বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার পবিত্র কোরআনের সূরা মুমিনুনের চারটি আয়াত পোস্ট করা হয়েছে। সূরাটির ২ থেকে ৫ নম্বর আয়াতে মুমিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেছেন—
‘যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে; যারা যাকাত দান করে এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে।’
এই চার আয়াত আসলে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ইবাদত, সামাজিক আচরণ, অর্থনৈতিক দায়িত্ব এবং নৈতিক চরিত্র—সবকিছুর একটি পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা এই গুণগুলো অর্জন করতে পারবেন, তারাই শেষ পর্যন্ত জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবেন।
২ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে মুফাসসিররা বলেছেন, কেবল যান্ত্রিকভাবে রুকু-সিজদা করার নাম নামাজ নয়। নামাজ পড়ার সময় মনকে দুনিয়াবি চিন্তা, ব্যবসা বা মোবাইল স্ক্রিন থেকে মুক্ত রাখা এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা এই গুণের অন্তর্ভুক্ত। মুমিন ব্যক্তি মনে করেন, তিনি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছেন এবং আল্লাহ তাকে দেখছেন।
৩ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, ট্রল করা, পরনিন্দা, অর্থহীন আড্ডা বা সময় নষ্টকারী বিনোদনে মেতে থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। একজন সফল মুমিন নিজের সময়ের মূল্য বোঝেন এবং যা কোনো কল্যাণে আসে না, তা থেকে সযত্নে নিজেকে দূরে রাখেন।
৪ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, নিজের সম্পদের ওপর যখন গরিবের হক বা অধিকার তৈরি হয়, তখন তা স্বেচ্ছায় ও সঠিক নিয়মে অভাবী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া। এটি একদিকে যেমন মানুষের মন থেকে কৃপণতা ও লোভ দূর করে আত্মাকে পবিত্র করে, অন্যদিকে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে।
৫ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, আধুনিক সমাজে যেখানে পর্নোগ্রাফি, অবাধ মেলামেশা এবং অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ খুব সহজলভ্য, সেখানে একজন মুমিন নিজের চোখ, মন এবং চরিত্রকে আল্লাহর দেওয়া সীমানার ভেতরে ধরে রাখেন। বৈধ উপায়ের (বিবাহের) বাইরে সব ধরনের অনৈতিকতা থেকে নিজেকে রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ ও প্রচারণায় পবিত্র কোরআনের আয়াত বা ধর্মীয় বার্তার ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তাদের যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা জনসমক্ষে এ ধরনের পোস্টের পেছনে রাজনৈতিক এবং আদর্শগত কয়েকটি দিক জড়িয়ে থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ যেভাবে দেখে থাকেন, তা হলো—দলটির মূল রাজনৈতিক দর্শনই হলো সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা। ফলে, তাদের প্রচারণায় কোরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি থাকাটা তাদের দলীয় পরিচিতিরই একটি স্বাভাবিক অংশ।
এই ধরনের পোস্টের মাধ্যমে দলটি সমাজে নিজেদের একটি নৈতিকভাবে অবক্ষয়মুক্ত, সৎ ও সুশৃঙ্খল শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, যা তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় তাদের আলাদা ভাবমূর্তি তৈরিতে সাহায্য করে।
তাছাড়া, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে স্পর্শ করা এবং তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ধর্মীয় বাণী একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে যখন নৈতিক বা ধর্মীয় পোস্ট দেওয়া হয়, তখন তা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং দলের প্রতি এক ধরনের সফট কর্নার তৈরি করতে পারে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদনে এ অভিযোগ করেন তিনি। আবেদনে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ’ একটি স্ট্যাটাস দেন। রুমিন ফারহানা আবেদনে বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি আইন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য শুধু তার জন্য অপমানজনক নয়, একইসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ও পেশাগত মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে এ ধরনের শিষ্টাচারবহির্ভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তসহ উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন রুমিন ফারহানা। এফএইচ/জেএইচ
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গত ১৭ বছর অত্যাচারী ও লুণ্ঠনকারীদের হাতে দেশের মানুষ জিম্মি ছিল। এখনো তাদের শাস্তি হয়নি। তবে আগামীতে তাদের শাস্তি হবে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা অডিটোরিয়ামে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, ৫ আগস্ট এমন একটি অভ্যুত্থান ছিল, শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রধান বিচারপতি ও বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিবও পালিয়েছেন। আপনারা এ ধরনের দলকে কখনো সমর্থন করবেন না। তারা যাতে বাংলাদেশের মাটিতে আসতে না পারে, সেজন্য সবাই সতর্ক থাকবেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে জন্য সবাই সচেষ্ট থাকবেন। বিদেশি রাষ্ট্রের দালালদের বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে দেবেন না। শিক্ষার প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা শিক্ষক আছেন, তারা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করবেন। যে বেতন নেন, সেটা হালাল করে নেবেন। শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড। তিনি বলেন, কেউ কোনো ধরনের অন্যায় বা চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মতবিনিময় সভায় তজুমদ্দিন উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জুয়েল সাহা বিকাশ/কেএইচকে
আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট করতে চাই বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। অতীতের ১৫ বছরের সম্পর্ক থেকে বের হয়ে নতুন দিকে যাবে। তাই ভারতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত। বহুপক্ষীয় সফর নয়। বিস্তারিত দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে…