জাতীয়

ইমরানের পক্ষে দাঁড়িয়ে হোল্ডিং বললেন, ‘কেউ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করে না’

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইমরানের পক্ষে দাঁড়িয়ে হোল্ডিং বললেন, ‘কেউ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করে না’
ইমরানের পক্ষে দাঁড়িয়ে হোল্ডিং বললেন, ‘কেউ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করে না’

‘আপনি তাঁর রানআপ দেখতে দেখতে বল দেখা ভুলে যাবেন।’

কথাটা ক্যারিবিয়ান পেস কিংবদন্তি অ্যান্ডি রবার্টসের। মাইকেল হোল্ডিংকে নিয়ে বলেছিলেন। সত্তর-আশির দশকে ক্যারিবিয়ান সেই বিখ্যাত পেস ‘চতুষ্টয়ে’র একজন হোল্ডিং। বোলিংয়ের সময় তাঁর দৌড় এতটাই মসৃণ ও স্বচ্ছন্দ ছিল যে দৌড়ে যে আসছেন, সেটা আম্পায়ারও শুনতে পেতেন না। দুর্দান্ত এই রানআপ ও ভয়ংকর গতির কারণে ‘হুইসপারিং ডেথ’ নামটা চিরস্থায়ীভাবে লেগে গেছে হোল্ডিংয়ের গায়ে। এবার সেই ‘হুইসপারিং ডেথ’ই মুখ খুললেন ইমরান খানকে নিয়ে।

কিংবদন্তি এ পেসার এবং ক্রিকেটের অন্যতম সম্মানিত কণ্ঠস্বর পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। পাকিস্তানকে অধিনায়ক হিসেবে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। হোল্ডিং তাঁর সাবেক প্রতিপক্ষ এবং বন্ধুর সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, আরও গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সঙ্গেও এমন দুর্ব্যবহার করা হয় না।

ইমরান জেলে আছেন তিন বছরের বেশি সময়। গত দুই সপ্তাহে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রিকেট–বিশ্বে উদ্বেগ বেড়েছে। এর আগে ২২ জন আন্তর্জাতিক সাবেক অধিনায়কের একটি দল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে খোলা চিঠি লিখে ইমরানের মৌলিক মর্যাদা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা, পাকিস্তান কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ ও ওয়াসিম আকরাম ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের সুচিকিৎসা, মৌলিক অধিকার ও মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন এর আগে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিং

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর খেলা ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ইমরান খান এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানের আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে সাপ্তাহিক সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। অভিযোগ, সেসব নির্দেশ ঠিকভাবে মানা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এর আগে ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাঁকে রাখা হয় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। পরীক্ষা করে রাষ্ট্র নিযুক্ত একটি দল, আদালত নির্ধারিত বোর্ড নয়। এরপর দ্রুত তাঁকে ‘মেডিক্যালি ফিট’ ঘোষণা করে ফিরিয়ে নেওয়া হয় কারাগারে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়েই তখন প্রশ্ন তুলে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ২২ জন আন্তর্জাতিক সাবেক অধিনায়ক।

ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউয়ের সঙ্গে আলাপচারিতায় শুরুতে পাকিস্তান ক্রিকেটের বেহাল অবস্থা নিয়ে কথা বলেন হোল্ডিং। এরপর উঠে আসে ইমরানের প্রসঙ্গ। হোল্ডিং বলেন, ‘পাকিস্তানে আরও কিছু বিষয় আছে। আমি সেসবে জড়াতে চাই না, ব্যাপারটা রাজনৈতিক। শুধু একটি নাম উল্লেখ করব—ইমরান খান। হয়তো আপনি রাজনৈতিক পথে হাঁটতে চান না, আমিও চাই না, কিন্তু এটি অত্যন্ত দুঃখজনক গল্প।’

ইমরানকে হোল্ডিংয়ের সমর্থনের পেছনে শুধু দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটারের বন্ধুত্বের সম্পর্কই নেই। ইমরানের বিপক্ষে খেলার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে লন্ডনেও ঘুরেছেন জ্যামাইকান এই সাবেক পেসার। ইমরান তখন তাঁর ক্যানসার হাসপাতাল গড়তে তহবিল সংগ্রহে নেমেছিলেন।

৭২ বছর বয়সী হোল্ডিং সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমি ইমরানের সঙ্গে খেলেছি, তবে বলব না যে খুব বেশি খেলেছি। তাঁর সঙ্গে কিছু ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছি। কাউন্টি ক্রিকেটেও ইমরানের বিপক্ষে কয়েকটি ম্যাচ খেলেছি। তবে ইমরানের সঙ্গে খেলাধুলা ছাড়াও আমি তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। ইমরান যখন ক্যানসার হাসপাতালের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে লন্ডনে ঘুরে বেড়িয়েছে, তখন তাঁর সঙ্গে ঘুরেছিলাম। এ বিষয়ে আমি তাঁকে সাধ্যমতো সমর্থন করার চেষ্টা করেছি।’

হোল্ডিং এরপর বলেন, ‘তাই আমি মানুষটিকে ভালোভাবে জানি এবং তিনি ঠিক কী ধরনের মানুষ, তা আমার জানা আছে। বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইমরান খানের সঙ্গে যা ঘটছে, তা দেখা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবেক অধিনায়কেরা যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন হোল্ডিং। বিষয়টি রাজনীতি দিয়ে নয়, বরং মানুষের মৌলিক মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন কিংবদন্তি।

১৯৯২ বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ইমরান খান

হোল্ডিং জোরালোভাবে বলেন, ‘যে অধিনায়কেরা ওই চিঠি লিখেছেন, আমি তাঁদের পুরোপুরি সমর্থন করি। এর কী প্রভাব পড়বে আমি জানি না, তবে মানুষটিকে যেন সাধারণ মানুষের মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়—সেই চেষ্টার প্রতি আমি পূর্ণ সমর্থন করি। কেউ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করে না। খুনির সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয় না। তাহলে এই মানুষটির সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হবে, তার কোনো কারণ আমি দেখি না।’ তাঁর এসব কথা প্রমাণ করে যে তাঁর এই আহ্বান রাজনীতির চেয়ে মানবতার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।

হোল্ডিং আরও বলেন, ‘এর পেছনে কোনো ঈর্ষা কাজ করছে কি না, আমি জানি না। কারণ, ইমরান খানের মতো...বিশ্বজুড়ে এত বেশি পরিচিত কোনো পাকিস্তানি নাগরিক আছেন বলে আমার মনে হয় না। ওই মানুষটির সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা এককথায় হাস্যকর।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৬০ টেস্টে ২৪৯ উইকেট নিয়েছেন হোল্ডিং। ১০২ ওয়ানডেতে তাঁর শিকার ১৪২ উইকেট। খেলা ছাড়ার পর ধারাভাষ্যেও কিংবদন্তিতুল্য হয়ে উঠেছিলেন। ভারি ও পরিশীলিত কণ্ঠের জন্য অনেকের চোখেই তিনি মাইক্রোফোনের সামনে ক্রিকেটের মরগান ফ্রিম্যান। কিন্তু ২০২১ সালে ক্রিকেট ধারাভাষ্যকেও বিদায় জানান হোল্ডিং।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, যুবক আটক
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, যুবক আটক

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় আব্দুর রহমান ওরফে সম্রাট নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে র‍্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ

মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে র‍্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ

পূজায় মদ খেয়ে নাচানাচি করলে ঘাড় ধরে নিয়ে আসব: পুলিশ সুপার

পূজায় মদ খেয়ে নাচানাচি করলে ঘাড় ধরে নিয়ে আসব: পুলিশ সুপার

মানিকগঞ্জে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মা ইলিশ রক্ষায় ২৮ হাজার ৯২৯ জেলেকে ৭২৩ মেট্রিক টন চাল
মা ইলিশ রক্ষায় ২৮ হাজার ৯২৯ জেলেকে ৭২৩ মেট্রিক টন চাল

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পদ্মা-মেঘনা নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা একটি জেলা। এই জেলার নদীগুলোতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। চলতি মৌসুমে ইলিশের প্রধান প্রজনন মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে মাছ ধরার ওপর আজ (৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে আগামী (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত পর্যন্ত মোট ২২ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জেলার মোট চারটি উপজেলা— জাজিরা, নড়িয়া, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জে এ সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা হিসেবে সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে বিজেপি

‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে বিজেপি

সেই সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন

সেই সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন

বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ

বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ

0 Comments