দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সামনাসামনি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আসিফ মাহমুদকে দুদক ফেস করা লাগবে না, শুধু আমাকে সামনাসামনি ফেস করুক! এরপর তিনি দুর্নীতি করেছেন কি, করে নাই সেটা আমি প্রমাণ করে দেবো। সরকারের উপদেষ্টা হয়ে কেন এবং কী কারণে বেসরকারি সফরে দুবাই সফরে গেলেন? এটার কোনো সদুত্তর আজও তিনি দিতে পেরেছেন?’
বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের সময় আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছিল জানিয়ে রাশেদ বলেন, ‘সে সময়কার দুদক এতো নিরপেক্ষ হলে এপিএস মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে তদন্ত করলেও আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে কেন তদন্ত করতে দেওয়া হয়নি? তখন যদি অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদক তদন্ত করে ফেলতো, তাহলে তো বর্তমানে কোনো তদন্তের প্রয়োজন হতো না!’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট
‘আর বড় বিষয় হলো, আজকে প্রেস ক্লাবে দুর্নীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কারের প্রোগ্রামে আসিফ মাহমুদের পাশে কেন কোনো সিনিয়র নেতাকে পাওয়া গেলো না? এরই মধ্যে এনসিপির অফিসে আসিফ মাহমুদের সংবাদ সম্মেলনেও সিনিয়র কোনো নেতাকে পাওয়া যায়নি! তাহলে কি আসিফ মাহমুদকে সাপোর্ট করে সিনিয়র নেতারা নিজেদের গায়ে কোনো দাগ লাগাতে চাচ্ছেন না,’ প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রীর এ রাজনৈতিক সহকারী।
তিনি পোস্টে আরও বলেন, ‘আমি আগেই স্পষ্ট করেছি, আসিফ মাহমুদ দুর্নীতি না করলে জামায়াতের আমির কেন দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এনে তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়তে রাজি হলেন না? আসিফ মাহমুদ কোনো দুর্নীতি না করলে সেসময় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধটাও কেন জামায়াতের আমির রাখলেন না? আসিফ মাহমুদকে মনোনয়ন না দিতে জামায়াতের আমিরকে কে নিষেধ করেছিলো? জাতীয় নির্বাচনে যে কারণে জামায়াতের আমির আসিফ মাহমুদকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়েননি, একই কারণে কি এবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ছাড় দেবেন?’
একিউএফ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ)। দেশি-বিদেশি পর্যটনপ্রেমীদের আকর্ষণ এবং পর্যটন শিল্পের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাড়াতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হবে এ মেলা। চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত মেলার উদ্বোধন করবেন। এ সময় একই মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতারসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন। আরও পড়ুন পোশাকশিল্পের সংকটে চাপে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মেলা উপলক্ষে রাজধানীর এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন সংশ্লিষ্টরা। ওই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এনডোর্সমেন্ট এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এতে প্রায় ৩০০টি বুথ থাকবে। মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিদেশি দূতাবাস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পর্যটন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। মেলার বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেস’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেস’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেস’। পাশাপাশি বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিংয়ের আয়োজন থাকবে। মেলায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে। আরও পড়ুন ভারতের হাতে সুইচ, যে কোনো সময় বিদ্যুৎ বন্ধ করতে পারে আদানি: রিজভী আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় দেশি পর্যটন হাব, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, নৌ পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, কমিউনিটি ট্যুরিজম ও পরিবেশ পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশের পর্যটন প্রচার ও প্রসারের সুযোগ থাকবে। মেলায় শিশু, শিক্ষার্থী, পর্যটন শিল্পের ব্যবসায়ী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণ ও চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন কার্যক্রম রাখা হয়েছে। পর্যটন শিল্পে নারী উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে। এবারের মেলায় টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্লাটিনাম পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট এবং কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ছুটি গ্রুপ। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পার্টনার ও হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে। এমএমএ/কেএসআর
‘আপন ভাইয়ের সম্পদই তো, পরের তো নয়’—এই ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকেই নিজের ভাই কিংবা নিকটাত্মীয়ের মানিব্যাগ বা ড্রয়ার থেকে তাঁর অনুমতি ছাড়াই গোপনে টাকা নিয়ে নেন।অনেকে নিজের অপরাধবোধ হালকা করেন এই ভেবে যে ‘আমি তো চুরি করছি না, শুধু ধার নিচ্ছি এবং হিসাব রাখছি, পরে সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করে দেব।’ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান ও ইসলামি নীতিশাস্ত্রের মানদণ্ডে এই কাজটি কি আদৌ বৈধ? গোপনে নেওয়া এই টাকা কি চুরির পর্যায়ে পড়বে? ইসলামি ফিকহের আলোকে তা জানা জরুরি।ইসলামের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য হলো মানুষের ধনসম্পদের সুরক্ষা। কোনো অবস্থাতেই অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যের সম্পদের পবিত্রতা ইসলামের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য হলো মানুষের ধনসম্পদের সুরক্ষা (হিফজুল মাল)। কোনো অবস্থাতেই অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, “হে ইমানদারগণ, তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ কোরো না, তবে পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত হলে তা ভিন্ন।” (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯)বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধনসম্পদ এবং তোমাদের সম্মান পরস্পরের জন্য হারাম বা পবিত্র; যেমন আজকের এই দিন, এই পবিত্র মাস ও এই পুণ্যময় শহর হারাম বা সম্মানিত।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, “কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্মতি ও সন্তুষ্টচিত্ত ছাড়া তার সম্পদ অপর কারো জন্য হালাল নয়।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২০৬৯৫)মালিক খুঁজে না পেলে অবৈধ সম্পদ থেকে দায়মুক্তির পথ কী‘হিসাব লিখে রাখা’ কি অপরাধ লাঘব করে অনেকে মনে করেন, গোপনে টাকা নিয়ে একটি ডায়েরি বা মোবাইলে হিসাব লিখে রাখলেই বুঝি তা চুরির অপরাধ থেকে মুক্ত হয়ে সাধারণ ‘ঋণ’-এ পরিণত হয়। এটি একটি আত্মপ্রবঞ্চনা ও অজ্ঞতাপ্রসূত ধারণা।ইসলামি ফিকহের মূলনীতি হলো—কোনো লেনদেনকে ‘ঋণ’ (কর্জ) হতে হলে তাতে ঋণদাতার সুস্পষ্ট সম্মতি ও চুক্তি (ইজাব ও কবুল) থাকা অপরিহার্য। মালিকের অজান্তে ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো অর্থ নেওয়া হলে তা কখনোই ধার বা ঋণ হয় না; বরং তা হয় ‘অনধিকার আত্মসাৎ’ বা ‘জবরদখল’ (গসব)।গোপনে হিসাব লিখে রাখা হয়তো ভবিষ্যতে হক আদায়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু গ্রহণের মুহূর্তে অনুমতিহীন এই কাজটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও পাপের কাজ হিসেবেই গণ্য হবে।হানাফি মাজহাবে এটি সাধারণ চুরির শাস্তির আওতায় না এলেও তা ‘খেয়ানত’ ও ‘গসব’, যার জন্য শাসকের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক শাস্তি এবং পরকালে কঠোর জবাবদিহি অবধারিত।ফিকহি দৃষ্টিকোণ ইসলামি আইনশাস্ত্রে সাধারণ চুরি এবং আত্মীয়ের ঘর থেকে গোপনে নেওয়ার মধ্যে ফিকহি পার্থক্য রয়েছে। ফৌজদারি আইনে চুরির সর্বোচ্চ শাস্তি (হাদ) কার্যকর করার জন্য ইসলামে সম্পদটি একটি সুরক্ষিত স্থানে থাকা এবং চোরের সেখানে প্রবেশের কোনো বৈধ অধিকার না থাকা শর্ত।হানাফি মাজহাবে এটি সাধারণ চুরির শাস্তির আওতায় না এলেও তা ‘খেয়ানত’ (বিশ্বাসভঙ্গ) ও ‘গসব’, যার জন্য শাসকের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক শাস্তি এবং পরকালে কঠোর জবাবদিহি অবধারিত। (ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার, ৪/৯৪–৯৭, দারুল ফিকর, বৈরুত)সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় ইসলামের ৫ মূলনীতিইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসি (রহ.) উল্লেখ করেছেন, পরিবার বা একান্নবর্তী ঘরে যেখানে ভাইদের অবাধ যাতায়াত থাকে, সেখানে সম্পদ একক কোনো সুরক্ষায়না থাকার কারণে চুরির দণ্ডবিধি (হাত কাটা) আরোপিত হবে না; কিন্তু এই কাজটি নিষিদ্ধ হওয়া ও পাপ হওয়ার বিষয়ে কোনো আলেম দ্বিমত করেননি। (ইবনে কুদামাহ, আল-মুগনি, ১২/৪৬৪–৪৬৮, দারু আলমিল কুতুব, রিয়াদ, ১৯৯৭ খ্রি.)ব্যতিক্রম কখন হতে পারে পারিবারিক পরিমণ্ডলে এই বিধানের একমাত্র ব্যতিক্রম ঘটে তখনই, যখন দুই ভাইয়ের সম্পর্ক এমন গভীর ও অকৃত্রিম হয় যেখানে পরস্পরের প্রতি ‘প্রচ্ছন্ন বা মৌন সম্মতি’ নিশ্চিত থাকে।কোরআনে আত্মীয়দের ঘরে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন প্রথাগত ছাড়ের কথা বলা হয়েছে (সুরা নুর, আয়াত: ৬১)। ফিকহের সুপ্রসিদ্ধ মূলনীতি হলো, “সামাজিকভাবে স্বীকৃত প্রথা চুক্তির শর্তের সমতুল্য।” (ইমাম সুয়ূতি, আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়ির, পৃষ্ঠা: ৯২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ)অতীতে যিনি এমন ভুল করেছেন, তাঁর জন্য শুধু মনে মনে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলাই যথেষ্ট নয়। কারণ বান্দার হকের সঙ্গে সম্পর্কিত পাপ শুধু আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করলেই মাফ হয় না।যদি কোনো ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে জানে যে তার ভাই তার এই টাকা নেওয়ার কথা জানলে বিন্দুমাত্র মনক্ষুণ্ণ হবেন না, বরং আনন্দের সঙ্গে তাকে নিজের সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দিতেন—শুধু সেই ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া নেওয়া জায়েজ হতে পারে এবং তা চুরির আওতায় পড়বে না।কিন্তু যদি এমন হয় যে ভাই জানতে পারলে ক্ষুব্ধ হবেন, কষ্ট পাবেন কিংবা সম্পর্ক নষ্ট হবে—তবে এক পয়সা নেওয়াও সম্পূর্ণ হারাম এবং তা সুস্পষ্ট আত্মসাৎ হিসেবে সাব্যস্ত হবে।অতীতে যিনি এমন ভুল করেছেন, তাঁর জন্য শুধু মনে মনে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলাই যথেষ্ট নয়। কারণ বান্দার হকের সঙ্গে সম্পর্কিত পাপ শুধু আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করলেই মাফ হয় না।করণীয় হলো, যত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা হুবহু ভাইয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি সরাসরি বলতে লজ্জা বা পারিবারিক অশান্তির ভয় থাকে, তবে কোনো কৌশল অবলম্বন করে (যেমন: ভাইয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে) সেই অর্থ তাঁর হাতে পৌঁছে দিতে হবে।আর যদি ভাই উদার মনে সম্পূর্ণ ক্ষমা করে দেন, তবেই শুধু সেই দায় থেকে মুক্তি মিলবে।ইসলামি বিচারব্যবস্থায় দণ্ড মওকুফের নীতিমালা
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকের নানা সমস্যা বেড়ে যায়। এর মধ্যে দাদ অন্যতম। এটি ডার্মাটোফাইট নামের একধরনের ছত্রাকজনিত ছোঁয়াচে চর্মরোগ। এটি ত্বকে লালচে বা বাদামি রঙের গোলাকার, চাকতির মতো দাগ বা ফুসকুড়ি তৈরি করে। আক্রান্ত স্থানের কিনারা সাধারণত সামান্য উঁচু ও স্পষ্ট থাকে, আর মাঝের অংশ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক বা কম আক্রান্ত দেখা যেতে পারে।শরীরের কোন কোন স্থানে ছত্রাক বেশি হয় ছত্রাক সাধারণত উষ্ণ, আর্দ্র ও ঘামযুক্ত পরিবেশে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই কুঁচকি, ঊরুর ভাঁজ, বগল, স্তনের নিচের অংশ, হাত–পায়ের আঙুলের ফাঁক এবং শরীরের যেকোনো ত্বকের ভাঁজে সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। কুঁচকির সংক্রমণকে সাধারণভাবে ‘জক ইচ’ এবং পায়ের সংক্রমণকে ‘অ্যাথলেটস ফুট’ বলা হয়। এ ছাড়া শিশুদের মাথার ত্বক ও চুল এবং যেকোনো বয়সে নখেও ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। কেন হয় ছত্রাকের সংক্রমণ ছত্রাক সংক্রমণের জন্য পরিবেশগত কারণ গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ঘামদীর্ঘ সময় ভেজা পোশাক পরে থাকাআঁটসাঁট পোশাকত্বকের ভাঁজে আর্দ্রতা ও ঘর্ষণঅপরিচ্ছন্নতা এসব কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, পোশাক, জুতা, বিছানার চাদর বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী ব্যবহার করলেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলেও কিছু ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড ব্যবহারের কারণেও ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।চামড়ার ব্যাগ ও জুতায় ছত্রাক জন্মে কেন, কীভাবে দূর করবেনউপসর্গ কেমন ছত্রাক সংক্রমণের অন্যতম প্রধান উপসর্গ চুলকানি। এর সঙ্গে আক্রান্ত স্থানে লালচে বা বাদামি দাগ, খসখসে ত্বক, চামড়া ওঠা, জ্বালাপোড়া কিংবা ফাটল দেখা দিতে পারে। শরীরের দাদের ক্ষেত্রে দাগটি ধীরে ধীরে বাইরের দিকে বাড়তে পারে। নখে সংক্রমণ হলে নখ মোটা, বিবর্ণ, ভঙ্গুর বা ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।তবে একজিমা, অ্যালার্জি, সোরিয়াসিসসহ বিভিন্ন রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। ফলে শুধু উপসর্গ দেখে নিজে নিজে ছত্রাকের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়।চিকিৎসা কী ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসা নির্ভর করে সংক্রমণের ধরন, স্থান ও বিস্তৃতির ওপর। ত্বকের সীমিত সংক্রমণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা হয়। সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়লে, বারবার হলে অথবা মাথার ত্বক ও নখ আক্রান্ত হলে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম বা স্টেরয়েড-অ্যান্টিফাঙ্গাল মিশ্রিত ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। এসব ক্রিমে সাময়িকভাবে চুলকানি কমলেও সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং রোগের প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়ে চিকিৎসা জটিল হতে পারে।লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, রেজিস্ট্রার, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকাগর্ভাবস্থায় চুলকানি হলে করণীয়