বাংলাদেশের ত্রিচক্র অর্থনীতির সামনের চাকা হলো রেমিট্যান্স। তবে বিদেশে শ্রমশক্তি প্রেরণে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আশঙ্কা যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন কারণে শ্রমবাজার সংকুচিত হচ্ছে। শ্রমশক্তি রপ্তানি হ্রাসের সঙ্গে রেমিট্যান্স সেক্টরে যুক্ত হয়েছে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী কর্মীর অপ্রত্যাশিত ও অসময়ে ফেরত আসা। স্বাভাবিক বা প্রত্যাশিত ফেরত আসার আগপর্যন্ত অভিবাসী কর্মীরা তাঁদের আয়ের সবটুকু দেশে পরিবার-পরিজনের কল্যাণে পাঠিয়ে দেন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙা রাখেন।
বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের দক্ষতার পর্যায় যেমনই থাকুক না কেন, চাকরিতে নিয়মিত থাকলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। স্বাভাবিকভাবে কেউ ফেরত এলে তিনি দেশে এসেও নিজের এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু সমস্যা হয় যখন কেউ অপ্রত্যাশিতভাবে ফিরতে বাধ্য হয়; কেননা তিনি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। গত ১০ বছরে এই প্রত্যাগত অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে এ সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেমিট্যান্সপ্রবাহের গুরুত্ব এবং ঊর্ধ্বগতি সৃষ্টিতে সরকারের প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকে। কেননা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্য দুটি চাকা, অর্থাৎ তৈরি পোশাকশিল্প ও সার্ভিস সেক্টর প্রতিনিয়ত নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে অর্থনীতির অন্য সব সূচকেই বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে মোটামুটি স্থিতিশীল রেমিট্যান্স অর্জনেও বিপুলসংখ্যক প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মী আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
প্রতি মাসে ছয়-সাত লাখ কর্মী বিদেশে যাওয়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিবাসী কর্মী নথিবিহীন, কর্মহীন, নির্যাতিত, অসুস্থ হয়ে প্রত্যাশিত সময়ের আগেই দেশে ফিরে আসছেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় বছরে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী অপ্রত্যাশিতভাবে ফেরত এসেছেন। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত এ সংখ্যার হার অনেক বেশি।
বিপর্যস্ত কর্মীদের পক্ষে দ্বারে দ্বারে ঘোরা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে ন্যূনতম একটি ডেস্ক বা ফোকাল পয়েন্ট থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা করার ব্যবস্থা করা উচিত। স্বাভাবিকভাবেই অভিবাসী কর্মী প্রেরণে বাংলাদেশের প্রায় ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এ সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হলেও অতি মুনাফালোভী এজেন্সি ও ব্রোকারদের ফাঁদে পড়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। মিথ্যা কাজের প্রতিশ্রুতি, অসংগতিপূর্ণ ভিসা, দক্ষতার মিথ্যা সনদ, বাস্তবতা যাচাই না করে বিদেশে গিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়াসহ জীবনহানি ঘটছে। ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। প্রেরণকারী রাষ্ট্র এখানে কেবল আর্থিকভাবেই ক্ষতির সম্মুখীন হয় না, রাষ্ট্রটি সম্পর্কে গন্তব্যদেশে নেতিবাচক একটি ন্যারেটিভও গড়ে ওঠে।
কতিপয় কর্মীদের জাল নথি, মিথ্যা ঘোষণা, মিথ্যা সনদ, মধ্যস্বত্বভোগী দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকলাপ ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। নিয়মিত মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও ধারণা পাওয়া যায় যে বাংলাদেশি কর্মীদের তারা খুব একটা উঁচু দৃষ্টিতে দেখে না। ফলে অনেক প্রচেষ্টা থাকার পরও বাংলাদেশ সরকার আশানুরূপ কর্মী প্রেরণ করতে পারছে না। কিন্তু সেই একই শ্রম আমদানিকারক দেশগুলোতে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের প্রচুর শ্রমিক চাকরি পাচ্ছেন। বিশেষ করে নেপালের প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের হারও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী কর্মী ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আর্থিক ও সামাজিক—সব দিক থেকেই নিঃস্ব হয়ে যান। তাঁদের অনেকের পক্ষেই ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীরা সাধারণত বৈধ উপায়েই বিদেশে গমন করেন, তাই তাঁদের জীবনে এ ধরনের দুঃখ-দুর্দশার দায় সরকার কিছুতেই এড়াতে পারে না বা কেবল একটি মুচলেকার ভিত্তিতে সব দায়দায়িত্ব অভিবাসী কর্মীর হতে পারে না। এটি শুধু ওই কর্মীকেই বিপদে ফেলে না, অন্যের অভিবাসনস্পৃহা ও উদ্যোগকেও নিরুৎসাহিত করে। ঋণে জর্জর হওয়ার পাশাপাশি অনেকের শারীরিক ও মানসিক আঘাত বড় বাধা হয়ে দেখা দেয়।
এ ক্ষেত্রে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও যথাযথ সহযোগিতা প্রয়োজন। অভিবাসী কর্মীরা যেমন অর্থনীতি ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখেন, সরকারও এই প্রত্যাগত অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি দায়িত্বশীল তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু অভিবাসনের প্রক্রিয়াকে নিরুৎসাহিত করে—এমন কোনো ইস্যু বিদ্যমান থাকা মোটেও কাম্য নয়। তাই প্রত্যাগত অভিবাসী পুনর্বাসন ও পুনঃসংস্থানের চেয়ে এ ধরনের জোরপূর্বক বিদেশফেরত কর্মীদের সংখ্যা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, সেদিকেই সরকারকে বেশি নজর দিতে হবে। যেখানে অভিবাসী কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে রেমিট্যান্স বাড়াতে ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ পদ্ধতি অনুসরণ করার কোনো সুযোগ নেই।
অর্থাৎ প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মী যেন তৈরি না হয়, সেদিকে অবশ্যই জোর দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে যদি কর্মী অভিবাসন হ্রাস পায়, তবু ওই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ/অনিশ্চিত কোনো চাকরিতে যোগদানের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। কেননা সঠিক পদ্ধতির অভিবাসন খুব শিগগির সম্ভাবনাময় কর্মী, গন্তব্যদেশ, গ্রহণযোগ্যতা—সব ক্ষেত্রেই অনেক বেশি আগ্রহ তৈরি করবে। ফলে রেমিট্যান্সপ্রবাহও অনেক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। এসব ক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে এখনো অনেক উদ্যোগ ও কর্মপন্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
যথাযথ একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা এখন অপরিহার্য। তথ্যভান্ডারটি ধীরে ধীরে বিস্তৃত করতে হবে, বিশেষ করে কর্মীরা কীভাবে গেছেন, কী ধরনের কাজ করেছেন, তাঁরা কী ধরনের কাজের বেশি মূল্যায়ন লক্ষ করেছেন, কাজে নির্দিষ্ট করে কী ধরনের দক্ষতার অভাব অনুভব করেছেন ইত্যাদি। একই সঙ্গে তাঁদের প্রেরণকারী এজেন্ট এবং গ্রহণকারী এজেন্ট বা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যও সন্নিবেশ করতে হবে। এ কাজ সময়সাপেক্ষ, তবে খুব কঠিন নয়।
বাংলাদেশ বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কাজ করছে। তারা বিষয়টিকে আরও বিস্তৃত ও তথ্যবহুল করতে পারে; প্রয়োজনে অভিবাসী দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রাসঙ্গিক এনজিওর সহযোগিতা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। ছাড়পত্র প্রদানের আগে অনুসন্ধান ও যাচাইপ্রক্রিয়া মজবুত করতে হবে। বর্তমানে এ প্রক্রিয়া কার্যকর থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে শিথিলভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গন্তব্যদেশে তার বাস্তবতার বিষয়টি চিন্তা না করে বিদেশগামী শ্রমিকের মতামতের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। অসাধু অভিবাসন ব্যবসায়ী, এজেন্সি, দালাল ও মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যথাযথ মেডিক্যাল টেস্ট ও এ বিষয়ে জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। অভিবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য সুরক্ষাবিষয়ক কনভেনশন-১৯৯০ অনুযায়ী অভিবাসী কর্মীকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে ‘জোরপূর্বক বিপদে পাঠানো’, অর্থাৎ নন-রিফাউলমেন্টবিষয়ক নীতির লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে গন্তব্যদেশ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ঘটনাভিত্তিক (কেস বাই কেস) আলোচনা নিশ্চিত করা উচিত।

প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের জন্য রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার নিকবর্তী স্থানে বিশেষ আবাসিক প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে। পুনরেকত্রীকরণ ও দ্রুত কাজে যোগদানের লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ায় কর্মক্ষম ফেরত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। অভিবাসনপ্রক্রিয়া সঠিকভাবে মনিটর ও পরিচালনা করতে না পারলে ভবিষ্যতে কেবল পুনরেকত্রীকরণের জন্য পৃথক দপ্তর চালু করাও প্রয়োজন হতে পারে, যেমনটি ফিলিপাইনে রয়েছে।
প্রত্যাগত অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের কাউন্সেলিং ও বিমাসুবিধা থাকা উচিত। প্রয়োজনে জেলাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করে সে সেবা দিতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগে বেসরকারি শিল্পকারখানায় তাঁদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রয়োজনে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা আগ্রহী থাকলে তাঁদের জন্য পড়াশোনার ব্যবস্থা করা।
বর্তমানে সরকার নতুন নতুন গন্তব্যদেশ সন্ধানে ব্যাপক জোর দিয়েছে। তবে ইতিমধ্যে পুরোনো গন্তব্যেও প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেশার বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে হবে। এআইয়ের যুগে বাংলাদেশে অভিবাসীরা যে কাজগুলো করে থাকেন, সেগুলোর চাহিদা খুব একটা হয়তো হ্রাস পাবে না। এর সঙ্গে যদি স্বাস্থ্যসেবার বৃহৎ ও অপরিহার্য সেক্টরটিতে নিয়োজিত হতে পারেন, তবে বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মসংস্থান বিপুলভাবে বৃদ্ধি পাবে।
উন্নত দেশগুলো একই সঙ্গে যেমন এজিং (প্রবীণ জনসংখ্যা) নিয়ে চিন্তিত, তেমনি তাদের অনেক বেশি কেয়ারগিভারেরও প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশ সব সময়ই আতিথেয়তায় সারা বিশ্বে অনন্য। এ ক্ষেত্রে আরও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে গন্তব্যদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে কাঙ্ক্ষিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মিবাহিনী তৈরি ও প্রেরণ করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সরকারকে কিছুটা দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। বিশ্বব্যাপী নার্সের চাহিদার বিষয়টিও একইভাবে বাংলাদেশ সরকার চিন্তা করতে পারে। প্রক্রিয়াটি শুরু হলেও কেন সাড়া পাচ্ছে না, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিবাসী কর্মী কিন্তু যাঁরা এভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত। আইওএমকে অভিবাসী রিসোর্স সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত করে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে কর্মপরিধি বিস্তার করা যেতে পারে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের এ ধরনের নাগরিক পরিষেবা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় নিলেও খুব শিগগির ইউনিয়ন পরিষদগুলোই নাগরিক সেবার গুরুত্বপূর্ণ হাবে পরিণত হবে।
কেননা অনেক প্রত্যাগত অভিবাসীই জেলা শহরে বা দূরবর্তী অফিসে এ বিষয়ে যেতে আগ্রহী হন না। বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন পর্যায়ের অভিবাসনবিষয়ক দপ্তরের বিকল্প হিসেবেও এটি কাজ করতে পারে। হয়তো সংগত কারণেই অভিবাসনসংক্রান্ত সব সেবা এক ছাতার (ওয়ান–স্টপ সার্ভিস) নিচে আনা সম্ভব নয়, তাই বলে সেবাগুলো খুব বেশি বিক্ষিপ্ত করাও ঠিক নয়।
বিপর্যস্ত কর্মীদের পক্ষে দ্বারে দ্বারে ঘোরা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে ন্যূনতম একটি ডেস্ক বা ফোকাল পয়েন্ট থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা করার ব্যবস্থা করা উচিত। স্বাভাবিকভাবেই অভিবাসী কর্মী প্রেরণে বাংলাদেশের প্রায় ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তাঁদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান জনবলও নিয়োগ করেছে, কিন্তু সেসব সেবা ও সেবা গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। মুঠোফোন ও মূলধারার গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিপুল জনগোষ্ঠীকে সম্ভাবনার পর্যায়ে রাখতে সঠিক অভিবাসনের চেয়ে বিকল্প বাংলাদেশের কাছে কিছু নেই।
ড. সুদীপ রায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক এবং শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ের গবেষক বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
তৃণমূলের ৩০৬ জন প্রতিভাবানকে বিকেএসপিতে পূর্ণ সরকারি খরচে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। বুধবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের উদ্বোধনকালে তৃণমূল থেকে উঠে আসা উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যতের দায়-দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। দেশজুড়ে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে অংশ নেওয়া এক লাখ ৬৮ হাজার কিশোর-কিশোরীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩০৬ জন প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়কে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে বিকেএসপিতে দুই মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সর্বোচ্চ সক্ষমতা দেখানো অ্যাথলেটদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সার্বিক খরচ বহনের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের জাতীয় মানের অ্যাথলেট তৈরির মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলাধুলাকে কেবল সাময়িক বিনোদন বা স্বল্পসময়ের মাঠের অনুশীলনে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও পেশাদার ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ভাবনার আলোকে এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের এই বিশাল মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালুর মাধ্যমে খেলাধুলাকে রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের তরুণ ও কিশোর সমাজকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদকের ভয়াল থাবা এবং অতিরিক্ত ডিভাইস-আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে একটি সুস্থ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার ভূমিকাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আরআই/আইএইচএস/
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ায় সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতেই তিনি দেশটির নেতাকে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বজায় রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দায়িত্ব নিতে হবে। গত জুলাইয়ে আনোয়ার জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার সদস্যকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার নিবন্ধিত ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। দেশটিতে থাকা শরণার্থীদের মধ্যে রোহিঙ্গারাই সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী। দুই দেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরানোর প্রথম ধাপ শুরু হতে পারে। তবে তাদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা থাকবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আনোয়ার বলেন, মিয়ানমার একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে না পারলে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন করা যেতে পারে। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগে তিনি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানিয়েছিলেন যে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এর উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা সংকটের একটি বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা। মালয়েশিয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার। এর মধ্যেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। উত্তরাঞ্চলীয় পেনাং রাজ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বসতি থেকে উচ্ছেদের হুমকির মুখে তাঁরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। পরে তাদের কাছে জাতিসংঘের বৈধ নথি রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরানোর পরিকল্পনা ঘোষণার পর জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমার বিদেশে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন কীভাবে হবে এবং ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়েছে। শরণার্থী কনভেনশনে নেই মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস। তবে দেশটি ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী নয়। ফলে দেশটির আইনে শরণার্থীদের আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক মর্যাদাও নেই। এদিকে মালয়েশিয়ায় থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। বিভিন্ন অধিকার সংগঠনের অভিযোগ, এসব অনলাইন প্রচারণা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ভয়ভীতি ও বৈষম্য বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের একটি মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। তাঁদের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়াতেও আশ্রয় নেয়। এখন মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: এএফপি এমএসএম
এলএনজি ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জিটুজি পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি তেল আমদানির শর্ত শিথিলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে নেগোসিয়েশনে সম্মত প্রিমিয়াম, পরিমাণ ও বর্তমান রেফারেন্স প্রাইস অনুযায়ী ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন এ প্রস্তাবের মোট চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এতে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে রয়েছে চীনের ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি এবং চীনের পেট্রোচায়না। প্রস্তাবটি উত্থাপন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। অন্যদিকে, কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী ১০ নভেম্বর একটি অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কেনার দর প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে এলএনজির একক দর নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম ০.০২ মার্কিন ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ। সুপারিশকৃত দরদাতা কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি। প্রস্তাবটি উত্থাপন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এমএএস/ইএ