জাতীয়

বেকারি পণ্যের দাম বাড়ছে শনিবার থেকে

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ছে শনিবার থেকে
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ছে শনিবার থেকে

বেকারি পণ্যের দাম আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।

মালিকরা জানিয়েছেন, ওই সময় থেকে পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়বে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম ঠিক রেখে ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হবে।

সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দাম বৃদ্ধির কোনো ঘোষণা আমরা দিইনি। তবে সবাই মিলে দাম সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দাম বাড়লে সেটা ২০ শতাংশ হারে বাড়াবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ওজন কমিয়ে দাম সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ ১০ টাকার রুটি ১০ টাকাই থাকবে। তবে যেটা ৪০০ গ্রাম ছিল, সেটা হয়তো ৩৫০ গ্রাম বা ৩২০ গ্রাম হবে।’

এর যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে ২৫-৩০ টাকার আটা ৪২ টাকা হয়ে গেলো, তিন হাজার টাকার ময়দার বস্তা পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা হয়ে গেলো, ২৫ হাজার টাকার ড্রামের তেল ৩৬ হাজার টাকা হয়ে গেলো। এখন আমরা কী করতে পারি? এছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, বাড়তি খরচ। আমরা টিকতে পারছি না। আমার কর্মচারী না খেয়ে থাকবে?’

আরও পড়ুন

আগস্টে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানে কোটি টাকা জরিমানা

এর মধ্যে কোনো বেকারি কি বন্ধ হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে জালাল উদ্দিন বলেন, ‘না, বন্ধ হয় নাই। তবে উৎপাদন কমাইছে। যে আগে পাঁচ বস্তা ময়দার কাজ করতো, সে এখন তিন বস্তায় চলে আসছে।’

এ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ক্ষুদ্র বেকারি আছে প্রায় সাত হাজার। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে সাত শতাধিক।

তাদের দাবি, কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে গ্যাস-বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে গেছে। চলমান সংকট দীর্ঘ হলে ছয় মাসের মধ্যে বেকারি খাত ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন সমিতির নেতারা।

এনএইচ/একিউএফ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বাংলাদেশ, তুমি ভালো হয়ে যাও
বাংলাদেশ, তুমি ভালো হয়ে যাও

  এক গোষ্ঠী সারাদিন ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, সেই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই। আরেক গোষ্ঠী পাকিস্তানের গুণগানে দিশাহারা, সেটাও সেই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই। আরেক গোষ্ঠী সারাদিন চাঁদাবাজি, দুর্নীতি আর লুটপাট নিয়ে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে এমন একটা অবস্থা, যেন হাঁড়ি ভেঙে দই পড়ছে, আর বিড়ালের হয়েছে বাহার। ঘটনা কী? তবে ইদানীং জিন্নাহকে নিয়ে বেশ বাড়াবাড়ি হচ্ছে। কিন্তু কারণ কী? এখন কী এমন হলো যে জিন্নাহকে নিয়ে এত কথা বলতে হচ্ছে? আমাদের কি নিজেদের আর কোনো সমস্যা নেই? যে দেশে তেল আনতে নুন নেই, সেই দেশে ইতিহাসের একজন বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে নতুন করে এত উত্তেজনা কেন? বিষয়টি নিয়ে ভাবতেই মাথার চুলগুলো শেষ, ঘুম তো বহু বছর আগেই উধাও হয়েছে। জিন্নাহ বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ, পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। তাকে নিয়ে ইতিহাস পড়া, গবেষণা করা বা তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু ইতিহাসকে বোঝা আর ইতিহাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো এক কথা নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু আর্কাইভে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে যে বিতর্ক, প্রতিবাদ, ছবি ছেঁড়া এবং পাল্টা কর্মসূচি দেখা গেল, সেটি আবারও সেই পুরোনো প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে: আমরা কি ইতিহাস বুঝতে চাই, নাকি ইতিহাস নিয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করতে চাই? আমি ছোটবেলায় গাঁজাখুরি গল্প শুনেছি। এক মাতাল খেজুরের রসের তাড়ি ভালো করে গিলে আরেক মাতালকে বলছে, “এই শালা, ওই দেখ, কই মাছ গাছে উঠতিছে!” আরেক মাতাল অবাক হয়ে বলছে, “কী? কই মাছের শিং উঠছে নাকি যে গাছে উঠতিছে?” বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ইদানীংকার কিছু খবর দেখলে মনে হয়, আমরা যেন সেই গাঁজাখুরি গল্পকেও হার মানিয়ে নতুন কিছু আবিষ্কারের পথে হাঁটছি। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, সম্পদ জব্দ হচ্ছে, অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠছে, মামলা হচ্ছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট জানিয়েছে, ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশ-বিদেশে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ফ্রিজ বা জব্দ করা হয়েছে। আবার Global Financial Integrity-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাণিজ্য-সংক্রান্ত ভুল ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ আর্থিক বহিঃপ্রবাহের হিসাব পাওয়া গেছে। অন্যদিকে Transparency International Bangladesh-এর জরিপে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে মানুষের ঘুস দেওয়ার পরিমাণ ১২,৬৩৩ কোটি টাকার বেশি বলে উঠে এসেছে। জরিপে ৮১.৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা খাতে দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। আর এখন সামনে এসেছে আরও একটি বড় প্রশ্ন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ-বদলি-পদায়ন, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ঘুস এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে দুদক অনুসন্ধান করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযোগের মোট আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বলা হয়েছে। আরও পড়ুন পুরো বিল্ডিংয়ের ইট পাথর পর্যন্ত ঘুস খায়: মাহবুব কবীর মিলন দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখা হবে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো বিষয়কে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বলা যাবে না। আসিফ মাহমুদ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। কিন্তু এখানে ব্যক্তি আসিফ মাহমুদের চেয়েও বড় একটি প্রশ্ন আছে। অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা হোক, তদন্ত হোক বা শেষ পর্যন্ত অভিযোগের কোনো অংশ প্রমাণিত না হোক, এত বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন, সম্পদ অর্জন কিংবা বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ উঠতে পারল কীভাবে? রাষ্ট্রের আর্থিক নজরদারি ব্যবস্থা কোথায় ছিল? ব্যাংকগুলো কোথায় ছিল? বাংলাদেশ ব্যাংক কোথায় ছিল? বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কোথায় ছিল? কর প্রশাসন কোথায় ছিল? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায় ছিল? গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছিল? বিমানবন্দর ও সীমান্তের নজরদারি ব্যবস্থা কী করছিল? এতগুলো প্রতিষ্ঠান, এত কর্মকর্তা, এত প্রযুক্তি, এত আইন এবং ২৪ ঘণ্টার নজরদারির কথা আমরা শুনি। তাহলে এত বড় অঙ্কের অর্থ যদি সত্যিই দেশ থেকে বেরিয়ে যায়, সেটি ধরা পড়ে না কেন? নাকি আমাদের নজরদারি ব্যবস্থা কাগজে-কলমে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়, আর বাস্তবে কেউ গাঁজা খেয়ে টাল হয়ে বসে বসে আঙুল চুষছে? প্রশ্নটি ব্যঙ্গের হলেও বিষয়টি মোটেও হাসির নয়। কারণ অর্থপাচার কোনো একদিনে ঘটে না। ব্যাংকিং লেনদেন, কোম্পানি, সম্পত্তি, আমদানি-রপ্তানি, বিনিয়োগ, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর, কর নথি এবং বিভিন্ন আর্থিক রেকর্ডের মধ্য দিয়ে এর কোনো না কোনো চিহ্ন থাকার কথা। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট নিজেই জানায় যে সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের রিপোর্ট তারা ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী ও তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় করে। তাহলে প্রশ্ন আরও সরল: সিস্টেম যদি এত শক্তিশালী হয়, তাহলে এত বড় বড় অর্থ পাচারের অভিযোগ বারবার সামনে আসে কীভাবে? আর যদি সিস্টেম দুর্বল হয়, তাহলে জনগণের টাকা দিয়ে এত বিশাল প্রশাসনিক কাঠামো চালিয়ে লাভ কী? ২০২৬ সালের জুলাইয়ে BFIU জানিয়েছিল, ১১টি অগ্রাধিকার অর্থপাচার মামলায় দেশে-বিদেশে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ফ্রিজ ও জব্দ করা হয়েছে। এটি শুধু দুর্নীতির প্রশ্ন নয়। এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রশ্ন। একজন ব্যক্তি দুর্নীতি করতে পারে। কয়েকজন মিলে অর্থ পাচার করতে পারে। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে বড় অঙ্কের অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তরিত হলে প্রশ্ন উঠবেই: তখন রাষ্ট্রের চোখ কোথায় ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর জনগণকে দিতে হবে শুধু “দুর্নীতি হয়েছে”, “অর্থ পাচার হয়েছে”, “তদন্ত চলছে” বললে হবে না। জনগণ জানতে চায়, এত দিন ধরে কে দেখছিল? কী দেখেছিল? কী ব্যবস্থা নিয়েছিল? আর যদি কেউ কিছু না দেখে থাকে, তাহলে কেন দেখেনি? কারণ দুর্নীতিবাজকে ধরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু দুর্নীতি ঘটার পর শুধু দুর্নীতিবাজকে ধরলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। রাষ্ট্রকে এটাও ব্যাখ্যা করতে হবে, দুর্নীতির এত বড় সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে জরুরি সংস্কারগুলোর একটি হওয়া উচিত এই জায়গায়: অর্থ কোথা থেকে এল, কোথায় গেল, কে দেখল, কে জানল, কে চুপ থাকল এবং কেন চুপ থাকল, তার একটি পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি ব্যবস্থা তৈরি করা। নইলে আজ একজনের নাম আসবে, কাল আরেকজনের নাম আসবে, পরশু আরও বড় অঙ্কের কথা শোনা যাবে। জনগণ শুধু তাকিয়ে থাকবে, আর রাষ্ট্র বারবার বলবে, “তদন্ত চলছে।” এই চক্র ভাঙতেই হবে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আসলে কোন বাংলাদেশ বানাচ্ছি? একদিকে জিন্নাহ, ভারত, পাকিস্তান, কে দেশপ্রেমিক আর কে দেশদ্রোহী, কে কার ছবি রাখবে আর কে কার ছবি ছিঁড়বে, এসব নিয়ে উত্তেজনা। অন্যদিকে অর্থ পাচার, চাঁদাবাজি, ঘুস, দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও তদন্ত। আমাদের কি সত্যিই এত অবসর আছে? দেশের মানুষ যখন দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে চিন্তিত, তখন রাষ্ট্র ও সমাজের শক্তি কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সেটি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। ইতিহাসকে বাদ দিতে বলছি না। বরং ইতিহাস আরও বেশি করে জানতে বলছি। কিন্তু ইতিহাস যেন বর্তমানের ব্যর্থতা ঢাকার পর্দা না হয়। জিন্নাহর ছবি থাকলেই বাংলাদেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে না, আবার জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসও নিরাপদ হয়ে যাবে না। ইতিহাসকে সম্মান করার সবচেয়ে বড় উপায় হলো ইতিহাসকে সত্যের সঙ্গে দেখা। বাংলাদেশের সামনে এখন জরুরি প্রশ্ন হলো, কে জিন্নাহর ছবি রাখল বা কে ছিঁড়ল, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন: দেশের টাকা কোথায় যাচ্ছে? জনগণের অধিকার কোথায় যাচ্ছে? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর? ঘুস ছাড়া সাধারণ মানুষ কতটা সেবা পাচ্ছে? চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতটা কঠোর? দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে শেষ পর্যন্ত কতজনের বিচার হয়? আর যারা দেশের সম্পদ বিদেশে নিয়ে যায়, তাদের কাছ থেকে সেই সম্পদ ফিরিয়ে আনার সক্ষমতা আমাদের কতটা আছে? এখন দরকার একটি জরুরি জাতীয় সতর্কবার্তা বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে এখনই কয়েকটি বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। প্রথমত, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে তদন্তকে রাজনৈতিক পরিচয়-নিরপেক্ষ করতে হবে। অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই হোক, প্রমাণ থাকলে তদন্ত ও বিচার হতে হবে। দ্বিতীয়ত, চাঁদাবাজি, ঘুস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সংবাদ সম্মেলন, মামলা বা বক্তব্য দিয়ে দুর্নীতি কমবে না। জনগণকে ফল দেখতে হবে। তৃতীয়ত, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাবে আর আমরা শুধু “কেন হলো?” বলে আলোচনা করব, এটা চলতে পারে না। চতুর্থত, ইতিহাস নিয়ে গবেষণা হোক, বিতর্ক হোক, প্রশ্ন হোক। কিন্তু ইতিহাসের নামে উসকানি, প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। পঞ্চমত, রাষ্ট্রের মূল শক্তি যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্তেজনা বা প্রতিদিনের রাজনৈতিক নাটকে নষ্ট না হয়। রাষ্ট্রের শক্তি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। সবশেষে সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশ কারও ভারতপন্থি, পাকিস্তানপন্থি, আমেরিকাপন্থি বা অন্য কোনো দেশের অনুসারী হওয়ার জন্য স্বাধীন হয়নি। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে নিজের মানুষের জন্য, নিজের রাষ্ট্রের জন্য, নিজের ভবিষ্যতের জন্য। তাই এখন সময় এসেছে একবার আয়নার সামনে দাঁড়ানোর। আমরা কি সত্যিই স্বাধীন দেশের নাগরিকের মতো আচরণ করছি? নাকি এখনও অন্যের প্রশংসা, অন্যের নিন্দা, পুরোনো ইতিহাসের বিতর্ক আর নিজেদের স্বার্থের রাজনীতিতে এতটাই ব্যস্ত যে, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আসল বিপদটাই দেখতে পাচ্ছি না? বাংলাদেশের জন্য এটি আর সাধারণ সতর্কবার্তা নয়। এটি একটি জরুরি জাতীয় সতর্কসংকেত। দেশের মানুষকে বিভক্ত করে, ইতিহাসকে টেনে এনে, একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে এবং দুর্নীতিকে স্বাভাবিক জীবনের অংশ বানিয়ে কোনো দেশ টিকে থাকতে পারে না। বাংলাদেশের মানুষ অনেক সহ্য করেছে। এখন প্রয়োজন দেশকে নিয়ে নতুন করে ভাবার। বাংলাদেশ, তুমি ভালো হয়ে যাও কারণ বাংলাদেশ ভালো না হলে শুধু বাংলাদেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত বৃহত্তর বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখনও সময় আছে। কিন্তু সময়টা যেন শেষ হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় না থাকি। রহমান মৃধাগবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেনই-মেইল: rahman.mridha@gmail.com এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্যখাত ও এসডিজি অর্জনে সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ হুমায়ুন কবিরের

স্বাস্থ্যখাত ও এসডিজি অর্জনে সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ হুমায়ুন কবিরের

মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করেছে?

মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করেছে?

সংকট সাময়িক, বায়ারদের আস্থা ধরে রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা জরুরি

সংকট সাময়িক, বায়ারদের আস্থা ধরে রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা জরুরি

এসআরবি আইনের প্রজ্ঞাপন জারি, বিলুপ্ত র‍্যাবের প্রায় সবই আছে আইনে
এসআরবি আইনের প্রজ্ঞাপন জারি, বিলুপ্ত র‍্যাবের প্রায় সবই আছে আইনে

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)–২০২৬’ আইনের প্রজ্ঞাপন গেজেটে প্রকাশ করেছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে এসআরবি নামে পুলিশের আওতাধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট চালু হলো।গতকাল মঙ্গলবার এসআরবি আইনের প্রজ্ঞাপন গেজেটে প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, এই আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন গঠন–সংক্রান্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯–এর যেসব বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, কেবল সেসব বিধান রহিত হবে। তবে অর্ডিন্যান্সের সেকশন ১৪–এ দেওয়া ক্ষমতাবলে জারি করা র‍্যাব (কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা) বিধিমালা–২০০৫ এবং এই বিধিমালা অথবা অন্য কোনো আইন বা বিধির অধীন ইউনিটের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহীত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আদালতের কার্যধারা বহাল ও বলবৎ থাকবে।এ ছাড়া এসআরবি আইনে বলা হয়েছে, র‍্যাবের সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে রাখা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি, সব হিসাব বই, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও এ–সংক্রান্ত সব দলিল ইত্যাদি এসআরবির কাছে তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত ও ন্যস্ত হবে।বিরোধী দলের আপত্তির মুখে গত বৃহস্পতিবার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়। এখন আইনের প্রজ্ঞাপন গেজেটে প্রকাশ করল সরকার।২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ সংশোধন করে র‍্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে নানা কর্মকাণ্ডে বাহিনীটি সমালোচিত হয়।র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ, গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ও দেশি–বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র‍্যাব ও বাহিনীটির তৎকালীন ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।গঠিত হচ্ছে এসআরবি, র‍্যাবের প্রায় সবই থাকছে আইনে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
পরমাণু কণিকাগুলোর পারস্পরিক বন্ধন

পরমাণু কণিকাগুলোর পারস্পরিক বন্ধন

ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সৌদি আরবের এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি হুতিদের

ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সৌদি আরবের এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি হুতিদের

৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই ‘জুলাই যোদ্ধা’ গ্রেফতার

৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই ‘জুলাই যোদ্ধা’ গ্রেফতার

ঋণমানের পূর্বাভাস বাড়ায় আস্থা ফিরবে, তবে সংস্কারও এগিয়ে নিতে হবে
ঋণমানের পূর্বাভাস বাড়ায় আস্থা ফিরবে, তবে সংস্কারও এগিয়ে নিতে হবে

দেশে এখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সময়ে মুডিসের মতো আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচক। এতে দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ নিয়ে আস্থা বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা এসব সংস্থার মূল্যায়নে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচক বার্তা যাবে। মূল্যস্ফীতি এখনো বড় উদ্বেগ হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি হয়েছে। ব্যালান্স অব পেমেন্টের পরিস্থিতি ভালো হয়েছে, বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। জ্বালানিসংকট অবশ্য নতুন নয়; কয়েক বছর ধরেই এটি চলছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি যুক্ত হয়ে সংকট আরও গুরুতর হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা তো আছেই। এর প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়। বাংলাদেশ একধরনের ভাবমূর্তি সংকটেও পড়েছিল।এমন সময়ে মুডিসের মতো আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থার পূর্বাভাস বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক পরিসরে ফিচ ও এসঅ্যান্ডপিও গুরুত্বপূর্ণ ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা। বাংলাদেশ নিয়ে তাদের পূর্বাভাস এখনো নেতিবাচক। তাই শুধু একটি সংস্থার পূর্বাভাস বৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট না থেকে অন্য সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করতে হবে।এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—ঋণমানের পূর্বাভাসের উন্নতি এবং প্রকৃত ঋণমানের উন্নতি এক বিষয় নয়। পূর্বাভাসের পরিবর্তন ইতিবাচক সংকেত দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ঋণমান উন্নত করতে হলে অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতা দূর করতে হবে। তাই বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া জরুরি।বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের যে পর্যায়ে আছে এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগের যে প্রয়োজন হবে, তা শুধু প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক অর্থায়ন প্রয়োজন। বর্তমানে দেশের বিনিয়োগ অর্থায়নের বড় অংশই ব্যাংক খাত থেকে আসে। অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সব প্রয়োজন ব্যাংকঋণ দিয়ে মেটানো কঠিন। তাই বৈশ্বিক অর্থায়নের নতুন উৎস তৈরি করা দরকার।এই অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঋণমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশের ঋণমানকে সেই দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করেন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা। ফলে ঋণমানের উন্নতি হলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।তবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের ঘাটতি আছে। একই সঙ্গে যেসব সংস্কার কার্যক্রম চলছে, সেগুলো আরও জোরদার করতে হবে। সংস্কারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা দরকার—কত দিনের মধ্যে কোন সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে, তার স্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে। ধাপে ধাপে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে অর্থনীতির মৌলিক সক্ষমতা বাড়বে, ঋণমান উন্নত করার ভিত্তি তৈরি হবে। ঋণমান উন্নত হলে দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক অর্থায়ন পাওয়া সহজ হতে পারে।মাসরুর রিয়াজ: চেয়ারম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মান যাচাই করে হেলমেট কিনছেন তো, আমদানির সাড়ে ২৪ শতাংশ নিরাপত্তা পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ

মান যাচাই করে হেলমেট কিনছেন তো, আমদানির সাড়ে ২৪ শতাংশ নিরাপত্তা পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ

পুরো বিল্ডিংয়ের ইট পাথর পর্যন্ত ঘুস খায়: মাহবুব কবীর মিলন

পুরো বিল্ডিংয়ের ইট পাথর পর্যন্ত ঘুস খায়: মাহবুব কবীর মিলন

চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একদিনে গ্রেফতার ৫৮৭

চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একদিনে গ্রেফতার ৫৮৭

0 Comments