নরেন স্যার ক্লাসে ঢুকে সামনের দিকে পা ছড়িয়ে আরাম করে চেয়ারে বসলেন। তাঁর চোখেমুখে বরাবরের মতো অবজ্ঞামিশ্রিত গাম্ভীর্য নেই। তার বদলে অবয়বজুড়ে চমৎকার প্রশান্তি। নরেন স্যারকে আমরা কখনো এমন খোশমেজাজে দেখিনি। সহপাঠী অবিনাশ আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে, আজ সূর্যদেব কোন দিক থেকে উঠেছে, রে!
স্যার কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে মুখ খুললেন। ছাত্রদের উদ্দেশে বললেন, ‘তোরা রথ দেখতে কৈতরা আসিস।’
এতক্ষণে ছাত্রদের প্রতি নরেন স্যারের ঔদার্যের কারণ বোঝা গেল। কৈতরা গ্রামে তাঁর তত্ত্বাবধানে একটি রথ তৈরি করা হয়েছে। নরেন স্যারের বাড়ি কৈতরা। তিনি সেখান থেকে তিন মাইল সাইকেল চালিয়ে আমাদের নবগ্রাম স্কুলে আসতেন। তাঁর ছিল সব বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য। সর্ববিদ্যায় পারদর্শী নরেন স্যারের ছাত্রদের শাসন করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি রকমের নিষ্ঠুরতা ছিল। আমরা ক্লাসে তাঁর ভয়ে সব সময় তটস্থ থাকতাম। সেই নরেন স্যার যখন ক্লাসে ঢুকে কোমল কণ্ঠে ছাত্রদের রথ দেখার আমন্ত্রণ জানান, তাতে আমরা খানিকটা বিস্মিত হই। ক্লাস শেষে আমরা দল বেঁধে রথ দেখতে কৈতরা যাই। বিচিত্র কারুকাজে চিত্রিত দৃষ্টিনন্দন রথটি মাথা উঁচু করে একটি বিশাল বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। আসলে নরেন স্যার কৈতরার রথের মধ্যে এক স্বর্গীয় সৃষ্টির আনন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন। তাঁর মনের ভেতর যে প্রশান্তি তৈরি হয়েছিল, তার খানিকটা তিনি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই সেদিন ক্লাসের অনুশাসনে কিছুটা নমনীয় হয়েছিলেন। তারপরে দিন গেল, মাস গেল, বছর গেল। কত শ্রাবণের বৃষ্টিতে কৈতরার পথের ধারের গাছগুলো ভিজতে ভিজতে প্রায় মাটির কাছে নুয়ে পড়তে চায়। চৈত্রের কত দিনে কৈতরা বাজারে সুনসান দুপুরে একাকী বসে থাকা দোকানি দুই হাঁটুর মাঝখানে মুখ গুঁজে ঝিমায়। মা বলে, ‘তুইও বড় হয়ে গেছিস, খোকা।’
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.com
আমি বড় হয়ে গেছি। আমি ঢাকায় পড়তে যাই। নরেন স্যারের বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে সেই রথ খুঁজি। বৈশাখের একদিন বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা নামে কৈতরা গ্রামের পথে। হঠাৎ ঈশানকোণ থেকে ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে নামে প্রবল বৃষ্টি। আমি সেই বুড়া বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে ভিজতে থাকি। চারদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে। এমন সময় কেউ একজন এসে আমার পাশে দাঁড়ান। বলেন, ‘আমি সুরেন, সুরেন মণ্ডল। আমি তোমাকে চিনি। তোমার বাড়ি কালীগঙ্গার দক্ষিণ পাড়ে বরুন্ডী গ্রামে। নবগ্রাম স্কুলে তুমি আমার দুই ক্লাস জুনিয়র ছিলে।’
আমি বলি, এইখানে এই বটতলায় যে রথটি ছিল, সেটি নেই কেন?
সুরেন মণ্ডল একটু সরে এসে আমার গা ঘেঁষে দাঁড়ালেন। আমি চমকে উঠলাম। তাঁর শরীর থেকে কেমন এক অশরীরী স্পর্শ টের পেলাম।
সুরেন মণ্ডল বললেন, ‘সেই কথা আর কাউকে বলিনি। শুধু তোমাকে বলছি। কাউকে বোলো না। আমি দেখেছি। সেই উল্টো রথের দিন। সেদিনও দিন গড়িয়ে সূর্য ডুবে গেল। হঠাৎ আজকের মতো ঈশানকোণ নিকষ কালো অন্ধকারে ঢেকে গেল। ঝড়–জলে একাকার কৈতরায় এইখানে এক জ্যোতির্ময়ী রাতুল চরণে হেঁটে এসে রথে আরোহণ করলেন। সেই সময় আলোর ঝলকানি ছড়িয়ে পাশেই বিকট শব্দে বাজ পড়ল। আমি স্পষ্ট দেখলাম, দেবী সুভদ্রা রথে বসে আছেন। ধীরে ধীরে রথটি আকাশে মিলিয়ে গেল। আমি জ্ঞান হারালাম।’
হঠাৎ দেখি আমার পাশে কেউ নেই। দূরে নরেন স্যারের মতো কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। সুরেন মণ্ডলের পায়ের শব্দ মিলিয়ে গেল। ঝড়–জলের মধ্যে এক আধিভৌতিক অন্ধকারে আমি স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে রইলাম।
নবগ্রাম স্কুলে সুরেন মণ্ডল নামে কি কেউ ছিল? সেই ঝড়–জলের উল্টো রথের সন্ধ্যায় আমার পাশে এসে কেউ কি দাঁড়িয়েছিল? হতে পারে, না–ও হতে পারে।
অপার রহস্যঘেরা এই ধরিত্রীর বুকে কত কিছুই না ঘটে!
*লেখক: বজলুল হক বিশ্বাস, গভর্নমেন্ট অফিসার্স কমপ্লেক্স, মিরপুর–৬, ঢাকা–১২১৬
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ)। একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য, আর অন্যটি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এমইএর সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান। ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আদৌ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না—এ নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হলো। দুটি পৃথক আমন্ত্রণ রণধীর জয়সওয়াল দাবি করেন, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে ব্রিকস সম্মেলনের জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়। আরও পড়ুন মোদী কি ট্রাম্পকে সরিয়ে শি জিনপিং-পুতিনের হাত ধরেছেন? বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য কিংবা অংশীদার দেশ নয়। তবে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। দিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এতে সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আমন্ত্রিত দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া এমএসএম
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টে ‘মৌন প্রতিবাদ’ করেছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের অ্যাডভোকেট লাউঞ্জের সামনে একদল আওয়ামীপন্থি আইনজীবী জড়ো হয়ে এ প্রতিবাদ জানান। এসময় সম্মিলিত কোনো স্লোগান দিতে শোনা না গেলেও কয়েকজন আইনজীবীকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। প্রতিবাদকারী আইনজীবী শেখ গোলাম কিবরিয়া জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের প্রতিবাদ জানাতেই তারা জড়ো হয়েছিলেন। আরও পড়ুন আমরা এই রায়ে শুকরিয়া আদায় করছি: চিফ প্রসিকিউটর তিনি বলেন, আজকে আইসিটি ট্রাইব্যুনালের যে রায় হয়েছে, সেই রায়ের প্রতিবাদস্বরূপ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে যে ফাঁসির অর্ডার করেছে, এটার প্রতিবাদস্বরূপ আমরা সবাই জড়ো হয়েছিলাম। রায়টা প্রত্যাখ্যান করে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। তাৎক্ষণিক একটা প্রতিবাদ জানিয়েছি। ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গোলাম কিবরিয়া বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের এই মিথ্যা মামলায় প্রহসনের রায় দিয়েছে, যেটা আমরা প্রত্যাখ্যান করে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছি। মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সাত আসামির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে বিভিন্ন ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক। এফএইচ/এমকেআর
জনগণের স্বার্থে ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১১ দলীয় ঐক্য লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-রংপুর লং মার্চের সমাপনী সমাবেশস্থল রংপুর জিলা স্কুল মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আব্দুল হালিম বলেন, আমরা যেসব দাবিতে লং মার্চ করছি এটি জামায়াতের কোনো দাবি নয়, এটি জনগণের দাবি। আরও পড়ুন সড়কের মোড়ে কাফনের কাপড়ের পুটলি, পাশে জ্বলছিল মোমবাতি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ভালো হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গণরায় বাস্তবায়ন হলে দলীয়করণ বন্ধ হবে, সুশাসন নিশ্চিত হবে। জুলাই অভ্যূত্থানে ছাত্র-জনতা যে লক্ষ্যে আত্মত্যাগ করেছিল তা বাস্তবায়ন হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে। আব্দুল হালিম বলেন, তিস্তাপারের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার বাস্তবায়নের জন্য আমরা আন্দোলন করছি। সরকার এ বিষয়ে আগ্রহী হয়েছিল। কিন্তু কোনো পরোক্ষ শক্তির কারণে সরকারের সেই উদ্যোগ থেমে গেলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো। গণমানুষের দাবির আন্দোলনে চট্টগ্রামের চেয়ে রংপুরে বেশি পরিমান মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। এদিকে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-রংপুর লং মার্চের প্রস্তুতি ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে সকালে নগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লং মার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এ লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছে জোটের রংপুরের নেতাকর্মীরা। জিতু কবীর/এনএইচআর