বাংলাদেশে গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যাওয়া এবং এ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে চর্চা করার পুরোধা ব্যক্তি রেজা সেলিম। আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন ‘উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি’ ধারণায়। প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প ও আমাদের গ্রাম ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক রেজা সেলিম। তিনি গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার, ক্যানসার প্রতিরোধে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, জ্ঞানমেলা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। ঢাকার ইকবাল রোডে আমাদের গ্রামের ঢাকা সমন্বয় অফিসে ৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পল্লব মোহাইমেন।
আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প দিয়ে শুরু। শুরুর কথা কিছু বলুন।
রেজা সেলিম: আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প বা আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট। ২০০০–০১ সালের দিকে আমাদের যে ভিশন ছিল মানুষের কাছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রচারিত হোক এবং তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাগুলো যাতে সাধারণ মানুষ পায়। অবকাঠামোর চিন্তা একদিকে, আরেকটা চিন্তা ছিল কম্পিউটার মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুবিধা কীভাবে দেওয়া যায় আর তা সাশ্রয়ী উপায়ে। আপনার তো মনে আছে, তখন কম্পিউটার মানে অনেক দাম। ইন্টারনেট ছিল ডায়ালআপ (টেলিফোনের মাধ্যমে)। এই খরচগুলো কীভাবে কমানো যায়, কী বুদ্ধিতে এটাকে এই সাশ্রয়ী রাখা যায়—এসব চিন্তা নিয়েই তো উন্নয়ন। মূল ফোকাস ছিল ই–রেডিনেস। কারণ, আমরা বুঝতে পারছিলাম যে তথ্যপ্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা আছে।
তথ্যপ্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা আছে, তা বুঝলেন কীভাবে?
রেজা সেলিম: সে সময় একটা বিতর্ক ছিল, কম্পিউটারের সম্ভাবনা কি শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, না এটি সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছাবে। ২০০০ সালে জাপানের ওকিনাওয়াতে বিশ্বের ক্ষমতাশালী আটটি দেশের জি–৮ সম্মেলন হয়। এখানে ডট ফোর্স (ডিজিটাল অপরচ্যুনিটি টাস্কফোর্স) গঠন করা হয়। ওকিনাওয়া ঘোষণায় পৃথিবীর আটটি বড় ধনী দেশ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের প্রস্তাবে এবং জাপানের সমর্থনে একটা সিদ্ধান্ত হয়। ডিজিটাল প্রযুক্তি মানে তথ্যপ্রযুক্তির যে সম্ভাবনা, সেটা উন্নয়নের জন্য হবে। তখনো কারও কাছে ধারণাটা পরিষ্কার ছিল না। প্রযুক্তিবিদদের কাছেও পরিষ্কার ছিল না। এটা মানুষের জন্য (প্রো–পিপল); অর্থাৎ মানুষকেন্দ্রিক করার জন্য বিতর্ক শুরু হয়। এই ডিজিটাল অপরচ্যুনিটি টাস্কফোর্স করে বলা হয় যে ২০০১ সালের জি–৮ সম্মেলনে (ইতালির রেনোয়া শহরে) একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। ডট ফোর্সের সচিবালয় ছিল বিশ্বব্যাংকে। পৃষ্ঠপোষক ছিল কানাডা। জি–৮–এর কনসালটেশনে আমি যুক্ত ছিলাম। প্রথমে কানাডায় জিকে-১ (গ্লোবাল নলেজ) ও পরে মালয়েশিয়ায় জিকে–২ বৈঠক হয়। সেই বৈঠক দুটিতে ‘উন্নয়নের জন্য আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি) ’ ধারণার সুপারিশ করা হয়। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জাতিসংঘের যুক্ততা প্রয়োজন ছিল। তাই জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়। তারপর জাতিসংঘের তথ্যসমাজ শীর্ষ সম্মেলন (ডব্লিউএসআইএস) হয় ২০০৩ সালে জেনেভায় ও ২০০৫ সালে তিউনিসে। জিকেপির দক্ষিণ এশিয়ার সমন্বয়কারী হিসেবে ও বাংলাদেশ সরকারের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম। বিষয়টা জানতাম, এ কারণে ২০০১ সাল থেকে আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প করা সহজ হয়েছে।
আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প রামপালে কেন?
রেজা সেলিম: রামপাল যাওয়ার মূল কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মাহমুদুল হক। তাঁর গ্রাম বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা। সেখানে আর আমার বাড়ি কুমিল্লার গ্রামে কাজ শুরু করলাম। তারপর দেখলাম, কুমিল্লার গ্রাম বাগেরহাটের গ্রামের চেয়ে তুলনামূলক অগ্রসর। তাই বাগেরহাটের রামপালই বেছে নিলাম। রামপাল ঢাকা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে, তখন ২০০০ সালের দিকে যশোর-খুলনা হয়ে সেখানে যেতে সময় লাগত ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা।
শুরুতে আপনারা কম্পিউটারে কী কী করতেন?
রেজা সেলিম: ডেটা এন্ট্রি করে ডেটাবেজ করতাম। এতে গ্রামের একটা ডেটাবেজ তৈরি হলো। কোথায় কী আছে, স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন তথ্যের ডেটাবেজ। ছেলে–মেয়েরা তখন কম্পিউটার শিখতে আসত। এক্সেল, ওয়ার্ড শিখত। মাইক্রোসফট অ্যাকসেস শিখে ওরা ওদের নিজেদের পরিবারের নিজেদের প্রতিবেশীদের ডেটা নিয়ে আসত। একটা নির্দিষ্ট ফরম্যাটে সে ডেটা নিয়ে ওরা এন্ট্রি করতে এবং অনুশীলন করে শিখত। ফলে আমাদের একটা বড় ডেটাবেজ তৈরি হয়। এই ডেটা থেকে নিয়ে আমরা জ্ঞানকেন্দ্রে বা নলেজ সেন্টারের ধারণা উন্নয়ন করি। স্কুলেও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিতাম। তথ্যপ্রযুক্তি–সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য স্কুলগুলোকে ল্যাবরেটরি করে দিতে সহায়তা করতাম। কম্পিউটার শিক্ষক এনে দিতাম। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া—পুরো আন্দোলনটাই এভাবে হয়েছে। সবাই যেন কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে, এটাই ছিল উদ্দেশ্য। বাবা–মায়েদের বোঝাতাম কম্পিউটারের গুরুত্ব। তরুণ ছেলে–মেয়েদের তখন ধারণা হলো, হয়তো কম্পিউটারে শিখলে একটা চাকরি হবে। কারণ, তখন কম্পিউটার টাইপরাইটারকে প্রতিস্থাপন করেছে। আমরা এর আরও যে সুবিধা–সম্ভাবনা আছে, সেটা মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার করতে গেলেন কেন?
রেজা সেলিম: আমি দীর্ঘদিন হেলথ কমিউনিকেশন নিয়ে কাজ করেছি। আমার ব্যক্তিগত উৎসাহ ছিল স্বাস্থ্যতথ্য নিয়ে। গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যগত তথ্যও আমরা জোগাড় করেছি। ফলে আমাদের কাছে একটা স্বাস্থ্যতথ্যের একটা ডেটাবেজও গড়ে ওঠে। এ ধরনের তথ্য পাওয়া এবং এগুলোকে গবেষণার ছকে বিশ্লেষণ করে মানুষকে সহায়তা করা যায় কি না, এ চিন্তা থেকেই আমরা রামপালে স্তন ক্যানসার সেন্টারে নিরীক্ষার কাজ শুরু করি। ইন্টারনেটে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রিচার্ড লাভের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আসেন, বাংলাদেশে আমাদের কার্যক্রম দেখেন। দেখার পর তিনি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বললেন, ‘এই কাজে আমি তোমাদের সঙ্গে থাকতে চাই।’ ২০০৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে স্তন ক্যানসার প্রকল্পটা শুরু হয়। রামপাল থেকেই ঢাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা যুক্ত হতেন ভিডিও কনফারেন্সে। ভিডিও কনফারেন্সের জন্য বিটিসিএলের সহায়তা পেয়েছি। ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ৩০ হাজার নারীর তথ্য আছে আমাদের ইএমআরে (ইলেট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড)। আলট্রাসাউন্ডের ছবিও আছে। এই ইএমআরে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মানা হয়। রোগীর সম্মতিও নেওয়া হয়। সরকারি বা গবেষণার কাজে বিএমআরসির (বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল) নৈতিক নিয়ম অনুযায়ী পুরো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি মেনে ইএমআর দেওয়া হয়। ইএমআর সফটওয়্যার তৈরি করেছে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট তাদের ভিডিও কনফারেন্সিং–সুবিধা আমাদের ব্যবহার করতে দেয়। মাইক্রোসফট করপোরেশন সফটওয়্যার প্রযুক্তি দিয়ে আমাদের সহায়তা করে। ফলে রামপালের গ্রামের নারীও বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পান।
স্তন ক্যানসার কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার কারণ ২০১২ সালে অসংক্রামক রোগনির্ণয় ও ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৪ সালে জমি পাই রামপালেই। এটা কিন্তু কোনো ক্যানসার হাসপাতাল নয়, ক্যানসারসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করার একটি সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্য গবেষণাগার। ২০২৫ সালে এটা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। এই অক্টোবরে এর পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে বড় শহরের হাসপাতালে রোগীকে যাতে যেতে না হয়, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য। আর টেলিমেডিসিন–সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের এখানে ক্যানসার প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করে কেমোথেরাপি পর্যন্ত দেওয়া হবে। রেডিওথেরাপি ব্যয়বহুল, তাই পরে যুক্ত হতে পারে।
আপনার গ্রাম তো কুমিল্লায়, বাগেরহাট গেলেন কেন?
রেজা সেলিম: অধ্যাপক মাহমুদুল হকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম ছিল রামপাল। আজ থেকে ৩২ বছর আগে যখন আমরা কাজ শুরু করেছি, তখন এখানে শিক্ষার হার ছিল ২৯ শতাংশ। এখন ৭০ শতাংশের বেশি। কুমিল্লায় আমার নিজের গ্রামের সঙ্গেও আমি গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
তখন এবং এখন কী পরিবর্তন দেখেন আপনাদের কাজে?
রেজা সেলিম: প্রথম ও এখনো একটা স্বপ্নের তাড়না কাজ করছে। যখন এখানে (রামপাল) ই–মেইল চালু হলো, তখন মানুষ বিশ্বাসই করেনি যে কোনো চিঠি তাৎক্ষণিকভাবে, মানে এখনই ঢাকায় যাবে। এটা তাদের কাছে বিস্ময় ছিল। আমরা একবার এসএমএস পাঠানোর কর্মশালা করেছিলাম। এক ঘণ্টার একটা কর্মশালা। ওই একবারই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এরপর তারাই অন্যদের শিখিয়েছে। আমাদের গ্রামের ৩০ হাজার ক্যানসারের যে রোগী, তাদের মধ্যে চার থেকে সাড়ে চার হাজার রোগীর সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে ছিলাম। এত রোগী দেখে যা বুঝেছি, আমাদের এখানে চিকিৎসায় ভয়ের (ফিয়ার) মডেল দেখানো হয়। সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে ক্যানসার নির্ণয় করলে বেশির ভাগ রোগী ভালো হয়। প্রতিরোধযোগ্য রোগকে আগেই প্রতিকার করা যায়। আমাদের সরকারের উচিত প্রতিবছর নারীদের স্তন ক্যানসার ও জয়ায়ুমুখের ক্যানসার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা। ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রক্তের সিবিসি ও চেস্ট এক্স–রে করা। রক্তের সিবিসি ও চেস্ট এক্স–রে করতে একেকজনের এক হাজার টাকা করে খরচ হবে। ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য ও সহজগম্য করা সম্ভব। এটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝি। অন্য রোগের বেলাতেও একই কথা। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের দাম কিন্তু বেশি নয়। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে। অনেকেরই কম বয়সে স্ট্রোক করে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে থাকছে। লবণপানির এলাকায় এসব নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হওয়া উচিত।
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছি, এখন এআইও ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০ বছর হলো মাইক্রোসফট আমাদের সহায়তা করছে, আমাদের সঙ্গে আছে। বাংলাদেশে যেখানে চিকিৎসকেরা রোগী দেখেন দুই–তিন মিনিটে, সেখানে আমাদের গ্রাম সেন্টারে রোগীর সঙ্গে চিকিৎসক কমপক্ষে এক ঘণ্টা কথা বলেন। আপনি যদি ভালো করে রোগীর সব তথ্য না জানেন, তাহলে কেমন করে সঠিক চিকিৎসা দেবেন? অনলাইনেও আমরা চিকিৎসাসেবা দিই। ভার্চ্যুয়াল কেয়ার এই দেশে সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবার অন্যতম মডেল হতে পারে, তার নমুনা আমরা এরই মধ্যে তৈরি করেছি। এসবই আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া আমার কাছে একটি মায়ার জগৎ হয়ে ধরা পড়েছে।
জ্ঞানমেলার আয়োজন হতো একসময়। জ্ঞানমেলার শুরুটা কীভাবে? কত বছর করেছেন? এখন কেন হয় না?
রেজা সেলিম: জ্ঞানমেলার শুরুটা ২০০৪ সালে রামপালের শ্রীফলতলা হাইস্কুলের মাঠে।। প্রথম মেলায় বিটিআরসির প্রথম চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ এসেছিলেন। ২০২২ সাল পর্যন্ত করেছি। এ বছর আবার হবে আশা করি। মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আসতেন এ মেলায়। গ্রামের মানুষের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাবটা বোঝা যেত মেলায়। দুপুরের পর গ্রামের নারী, মেয়েদের ঢল নামত। কিন্তু একটাও ইভ টিজিংয়ের ঘটনা ঘটেনি। আমরা জ্ঞানমেলায় স্কুল ও স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতাম। শিক্ষকেরাই আয়োজক কমিটিতে থাকেন। রামপালের মানুষ অন্য অনেক এলাকার চেয়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ভালো করে। গ্রামের অনেক তরুণ আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন। শ্রীফলতলা হাইস্কুল মাঠেই আমরা ১০টি জ্ঞানমেলা করেছি।

আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার কম। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে। এটাকে কীভাবে বাড়ানো যায়? আর কোনটা গ্রহণ করা উচিত, কোনটা নয়?
রেজা সেলিম: জাতিসংঘের প্রথম তথ্যসমাজ শীর্ষ সম্মেলনে (২০০৩) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ছিল। দ্বিতীয় সম্মেলনে (২০০৫) মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভালো ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরে অনেক কাজে ওভারল্যাপিং হয়েছে। যত বেশি অবকাঠামো করেছি আমরা, তত সুবিধা পায়নি মানুষ। একটা দেশে কিন্তু মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার কিছু নয়। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট দরকার। সারা দেশে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক আছে, কিন্তু ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নেই। তারপর ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে ট্যাব দেওয়া হয়েছে, তারপর সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। শত শত অ্যাপ তৈরি হয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগেরই ব্যবহার নেই বা কার্যকারিতা নেই। বেশির ভাগ মানুষ এখনো গ্রামে থাকে। আশা করি সরকার গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেবে। শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, জনসেবার সব খাতেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার গ্রামমুখী হওয়া দরকার।
আমাদের গ্রাম ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারে ক্যানসারের চিকিৎসা পুরোপুরি হবে?
রেজা সেলিম: প্রথম দিকে হয়তো সব চিকিৎসা হবে না, তবে রোগনির্ণয় হবে। কেমোথেরাপি দেওয়া হবে। আপাতত রেডিওথেরাপি দেওয়া যাবে না। আমরা চেষ্টা করছি এবং সরকারের সহযোগিতা চেয়েছি। খুলনা বিভাগেই কোনো রেডিওথেরাপি নেই। বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপির এই সংকট উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য অন্তত ১টি করে রেডিওথেরাপি মেশিন থাকা প্রয়োজন। সেই হিসাবে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে কমপক্ষে ১৭০ থেকে ২০০টি রেডিওথেরাপি মেশিন দরকার। কিন্তু বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে সচল ও অচল সব ধরনের মেশিন হিসাব করলে এর সংখ্যা ৩০–এর মতো হবে।
আমাদের গ্রামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
রেজা সেলিম: প্রথমত, মানুষকে রোগের ভয়ভীতি থেকে মুক্তি দেওয়া। দ্বিতীয়ত, মানুষ যেন তার বাড়িতে বসে বা গ্রাম থেকে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পায়, এটা নিশ্চিত করতে চাই। তাকে যেন অকারণে বা ছোটখাটো অসুখে কোনো বড় হাসপাতালে, বড় চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে না হয়। আমরা তার রোগ নির্ণয় করে দেব। তৃতীয়ত, সরকারের ওপর চাপ কমানো। বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীরা প্রয়োজন ছাড়া না গেলে এমনিতেই চাপ কমবে। চিকিৎসার খরচ কমানোর চেষ্টা করা এবং ধারাবাহিক গবেষণা করে দেখা যে কী করে চিকিৎসা ব্যয় কমানো যায়। এর মাধ্যমে যে ডেটা তৈরি হবে, এই ডেটাগুলো দিয়ে একটা বড় ডেটা ডিপোজিটরি হবে। ডেটা ব্যাংকের মতো—যেটি দিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজ, চিকিৎসক সমাজ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা সহায়তা পাবে। আর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটা হাব হিসেবে কাজ করবে।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
রেজা সেলিম: আপনাকেও ধন্যবাদ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঢাকার সাভারের বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান নির্মাণকাজের কারণে কোথাও কোথাও সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও চলছে কার্পেটিং ও ড্রেনের কাজ। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন নিয়মিত চলাচল করা মানুষ। পণ্য পরিবহন থেকে রোগী বহন—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তির কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা এ সড়কে হেলেদুলে চলায় প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ঝাঁকুনিতে যানবাহন থেকে পড়ে যাচ্ছে কাঁচামাল, ভেঙে যাচ্ছে পণ্য। শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটিই বেড়েছে। এ ছাড়া রোগীরাও সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাইপাইল–আশুলিয়া সড়কটি মূলত সাভার–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এটি ঢাকার সঙ্গে আশুলিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত সড়কের এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ হলে ভোগান্তি থাকবে না।সড়ক বেহাল দশাগত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য বাইপাইল মোড়ের কিছু অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। পাশেই সড়কে জমেছে কাদা। স্থানটিতে সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় কিছুক্ষণ পরপরই যানজট তৈরি হচ্ছে। বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী এলাকা পর্যন্ত রাস্তাটি ইটের সলিং করা। এই অংশের জায়গায় জায়গায় ইট উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিক বাসস্ট্যান্ডের ফয়সাল মার্কেট থেকে শিমুলতলা এলাকা পর্যন্ত দুই পাশের নতুন সড়কের কাজ করা হয়েছে। সরকার মার্কেট থেকে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। নরসিংহপুর এলাকায় নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়েছে।এ ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে উঁচু করে ফেলে রাখা বালুর স্তূপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় সড়কের নিশ্চিন্তপুর অংশটিও সংকুচিত হয়ে গেছে। নিশ্চিন্তপুরে আল মুসলিম অ্যাপারেলস লিমিটেড থেকে ঘোষবাগের বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পর্যন্ত আশুলিয়ামুখী লেনের কাজ করা হয়েছে। বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে জিরাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে উঁচু–নিচু ও ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। আবার কিছু অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।নষ্ট হচ্ছে যানবাহন, পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিবাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের কারণে যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলে। খানাখন্দের কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা।সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের চালক মো. কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তা ভাঙাচোরার কারণে মালিকেরা ড্যামারেজ দিয়া গাড়ি চালাইতেছে। রাস্তার কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। পাতি ভাঙার খরচটা একটু বেশি। ব্রেক নষ্ট হয় প্রায়ই। চাকার ভেতরে ইটের টুকরা ঢুইকা চাকা বাস্ট হয় (ফেটে যায়)।’এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে ফেলে রাখা বালুর স্তুপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। গত সোমবার দুপুরে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়কাভার্ড ভ্যানে করে গাজীপুর থেকে সিরামিকের পণ্য আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান চালক মো. মামুন মিয়া। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকির কারণে মাঝেমধ্যেই গাড়িতে থাকা সিরামিকের দামি দামি বাসনপত্র ভেঙে যায় বলে জানান তিনি। মামুন মিয়া বলেন, ‘এক দিন ভাঙা না পাইলেও অন্য দিন ভাঙেই। দুই-তিন বছর ধইরা চলতাছি, দেখতাছি রাস্তার কাজ চলতেছে।’বাইপাইল আড়ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকুনিতে অনেক সময় পণ্য সড়কে পড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই সড়কে পণ্য পরিবহনে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। জামগড়া চৌরাস্তায় কাজী মার্কেটের সবজি বিক্রেতা মো. আকাশ বলেন, ‘যে ঝাঁকি খায়, মানুষই পইড়া যায়। আর মাল তো পড়বোই। আগে যে জিনিস ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়া আনতাম, এখন লাগে ২৫০ টাকা।’শিল্পকারখানাগুলোও পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। বাইপাইল–সংলগ্ন ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আশিকুল ইসলাম বলেন, বাইপাইল থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। বিকল্প পথ হিসেবে নবীনগর ও সাভারের সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে।ভাঙাচোরা সড়কে সাবধানে চলছে যানবাহন। সোমবার দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় শিল্পকারখানাসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের আশপাশে কয়েক লাখ শ্রমিক বসবাস করেন। সাধারণত এসব মানুষ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সড়ক বেহালের কারণে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ দিয়ে অনেকটা ঘুরে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, বাচ্চাদের অসুখ হলে আগে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। এখন ওই রাস্তা ভালো না। ধুলাবালু ও ভাঙাচোরা। তাই এখন অসুস্থ হলে সাভারে নিয়ে যান।স্বস্তি এসেছে কিছু অংশে২ সেপ্টেম্বর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ওই সেতুসংলগ্ন এলাকার শিল্পকারখানাগুলো পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাচ্ছে। তবে ওই সেতুর দূরবর্তী স্থান থেকে সড়কের ভাঙাচোরা অংশ পেরিয়ে যথাসময়ে কারখানায় পৌঁছানোসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের।আশুলিয়ার জিরাবোর ঘোষবাগ এলাকায় সড়কের কাজ চলছে। সোমবার দুপুরে সেতুসংলগ্ন পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ন্যাচারাল গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স) মো. রাকিবুল আহসান বলেন, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত অংশটি খুলে দেওয়ায় কারখানা থেকে পণ্য পরিবহন এখন অনেক সহজ হয়েছে। তবে কারখানার কর্মচারী ও শ্রমিকেরা অন্য এলাকায় বসবাস করায় তাঁরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।বর্তমানে সড়কের যেসব স্থানে গর্ত বা খানাখন্দ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করা হলেও বৃষ্টির কারণে আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল এবং ইপিজেড পর্যন্ত এক পাশ অর্থাৎ দুই লেন পুরোটার কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া যেসব জায়গায় ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
আমি আকাশ হতে চাই,যেখানে মানুষেরা আসে মেঘ হয়ে—অতিথির মতো, থাকে ক্ষণিক,তবু আকাশ তো থাকে!একান্ত নীল,অচঞ্চল এক অস্তিত্বের রেখায় গাঁথা।আমি আকাশ হতে চাই,যেখানে প্রেম আসে ধূসর ধোঁয়ায়,তবু হারায় না হৃদয়ের স্বচ্ছতা।কারও আসা বা যাওয়ায়আকাশ কি কখনো নিজের রং বদলায়?না, সে থাকে স্থির, শান্ত, সর্বত্র বিস্তৃত।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ রাতের নিস্তব্ধতায়একটা চাঁদ জ্বলে, নিঃশব্দে ভালোবাসে,অন্ধকারের বুকে আশার মতোআলোকছায়া ছড়িয়ে দেয় নিরবধি।আমি আকাশ হতে চাই,যখন আমি কাঁদি—সে কান্না হয় বৃষ্টির মতো,যার সুরে মানুষ খুঁজে পায় পরিত্রাণ,শোকের জলেও ভিজে ওঠে প্রাণের ঘ্রাণ।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ আকাশের মতো বিস্তৃত মন চাই আমার,যেখানে ক্ষুদ্রতা নেই, নেই হিংসা বা দ্বিধা,যেখানে প্রতিটি হৃদয়ের ব্যথাএক আশ্রয় পায়—বিশ্বাসের ছায়ায়।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ আমি পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চাই,যেখানে সময় বদলায়, রং বদলায়,তবু আমি থেকে যাই—এক অদৃশ্য গভীরতায়স্থির, কিন্তু সীমাহীন।আমি আকাশ হতে চাই—কারণ আকাশ কখনো কারও হয় না,তবু সে সবার।তেমনি আমি—নির্বাক ভালোবাসা হয়েসব কষ্টের ছায়া হই,তবু নিজেই রয়ে যাই আকাশ হয়ে।
বনের ভেতর সুনসান নীরবতা। হঠাৎ বিপ বিপ করে বেজে উঠল মেটাল ডিটেক্টর। শব্দটা শুনে কান খাড়া করলেন কালে লাপ্পিনেন। জায়গাটা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে, সিসমা শহরের কাছের এক জঙ্গল। কালে হয়তো ভেবেছিলেন, মাটির নিচে পুরোনো কোনো টিনের কৌটা বা লোহালক্কড় মিলবে। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর মাটি খুঁড়তেই তাঁর চোখ ছানাবড়া! জঙ্গলের পাথুরে মাটির নিচে লুকিয়ে আছে হাজার বছর পুরোনো রুপার বিশাল এক গুপ্তধন!ফিনল্যান্ডের ইতিহাসে এর আগে ভাইকিং যুগের এত বড় রুপার গুপ্তধন আর কখনো পাওয়া যায়নি। চলো, জেনে নিই সেই জঙ্গলের গুপ্তধনে কী কী পাওয়া গেল।১০ পাউন্ডের রুপার খনিএই গুপ্তধনে কী আছে শুনলে তুমিও চমকে যাবে। প্রায় সাড়ে চার কেজি ওজনের রুপার কয়েন আর গয়না পাওয়া গেছে! লাহাটি হিস্টোরিক্যাল মিউজিয়ামের প্রত্নতত্ত্ববিদ এসকো তিক্কালা এই গুপ্তধন খনন করেছেন। তিনি জানান, ‘গুপ্তধনগুলো মূলত দুটি ভাগে ভাগ করে বার্চগাছের ছালের পাত্রে ভরে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। পাত্র দুটি একে অপরের থেকে প্রায় ৩৯ ফুট দূরে এবং মাটির ১৮ ইঞ্চি গভীরে দুটি পাথরের মাঝখানে লুকানো ছিল।’যদিও এগুলো এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার করে গোনা হয়নি, তবে এর মধ্যে কয়েক হাজার কয়েন ও টুকরা আছে। তিক্কালার ভাষায়, ‘কয়েন এত বেশি যে আমি এখনো সব কটি নেড়েচেড়ে দেখার সময় পাইনি!’আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কীকোথা থেকে এল এত সম্পদপ্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, এই গয়না ও কয়েনগুলো ১০০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যকার। এতে বর্তমান জার্মানি, সুইডেন আর গ্রেট ব্রিটেন এলাকার কয়েন রয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, এখানে বেশ কিছু দিরহামও মিলেছে। এগুলো ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ফিনল্যান্ডে আসত।এর পাশাপাশি মিলেছে রুপার ব্রেসলেট এবং হ্যাক সিলভার। হ্যাক সিলভার হলো রুপার এমন টুকরা, যা সেকালে ওজনের ওপর ভিত্তি করে কেটে কেটে দাম মেটানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। শুধু এই রুপার ওজন হিসাব করলেই আজকের বাজারে এর দাম দাঁড়াবে প্রায় ১০ হাজার ডলার!ভাইকিং যুগের, কিন্তু ভাইকিংদের নয়!তুমি হয়তো ভাবছ, গুপ্তধন যখন ভাইকিং যুগের, তখন নিশ্চয়ই এটা কোনো দুর্ধর্ষ ভাইকিং জলদস্যুর কাজ! কিন্তু এসকো তিক্কালা বলছেন অন্য কথা। সেকালে ফিনল্যান্ড রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিকভাবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ভাইকিংদের অংশ ছিল না। ফিনল্যান্ডের ইতিহাসবিদরা শুধু ওই সময়কাল বোঝাতে ‘ভাইকিং যুগ’ শব্দটা ব্যবহার করেন। তাই এই গুপ্তধন কোনো ভাইকিংয়ের না-ও হতে পারে।ভাইকিংদের গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছে ১৩ বছরের কিশোরকেন লুকানো হয়েছিল এই সম্পদমানুষ কেন এভাবে মাটির নিচে সম্পদ লুকিয়ে রাখত, তার সঠিক উত্তর দেওয়া মুশকিল। আশপাশে কোনো কবরের চিহ্নও মেলেনি। তবে রোমান আমলের ১৫ হাজারেরও বেশি গুপ্তধন নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেকালে মানুষ মূলত কর বা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে, দেবতাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করতে কিংবা যুদ্ধের মতো অনিশ্চিত সময়ে সম্পদ নিরাপদে রাখতে মাটির নিচে ধন লুকিয়ে রাখত।একের পর এক গুপ্তধনফিনল্যান্ডে এর আগে ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় গুপ্তধনটি মিলেছিল ১৮৯৫ সালে নৌসিয়ানেন এলাকায়। তাতে ১ হাজার ৭০০ রুপার কয়েন থাকলেও তার ওজন ছিল এই নতুন গুপ্তধনের ঠিক অর্ধেক। শুধু ফিনল্যান্ড নয়, সম্প্রতি নরওয়েতেও ৪ হাজার ৭০০ কয়েনের এক বিশাল গুপ্তধন মিলেছে। আর ডেনমার্কে তো এক লোক নিজের বাড়ির পেছনের উঠান খুঁড়তে গিয়েই সাড়ে ১৮ কেজি ওজনের ৭০০ রুপার বস্তুর এক বিশাল ভান্ডার পেয়ে গেছেন!সূত্র: লাইভ সায়েন্সআর্লিং হলান্ড কেন নরওয়ের হয়ে খেলেন