তাঁদের হুমকি দেন ও অশোভন মন্তব্য করেন তিনি। পরে ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সব কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলে তাঁরা দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান। পরদিন প্রশাসন ডিনদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আম্মার। ৫ মে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেন, ‘কুকুর বিড়াল মেরোনা, নাস্তিক পেলে ছেড়োনা। লীগ পেলে ছেড়ো না।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে তিনি পোস্টটি সরিয়ে দেন। একই মাসে ডাকসুর এক নারী প্রতিনিধিকে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করেন।

২৭ জুন শহীদজননী জাহানারা ইমাম সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করেন রাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক জায়িদ হাসান। 

২৮ জুলাই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পিটিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন আম্মারসহ রাকসু ও শিবিরের নেতারা। এ ঘটনায় ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানোর কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। এর প্রতিবাদে রাকসুর সব কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

বির্তকিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আম্মার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারা ফ্যাসিজম ছড়াচ্ছে, কারা ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে এসব বিষয়ে তৎপর থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে যা যা কাজ করা প্রয়োজন, সেটা তো কাজের মধ্যেই পড়ছে। অভ্যুত্থানের পর কিছু দায়বদ্ধতা অবশ্যই আছে। রাকসু ভবনে এসে ছাত্রলীগ হামলা করবে আবার তাকে ছেড়ে দিব, ব্যাপারটা তো এমন না।’

নির্বাচিত হয়ে রাকসু প্রতিনিধিরা পেশিশক্তি ব্যবহার করেছেন উল্লেখ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের পেটানো, ডিনদের জোর করে পদত্যাগ করানো, হুমকি ও অযাচিত মন্তব্য করেছেন রাকসুর নেতারা। শিক্ষার্থীদের ‘সফট কর্নার’ পেয়ে তাঁরা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন।

বেলচা হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার

রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে হতাশা

রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাকসুর প্রতি অনেকাংশে আস্থা হারিয়েছি। কিছু কার্যক্রম ছাড়া রাকসু থাকা আর না থাকা একই হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ছিলেন শেখ নূর উদ্দিন আবির। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাকসুর কর্মকাণ্ড আশাহত করেছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পেছনে তাদের মুখরোচক ইশতেহার কাজ করেছে। কিন্তু জয়ী হওয়ার পর ইশতেহার বাস্তবায়নে কোনো চেষ্টা করেনি। আর তাদের ইশতেহারই ছিল অতিরঞ্জিত।

‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, জুলাই–পরবর্তী শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু কয়েকটি কাওয়ালি অনুষ্ঠান, জুলাইকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান ও ওয়েলফেয়ার ভবনের ছাদে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছাড়া তারা তেমন দৃশ্যমান কাজ করতে পারেনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চশিক্ষা কী এবং এখানে সাংস্কৃতিক তৎপরতা কেমন হওয়া দরকার, শিবির সেটা জানে না বললেই চলে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শিক জায়গায় তাদের শ্রদ্ধাবোধ ছিল না। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য যা করা উচিত, তারা তা-ই করেছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের প্রস্তাব
হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের প্রস্তাব

রপ্তানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে হালাল পণ্যকে বিবেচনা করে একটি স্বতন্ত্র ও একক ‘বাংলাদেশ হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের হালাল সনদ, অ্যাক্রেডিটেড পরীক্ষাগার, দক্ষ জনবল তৈরি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হালাল সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তির সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। গতকাল সোমবার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ হালাল পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিফ করেন। এ সময় বিসিআইয়ের তৈরি ‘হালাল পণ্য বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান খাত’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিসিআই। এরই মধ্যে প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। বিসিআই বলছে, বিশ্বে হালাল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ সালের হিসাবে এ বাজারের আকার ৫ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৪ শতাংশ ধরে ২০৩৪ সাল নাগাদ এ বাজার ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অথচ বিশাল এ বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো খুবই কম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৯৪ কোটি ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করে। দেশের মোট রপ্তানির বড় অংশ তৈরি পোশাকনির্ভর। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিদ্যমান বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা কমে যাওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে রপ্তানি বহুমুখীকরণ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় হালাল পণ্যকে সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে দেখছে বিসিআই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মুসলমানের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মুসলিম জনগোষ্ঠীসমৃদ্ধ দেশগুলোতে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের বড় বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। আরও পড়ুন হালাল পণ্যের চাহিদা ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশের রপ্তানি ৮৫০ মিলিয়ন বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হালাল পণ্য রপ্তানি করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাণ গ্রুপ, বেঙ্গল মিট প্রসেসিং, আকিজ, স্কয়ার, গোল্ডেন হারভেস্ট ও আহমদউল্লাহ অ্যাগ্রো ফুডস। দেশে হালাল পণ্যের রপ্তানি মূলত বেসরকারি উদ্যোগেই শুরু হয়েছে। বিসিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে হালাল সনদ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৭ সালে। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মালয়েশিয়ার জাকিমের সহায়তায় ২০১১ সাল থেকে হালাল সনদ দিচ্ছে। অন্যদিকে ওআইসি-এসএমআইআইসির অনুমোদন নিয়ে ২০২২ সাল থেকে বিএসটিআইও হালাল সনদ দিচ্ছে। তবে দেশে একক ও মানসম্মত হালাল সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ না থাকায় উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অ্যাক্রেডিটেড হালাল পরীক্ষাগার না থাকায় সনদ পেতে সময় ও ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের আলাদা ব্র্যান্ডিংও তৈরি হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে একটি স্বতন্ত্র ‘বাংলাদেশ হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিসিআই। এই কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হালাল সনদ প্রদানসহ এ খাতের সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যেসব দেশে বর্তমানে হালাল পণ্য রপ্তানি করছে, সেসব দেশের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের সনদ ও অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ সম্ভাবনাময় বাজারের সঙ্গে হালাল সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি করতে হবে। আরও পড়ুন রপ্তানি আরও এগিয়ে নেবে বিএসটিআইয়ের ‘হালাল ল্যাব’ হালাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতা বাড়াতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ওআইসি-এসএমআইআইসি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি সহযোগিতা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানের হালাল পরীক্ষাগার স্থাপন ও দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হালাল পণ্যের রপ্তানি আলাদাভাবে চিহ্নিত ও পরিমাপের জন্য সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডের পাশাপাশি পৃথক ‘হালাল কোড’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ খাতের প্রচার বাড়াতে দেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক হালাল মেলা আয়োজন এবং বিদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হালাল মেলায় বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে বিসিআই। প্রতিবেদনে হালাল শিল্পের জন্য শিল্প, বাণিজ্য, পররাষ্ট্র, ধর্ম, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি সহায়ক জাতীয় হালাল নীতিমালা প্রণয়ন করে দীর্ঘমেয়াদি হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে হালাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ থেকে ১৫ বছরের নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা পরিকল্পনা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩৪ ও ২০৪০ সালকে সামনে রেখে হালাল পণ্য ও সেবা রপ্তানির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ভিশন পরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও বলা হয়েছে। বিসিআই জানায়, হালাল পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে কাজ করছে সংগঠনটি। এর অংশ হিসেবে গত ১৭ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক এবং ১৮ জুলাই দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করা হয়। এসব আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতেই হালাল পণ্য নিয়ে পলিসি গাইডলাইন বা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ইএইচটি/কেএসআর

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড: সাত আসামির কার কী অপরাধ

কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড: সাত আসামির কার কী অপরাধ

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি মামুনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হচ্ছে

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি মামুনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হচ্ছে

পদ্মার পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি পানিবন্দি মানুষের

পদ্মার পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি পানিবন্দি মানুষের

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রেস উইংয়ের সদস্যরা। কেএইচ/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ফেসবুকে ‘মানহানিকর’ পোস্টের অভিযোগ, ডিএজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাইলেন রুমিন

ফেসবুকে ‘মানহানিকর’ পোস্টের অভিযোগ, ডিএজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাইলেন রুমিন

অবৈধ চায়না দুয়ারি জালে হুমকিতে জলজ প্রাণী, বিক্রি হয় দোকানে, ফেসবুক–ইউটিউবে

অবৈধ চায়না দুয়ারি জালে হুমকিতে জলজ প্রাণী, বিক্রি হয় দোকানে, ফেসবুক–ইউটিউবে

ডিপ্লোমা–ইন–টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পুনর্ভর্তির নির্দেশ

ডিপ্লোমা–ইন–টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পুনর্ভর্তির নির্দেশ

তামিল রীতিতে সামান্থার ঘরোয়া ‘বেবি শাওয়ার’
তামিল রীতিতে সামান্থার ঘরোয়া ‘বেবি শাওয়ার’

২০২১ সালে নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিচ্ছেদের চার বছর পর ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সামান্থা চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ নিদিমোরুকে বিয়ে করেন। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশ্যে আসে সামান্থার গর্ভাবস্থার খবর।দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতির নানা আচার-অনুষ্ঠানে আজও জড়িয়ে আছে প্রাচীন বিশ্বাস, পারিবারিক বন্ধন ও আশীর্বাদের আবহ। তামিল সম্প্রদায়ের এমনই একটি ঐতিহ্যবাহী রীতি ‘উদকাশান্তি স্নানম’ ‘উদকাশান্তি’ শব্দের অর্থ মূলত পবিত্র জলের মাধ্যমে শান্তি বা মঙ্গল কামনা। দক্ষিণ ভারতীয় তারকা সামান্থা রুথ প্রভুও গর্ভাবস্থায় পালন করলেন এই আচারনাগা চান ২ সন্তান, সামান্থার চাওয়া বিশ্বস্ত জীবনসঙ্গী এই আচারে মন্ত্রপাঠ ও পবিত্র জলের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ সেপ্টেম্বর ঘরোয়া ছিমছাম এক আয়োজনে পবিত্র জল ও মন্ত্রের মাধ্যমে সামান্থা ও তাঁর অনাগত সন্তানের অশুভ বিষয় দূর করে জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করা হয়তামিল সংস্কৃতিতে গর্ভধারণ ও সন্তান আগমনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক আচার রয়েছে। এর মধ্যে ‘ভালাইকাপ্পু’ বিশেষভাবে পরিচিত। ভালাইকাপ্পুতে হবু মায়ের হাতে কাচের চুড়ি পরানো হয়, ফুল দিয়ে সাজানো হয় এবং মা ও অনাগত সন্তানের সুস্থতার জন্য আশীর্বাদ করা হয়। সামান্থার এই আয়োজনেও সেটি পালিত হয়েছেসামান্থার এই ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন একত্র হয়ে হবু মাকে শুভকামনা জানিয়েছেন। তাঁর মানসিক শক্তি বাড়াতে ও নতুন জীবনের আগমনকে উদ্যাপন করতেই এ আয়োজনবিরল এই রোগের কথা আর লুকিয়ে রাখতে পারলেন না সামান্থাভারতীয় উপমহাদেশে গর্ভকালীন এমন রীতির ভিন্ন ভিন্ন আঞ্চলিক রূপ রয়েছে—বাংলায় যেমন ‘সাধ’, তেমনি দক্ষিণ ভারতে ভালাইকাপ্পু। পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে সবচেয়ে চেনা-পরিচিত নাম হলো ‘বেবি শাওয়ার’। নাম ও আয়োজন আলাদা হলেও মূল আকাঙ্ক্ষা একই—নতুন প্রাণের আগমনকে ঘিরে মায়ের সুস্থতা, নিরাপদ প্রসব এবং শিশুর মঙ্গল কামনা। সেটিই হয়ে গেল সামান্থাদের বাড়িতে২০২৬ সালের জুনে প্রকাশ্যে আসে সামান্থার গর্ভাবস্থার খবর২৪ জুন ২০২৬ ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার সাফল্য উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে সামান্থা নিজেই তাঁর গর্ভাবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেখানে এই অভিনেত্রী বলেন, তিনি কিছুদিনের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাচ্ছেনবিয়ের গাউনকেই সামান্থা বানালেন প্রতিশোধের পোশাকসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে সামান্থাকে গাঢ় হলুদ রঙের কামিজ-চুরিদার পরে, মাথায় ফুল দিয়ে, ফুল ও প্রদীপে সাজানো খোলা জায়গায় বসে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করতে দেখা যায়২০২১ সালে নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিচ্ছেদের চার বছর পর ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সামান্থা চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ নিদিমোরুকে বিয়ে করেননাগার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এই বাড়ি কিনেছেন সামান্থা, অন্দরমহল দেখুন ছবিতেসবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই সামান্থা আর রাজের ঘর আলো করে আসবে নতুন সদস্যঅনুষ্ঠানে সামান্থার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও সামান্থার বান্ধবী শিল্পা রেড্ডি। তিনিই প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত থেকে সবকিছুর আয়োজন করেছেনসামান্থা ও রাজের বিয়ের ১০ ছবি দেখুন

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ফরিদপুরে সওজের জমি-মেডিকেল হাসপাতাল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান

ফরিদপুরে সওজের জমি-মেডিকেল হাসপাতাল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান

শ্রীপুরে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের দুর্ভোগ

শ্রীপুরে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের দুর্ভোগ

জিনস-স্নিকার্স পরেই সরকারি চাকরির সাক্ষাৎকার, নতুন নিয়ম দক্ষিণ কোরিয়ায়

জিনস-স্নিকার্স পরেই সরকারি চাকরির সাক্ষাৎকার, নতুন নিয়ম দক্ষিণ কোরিয়ায়

0 Comments