ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মো. মতিউর রহমান নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সব সংবাদকে ভুয়া দাবি করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কারাগার থেকে মতিউরকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যত নিউজ হয়েছে, শতভাগ ফেক। প্রমাণ চাইলে শতভাগ প্রমাণ দিতে পারবো। আমার আইনজীবীর কাছে সব প্রমাণ আছে।’
প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় আজ মতিউরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে এসময় আদালতকে অবহিত করা হয়।
বিষয়টি আমলে নিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর। আগামী ১ নভেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের এ দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি শেষ হয়। পরে ৩ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মতিউরের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়। মামলার পর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মতিউরকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং এক কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করে দুদক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, মতিউরের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে এক কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থে নিজ নামে সম্পদ গোপনসহ মোট পাঁচ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের কোরবানির ঈদে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনাকে কেন্দ্র করে মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক যুবককে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে ইফাতকে মতিউরের ছেলে হিসেবে দাবি করা হলে বিষয়টি দেশজুড়ে ‘ছাগলকাণ্ড’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর মতিউর ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদ নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এমডিএএ/একিউএফ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি করতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চারটি নামজারির জন্য প্রথমে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও, পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় সমঝোতার অভিযোগ করেছেন মহিউদ্দিন খন্দকার নামের এক সেবাপ্রত্যাশী। অভিযোগকারীর দাবি, সমঝোতার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তার হাতে প্রথম কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওতে টাকা নেওয়া ও গোনার দৃশ্যসহ অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মহিউদ্দিন খন্দকার জানান, গত ২০ মে ২০২৬ ভূমি মেলার সময় ছয়টি দলিলের নামজারির জন্য তিনি রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সোবাহানের কাছে যান। এ সময় তার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে দুটি দলিল বাদ দিয়ে চারটি নামজারির জন্য ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে ১০ হাজার টাকা দেন। বাকি ১০ হাজার টাকা নামজারির কাজ শেষ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চারটি আবেদনের মধ্যে মাত্র একটি নামজারি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি মহিউদ্দিনের। বাকি আবেদনগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তোলেন। প্রতিবেদকের হাতে থাকা ভিডিওতে দেখা যায়, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সোবাহানের হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে। পরে ওই ব্যক্তি টাকা গুনে নিজের কাছে রাখছেন। ভিডিওতে নামজারি ও অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনও রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একটি নামজারির নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। সে হিসাবে চারটি নামজারির সরকারি ফি ৪ হাজার ৬৮০ টাকা। সেখানে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘুষ বা অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সোবাহান। তিনি বলেন, মহিউদ্দিন খন্দকার তার কাছে আসেননি এবং সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্রও তার কাছে জমা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন। এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সোবাহান কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষ না হওয়ায় তার আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করা রয়েছে। তবে তিনি মাঝেমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসে কাজ করেন।’ ইউএনও আরও বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। ইতোমধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।’ মাহমুদ হাসান রায়হান/কেজে/এএসএম
বিপিএল না থাকায় চলতি বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি কিংবা নতুন কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রাথমিকভাবে খুলনা ও বরিশালকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। দুই ভেন্যু পরিদর্শনের পর এরই মধ্যে প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে বোর্ড। এখন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে কোন ভেন্যুগুলোতে খেলা আয়োজন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হলেও ভেন্যুটিকে প্রস্তুত করার উদ্যোগ রয়েছে। ফ্লাডলাইট, জায়ান্ট স্ক্রিন, সাইড স্ক্রিন, মিডিয়া প্যাভিলিয়ন, গ্যালারি, সাংবাদিকদের বসার জায়গা, ডাইনিং ও প্রেস কনফারেন্স রুমসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। এনসিএল টি-টোয়েন্টির জন্য অবশ্য আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার ব্যবস্থা অপরিহার্য নয়। স্টেডিয়াম-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অনলাইন সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা সম্ভব। প্রয়োজনে টুর্নামেন্টের জন্য ঢাকাকেন্দ্রিক কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। সূত্রটির ভাষায়, ‘এনসিএল আমরা চালাচ্ছি। এনসিএলের জন্য হয়তো ঢাকা থেকে কিছু ব্যবস্থা করা হবে। তবে চার দিনের খেলা আর টি-টোয়েন্টি খেলার মধ্যে পার্থক্য আছে। এখন সংস্কার কাজ চলায় স্টেডিয়ামের অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন না করলে খেলা চালানো যায় না।’ খুলনার উন্নয়নে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নেওয়া বড় প্রকল্পটিও এগিয়েছে। বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ৫৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পটির টেন্ডার হয়ে গেছে এবং অনুমোদনও মিলেছে। খুলনায় শিগগিরই কাজ শুরুর আশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এনএসসি যে প্রকল্প নিয়েছে ওটা টেন্ডার হয়ে গেছে। ৫৫০ কোটি টাকার উপরে। ওটা পাস হয়ে গেছে। খুলনায় ইনশাআল্লাহ কাজ শুরু হবে।’ বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগলেও আসন্ন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খুলনাকে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী বিসিবির এই পরিচালক। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, যাবে। ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করতেছি। আমরা তো অলরেডি রাজশাহী ও সিলেটে করছি। ইনশাআল্লাহ খুলনায়ও হবে।’ তবে কোন কোন ভেন্যুতে ম্যাচ হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, খুলনা, বরিশাল, বগুড়া ও রাজশাহী এই চার ভেন্যুকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড। আলমগীর বলেন, ‘না, এটা আলোচনায় আসবে কোন ভেন্যু কোথায় কী আছে না আছে। এখন সবকিছু দেখে এখানে চারটা ভেন্যুকে টার্গেট করা হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল, খুলনা, বগুড়া, রাজশাহী। এখন বাদ পড়া না, এখানে যদি খেলার উপযোগী না হয় তাহলে আয়োজন করা যাবে না।’ ভেন্যুর মান নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখানে খেলা আয়োজন করতে গেলে দর্শকদের বিষয়টি দেখতে হবে, বসার ব্যবস্থা, ড্রেসিংরুম ও সাংবাদিকদের বসার জায়গা থাকতে হবে। এগুলো যদি মানসম্মত না হয়, তাহলে যেসব ভেন্যু মানসম্মত হবে, সেখানেই খেলা আয়োজন করা হবে। এখন এই চারটি ভেন্যুর পরিদর্শন প্রতিবেদন দেখে বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এখনো কোনো ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি।’ খুলনার অবকাঠামো উন্নয়নে বিসিবির পক্ষ থেকেও এনএসসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আলমগীর, ‘আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করছি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এসব বিষয় নিয়ে চিঠি দেওয়া এবং কথা বলার মাধ্যমে যোগাযোগ করে আসছি। মূলত এই কাজগুলো এনএসসিকেই করতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু বলা বা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব, আমরা সেটাই করছি।’ দেশের ভেন্যুগুলোকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। আলমগীর বলেন, ‘ভেন্যু না থাকলে তো আমরাও বিপদে পড়ছি। আমরা এই বিভিন্ন এনসিএল করা বা এসব ইভেন্ট করার জন্য তো মাঠ সব ধ্বংস হয়ে গেছে। খুলনা মাঠ শেষ করে দিছে, বগুড়া মাঠ শেষ করে দিছে। এখন আমরা ভেন্যু কোথায়? বরিশাল এখনো রেডি হয় নাই। কোথায় ভেন্যু বলেন?’ তবে নতুন করে ভেন্যু তৈরির চেয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোকে সংস্কারের মাধ্যমে মানসম্মত করে তোলার দিকেই জোর দিচ্ছে বিসিবি। আলমগীরের ভাষায়, ‘তিন জায়গায় আটকে আছে, ভেন্যুগুলো ছড়াচ্ছে না। আমাদের তো ভেন্যু আছে, সমস্যা তো আমাদের ভেন্যু নাই তা না, ভেন্যু আছে কিন্তু সেগুলো সংস্কার হলেই হয়ে গেল। ভেন্যু থাকলেও তো হবে না, ভেন্যু তো ফোর স্টার আছে, ফাইভ স্টার আছে। ওই মানটা তো থাকতে হবে।’ দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অযত্নে ভেন্যুগুলোর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো তো দিনের পর দিন অবহেলা বা অযত্নের কারণে ভেন্যুগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলো বেসিক কাজ না করলে এগুলো তো আসলে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ বা ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব না।’ বড় পরিসরে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি দর্শকদের মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। সে ক্ষেত্রে ভেন্যুর সুযোগ-সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে আলমগীর বলেন, ‘আমরা যে আয়োজনে বা যে আঙ্গিকে ইভেন্টগুলো করতে চাচ্ছি ওগুলোর জন্য তো ভালো ভেন্যু লাগবে। আমরা আবার দর্শক আনার কথা চিন্তা করতেছি। দর্শক আনতে গেলে ভালো সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট লাগবে, ফ্যাসিলিটিজ লাগবে। সবকিছু মিলাতে কষ্ট হচ্ছে।’ ডিসেম্বরে বড় পরিসরে টি-টোয়েন্টি আয়োজনের লক্ষ্য সামনে রেখে তাই সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোকে যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কাজই এখন বিসিবির অগ্রাধিকার। ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রবল কালবৈশাখী আঘাত হানে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। ঝড়ের তাণ্ডবে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ভবনের প্রেসিডেন্ট বক্স ও বেশ কয়েকটি করপোরেট বক্সের সামনের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বাঁকা হয়ে বেরিয়ে আসে থাই অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেমের কঙ্কাল। বিধ্বস্ত হয় গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনের সাইট স্ক্রিন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অপর প্রান্তের প্রেসবক্সও। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার পর একই বছর বাংলাদেশ জাতীয় দল এখানে কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে খেলে। শুধু ওয়ানডে নয়, বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে, প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। দেশের সপ্তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর খুলনায় প্রথমবার সাদা পোশাকের ক্রিকেট গড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথচলায় এই মাঠে এখন পর্যন্ত ৩টি টেস্ট, ৪টি ওয়ানডে ও ৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলে এখানে। আর সবশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ জয় ২০১৬ সালে, বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এসকেডি/আইএন
নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সুইডেন সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে মধ্য-বাম বিরোধী জোট এখন তিন আসনের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। রোববারের নির্বাচনের অধিকাংশ ভোট গণনা শেষে দেশটির ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে জোটটি ১৭৬টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পেতে পারে ১৭৩টি আসন। সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, দেশটির ৬ হাজার ৩১২টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ৬ হাজার ১৯৫টির ভোট গণনা হয়েছে। দুই জোটের ভোটের ব্যবধান সোমবার সকালে ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসন সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, এই ফল বহাল থাকলে সুইডেনে নতুন সরকার গঠিত হবে। তবে এখনো কোনো পক্ষই চূড়ান্তভাবে জয় বা পরাজয় দাবি করছে না। ৩৫৩টি নির্বাচনি এলাকার ফল এখনো বাকি রয়েছে। বিদেশে দেওয়া ভোটও বুধবারের আগে পুরোপুরি গণনা হওয়ার সম্ভাবনা কম। আরও পড়ুন সুইডেনে সংসদ নির্বাচন, এগিয়ে বিরোধী জোট ২০২২ সালের নির্বাচনেও প্রথম দিকে এক্সিট পোলে মধ্য-বাম জোটকে সামান্য এগিয়ে দেখা হয়েছিল। পরে চূড়ান্ত ফল বদলে যায় এবং উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এবারও বাকি ভোটে ব্যবধান বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দলগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সুইডেন ডেমোক্র্যাটস প্রায় ১১টি আসন হারাতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে। গত চার বছর ধরে দলটি ক্রিস্টেরসন সরকারের বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ডানপন্থি জোট ক্ষমতায় থাকলে এবার প্রথমবারের মতো সরকারে যোগ দেওয়ার প্রত্যাশা ছিল দলটির। মধ্য-বাম জোটের ব্যবধান শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলে ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে সরকার গঠন সহজ নাও হতে পারে। সেন্টার পার্টি লেফট পার্টির সঙ্গে একই সরকারে যেতে রাজি নয়। অন্যদিকে লেফট পার্টি জানিয়েছে, যে কোনো জোট সরকারে তাদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। ফলে সরকার গঠনে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হবে। সুইডেনের পার্লামেন্টের স্পিকার আন্দ্রেয়াস নোরলেন দেশটির টেলিভিশনকে বলেন, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া বেশ জটিল হতে পারে। নির্বাচনের ফল সুইডেনের পশ্চিমাপন্থি ও ইউক্রেন-সমর্থক পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে অভিবাসন ও অর্থনৈতিক নীতিতে এর প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসন নির্বাচনি প্রচারে কল্যাণ খাতে ব্যয় বাড়ানো, আরও ন্যায্য করব্যবস্থা এবং সামাজিক সংহতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। গ্রিন পার্টি ও লেফট পার্টি ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায়ের পক্ষে থাকলেও সেন্টার পার্টি বিলিয়নিয়ারদের ওপর কর আরোপের বিরোধিতা করছে। অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও কম। লেফট ও গ্রিন পার্টি তুলনামূলক নমনীয় নীতির পক্ষে থাকলেও অ্যান্ডারসন বলেছেন, সুইডেনকে অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখতে হবে। চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে বাকি নির্বাচনী এলাকার ফল এবং বিদেশ থেকে আসা ভোট গণনার ওপর। এমআরএম