লাখ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেছেন, এই ঋণের বোঝা শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া শিশুকেও বহন করতে হবে। এ অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা করে একটি সুন্দর ও ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধান উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সবকিছুর সমালোচনা না করে একবার চিন্তা করা উচিত- বিগত সরকার দেশের ওপর কী পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে গেছে। এই ঋণের দায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকলেও সরকারের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মানুষ গ্যাস পাচ্ছিল না, বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ব্যবস্থা করেই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি চাইলে গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।
রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি; গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেলও করা হয়েছে। কোন এলাকায় কতটুকু গ্যাসের চাপ যাচ্ছে এবং মানুষ কী পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট। তাই জনগণের উচিত তাকে সহযোগিতা করা। সবাই সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুসজ্জিত ও সফল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি পুরোনো মন্দির সংস্কারের জন্য ভেঙে ফেলার ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো মন্দিরটি যে কোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলেই সংস্কারের জন্য সেটি ভাঙা হচ্ছিল। অথচ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করেছেন, যেন সরকার মন্দিরটি ভেঙে ফেলছে।
রুমন বলেন, বাংলাদেশেও কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ‘জোড়াতালি’ দিয়ে তথ্য তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সবাইকে তিনি দোষারোপ করছেন না। কারণ, তিনিও সাংবাদিকতার মানুষ এবং ১৯৯৩ সাল থেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই দিন আগ পর্যন্ত একটি জাতীয় দৈনিকের মালিক ও প্রকাশক ছিলেন। বিগত সরকার তার দেশত্যাগের ছয় মাস আগে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে পত্রিকাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে বহু সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছিলেন।
তারেক রহমানের গবেষণামূলক কাজের প্রসঙ্গ তুলে রুমন বলেন, প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে বনানীর একটি কার্যালয়ে তিনি গবেষণামূলক কাজ করতেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষি, ফসল, মাছ চাষ, পরিত্যক্ত পুকুরসহ নানা বিষয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। ওই সময়কার ফাইলগুলো এখনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রুমন বলেন, ‘আসুন, আমাদের বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি এবং একটি ক্লিন বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানকে আমরা যে যতটুকু পারি সহযোগিতা করি।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন সহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেএইচ/এমআরএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সাভারে ছুরিকাঘাতে বাবাকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে থাকা মেয়েকে আদালতে হাজির না করায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সরওয়ার আলমের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। তবে আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি। এ কারণে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি না করে নতুন তারিখ ঠিক করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হাসান আলী জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ মে সাভারে ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় তার মেয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার দিনই নিহত ব্যক্তির প্রথম পক্ষের ছেলে সাভার মডেল থানায় তার এক সৎ বোনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এরপর মামলাটি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত হয়ে বিচারের জন্য ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এমডিএএ/এমকেআর
কুষ্টিয়ায় বিজিবির উদ্যোগে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি সাড়ে ৫শ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর উদ্যোগে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি ৫৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১ টার সময় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরচিলমারী গ্রামের ডিগ্রীরচর নামক স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি ২৫০টি এবং চিলমারী, চল্লিশপাড়া ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আরও ৩০০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), বিজিওএম, পিএসসি যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বন্যা দুর্গত এসব পরিবারের সদস্যদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক, ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক, জুনিয়র কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন। বিজিবির এ মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ ও উপস্থিত অতিথিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুর্যোগকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিজিবির এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির মানবিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজিবি সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সহায়তায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। আল-মামুন সাগর/কেজে/এএসএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দুই হাত-পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে জন্ম নিয়েছে এক শিশু। শিশুটির ঠোঁট কাটা রয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ও লিজা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান হিসেবে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটি বর্তমানে তার বাবা-মায়ের বাড়িতে রয়েছে। জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে দেখতে স্থানীয় লোকজন ভিড় করছেন। এ ধরনের শিশুর জন্ম এর আগে এলাকায় দেখেননি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘সাধারণত একটি শিশুর হাত-পায়ে মোট ২০টি আঙুল থাকে। কিন্তু এই শিশুটির মোট ২৮টি আঙুল। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে। তবে তার ঠোঁটে সামান্য কাটা রয়েছে। এটি আল্লাহ তাআলার নিদর্শন ও সৃষ্টি। এ সৃষ্টিতে কারও হাত নেই। শিশুটির পরিবারও এ নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছে।’ শিশুটির মা লিজা বেগম বলেন, আল্লাহ যেভাবে দিয়েছেন তাতেই আমি খুশি, সন্তান সুস্থ আছে এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। শিশুটির বাবা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার একটি মেয়েসন্তান হয়েছে। সাধারণত বাচ্চাদের ২০টি আঙুল থাকে, কিন্তু আমার মেয়ের ২৮টি আঙুল হয়েছে। তারপরও আমরা সন্তুষ্ট। এ নিয়ে আমাদের কোনো মন খারাপ নেই।’ ফুলবাড়ী উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, আমরা শিশুটির সম্পর্কে জেনেছি, মা ও শিশু সুস্থ আছে। ২৮টি আঙুল নিয়ে জন্ম নেওয়া চিন্তার কোনো বিষয় নয়, চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে, তারা এখনো আমাদের কাছে আসেনি। আমাদের কাছে এলে আমরা সঠিক পরামর্শ প্রদান করব। এমদাদুল হক মিলন/এফএ