নিজস্ব প্রতিবেদক
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে ছাগলকাণ্ডের মতিউরের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য উঠে আসে। তবে অনুসন্ধানে মতিউরের চেয়েও সহিদুলের বেশি সম্পত্তির প্রমাণ মিলেছে। সহিদুলের শুধু ফ্ল্যাটের দামই আছে ১৬২ কোটি টাকা। প্লট, ফ্ল্যাট, দোকান ও শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ যোগ করলে মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকারও বেশি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চাকরি করে ঢাকায় ৫৩ ফ্ল্যাটসহ ৪০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ গড়েছেন তিনি। রয়েছে একাধিক আলিশান বাড়ি, অন্তত ২০টি প্লট ও দোকানপাট। সহিদুল ইসলাম নামের এনবিআরের ১৩তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বহুল আলোচিত ‘ছাগলকাণ্ডের’ মতিউর রহমানের সহকর্মী।
বসুন্ধরা আবাসিকে শতকোটির ভবন রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরার জি ব্লকে ১০তলা একটি ভবন নির্মাণ করেছে সহিদুল দম্পতি। ভবনের নাম ‘শেল কবিতা’। বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন তারা। প্রতি ফ্লোরে আড়াই হাজার বর্গফুটের দুটি করে ফ্ল্যাট। ২০ ফ্ল্যাটের পুরো ভবনটিই তাদের। একাধিক ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই এলাকায় প্রতিটি ফ্ল্যাটের দাম অন্তত পাঁচ কোটি টাকা।
সেই হিসাবে শুধু ফ্ল্যাটের দামই কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা। জমিসহ পুরো ভবনের বাজারমূল্য আরও অনেক বেশি। মিরপুর, বাংলামোটর, ইস্কাটনে ৩৩ ফ্ল্যাট বসুন্ধরার বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহিদুলের নিজের, স্ত্রীর ও আত্মীয়দের নামে আরও ৩৩টি ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। বাংলামোটর এলাকার স্বজন টাওয়ারে সহিদুলের নিজ নামে দুটি ফ্ল্যাট আছে। বাজারমূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। এ ছাড়া মিরপুর রূপনগর আরামবাগ আবাসিক এলাকায় স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে একটি ছয়তলা ভবন রয়েছে।
সেখানে ১০টি ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের গার্ডেনিয়া টাওয়ারে ফাহমিদার নামে চার কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট আছে। এই ভবনে বেশিরভাগ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা বসবাস করেন। মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ৭০ কোটির ভবন ও জমি মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং দ্বিতীয় প্রজেক্টে স্ত্রীর নামে আরেকটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছিলেন সহিদুল। ২০ ফ্ল্যাটের ওই ভবনের বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি। পরে ভবনটি চার শ্যালকের নামে হস্তান্তর করা হয়।
বর্তমানে কাগজপত্রে ভবনের মালিক হিসেবে রয়েছেন কাজী মুক্তাদীর ইবনু মিনান, কাজী মুতামিদ ইবনে মিনান, কাজী মুত্তাকী ইবনে মিনান ও কাজী মুস্তাকীম ইবনে মিনান। সব মিলিয়ে সহিদুল, স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি ও চার শ্যালকের নামে থাকা ৫৩টি ফ্ল্যাট এবং দুই দোকানের বাজারমূল্য অন্তত ১৬২ কোটি টাকা। ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ছয়তলা বাড়ি এ ছাড়া ইস্টার্ন হাউজিংয়ের আগুন্দা ২১ মৌজায় (খতিয়ান ১৪৩ ও ১৪৪) ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশের দুটি প্লটে প্লাস্টিক কারখানা ভাড়া দেওয়া। মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। মিরপুর বেড়িবাঁধের গড়ানচটবাড়ি মৌজায় (খতিয়ান ২৬৬৭) ৩৩ শতাংশ জমির দাম অন্তত ৩০ কোটি টাকা।
নিউমার্কেট ও আজিজে দোকান রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ১২৭ নম্বর দোকানটি সহিদুলের নামে। এটির বাজারমূল্য আনুমানিক দুই কোটি টাকা। নিউমার্কেটের ২৬/২ নম্বর দোকানটিও তার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এটির দাম দুই কোটি টাকারও বেশি।
অর্থাৎ, দুটি দোকানের মোট মূল্য চার কোটি টাকার ওপরে। মধুমতি মডেল টাউনে ১০ কোটির বাংলোবাড়ি শুধু রাজধানীতে নয়, ঢাকার উপকণ্ঠে সাভারেও বিপুল সম্পদ গড়েছেন সহিদুল। মধুমতি মডেল টাউনে তার নামে একটি আলিশান বাংলোবাড়ি রয়েছে। বাড়িটির নাম ‘সেঁজুতি’। ৩৫ কাঠা জমির ওপর গড়ে ওঠা লাল ইটের এই ভবন নিয়ে স্থানীয়দের কৌতূহলের শেষ নেই। মধুমতি মডেল টাউনে ৩৫ কাঠার ওপর বাংলো বাড়ি।
এলাকাবাসী জানান, মাঝেমাঝে কয়েকটি গাড়ি এসে থামে। তবে ভবনের কেয়ারটেকার বা অন্য কেউ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন না। এলাকার বাজারদর অনুযায়ী, এই বাংলোবাড়ির শুধু জমির দামই আছে অন্তত ১০ কোটি টাকা। মধুমতিতে আরও ৯০ কোটির জমি গাবতলী থেকে আমিনবাজার পেরিয়ে দুই কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের পাশে ৫৫০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে মধুমতি মডেল টাউন। সবুজে ঘেরা এই প্রকল্পে সমাজের নানা শ্রেণির মানুষের বিনিয়োগ রয়েছে। বেশিরভাগই বাংলোবাড়ি।
কোনো প্লট ভাড়া দেওয়া বাস-কাভার্ডভ্যানের ওয়ার্কশপ হিসেবে। রয়েছে গরু-ছাগলের একাধিক খামার। এই প্রকল্পে সহিদুলের মালিকানায় রয়েছে পাঁচটি প্লট। প্রকল্পের প্রধান ফটক পেরিয়ে বাঁ-দিকে প্রথম সড়কের দ্বিতীয় প্লটটি ২০ কাঠার। বর্তমানে গ্যারেজ হিসেবে ভাড়া দেওয়া। মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। কয়েকশ গজ সামনে ব্রিজ লাগোয়া ১২০ কাঠার প্লটে রয়েছে গরু, ছাগল ও ভেড়ার খামার। মূল্য ৩০ কোটি টাকা। ওই প্লটের পাশে ৬০ কাঠার আরেকটি প্লট এক্সকাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতির গ্যারেজ হিসেবে ভাড়া দেওয়া। মূল্য ১৫ কোটি টাকা। ব্রিজ পেরিয়ে ১০ কাঠার একটি প্লটের দাম তিন কোটি টাকার বেশি।
প্রকল্পের শেষ প্রান্তে ডানদিকে ১১০ কাঠা জমির দাম কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা। পাঁচটি প্লটে মোট জমি ৩২০ কাঠা। একসঙ্গে বাজারমূল্য অন্তত ৯০ কোটি টাকা। পূর্বাচলে ৬২ কোটির ছয় প্লট পূর্বাচলে সহিদুল দম্পতির ছয়টি জমির কাগজপত্র পাওয়া গেছে।
ডুমনি মৌজায় পিংক সিটিতে (খতিয়ান ১২০৪৬) ৩৩ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। পূর্বাচল পাঁচ নম্বর সেক্টরের পিতলগঞ্জ মৌজায় (খতিয়ান ৪৪৬১) সাড়ে ১৬ শতাংশ জমির দাম ১৫ কোটি টাকার বেশি। দিঘলিয়া মৌজায় (খতিয়ান ২৬৩৩) ৩৩ শতাংশ জমির মূল্য অন্তত দুই কোটি টাকা। বাড়িয়াছনি মৌজায় (খতিয়ান ৫২৭২) সাত শতাংশ জমির মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি।
স্ত্রী ফাহমিদার নামে পূর্বাচলের মুশুরীগ্রাম মৌজায় (খতিয়ান ৪৩৪৩) ১৭ শতাংশ জমির মূল্য দুই কোটি টাকার বেশি। কামতা মৌজায় (খতিয়ান ২১৫০) সাত শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। গাজীপুরের কালিগঞ্জে পাড়াবর্থা-৮০ মৌজায় (খতিয়ান ২৭) সহিদুলের নামে ১৫ শতাংশ জমির কাগজ হাতে এসেছে। এই জমির দাম কোটি টাকারও বেশি। শেয়ারবাজারে ৮০ কোটি স্থাবর সম্পদের বাইরে অস্থাবর সম্পদেও সহিদুল দম্পতির বিনিয়োগ কম নয়। ফাহমিদা রাব্বির নামে শেয়ারবাজারে একটি বিও অ্যাকাউন্টে (শেষ পাঁচ সংখ্যা ৬৯৭৫৪) প্রায় ৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। সোনালী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে (শেষ চার সংখ্যা ০৭২৯) তার নামে নগদ ৫৫ লাখ টাকা জমা আছে বলেও নিশ্চিত হয়েছে। বাবার টাকায় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্বামী-স্ত্রীর বিপুল সম্পদের পাশাপাশি ছেলে হাসিন ফারহানের নামেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করে দিয়েছেন সহিদুল।
বসুন্ধরার বিলাসবহুল জেসিএক্স বিজনেস টাওয়ারে অফিস খুলেছেন ফারহান। ভেলোসিটি গ্রুপের অধীনে ভেলোসিটি আর্কিটেক্টস অ্যান্ড ইন্টেরিয়র এবং ভেলোসিটি মার্কেটিং এজেন্সিসহ একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি। এই অফিসের জন্য ফারহানকে সহিদুল অন্তত পাঁচ কোটি টাকা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে। চাকরি জীবনে আয় কত? এমন পদে সরকারি চাকরি করে কত টাকায় আয় করা সম্ভব তা জানতে সহিদুলের সহকর্মী ছিলেন কিংবা কাস্টমস ক্যাডারের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা এমন কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করে। তাদের বর্ণনায়, চাকরি জীবনে সর্বসাকুল্যে বেতন বাবদ পান দেড় কোটি টাকার মতো। এর বাইরে স্কলারশিপ কিংবা বিদেশ সফর বাবদ আরো ১ কোটি টাকা। আর অবসরকালীন দেড় কোটি টাকা বা এরচেয়ে কিছু কমবেশি। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক খরচ বাদ দিয়ে কোন ভাবে আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার বেশি সঞ্চয় করা সম্ভব না।
কিন্তু বাস্তবে সহিদুল ইসলাম দম্পতির যে সম্পত্তি তা এই হিসাবের অন্তত ১০০গুণ বেশি। কর্মজীবনে সহিদুল ইসলাম এনবিআরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সদস্য, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকার (পশ্চিম) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারের মতো দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এনবিআরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব পদে থাকাকালে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। একাধিক সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশনের তারিখেও এই তথ্যের সত্যতা মেলে। সহিদুলের বেশিরভাগ সম্পত্তি ২০১০ সালের পর অর্জিত। অথচ এমন একজন কর্মকর্তার পুরো চাকরিজীবনের আয় কত হতে পারে? একই গ্রেডের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য সুবিধাসহ রাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা পাওয়া যায়।
বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে সারা চাকরিজীবনের মোট আয় প্রায় তিন কোটি টাকা। নিজের ও পারিবারিক খরচ বাদ দিলে সর্বোচ্চ সঞ্চয়ের পরিমাণ হতে পারে কমবেশি তিন কোটি টাকা। কিন্তু সহিদুলের ৪০০ কোটি টাকার সম্পদ কোথা থেকে এলো, সেই প্রশ্নের জবাব মেলে না। কথা বলতে রাজি নন সহিদুল দম্পতি আয়ের তুলনায় অনেক বেশি সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জানতে একাধিকবার সহিদুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তিনটি মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও ধরেননি তিনি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে সিন করেও উত্তর দেননি। পরে স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি ফোন ধরেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন করা মাত্রই তিনি ফোন কেটে দেন। বসুন্ধরার জি ব্লকে শেল কবিতা ভবনে সরাসরি গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেননি। অনুসন্ধানের তাগিদ টিআইবির ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই সম্পত্তির উৎস কী, সে বিষয়ে রাষ্ট্রের অনুসন্ধান করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্র যদি নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার পিএন স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, বিএসটিআইয়ের গুণগত মানসনদ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি ‘বিস্কুট, পাউরুটি ও কেক’ উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ করে আসছিল। এছাড়া পণ্যের ওজন, মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় তথ্যসম্বলিত লেবেলও যথাযথভাবে সংযুক্ত ছিল না। এসব অনিয়মের দায়ে তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেহরীন তাবাসসুম তিথীর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। অভিযানে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম
গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর পিবিআই। হত্যায় ব্যবহৃত বটি, দা, মোবাইল ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেম, পূর্বের বিয়েসহ নানা বিষয়ে ক্ষোভের জন্ম থেকে ওই নারীকে তার প্রেমিক হত্যা করে বলে জানিয়েছে পিবিআই। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গাজীপুর জেলার পিবিআই’র পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার। গ্রেফতার মো. মিশন ইসলাম (২২) বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার সৈয়দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. মাসকুর আলমের ছেলে, তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বুড়াবুড়ি গ্রামের মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)। মাসহ মিশন ইসলাম গাজীপুর মহানগরের বাহাদুরপুর তুলসী ভিটা সাগর মার্কেট এলাকার আনোয়ারের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। নিহত ডলি আক্তার (৩০) ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার পাহাড় পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ডলি গাজীপুরের বানিয়ারচালা একটি কারখানায় কাজের পাশাপাশি ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের খালের পানিতে একটি সুটকেস, পাশের একটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা এক নারীর খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বড় ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা রুজু করেন। মামলা রুজুর পর নিহতের পরিচয় শনাক্তসহ ছায়া তদন্ত শুরু করে গাজীপুর পিবিআই। গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী জানান, তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যায় জড়িত সন্দেহে মো. মিজানুর রহমান মিল্টন, মো. মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গাজীপুর মহানগরের বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার আলাদা ভাড়া বাসা থেকে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ডলি আক্তার ও মো. মিশন ইসলাম একই কারখানায় কাজে সুবাদে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। সম্পর্কের সূত্রে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের ভাড়া বাসায় যান ডলি আক্তার। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে মিশন ও ডলি একই রুমে ও বানু আক্তার পাশের রুমে ঘুমাতে যান। এসময় বিয়েসহ পূর্বের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ও কথা কাটাকাটি হলে ডলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন ইসলাম। রাতেই ডলিকে ঘুম ও এলার্জির ওষুধ খাওয়ান মিশন। ডলি ঘুমিয়ে গেলে রাত ২টার দিকে মিশন তার লুঙ্গি পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে করে মরদেহ ঘরের চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখেন। পরদিন সকালে মিশনের মা বানু আক্তার ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় চৌকির নিচে ডলির মরদেহ দেখতে পান। পরে মা ও সন্তান পরিকল্পনা করে মরদেহটি গুম করার জন্য বাজার থেকে একটি সুটকেস নিয়ে আসেন। মরদেহ সুটকেসে না ধরায় ব্লেড সংগ্রহ করেন। পরে বটি, দা ও ব্লেড ব্যবহার করে মরদেহটি কোমর থেকে দুই খণ্ড করেন। মরদেহের এক খণ্ড সুটকেসে, অপর খণ্ড পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখেন। বাসা পরিবর্তনে সহযোগিতার কথা বলে বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে ডেকে আনেন মিশন ইসলাম। মিশনের বাসায় এসে সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় ওঠান মিল্টন। পরে মিশন, বানু আক্তার ও মিল্টন অটোরিকশায় রাজেন্দ্রপুর যান, সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ভবানীপুর ব্রিজ এলাকায় গিয়ে সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেন। এসময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগলে বস্তা ও সুটকেসে কী রয়েছে মিশনের কাছে জানতে চান। মিশন ডলির মরদেহ থাকার বিষয়টি জানালে তারা নিজদের বাসায় চলে যায়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে মিশন ইসলামের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ডলির মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করতে ব্যবহার করা বটি, দা, মৃতদেহ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করে পিবিআই। গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মরদেহটি পচে যাওয়ায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। শিহাব খান/এফএ
কুমিল্লার মুরাদনগরে আড়াই বছর আত্মগোপনে থেকে বাড়ি ফিরে নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতা। চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ পরিবারের। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে..