জাতীয়

ট্যুরেট সিনড্রোম ছাপিয়ে সব জয় করা বিলি আইলিশ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ট্যুরেট সিনড্রোম ছাপিয়ে সব জয় করা বিলি আইলিশ
ট্যুরেট সিনড্রোম ছাপিয়ে সব জয় করা বিলি আইলিশ

বিলি আইলিশকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই!

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে গ্র্যামি (যাকে বলা হয় বিশ্বসংগীতের অস্কার) অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন প্রকাশের পর একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। সেখানে দেখা যায়, বিলি কোনো একটা অনুষ্ঠান থেকে বের হচ্ছেন। আর পাশ থেকে একজন গালি দিয়ে বললেন, ‘বিলি, ইউ ডোন্ট ডিজার্ভ আ গ্র্যামি।’ ১৭ বছর বয়সী বিলির ভ্যাবাচেকা খাওয়া অবাক, কৌতূহলী চোখ লোকটাকে খুঁজতে গেলে তাঁর বডিগার্ডরা তাঁকে ঘিরে ধরে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে গাড়িতে তোলেন।

কাট টু, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০। সেটা ছিল গ্র্যামির ৬২তম আসর। গ্র্যামির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি বিভাগ হলো ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’, ‘রেকর্ড অব দ্য ইয়ার’, ‘সং অব দ্য ইয়ার’ ও ‘বেস্ট নিউ আর্টিস্ট’। এই চারটিকে বলা হয় ‘বিগ ফোর’। বিগ ফোরের সব কটিতে জয়ী হলেন বিলি। এগুলো ছাড়াও ভাই ফিনেস ও’কনেলের সঙ্গে যৌথভাবে আরও একটি গ্র্যামি জিতলেন। মোট পাঁচটি। সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে ফলাও করে লেখা হলো, গ্র্যামির ৬২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কেউ ‘বিগ ফোর’ পেলেন। ভবিষ্যতে আর কেউ আবার এই ইতিহাস গড়বেন, সে সম্ভাবনা ক্ষীণ। সেই রাতে বাড়িতে ফিরে পাঁচ-পাঁচটি গ্র্যামি হাতে ছবি ইনস্টাগ্রামে আপলোড করে বিলি ক্যাপশনে লিখলেন, ‘আই ডিজার্ভ দেম অল’!

তাই বিলি কত বড় তারকা বা কত সফলতা পেয়েছেন অথবা কী কী রেকর্ড গড়ে ইতিহাসে নাম করে নিয়েছেন, সেসব বলা বৃথাই। দিস্তা দিস্তা কাগজ শেষ হয়ে যাবে, তবু ফুরোবে না। বরং ১২ কোটি ৪০ লাখ ইনস্টাগ্রাম অনুসারীসহ এই সবকিছুর আড়ালে বিলি আইলিশ মানুষটা কেমন, সেই খোঁজে উঁকি দেওয়া যাক তাঁর ব্যক্তিজীবনের পাতায়।

ট্যুরেট সিনড্রোমে আক্রান্ত এক সুপারস্টার

সম্প্রতি বিলি আইলিশ উপস্থিত হলেন মার্কিন অভিনেত্রী, কমেডিয়ান অ্যামি পোলারের পডকাস্ট গুড হ্যাং-এ। সেদিন তিনি মন খুলে কথা বললেন তাঁর ট্যুরেট সিনড্রোম নিয়ে। হ্যাঁ, তুমি ঠিকই পড়ছো, বিশ্বসংগীতের এই সুপারস্টার বিরল স্নায়বিক রোগ ট্যুরেট সিনড্রোমে আক্রান্ত! ২৪ বছর বয়সী এই মার্কিন তারকা সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বা ক্যামেরার সামনে থাকলে নিজের ট্যুরেট টিক ঢাকতে সম্ভাব্য সবকিছু করেন। এমনকি প্রথম প্রথম নিজের এই রোগ নিয়ে হীনম্মন্যতার কারণে জনসম্মুখে বা ক্যামেরার সামনে আসতেও চাইতেন না। এক দশকের ক্যারিয়ারে অনেক রেকর্ডেড সাক্ষাৎকার থেকে নানা অংশ বিলির অনুরোধে ফেলে দেওয়া হয়েছে তাঁর অস্বাভাবিক শারীরিক নড়াচড়া ও আওয়াজের জন্য। বিলি জানান যে তিনি নিজেকে ‘এক্সট্রিমলি প্রাইভেট পারসন’ হিসেবে আইডেন্টিফাই করেন। আর এর পেছনে তাঁর ট্যুরেট সিনড্রোমের খানিকটা ‘হাত’ রয়েছে। আর নিজেকে আড়াল করে রাখাটা তাঁকে অনেক কিছু থেকে রক্ষাও করেছে। বিলি এই পডকাস্টে বলেন, ‘যেটি আপনার দুর্বলতা, অক্ষমতা বা হীনম্মন্যতা, সেটি-ই আসলে আপনার সুপারপাওয়ার। সেটি-ই আপনাকে নিজের প্রচেষ্টায় প্রতিনিয়ত সব বাধা অতিক্রম করে আপনাকে নিজের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে, আপনার ভেতর থেকে সেরা মানুষটাকে বের করে আনতে সাহায্য করে। অবশ্য শুরুর দিকে বিষয়গুলো আসলেই কঠিন।’

কী এই ট্যুরেট সিনড্রোম

২০১৮ সালে বলিউডে মুক্তি পায় রানী মুখার্জি অভিনীত ড্রামা হিচকি। মার্কিন শিক্ষক, লেখক, মোটিভেশনাল স্পিকার ব্র্যাড কোহেনের আত্মজীবনীমূলক বই ফ্রন্ট অব দ্য ক্লাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো সিনেমাটিতে রানী ট্যুরেট সিনড্রোমে আক্রান্ত এক শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। আসলে ট্যুরেট সিনড্রোম হলো একটি জটিল স্নায়বিক ব্যাধি, যা শৈশব বা কৈশোরে শুরু হয়। এটি অনিচ্ছাকৃত, পুনরাবৃত্তিমূলক শারীরিক নড়াচড়া (মোটর টিক) এবং অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ বা কণ্ঠস্বর (ভোকাল টিক)। মোটর টিকের প্রভাবে কেউ পা নাচান, কেউবা বারবার চোখের পলক ফেলেন, মাঝেমধ্যেই মুখ বাঁকান, মাথা বা ঘাড় আকস্মিকভাবে নড়াচড়া করেন। আবার ভোকাল টিকের প্রভাবে গলা পরিষ্কার করেন, অকারণ ফোঁস ফোঁস করেন, নাক দিয়ে শব্দ করেন বা হঠাৎ করে কোনো শব্দ বা কথা বারবার বলতেই থাকেন। লক্ষণগুলো সাধারণত মানসিক চাপ বা উত্তেজনায় বৃদ্ধি পায়।

তখন বিলির সবে এগারো…

মাত্র ১১ বছর বয়সে বিলি আইলিশের ট্যুরেট সিনড্রোম ধরা পড়ে। (আর মাত্র ১৩ বছর বয়সে সাউন্ডক্লাউডে ‘ওশান আইজ’ গানটি মুক্তি দেওয়ার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় অর্থাৎ রাতারাতি তারকা বনে যান বিলি।) এই পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘প্রায়ই আমার হাঁটু, কনুই বা হাত অস্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে থাকে। অনেক সময় আমি যেটা চিন্তা করি, নিজের অজান্তেই তা বলে ফেলি। ফলে বুঝতেই পারছেন, জনসম্মুখে থাকা বা সাক্ষাৎকার দেওয়া আমার জন্য কতটা ভীতিকর ছিল।’ এই ‘লাভলি’ তারকা আরও বলেন, ‘আমার মোটর ও ভোকাল টিক ঠিক করার জন্য আমি দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছি। প্রচণ্ড চাপেও আমি মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকার রীতিমতো অনুশীলন করেছি। এখন আমি আমার টিক অনেকটাই দমন করতে পারি। দেখুন, এই ট্যুরেটের কারণেই কিন্তু এখন আর আমি কিছুতেই উত্তেজিত হই না, রেগে যাই না বা হতাশ হই না। জীবনে যা-ই ঘটুক, সেটাকে শান্তভাবে গ্রহণ করতে পারি। ট্যুরেট নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ব্যাপারটা আত্মস্থ করতে হয়েছে। অথচ আমার জীবনের জন্য, যে কারও জীবনের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আমার দুর্বলতাকে এভাবেই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি বানিয়ে নিয়েছি।’

একটা প্রশ্ন

এআই কি শিল্পীদের রিপ্লেস করতে পারবে? ওই পডকাস্টে এমন প্রশ্নের উত্তরে বিলি বলেন, ‘হ্যাঁ, এআই গান লিখছে, কম্পোজ করছে, গাইছে, সিনেমা বানাচ্ছে, সবই ঠিক আছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, মানুষের তৈরি শিল্পের কদর সব সময় থাকবে। কেননা সেই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওই মানুষটির জীবনের ব্যক্তিগত ইতিহাস, অভিজ্ঞতা আর অনুভব। যেটার সঙ্গে আরেকজন মানুষ সহজেই কানেক্ট করতে পারেন। এই হিউম্যান কানেকশনই সত্যিকারের শিল্পের (মানুষের তৈরি শিল্পের) সবচেয়ে বড় শক্তি। সত্যিকারের শিল্প মানুষকে যে মানবিক অনুভূতি দেয়, দিনশেষে সেটি-ই জয়ী হবে। আর সেটিই টিকে থাকবে।’

প্রিয় বন্ধু জাস্টিন বিবার

জাস্টিন বিবারের সঙ্গে বিলি আইলিশের একটি ভিন্নমাত্রার সম্পর্কের কথা বিলি আইলিশের ভক্তমাত্রই জানেন। ২০১৯ সালে জাস্টিন বিবার বিলির ‘ব্যাড গাই’ গানের রিমিক্সে অংশ নেন। সেই ভিডিওতে দেখা যায় ছোট্ট বিলির ঘরজুড়ে বিবারের পোস্টার। ২০২৪ সালে বিলি আইলিশ ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট’ ট্যুরে লস অ্যাঞ্জেলেস প্রিমিয়ারে বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞ যে ও আমার জীবনে আছে। আমি ওকে খুব ভালোবাসি। ও আমার অনুপ্রেরণা। আমি জানি না, কখনো একসঙ্গে আমাদের কাজ করা হবে কি না। তবে আমি জানি যে আমি সব সময় ওকে (বিবারকে) একই রকমভাবে ভালোবাসব।’

সম্প্রতি ২০২৬–এর এপ্রিলে কোচেলা মিউজিক অ্যান্ড আর্ট ফেস্টিভালের ২৫তম আসরে যখন মঞ্চে বিবার গাইছিলেন, দর্শকসারিতে বিবারের স্ত্রী হেইলি ও বিলি নাচছিলেন। হেইলিই বিলিকে জোর করে স্টেজে পাঠিয়ে দেন। তখন বিবার ‘ওয়ান লেস লোননি গার্ল’ গাচ্ছিলেন। স্টেজে উঠে বিলি গলা মেলাবেন কী, আবেগে কেঁদে ফেলেন। আর সেটি লুকাতে দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢাকেন। এদিকে গান গাইতে গাইতেই বিবার এসে বিলিকে জড়িয়ে ধরেন। সারা বিশ্বের ভক্তরা সেই ভিডিওর নিচে ‘চোখে জল’ ইমোজি আর ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে ফেলেছেন। অনেকেই এটিকে একটা ‘ফুল সার্কেল হিস্টোরিক্যাল মোমেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিলি বহুবার বলেছেন যে তিনি ছোটবেলা থেকেই বড় বিবারভক্ত । বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জাস্টিন বিবারও খুব অল্প বয়সে খ্যাতি পান। আর সেই খ্যাতি সংগীতের দুনিয়ার অত্যন্ত মেধাবী বিবারের স্বাভাবিক শৈশব, কৈশোর কেড়ে নিয়েছিল। তাঁর জীবনকে অনিয়ন্ত্রিত আর বিভীষিকাময় করে তুলেছিল। সময়ের সঙ্গে সেসব পেরিয়ে বিবার নিজের ছন্দে ফিরেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণেই হয়তো বিবারের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও কৃতজ্ঞ বিলি। কেননা, বিবারের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে বিলি নিজেকে সামলেছেন। ম্যানেজারসহ নিজের একটা শক্তিশালী সাপোর্ট সিস্টেম রেখেছেন। একেবারে শুরু থেকেই বড় একটা দল বিলির অর্থ-সম্পদ, পাবলিক ইমেজ ইত্যাদির দেখাশোনা করেন। বিবারের কেস থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন বিলি। ১৮ বছরের আগপর্যন্ত তিনি খুব একটা জনসমক্ষে আসেননি। এ কারণেই এই দুই তরুণ আন্তর্জাতিক তারকা দুজন দুজনকে ভালো বুঝতে পারেন। দুজনই দুজনকে নিয়ে খুবই ‘প্রটেকটিভ’ অনুভব করেন।

জেন্ডার–ফ্লুইড ফ্যাশন

বিলি আইলিশের জেন্ডার–ফ্লুইড ফ্যাশন আধুনিক পপ সংস্কৃতিতে খুবই প্রভাবশালী। তিনি শুরু থেকেই প্রচলিত ‘নারী পপস্টার’ ইমেজের বাইরে গিয়ে এমন সব পোশাক পরেছেন, যা নারী বা পুরুষ—কোনো একটি নির্দিষ্ট জেন্ডারের ফ্যাশনধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

জেন্ডার-ফ্লুইড ফ্যাশন কী

জেন্ডার-ফ্লুইড বলতে এমন পোশাক ও স্টাইলকে বোঝায়, যা ঐতিহ্যগতভাবে ‘পুরুষালি’ বা ‘নারীসুলভ’ হিসেবে ভাগ করা ধারণাকে ভেঙে দেয়। এখানে মানুষ নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, ব্যক্তিত্ব ও প্রকাশকে গুরুত্ব দেয়, সমাজের নির্ধারিত জেন্ডার নিয়মকে নয়।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিলি ওভারসাইজড হুডি, ব্যাগি প্যান্টস, বড় জার্সি ও লেয়ার্ড পোশাক পরতেন। এগুলো তাঁর সিগনেচার লুক হয়ে ওঠে।

বিলি গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি চাই না মানুষ আমাকে আমার লিঙ্গ বা শরীর দিয়ে বিচার করুক। আমি মানুষ আর আমি একজন শিল্পী। ব্যস, এটুকুই।’

বিলি স্ট্রিটওয়্যার, স্কেট কালচার ও হাই ফ্যাশন—এই তিনটিকে একসঙ্গে মিশিয়েছেন। তিনি প্রায়ই গুচি, ব্যালেন্সিয়াগা, শ্যানেল বা লুই ভুতোঁর ওভারসাইজড ও অ্যান্ড্রোজাইনাস (যেসব পোশাক বা অনুষঙ্গ নারী ও পুরুষ উভয়ের ফ্যাশনের উপাদান বহন করে, সেগুলোকে বলা হয় অ্যান্ড্রোজাইনাস অ্যাসথেটিক) আউটফিট পরেছেন।

নিয়ন সবুজ, রুপালি, কালো-সবুজ, প্লাটিনাম ব্লন্ড—বিভিন্ন হেয়ার কালার হয়ে উঠেছে বিলির পরিচয়ের অংশ। তাঁর স্টাইল সব সময়ই ছিল ‘নিয়ম ভাঙা’ আর নিরীক্ষাধর্মী।

গ্র্যামি হাতে বিলি আইলিশ। ছবি: এএফপি

কেন তাঁর ফ্যাশন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে

বিলির স্টাইল তরুণদের কাছে, বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। কেননা তিনি ‘পারফেক্ট’, ‘জিরো ফিগার’ বা ‘আর্টিফিশিয়াল বিউটি’ অথবা ‘গ্ল্যামারাস’ হওয়ার চাপকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। বিলি দেখিয়েছেন যে একজন নারী শিল্পীকে সব সময় শারীরিক সৌন্দর্য বা প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে, বিষয়টি এমন তো নয়ই; বরং প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণাকে মাড়িয়ে নিজের মতো হয়ে ওঠাকেই উদ্‌যাপন করেছেন বিলি।

বিলি যে ফেমিনিন বা ক্ল্যাসিক গ্ল্যামার লুকে কখনো দেখা দেননি, বিষয়টি তা নয়। ভোগ–এর ফটোশুট বা মেট গালাতে তাঁকেও নিজের নারীত্ব আর শরীরী সৌন্দর্যকে উদ্‌যাপন করতে দেখা গেছে। তবে তিনি ভোগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেই স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘এটি আমার কোনো ফ্যাশন স্টেটমেন্ট বা স্টাইলের কোনো পরিবর্তন নয়। বরং আমি নিজেকে একটু ভিন্নভাবে দেখলাম। নারীত্ব, পুরুষত্ব বা জেন্ডার নিউট্রালিটি—এই সবই একটা মানুষের পরিচয়ের অংশ হতে পারে।’

নিজের সম্পদ বাড়তে দেন না, ধনকুবেরদের প্রশ্নের ওপর রাখেন বিলি

বিলিয়নিয়ারদের নিয়ে এক রকম অ্যালার্জি আছে বিলির। তিনি প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা ধনকুবেরদের ট্যাগ করে প্রশ্ন তোলেন যে কেন এত টাকা তাঁরা নিজেদের কাছে জমিয়ে রাখছেন? একটা মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকতে ঠিক কত টাকা লাগে? ইলন মাস্কের উদ্দেশে বিলি বলেছেন, ‘এত টাকা দিয়ে আপনি কী করবেন? আপনি যতটুকু ভোগ করতে পারবেন, সেটুকু রেখে বাকি অর্থ বিপন্ন মানুষ ও প্রাণীদের জন্য, আরেকটু ভালো পৃথিবীর জন্য খরচ করুন।’

অতি ধনী হওয়ার সংস্কৃতি ও প্রথাকে বিলি তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন। এ চর্চার কারণে যে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ প্রতিনিয়ত ভয়াবহ অর্থনৈতিক বৈষম্যের মুখে পড়ছে, তা-ও জানাতে ভোলেননি এই তরুণী। ২টি অস্কার, ১০টি গ্র্যামি ঝুলিতে নিয়ে ঘোরা বিলি কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক হতে পারতেন চাইলেই। কেবল ‘হ্যাপিয়ার দ্যান এভার’ ট্যুর থেকেই আয় হয়েছে ১৩১ মিলিয়ন ডলার। পিপল ম্যাগাজিনের তথ্য অনুসারে ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট’ ট্যুরের আয় ছাড়িয়ে গেছে ২৫০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু জানলে অবাক হবে, নিয়ম করে বিলি তাঁর সম্পদ বাড়তে দেন না। সেলিব্রিটি নেট ওর্থ ও দ্য ফক্সের রিপোর্ট অনুসারে (২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত) বিলির মোট সম্পদের পরিমাণ ৭০ মিলিয়ন ডলার বা সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা (বিলি যে পর্যায়ের তারকা, সে হিসেবে এ অর্থ অনেক কম)। বিলি চাইলে নিজের ব্র্যান্ড ভ্যালু ব্যবহার করে ২ বছরে শুধু ইনস্টাগ্রাম পোস্ট আব বিজ্ঞাপন থেকেই ৮০০ কোটি টাকা আয় করতে পারেন। প্রতিবছরই বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা, অভিবাসী, যুদ্ধশিশু ও প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ম করে শত শত কোটি টাকা দেন বিলি। আর ধনীদেরও সম্পদ কুক্ষিগত না করে রেখে তা যাতে অন্য মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে কাজে লাগে, সে জন্য উৎসাহিত করেন। এটাকে কোনোভাবেই ‘দান’ বলতে রাজি নন বিলি। তিনি মনে করেন, এটা অন্যদের অধিকার।

পোষা কুকুরের সঙ্গে ডুয়েট

বিলির ‘অক্সিটোসিন’ ও ‘আই ডিডন্ট চেঞ্জ মাই নাম্বার’ গানে তাঁর পোষা কুকুর শার্কের ‘ঘেউ ঘেউ’ ও ‘গরগর’ আওয়াজ ব্যবহার করেছেন। আর এটাকে তিনি বলেছেন শার্কের সঙ্গে ডুয়েট! ‘হ্যাপিয়ার দ্যান এভার’ অ্যালবামেও ব্যবহার করা হয়েছে শার্কের নানা শব্দ। একাধিক সাক্ষাৎকারে বিলি জানিয়েছেন, তাঁর মানসিক শান্তি ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকার একটা বড় কারণ তাঁর পোষা কুকুর শার্ক।

বিলি আইলিশ তাঁর ফ্যাশন, চিন্তাধারা আর জীবনযাপন দিয়ে মূলধারার পপ সংস্কৃতির আলোচনাকে আরও বৈচিত্র্যময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছেন। বিলি জানিয়েছেন, আপনার অর্থ কেবল আপনার অর্থ নয়। তাতে অন্যেরও ভাগ আছে। এমনকি ভাগ আছে পৃথিবীর একটি গাছ, বন, জঙ্গল, একটি পাখি বা একটি প্রাণীরও। পৃথিবীকে সবার জন্য আরেকটু নিরাপদ, বাসযোগ্য করার জন্য ‘শি ইজ মেকিং আ ডিফারেন্স’। বিলি তরুণদের তাঁর মতো বা অন্য কারও মতো নয়, বরং তাঁদের নিজেদের মতো হতে উৎসাহিত করেছেন। বিলি জানান অর্থ বা জনপ্রিয়তা নয়, যে যেমন, তেমন হয়ে বেঁচে থাকা, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বাঁচা, বেড়ে ওঠা, নিজের মতো করে আলো ছড়ানো আর তার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত নিজের সেরা হয়ে ওঠাই সত্যিকারের সফলতা!

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, পিপল, ভোগ ও অনলাইনে প্রকাশিত বিলির বিভিন্ন সাক্ষাৎকার অবলম্বনে
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কোথাও খানাখন্দ, কোথাও চলছে নির্মাণকাজ, সড়কে চলাই দায়
কোথাও খানাখন্দ, কোথাও চলছে নির্মাণকাজ, সড়কে চলাই দায়

ঢাকার সাভারের বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান নির্মাণকাজের কারণে কোথাও কোথাও সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও চলছে কার্পেটিং ও ড্রেনের কাজ। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন নিয়মিত চলাচল করা মানুষ। পণ্য পরিবহন থেকে রোগী বহন—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তির কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা এ সড়কে হেলেদুলে চলায় প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ঝাঁকুনিতে যানবাহন থেকে পড়ে যাচ্ছে কাঁচামাল, ভেঙে যাচ্ছে পণ্য। শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটিই বেড়েছে। এ ছাড়া রোগীরাও সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাইপাইল–আশুলিয়া সড়কটি মূলত সাভার–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এটি ঢাকার সঙ্গে আশুলিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত সড়কের এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ হলে ভোগান্তি থাকবে না।সড়ক বেহাল দশাগত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য বাইপাইল মোড়ের কিছু অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। পাশেই সড়কে জমেছে কাদা। স্থানটিতে সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় কিছুক্ষণ পরপরই যানজট তৈরি হচ্ছে। বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী এলাকা পর্যন্ত রাস্তাটি ইটের সলিং করা। এই অংশের জায়গায় জায়গায় ইট উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিক বাসস্ট্যান্ডের ফয়সাল মার্কেট থেকে শিমুলতলা এলাকা পর্যন্ত দুই পাশের নতুন সড়কের কাজ করা হয়েছে। সরকার মার্কেট থেকে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। নরসিংহপুর এলাকায় নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়েছে।এ ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে উঁচু করে ফেলে রাখা বালুর স্তূপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় সড়কের নিশ্চিন্তপুর অংশটিও সংকুচিত হয়ে গেছে। নিশ্চিন্তপুরে আল মুসলিম অ্যাপারেলস লিমিটেড থেকে ঘোষবাগের বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পর্যন্ত আশুলিয়ামুখী লেনের কাজ করা হয়েছে। বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে জিরাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে উঁচু–নিচু ও ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। আবার কিছু অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।নষ্ট হচ্ছে যানবাহন, পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিবাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের কারণে যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলে। খানাখন্দের কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা।সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের চালক মো. কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তা ভাঙাচোরার কারণে মালিকেরা ড্যামারেজ দিয়া গাড়ি চালাইতেছে। রাস্তার কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। পাতি ভাঙার খরচটা একটু বেশি। ব্রেক নষ্ট হয় প্রায়ই। চাকার ভেতরে ইটের টুকরা ঢুইকা চাকা বাস্ট হয় (ফেটে যায়)।’এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে ফেলে রাখা বালুর স্তুপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। গত সোমবার দুপুরে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়কাভার্ড ভ্যানে করে গাজীপুর থেকে সিরামিকের পণ্য আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান চালক মো. মামুন মিয়া। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকির কারণে মাঝেমধ্যেই গাড়িতে থাকা সিরামিকের দামি দামি বাসনপত্র ভেঙে যায় বলে জানান তিনি। মামুন মিয়া বলেন, ‘এক দিন ভাঙা না পাইলেও অন্য দিন ভাঙেই। দুই-তিন বছর ধইরা চলতাছি, দেখতাছি রাস্তার কাজ চলতেছে।’বাইপাইল আড়ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকুনিতে অনেক সময় পণ্য সড়কে পড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই সড়কে পণ্য পরিবহনে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। জামগড়া চৌরাস্তায় কাজী মার্কেটের সবজি বিক্রেতা মো. আকাশ বলেন, ‘যে ঝাঁকি খায়, মানুষই পইড়া যায়। আর মাল তো পড়বোই। আগে যে জিনিস ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়া আনতাম, এখন লাগে ২৫০ টাকা।’শিল্পকারখানাগুলোও পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। বাইপাইল–সংলগ্ন ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আশিকুল ইসলাম বলেন, বাইপাইল থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। বিকল্প পথ হিসেবে নবীনগর ও সাভারের সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে।ভাঙাচোরা সড়কে সাবধানে চলছে যানবাহন। সোমবার দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় শিল্পকারখানাসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের আশপাশে কয়েক লাখ শ্রমিক বসবাস করেন। সাধারণত এসব মানুষ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সড়ক বেহালের কারণে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ দিয়ে অনেকটা ঘুরে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, বাচ্চাদের অসুখ হলে আগে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। এখন ওই রাস্তা ভালো না। ধুলাবালু ও ভাঙাচোরা। তাই এখন অসুস্থ হলে সাভারে নিয়ে যান।স্বস্তি এসেছে কিছু অংশে২ সেপ্টেম্বর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ওই সেতুসংলগ্ন এলাকার শিল্পকারখানাগুলো পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাচ্ছে। তবে ওই সেতুর দূরবর্তী স্থান থেকে সড়কের ভাঙাচোরা অংশ পেরিয়ে যথাসময়ে কারখানায় পৌঁছানোসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের।আশুলিয়ার জিরাবোর ঘোষবাগ এলাকায় সড়কের কাজ চলছে। সোমবার দুপুরে সেতুসংলগ্ন পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ন্যাচারাল গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স) মো. রাকিবুল আহসান বলেন, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত অংশটি খুলে দেওয়ায় কারখানা থেকে পণ্য পরিবহন এখন অনেক সহজ হয়েছে। তবে কারখানার কর্মচারী ও শ্রমিকেরা অন্য এলাকায় বসবাস করায় তাঁরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।বর্তমানে সড়কের যেসব স্থানে গর্ত বা খানাখন্দ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করা হলেও বৃষ্টির কারণে আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল এবং ইপিজেড পর্যন্ত এক পাশ অর্থাৎ দুই লেন পুরোটার কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া যেসব জায়গায় ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
মেটায় ফেলোশিপ, দুই বছর পূর্ণ অর্থায়নসহ বিস্তারিত জেনে নিন

মেটায় ফেলোশিপ, দুই বছর পূর্ণ অর্থায়নসহ বিস্তারিত জেনে নিন

চেলোপাড়ায় বাদ্যযন্ত্র তৈরির ব্যস্ততা

চেলোপাড়ায় বাদ্যযন্ত্র তৈরির ব্যস্ততা

ফাইনালে উঠতে পারলেন না মিরাজ, বৃথা গেল হেটমায়ারের সেঞ্চুরি

ফাইনালে উঠতে পারলেন না মিরাজ, বৃথা গেল হেটমায়ারের সেঞ্চুরি

আমি আকাশ হতে চাই
আমি আকাশ হতে চাই

আমি আকাশ হতে চাই,যেখানে মানুষেরা আসে মেঘ হয়ে—অতিথির মতো, থাকে ক্ষণিক,তবু আকাশ তো থাকে!একান্ত নীল,অচঞ্চল এক অস্তিত্বের রেখায় গাঁথা।আমি আকাশ হতে চাই,যেখানে প্রেম আসে ধূসর ধোঁয়ায়,তবু হারায় না হৃদয়ের স্বচ্ছতা।কারও আসা বা যাওয়ায়আকাশ কি কখনো নিজের রং বদলায়?না, সে থাকে স্থির, শান্ত, সর্বত্র বিস্তৃত।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ রাতের নিস্তব্ধতায়একটা চাঁদ জ্বলে, নিঃশব্দে ভালোবাসে,অন্ধকারের বুকে আশার মতোআলোকছায়া ছড়িয়ে দেয় নিরবধি।আমি আকাশ হতে চাই,যখন আমি কাঁদি—সে কান্না হয় বৃষ্টির মতো,যার সুরে মানুষ খুঁজে পায় পরিত্রাণ,শোকের জলেও ভিজে ওঠে প্রাণের ঘ্রাণ।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ আকাশের মতো বিস্তৃত মন চাই আমার,যেখানে ক্ষুদ্রতা নেই, নেই হিংসা বা দ্বিধা,যেখানে প্রতিটি হৃদয়ের ব্যথাএক আশ্রয় পায়—বিশ্বাসের ছায়ায়।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ আমি পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চাই,যেখানে সময় বদলায়, রং বদলায়,তবু আমি থেকে যাই—এক অদৃশ্য গভীরতায়স্থির, কিন্তু সীমাহীন।আমি আকাশ হতে চাই—কারণ আকাশ কখনো কারও হয় না,তবু সে সবার।তেমনি আমি—নির্বাক ভালোবাসা হয়েসব কষ্টের ছায়া হই,তবু নিজেই রয়ে যাই আকাশ হয়ে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো শাফি এখন  চাকরি করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে, তাঁকে দেখা যায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও

দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো শাফি এখন চাকরি করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে, তাঁকে দেখা যায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

ভিড় দেখে অনেকের ভয় বা অস্বস্তি হয় কেন

ভিড় দেখে অনেকের ভয় বা অস্বস্তি হয় কেন

ফিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে ভাইকিং যুগের গুপ্তধন
ফিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে ভাইকিং যুগের গুপ্তধন

বনের ভেতর সুনসান নীরবতা। হঠাৎ বিপ বিপ করে বেজে উঠল মেটাল ডিটেক্টর। শব্দটা শুনে কান খাড়া করলেন কালে লাপ্পিনেন। জায়গাটা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে, সিসমা শহরের কাছের এক জঙ্গল। কালে হয়তো ভেবেছিলেন, মাটির নিচে পুরোনো কোনো টিনের কৌটা বা লোহালক্কড় মিলবে। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর মাটি খুঁড়তেই তাঁর চোখ ছানাবড়া! জঙ্গলের পাথুরে মাটির নিচে লুকিয়ে আছে হাজার বছর পুরোনো রুপার বিশাল এক গুপ্তধন!ফিনল্যান্ডের ইতিহাসে এর আগে ভাইকিং যুগের এত বড় রুপার গুপ্তধন আর কখনো পাওয়া যায়নি। চলো, জেনে নিই সেই জঙ্গলের গুপ্তধনে কী কী পাওয়া গেল।১০ পাউন্ডের রুপার খনিএই গুপ্তধনে কী আছে শুনলে তুমিও চমকে যাবে। প্রায় সাড়ে চার কেজি ওজনের রুপার কয়েন আর গয়না পাওয়া গেছে! লাহাটি হিস্টোরিক্যাল মিউজিয়ামের প্রত্নতত্ত্ববিদ এসকো তিক্কালা এই গুপ্তধন খনন করেছেন। তিনি জানান, ‘গুপ্তধনগুলো মূলত দুটি ভাগে ভাগ করে বার্চগাছের ছালের পাত্রে ভরে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। পাত্র দুটি একে অপরের থেকে প্রায় ৩৯ ফুট দূরে এবং মাটির ১৮ ইঞ্চি গভীরে দুটি পাথরের মাঝখানে লুকানো ছিল।’যদিও এগুলো এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার করে গোনা হয়নি, তবে এর মধ্যে কয়েক হাজার কয়েন ও টুকরা আছে। তিক্কালার ভাষায়, ‘কয়েন এত বেশি যে আমি এখনো সব কটি নেড়েচেড়ে দেখার সময় পাইনি!’আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কীকোথা থেকে এল এত সম্পদপ্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, এই গয়না ও কয়েনগুলো ১০০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যকার। এতে বর্তমান জার্মানি, সুইডেন আর গ্রেট ব্রিটেন এলাকার কয়েন রয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, এখানে বেশ কিছু দিরহামও মিলেছে। এগুলো ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ফিনল্যান্ডে আসত।এর পাশাপাশি মিলেছে রুপার ব্রেসলেট এবং হ্যাক সিলভার। হ্যাক সিলভার হলো রুপার এমন টুকরা, যা সেকালে ওজনের ওপর ভিত্তি করে কেটে কেটে দাম মেটানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। শুধু এই রুপার ওজন হিসাব করলেই আজকের বাজারে এর দাম দাঁড়াবে প্রায় ১০ হাজার ডলার!ভাইকিং যুগের, কিন্তু ভাইকিংদের নয়!তুমি হয়তো ভাবছ, গুপ্তধন যখন ভাইকিং যুগের, তখন নিশ্চয়ই এটা কোনো দুর্ধর্ষ ভাইকিং জলদস্যুর কাজ! কিন্তু এসকো তিক্কালা বলছেন অন্য কথা। সেকালে ফিনল্যান্ড রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিকভাবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ভাইকিংদের অংশ ছিল না। ফিনল্যান্ডের ইতিহাসবিদরা শুধু ওই সময়কাল বোঝাতে ‘ভাইকিং যুগ’ শব্দটা ব্যবহার করেন। তাই এই গুপ্তধন কোনো ভাইকিংয়ের না-ও হতে পারে।ভাইকিংদের গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছে ১৩ বছরের কিশোরকেন লুকানো হয়েছিল এই সম্পদমানুষ কেন এভাবে মাটির নিচে সম্পদ লুকিয়ে রাখত, তার সঠিক উত্তর দেওয়া মুশকিল। আশপাশে কোনো কবরের চিহ্নও মেলেনি। তবে রোমান আমলের ১৫ হাজারেরও বেশি গুপ্তধন নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেকালে মানুষ মূলত কর বা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে, দেবতাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করতে কিংবা যুদ্ধের মতো অনিশ্চিত সময়ে সম্পদ নিরাপদে রাখতে মাটির নিচে ধন লুকিয়ে রাখত।একের পর এক গুপ্তধনফিনল্যান্ডে এর আগে ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় গুপ্তধনটি মিলেছিল ১৮৯৫ সালে নৌসিয়ানেন এলাকায়। তাতে ১ হাজার ৭০০ রুপার কয়েন থাকলেও তার ওজন ছিল এই নতুন গুপ্তধনের ঠিক অর্ধেক। শুধু ফিনল্যান্ড নয়, সম্প্রতি নরওয়েতেও ৪ হাজার ৭০০ কয়েনের এক বিশাল গুপ্তধন মিলেছে। আর ডেনমার্কে তো এক লোক নিজের বাড়ির পেছনের উঠান খুঁড়তে গিয়েই সাড়ে ১৮ কেজি ওজনের ৭০০ রুপার বস্তুর এক বিশাল ভান্ডার পেয়ে গেছেন!সূত্র: লাইভ সায়েন্সআর্লিং হলান্ড কেন নরওয়ের হয়ে খেলেন

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড কেইনের

বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড কেইনের

কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন

সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন

0 Comments