এক গোষ্ঠী সারাদিন ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, সেই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই। আরেক গোষ্ঠী পাকিস্তানের গুণগানে দিশাহারা, সেটাও সেই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই। আরেক গোষ্ঠী সারাদিন চাঁদাবাজি, দুর্নীতি আর লুটপাট নিয়ে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে এমন একটা অবস্থা, যেন হাঁড়ি ভেঙে দই পড়ছে, আর বিড়ালের হয়েছে বাহার। ঘটনা কী?
তবে ইদানীং জিন্নাহকে নিয়ে বেশ বাড়াবাড়ি হচ্ছে। কিন্তু কারণ কী? এখন কী এমন হলো যে জিন্নাহকে নিয়ে এত কথা বলতে হচ্ছে? আমাদের কি নিজেদের আর কোনো সমস্যা নেই?
যে দেশে তেল আনতে নুন নেই, সেই দেশে ইতিহাসের একজন বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে নতুন করে এত উত্তেজনা কেন? বিষয়টি নিয়ে ভাবতেই মাথার চুলগুলো শেষ, ঘুম তো বহু বছর আগেই উধাও হয়েছে।
জিন্নাহ বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ, পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। তাকে নিয়ে ইতিহাস পড়া, গবেষণা করা বা তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু ইতিহাসকে বোঝা আর ইতিহাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো এক কথা নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু আর্কাইভে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে যে বিতর্ক, প্রতিবাদ, ছবি ছেঁড়া এবং পাল্টা কর্মসূচি দেখা গেল, সেটি আবারও সেই পুরোনো প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে: আমরা কি ইতিহাস বুঝতে চাই, নাকি ইতিহাস নিয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করতে চাই?
আমি ছোটবেলায় গাঁজাখুরি গল্প শুনেছি। এক মাতাল খেজুরের রসের তাড়ি ভালো করে গিলে আরেক মাতালকে বলছে, “এই শালা, ওই দেখ, কই মাছ গাছে উঠতিছে!” আরেক মাতাল অবাক হয়ে বলছে, “কী? কই মাছের শিং উঠছে নাকি যে গাছে উঠতিছে?”
বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ইদানীংকার কিছু খবর দেখলে মনে হয়, আমরা যেন সেই গাঁজাখুরি গল্পকেও হার মানিয়ে নতুন কিছু আবিষ্কারের পথে হাঁটছি।
হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, সম্পদ জব্দ হচ্ছে, অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠছে, মামলা হচ্ছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট জানিয়েছে, ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশ-বিদেশে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ফ্রিজ বা জব্দ করা হয়েছে।
আবার Global Financial Integrity-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাণিজ্য-সংক্রান্ত ভুল ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ আর্থিক বহিঃপ্রবাহের হিসাব পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে Transparency International Bangladesh-এর জরিপে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে মানুষের ঘুস দেওয়ার পরিমাণ ১২,৬৩৩ কোটি টাকার বেশি বলে উঠে এসেছে। জরিপে ৮১.৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা খাতে দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।
আর এখন সামনে এসেছে আরও একটি বড় প্রশ্ন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ-বদলি-পদায়ন, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ঘুস এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে দুদক অনুসন্ধান করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযোগের মোট আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বলা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখা হবে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো বিষয়কে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বলা যাবে না। আসিফ মাহমুদ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
কিন্তু এখানে ব্যক্তি আসিফ মাহমুদের চেয়েও বড় একটি প্রশ্ন আছে। অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা হোক, তদন্ত হোক বা শেষ পর্যন্ত অভিযোগের কোনো অংশ প্রমাণিত না হোক, এত বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন, সম্পদ অর্জন কিংবা বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ উঠতে পারল কীভাবে?
ব্যাংকগুলো কোথায় ছিল? বাংলাদেশ ব্যাংক কোথায় ছিল? বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কোথায় ছিল? কর প্রশাসন কোথায় ছিল? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায় ছিল? গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছিল? বিমানবন্দর ও সীমান্তের নজরদারি ব্যবস্থা কী করছিল? এতগুলো প্রতিষ্ঠান, এত কর্মকর্তা, এত প্রযুক্তি, এত আইন এবং ২৪ ঘণ্টার নজরদারির কথা আমরা শুনি। তাহলে এত বড় অঙ্কের অর্থ যদি সত্যিই দেশ থেকে বেরিয়ে যায়, সেটি ধরা পড়ে না কেন?
নাকি আমাদের নজরদারি ব্যবস্থা কাগজে-কলমে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়, আর বাস্তবে কেউ গাঁজা খেয়ে টাল হয়ে বসে বসে আঙুল চুষছে? প্রশ্নটি ব্যঙ্গের হলেও বিষয়টি মোটেও হাসির নয়।
কারণ অর্থপাচার কোনো একদিনে ঘটে না। ব্যাংকিং লেনদেন, কোম্পানি, সম্পত্তি, আমদানি-রপ্তানি, বিনিয়োগ, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর, কর নথি এবং বিভিন্ন আর্থিক রেকর্ডের মধ্য দিয়ে এর কোনো না কোনো চিহ্ন থাকার কথা। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট নিজেই জানায় যে সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের রিপোর্ট তারা ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী ও তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় করে।
তাহলে প্রশ্ন আরও সরল: সিস্টেম যদি এত শক্তিশালী হয়, তাহলে এত বড় বড় অর্থ পাচারের অভিযোগ বারবার সামনে আসে কীভাবে? আর যদি সিস্টেম দুর্বল হয়, তাহলে জনগণের টাকা দিয়ে এত বিশাল প্রশাসনিক কাঠামো চালিয়ে লাভ কী?
২০২৬ সালের জুলাইয়ে BFIU জানিয়েছিল, ১১টি অগ্রাধিকার অর্থপাচার মামলায় দেশে-বিদেশে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ফ্রিজ ও জব্দ করা হয়েছে। এটি শুধু দুর্নীতির প্রশ্ন নয়। এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রশ্ন।
একজন ব্যক্তি দুর্নীতি করতে পারে। কয়েকজন মিলে অর্থ পাচার করতে পারে। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে বড় অঙ্কের অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তরিত হলে প্রশ্ন উঠবেই: তখন রাষ্ট্রের চোখ কোথায় ছিল?
শুধু “দুর্নীতি হয়েছে”, “অর্থ পাচার হয়েছে”, “তদন্ত চলছে” বললে হবে না। জনগণ জানতে চায়, এত দিন ধরে কে দেখছিল? কী দেখেছিল? কী ব্যবস্থা নিয়েছিল? আর যদি কেউ কিছু না দেখে থাকে, তাহলে কেন দেখেনি?
কারণ দুর্নীতিবাজকে ধরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু দুর্নীতি ঘটার পর শুধু দুর্নীতিবাজকে ধরলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। রাষ্ট্রকে এটাও ব্যাখ্যা করতে হবে, দুর্নীতির এত বড় সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে।
এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে জরুরি সংস্কারগুলোর একটি হওয়া উচিত এই জায়গায়: অর্থ কোথা থেকে এল, কোথায় গেল, কে দেখল, কে জানল, কে চুপ থাকল এবং কেন চুপ থাকল, তার একটি পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি ব্যবস্থা তৈরি করা।
নইলে আজ একজনের নাম আসবে, কাল আরেকজনের নাম আসবে, পরশু আরও বড় অঙ্কের কথা শোনা যাবে। জনগণ শুধু তাকিয়ে থাকবে, আর রাষ্ট্র বারবার বলবে, “তদন্ত চলছে।”
এই চক্র ভাঙতেই হবে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আসলে কোন বাংলাদেশ বানাচ্ছি? একদিকে জিন্নাহ, ভারত, পাকিস্তান, কে দেশপ্রেমিক আর কে দেশদ্রোহী, কে কার ছবি রাখবে আর কে কার ছবি ছিঁড়বে, এসব নিয়ে উত্তেজনা। অন্যদিকে অর্থ পাচার, চাঁদাবাজি, ঘুস, দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও তদন্ত।
দেশের মানুষ যখন দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে চিন্তিত, তখন রাষ্ট্র ও সমাজের শক্তি কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সেটি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।
ইতিহাসকে বাদ দিতে বলছি না। বরং ইতিহাস আরও বেশি করে জানতে বলছি। কিন্তু ইতিহাস যেন বর্তমানের ব্যর্থতা ঢাকার পর্দা না হয়। জিন্নাহর ছবি থাকলেই বাংলাদেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে না, আবার জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসও নিরাপদ হয়ে যাবে না। ইতিহাসকে সম্মান করার সবচেয়ে বড় উপায় হলো ইতিহাসকে সত্যের সঙ্গে দেখা।
বাংলাদেশের সামনে এখন জরুরি প্রশ্ন হলো, কে জিন্নাহর ছবি রাখল বা কে ছিঁড়ল, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন: দেশের টাকা কোথায় যাচ্ছে? জনগণের অধিকার কোথায় যাচ্ছে? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর? ঘুস ছাড়া সাধারণ মানুষ কতটা সেবা পাচ্ছে? চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতটা কঠোর? দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে শেষ পর্যন্ত কতজনের বিচার হয়? আর যারা দেশের সম্পদ বিদেশে নিয়ে যায়, তাদের কাছ থেকে সেই সম্পদ ফিরিয়ে আনার সক্ষমতা আমাদের কতটা আছে?
বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে এখনই কয়েকটি বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। প্রথমত, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে তদন্তকে রাজনৈতিক পরিচয়-নিরপেক্ষ করতে হবে। অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই হোক, প্রমাণ থাকলে তদন্ত ও বিচার হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, চাঁদাবাজি, ঘুস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সংবাদ সম্মেলন, মামলা বা বক্তব্য দিয়ে দুর্নীতি কমবে না। জনগণকে ফল দেখতে হবে।
তৃতীয়ত, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাবে আর আমরা শুধু “কেন হলো?” বলে আলোচনা করব, এটা চলতে পারে না।
চতুর্থত, ইতিহাস নিয়ে গবেষণা হোক, বিতর্ক হোক, প্রশ্ন হোক। কিন্তু ইতিহাসের নামে উসকানি, প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
পঞ্চমত, রাষ্ট্রের মূল শক্তি যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্তেজনা বা প্রতিদিনের রাজনৈতিক নাটকে নষ্ট না হয়। রাষ্ট্রের শক্তি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
সবশেষে সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশ কারও ভারতপন্থি, পাকিস্তানপন্থি, আমেরিকাপন্থি বা অন্য কোনো দেশের অনুসারী হওয়ার জন্য স্বাধীন হয়নি। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে নিজের মানুষের জন্য, নিজের রাষ্ট্রের জন্য, নিজের ভবিষ্যতের জন্য।
তাই এখন সময় এসেছে একবার আয়নার সামনে দাঁড়ানোর। আমরা কি সত্যিই স্বাধীন দেশের নাগরিকের মতো আচরণ করছি?
নাকি এখনও অন্যের প্রশংসা, অন্যের নিন্দা, পুরোনো ইতিহাসের বিতর্ক আর নিজেদের স্বার্থের রাজনীতিতে এতটাই ব্যস্ত যে, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আসল বিপদটাই দেখতে পাচ্ছি না?
বাংলাদেশের জন্য এটি আর সাধারণ সতর্কবার্তা নয়। এটি একটি জরুরি জাতীয় সতর্কসংকেত।
দেশের মানুষকে বিভক্ত করে, ইতিহাসকে টেনে এনে, একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে এবং দুর্নীতিকে স্বাভাবিক জীবনের অংশ বানিয়ে কোনো দেশ টিকে থাকতে পারে না। বাংলাদেশের মানুষ অনেক সহ্য করেছে। এখন প্রয়োজন দেশকে নিয়ে নতুন করে ভাবার।
কারণ বাংলাদেশ ভালো না হলে শুধু বাংলাদেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত বৃহত্তর বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখনও সময় আছে। কিন্তু সময়টা যেন শেষ হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় না থাকি।
রহমান মৃধা
গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
ই-মেইল: rahman.mridha@gmail.com
এমআরএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভাষাসৈনিক প্রয়াত আবদুল মতিনের অসুস্থ সহধর্মিণী গুলবদন নেছা মনিকার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলবদন নেছা মনিকার বাসভবনে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মহান ভাষা আন্দোলনে ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের অনন্য অবদান, তার রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামী স্মৃতি এবং মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন নিতাই রায় চৌধুরী। মন্ত্রী বলেন, ভাষাসৈনিকদের ত্যাগ ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এ সময় গুলবদন নেছা মনিকার চিকিৎসার জন্য শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তার হাতে তুলে দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী। একই সঙ্গে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। এ সময় শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের দুই কন্যা উপস্থিত ছিলেন। ইসমাইল সিরাজী/এমএমএআর
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বিবিএ অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে প্রাইম ব্যাংক পিএলসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম প্রাইম ব্যাংক পিএলসি বিভাগের নাম কার্ডস, কনজিউমার অ্যান্ড এসএমই ব্যাংকিং পদের নাম সিনিয়র ম্যানেজার পদসংখ্যা ১ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবিএ অথবা সমমান অভিজ্ঞতা ৫ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা ১১০,০০০ টাকা বয়সসীমা সর্বনিম্ন ৩২ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাবর্ডার গার্ড বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার সহজ উপায়সেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
ভুটানের গ্যালেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি) উন্নয়নে বাংলাদেশ অবদান রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে এ প্রকল্পে সহযোগিতা করতে চায় ঢাকা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কার্মা হামু দর্জির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এসব তথ্য জানান। সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় হুমায়ুন কবির বলেন, ভুটানের গ্যালেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির উন্নয়নে বাংলাদেশ অবদান রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে এ প্রকল্পে সহযোগিতা করা যেতে পারে। এ সময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্যোগের কথা স্মরণ করে সার্ক পুনরুজ্জীবনে ভুটানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে এ অঞ্চলের দেশ ও জনগণ সম্মিলিতভাবে উপকৃত হবে। সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূত গত ২৬ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের রাজাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ওই সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে ভুটানের রাজাকে অভ্যর্থনা জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত। এমইউ/এমএএইচ/