আপনি কি কখনো ভেবেছেন, একজন খাটো, চুপচাপ, অসুস্থ ছেলেটা কীভাবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠল?
প্রশ্নটা সহজ, কিন্তু উত্তরটা যতটা বাস্তব, ততটাই অনুপ্রেরণামূলক।
এই গল্পটা কারো রূপকথা নয়। এটা লিওনেল আন্দ্রেস মেসি — এক বাস্তব জীবনের কিংবদন্তির কাহিনি।
মেসির জন্ম ১৯৮৭ সালে, আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। ছোটবেলায়ই দেখা দেয় শারীরিক সমস্যা — তার শরীরে বৃদ্ধি হরমোন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। চিকিৎসা ব্যয় এত বেশি ছিল যে তার পরিবার প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়ে।
কিন্তু ভাগ্য বদলায় যখন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা তার প্রতিভা চিনে নেয়, এবং দায়িত্ব নেয় মেসির চিকিৎসার।
সেখান থেকেই শুরু হয় এক মহান যাত্রা—যা শুধুই ট্রফি বা গোল নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় আর নীরব সাফল্যের প্রতীক।
আমরা যখন সফলতা ভাবি, তখন চোখে ভেসে ওঠে জাঁকজমক, জয়ের উল্লাস আর গ্ল্যামার।
কিন্তু মেসির গল্প আমাদের শেখায়—নীরবে কাজ করে যাও, সময় আসলে পুরো দুনিয়া তোমাকে চিনবে।
এই লেখায় আমরা মেসির জীবন থেকে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরব—যা কেবল একজন ফুটবলপ্রেমী নয়, বরং যে কেউ, যেকোনো বয়সে নিজের জীবনে কাজে লাগাতে পারে।
চলো, শিখে নিই সেই শিক্ষা, যে শিক্ষা একজন খাটো ছেলেকে ফুটবলের আকাশছোঁয়া শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
যখন ছোট ছিল, তখন কেউ ভাবত না এই ছেলেটা একদিন বিশ্বের সেরা ফুটবলার হবে।
লিওনেল মেসির উচ্চতা স্বাভাবিক ছিল না, কারণ তার দেহে “Growth Hormone Deficiency (GHD)” ছিল।
অর্থাৎ, তার শরীর ঠিকভাবে বেড়ে উঠছিল না। বয়স বাড়ছিল, কিন্তু গড়ন ছিল ছোটদের মতো।
একজন ফুটবলারের জন্য যেটা সরাসরি ক্যারিয়ারে প্রতিবন্ধক।
মেসির বাবা-মা অনেক চেষ্টা করেছিলেন—চিকিৎসা চালিয়ে যেতে, খেলা চালু রাখতে।
কিন্তু তখন আর্জেন্টিনায় এ চিকিৎসা খরচ এত বেশি ছিল যে তাদের পক্ষে চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ঠিক তখনই—মেসির জীবন বদলে দেয় বার্সেলোনা ক্লাব।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্লাবটি মেসির প্রতিভা দেখে তাকে স্পেনে নিয়ে আসে, তার চিকিৎসা, থাকা–খাওয়াসহ সব দায়িত্ব নেয়।
এবং সেই ছোট্ট ছেলেটা নিজের সীমাবদ্ধতা সঙ্গী করেই খেলা চালিয়ে যেতে থাকে, প্রতিদিন আরও পরিশ্রম করতে থাকে।
⏳ কেউ যখন বলত "তুমি অনেক ছোট", তখন মেসি বলত না কিছু—জবাব দিত মাঠে গোল দিয়ে।
জীবনে সীমাবদ্ধতা থাকবে—তা শারীরিক, আর্থিক বা মানসিক। কিন্তু সেগুলোই যদি তোমাকে থামিয়ে দেয়, তাহলে তুমি হেরে যাবে।
আর যদি সেই সীমাবদ্ধতা থেকেই শক্তি পাও, তাহলে একদিন সেই বাধাই হবে তোমার সাফল্যের প্রেক্ষাপট।
মেসির মতো কেউ যদি ছোট শরীরে বিশাল স্বপ্ন বয়ে নিয়ে চলতে পারে—তাহলে তুমিও পারো।
লিওনেল মেসির জীবনজুড়ে এক জিনিস সবসময় একই থেকেছে—প্রতিদিন একটু ভালো হওয়ার চেষ্টা।
সে কখনো বলে না “আমি সেরা” কিংবা “আমার আর শেখার কিছু নেই।”
বরং তার প্রতিটি অনুশীলন, প্রতিটি ম্যাচ যেন আরও উন্নত হওয়ার এক নতুন সুযোগ।
ছোটবেলা থেকেই মেসি নিজেকে প্রতিদিন একটু করে গড়ে তুলেছে।
⚽ সে শুধু গোল করাকে দক্ষতা মনে করত না,
বরং পাস, ড্রিবল, স্পিড, ফিটনেস—সবকিছুতে সে নিজেকে সময় দিয়েছে।
আর এখানেই তার আসল জাদু।
মেসি একবার বলেছিল,
“আমি কখনো নিজেকে নিখুঁত ভাবি না। আমি জানি, কালকে আরও ভালো করা যাবে।”
এই মনোভাবই তাকে করেছে ইতিহাসের সবচেয়ে কনসিসটেন্ট (স্থায়ী সাফল্যমণ্ডিত) ফুটবলারদের একজন।
আজ তুমি যেখানে আছ, সেটাই শেষ না।
প্রতিদিন ১% উন্নতি হলেও, এক বছর পরে তুমি থাকবে ৩৭ গুণ উন্নত অবস্থানে।
(এটা কিন্তু গাণিতিক সত্য, ১.01ⁿ = 37.78 যখন n = 365!)
মেসির গল্প বলে, “সেরা হওয়া জরুরি নয়—প্রতিদিন একটু করে ভালো হওয়াটাই আসল।”
তুমি যদি নিয়ম করে নিজের পড়াশোনা, কাজ, স্কিল বা মানসিকতা একটু একটু করে ঠিক করো,
তাহলে সাফল্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আজকের দুনিয়ায় সফলতা মানেই যেন বাহাদুরি, শিরোনামে থাকা, ক্যামেরার সামনে নিজেকে জাহির করা।
কিন্তু লিওনেল মেসি যেন এর একদম উল্টো —
তিনি সবসময় শান্ত, নম্র, চুপচাপ কাজ করে যান।
কখনো রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান না, গোল করার পরও অহংকার দেখান না, কথার চেয়ে পারফরম্যান্সেই বিশ্বাস রাখেন।
তার ক্যারিয়ারে অনেক সময় এসেছে যখন তিনি চাইলেই রাগ করতে পারতেন, কথা বলতেই পারতেন।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে হেরে গেছেন
৩ বার কোপা আমেরিকার ফাইনাল খুইয়েছেন
২০২1 সালের আগে দেশের জার্সিতে কোনো ট্রফিই ছিল না
কিন্তু তারপরও তিনি দলের প্রতি বিশ্বাস হারাননি, অভিমান করলেও মাঠ ছাড়েননি।
তার ধৈর্য আর আত্মনিয়ন্ত্রণ তাকে করেছে "লিডার", কেবল খেলোয়াড় নয়।
নম্রতা কখনো দুর্বলতা নয়। বরং সেটা এমন এক শক্তি, যা তোমাকে ভিতর থেকে গড়ে তোলে।
আর ধৈর্য?
সেটা হলো সাফল্যের আগে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
যখন চারপাশের মানুষ তোমাকে ছোট করে দেখে, ফল আসছে না, বারবার হেরে যাচ্ছো—
তখনো যদি তুমি ভেঙে না পড়ে সামনে এগিয়ে যাও,
তাহলেই একদিন জয় আসবেই।
মেসির জীবন বলে,
"চুপ থেকে কাজ করো, কথা বলবে তোমার ফলাফল।"
অনেকে ভাবে, মেসি হয়তো ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভার অধিকারী।
ঠিক কথা।
কিন্তু শুধু প্রতিভা থাকলেই কি কেউ ইতিহাসের সেরা হয়ে ওঠে?
না।
মেসির প্রতিভার চেয়েও বড় জিনিস হলো তাঁর নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম।
মাত্র ৮ বছর বয়স থেকেই মেসি প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা অনুশীলন করতেন।
বার্সেলোনায় যাওয়ার পর তিনি যখন অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের মধ্যে পড়ে গেলেন, তখনও তিনিই সবচেয়ে আগে মাঠে যেতেন,
সবার পরে প্র্যাকটিস শেষ করতেন।
একবার এক কোচ বলেছিলেন—
"মেসির সবচেয়ে বড় গুণ, সে খেলার পরে একাই মাঠে দাঁড়িয়ে ড্রিবলিং আর ফিনিশিং প্র্যাকটিস করত।
যখন সবাই বিশ্রাম নিচ্ছে, তখন সে কাজ করত চুপচাপ।"
ইনজুরি থেকে ফিরে জিমে ঘন্টার পর ঘন্টা
প্রতিটি ম্যাচের ভিডিও দেখে ভুল খুঁজে বের করা
নিজের খেলা নিয়ে সর্বদা সিরিয়াস — যেন সে নতুন এক শিক্ষার্থী
সে কারণেই এত বছর পরেও, এত কিছু জেতার পরেও মেসি আজও ভয়ংকর ধারাবাহিক ও কার্যকর।
আমরা অনেকেই সফলতার শর্টকাট খুঁজি।
কিন্তু মেসি বলেন না, “আমি ছোট ছিলাম, তাই ছাড় পাচ্ছি।”
তিনি বিশ্বাস করেন, “প্রতিভা যখন পরিশ্রমকে সঙ্গে পায়, তখনই সে কিংবদন্তি হয়ে ওঠে।”
তুমি যদি শুধু স্বপ্ন দেখো, কিন্তু পরিশ্রম না করো — তাহলে সেটা কেবল কল্পনা।
আর যদি প্রতিদিন একটু একটু করে চর্চা করো, চেষ্টা চালিয়ে যাও —
তাহলে স্বপ্ন একদিন বাস্তব হবেই।
প্রতিভা, পরিশ্রম, নম্রতা—এসব থাকলেও যদি জীবনের লক্ষ্য পরিষ্কার না থাকে, তাহলে মানুষ মাঝপথেই হারিয়ে যায়।
কিন্তু মেসি শুরু থেকেই জানতেন—তিনি শুধু ভালো খেলোয়াড় হতে চান না, তিনি দেশের জন্য, নিজের ভালোবাসার ক্লাবের জন্য ইতিহাস গড়তে চান।
অনেক ক্লাব প্রচুর টাকায় মেসিকে নিতে চেয়েছিল।
তবু তিনি বার্সেলোনায় থেকে গেছেন ২১ বছর—শুধু পেশাদারিত্ব নয়, ভালোবাসা আর লক্ষ্য ছিল দলের সঙ্গে বড় কিছু করার।
বারবার হেরেছেন—বিশ্বকাপ ফাইনাল, কোপা আমেরিকা ফাইনাল।
ম্যাচ শেষে কেঁদেছেন, দেশের সমালোচনা শুনেছেন, রাগ করে অবসরও নিয়েছিলেন।
তবু ফিরে এসেছেন। কেন?
কারণ তাঁর লক্ষ্য ছিল দেশের হয়ে কিছু জেতা। দেশের জন্য ইতিহাস গড়া।
এবং ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা আর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে সেটা করে দেখিয়েছেন।
আমরা জীবনে অনেক কিছুই করতে চাই—ভালো রেজাল্ট, ভালো ক্যারিয়ার, নাম, খ্যাতি।
কিন্তু যদি পরিষ্কার লক্ষ্য না থাকে, তাহলে মনোযোগ ছড়িয়ে যায়, উৎসাহ হারিয়ে যায়।
তুমি যদি জানো, কোথায় যেতে চাও—তাহলে রাস্তা খুঁজে পাবে।
আর যদি লক্ষ্যই না ঠিক করো, তাহলে দুনিয়ার কোনো GPS-ও তোমাকে পৌঁছে দিতে পারবে না।
মেসির জীবন বলে—
"কোনো কিছুই অসম্ভব না, যদি তুমি জানো তুমি কিসের জন্য লড়ছো।"
লিওনেল মেসির জীবন কেবল একজন ফুটবলারের ট্রফি আর রেকর্ডের গল্প নয় —
এটা এক শান্ত, আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী মানুষের গল্প, যে নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করেছে লক্ষ্যে পৌঁছাতে।
আমরা সবাই জীবনে কোথাও না কোথাও আটকে যাই—
👉 কখনো শরীর, কখনো পরিস্থিতি, কখনো নিজের ভিতরের ভয় আমাদের থামিয়ে দেয়।
কিন্তু মেসি শিখিয়ে দিয়েছেন, “যদি তুমি চুপচাপ নিজের পথে থাকো, পরিশ্রম চালিয়ে যাও, এবং লক্ষ্য না ভুলো — তাহলে একদিন পুরো দুনিয়া তোমার পাশে দাঁড়াবে।”
✅ সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা না
✅ উন্নতি করতে হয় ধীরে ধীরে
✅ নম্রতা আর ধৈর্য আসল শক্তি
✅ পরিশ্রম ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়
✅ স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে হার মানে না
"জাদু নেই, shortcut নেই — আছে কেবল বিশ্বাস, পরিশ্রম আর নিজের স্বপ্নে দাঁতে দাঁত চেপে লেগে থাকা।"
তুমি যদি আজ থেকে নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করো, পরিশ্রম শুরু করো—তাহলে একটা সময় এসে তুমি নিজেকেই চিনতে পারবে না।
কারণ তখন তুমি আর ‘সাধারণ’ থাকবা না — তুমি হবো নিজের জীবনের ‘মেসি’।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইতিহাসের পাঠ্যবই কিংবা নানা গবেষণায় শায়েস্তা খানের আমলে টাকায় আট মণ চালের বিষয়টি এত বিশদভাবে চর্চিত হয়েছে যে, বিভিন্ন সময় সস্তা দামের প্রসঙ্গ আসলেই শায়েস্তা খানের আমলের বিষয়টি সামনে আসে। নানা সময়ে ইতিহাস গবেষকদের কাছেও এই প্রশ্ন সামনে এসেছে যে আসলেই কি শায়েস্তা খানের আমলে জিনিসপত্র খুব সস্তা ছিল? চালের দাম সস্তা থাকার মানে কি সেই সময় মানুষ খুব সুখে ছিল?
ফেসব্যাক্সট্ম Camp Nou রেনোভেশন প্রকল্প ২০২৩ সালের জুনে শুরু হয়ে দীর্ঘ বিলম্বের পর, অবশেষে গ্যাম্পার ট্রফির মাধ্যমে ১০ আগস্ট ২০২৫ সালে ‘আংশিক’ কার্যক্রমে ফিরছে বার্সেলোনা। এই সময় পর্যন্ত ক্লাব ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে মিল রেখেও রয়েছে ফিনান্সিয়াল ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, যা প্রকল্পকে ধাপে এগিয়ে দিয়েছে। সময়সূচির পরিবর্তন ও প্রগতির সারাংশ বার্সেলোনা থেকে ২০২৩–২০২৬ সময়ের ‘Espai Barça’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে Camp Nou পুনর্নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালের জুনে, যা শুরুতে ডিসেম্বরে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫–এ সরাসরি এবং ২০২৬–এর গ্রীষ্মে সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে reuters.com+15padmagazine.co.uk+15fcbarcelonanoticias.com+15thisismoney.co.uk+3eurofootball.news+3reddit.com+3 । মাঠে বায়ো-হাইব্রিড ঘাস বসানো শুরু হয়েছে এপ্রিল ২০২৫–এ, যা মূল যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে । ১ম ও ২য় স্তরে প্রায় ৩৯,০০০ সিট বসানো সম্পন্ন, ৩য় শ্রেণির ভিত্তিক নির্মাণ চলছে ও VIP রিং‑এর কাঠামো তৈরি দ্রুতগতি পেয়েছে । আর্থিক পুনর্গঠন ও ঋণের অধঃবিন্যাস রেনোভেশনের জন্য €১.৪৫–€১.৫ বিলিয়ন ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে €৪২৪ মিলিয়ন বর্তমানে বন্ড ইস্যু করে, ২০২৮ থেকে ২০৩৩-৫০ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে পরিশোধ পরিকল্পনা করা হয়েছে । এই ধরণের আর্থিক পদক্ষেপ ক্লাবের বার্ষিক রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে স্পন্সরশিপ ও টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে €২০০–€৩৫০ মিলিয়ন সম্ভাব্যভাবে অর্জনের হিসেব আছে । প্রশাসনিক বাধা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া গ্যাম্পার ট্রফির আগে সিটি কাউন্সিল, ফায়ার সার্ভিস, মসোস দ’Esquadra ও UEFA-র সাথে বেশ কিছু পারমিট নিতে হবে as.com । বার্সেলোনা পাত্তা দিচ্ছে নেই, এবং আশা করছে জুলাই মাসে আংশিকভাবে লাইসেন্স পেয়ে যাবে । তবে, VIP সেকশন, পঞ্চম তলা, ছাদ অর্থাৎ “roof” ইনস্টলেশন ২০২৬ গ্রীষ্মে সমাপ্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে । ⚽ গ্যাম্পার ট্রফি ও স্বাগতম চান্স ১০ আগস্ট Trofeu Joan Gamper আংশিকভাবে নতুন Camp Nou-তে আয়োজনের পরিকল্পনা, যেখানে আনুমানিক ৫০,০০০–৬০,০০০ দর্শক অংশ নিতে পারে cincodias.elpais.com+13as.com+13elpais.com+13 । ছাদ ছাড়া, লিফ্ট, গ্যালারি, ভিআইপি এলাকা ও বাথরুমে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে — ক্লাব এটি “ট্রায়াল ফেজ” হিসেবে দেখছে, এবং ভক্তদের ধৈর্য কামনা করেছে । সারসংক্ষেপ উপাদান অবস্থা উল্লেখযোগ্য তারিখ মাঠ ও সিট ঘাস বসানো–সিটিং প্রায় সম্পন্ন এপ্রিল–মে ২০২৫ VIP/তৃতীয় শ্রেণি কাঠামো তৈরি প্রক্রিয়াধীন চলমান ছাদ বিলম্বিত, ২০২৬ গ্রীষ্মে সম্ভাব্য — পারমিট অপেক্ষমাণ, জুলাইয়ে মিলতে পারে — আংশিক খোলা গ্যাম্পার ট্রফি: ১০ আগস্ট ২০২৫ ১০ আগস্ট ২০২৫ পূর্ণ উদ্বোধন ২০২৬ গ্রীষ্মের দিকে — ঋণ পুনর্গঠন €৪২৪ মিলিয়ন বন্ড, ২০৩৩–৫০ পর্যন্ত সময়সীমা জুন ২০২৫ Spotify Camp Nou ইউরোপের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশের পথে; তবে নির্মাণ বিলম্ব এবং পারমিট-সংক্রান্ত বাধাগুলি টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জের শুরু। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন অর্থসঙ্কট সামলে রাখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। ক্লাবের এখন মূল অগ্রাধিকার আছে — ১০ আগস্টে আংশিক রিটার্ন দিয়ে ফ্যানদের সাথে পুনঃমিলন ঘটানো। আর এটি যদি সাফল্যের সাথে সফল হয়, তাহলে পরবর্তী বছরের পূর্ণাঙ্গ ক্যাপাসিটিতে ফিরতে সহজ পথ উন্মোচিত হবে।
স্পেনের উদীয়মান ফুটবল তারকা নিকো উইলিয়ামসকে নিয়ে চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। অ্যাথলেটিক বিলবাও-এর এই তরুণ উইঙ্গার নিজেই প্রকাশ করেছেন, তিনি বার্সেলোনায় যোগ দিতে আগ্রহী। তবে অর্থনৈতিক বাধা এবং ক্লাবগুলোর অবস্থান এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ঘিরে তৈরি করেছে নাটকীয়তা। খেলোয়াড়ের ইচ্ছা স্পষ্ট নিকো উইলিয়ামস এরইমধ্যে অ্যাথলেটিক বিলবাও ক্লাব কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তিনি হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনায় খেলতে আগ্রহী। একাধিক সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে, বার্সার নতুন কোচ ফ্লিকও উইলিয়ামসকে তার স্কোয়াডে পেতে আগ্রহী। ট্রান্সফার ফি ও ক্লজ নিয়ে জটিলতা নিকোর চুক্তিতে থাকা রিলিজ ক্লজ ৫৮ মিলিয়ন ইউরো, যা বার্সেলোনা পরিশোধে প্রস্তুত। তবে অ্যাথলেটিক বিলবাও চাচ্ছে পুরো অর্থ একসাথে (lump sum) বুঝে নিতে, যেখানে বার্সা চাচ্ছে কিস্তিতে (installments) পরিশোধ করতে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অ্যাথলেটিক লা লিগার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। তারা চাইছে বার্সেলোনার আর্থিক অবস্থা এবং ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে নীতিমালা মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হোক। বার্সেলোনার জবাব বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তা এক বিবৃতিতে বলেছেন, "আমরা রিলিজ ক্লজ পরিশোধে প্রস্তুত এবং কোনো ধরনের গোপনীয়তা নেই। অ্যাথলেটিক যদি চায়, তারা তদন্ত করতেই পারে।" তবে লা লিগা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবাসের মতে, "বার্সেলোনা এখনো ১:১ ফিন্যান্সিয়াল নীতির আওতায় আসেনি। নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে হলে তাদের এই শর্ত পূরণ করতে হবে।" অন্য ক্লাবগুলোর আগ্রহ নিকো উইলিয়ামসকে দলে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বায়ার্ন মিউনিখ ও আর্সেনালও। তবে খেলোয়াড় নিজে জানিয়েছেন, তার অগ্রাধিকার বার্সেলোনা। এই কারণে অ্যাথলেটিক বিলবাও যদি তাকে বিক্রি করতেই চায়, তাহলে বার্সাই তার প্রথম পছন্দ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে? বার্সেলোনার প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু হবে ৯ জুলাই। এর আগেই নিকোর ট্রান্সফার সম্পন্ন করতে চায় উভয় পক্ষ। তবে রিলিজ ক্লজ এককালীন না দিলে অ্যাথলেটিক তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে। নিকো উইলিয়ামসের সম্ভাব্য বার্সেলোনা যোগদান স্প্যানিশ ফুটবল ভক্তদের মাঝে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বার্সেলোনা কীভাবে অর্থনৈতিক জটিলতা মোকাবিলা করে তার কাঙ্খিত উইঙ্গারকে দলে ভেড়ায়।